নাগরিকত্ব নীতিতে আকস্মিক পরিবর্তন
১ এপ্রিল থেকে জাপানের নাগরিকত্ব পেতে আগ্রহী বিদেশি নাগরিকদের জন্য শর্ত অনেক কঠোর হচ্ছে। সরকার ন্যূনতম বসবাসের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে টানা ১০ বছর করছে। বিচার মন্ত্রণালয় ২৭ মার্চ পরিবর্তনগুলোর ঘোষণা দিয়েছে। ফলে জাপানের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ আমূল বদলে দিতে পারে এমন নিয়মের জন্য প্রস্তুতি নিতে সম্ভাব্য আবেদনকারীরা এক সপ্তাহেরও কম সময় পাচ্ছেন। হঠাৎ এই পরিবর্তন কার্যকরের সময়সীমা নিয়ে বর্তমান অনেক আবেদনকারীর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, ইতোমধ্যে আবেদন জমা দিয়েছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও নতুন মানদণ্ড প্রযোজ্য হবে।
সূচিপত্র
নতুন শর্ত শুধু বসবাসের মেয়াদ বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কর পরিশোধ যাচাইয়ের সময়সীমা বর্তমান এক বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হবে। সামাজিক বিমার প্রিমিয়াম যাচাই করা হবে এক বছরের বদলে দুই বছরের। এসব পরিবর্তনে নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য বিদ্যমান শর্তের সঙ্গে কার্যত সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে। জাপানের অভিবাসন কাঠামোতে যৌক্তিক অসংগতি আছে বলে নীতিনির্ধারকেরা যে কথা বলেছিলেন, তা দূর করতেই এই পদক্ষেপ।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ২০২৫ সালের নভেম্বরে এই পর্যালোচনা শুরু করেন। বিদ্যমান শর্তগুলো অতিরিক্ত শিথিল—এই যুক্তিতে তিনি বিচারমন্ত্রী হিরোশি হিরাগুচিকে নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়ম কঠোর করার নির্দেশ দেন। ক্ষমতাসীন জোটের শরিক নিপ্পন ইশিন (জাপান ইনোভেশন পার্টি) সমালোচনা করার পর এই নির্দেশ আসে। দলটি যে অসংগতির কথা তুলে ধরে, তা হলো: ভোটাধিকার দেয় এবং প্রত্যাহার করা যায় না—এমন নাগরিকত্ব পেতে মাত্র পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত থাকলেও, তুলনামূলকভাবে কম বাধ্যতামূলক স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য প্রয়োজন ১০ বছর।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রণীত বিদেশি বাসিন্দাদের নীতিবিষয়ক সমন্বিত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে পরিবর্তনগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রতি বছর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা হাজারো বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে, জাপানের নাগরিক হতে এখন উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি সময় ও অঙ্গীকার প্রয়োজন হবে। মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ১৪,১০৩ জন নাগরিকত্বের আবেদন করেন; এর মধ্যে ৯,২৫৮ জনের আবেদন অনুমোদিত হয় এবং ৬৬৬ জনের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। অনুমোদন পাওয়া আবেদনকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন চীনা নাগরিক, ৩৮ শতাংশ। এরপর দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকেরা, ২২ শতাংশ।
সংসদীয় বিতর্ক এড়াতে আইনি কৌশল
নতুন নীতির সবচেয়ে বিতর্কিত দিক সম্ভবত এটি কার্যকর করার পদ্ধতি। সংসদের অনুমোদন ও দীর্ঘ বিতর্ক প্রয়োজন হবে বলে জাতীয়তা আইন সংশোধনের বদলে সরকার প্রশাসনিক নির্দেশিকা ও কার্যক্রমে পরিবর্তনের মাধ্যমে কঠোর মানদণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জাতীয়তা আইনে এখনও কারিগরিভাবে ন্যূনতম পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত রয়েছে। তবে বিচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা করেছেন, আইনে শুধু ন্যূনতম শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আরও কঠোর যাচাইয়ের মানদণ্ড প্রয়োগের এখতিয়ার মন্ত্রীর রয়েছে। এই পদ্ধতিতে আইন প্রণয়নের পদক্ষেপ ছাড়াই সরকার বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনতে পেরেছে।
এই পদ্ধতি নিয়ে আইনবিশারদদের তীব্র সমালোচনা রয়েছে। অভিবাসন নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং মেইজো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইন বিভাগের অধ্যাপক আতসুশি কন্দো সতর্ক করেছেন, এই পদক্ষেপ সাংবিধানিক নীতির সম্ভাব্য লঙ্ঘন। জাপানের সংবিধানে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং নাগরিকত্বের শর্ত আইন দিয়ে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। ফলে জাতীয়তা আইনের আইনি গুরুত্ব অনেক।
এই পর্যালোচনায় জাতীয়তা আইনে নির্ধারিত ন্যূনতম বসবাসের মেয়াদ উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যাচ্ছে। আইন সংশোধন না করে তা করা আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং এমনকি অসাংবিধানিকও হতে পারে।
কন্দো উল্লেখ করেন, জাপান অনেক উন্নত দেশের প্রবণতার বিপরীত পথে এগোচ্ছে। ইতালি ও স্পেনে ১০ বছরের শর্ত থাকলেও জার্মানি, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসে প্রয়োজন মাত্র পাঁচ বছর। ব্রাজিলে চার বছর এবং কানাডায় তিন বছর। উচ্চ অভিবাসনচাপের মুখে জার্মানি অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি বাড়াতে ২০২৪ সালে নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় বসবাসের মেয়াদ আট বছর থেকে কমিয়ে পাঁচ বছর করেছে।
বর্তমান আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম
বিচার মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, নতুন মানদণ্ড শুধু ভবিষ্যৎ আবেদনকারীদের জন্য নয়, ইতোমধ্যে নাগরিকত্বের আবেদন জমা দিয়েছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এই পশ্চাৎমুখী প্রয়োগে প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা বিদেশি বাসিন্দাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষত, পাঁচ বছরের শর্ত পূরণ করেছেন বলে বিশ্বাস করে আবেদন করলেও ৩১ মার্চের সময়সীমার মধ্যে অনুমোদন পাননি—এমন ব্যক্তিরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অনলাইন কমিউনিটি ও অভিবাসীদের সহায়তাকারী নেটওয়ার্কগুলোতে আগের নিয়মে সিদ্ধান্ত পাওয়ার আশায় কয়েক মাস আগে কাগজপত্র জমা দেওয়া আবেদনকারীদের উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত, জামিনদার সংগ্রহ এবং বিপুল কাগজপত্র সম্পন্ন করতে অনেকেই উল্লেখযোগ্য সময় ও অর্থ ব্যয় করেছেন।
বিচার মন্ত্রণালয় ঝুলে থাকা আবেদনগুলোর বিষয়ে যে অবস্থান নিয়েছে, তাতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিদ্যমান আবেদনগুলোতে নতুন মানদণ্ড কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ হবে, তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কিছু সরকারি সূত্রের মতে, ১ এপ্রিলের আগে আবেদন করেছেন এবং পাঁচ বছরের বেশি কিন্তু ১০ বছরের কম সময় জাপানে বসবাস করেছেন—এমন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আগের পর্যালোচনা পদ্ধতি বহাল থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচারমন্ত্রীর বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে। সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রেই পরিবর্তন প্রযোজ্য হবে বলে সরকারি ঘোষণায় জানানোয় নিজেদের সম্ভাবনা নিয়ে অনেকেই অনিশ্চিত।
আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন, আনুষ্ঠানিক অবকাশকাল বা স্পষ্ট রূপান্তরকালীন নিয়ম না থাকায় বিচার মন্ত্রণালয় ঝুলে থাকা আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে যথেষ্ট খেয়ালখুশিমতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পাচ্ছে। পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার এক সপ্তাহেরও কম আগে ঘোষণা দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা না করার সমালোচনা হয়েছে। অভিবাসনবিষয়ক আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন, এই অনিশ্চয়তা দক্ষ কর্মীদের গন্তব্য হিসেবে জাপানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এমন এক সময়ে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যখন দেশটির বিদেশি শ্রমিকের অত্যন্ত প্রয়োজন।
