মজুরি বাড়লেও লাভ সবার মধ্যে সমান নয়
মালয়েশিয়ার আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত মালয়েশীয় কর্মীদের মাসিক মধ্যম মজুরি এক বছর আগের তুলনায় ৪.৮ শতাংশ বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩,০০০ রিঙ্গিত হয়েছে। একই সময়ে কর্মীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ লাখে। তবে আয়ের ব্যবধান রয়ে গেছে বড়: সর্বোচ্চ উপার্জনকারী দশমাংশের মাসিক আয় অন্তত ৯,৬০০ রিঙ্গিত, আর সর্বনিম্ন উপার্জনকারী দশমাংশ পেয়েছেন ১,৭০০ রিঙ্গিত বা তার কম।
সূচিপত্র
- মজুরি বাড়লেও লাভ সবার মধ্যে সমান নয়
- আয়ের ব্যবধান কতটা বড়?
- ১,৭০০ রিঙ্গিতের কম পান—এমন কর্মী কমেছে
- জুনে কর্মসংস্থান বাড়লেও মার্চের তুলনায় মজুরি কমেছে
- ভৌগোলিক ব্যবধানে এগিয়ে কুয়ালালামপুর
- খনি খাতে মজুরি সর্বোচ্চ, তবে কর্মী কম
- বয়স ও লিঙ্গে ভিন্ন চিত্র
- চাকরির বিজ্ঞাপনে ভিন্ন চিত্র
- সরকারি পরিসংখ্যানে কারা অন্তর্ভুক্ত
- মূল তথ্য
মালয়েশিয়ার পরিসংখ্যান বিভাগ (ডিওএসএম) ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের কর্মী মজুরি পরিসংখ্যান (আনুষ্ঠানিক খাত) প্রতিবেদনে কর্মসংস্থান ও মজুরি—দুই ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধির তথ্য দিয়েছে। আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মীর সংখ্যা ২০২৫ সালের জুনের ৬৯ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৩.৩ শতাংশ বেড়েছে, নতুন করে যুক্ত হয়েছেন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার কর্মী।
৩,০০০ রিঙ্গিত হলো মধ্যম মজুরি, অর্থাৎ কর্মীদের মাসিক মজুরি অনুযায়ী সাজালে যে অঙ্কটি মাঝখানে থাকে। মোটামুটি অর্ধেক কর্মী এর চেয়ে কম এবং অর্ধেক এর চেয়ে বেশি পান। এটি গড় মজুরি থেকে আলাদা; গড় বের করতে সবার মজুরি যোগ করে কর্মীর সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা হয়।
এক বছর আগের তুলনায় জুনে উন্নতি হলেও মার্চের তুলনায় সামান্য পতন হয়েছে। মার্চে মধ্যম মজুরি ছিল ৩,০২৭ রিঙ্গিত। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে এবং বার্ষিক মজুরি প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তবে স্থান, শিল্প ও বয়সগোষ্ঠীভেদে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
আয়ের ব্যবধান কতটা বড়?
ডিওএসএমের জুনের পরিসংখ্যানে সর্বোচ্চ উপার্জনকারী দশমাংশের মজুরির সীমা সর্বনিম্ন উপার্জনকারী দশমাংশের সীমার প্রায় ৫.৬ গুণ: যথাক্রমে ৯,৬০০ ও ১,৭০০ রিঙ্গিত। এগুলো দুই গোষ্ঠীর সীমা, গোষ্ঠীভুক্ত সবার গড় আয় নয়।
দ্বিতীয় প্রান্তিকের পরিসংখ্যানের সঙ্গে দেওয়া বিবৃতিতে ডিওএসএম ব্যবধানটির বর্ণনা দিয়েছে:
"তাই ৯০তম পার্সেন্টাইলে থাকা কর্মীরা সর্বনিম্ন মজুরির গোষ্ঠীর কর্মীদের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি মজুরি পেয়েছেন, যা সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উপার্জনকারীদের মাসিক মজুরির ব্যবধানকে স্পষ্ট করে," বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
৯০তম পার্সেন্টাইল হলো সেই সীমা, যার নিচে প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী রয়েছেন। সহজভাবে বললে, জুনে সর্বোচ্চ উপার্জনকারী দশমাংশে যেতে একজন কর্মীর মাসিক মজুরি অন্তত ৯,৬০০ রিঙ্গিত হতে হতো।
