সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উদ্বেগে অপ্রয়োজনীয় সংকটের আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ-বিঘ্নের কারণ হলেও, জাপানের ভোক্তারা দেশে ভিন্ন ধরনের সংকটের মুখে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টয়লেট পেপারের আসন্ন ঘাটতি নিয়ে সতর্কবার্তার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। দাম বেড়ে যাওয়ার বা দোকানের তাক খালি হওয়ার আগেই মজুত করতে অন্যদের আহ্বান জানাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। এক্সে একটি পোস্টে ক্রমবর্ধমান এই মনোভাব ধরা পড়েছে: "তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আগে আমাদের টয়লেট পেপার কিনে রাখা ভালো, নইলে বড় বিপদে পড়ব।" আরেকটি পোস্টে সতর্ক করা হয়েছে, প্রকৃত সরবরাহ যতই থাকুক না কেন, আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা করলেই সাময়িকভাবে তাক খালি হয়ে যেতে পারে। অর্ধশতাব্দী আগের তেলসংকটের সঙ্গে তুলনা টানা পোস্টগুলোও উদ্বিগ্ন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে।
সূচিপত্র
এই উদ্বেগের সূত্রপাত হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় এবং এশিয়াগামী সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায়, অতীতের ঘাটতির স্মৃতি আবারও মানুষের মনে ফিরে এসেছে। এশিয়াজুড়ে শোধনাগারগুলোর জন্য নির্ধারিত অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো আটকে পড়েছে। এতে জ্বালানির দাম ও প্রাপ্যতা নিয়ে বাস্তব উদ্বেগ তৈরি হলেও কাগজের সরবরাহে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। গুজব মোকাবিলায় জাপান গৃহস্থালি কাগজশিল্প সমিতি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। টয়লেট পেপার ও টিস্যুর মতো গৃহস্থালি পরিচ্ছন্নতাসামগ্রী উৎপাদনকারী ৪১টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনটি জরুরি বিবৃতিতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে: "কাঁচামাল সংগ্রহ, উৎপাদন বা সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। অনুগ্রহ করে নিশ্চিন্ত থাকুন।"
সমিতির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরিও ইশিজুকা ব্যাখ্যা করেন, আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটাই স্থিতিশীল সরবরাহের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তিনি ক্রেতাদের স্বাভাবিক কেনাকাটার অভ্যাস বজায় রাখতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুমাননির্ভর পোস্ট দিয়ে উদ্বেগ না বাড়াতে পরামর্শ দেন। সমিতি জানিয়েছে, উৎপাদনকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু আছে এবং উৎপাদনে কোনো বিঘ্নের আশঙ্কা নেই।
১৯৭৩ সালের স্মৃতি
বর্তমান আশঙ্কার সূত্রপাত অর্ধশতাব্দী আগের এক জাতীয় মানসিক আঘাত থেকে। ১৯৭৩ সালের প্রথম তেলসংকটের সময় সরকারের একটি সাধারণ পরামর্শ জাপানের ইতিহাসে ভোক্তাদের অন্যতম স্মরণীয় আতঙ্কের জন্ম দিয়েছিল। তখনকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ইয়াসুহিরো নাকাসোনে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নাগরিকদের কাগজজাত পণ্য সাশ্রয় করতে বলেন। সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে দেওয়া এই বার্তা মুখে মুখে দ্রুত "কাগজ ফুরিয়ে যাবে"—এমন গুজবে রূপ নেয়। ফলে দেশজুড়ে সুপারমার্কেটের সামনে সারি বেঁধে দাঁড়ান ক্রেতারা।
কখনো কখনো "টয়লেট পেপার-আতঙ্ক" নামে পরিচিত এই ঘটনা দেখিয়েছিল, ভয় চেপে বসলে কত দ্রুত যুক্তিসংগত আচরণ ভেঙে পড়তে পারে। ঐতিহাসিক বিবরণে বলা হয়েছে, আতঙ্কিত জনতা ঠেলাগাড়ি ভরে কাগজ কিনেছিল। উৎপাদনকারীরা স্বাভাবিক উৎপাদন চালিয়ে গেলেও, তাদের এই আচরণেই ঠিক সেই ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, যার আশঙ্কা তারা করছিলেন। ১৯৭৩ সালের এই আতঙ্ক আচরণগত অর্থনীতির একটি দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। এতে বোঝা যায়, তথ্য যাচাইয়ের আগেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কীভাবে খবর ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি জাপানি ভোক্তাদের মনস্তত্ত্বে স্থায়ী ছাপ রেখে যায়; যারা মূল ঘটনাটি নিজেরা দেখেননি, সেই পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এর স্মৃতি প্রজন্মান্তরে বহমান।
