প্রযুক্তিগত স্বাধীনতার লক্ষ্যে জাপানে তৈরি ১.৪ ন্যানোমিটার এআই চিপে বাজি ফুজিৎসুর

পড়তে 8 মিনিট
প্রযুক্তিগত স্বাধীনতার লক্ষ্যে জাপানে তৈরি ১.৪ ন্যানোমিটার এআই চিপে বাজি ফুজিৎসুর

এআই চিপে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় জাপানের উদ্যোগ

বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধারে ১৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে জাপান। সম্প্রতি দেশটির সরকার দেশীয় চিপ নির্মাতা স্টার্টআপ র‍্যাপিডাসকে আরও ৬৩১.৫ বিলিয়ন ইয়েন (৪ বিলিয়ন ডলার) ভর্তুকি দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। জাপানের সীমানার মধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রসেসর তৈরির আগ্রাসী কৌশলের অংশ এই উদ্যোগ। এর কেন্দ্রে রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফুজিৎসু। প্রতিষ্ঠানটি অত্যাধুনিক ১.৪ ন্যানোমিটার এআই ইনফারেন্স চিপ তৈরি করছে, যা দশকের শেষ নাগাদ হোক্কাইদোর নতুন কারখানায় র‍্যাপিডাস উৎপাদন করবে।

সূচিপত্র
  1. এআই চিপে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় জাপানের উদ্যোগ
  2. ১.৪ ন্যানোমিটারের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ
  3. র‍্যাপিডাস ও দেশীয় ফাউন্ড্রির ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ
  4. ভবিষ্যতের অর্থায়ন
  5. ফুজিৎসুর সমান্তরাল অংশীদারত্ব
  6. বৃহত্তর বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলা
  7. শিল্পের জায়ান্টদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা
  8. সারকথা

ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহশৃঙ্খলের দুর্বলতার মধ্যে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) এবং অন্যান্য বিদেশি সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য টোকিওর এ যাবৎকালের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রচেষ্টা এই প্রকল্প। সম্প্রতি হোক্কাইদোতে র‍্যাপিডাসের এক অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী রিওহেই আকাজাওয়া এই কৌশলগত প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি যতই চমৎকার হোক, সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে আগ্রহী গ্রাহক না পেলে তার ব্যবসা ব্যর্থ হবে।

আকাজাওয়া বলেন, র‍্যাপিডাসকে চাহিদা তৈরি ও নিজস্ব বিপণন প্রচেষ্টার বাইরে গ্রাহক পেতে সহায়তা করাই সরকারি সহায়তার লক্ষ্য। এতে স্বীকৃতি মিলেছে যে উৎপাদন সক্ষমতার জন্য এমন দেশীয় চিপ নকশাকারীদের শক্তিশালী বাস্তুতন্ত্র প্রয়োজন, যারা পরীক্ষিত নয় এমন ফাউন্ড্রি প্রযুক্তিতে ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক।

বিজ্ঞাপন

১.৪ ন্যানোমিটারের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ

ফুজিৎসুর পরিকল্পিত নিউরাল প্রসেসিং ইউনিট (এনপিইউ) এমন একটি প্রসেস নোড লক্ষ্য করছে, যা বিশ্বের কোথাও এখনো ব্যাপক উৎপাদনে নেই। ১.৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তি ২ ন্যানোমিটারের পরের সীমান্ত; এতে গেট-অল-এরাউন্ড (জিএএ) ট্রানজিস্টর স্থাপত্য রয়েছে, যা জ্বালানি দক্ষতা ও গণনক্ষমতার ঘনত্বে উল্লেখযোগ্য উন্নতির প্রতিশ্রুতি দেয়। টিএসএমসি ও স্যামসাং যখন ২ ন্যানোমিটার উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে, তখন ফুজিৎসু ও র‍্যাপিডাস বিশেষভাবে এআই ইনফারেন্সের কাজে সরাসরি ১.৪ ন্যানোমিটারে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছে।

