কর অবকাশের যুগের অবসান
চার বছর আগে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার রূপান্তর ত্বরান্বিত করার আশায় আমদানি কর মওকুফ করে বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য নিজেদের বাজার উন্মুক্ত করেছিল মালয়েশিয়া। এতে ইভি গ্রহণের গতি বাড়লেও অনাকাঙ্ক্ষিত একটি পরিণতি দেখা দেয়: চীনা গাড়ি নির্মাতারা বাজারে বিপুলসংখ্যক গাড়ি নিয়ে আসে এবং স্থানীয় নির্মাতারা নিজেদের বৈদ্যুতিক গাড়ির লাইনআপ গড়ে তোলার আগেই বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি সেই যুগের অবসান হয়েছে। আমদানি করা ইভির ওপর কঠোর নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে মালয়েশিয়া সরকার। এতে সম্পূর্ণ সংযোজিত (CBU) আমদানির ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য কার্যত দ্বিগুণ হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে গাড়ি সংযোজন করতে চাওয়া নির্মাতাদের ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
সূচিপত্র
বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জোহরি আবদুল গনি ঘোষণা করেছেন, আমদানি করা ইভির অন-দ্য-রোড মূল্য এখন কমপক্ষে ২ লাখ ৫০ হাজার রিঙ্গিত (প্রায় ৫৭ হাজার মার্কিন ডলার) হতে হবে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া কর অব্যাহতি চলাকালে আগের ন্যূনতম মূল্য ছিল ১ লাখ রিঙ্গিত। দ্রুত পরিবর্তনশীল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গাড়িশিল্পে এটি অন্যতম আগ্রাসী সুরক্ষাবাদী পদক্ষেপ। দেশীয় গাড়ি নির্মাতাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের তৈরি গাড়ি আমদানি না করে মালয়েশিয়ার ভেতরে উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে বাধ্য করাই এর স্পষ্ট উদ্দেশ্য।
আমদানির নতুন কাঠামো
নতুন বিধিমালায় দুই ধরনের গাড়ির জন্য দুই স্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে: সম্পূর্ণ সংযোজিত (CBU) গাড়ি, যেগুলো পুরোপুরি সংযোজিত অবস্থায় আমদানি করা হয়, এবং সম্পূর্ণ খণ্ডাংশে আমদানি করা (CKD) গাড়ি, যেগুলো আমদানি করা যন্ত্রাংশ দিয়ে স্থানীয়ভাবে সংযোজন করা হয়। CBU আমদানির ক্ষেত্রে সরকার ২ লাখ ৫০ হাজার রিঙ্গিতের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি কমপক্ষে ২০০ কিলোওয়াট (২৭২ পিএস) ক্ষমতার শর্তও দিয়েছে। এতে সাম্প্রতিক বিক্রয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা প্রাথমিক ও মাঝারি দামের মডেলগুলো কার্যত বাদ পড়বে।
স্থানীয় সংযোজনের কারখানা স্থাপনে আগ্রহী নির্মাতাদের জন্য নিয়ম উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা, তবে সেখানেও রয়েছে নিজস্ব সীমাবদ্ধতা। CKD পদ্ধতিতে নতুন গাড়িশিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ রপ্তানি শর্ত রয়েছে: মালয়েশিয়ার কারখানায় উৎপাদিত গাড়ির মাত্র ২০ শতাংশ দেশের ভেতরে বিক্রি করা যাবে; বাকি ৮০ শতাংশ রপ্তানি করতে হবে। এ ছাড়া, স্থানীয়ভাবে সংযোজিত এসব গাড়ির ন্যূনতম মূল্য হতে হবে ১ লাখ রিঙ্গিত। এর ফলে সেগুলো কম দামের দেশীয় ব্র্যান্ডের সঙ্গে সরাসরি পাল্লা না দিয়ে তুলনামূলক উচ্চমূল্যের বাজারে প্রতিযোগিতা করবে।
শুল্ক কাঠামো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অধিকাংশ দেশ থেকে আসা CBU ইভিতে এখন ৩০ শতাংশ আমদানি শুল্কের সঙ্গে ১০ শতাংশ আবগারি শুল্ক ও ১০ শতাংশ বিক্রয়কর দিতে হয়। তবে আসিয়ান-চীন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ACFTA) আওতায় চীন থেকে আসা গাড়িতে আমদানি শুল্ক মাত্র ৫ শতাংশ। কর অব্যাহতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এই সুবিধাজনক হার চীনা নির্মাতাদের খরচের দিক থেকে এগিয়ে রাখে। তবে নতুন ন্যূনতম মূল্যসীমা কমদামের মডেলগুলোর ক্ষেত্রে এই সুবিধা অনেকটাই নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার চ্যালেঞ্জ
