ভিয়েতনামের শিল্পাঞ্চলে বোনাসের প্রতিযোগিতা
উত্তর ভিয়েতনামে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় পরিচালিত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কারখানার শ্রমিক নিয়োগে নজিরবিহীন প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তারা দুই মাসের বেতনের সমান নিয়োগ বোনাস দিচ্ছে, যা মাত্র এক বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এত আকর্ষণীয় প্রণোদনা সত্ত্বেও ফক্সকনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান, লাক্সশেয়ার ও গোয়ারটেকসহ কোম্পানিগুলো নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হাজার হাজার কর্মীর ঘাটতিতে রয়েছে। স্মার্টফোন ও ভোক্তা ইলেকট্রনিকসের বৈশ্বিক চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তারা উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
সূচিপত্র
শ্রমিকসংকটের কেন্দ্রস্থল বাক নিন প্রদেশ। হ্যানয়ের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এই শিল্প করিডর চীন থেকে অ্যাপলের সরবরাহব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বাক নিন কর্মসংস্থান সেবা কেন্দ্রের তথ্যমতে, এ বছর প্রদেশটির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৩ লাখ ৩৪ হাজার কর্মী প্রয়োজন, যার ৭০ শতাংশ চাহিদাই ইলেকট্রনিকস খাতের। স্থানীয় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে মাত্র ২০ হাজারের কিছু বেশি প্রশিক্ষণার্থী তৈরি করে, যা শ্রমিকের চাহিদার মাত্র ৩০ শতাংশ পূরণ করে।
গত বছর তিন মাসে পরিশোধ করা ৭০ লাখ ভিয়েতনামি ডং (প্রায় ২৬৬ ডলার) নিয়োগ বোনাস ছিল বাজারের সর্বোচ্চ অঙ্ক। এখন সেটিই ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে এসেছে। ২০২৬ সালে অনেক ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠান বোনাস বাড়িয়ে ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ ডং করেছে। ভ্যান চুং ও কোয়াং চাউ শিল্প পার্কের কয়েকটি কারখানা মার্চ পর্যন্ত কর্মী রেফারেল ও নতুন নিয়োগের বোনাস মিলিয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ ডং (প্রায় ৬৮৪ ডলার) দেওয়ার বিজ্ঞাপন দিয়েছে। ফক্সকনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফুশান টেকনোলজি ভিয়েতনাম ফোন ও স্মার্ট স্পিকার সংযোজন করে। বছরের শেষ নাগাদ মোট কর্মীসংখ্যা ১৬ হাজারে উন্নীত করতে ৫ হাজার কর্মী নিয়োগের চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন কর্মীদের ১ কোটি ১০ লাখ ডংয়ের সঙ্গে যাতায়াত খরচও দিচ্ছে তারা।
কোম্পানিগুলোর নিয়োগসংক্রান্ত লিফলেটে কাজের পরিবেশের কথা গাঢ় লাল অক্ষরে তুলে ধরা হয়েছে: "বসে কাজ, স্বাভাবিক তাপমাত্রা"। একই সীমিত শ্রমিকের জন্য প্রতিযোগিতা চলায় এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে শুধু তাদেরই ৪০ হাজার কর্মী প্রয়োজন, এমন এক নিয়োগকর্তা প্রার্থী খুঁজতে ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের প্রদেশে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "শ্রমিকদের থাকা ও দৈনন্দিন সব প্রয়োজন আমরা সামলাতে পারি। নতুন কারখানা চালানোর জন্য শুধু লোক দরকার।"
চাহিদা বাড়াচ্ছে যে ভূরাজনৈতিক শক্তি