এখানে প্রশিক্ষণ ও ইনফারেন্স চিপের পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। এনভিডিয়ার গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) এআই প্রশিক্ষণে প্রাধান্য বিস্তার করে। এই প্রক্রিয়ায় বড় ভাষা মডেলকে ধরন চিনতে শেখানো হয়। তবে প্রশিক্ষিত মডেল ব্যবহার করে পূর্বাভাস বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজ, অর্থাৎ ইনফারেন্সের জন্য ভিন্ন ধরনের স্থাপত্য প্রয়োজন। বিশেষ করে এজ কম্পিউটিং ও ডেটা সেন্টারের কাজে, যেখানে বিদ্যুৎ খরচ ও সাড়া দেওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে নিউরাল প্রসেসিং ইউনিট সাধারণ কাজের জিপিইউর চেয়ে বেশি দক্ষতার সঙ্গে হিসাব করতে পারে। নিউরাল নেটওয়ার্কে প্রচলিত ম্যাট্রিক্স গুণের কাজের জন্য এনপিইউ অপ্টিমাইজ করা হয়; একই সঙ্গে জিপিইউর বহুমুখিতার কারণে যে মেমোরি ব্যান্ডউইডথ ও বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে, তা কমানো হয়।

ফুজিৎসু এসব এনপিইউকে তাদের আর্ম-ভিত্তিক মোনাকা-এক্স সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটের সঙ্গে একটি সমন্বিত ডিভাইসে যুক্ত করতে চায়। মোনাকা-এক্স হলো প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ১৪৪-কোর আর্মভি৯ ডেটা সেন্টার চিপের উন্নত সংস্করণ, যা টিএসএমসির ২ ন্যানোমিটার প্রসেসে তৈরি। ২০২৯ সালের মধ্যে ফুজিৎসু মোনাকা-এক্সকে র‍্যাপিডাসের ১.৪ ন্যানোমিটার উৎপাদন লাইনে নেওয়ার আশা করছে। এতে সিপিইউ ও এনপিইউ—দুইয়ের কাজ একত্র হবে জাপানের বর্তমান প্রধান সুপারকম্পিউটার ফুগাকুর উত্তরসূরি, ফুগাকু নেক্সটের জন্য। এ সমন্বয়ের ফলে আলাদা চিপের মধ্যে ডেটা স্থানান্তর কমবে, বিদ্যুৎ খরচ হ্রাস পাবে এবং এআইয়ের কাজ দ্রুত হবে। প্রক্রিয়াকরণের সময় সংবেদনশীল ডেটা সুরক্ষিত রাখতে ফুজিৎসু এসব প্রসেসরের মধ্যে সরাসরি এনক্রিপশন প্রযুক্তিও বসাতে চায়। এআই ব্যবহারে ডেটার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের জবাব দেবে এটি।

বিজ্ঞাপন

র‍্যাপিডাস ও দেশীয় ফাউন্ড্রির ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ

২০২২ সালে টয়োটা, সনি ও এনইসিসহ জাপানের আটটি বড় করপোরেশনের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত র‍্যাপিডাসের কাঁধে কয়েক দশকের পতনের পর জাপানের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুজ্জীবিত করার দায়িত্ব। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে হোক্কাইদোর চিতোসে তাদের প্রথম উৎপাদন কারখানা, আইআইএম-১, নির্মাণ করছে। ২০২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে সেখানে ২ ন্যানোমিটার চিপের ব্যাপক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৭ সালে নির্মাণ শুরুর পরিকল্পনা থাকা দ্বিতীয় কারখানায় ফুজিৎসুর এআই চিপের জন্য ১.৪ ন্যানোমিটার উৎপাদন হবে।

প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাইলফলকগুলো থেকে সতর্ক আশাবাদের ইঙ্গিত মেলে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে র‍্যাপিডাস জানায়, আইআইএম-১ কারখানায় ২ ন্যানোমিটার জিএএ চিপের প্রোটোটাইপ তৈরি শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি ব্যাক-এন্ড প্রোটোটাইপ লাইন চালু করেছে এবং উন্নত প্যাকেজিংয়ের জন্য র‍্যাপিডাস চিপলেট সলিউশনস (আরসিএস) কারখানা খুলেছে। এক প্যাকেজে একাধিক ধরনের প্রসেসর যুক্ত করার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। ফাউন্ড্রির পাশের অ্যানালাইসিস সেন্টারে এখন উৎপাদনের ফলন উন্নত করতে প্রয়োজনীয় ভৌত, পরিবেশগত ও রাসায়নিক বিশ্লেষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রধান নির্বাহী আতসুইয়োশি কোইকে ফেব্রুয়ারিতে জানান, এআই, রোবোটিকস ও এজ কম্পিউটিংয়ের কাজে আগ্রহী বহু সম্ভাব্য গ্রাহকের সঙ্গে র‍্যাপিডাস সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে।