মার্চে এর সমতুল্য সীমা ছিল আরও বেশি, ১১,৫০০ রিঙ্গিত; আর সর্বনিম্ন দশমাংশ পেয়েছে ১,৭০০ রিঙ্গিত বা তার কম। ফলে এই দুই সীমার অনুপাত মার্চের প্রায় ৬.৮ থেকে জুনে ৫.৬-এ নেমেছে। ওপরের সীমাটি ১,৯০০ রিঙ্গিত কমেছে, আর নিচের সীমাটি অপরিবর্তিত ছিল।
১,৭০০ রিঙ্গিতের কম পান—এমন কর্মী কমেছে
মালয়েশিয়ার আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের মধ্যে ১,৭০০ রিঙ্গিতের কম মজুরি পাওয়ার হার ২০২৫ সালের জুনের ১০.৪ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালের জুনে ৮.২ শতাংশ হয়েছে। এটি ২.২ শতাংশ পয়েন্টের পতন, অর্থাৎ আগের হারের তুলনায় প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কম।
প্রকাশিত কর্মসংস্থানের মোট সংখ্যায় এই হার প্রয়োগ করলে দেখা যায়, ২০২৬ সালের জুনে ১,৭০০ রিঙ্গিতের কম মজুরি পেয়েছেন আনুমানিক ৫ লাখ ৯০ হাজার কর্মী; এক বছর আগে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লাখ ২৫ হাজার। ডিওএসএমের প্রকাশিত হার ও কর্মসংস্থানের মোট সংখ্যা পূর্ণ সংখ্যায় গোল করে দেওয়ায় হিসাবগুলো আনুমানিক।
২০২৬ সালের মার্চে ওই সীমার নিচে থাকা কর্মীর হার ছিল আরও কম, ৭.৯ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২৫ সালের একই মাসের তুলনায় জুনে উন্নতি হলেও মার্চ থেকে হারটি ০.৩ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।
সীমা-সংক্রান্ত ভাষার পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। ৮.২ শতাংশের হিসাবে ঠিক ১,৭০০ রিঙ্গিত পাওয়া কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত নন, কারণ এতে কেবল এর চেয়ে কম মজুরি পাওয়াদের গণনা করা হয়েছে। সর্বনিম্ন দশমাংশের হিসাবে ঠিক ১,৭০০ রিঙ্গিত পাওয়া কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত। ওই অঙ্কে অনেক কর্মীর মজুরি নির্ধারিত থাকায় দুটি পরিসংখ্যানই পাশাপাশি সঠিক হতে পারে।
জুনে কর্মসংস্থান বাড়লেও মার্চের তুলনায় মজুরি কমেছে
ডিওএসএমের প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে মালয়েশিয়ার আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মী ছিলেন ৭০ লাখ ৫০ হাজার, যা ২০২৫ সালের মার্চের তুলনায় ৩.৮ শতাংশ বেশি। জুনে কর্মীর সংখ্যা ৭২ লাখে পৌঁছায়, যা মার্চের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বেশি।
এই তিন মাসে জাতীয় মধ্যম মজুরি উল্টো পথে গেছে; ৩,০২৭ থেকে ৩,০০০ রিঙ্গিতে নেমেছে, অর্থাৎ ২৭ রিঙ্গিত বা প্রায় ০.৯ শতাংশ কমেছে। ডিওএসএমের মজুরির পরিমাপে মূল মজুরির পাশাপাশি বোনাস, কমিশন ও ভাতাও অন্তর্ভুক্ত। তাই অর্থ পরিশোধের সময় ও ধরন অনুযায়ী মাসিক অঙ্কে পরিবর্তন হতে পারে।
কর্মসংস্থান ও মজুরির পরিসংখ্যানের পরিবর্তন বোঝাতে গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো হলো:
- ফেব্রুয়ারি ২০২৫: ২০ বছরের কম বয়সী কর্মীদের মধ্যম মজুরি ১,৭০০ রিঙ্গিতে পৌঁছায়, যা ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অপরিবর্তিত ছিল।
- জুন ২০২৫: আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মী ছিলেন ৬৯ লাখ ৭০ হাজার; ১০.৪ শতাংশের মজুরি ছিল ১,৭০০ রিঙ্গিতের কম।