বাক নিনের শ্রমিকসংকট গত তিন বছরে দ্রুততর হওয়া বৈশ্বিক ইলেকট্রনিকস উৎপাদনব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং ওয়াশিংটন বেইজিংয়ের উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি পাওয়ার সুযোগ সীমিত করছে। এ অবস্থায় অ্যাপল ও এর সরবরাহকারীরা ঐতিহাসিক সরবরাহব্যবস্থা স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। ভিয়েতনাম ও ভারত এই পরিবর্তনের প্রধান সুবিধাভোগী হয়ে উঠেছে। এর ফলে একসময় চীনের বিশাল কারখানায় কেন্দ্রীভূত উৎপাদন নেটওয়ার্ক খণ্ডিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মধ্য চীনের ফক্সকন ঝেংঝৌ কারখানাটি, যার ডাকনাম "আইফোন সিটি", একসময় ২ লাখ কর্মীর এই বিশাল কারখানা কমপ্লেক্স থেকে বিশ্বজুড়ে আইফোন সরবরাহের ৭০ শতাংশ উৎপাদন করত। কোভিড-১৯ মহামারির সময় কারখানাটিতে কঠোর লকডাউনের ফলে সহিংস বিক্ষোভ ও উৎপাদন ব্যাহত হয়। এতে অ্যাপলের আইফোন বিক্রিতে প্রতি সপ্তাহে আনুমানিক ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়। এসব বিঘ্ন, শুল্কযুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির সঙ্গে মিলিত হয়ে সরবরাহকারীদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিকল্প উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে তাগিদ দিয়েছে।
গত এক দশকে ভিয়েতনামে অ্যাপলের পণ্য সংযোজনকারী কোম্পানির সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে। এখন দেশটির রপ্তানির ৩২ শতাংশ আসে ইলেকট্রনিকস শিল্প থেকে, যা দশ বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বাক নিনের পাশের প্রদেশ বাক জিয়াংয়ে ১০০ কোটি ডলারের একটি ফক্সকন কমপ্লেক্স গড়ে উঠছে, যেখানে ম্যাকবুক উৎপাদন করা যাবে। এর আয়তন ৯৩টি আমেরিকান ফুটবল মাঠের সমান। গোয়ারটেক ও লাক্সশেয়ারসহ চীনা কোম্পানিগুলোও ভূরাজনৈতিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে অ্যাপলের সরবরাহব্যবস্থায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে উত্তর ভিয়েতনামে দ্রুত সম্প্রসারণ করেছে।
কাজের সুযোগ বাড়ছে, শ্রমিক কমছে
শুধু বাক নিনেই নিয়োগের পরিমাণ কল্পনাতীত। অ্যাকুস্টিক যন্ত্রাংশ ও এয়ারপডস উৎপাদনকারী গোয়ারটেক ভিনা এ বছর ১ লাখ ২০ হাজার কর্মী নিয়োগ করতে চায়। ফুকাং টেকনোলজির প্রয়োজন ৬০ হাজার কর্মী, লাক্সশেয়ার আইসিটির ৪০ হাজার এবং নিউউইং ইন্টারকানেক্ট টেকনোলজির ১২ হাজার। প্রদেশটির প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কারখানার চাহিদার কেবল একটি অংশ এই সংখ্যা; কারখানাগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার কর্মী কাজ করেন, যাদের বেশির ভাগই অন্য প্রদেশ থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিক।
শ্রমিকসংকটে পোশাক প্রস্তুতকারকেরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠানগুলো সহজলভ্য শ্রমিকের বিপুল অংশ নিয়োগ করায় অবশিষ্ট ১২ শতাংশ শ্রমিকের জন্য প্রতিযোগিতা করছে বস্ত্র ও পোশাক কারখানাগুলো। তাদের মুনাফার হার তুলনামূলক কম হলেও বোনাসের প্রতিযোগিতায় সমানতালে নামতে বাধ্য হচ্ছে তারা। এর ফলে মজুরি কম এমন খাতগুলোকেও দক্ষ কর্মী আকর্ষণে নজিরবিহীন প্রণোদনা দিতে হচ্ছে।
হংকংয়ে তালিকাভুক্ত ক্রিস্টাল ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টাল মার্টিন ভিয়েতনামে মার্চের মাঝামাঝি নিয়োগ পাওয়া ২০ বছর বয়সী শ্রমিক লুয়ং থাওয়ের অভিজ্ঞতা ভিয়েতনামের শ্রমশক্তিতে চলমান অভিবাসনের চিত্র তুলে ধরে। কোয়াং চাউ শিল্প পার্কের কারখানায় কাজের সুযোগের কথা এক বন্ধুর কাছে শুনে তিনি নিজের প্রদেশ থেকে ৩৫০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে আসেন। আগের ইলেকট্রনিকস কারখানায় তাঁর মূল বেতন ছিল ৫৪ লাখ ডং, ভাতাসহ প্রায় ৭০ লাখ। আয় দ্বিগুণ করতে তাঁকে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হতো। সংযোজন লাইনে সারাদিন দাঁড়িয়ে কাজ করায় অল্প বয়সেই তাঁর হাঁটুতে ব্যথা শুরু হয়েছিল।