এআই, রোবোটিকস ও এজ কম্পিউটিংয়ের জন্য চিপ তৈরি নিয়ে ৬০টির বেশি সম্ভাব্য গ্রাহকের সঙ্গে আমরা সক্রিয় আলোচনা করছি।

প্রাথমিক ২ ন্যানোমিটার উৎপাদন সক্ষমতার জন্য আইবিএম ও চিপ নকশাকারী স্টার্টআপ টেনস্টরেন্টকে এগিয়ে থাকা সম্ভাব্য গ্রাহক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে টোকিওর প্রত্যাশা, দেশীয় প্রধান গ্রাহক হিসেবে ফুজিৎসু ফাউন্ড্রির সক্ষমতার স্বীকৃতি দেবে।

বিজ্ঞাপন

ভবিষ্যতের অর্থায়ন

এই উদ্যোগে সহায়তাকারী আর্থিক কাঠামোয় সরকারি ও বেসরকারি—দুই খাতই রয়েছে। অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত জাপানের নিউ এনার্জি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (নেডো) ফুজিৎসুর এনপিইউয়ের প্রাথমিক উন্নয়ন ব্যয়ের আনুমানিক ৫৮ বিলিয়ন ইয়েনের (৩৬৩ মিলিয়ন ডলার) প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বহন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ভর্তুকি কর্মসূচির লক্ষ্য দেশেই উৎপাদনযোগ্য জ্বালানিসাশ্রয়ী এআই সেমিকন্ডাক্টর তৈরি।

সরকারের বৃহত্তর অঙ্গীকার ফুজিৎসুর এই নির্দিষ্ট প্রকল্পের চেয়ে অনেক বিস্তৃত। ২০২৭ সালের মার্চ নাগাদ র‍্যাপিডাসে সরকারি ও বেসরকারি মোট বিনিয়োগ ২.৬ ট্রিলিয়ন ইয়েনে (১৬.৩ বিলিয়ন ডলার) পৌঁছাবে; এর মধ্যে সাম্প্রতিক ৬৩১.৫ বিলিয়ন ইয়েনের অতিরিক্ত ভর্তুকিও রয়েছে। ২০৩০ অর্থবছরের মধ্যে চিপ ও এআই খাতে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েনের (৬২.৮ বিলিয়ন ডলার) বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে জাপান। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সেমিকন্ডাক্টরকে নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। বহিরাগত ধাক্কা ও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার মতো ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকতে চাইছে জাপান।

সাম্প্রতিক অর্থায়নের অনুমোদনের আগে একটি বহিরাগত কমিটি হোক্কাইদোতে র‍্যাপিডাসের ফাউন্ড্রি পরিদর্শন করে এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে সম্মতি দেয়। এতে বোঝা যায়, স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা প্রতিষ্ঠানটির উচ্চাভিলাষী উৎপাদন লক্ষ্যে পৌঁছানোর বাস্তবসম্মত পথ দেখছেন।

বিজ্ঞাপন

ফুজিৎসুর সমান্তরাল অংশীদারত্ব

র‍্যাপিডাসের সঙ্গে সহযোগিতায় প্রযুক্তিগত স্বাধীনতার ওপর জোর দিলেও ফুজিৎসু শুধু দেশীয় সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে না। পূর্ণাঙ্গ সেমিকন্ডাক্টর সার্বভৌমত্ব অর্জনের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের জটিল নেটওয়ার্ক। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ফুজিৎসু জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে জাপানের ডেটা সেন্টারের জন্য এআই চিপ যৌথভাবে তৈরি করতে এনভিডিয়ার সঙ্গে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি। এ উদ্যোগে ফুজিৎসুর সিপিইউ ও এনভিডিয়ার জিপিইউ একই সাবস্ট্রেটে যুক্ত হবে।