- মার্চ ২০২৬: কর্মীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭০ লাখ ৫০ হাজার; মাসিক মধ্যম মজুরি ছিল ৩,০২৭ রিঙ্গিত।
- জুন ২০২৬: কর্মীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭২ লাখ; মাসিক মধ্যম মজুরি ছিল ৩,০০০ রিঙ্গিত।
- ২৭ অক্টোবর ২০২৬: আনুষ্ঠানিক খাতের মজুরি-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড হালনাগাদ করে ডিওএসএম।
ভৌগোলিক ব্যবধানে এগিয়ে কুয়ালালামপুর
জুনে কুয়ালালামপুরে মাসিক মধ্যম মজুরি ছিল সর্বোচ্চ, ৪,২৪৫ রিঙ্গিত। এরপর সেলাঙ্গর ৩,২৪৫ এবং পেনাং ৩,০০০ রিঙ্গিত। পেনাংয়ের মজুরি জাতীয় মধ্যমের সমান, আর কুয়ালালামপুরের মজুরি ১,২৪৫ রিঙ্গিত বা ৪১.৫ শতাংশ বেশি।
সর্বনিম্ন মধ্যম মজুরি ছিল কেলান্তানে, ১,৮২৭ রিঙ্গিত। এরপর পেরলিসে ১,৮৬৪ এবং সাবাহে ২,০৪৫ রিঙ্গিত। কুয়ালালামপুর ও কেলান্তানের মধ্যে মাসিক ব্যবধান ছিল ২,৪১৮ রিঙ্গিত; রাজধানীর মধ্যম মজুরি কেলান্তানের প্রায় ২.৩ গুণ।
মার্চের তুলনায় শীর্ষ তিন স্থানের মধ্যম মজুরিই কমেছে। কুয়ালালামপুরে ৪,৫২৭, সেলাঙ্গরে ৩,৪৪৫ এবং পেনাংয়ে ৩,০৬৪ রিঙ্গিত থেকে কমেছে। কেলান্তানে মজুরি ১,৮২৭ রিঙ্গিতেই ছিল; পেরলিসে সামান্য বেড়ে ১,৮৫৫ হয়েছে এবং সাবাহে কমে ২,০৮২ রিঙ্গিত হয়েছে।
কাজের জন্য অন্যত্র যাওয়ার কথা ভাবছেন—এমন ব্যক্তিদের জন্য এই পরিসংখ্যান প্রতিটি স্থানের উপার্জন সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা দেয়। জবস্ট্রিট বাই সিক মালয়েশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিকোলাস লাম চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিটি প্রস্তাবে দায়িত্ব, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার চাহিদা তুলনা করার পাশাপাশি নতুন স্থানে আবাসন ও যাতায়াতের খরচ বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন।
খনি খাতে মজুরি সর্বোচ্চ, তবে কর্মী কম
জুনে অর্থনৈতিক খাতগুলোর মধ্যে খনি ও খননশিল্পে মাসিক মধ্যম মজুরি ছিল সর্বোচ্চ, ৬,৭২২ রিঙ্গিত। কৃষিতে ছিল সর্বনিম্ন, ২,২৮২ রিঙ্গিত। অর্থাৎ খনি খাতের মধ্যম মজুরি কৃষির প্রায় ২.৯ গুণ।
কর্মসংস্থানে খাতগুলোর অংশ দেখলে এই পরিসংখ্যানের প্রেক্ষাপট বোঝা যায়। আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের মধ্যে খনি ও খননশিল্পের অংশ ছিল মাত্র ০.৫ শতাংশ, আর কৃষির ১.৮ শতাংশ। জুনের মোট কর্মসংস্থানের হিসাবে এই হার যথাক্রমে প্রায় ৩৬ হাজার ও ১ লাখ ৩০ হাজার কর্মীর সমান।
মার্চে খনি খাতের মধ্যম মজুরি ছিল ৯,৬৭৮ রিঙ্গিত। জুনে তা ২,৯৫৬ রিঙ্গিত বা প্রায় ৩০.৫ শতাংশ কমেছে। কৃষির মধ্যম মজুরি ২,৩২৭ থেকে ৪৫ রিঙ্গিত কমেছে। ডিওএসএমের প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদনে মার্চে কৃষিতে বার্ষিক মজুরি প্রবৃদ্ধি ৫.৮ শতাংশ দেখানো হয়েছিল।
মার্চ থেকে জুনের মধ্যে খনি খাতের মজুরি এতটা কমার কোনো ব্যাখ্যা পরিসংখ্যানে দেওয়া হয়নি। এই মজুরির পরিমাপে অতিরিক্ত অর্থপ্রদানও অন্তর্ভুক্ত, আর খাতটিতে কর্মীর অংশ কম। তাই জাতীয় চিত্রে খাতটির অবস্থান বুঝতে মাসিক পরিসংখ্যান ও কর্মসংস্থানে এর অংশ—দুটিই একসঙ্গে দেখা দরকার।
বয়স ও লিঙ্গে ভিন্ন চিত্র