নিয়োগব্যবস্থার ভেতরের চিত্র
ক্রিস্টাল মার্টিনে থাওয়ের মূল বেতন মাসে প্রায় ৬০ লাখ ডং থেকে শুরু। তবে তাঁকে আকৃষ্ট করেছে মূলত প্রণোদনার প্যাকেজ। তিন মাসে ভাগ করে তাঁকে ৬০ লাখ ডং নিয়োগ বোনাস দেওয়া হবে। পাশাপাশি ছয় মাসে দেওয়া হবে "নতুন কারখানা" বোনাস হিসেবে আরও ৪৫ লাখ ডং। যিনি তাঁকে রেফার করেছেন, সেই বন্ধুও আলাদা করে ৬০ লাখ ডং বোনাস পাবেন। সব মিলিয়ে একজন নতুন কর্মী নিয়োগে কোম্পানির ব্যয় হতে পারে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৫০ হাজার ডং।
ক্রিস্টাল মার্টিন ভিয়েতনামের মানবসম্পদ পরিচালক নগুয়েন থি থোয়া সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শ্রমিক নিয়োগের প্রতিযোগিতা তীব্র হতে দেখেছেন। তাঁর মতে, কর্মী আকর্ষণে আর্থিক প্রণোদনা অপরিহার্য হলেও কাঠামোগত শ্রমিকসংকটে থাকা শিল্পের জন্য এটি টেকসই সমাধান হতে পারে না।
কারখানার শ্রমিকের সংখ্যা ক্রমেই কমবে, আর নতুন কর্মী নিয়োগের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। নিয়োগ বোনাসের প্রয়োজন থাকবে, তবে দীর্ঘ মেয়াদে এটি টেকসই নয়।
কর্মীদের ধরে রাখতে ক্রিস্টাল মার্টিন ৬০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে যাতায়াতকারী বিনা মূল্যের বাস চালু করেছে। এতে কর্মীরা কারখানার আবাসনে না থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরতে পারেন। নিরাপত্তা-প্রবেশপথের ঘূর্ণায়মান দরজার মতো কর্মক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও শিথিল করেছে কোম্পানিটি। অভিজ্ঞ পোশাকশ্রমিকেরা দীর্ঘদিন কাজ করে দক্ষতা বাড়ালে উৎপাদনশীলতা বোনাসসহ মাসে ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি ডং পর্যন্ত আয় করতে পারেন। তাঁদের কেউ কেউ পাঁচ থেকে সাত বছর, আবার কয়েকজন এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন।
ব্যবস্থার সুযোগ নেওয়া
নিয়োগ বোনাস কর্মী নিয়োগের অপরিহার্য হাতিয়ার হয়ে উঠলেও তা ধরে রাখার সমস্যাও আরও বাড়িয়েছে। ভিয়েতনামের কারখানার শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এই বোনাসকে দীর্ঘদিন কাজের প্রণোদনা না ভেবে আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে দেখছেন। নতুন বোনাস নিতে কয়েক মাস পরপর এক কারখানা ছেড়ে অন্য কারখানায় যোগ দিচ্ছেন তাঁরা। এভাবে চাকরি বদলালে শ্রমিকেরা স্বল্প মেয়াদে আয় বাড়াতে পারেন। তবে কম মূল বেতনে নতুন করে কাজ শুরু করায় সামাজিক বিমায় তাঁদের অবদান কমে যায়, যা শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদে বেকারভাতা ও পেনশনের সুবিধা ক্ষয় করে।
বাক নিন কর্মসংস্থান সেবা কেন্দ্রের উপপরিচালক ভু তিয়েন থান সতর্ক করে বলেছেন, বোনাস নিয়ে এই প্রতিযোগিতা প্রদেশজুড়ে কর্মী ধরে রাখার সংকট তৈরি করছে। চাকরি বদলানোর প্রতিবার শ্রমিকেরা জ্যেষ্ঠতার সুবিধা ও সামাজিক বিমার ধারাবাহিকতা হারান। থান পরামর্শ দিয়েছেন, এককালীন নিয়োগ প্রণোদনার বদলে কোম্পানিগুলো বোনাসের অর্থ মাসিক বেতনে যোগ করার কথা বিবেচনা করতে পারে, যাতে টেকসই পারিশ্রমিক কাঠামো গড়ে ওঠে।
প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর মানবসম্পদ দলগুলো প্রতিটি নিয়োগ পর্বে বোনাসের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণে অনানুষ্ঠানিকভাবে সমন্বয় শুরু করেছে। তাদের লক্ষ্য নিয়োগব্যয় লাগামছাড়া হয়ে যাওয়া ঠেকানো। তবে মৌসুমি চাহিদার সঙ্গে এই অঙ্ক ওঠানামা করে। মার্চে নিয়োগ সবচেয়ে বেশি হলেও শ্রমিকসংকটের মূল সময় মে থেকে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত। এ সময় উৎসবের মৌসুমের রপ্তানি আদেশ পূরণে কারখানাগুলো উৎপাদন বাড়ায়। এই সময় বোনাস বর্তমান অঙ্ককেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বোনাসের বাইরে সমাধানের খোঁজ