এ ছাড়া আলাদা এআই চিপ প্রকল্পে এএমডির সঙ্গেও কাজ করছে ফুজিৎসু। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মোনাকা সিপিইউ টিএসএমসির ২ ন্যানোমিটার প্রসেসে তৈরি। এতে বোঝা যায়, জাপান দেশীয় বিকল্প গড়ে তুললেও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এখনো তাইওয়ান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত উৎপাদন কেন্দ্রে তৈরি হচ্ছে। এই দ্বিমুখী কৌশলের ফলে ফুজিৎসু প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারছে, পাশাপাশি পরিপক্ব হতে কয়েক বছর লাগতে পারে এমন দেশীয় সক্ষমতাও গড়ে তুলছে।

ফুগাকু নেক্সট সুপারকম্পিউটার প্রকল্পে এ কৌশলের প্রতিফলন দেখা যায়। ২০৩০ সালের কাছাকাছি চালু হওয়ার কথা থাকা পরবর্তী প্রজন্মের এই যন্ত্রের লক্ষ্য বর্তমান ফুগাকু ব্যবস্থার তুলনায় ১০০ গুণ বেশি কর্মক্ষমতা অর্জন। এতে সম্ভবত বিভিন্ন প্রসেসর প্রযুক্তির সমন্বয় থাকবে। মোনাকা-এক্স সিপিইউ র‍্যাপিডাসের ১.৪ ন্যানোমিটার লাইনে তৈরি হতে পারে, তবে গণনক্ষমতার লক্ষ্য পূরণে ব্যবস্থাটিতে আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের জিপিইউ ও অন্যান্য অ্যাক্সিলারেটর প্রায় নিশ্চিতভাবেই যুক্ত হবে।

বিজ্ঞাপন

বৃহত্তর বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলা

প্রযুক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক হলেও র‍্যাপিডাসের একমাত্র গ্রাহক নয় ফুজিৎসু। ক্যানন তাদের ২ ন্যানোমিটার প্রসেস ব্যবহার করে ডিজিটাল ক্যামেরা ও নজরদারি যন্ত্রের জন্য ইমেজ প্রসেসিং সেমিকন্ডাক্টর তৈরির অর্ডার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে; এর পরীক্ষামূলক উৎপাদন ইতিমধ্যে চলছে। র‍্যাপিডাসের মাধ্যমে তৈরি হতে পারে এমন জ্বালানিসাশ্রয়ী এআই চিপ উন্নয়নে নেডোর সহায়তা পাচ্ছে আইবিএম জাপানও। আইবিএমের প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্টভাবে সর্বোচ্চ ১৭.৫ বিলিয়ন ইয়েন বরাদ্দ রয়েছে, যেখানে ফুজিৎসুর জন্য বরাদ্দ ৫৮.৫ বিলিয়ন ইয়েন।

এই গড়ে ওঠা বাস্তুতন্ত্র শুধু উৎপাদন চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ১.৪ ন্যানোমিটার প্রসেস প্রযুক্তির উন্নয়নে র‍্যাপিডাস আইবিএমের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে। সময়সূচি এগিয়ে নিতে আইবিএমের গবেষণা সক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে। ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশনের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সিনপসিস ক্যাননের ইমেজ সেন্সর উন্নয়ন প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে। এতে বোঝা যায়, জটিল ও বহু পক্ষের সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পে সহায়তা দেওয়ার অবকাঠামো গড়ে তুলছে র‍্যাপিডাস।

হোক্কাইদোতে কার্যক্রমের ঘনত্বের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। দ্বীপটির শীতল আবহাওয়ায় উৎপাদন কারখানার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের খরচ কমে। তবে সম্পদস্বল্প জাপানে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে জ্বালানির দাম বাড়ছে। সরকারি সহায়তা, প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব ও ভৌগোলিক সুবিধার সমন্বয়ে জাপানে উৎপাদনের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বাজি ধরেছে র‍্যাপিডাস।

বিজ্ঞাপন

শিল্পের জায়ান্টদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা

ফুজিৎসু ও র‍্যাপিডাসের সামনে সময়সূচি কঠিন। টিএসএমসি ২০২৫ সালে ২ ন্যানোমিটার চিপের ব্যাপক উৎপাদন শুরু করেছে এবং এনভিডিয়া ও অ্যাপলের মতো এআই খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে। ইন্টেল এরই মধ্যে তাদের ১৮এ নোডে (যা প্রায় ১.৮ ন্যানোমিটারের সমতুল্য) ব্যাপক উৎপাদন শুরু করেছে এবং উন্নত এই প্রসেসে তৈরি প্যান্থার লেক প্রসেসর উন্মোচন করেছে। র‍্যাপিডাসের লক্ষ্য ২০২৭ সালের শেষ দিকে ২ ন্যানোমিটার উৎপাদন শুরু করা, এরপর ২০২৯ সালের কাছাকাছি ১.৪ ন্যানোমিটার উৎপাদনে যাওয়া।

এই ব্যবধান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক প্রভাব রয়েছে। উন্নত প্যাকেজিংয়ে টিএসএমসির আগাম অগ্রগতি, ব্যাপক উৎপাদনের অভিজ্ঞতা এবং প্রতিষ্ঠিত নকশা-বাস্তুতন্ত্র নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠিন বাধা তৈরি করেছে। প্রতিটি সিলিকন ওয়েফার থেকে কার্যকর চিপের যে অংশ তৈরি হয়, অর্থাৎ উৎপাদন ফলনের হার, তা প্রায়ই অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকা নির্ধারণ করে। র‍্যাপিডাসের নতুন অ্যানালাইসিস সেন্টার ও রোগনির্ণয় সক্ষমতা থেকে বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠানটি এসব চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতন। তবে ১.৪ ন্যানোমিটারে প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ফলন অর্জন এখনো প্রমাণিত নয়।

জ্বালানির খরচ বাড়তি জটিলতা তৈরি করছে। সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে বিপুল বিদ্যুৎ ও পানির প্রয়োজন। জাপানের সীমিত সম্পদ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার মধ্যে কাঁচামালের বাড়তি দাম তুলনামূলক সস্তা জ্বালানি বা প্রতিষ্ঠিত সরবরাহশৃঙ্খল থাকা অঞ্চলে কাজ করা প্রতিযোগীদের তুলনায় র‍্যাপিডাসকে পিছিয়ে দিতে পারে। শুধু বাজারের শক্তির ওপর ভর করে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব নয়—এ উপলব্ধি থেকেই উন্নয়ন ও উৎপাদন, উভয় খরচে ভর্তুকি দিতে সরকার আগ্রহী।

বিজ্ঞাপন

সারকথা

  • এআই ইনফারেন্সের জন্য ১.৪ ন্যানোমিটার নিউরাল প্রসেসিং ইউনিট তৈরি করছে ফুজিৎসু; দশকের শেষ নাগাদ হোক্কাইদোতে র‍্যাপিডাসের মাধ্যমে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
  • ২০২৭ সালের মার্চ নাগাদ র‍্যাপিডাসকে মোট ১৬.৩ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে জাপান। এর মধ্যে সাম্প্রতিক ৪ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ভর্তুকি ফুজিৎসুর কাজকে সহায়তা করার জন্য দেওয়া হয়েছে।
  • ডেটা সেন্টার ও সুপারকম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য এনপিইউটি ফুজিৎসুর মোনাকা-এক্স সিপিইউয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। ২০৩০ সালে চালুর পরিকল্পনা থাকা ফুগাকু নেক্সটও এর অন্তর্ভুক্ত।
  • র‍্যাপিডাসের লক্ষ্য ২০২৭ সালের শেষ দিকে ২ ন্যানোমিটার চিপের ব্যাপক উৎপাদন শুরু করা। এরপর ২০২৯ সালের কাছাকাছি দ্বিতীয় উৎপাদন কারখানায় ১.৪ ন্যানোমিটার চিপ তৈরি শুরু হবে।
  • জাপানের প্রযুক্তি উন্নয়ন সংস্থা নেডো এআই চিপ প্রকল্পের ৩৬৩ মিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক উন্নয়ন ব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দিচ্ছে।
  • দেশীয় স্বাধীনতার প্রচেষ্টার পাশাপাশি অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিতে তাৎক্ষণিক প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে এনভিডিয়া ও এএমডির সঙ্গে সমান্তরাল অংশীদারত্ব রেখেছে ফুজিৎসু।
  • ক্যানন ও আইবিএম জাপান র‍্যাপিডাসের আরও দুই গ্রাহক। এতে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলার প্রাথমিক অগ্রগতি স্পষ্ট।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে