মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অর্থনৈতিক সংকট ঘনীভূত করায় জরুরি সহায়তা ঘোষণা থাইল্যান্ডের
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তা ও কৃষকদের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের একটি উচ্চাভিলাষী প্যাকেজ চালু করেছে থাইল্যান্ডের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক দুর্ভোগ ব্যাপক সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নেওয়ার আগেই ছাড়ের কর্মসূচি, মূল্যনিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি ভর্তুকি চালু করতে তৎপর হয়েছে দেশটি।
সূচিপত্র
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অর্থনৈতিক সংকট ঘনীভূত করায় জরুরি সহায়তা ঘোষণা থাইল্যান্ডের
- পাম তেল থেকে জ্বালানি: যুদ্ধ কীভাবে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করেছে
- সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপ
- কৃষকেরা চাপে: সারের ব্যয় ও গ্রিন ফ্ল্যাগ প্লাস
- ভর্তুকির চাপ: জ্বালানির দাম বেঁধে রাখার আর্থিক বোঝা
- আঞ্চলিক প্রভাব: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সম্মিলিত সংকট
- অবরুদ্ধ বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা
- এক নজরে
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বিভাগের উপমহাপরিচালক চানথাপাত পানজামানন্দ ঘোষিত উদ্যোগগুলো ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ব্যাংককের সবচেয়ে জোরালো অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ। এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘থাই হেল্প থাই’, যা ১ এপ্রিল চালু হওয়ার কথা। বড় খুচরা বিক্রেতা ও উৎপাদকদের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ১,০০০টির বেশি বিকল্প ব্র্যান্ডের পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। একই সময়ে দেশজুড়ে ৫০০টির বেশি স্থানে ‘ব্লু ফ্ল্যাগ’ স্বল্পমূল্যের কর্মসূচি সম্প্রসারণ করছে মন্ত্রণালয়। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছাতে চালু করা হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকও।
থাইল্যান্ড যখন অর্থনৈতিক চাপের এক নিখুঁত ঝড়ের মুখে, তখন এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বন্ধ করে দিয়েছে। এ সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই সাধারণত এশিয়াগামী অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। মার্চের শুরুর তুলনায় ১২২ শতাংশ বেড়ে দুবাই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা আমদানিনির্ভর এশীয় অর্থনীতিগুলোতে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
পাম তেল থেকে জ্বালানি: যুদ্ধ কীভাবে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করেছে
থাই ভোক্তাদের ওপর এর প্রভাব পড়েছে তাৎক্ষণিক ও তীব্রভাবে। বোতলজাত পাম তেলের দাম ১৭ শতাংশ বেড়ে লিটারপ্রতি ৫৩ বাথ (১.৬২ ডলার) হয়েছে। প্লাস্টিকের কাঁচামাল ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ৫০০ মিলিলিটারের কম দামের বোতলজাত পানির পাইকারি দামও ২০ থেকে বেড়ে ২৫ বাথ হয়েছে। ইউনিলিভার, নেসলে এবং সাহা পাথানাপিবুলসহ (মামা ইনস্ট্যান্ট নুডলসের উৎপাদক) পাঁচটি বড় উৎপাদক কাঁচামাল ও সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এপ্রিল থেকে দাম বাড়তে পারে বলে বাণিজ্যিক অংশীদারদের আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করেছে।
জ্বালানি বাজারে বিশেষ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরকার শুরুতে রাষ্ট্রীয় অয়েল ফুয়েল ফান্ডের অর্থে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২৯.৯৪ বাথে বেঁধে দিলেও ভর্তুকির ব্যয় ছিল বিপুল। তহবিলের দৈনিক লোকসান ১ বিলিয়ন বাথ (৩ কোটি ২০ লাখ ডলার) ছাড়িয়ে যায়। দুই সপ্তাহের মধ্যে তহবিলের ২.৫ বিলিয়ন বাথ উদ্বৃত্ত ১২ বিলিয়ন বাথের বেশি ঘাটতিতে পরিণত হয়। ১৮ মার্চ দামসীমা লিটারপ্রতি ৩৩ বাথে উন্নীত করার পর আতঙ্কে জ্বালানি কেনা শুরু হয়। দৈনিক জ্বালানি ব্যবহার ৬ কোটি ৭০ লাখ লিটার থেকে বেড়ে ৮ কোটি ৪০ লাখ লিটারে পৌঁছায়, যা জাতীয় উৎপাদনক্ষমতা ৭ কোটি ৭০ লাখ লিটার ছাড়িয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল এ বিশৃঙ্খলার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে স্বীকার করেন, যুদ্ধ স্বল্পস্থায়ী হবে বলে সরকারের ধারণা ভুল ছিল। প্রথম তিন সপ্তাহেই ভর্তুকির ব্যয় ২০ বিলিয়ন বাথে পৌঁছায়। দামসীমা তুলে নেওয়ার আগে দৈনিক ব্যয় ২ বিলিয়ন বাথে উঠেছিল।
সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপ
থাই হেল্প থাই ও ব্লু ফ্ল্যাগ উদ্যোগের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৫৯টি নিয়ন্ত্রিত পণ্যের দাম পর্যবেক্ষণ করছে মন্ত্রণালয়। প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বলসহ নয়টি বড় উৎপাদকের সঙ্গে অন্তত এপ্রিল পর্যন্ত ভোগ্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রাখার সমঝোতা হয়েছে। তৈরি খাবারের ক্ষেত্রে অযৌক্তিকভাবে খুচরা দাম বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে উৎস থেকে সরাসরি খাবার বিক্রেতাদের কাছে চাল, রান্নার তেল, ডিম ও চিনি সরবরাহ করছেন কর্মকর্তারা।
দাম বাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ জানানোর জন্য এখন ২৪ ঘণ্টার হটলাইন ১৫৬৯ এবং লাইন মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম @mr.DIT ব্যবহার করা যাচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনায়, অতিরিক্ত দামের অভিযোগে কৃষকদের অভিযোগের পর আয়ুথায়ায় একটি বড় রাসায়নিক সার বিক্রেতার প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালান কর্মকর্তারা। ব্যাখ্যা দিতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনাকারীকে তলব করা হয়েছে এবং ক্রয়মূল্যের নথিপত্র যাচাইয়ে তদন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি খাতে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার উৎসাহিত করতে বায়োডিজেলের অনুপাত B5 থেকে B7-এ উন্নীত করা এবং গ্যাসোহল E20-এর দাম E10-এর চেয়ে লিটারপ্রতি ৫ বাথ কম রাখার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া কাঁচামালবাহী থাই জাহাজগুলো বের করে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করছে সরকার। কৃষি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সারের নতুন উৎসও খোঁজা হচ্ছে।
কৃষকেরা চাপে: সারের ব্যয় ও গ্রিন ফ্ল্যাগ প্লাস
জ্বালানির ব্যয় ও সারের দাম বৃদ্ধি, দুই দিক থেকেই চাপে পড়েছেন কৃষি উৎপাদকেরা। এ দুর্বলতা বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান সহায়তা কর্মসূচির পরিপূরক হিসেবে ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ প্লাস’ প্রকল্প চালু করছে মন্ত্রণালয়। ভূমি উন্নয়ন বিভাগ থেকে ইস্যু করা দিন ডি কার্ডধারী কৃষক, উত্তম কৃষিচর্চা মানদণ্ডের অধীন সনদপ্রাপ্ত কৃষক এবং কমিউনিটি মাটি ও সার ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের সদস্যরা অতিরিক্ত ২০০ বাথ (৭.৮০ ডলার) সুবিধা পাবেন। জৈব সার কেনার জন্য পাবেন ২০০ বাথের কুপনও।
বিদ্যমান সহায়তার সঙ্গে মিলিয়ে প্রত্যেক কৃষক মোট ১,৪০০ বাথ পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন। প্রথম পর্যায়ে ৫০টি প্রদেশে এ কর্মসূচি চালু হবে। এপ্রিলের শেষ দিকে কামফেং ফেটে শুরু হয়ে পরে দেশজুড়ে সম্প্রসারিত হবে। ভর্তুকিমূল্যে ১০ লাখ বস্তা সার বিতরণের লক্ষ্য নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ২৬টি উৎপাদকের সঙ্গে সমন্বয় করে কারখানা থেকে সরাসরি কম দামে সার বিক্রি করা হবে; সব মিলিয়ে এর পরিমাণ ১ কোটি বস্তার বেশি হবে।
থাইল্যান্ডের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা মোকাবিলা করছে কৃষি খাতকে ঘিরে এ উদ্যোগ। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দেশটির কৃষি খাতের জন্য সাশ্রয়ী উপকরণ নিশ্চিত করা এখন অগ্রাধিকার, যাতে জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি খাদ্যের দামও না বাড়ে।