চীনের নজিরবিহীন শিল্প-অতিরিক্ত সক্ষমতার প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়া নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। বছরের পর বছর বিপুল সরকারি সহায়তা ও বিনিয়োগে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো চীনা ইভি নির্মাতারা এখন দেশের ভেতরে বাজারের স্যাচুরেশন ও তীব্র মূল্যযুদ্ধের মুখে। উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহার দ্রুত কমছে এবং চীনের ইভি খাতের অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠান লোকসানে থাকায় নির্মাতারা উদ্বৃত্ত গাড়ি আগ্রাসীভাবে উদীয়মান বাজারগুলোতে রপ্তানি করছে। অনেক ক্ষেত্রে দাম কৃত্রিমভাবে এত কম রাখা হচ্ছে যে স্থানীয় প্রতিযোগীদের পক্ষে তার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মালয়েশিয়ার ইভি বাজারে আধিপত্য বিস্তার করা চীনা গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডি ২০২৪ সালে দেশটির সর্বাধিক বিক্রীত বৈদ্যুতিক ব্র্যান্ড ছিল; প্রতিষ্ঠানটি এই প্রবণতারই উদাহরণ। কর অবকাশের সময়ে হাজার হাজার অ্যাটো ৩ ও অন্যান্য গাড়ি মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেশীয় নির্মাতা পেরোডুয়া ও প্রোটনের নিজস্ব বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে আসার আগেই বাজারে অবস্থান তৈরি করে বিওয়াইডি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে একই প্রবণতা দেখা গেছে: গত বছর থাইল্যান্ডে বিক্রি হওয়া বৈদ্যুতিক গাড়ির ৮৫ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ইভি বাজারের দুই-তৃতীয়াংশ ছিল চীনা ব্র্যান্ডের।
কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নিজ দেশের বাজারে ভালো না করে, তাহলে জোর করে বিদেশি বাজারে সম্প্রসারণ বুদ্ধিমানের কাজ নাও হতে পারে; এতে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর সামগ্রিক ভাবমূর্তির সম্ভাব্য ক্ষতিও হতে পারে।
চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা সামাল দেওয়ার প্রধান পথ হয়ে উঠেছে আসিয়ান অঞ্চল। ২০২৩ সালে আসিয়ানে চীনের রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানিকে ছাড়িয়ে যায়; ২০২৪ সালে তা আরও ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ঐতিহ্যগতভাবে এই বাণিজ্যের বড় অংশ ছিল আঞ্চলিক উৎপাদনকে সহায়তাকারী মধ্যবর্তী পণ্য। তবে এখন এর ক্রমবর্ধমান অংশে রয়েছে ইভিসহ প্রস্তুত ভোগ্যপণ্য, যা স্থানীয় উৎপাদনের জায়গা দখল করছে এবং অঞ্চলজুড়ে উৎপাদন খাতের কর্মসংস্থানকে হুমকির মুখে ফেলছে।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
মালয়েশিয়ার বিধিনিষেধ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নেওয়া প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের বৃহত্তর প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আসিয়ানের বৃহত্তম গাড়ি উৎপাদনকারী দেশ থাইল্যান্ড ACFTA-এর আওতায় চীনা ইভির ওপর শুল্ক তুলে নিলেও, প্রণোদনা পাওয়া নির্মাতাদের আমদানির অন্তত সমপরিমাণ গাড়ি দেশেই উৎপাদনের শর্ত দিয়েছে। এই নীতিতে চীনের ১৫০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে রায়ংয়ে বিওয়াইডির বৃহত্তম বিদেশি কারখানা। তবে এতে জাপানি যৌথ উদ্যোগগুলোর ওপর চাপও বেড়েছে: সুবারু থাইল্যান্ডের কারখানা বন্ধ করেছে, আর সুজুকি ও নিসান বছর শেষ নাগাদ একই ধরনের কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়াও একই ধরনের প্রবাহ সামলাতে হিমশিম খেয়েছে। স্থানীয় সংযোজন উৎসাহিত করতে দেশটি সাময়িকভাবে আমদানি কর মওকুফ করেছে, তবে সমালোচকদের অভিযোগ, চীনা খনি ও উৎপাদন খাতের বিনিয়োগ স্থানীয় অর্থনীতিতে সীমিত মূল্য সংযোজন করছে। ইন্দোনেশীয় অর্থনীতিবিদ ফয়সাল বাসরির হিসাব অনুযায়ী, চীনা খনি বিনিয়োগ থেকে সৃষ্ট মূল্য সংযোজনের মাত্র ১০ শতাংশ পায় ইন্দোনেশিয়া; ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর পরিবারের আয়েও এর প্রভাব সামান্য।