শ্রমিকসংকট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মী ব্যবস্থাপনার পুরো পদ্ধতি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। নিয়োগদলগুলো এখন গ্রামীণ প্রদেশে শত শত কিলোমিটার ভ্রমণ করে একই উচ্চমাধ্যমিক পাস করা তরুণদের জন্য আরও বহু নিয়োগকর্তার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। কিছু কর্মী স্থিতিশীল উৎপাদনশিল্পের চাকরি ছেড়ে চীনা ভাষা শিখছেন। ক্রমবর্ধমান সংখ্যক চীনা বিনিয়োগে পরিচালিত কারখানায় দোভাষী বা প্রশাসনিক কর্মী হিসেবে ভালো পেশাগত সুযোগ পাওয়ার আশায় তাঁরা এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ শুধু নিয়োগেই সীমাবদ্ধ নয়। বাক নিনে শিল্পাঞ্চলের ৫৫ শতাংশেরও বেশি জমি ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, আর কারখানাগুলো সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। প্রদেশটিতে ৪২টি দেশ ও অঞ্চল বিনিয়োগ করায় শ্রমিকের জোগান ও চাহিদার ব্যবধান আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। ইলেকট্রনিকস ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষ কারিগরি কর্মীর বিশেষ ঘাটতি রয়েছে। শিল্পের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলো।
ভিয়েতনামে এসব চ্যালেঞ্জ ফক্সকনের জন্য চীনের সাম্প্রতিক সমস্যারই প্রতিধ্বনি। ঝেংঝৌ কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আইফোন ১৪ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। চীনেও কর্মী ধরে রাখতে বোনাস দিয়েছে কোম্পানিটি। ৯০ দিন কাজ চালিয়ে যাওয়া কর্মীদের সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউয়ান (৪২৪ ডলার) দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। এতে বোঝা যায়, শ্রমিকসংকট শুধু ভিয়েতনামের স্থানীয় সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক চাপ।
উৎপাদন সক্ষমতা চীন থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সরতে থাকায় উৎপাদনকারীদের বেশি খরচ, খণ্ডিত সরবরাহব্যবস্থা এবং ক্রমেই বেশি গতিশীল শ্রমশক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। এসব শ্রমিক কারখানার চাকরিকে পেশা নয়, সাময়িক কাজ হিসেবে দেখেন। বোনাসের টাকা হয়তো পরদিনের শিফটের জন্য কর্মী নিশ্চিত করতে পারে, কিন্তু আগামী বছরের উৎপাদনচক্র পর্যন্ত তাঁরা কাজে থাকবেন, তার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না।
মূল কথা
- শুধু এ বছরই বাক নিন প্রদেশে ফক্সকন, লাক্সশেয়ার ও গোয়ারটেকের সম্মিলিতভাবে ২ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি কর্মী প্রয়োজন।
- এক বছরে নিয়োগ বোনাস দ্বিগুণ হয়েছে; কিছু কারখানায় তা ১ কোটি ৮০ লাখ ডং, অর্থাৎ দুই মাসের বেতনের সমান।
- ২০১৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ভিয়েতনামের ইলেকট্রনিকস খাতের কর্মীসংখ্যা চার গুণ হয়েছে, কিন্তু প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমান চাহিদার মাত্র ৩০ শতাংশ পূরণ করতে পারে।
- একাধিক নিয়োগ বোনাস পেতে শ্রমিকেরা কারখানা বদলে "ব্যবস্থার সুযোগ নিচ্ছেন", যা কর্মী ধরে রাখার সমস্যা বাড়াচ্ছে।
- চীন থেকে ভিয়েতনামে অ্যাপলের সরবরাহব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার ফলে শ্রমিকের চাহিদা বাড়ছে।
- প্রাথমিক বোনাসের পরও কর্মীদের ধরে রাখতে কোম্পানিগুলো পরিবহনসেবা ও কর্মক্ষেত্রের উন্নয়নে বিনিয়োগ করছে।