ভর্তুকির চাপ: জ্বালানির দাম বেঁধে রাখার আর্থিক বোঝা
সংকট মোকাবিলায় থাইল্যান্ডের ব্যয়ের হিসাব থেকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর অসাধারণ চাপের চিত্র উঠে এসেছে। উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার থাকলে মাত্র চার মাসেই থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও ভারতসহ এশিয়ার আটটি দেশের সম্মিলিত ভর্তুকির প্রয়োজন হবে ৮০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ইতিমধ্যেই ঘাটতিতে থাকা থাইল্যান্ডের অয়েল ফুয়েল ফান্ড এ আঞ্চলিক আর্থিক চাপের একটি অংশমাত্র।
প্রধানমন্ত্রী আনুতিন ব্যাখ্যা করেছেন, কঠোর দামসীমা তুলে নেওয়ার অর্থ দাম পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া নয়। বরং বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এবং বেশি দামের প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি পাচার ঠেকাতে ভর্তুকির হার লিটারপ্রতি ২৪ বাথ থেকে কমিয়ে ১৬ বাথ করা হচ্ছে। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পেট্রলের দামে থাইল্যান্ড বর্তমানে ষষ্ঠ এবং ডিজেলে অষ্টম স্থানে রয়েছে। মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও লাওসের তুলনায় দেশটিতে জ্বালানির দাম এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
জ্বালানি পরিস্থিতি সামলানোর কারণে যে বিশৃঙ্খলা হয়েছে, তার জন্য আমি জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছি। পরিস্থিতি এখন বদলে গেছে এবং শিগগিরই সংকট শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই সরকার পদক্ষেপে পরিবর্তন এনেছে এবং নিম্ন আয়ের শ্রমিক, কৃষক ও পরিবহন খাতের কর্মীদের মতো ঝুঁকিতে থাকা গোষ্ঠীগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে ১ কোটি থাই পরিবারকে প্রতিদিন এক লিটার করে জ্বালানি ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়ে প্রচারাভিযান শুরু করেছে সরকার। এতে দৈনিক আমদানি ১ কোটি লিটার পর্যন্ত কমতে পারে, পরিবারের ব্যয় ৪০০ মিলিয়ন বাথ সাশ্রয় হতে পারে এবং অয়েল ফুয়েল ফান্ডের দৈনিক চাপ ২০০ মিলিয়ন বাথ কমতে পারে।
আঞ্চলিক প্রভাব: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সম্মিলিত সংকট
এশিয়ার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে থাইল্যান্ডের এ সংকট দেখা দিয়েছে, যেখানে জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো কাঠামোগত দুর্বলতার মুখে পড়েছে। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ এশিয়ার শোধনাগারগুলোর দিকে যেত। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের তেল আমদানির যথাক্রমে ৯০ শতাংশের বেশি ও ৭০ শতাংশের বেশি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করত। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়ে উৎসে বৈচিত্র্য আনা চীন ও ভারতের মতো বড় অর্থনীতিগুলোও অপরিশোধিত তেলের প্রায় অর্ধেকের জন্য এখনও মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল।
অঞ্চলজুড়ে সরকারগুলো নজিরবিহীন হস্তক্ষেপমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। ফিলিপাইন সরকারি কর্মীদের জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে এবং জ্বালানি আবগারি কর স্থগিতের আইন দ্রুত পাসের চেষ্টা করছে। ভিয়েতনামের জ্বালানি স্থিতিশীলতা তহবিল থেকে টানা ছয়বার অর্থ তোলায় তহবিলটি প্রায় নিঃশেষ হয়ে গেছে। দেশটি ঘরে থেকে কাজের ব্যবস্থাও উৎসাহিত করছে। ভর্তুকিমূল্যে পেট্রল লিটারপ্রতি ১.৯৯ রিঙ্গিতে রাখতে মালয়েশিয়ার মাসে আনুমানিক ৩.২ বিলিয়ন রিঙ্গিত (৮১ কোটি ডলার) ব্যয় হয়। অন্যদিকে ভর্তুকিবিহীন ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে।