আন্তর্জাতিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র ৩০১ ধারায় চীনা ইভির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ওপর সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিয়েছে। কানাডা ও তুরস্কও একই ধরনের প্রতিবন্ধকতা আরোপ করেছে। এর বিপরীতে, জার্মানি সম্প্রতি ৩০০ কোটি ইউরোর ভর্তুকি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যাতে চীনা ব্র্যান্ডসহ সব নির্মাতা অংশ নিতে পারবে। তবে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপের অন্য দেশগুলো এমন পরিবেশগত মানদণ্ড চালু করেছে, যা কার্যত চীনে তৈরি ব্যাটারিচালিত গাড়িকে বাজারের বাইরে রাখে।
মালয়েশিয়ার পদ্ধতিতে এসব মডেলের মাঝামাঝি একটি পথ খোঁজার চেষ্টা রয়েছে: উন্মুক্ত বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখা, একই সঙ্গে ভর্তুকিনির্ভর অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার কারণে বাজারে বিকৃতি ঠেকানো। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যিক উত্তেজনার মধ্যে ভারসাম্য রেখে এবং কৌশলগত দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিয়ে মালয়েশিয়া নিরপেক্ষ ও জোটনিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে চায়।
দেশীয় ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব
নতুন বিধিনিষেধ মালয়েশিয়ার গাড়িশিল্পের প্রতিযোগিতার চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে বদলে দিয়েছে। দেশীয় দুই শীর্ষ নির্মাতা প্রোটন ও পেরোডুয়া, যাদের হাতে সম্মিলিতভাবে মোট গাড়ির বাজারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, সরাসরি সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়ার কথা। ২০ কোটি ডলারের উন্নয়ন কর্মসূচির পর পেরোডুয়া তাদের প্রথম বৈদ্যুতিক মডেল QV-E বাজারে এনেছে। অন্যদিকে, বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রোটনের e.MAS 5 বিক্রি হয়েছে ৬,৭০১টি, যা বিওয়াইডির অ্যাটো ৩-কে ছাড়িয়ে গেছে। চীনের জিলি হোল্ডিংসের সঙ্গে অংশীদারত্ব থেকে সুবিধা পায় প্রোটন। জিলির হাতে প্রতিষ্ঠানটির ৪৯.৯ শতাংশ মালিকানা থাকায় প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি দেশেই গাড়ি সংযোজন বজায় রয়েছে।
চীনা নির্মাতাদের জন্য হিসাব-নিকাশ আমূল বদলে গেছে। কুয়ালালামপুরের উপকণ্ঠে সংযোজন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনায় চেরি অটোমোবাইল এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মেন লিন বো নিশ্চিত করেছেন, নির্মাণকাজ এগোচ্ছে এবং এ বছরই উৎপাদন শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে হাইব্রিড ও পেট্রোলচালিত মডেলে জোর দেওয়া হবে। CKD কার্যক্রমের জন্য থাকা কর-প্রণোদনার সুবিধা পাবে প্রতিষ্ঠানটি; ২০২৭ সাল পর্যন্ত এসব কার্যক্রম আবগারি শুল্ক ও বিক্রয়কর থেকে অব্যাহতি পাবে।
বিওয়াইডির অবস্থান এখনো অনিশ্চিত। পেরাকে কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, রপ্তানিমুখী উৎপাদনের শর্ত পর্যালোচনা করে তারা এখনো সব সম্ভাবনা যাচাই করছে এবং অভ্যন্তরীণভাবে সমন্বয় করছে। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশে আগে থেকেই কারখানা রয়েছে এমন নির্মাতারা মালয়েশিয়ায় সংযোজনের অঙ্গীকার করতে দ্বিধায় থাকতে পারে, যদি তাতে আঞ্চলিক উৎপাদন কৌশল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্য বিদেশি পরিবেশকেরা তাৎক্ষণিকভাবেই বিঘ্নের মুখে পড়েছে। মাজদা ও এক্সপেংয়ের গাড়ি পরিবেশক বেরমাজ অটো ২ লাখ ৫০ হাজার রিঙ্গিতের মূল্যসীমার কথা উল্লেখ করে মাজদা 6e ও EZ60 আমদানির পরিকল্পনা স্থগিত করেছে। বেরমাজের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী দাতুক সেরি ফ্রান্সিস লি কোক চুয়ান নিশ্চিত করেছেন, কিছু মডেলের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি CKD কার্যক্রমের পথে এগোবে এবং অন্যগুলোর সীমিত CBU আমদানি অব্যাহত রাখবে।
ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া ও বাজারের পূর্বাভাস
নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে মালয়েশিয়ার ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। শিল্পের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা প্রতিযোগিতায় সমান সুযোগ ফিরিয়ে আনা এবং দেশীয় উৎপাদনকে কোণঠাসা হওয়া থেকে রক্ষার জন্য পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করেছেন। তবে অনলাইন আলোচনায় সম্ভাব্য ইভি ক্রেতাদের মধ্যে হতাশা দেখা যাচ্ছে; তারা সাশ্রয়ী চীনা মডেল পাওয়ার সুযোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করেছিলেন। নতুন মূল্যসীমার ফলে বাজার থেকে কম ও মাঝারি দামের CBU গাড়ি কার্যত বাদ পড়ছে। এতে ক্রেতাদের স্থানীয়ভাবে সংযোজিত গাড়ি অথবা বেশি দামের প্রিমিয়াম আমদানির দিকে যেতে হবে।
শিল্প পর্যবেক্ষকেরা সতর্ক করেছেন, হঠাৎ নিয়ম বদলে যাওয়ায় সাধারণত ১২ থেকে ২৪ মাসের পণ্য বাজারজাতকরণ চক্রে কাজ করা গাড়ি নির্মাতাদের পরিকল্পনা কঠিন হয়ে পড়েছে। মালয়েশিয়ান অটোমোটিভ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহদ শামসোর মোহদ জেইন নিশ্চিত করেছেন, বিধিনিষেধের পরিধি নিয়ে শিল্প খাত বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (MITI) কাছে ব্যাখ্যা চাইছে। বিশেষ করে, এই বিধিনিষেধ বিদ্যমান ব্র্যান্ডের নতুন মডেলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কি না, নাকি কেবল সম্পূর্ণ নতুন বাজারপ্রবেশকারীদের জন্য, তা জানতে চাওয়া হচ্ছে।
অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও মালয়েশিয়ার ইভি গ্রহণের লক্ষ্য উচ্চাভিলাষীই রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে মোট গাড়ি বিক্রির ২০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ কৌশলের ভিত্তি হলো, স্থানীয় সংযোজনের মাধ্যমে একসময় বর্তমান CBU আমদানির তুলনায় সাশ্রয়ী গাড়ি তৈরি হবে এবং ব্যাটারি, সেমিকন্ডাক্টরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের দেশীয় সরবরাহব্যবস্থা গড়ে উঠবে। মন্ত্রী জোহরি বলেছেন, আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে সংযোজনের জন্য মালয়েশিয়ায় গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনে নির্মাতাদের উৎসাহিত করছে এই কাঠামো। তবে সমালোচকদের মতে, প্রকৃত স্থানীয়করণের জন্য সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে কয়েক বছর লাগবে।
মূল বিষয়গুলো
- বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর চার বছরের আমদানি কর অব্যাহতি শেষ করেছে মালয়েশিয়া; ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আমদানি করা CBU ইভির ন্যূনতম মূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার রিঙ্গিত নির্ধারণ করা হয়েছে
- নতুন CKD সংযোজন বিধিতে বিদেশি নির্মাতাদের স্থানীয় উৎপাদনের ৮০ শতাংশ রপ্তানি করতে হবে; দেশের বাজারে বিক্রির জন্য ন্যূনতম মূল্য ১ লাখ রিঙ্গিত
- ACFTA-এর আওতায় চীনা ইভির আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ, অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ; তবে ন্যূনতম মূল্যসীমা এই সুবিধা কমিয়ে দিয়েছে
- মালয়েশিয়ার প্রভাবশালী চীনা ইভি ব্র্যান্ড বিওয়াইডি রপ্তানির শর্ত পর্যালোচনার সময় পেরাকে পরিকল্পিত সংযোজন কারখানা নিয়ে চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে
- চেরি অটোমোবাইল কুয়ালালামপুরের সংযোজন কারখানার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে এবং এ বছর উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা করেছে
- কম ও মাঝারি দামের গাড়ির বাজারে প্রতিযোগিতা কমায় দেশীয় নির্মাতা প্রোটন ও পেরোডুয়া লাভবান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে
- চীনের অতিরিক্ত শিল্প-উৎপাদন সক্ষমতা স্থানীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সরিয়ে দিচ্ছে, আসিয়ানজুড়ে এমন উদ্বেগের প্রতিফলন এই নীতি