ঐতিহাসিকভাবে, পাঁচ বছরের শর্ত থাকলেও ন্যূনতম সময়টুকু বসবাসের পর নাগরিকত্ব পাওয়া সফল আবেদনকারীর সংখ্যা কম। বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সফল আবেদনকারীদের অধিকাংশই জাপানে প্রায় এক দশক বা তার বেশি সময় বসবাস করেছেন। এতে ইঙ্গিত মেলে, নতুন নিয়মে ফলাফল আমূল বদলানোর বদলে বিদ্যমান চর্চাই আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে। তবে স্পষ্টভাবে মেয়াদ বাড়ানোর ফলে একটি নির্দিষ্ট বাধা তৈরি হলো, যা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে আগে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হতে পারতেন এমন ব্যক্তিদের সেই সুযোগ বন্ধ করে দেয়।
বিশেষ অবদানকারীদের জন্য ব্যতিক্রম
সাধারণভাবে শর্ত কঠোর করা হলেও, জাপানি সমাজে বিশেষ অবদান রেখেছেন বলে বিবেচিত ব্যক্তিদের জন্য সরকার ব্যতিক্রম বহাল রাখবে। দীর্ঘদিন জাপানে কাজ করা ক্রীড়াবিদ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিল্পী এবং সরকারি কমিটিতে দায়িত্ব পালন বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যবসায়িক নির্বাহীদের ক্ষেত্রে এই ব্যতিক্রম স্পষ্টভাবে প্রযোজ্য হবে।
এই ব্যতিক্রমের যোগ্যতা পেতে সাধারণত প্রার্থীকে পাঁচ বছরের বেশি সময় জাপানে নির্বিঘ্নে বসবাস করতে হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেতে হবে, অথবা তিন বছর বা তার বেশি সময় জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে হবে। মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, এসব আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এতে বিশিষ্ট অবদানকারীদের ক্ষেত্রে নমনীয়তা বজায় রেখেও সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য কঠোর মানদণ্ড বহাল থাকবে।
স্থায়ী বসবাসের নিয়মেও সমান্তরাল পরিবর্তন
নাগরিকত্বের নিয়মে পরিবর্তনের পাশাপাশি, নাগরিকত্ব না নিয়েই জাপানে অনির্দিষ্টকাল থাকার অনুমতি পেতে আগ্রহী বিদেশিদের জন্য স্থায়ী বসবাসের শর্ত সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জন্য জাপানি ভাষায় দক্ষতার শর্ত চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এর মধ্যে জাপানের নাগরিক নিয়ম ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে কোর্স বাধ্যতামূলকভাবে সম্পন্ন করার শর্ত থাকতে পারে। কয়েক বছরের মধ্যে স্থায়ী বসবাস নীতিতে এটিই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হতে পারে।
বর্তমানে স্থায়ী বসবাসের জন্য ১০ বছর বসবাস, সচ্চরিত্র, আর্থিকভাবে স্বনির্ভরতা এবং কর ও বিমার প্রিমিয়াম পরিশোধসহ জনসাধারণের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হয়। ভাষাগত শর্ত যুক্ত হলে আগে থেকেই কঠোর ব্যবস্থাটি আরও কঠোর হবে। আনুষ্ঠানিক দক্ষতা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে, নাকি নাগরিকত্বের আবেদনের ক্ষেত্রে নেওয়া সাক্ষাৎকারের মতো সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে কথোপকথনের দক্ষতা যাচাই করা হবে, তা কর্মকর্তারা বিবেচনা করছেন। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি নাগরিকদের জাপানি ভাষা ও নাগরিক নিয়ম শেখানোর জন্য সরকার আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি তৈরি করতে পারে। স্থায়ী বসবাসের অনুমতির পূর্বশর্ত হিসেবে ওই কর্মসূচি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক হতে পারে।
নাগরিকত্ব পাওয়ার কঠোর নিয়ম এবং স্থায়ী বসবাসের সম্ভাব্য পরিবর্তন—দুটির সমন্বয় জাপানে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি বাসিন্দাদের বিষয়ে বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্থিতিশীলতা অর্জনের একাধিক পথ তৈরির বদলে সরকার ১০ বছরের বসবাসের শর্তকে কেন্দ্র করে নিয়ম একীভূত করছে বলে মনে হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থায়ী মর্যাদা পাওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও ভাষাগত দক্ষতাকে অপরিহার্য পূর্বশর্ত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জনতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট: শ্রমিকসংকটের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসী
জাপানের জনতাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বিদেশি শ্রমিক ক্রমেই অপরিহার্য হয়ে উঠছেন। এ পরিস্থিতিতেই নীতিগত পরিবর্তনগুলো এসেছে। এ বছরের শুরুতে প্রকাশিত ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪১ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে প্রথমবারের মতো ৪০ লাখের সীমা অতিক্রম করেছে। জনসংখ্যার ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ এখন বিদেশি বাসিন্দা; আগের বছর এই হার ছিল ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ বিদেশিদের উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে।
এই বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় ৯ লাখ ৪৭ হাজার জন স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন। আর ৪ লাখ ৭৫ হাজার জন দক্ষ কর্মীর ভিসায় প্রকৌশল বা মানবিকবিদ্যার মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে কাজ করেন। সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী চীনা নাগরিকদের, ৯ লাখ ৩০ হাজার। এরপর ভিয়েতনামের নাগরিক ৬ লাখ ৮১ হাজার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক ৪ লাখ ৭ হাজার। বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও জন্মহার কমে যাওয়ায় জাপানে নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে কর্মীর তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকটের কারণেই বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে।
জনতাত্ত্বিক এই বাস্তবতার সঙ্গে নাগরিকত্ব ও বসবাসের শর্ত কঠোর করার সরকারি নীতির টানাপোড়েন রয়েছে। অর্থনীতি সচল রাখা ও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় জাপানের বিদেশি শ্রমিক দরকার। কিন্তু স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা নাগরিকত্ব দেওয়ার আগে দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দারা জাপানি সমাজের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছে। স্থিতিশীল জনসংখ্যা বৃদ্ধির সুস্পষ্ট প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও এ নীতি স্থায়ী জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের বদলে অস্থায়ী শ্রমিকের ওপর নির্ভরতার ইঙ্গিত দেয়।
আবেদনকারীদের যা প্রমাণ করতে হবে
বসবাসের মেয়াদ ও আর্থিক দায়বদ্ধতা পালনের বাইরেও নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের জাপানি সমাজের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে দৈনন্দিন জীবন নির্বিঘ্নে চালানোর মতো জাপানি ভাষাজ্ঞান, সচ্চরিত্র বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত সম্পদ, দক্ষতা বা পারিবারিক সহায়তার মাধ্যমে পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য দেখানো।
কর ও বিমার প্রিমিয়াম যাচাইয়ের সময়সীমা বাড়ায় আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে নিখুঁত আর্থিক নথি বজায় রাখতে হবে। কয়েক বছর আগের কর বা সামাজিক বিমার প্রিমিয়াম বকেয়াও এখন আবেদনকে প্রভাবিত করতে পারে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কতটা বকেয়া থাকলে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে, তা প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বিচার করা হবে। তবে পর্যালোচনার সময় বাড়ানোর ফলে আর্থিক দায়বদ্ধতা পালনের মানদণ্ড কার্যত আরও কঠোর হচ্ছে।
মূল কথা
- ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে জাপানের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য টানা বসবাসের শর্ত পাঁচ বছর থেকে দ্বিগুণ করে ১০ বছর করা হচ্ছে
- কর পরিশোধ যাচাইয়ের সময়সীমা পাঁচ বছর এবং সামাজিক বিমা যাচাইয়ের সময়সীমা দুই বছর করা হচ্ছে; আগে দুটিই ছিল এক বছর
- সংসদের অনুমোদন ছাড়াই প্রশাসনিকভাবে পরিবর্তন কার্যকর করা হয়েছে; আইনবিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে সাংবিধানিক উদ্বেগ জানিয়েছেন
- নতুন নিয়ম ঝুলে থাকা আবেদনগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, তবে মন্ত্রীর বিবেচনায় ব্যতিক্রম হতে পারে
- ক্রীড়াবিদ, শিল্পী ও ব্যবসায়িক নেতাসহ বিশেষ অবদানকারীদের জন্য ব্যতিক্রম বহাল থাকবে
- নাগরিকত্বের শর্ত স্থায়ী বসবাসের নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে; স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রেও ভাষাগত শর্ত যুক্ত হতে পারে
- দেশে শ্রমিকসংকটের মধ্যে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছানোর সময়ে নীতিগত পরিবর্তনটি এসেছে






