কোটা প্রায় পূর্ণ হওয়ায় রেস্তোরাঁকর্মীদের ভিসা স্থগিত করল জাপান
খাদ্যসেবা খাতে নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি শ্রমিকের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সংখ্যা প্রায় পূর্ণ হয়ে আসায় জাপান সরকার ২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল থেকে বিদেশি রেস্তোরাঁকর্মীদের নতুন ভিসা দেওয়া আকস্মিকভাবে বন্ধ করেছে। ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সি এ স্থগিতাদেশের ঘোষণা দিয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া পাঁচ বছরের মেয়াদে টাইপ-১ নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী শ্রেণিতে ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ প্রায় ৪৬ হাজার বিদেশি কর্মী এ খাতে কাজ শুরু করেছেন। ফলে নির্ধারিত ৫০ হাজারের সর্বোচ্চ সীমা পূর্ণ হতে বাকি রয়েছে খুব সামান্য।
সূচিপত্র
১৩ এপ্রিলের আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রক্রিয়াকরণ চলবে, যতক্ষণ না কোটা পুরোপুরি পূর্ণ হয়। কর্মকর্তাদের ধারণা, ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে তা হতে পারে। তবে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, ১৩ এপ্রিল থেকে খাদ্যসেবা খাতে চাকরি বদল করতে ইচ্ছুক বিদেশি কর্মীদের আবেদন নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হবে না। এতে দীর্ঘদিনের কর্মীসংকট মোকাবিলায় এই ভিসাপথের ওপর নির্ভরশীল রেস্তোরাঁগুলো তাৎক্ষণিক সংকটে পড়েছে।
বর্তমান কোটা ব্যবস্থা চালুর পর খাদ্যসেবা খাতে এই প্রথম এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো। সব শিল্প মিলিয়ে এটি দ্বিতীয় ঘটনা; এর আগে ২০২২ সালে শিল্পযন্ত্রপাতি উৎপাদন খাতে একই ধরনের স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তে রেস্তোরাঁশিল্পে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বড় চেইনগুলো নিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল করছে, আর প্রায় ২৯০ বিলিয়ন ডলারের এই খাতের কার্যক্রম টেকসই রাখা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইমিগ্রেশন কন্ট্রোল অ্যান্ড রিফিউজি রিকগনিশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, বিদেশি কর্মীর সংখ্যা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে কর্তৃপক্ষকে সনদ দেওয়া স্থগিত করতে হয়। অর্থনৈতিক চাহিদা ও দেশীয় কর্মসংস্থান সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি এই আইনি কাঠামোর স্বয়ংক্রিয় প্রয়োগে এখন রেস্তোরাঁ পরিচালকেরা বিকল্প খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন।
সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাতিলে বাধ্য রেস্তোরাঁ চেইনগুলো
নীতিগত আকস্মিক পরিবর্তনে পরিকল্পিত নিয়োগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় জাপানের বড় রেস্তোরাঁ পরিচালকেরা ব্যবসায়িক কৌশল নতুন করে সাজাচ্ছেন। জনপ্রিয় গাস্টো ফ্যামিলি রেস্তোরাঁ চেইনের পরিচালনাকারী স্কাইলার্ক হোল্ডিংসের পরিকল্পনা ছিল, নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর মর্যাদা পাওয়ার পর এই গ্রীষ্মে প্রায় ৩০ জন বিদেশি শিক্ষার্থী খণ্ডকালীন কর্মীকে পূর্ণকালীন স্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। এখন সেই পদোন্নতির পথ বন্ধ; কর্মী ও প্রতিষ্ঠান—উভয়ই অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
স্কাইলার্কের জনসংযোগ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, কোটা এত দ্রুত শেষ হয়ে আসায় পুরো খাতজুড়েই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একইভাবে, সোবা নুডলস চেইন ইউদেতারো সিস্টেমের পরিকল্পনা ছিল, ভিসার যোগ্যতা অর্জনের পর এপ্রিলে বিদেশি খণ্ডকালীন কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি পদে উন্নীত করা। প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি এর মানবিক প্রভাবের কথা তুলে ধরে বলেন, এই পরিবর্তনের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা উল্লেখযোগ্য উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
জনপ্রিয় ইজাকায়া চেইন ইসোমারু সুইসান পরিচালনাকারী এসএফপি হোল্ডিংসের জন্য চ্যালেঞ্জটি বিশেষভাবে তীব্র। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর প্রায় ৪০ শতাংশই ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার থেকে আসা কর্মী। তাদের প্রায় ৩০ শতাংশ রেস্তোরাঁ দিনরাত খোলা রেখে পরিচালিত হচ্ছিল। ভিসার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি এখন খোলার সময় কমানোর কথা ভাবছে এবং নতুন শাখা খোলার পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে। এতে গ্রাহকদের সেবা পাওয়ার সুযোগ ও আয়ের পূর্বাভাস—দুটিই প্রভাবিত হতে পারে।
শিল্পের স্বার্থ প্রতিনিধিত্বকারী জাপান ফুড সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সরকারকে কোটা বাড়ানোর আবেদন জানাতে চায়। সংস্থাটির এক প্রতিনিধি সতর্ক করে বলেন, আকস্মিক স্থগিতাদেশে কিছু প্রতিষ্ঠানকে খোলার সময় কমাতে বা সাময়িকভাবে পুরোপুরি বন্ধ করতে হতে পারে, যদিও কোম্পানিগুলো জাপানি কর্মী নিয়োগের চেষ্টা করছে। অ্যাসোসিয়েশনের মতে, যোগ্যতা থাকা সীমিতসংখ্যক বিদেশি কর্মীকে নিয়োগের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। এতে মহানগর এলাকায় মজুরি বাড়তে পারে, আর গ্রামীণ অঞ্চল থেকে দক্ষ কর্মী চলে যেতে পারেন।
নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী ব্যবস্থা
জনসংখ্যা হ্রাস ও বিভিন্ন খাতে দীর্ঘস্থায়ী শ্রমিকসংকট মোকাবিলায় জাপান ২০১৯ অর্থবছরে নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী কর্মসূচি চালু করে। এ উদ্যোগে অধিকার ও বিধিনিষেধে বড় পার্থক্যসহ দুটি ভিসা শ্রেণি তৈরি হয়। টাইপ-১ ভিসায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বসবাসের অনুমতি মেলে, তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়া স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। অন্যদিকে, টাইপ-২ ভিসা অনির্দিষ্টকালের জন্য নবায়ন করা যায় এবং পরিবারকে সঙ্গে আনার সুযোগসহ স্থায়ী বসবাসের পথ খুলে দেয়।
এখন রেস্তোরাঁ খাতে স্থগিতাদেশের কারণ হয়ে দাঁড়ানো শিল্পভিত্তিক সীমা শুধু টাইপ-১ মর্যাদাধারীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। দেশীয় কর্মসংস্থানের সুযোগে নেতিবাচক প্রভাব ঠেকানোর লক্ষ্যে করা হিসাবের ভিত্তিতে সরকার যোগ্য ১৯টি খাতের প্রতিটির জন্য কর্মী নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করেছে। খাদ্যসেবা খাতে ২০২৪ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া পাঁচ বছরের মেয়াদে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার কর্মী নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। শিল্পের চাহিদার তুলনায় এই লক্ষ্য যে অপ্রত্যাশিতভাবে কম, তা এখন স্পষ্ট।
বিদেশি শ্রমিক প্রবেশের আরেকটি পথ জাপানের টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রামও এই ব্যবস্থার পাশাপাশি চালু রয়েছে। বর্তমান রূপান্তরবিধি অনুযায়ী, জাপানে কর্মরত যেসব টেকনিক্যাল ইন্টার্ন খাদ্যসেবা খাতে নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর মর্যাদা পেতে চান, তাদের আবেদন অগ্রাধিকার দিয়ে যাচাই করা হবে। কিছু কর্মীর জন্য এতে সীমিত একটি বিকল্প পথ থাকছে। তবে শিল্পের প্রয়োজনীয় সম্ভাব্য শ্রমশক্তির তুলনায় এই সংখ্যা সামান্য।
সরকারি তথ্যে বিদেশি শ্রমশক্তির ওপর জাপানের ক্রমবর্ধমান নির্ভরতার বৃহত্তর চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা প্রথমবারের মতো ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। এদের ৬০ শতাংশের বেশি কর্মশক্তির অংশ। ২০২৫ সালের অক্টোবর নাগাদ বিদেশি কর্মীর সংখ্যা রেকর্ড ২৫ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছে। প্রায় ৪০ লাখ কর্মী নিয়োজিত থাকা খাদ্যসেবা খাতে নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী শ্রেণির বিদেশি ভিসাধারীরা মোট কর্মশক্তির প্রায় ১ শতাংশ। তবে দেশীয় কর্মীরা যে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পূরণ করতে পারেননি, সেগুলোতে তাঁরা কাজ করছেন।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে শ্রমিকসংকটের সংঘাত
জাপানের খাদ্যসেবা অর্থনীতির জন্য বিশেষ কঠিন এক সময়ে ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত এল। ২০২৫ সালে এই বাজারের মূল্য প্রায় ২৮৯.২ বিলিয়ন ডলার। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এর বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশ ছাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান মর্ডর ইন্টেলিজেন্সের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যটনের দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং বাইরে খাওয়ার অভিজ্ঞতায় দেশীয় ভোক্তাদের ব্যয় বৃদ্ধিই এই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণ।
২০২৫ সালে জাপানে রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ পর্যটক এসেছেন, যা দেশজুড়ে রেস্তোরাঁর চাহিদা নজিরবিহীনভাবে বাড়িয়েছে। জনসংখ্যাগত তীব্র চাপে আগে থেকেই বিপর্যস্ত এই শিল্পে পর্যটকের এই ঢল বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ২০২৪ অর্থবছরে খাদ্যসেবা খাতে চাকরির বিপরীতে চাকরিপ্রার্থীর অনুপাত ছিল ৩.২। অর্থাৎ, প্রতি চাকরিপ্রার্থীর জন্য তিনটির বেশি পদ ছিল। সব শিল্প মিলিয়ে জাতীয় গড় ১.৩-এর চেয়ে এই হার অনেক বেশি।
বাজারের পূর্বাভাস বলছে, এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শিল্পের সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকবে। তবে শ্রমিকসংকট মজুরি ও ভোক্তামূল্য—দুটির ওপরই ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করতে পারে। অবশিষ্ট যোগ্য কর্মীদের নিয়োগে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে। এতে খাবারের দাম বাড়তে পারে, যা বিদেশি পর্যটকদের কাছে সাশ্রয়ী খাবারের জন্য জাপানের সুনামকে প্রভাবিত করতে পারে।
গিফু প্রিফেকচারের তাকায়ামায় রেস্তোরাঁ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফুনাসাকা শুজোর প্রেসিডেন্ট হিরোকি আরিসুর মতে, সারা দেশের জন্য একরকম বিধিনিষেধ আঞ্চলিক জনসংখ্যাগত বাস্তবতা বিবেচনায় নেয় না।
এটি মাথাব্যথার কারণ। গ্রামাঞ্চল ও শহরে গ্রহণযোগ্য কর্মীর সংখ্যার ওপর সরকারের একই বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত নয়; অঞ্চলভেদে তা আলাদা হওয়া উচিত। গ্রামীণ অঞ্চলকে পুনরুজ্জীবিত করতে আরও বেশি কর্মী প্রয়োজন।
তাঁর উদ্বেগ বড় মহানগরকেন্দ্রের বাইরের জনসংখ্যা হ্রাস নিয়ে আরও বিস্তৃত উৎকণ্ঠার প্রতিফলন। গ্রামীণ জাপানে শহরের তুলনায় দেশীয় শ্রমিকের সংখ্যা দ্রুত কমছে। সেখানে বিদেশি কর্মীরাই অনেক সময় কোনো ব্যবসা টিকে থাকবে, নাকি বন্ধ হয়ে যাবে—তার নির্ধারক। এই স্থগিতাদেশে খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ শহরাঞ্চলে আরও কেন্দ্রীভূত হতে পারে। একই সঙ্গে ছোট জনপদগুলোতে সেবার বিকল্প কমে যেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক খাবারের সুযোগ সীমিত হতে পারে।
দেশীয় নিয়োগ ও ভবিষ্যৎ কোটা নিয়ে প্রশ্ন
রেস্তোরাঁকর্মীদের কোটা দ্রুত পূর্ণ হওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আগে জাপানি নিয়োগকর্তারা দেশীয় কর্মী নিয়োগের সব সুযোগ কাজে লাগিয়েছিলেন কি না। কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বিদেশি কর্মী নিয়োগের গতি বেশি থাকার কথা স্বীকার করলেও দেশীয় নিয়োগের প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
অন্যান্য খাতের তুলনায় খাদ্যসেবা শিল্প বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগে দ্রুত এগিয়েছে। তবে ব্যবস্থাটির পূর্বশর্ত, দেশীয় কর্মী নিয়োগের প্রচেষ্টা, পুরোপুরি করা হচ্ছে কি না—তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ আছে।
এই স্বীকারোক্তি থেকে সামনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে মতবিরোধের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। অধিকারকর্মী সংগঠনগুলোর যুক্তি, ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর সঙ্গে আরও গভীর আলোচনা করে সংখ্যার সীমা নির্ধারণ করা উচিত ছিল। সলিডারিটি নেটওয়ার্ক উইথ মাইগ্র্যান্টস জাপানের বোর্ডের সহসভাপতি ইপেই তোরিই খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা না হওয়ার সমালোচনা করেছেন।
সব অঞ্চলের জন্য উপযুক্ত নয়—এমন সর্বোচ্চ সীমা আরোপের আগে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো চুপ করে থাকবে না।
আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, রেস্তোরাঁ খাত হয়তো ধারাবাহিকভাবে অন্য খাতেও সংকট ছড়িয়ে পড়ার প্রথম ধাপ মাত্র। বিদেশি বাসিন্দাদের কর্মসংস্থান বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আইনজীবী শোহেই সুগিতার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান হারে কর্মী নেওয়া চললে নির্ধারিত সময়ের আগেই আরও কয়েকটি খাতে নিজ নিজ কোটা পূর্ণ হবে। তাঁর ধারণা, খাদ্য ও পানীয় উৎপাদন খাতে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সীমা পূর্ণ হবে। এরপর ২০২৮ সালের মার্চে নার্সিং কেয়ার, এপ্রিলে নির্মাণ এবং ডিসেম্বরে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও বিমান চলাচল খাতের কোটা পূর্ণ হবে।
প্রতিটি স্থগিতাদেশ সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে একই ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে। শ্রমবাজার আরও কঠিন হলে দেশীয় কর্মীদের কাজের পরিবেশ উন্নত ও মজুরি বাড়তে পারে বলে কেউ কেউ মনে করেন। অন্যদের সতর্কতা, শ্রমিকসংকটের ফলে সেবাদানের সক্ষমতা কমে যেতে পারে, দাম বাড়তে পারে এবং গ্রাহকসংখ্যা কমে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত এতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই হুমকির মুখে পড়বে।
সরকার জানিয়েছে, কোটা পূর্ণ হওয়ার পর কর্মীরা দেশে ফিরে গেলে, অন্য খাতে চলে গেলে বা টাইপ-২ মর্যাদা পেলে শূন্যস্থান তৈরি হতে পারে; সে ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হতে পারে। তবে এ ধরনের শূন্যস্থান না তৈরি হলে খাদ্যসেবা খাতের কোটা ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত কার্যত বন্ধ থাকতে পারে। জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পের তাৎক্ষণিক ভবিষ্যৎ তাই সীমাবদ্ধতায় পড়েছে।
মূল বিষয়গুলো
- বিদেশি কর্মীর সংখ্যা ৫০ হাজারের কোটার বিপরীতে প্রায় ৪৬ হাজারে পৌঁছানোর পর জাপান ২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল রেস্তোরাঁ খাতে নতুন টাইপ-১ নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর ভিসা স্থগিত করেছে।
- ১৩ এপ্রিলের আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলো কোটা পুরোপুরি পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়াকরণ চলবে। ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে কোটা পূর্ণ হতে পারে; তবে এই খাতে চাকরি বদল এখন নিষিদ্ধ।
- স্কাইলার্ক হোল্ডিংস ও এসএফপি হোল্ডিংসসহ বড় রেস্তোরাঁ চেইনগুলো বিদেশি খণ্ডকালীন কর্মীদের পূর্ণকালীন পদে নেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছে এবং খোলার সময় কমাতে পারে।
- খাদ্যসেবা শিল্প ২৮৯.২ বিলিয়ন ডলারের বাজারের অংশ, যা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বছরে ১০ শতাংশ হারে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ পর্যটকের আগমন এই প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
- খাতে চাকরির সংখ্যা আবেদনকারীর তুলনায় ৩.২ গুণ। ফলে অবশিষ্ট কর্মীদের নিয়োগে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, যা মজুরি বাড়াতে পারে এবং সেবা কমিয়ে দিতে পারে।
- স্থগিতাদেশে গ্রামীণ ব্যবসাগুলো তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শহরের তুলনায় দ্রুত জনসংখ্যা কমতে থাকা অঞ্চলগুলোতে বিদেশি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ শ্রমশক্তি।
- জাপানে আগে থেকেই কর্মরত টেকনিক্যাল ইন্টার্নরা নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী শ্রেণিতে যাওয়ার আবেদন করলে অগ্রাধিকার পাবেন। এতে কিছু রেস্তোরাঁর জন্য সীমিত বিকল্প পথ থাকছে।
- পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন, নার্সিং কেয়ার, নির্মাণ এবং বিমান রক্ষণাবেক্ষণ খাতেও একইভাবে কোটা পূর্ণ হতে পারে।