"তেলসংকটের সঙ্গে টয়লেট পেপারের সম্পর্ক স্থাপনের মানসিকতা এখনো বদলায়নি," জাপানের অনলাইন ফোরামে এক মন্তব্যকারী বলেন। এতে বোঝা যায়, ১৯৭৩ সালের সেই মানসিক আঘাত জাতীয় মনস্তত্ত্বে কতটা গভীরভাবে গেঁথে আছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। ১৯৭৩ সালের শেষ দিকে উইসকনসিনের কংগ্রেস সদস্য হ্যারল্ড ভি. ফ্রোলিখ কাগজের সম্ভাব্য সরকারি ঘাটতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সতর্কবার্তা দেন। পরে টেলিভিশন অনুষ্ঠানে কৌতুকাভিনেতা জনি কারসন এ নিয়ে রসিকতা করেন। সরকারি উদ্বেগ ও গণমাধ্যমের প্রচারের সম্মিলিত প্রভাবে লাখ লাখ মার্কিন নাগরিক চার মাস ধরে টয়লেট পেপার মজুত করেন। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়, যা ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। জাপানের অভিজ্ঞতার মতোই, যুক্তরাষ্ট্রের আতঙ্ক দেখিয়েছিল যে সরবরাহের সীমাবদ্ধতার চেয়ে ভোক্তাদের আচরণই অনেক সময় ঘাটতি তৈরি করে।
সরবরাহব্যবস্থার বাস্তব চিত্র
আধুনিক জাপানে টয়লেট পেপারের সরবরাহব্যবস্থা ১৯৭৩ সালের আমদানিনির্ভর ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থার চেয়ে অনেকটাই আলাদা। জাপান গৃহস্থালি কাগজশিল্প সমিতির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরিও ইশিজুকার তথ্য অনুযায়ী, কাঁচামালের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে দেশে পুনর্ব্যবহৃত কাগজ থেকে; বিশেষ করে সংগ্রহ করা ছাপানো কাগজ ও বর্জ্য কাগজ থেকে। বাকি ৪০ শতাংশ হলো উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আমদানি করা পাল্প।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো কাঁচামালই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে না। উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় পেট্রোলিয়ামভিত্তিক রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির অবনতিতে টয়লেট পেপার উৎপাদনে প্রভাব অত্যন্ত সীমিত বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ ঘাটতির খবর নেই এবং স্বাভাবিক চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে উৎপাদকদের হাতে।
কারিগরি দিকগুলো থেকে বোঝা যায়, তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাগজের সরবরাহ সরাসরি হুমকির মুখে পড়ে না কেন। পাল্প উৎপাদনে মূলত স্থিতিশীল অঞ্চল থেকে পাওয়া কাঠ ব্যবহার করা হয়, আর পুনর্ব্যবহার অবকাঠামো দেশের ভেতরেই পরিচালিত হয়। পাল্প পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত জাহাজগুলোও সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায় না; বরং প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দেয়, অথবা কাছাকাছি এশীয় উৎস থেকে পণ্য আনে। কয়েক দশক ধরে কৌশলগতভাবে কাঁচামাল সংগ্রহের মাধ্যমে শিল্পটি মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরতা কার্যকরভাবে কমিয়েছে।
বৈশ্বিক তেলসংকটের প্রেক্ষাপট
টয়লেট পেপারের সরবরাহ নিরাপদ থাকলেও, তেলের চলমান সংকট অর্থনীতির জন্য বাস্তব চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বলেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেলবাজারে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহ-বিঘ্ন ঘটেছে। সরবরাহ প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বৈশ্বিক ব্যবহারের প্রায় ৮ শতাংশ। ১৯৭৩ সালের আরব তেল অবরোধে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ লাখ ব্যারেল সরবরাহ বন্ধ হয়েছিল এবং তেলের দাম চার গুণ বেড়েছিল; বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়েও অনেক বড়।
জাপান তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৯০ শতাংশের বেশি উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে পূরণ করে। ফলে নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটি বিশেষভাবে ঝুঁকিতে পড়েছে। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে কৌশলগত মজুত থেকে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা প্রায় ৪৫ দিনের ব্যবহারের সমান। ১৯৭৩ সালের সেই মানসিক আঘাতের পর বিশেষভাবে গড়ে তোলা এই মজুতে স্বাভাবিক কার্যক্রমের আনুমানিক আট মাস চালানোর মতো তেল রয়েছে।
১৯৭৩ সালের অবরোধ জাপানকে ব্যাপক তেল মজুত গড়ে তুলতে এবং জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। বর্তমান তেল ছাড়ার পরিমাণ ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর এটিই প্রথম সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্র চার মাসে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার অঙ্গীকার করেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সদস্য দেশগুলোর জরুরি মজুত থেকে সম্মিলিতভাবে ৪০ কোটি ব্যারেল ছাড়ার অনুমোদন দিয়েছে।
"১৯৭০-এর দশকের একটি শিক্ষা হলো, আজকের মতো সংকটের জন্য সবারই জরুরি মজুত থাকা দরকার," রেমন্ড জেমসের বিশ্লেষক পাভেল মলচানভ বলেন।
ভোক্তা আতঙ্কের পুনরাবৃত্ত ধারা
সামাজিক চাপের সময় জাপানে টয়লেট পেপার মজুত করে রাখা এখন অনুমেয় এক প্রতিক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। ২০১১ সালের পূর্ব জাপানের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি, যা তোহোকু অঞ্চলের উপকূলীয় জনপদগুলোকে ধ্বংস করেছিল, একই ধরনের কেনাকাটার হিড়িক তৈরি করে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোভিড-১৯-এর প্রাথমিক প্রাদুর্ভাবের সময়ও এমনটি ঘটে। মহামারির সময় সরবরাহে বিঘ্নের সতর্কবার্তা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দোকানের তাক খালি হয়ে যায়, যদিও উৎপাদকরা স্বাভাবিক সময়সূচি মেনেই উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
বিশ্লেষকেরা বারবার প্রতিটি ঘাটতির পেছনে একই কারণ চিহ্নিত করেছেন: উদ্বেগ থেকে অতিরিক্ত কেনাকাটা সাময়িকভাবে সরবরাহ ও বিতরণে বাধা তৈরি করে, যা আবার প্রাথমিক আশঙ্কাকেই সত্য বলে মনে করায়। ২০২০ সালের ঘাটতির সময় জাপান সরকার গুদামে টয়লেট পেপারের উঁচু স্তূপের ছবি প্রকাশ করে দেখায়, সরবরাহ আছে, তবে তা দোকানে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে। পর্যাপ্ত মজুতের প্রমাণ দিয়ে মজুত করার মানসিক চক্র ভাঙাই ছিল এসব ছবির উদ্দেশ্য।
এই প্রবণতা শুধু জাপানেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২০ সালে আতঙ্কে কেনাকাটার কারণে ঘাটতি দেখা দেওয়ার পর ভেনেজুয়েলা সরকার একটি টয়লেট পেপার কারখানা দখলে নেয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে হুমকির আশঙ্কা তৈরি হলে গুজব, মজুত এবং পরবর্তী ঘাটতির পরিচিত ধারা বিভিন্ন সংস্কৃতিতেই দেখা যায়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের খবরের চক্রের চেয়ে অনেক দ্রুত উদ্বেগ ছড়িয়েছে, ফলে ভয়ের প্রতিক্রিয়া আরও বেড়েছে। বিপণনবিষয়ক অধ্যাপক স্টুয়ার্ট ব্রিট একবার এই প্রক্রিয়াকে "শুনেছ কি" প্রবণতা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, যেখানে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের চেয়ে আগে খবরটি জানাতে চাওয়াই বেশি গুরুত্ব পায়।
শিল্পবিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক হারে ব্যবহার বাড়া-কমার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, কিন্তু একযোগে ব্যাপক কেনাকাটার চাপে তা ভেঙে পড়ে। হাজার হাজার ক্রেতা এক সপ্তাহে ছয় মাসের সরবরাহ কিনে নিলে, দক্ষতার ভিত্তিতে সাজানো বিতরণব্যবস্থা এত দ্রুত দোকানের তাক ভরতে পারে না। ফলে গুদাম ভরা থাকলেও তাক খালি দেখা যায়, যা আরও আতঙ্ক ছড়ায়।
আঞ্চলিক প্রভাব ও সরকারের পদক্ষেপ
এশিয়াজুড়ে তেলসংকট মোকাবিলায় সরকারগুলো ক্রমেই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দামে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে। জ্বালানি ব্যবহার কমাতে ফিলিপাইন সরকারি কর্মীদের জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড ঘরে বসে কাজের নীতি কার্যকর করেছে। ভারতে রান্নার গ্যাসের তীব্র ঘাটতির কারণে রেস্তোরাঁগুলো পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়েছে, যদিও জরুরি পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটি এলপিজির অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ২৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। কমে আসা সরবরাহ সামলাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার জ্বালানি রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে।
বিপুল মজুতের কারণে জাপানের অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, তবে বর্তমান মজুতের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। সংসদ সদস্য সুজুকি মুনেও জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য এনে ভ্লাদিভস্তক থেকে রাশিয়ার সরবরাহ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘ নৌপথের তুলনায় এই পথে অর্ধদিনের মধ্যেই জাপানে জ্বালানি পৌঁছানো সম্ভব। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণের পর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বিবেচনা করে জাপান রাশিয়ার সাখালিনের তেল ও গ্যাস প্রকল্পে কৌশলগত বিনিয়োগ বজায় রেখেছে।
প্রকৃত তেলসংকট ও কল্পিত কাগজের ঘাটতির পার্থক্য দেখায়, বিভিন্ন পণ্য কীভাবে ভিন্ন ভিন্ন ঝুঁকির মুখে পড়ে। তেল সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকিতে থাকা একটি সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অন্যদিকে, টয়লেট পেপারের উৎস ছড়ানো এবং এর কাঁচামাল দেশে পুনর্ব্যবহার করা হয়। জাপান সরকার যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাস্তব জ্বালানি সংকট, যেখানে সাশ্রয়ী ব্যবহার প্রয়োজন, এবং ভোক্তাপণ্যের ভিত্তিহীন ঘাটতির আশঙ্কা, যার জন্য শুধু শান্ত থাকা দরকার, এই দুটির পার্থক্য তুলে ধরছে।
মূল কথা
- জাপান গৃহস্থালি কাগজশিল্প সমিতি নিশ্চিত করেছে, টয়লেট পেপারের কাঁচামাল, উৎপাদন বা সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই
- জাপানের টয়লেট পেপারের প্রায় ৬০ শতাংশ তৈরি হয় দেশে পুনর্ব্যবহৃত উপাদান দিয়ে; বাকি পাল্প আসে আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে নয়
- হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ-বিঘ্নের সঙ্গে ১৯৭৩ সালের তেলসংকটের সময় টয়লেট পেপার নিয়ে আতঙ্কের স্মৃতি জুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমান আশঙ্কা ছড়িয়েছে
- আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ-বিঘ্ন ঘটেছে; বাজার থেকে প্রতিদিন ৮০ লাখ ব্যারেল তেল সরেছে
- জাপানের কৌশলগত তেল মজুত স্বাভাবিক ব্যবহারের প্রায় আট মাসের সমান; বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেশটি ৮ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়া শুরু করেছে
- ১৯৭৩, ২০১১ ও ২০২০ সালের অভিজ্ঞতা দেখায়, প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা যা-ই হোক, অতিরিক্ত মজুত করার প্রবণতাই সাময়িক ঘাটতি তৈরি করে
- শিল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্রেতাদের শুধু স্বাভাবিক পরিমাণে পণ্য কিনতে আহ্বান জানিয়েছেন; তাদের মতে, অপ্রয়োজনীয় মজুত করাই দোকানের তাক খালি হওয়ার প্রধান ঝুঁকি