জুনে মালয়েশিয়ার আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের ৫৫.১ শতাংশ ছিলেন পুরুষ—সংখ্যায় ৩৯ লাখ ৭০ হাজার। তাঁদের মাসিক মধ্যম মজুরি ছিল ৩,০০০ রিঙ্গিত। নারী ছিলেন ৪৪.৯ শতাংশ, অর্থাৎ ৩২ লাখ ৩০ হাজার কর্মী; তাঁদের মজুরি ছিল ২,৯৬৪ রিঙ্গিত।
দুই মধ্যম মজুরির ব্যবধান ছিল ৩৬ রিঙ্গিত, যা পুরুষদের মধ্যম মজুরির ১.২ শতাংশ। মার্চে পুরুষদের মজুরি ছিল ৩,০৬৪ এবং নারীদের ৩,০০০ রিঙ্গিত; ব্যবধান ছিল ৬৪ রিঙ্গিত। জুন নাগাদ দুই দলের মজুরিই কমেছে, তবে ব্যবধান সংকুচিত হয়েছে।
৪৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী কর্মীদের মধ্যম মজুরি সর্বোচ্চ ছিল। এপ্রিলে তাঁদের মাসিক মধ্যম মজুরি ছিল ৪,০০০ রিঙ্গিত, আর মে ও জুন—দুই মাসেই ৩,৯৪৫ রিঙ্গিত। প্রথম প্রান্তিকে একই বয়সগোষ্ঠীর মজুরি জানুয়ারিতে ৪,১৫৬, ফেব্রুয়ারিতে ৪,১৪৫ এবং মার্চে ৪,১০০ রিঙ্গিত ছিল।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে মধ্যম মজুরির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী কর্মীদের; মার্চে শীর্ষে থাকা ৫৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের তারা ছাড়িয়ে গেছে। ২০ বছরের কম বয়সীদের মজুরি ১,৭০০ রিঙ্গিতেই ছিল, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অপরিবর্তিত। জুনে তাঁদের মধ্যম মজুরি জাতীয় অঙ্কের চেয়ে ১,৩০০ রিঙ্গিত কম ছিল।
চাকরির বিজ্ঞাপনে ভিন্ন চিত্র
জবস্ট্রিট বাই সিক মালয়েশিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শূন্যপদের বিজ্ঞাপনে দেওয়া সর্বনিম্ন বেতনের মধ্যম অঙ্ক ছিল ৩,০০০ রিঙ্গিত, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের সমান। রিঙ্গিতের অঙ্কে এটি ডিওএসএমের জুনের মধ্যম মজুরির সমান হলেও, দুই পরিমাপে ভিন্ন বিষয় বোঝানো হয়েছে।
জবস্ট্রিট কোনো শূন্যপদের বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা সর্বনিম্ন বেতন হিসাব করে। ডিওএসএম আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের পাওয়া মজুরি পরিমাপ করে, যাতে বোনাস, কমিশন ও ভাতাও অন্তর্ভুক্ত। বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা সর্বনিম্ন বেতন হলো কোনো পদের জন্য দেওয়া বেতনের নিচের সীমা; এটি মালয়েশিয়ার আইনগত ন্যূনতম মজুরি নয়।
জবস্ট্রিটের জাতীয় মধ্যম অপরিবর্তিত থাকলেও কিছু ধরনের শূন্যপদে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবায় অঙ্কটি ৩,৫০০ থেকে ১৪.৩ শতাংশ বেড়ে ৪,০০০ রিঙ্গিত হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিতে ৪,৫০০ থেকে ১১.১ শতাংশ বেড়ে ৫,০০০ রিঙ্গিত হয়েছে।
দুই ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি ছিল ৫০০ রিঙ্গিত, তবে ব্যাংকিংয়ে শতকরা বৃদ্ধির হার বেশি, কারণ সেখানকার প্রাথমিক অঙ্ক কম ছিল। বিজ্ঞাপনে দেওয়া সর্বনিম্ন বেতনের মধ্যম অঙ্কে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ১,০০০ রিঙ্গিত এগিয়ে ছিল।
অবস্থানভেদে জবস্ট্রিট কুয়ালালামপুরে ৩,৫০০ রিঙ্গিত, সাবাহে ২,১০০ এবং কেলান্তান, তেরেঙ্গানু ও পাহাং মিলিয়ে ২,০০০ রিঙ্গিত দেখিয়েছে। লাম বলেন, বিজ্ঞাপনে থাকা চাকরির ধরনভেদে ভৌগোলিক পার্থক্য দেখা যায়। তিনি নিয়োগদাতাদের বেতনের সীমা, দক্ষতা ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার এবং প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বেতন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সরকারি পরিসংখ্যানে কারা অন্তর্ভুক্ত
বার্ষিক বেতন ও মজুরি জরিপের তুলনায় নীতিনির্ধারকদের আরও ঘন ঘন তথ্য দিতে ডিওএসএম ২০২৩ সালে ত্রৈমাসিক আনুষ্ঠানিক খাতের মজুরি পরিসংখ্যান প্রকাশ শুরু করে। ডিওএসএমের আনুষ্ঠানিক খাতের মজুরি ড্যাশবোর্ডে বলা হয়েছে, এই পরিসংখ্যান কর্মচারী ভবিষ্যনিধি তহবিল, সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থা এবং ডিওএসএমের প্রশাসনিক নথি থেকে নেওয়া হয়।
ড্যাশবোর্ডের ব্যাখ্যায় প্রায় ৬০ লাখ কর্মী বা মালয়েশিয়ার আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের প্রায় ৬০ শতাংশের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের জুনে মালয়েশিয়ার আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীর সংখ্যা ৭২ লাখ দেখানো হয়েছে। ড্যাশবোর্ডের আনুমানিক আওতার বিবরণ ও প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট তারিখের কর্মীসংখ্যা ভিন্ন মাত্রার নির্ভুলতায় দেওয়া হয়েছে; জুনের সংখ্যার সঙ্গে হালনাগাদ আওতার কোনো শতাংশ প্রকাশ করা হয়নি।
মালয়েশিয়ার শ্রমশক্তির আকার ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি। এতে নিয়োগকর্তা, স্বনিয়োজিত ব্যক্তি ও অবৈতনিক পারিবারিক কর্মীর পাশাপাশি চাকরিজীবীরাও রয়েছেন। তাই ৩,০০০ রিঙ্গিতের মধ্যম মজুরি এই ধারায় অন্তর্ভুক্ত মালয়েশিয়ার আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের আয় বোঝায়, কর্মরত সবার আয় নয়।
ডিওএসএম দ্বিতীয় প্রান্তিকে আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারকে স্থিতিশীল ও সহনশীল হিসেবে মূল্যায়ন করেছে; এর পেছনে কর্মসংস্থান ও মধ্যম মজুরির বার্ষিক প্রবৃদ্ধির কথা বলেছে। ড্যাশবোর্ডে পরবর্তী হালনাগাদের সময় ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি দুপুর নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর আগে ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর ড্যাশবোর্ড হালনাগাদ করা হয়।
মূল তথ্য
- মালয়েশিয়ার আনুষ্ঠানিক খাতের মাসিক মধ্যম মজুরি এক বছর আগের তুলনায় ৪.৮ শতাংশ বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩,০০০ রিঙ্গিত হয়েছে।
- আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মীর সংখ্যা ২০২৫ সালের জুনের ৬৯ লাখ ৭০ হাজার থেকে বেড়ে ৭২ লাখে পৌঁছেছে।
- সর্বোচ্চ উপার্জনকারী দশমাংশের মজুরি অন্তত ৯,৬০০ রিঙ্গিত; সর্বনিম্ন উপার্জনকারী দশমাংশ পেয়েছে ১,৭০০ রিঙ্গিত বা তার কম।
- ১,৭০০ রিঙ্গিতের কম মজুরি পাওয়া কর্মীর হার এক বছর আগের ১০.৪ শতাংশ থেকে কমে ৮.২ শতাংশ হয়েছে।
- ভৌগোলিকভাবে সর্বোচ্চ মধ্যম মজুরি ছিল কুয়ালালামপুরে, ৪,২৪৫ রিঙ্গিত; সর্বনিম্ন ছিল কেলান্তানে, ১,৮২৭ রিঙ্গিত।
- জবস্ট্রিটে বিজ্ঞাপিত সর্বনিম্ন বেতনের মধ্যম অঙ্ক ৩,০০০ রিঙ্গিতেই ছিল; ব্যাংকিং ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির শূন্যপদে বৃদ্ধি দেখা গেছে।
- ডিওএসএমের ড্যাশবোর্ডের পরবর্তী হালনাগাদ ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি নির্ধারিত ছিল।