শ্রীলঙ্কায় সাপ্তাহিক জ্বালানি কোটা চালু হয়েছে। এতে গাড়ির চালকেরা ১৫ লিটার এবং মোটরসাইকেল চালকেরা ৫ লিটার জ্বালানি নিতে পারবেন। ঈদুল ফিতরের ছুটির সময় ভর্তুকি বজায় রাখতে গিয়ে ইন্দোনেশিয়ার আইনি ৩ শতাংশ রাজস্ব ঘাটতির সীমা লঙ্ঘনের ঝুঁকি রয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে সিঙ্গাপুরের ৯২.২ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, ফলে দেশটি বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে। এ আমদানির ১৪.৬ শতাংশ আসে কাতার থেকে, যেখানে যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
অবরুদ্ধ বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা
তেল ও গ্যাসের বাইরেও হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ায় প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। কাতারের বড় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও হিলিয়াম কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে হিলিয়াম সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এতে তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর খাত এবং দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উৎপাদনের সময় চিপ ঠান্ডা রাখা ও পরিষ্কারের কাজে দুই দেশই হিলিয়ামের ওপর নির্ভরশীল। তেলের বিপরীতে হিলিয়াম দ্রুত উৎপাদন করা যায় না; নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে এটি তৈরি হতে কয়েকশ কোটি বছর লাগে।
আটকে পড়া কাঁচামালবাহী জাহাজ উদ্ধারে পণ্য পরিবহনের ওপর বিশেষ নজর রাখছে থাইল্যান্ডের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশটির মৎস্য খাতও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা পর্যটন খাতে আগমনের সংখ্যা বছরওয়ারি ৯ শতাংশ কমেছে। আন্তর্জাতিক পর্যটকেরা ভ্রমণ বাতিল করায় স্থানীয় পর্যটকদের আকর্ষণ করতে বিলাসবহুল হোটেলগুলো সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে।
এ সংকটে ওষুধ সরবরাহের দুর্বলতাও প্রকাশ পেয়েছে। উপসাগরীয় বিমানবন্দরগুলো দিয়ে আকাশপথে পণ্য পরিবহন ৮০ শতাংশ কমেছে। উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে জাহাজ চলাচলে প্রতিটি যাত্রায় আরও ১৪ দিন এবং জ্বালানি বাবদ ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার যোগ হচ্ছে। এ বিঘ্নের কারণে এশিয়ার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জেনেরিক ওষুধ থেকে শুরু করে ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ পর্যন্ত সবকিছুর সরবরাহ হুমকিতে পড়েছে।
এক নজরে
- ১ এপ্রিল থাই হেল্প থাই ও ব্লু ফ্ল্যাগ কর্মসূচি চালু করছে থাইল্যান্ড; দেশজুড়ে ৫০০টির বেশি স্থানে ১,০০০ পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে
- জ্বালানির দাম বেঁধে রাখতে তিন সপ্তাহে ২০ বিলিয়ন বাথ ব্যয়ের পর অয়েল ফুয়েল ফান্ডের ঘাটতি ১২ বিলিয়ন বাথ ছাড়িয়েছে; পাচার ঠেকাতে পরে দামসীমা বাড়ানো হয়েছে
- গ্রিন ফ্ল্যাগ প্লাস প্রকল্পের আওতায় কৃষকেরা সম্মিলিত সহায়তা হিসেবে সর্বোচ্চ ১,৪০০ বাথ পাবেন; লক্ষ্য ভর্তুকিমূল্যে ১০ লাখ বস্তা সার বিতরণ
- হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার পর মার্চ থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১২২ শতাংশ বেড়েছে; দুবাই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫৮ ডলারে পৌঁছেছে
- উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে আতঙ্কে জ্বালানি কেনার ফলে ঘাটতি দেখা দেওয়ার পর জ্বালানি পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থতার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল
- উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চার মাস তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার থাকলে এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত জ্বালানি ভর্তুকির প্রয়োজন হবে ৮০ বিলিয়ন ডলারের বেশি
- পর্যটকের আগমন বছরওয়ারি ৯ শতাংশ কমেছে; স্থানীয় অতিথিদের আকর্ষণ করতে বিলাসবহুল হোটেলগুলো সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে






