পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযানের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা
শীতের স্বর্গ হিসেবে হোক্কাইদোর খ্যাতি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। জাপানের সবচেয়ে উত্তরের এই প্রিফেকচারে কিংবদন্তিতুল্য গুঁড়ো বরফ আর ইয়েনের দুর্বলতার কারণে সুবিধাজনক বিনিময় হারের টানে সারা বিশ্ব থেকে শীতকালীন খেলাধুলার অনুরাগীরা আসেন। এই দুইয়ের সমন্বয়ে পর্যটনে এমন এক উত্থান ঘটেছে, যার গতি কমার কোনো লক্ষণ নেই। নিসেকো থেকে ফুরানো পর্যন্ত রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলোতে ভিড় করছেন প্রচুর অর্থ নিয়ে আসা পর্যটকেরা। তবে এ মৌসুমে গভীর তুষারপাতের উদ্যাপন নিরাপত্তা, দায়িত্ব এবং অভিযানে বিপত্তি ঘটলে খরচ কে দেবে—এসব নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্কে রূপ নিয়েছে।
সূচিপত্র
নভেম্বরের শেষ দিক থেকে ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত হোক্কাইদোর পাহাড়ি দুর্গম এলাকা ও নির্ধারিত পিস্টের বাইরে ৫৮ জন স্কিয়ার ও স্নোবোর্ডারের জন্য উদ্ধার অভিযান চালাতে হয়েছে। হোক্কাইদো প্রিফেকচারাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ৪৮ জন, অর্থাৎ মোট উদ্ধার অভিযানের ৮২.৮ শতাংশ, বিদেশি নাগরিক। এই পরিসংখ্যান জাপানি করদাতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় ও স্থবির মজুরির চাপে থাকা স্থানীয় জনপদগুলোর ওপর এই অভিযানগুলোকে ক্রমেই তাঁরা অন্যায্য বোঝা হিসেবে দেখছেন।
ক্ষোভের কারণ শুধু সরাসরি উদ্ধার-ব্যয় নয়। অনেক বাসিন্দা মনে করেন, ধনী আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ঢলে স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দাম দ্রুত বেড়েছে; অর্থনৈতিক ও আবহাওয়াগত—দুই দিক থেকেই স্থানীয়রা শীতের মধ্যে পড়ে গেছেন। নিরাপত্তার সীমানা ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা পর্যটকদের উদ্ধারে সরকারি অর্থ ব্যয় হতে দেখা জাপানের পর্যটন খাতের রূপান্তর নিয়ে বৃহত্তর উদ্বেগের এক উত্তপ্ত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিদেশ থেকে আসা এক হারিয়ে যাওয়া কলেজশিক্ষার্থীকে হোক্কাইদো প্রিফেকচারাল পুলিশ হেলিকপ্টারে উদ্ধার করছে—এমন একটি সাম্প্রতিক ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সম্পদ বণ্টন নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ায়।
ঢালে মর্মান্তিক ঘটনা
উদ্ধারের খরচ কে বহন করবে, তা নিয়ে বিতর্কের পেছনে রয়েছে মর্মান্তিক জরুরি পরিস্থিতি। এ শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত চিহ্নহীন গুঁড়ো তুষারে স্কিইং করতে আসা একাধিক বিদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।
জানুয়ারি থেকে আলাদা তিনটি ঘটনায় তিন তরুণ অস্ট্রেলীয় মারা গেছেন। কুইন্সল্যান্ডের ২২ বছর বয়সী দক্ষ স্নোবোর্ডার ব্রুক ডে নাগানো প্রিফেকচারের সুগাইকেই মাউন্টেন রিসোর্টে স্কি লিফটে তাঁর অ্যাভালাঞ্চ-সুরক্ষা ব্যাগ আটকে যাওয়ার পর মারা যান। কয়েক দিন পর, মেলবোর্নের ২৭ বছর বয়সী মাইকেল হার্স্ট হোক্কাইদোর নিসেকো মইওয়া ও নিসেকো আনুপ্পুরি রিসোর্টের মাঝখানে স্কিইং করার সময় দলের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মারা যান। এর আগে, জানুয়ারির শুরুতে ব্রিসবেন গ্রামার স্কুলের সদ্য স্নাতক ১৭ বছর বয়সী রাইলান প্রিবাদি নিসেকোতে কোর্সের সীমানার দড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের পর মারা যান।
তুষারধস বিশেষভাবে প্রাণঘাতী প্রমাণিত হয়েছে। গত বছরের মার্চে রিশিরিজান পর্বতে তুষারধসে পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় আয়োজিত একটি ভ্রমণের একজন অংশগ্রহণকারী নিহত হন এবং গাইডসহ আরও তিনজন আহত হন। পরে পুলিশ পেশাগত অবহেলায় মৃত্যুর কারণ ঘটানোর সন্দেহে ট্যুর কোম্পানির সভাপতিকে প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠায়। আরও সম্প্রতি, ব্যাককান্ট্রি স্কিইংয়ের উদ্দেশ্যে প্রায় ১০ জন বিদেশির একটি দল ইয়োতেই পর্বতে ওঠার সময় তুষারধসে পড়ে ৩০-এর কোঠার এক নারী মারা যান।
জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ফুরানো স্কি রিসোর্টের কাছে সাত বিদেশি পর্যটক আটকা পড়েন, তাঁদের খুঁজতে বড় পরিসরে অভিযান চালানো হয়। ধারণা করা হয়, টহল এলাকার বাইরে ব্যাককান্ট্রি স্কিইং করার সময় তাঁরা ফুরানো নিশিদাকে পর্বতে পথ হারান। স্মার্টফোনের স্যাটেলাইট যোগাযোগ সুবিধা ব্যবহার করে তাঁরা জরুরি ফোন করেন। আহত না হয়েই তাঁদের উদ্ধার করা হয়, তবে এ ঘটনায় পুলিশের উল্লেখযোগ্য জনবল ব্যয় হয় এবং পর্যটকদের প্রস্তুতিতে প্রযুক্তিগত ঘাটতির বিষয়টি সামনে আসে।
হোক্কাইদো পুলিশের তথ্যমতে, ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত গত পাঁচটি শীত মৌসুমে তুষারধস-সম্পর্কিত ১৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১১ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার ৭৫ শতাংশ ঘটেছে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে। এ সময় আগে মসৃণ হয়ে যাওয়া ঢালের ওপর নতুন তুষার জমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পাহাড়ি উদ্ধার অভিযানের অর্থনীতি
অর্থ নিয়ে বিতর্কটি বুঝতে হলে বিভিন্ন ধরনের উদ্ধার অভিযানের পার্থক্য জানা জরুরি। পুলিশ বা দমকল বিভাগ অভিযান চালালে তা সাধারণ করের অর্থে পরিচালিত জননিরাপত্তা কার্যক্রম। গোয়েন্দারা চুরির শিকার ব্যক্তিদের কাছ থেকে আলাদা করে বিল নেন না, তেমনি সরকারি সংস্থার উদ্ধার করা স্কিয়ারদের কাছ থেকেও সাধারণত উদ্ধারের খরচ নেওয়া হয় না।
তবে বেসরকারি সংস্থা তল্লাশি চালালে হিসাব বদলে যায়। জাতীয় উদ্যানের ইজারা নেওয়া জমিতে পরিচালিত স্কি রিসোর্টগুলোতে উদ্ধারকাজ প্রায়ই বেসামরিক স্কি-প্যাট্রল দল করে, আর এ সেবার জন্য বড় অঙ্কের ফি দিতে হয়। যেমন, ফুরানো স্কি রিসোর্টে জনপ্রতি ঘণ্টায় ২০ হাজার ইয়েন এবং স্নোমোবাইল ব্যবহারের জন্য ঘণ্টায় ৫০ হাজার ইয়েন নেওয়া হয়। সেখানে সম্প্রতি রাতে তিন ঘণ্টার একটি উদ্ধার অভিযানে হারিয়ে যাওয়া স্কিয়ারকে এক মিলিয়ন ইয়েনেরও বেশি বিল ধরানো হয়।
কিছু পৌরসভায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বেসামরিক উদ্ধার সংস্থার সমন্বয়ে মিশ্র ব্যবস্থা চালু আছে। এ ধরনের ব্যবস্থায় বেসরকারি অংশের জন্য অর্থ দিতে হয়, আর সরকারি অংশের খরচ করদাতারা বহন করেন। এতে সীমিত সম্পদের চাপে থাকা স্থানীয় সরকারগুলোর বাজেটে চাপ পড়ে এবং উদ্ধার সক্ষমতা ও অন্যান্য জনসেবার মধ্যে বেছে নিতে হয়।
অনলাইনে অনেকে এসব খরচ নিয়ে বিশেষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পর্যটনজনিত মূল্যবৃদ্ধিতে আগে থেকেই চাপে থাকা বাসিন্দাদের হতাশা এতে আরও বেড়েছে। একটি প্রচলিত অভিযোগে মানুষের মনোভাব উঠে এসেছে:
সবাই যে টাকা এত কষ্ট করে উপার্জন করেছে, তা দায়িত্বজ্ঞানহীন বিদেশিদের বাঁচাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যরা প্রতি উদ্ধার অভিযানে বিদেশিদের কাছ থেকে ১০ কোটি ইয়েন নেওয়া, স্কি এলাকায় প্রবেশের আগে বাধ্যতামূলক বিমা করা, অথবা সরাসরি দূতাবাসে বিল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।
উদ্ধার-সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা
২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পুলিশের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ মৌসুমের সংখ্যা বিচ্ছিন্ন কোনো আকস্মিক বৃদ্ধি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার ত্বরান্বিত রূপ। স্কি রিসোর্ট দিয়ে ব্যাককান্ট্রি এলাকায় প্রবেশ করা ব্যক্তিদের উদ্ধারের ঘটনা—যাকে সাইডকান্ট্রি ঘটনা বলা হয়—ওই সময়ে প্রতিবছর ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
মোট কতজন স্কিইং করতেন, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকলেও সংখ্যার হিসাবে জাপানি নাগরিকদের তুলনায় বিদেশিদের সাইডকান্ট্রি এলাকায় উদ্ধার হওয়ার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বেশি ছিল। এসব ঘটনার বেশির ভাগই পথ চিনতে না পারার কারণে ঘটেছে। স্কিয়াররা রিসোর্টের সীমানা পেরিয়ে অপরিচিত এলাকায় ঢুকেই পথ হারিয়ে ফেলেন। হোক্কাইদো পুলিশের এক প্রতিনিধি বিপদে পড়ার প্রধান কারণ ব্যাখ্যা করেন:
মানুষ যদি নেভিগেশনের কাজে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে জানত, তাহলে প্রায় ৯০ শতাংশ উদ্ধার-ডাকের প্রয়োজনই হতো না।
তথ্যে দুই দলের আচরণগত পার্থক্যও উল্লেখযোগ্য। ঘটনায় জড়িত জাপানি ব্যাককান্ট্রি স্কিয়াররা সাধারণত একা বা ছোট দলে চলতেন; ৩৫ শতাংশ ঘটনায় দল ছিল মাত্র একজনের। বিদেশি দলগুলোতে সদস্যসংখ্যা গড়ে বেশি ছিল; মাত্র ১২ শতাংশ ঘটনায় স্কিয়ার একা ছিলেন। জাপানি নাগরিকেরা ট্রেইলহেড থেকে যাওয়া প্রকৃত ব্যাককান্ট্রি এলাকায় বেশি বিপদে পড়তেন; সেখানে খারাপ আবহাওয়া ও পথ চিনতে ভুল করার চ্যালেঞ্জ থাকত। বিদেশিরা মূলত স্কি রিসোর্টসংলগ্ন সাইডকান্ট্রি এলাকায় সমস্যায় পড়তেন, যা তাঁদের ঝুঁকির ধরন ও প্রস্তুতির মাত্রায় পার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়।
ঐতিহাসিক তথ্য আরও ইঙ্গিত দেয়, সাইডকান্ট্রি এলাকায় ঘটনায় জড়িত বিদেশি স্কিয়ারদের আহত হওয়ার হার জাপানি স্কিয়ারদের তুলনায় বেশি। বিদেশিদের দুর্ঘটনার বিবরণে গাছে ধাক্কা লাগার ঘটনাও বেশি দেখা যায়। এতে বোঝা যায়, হোক্কাইদোর ঘন বনভূমির সঙ্গে অপরিচিত পর্যটকদের কারিগরি দক্ষতা বা ঝুঁকি মূল্যায়নে ঘাটতি থাকতে পারে।
প্রস্তুতির ঘাটতি ও অপর্যাপ্ত সরঞ্জাম
হোক্কাইদোর কঠিন পাহাড়ি পরিবেশের জন্য গুরুতরভাবে অপ্রস্তুত পর্যটকদের উদ্ধারে অনেক অভিযান চালাতে হয়। গত বসন্তে ২০-এর কোঠার শেষ দিকে থাকা এক ব্রিটিশ দম্পতি গ্রীষ্মের পোশাক পরে ১,৭৫০ মিটার উচ্চতায় ওঠার চেষ্টা করার পর ইয়োতেই পর্বত থেকে তাঁদের হেলিকপ্টারে উদ্ধার করতে হয়। নারীর গায়ে ছিল খাটো হাতার জামা ও লম্বা প্যান্ট, আর পুরুষের গায়ে লম্বা হাতার জামা ও হাফপ্যান্ট। সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে তাঁরা জরুরি সেবায় ফোন করে জানান, ঠান্ডায় কাঁপছেন এবং আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছেন না। অথচ উষ্ণ মাসেও পর্বতটির আবহাওয়া যে অনিশ্চিত, তা সুপরিচিত।
এ ধরনের ঘটনা ব্যাককান্ট্রি নিরাপত্তা সংস্কৃতির একটি মৌলিক ঘাটতি তুলে ধরে। সঠিক সরঞ্জাম নিয়ে ট্রেইলহেড থেকে দুর্গম এলাকায় যাওয়া সংগঠিত স্কি পর্বতারোহীদের বিপরীতে, অনেক সাইডকান্ট্রি পর্যটক পিস্টের বাইরে স্কিইংকে রিসোর্টের সুবিধারই সম্প্রসারণ বলে মনে করেন। তাঁদের কাছে প্রায়ই তুষারধস শনাক্তকারী বীকন, প্রোব, বেলচা বা মৌলিক নেভিগেশন দক্ষতা থাকে না। লুকানো খাড়া ঢাল, গাছের গোড়ার গভীর তুষারগর্ত ও তুষারধসের ঝুঁকি থাকা এলাকায় যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়াই তাঁরা প্রবেশ করেন।
প্রস্তাবিত নিয়মকানুনের পরিবর্তনের লক্ষ্য এসব ঘাটতি পূরণ করা। জাপানের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্কি এলাকা নিসেকোতে আচরণবিধি হিসেবে কার্যকর নিসেকো রুলস অনুযায়ী, স্কি রিসোর্ট দিয়ে ব্যাককান্ট্রিতে প্রবেশের জন্য তুষারধস শনাক্তকারী বীকন ও হেলমেট শিগগিরই বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ২০২৪/২০২৫ মৌসুমে বিদেশি ব্যাককান্ট্রি স্কিয়ারদের জনমিতি ও আচরণ নিয়ে গবেষণার জন্য বড় পরিসরের একটি প্রকল্প নিয়েছে। হোক্কাইদোর ব্যাককান্ট্রিকে বিনোদন ও ভ্রমণের বৈধ পরিসর হিসেবে সরকারের প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এটি।
বিমা ও নীতিগত সমাধান
ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দুঃসাহসিক পর্যটনের ঝুঁকি জাপান কীভাবে সামলাবে, তা নিয়ে কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়েছে। বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো তুষারক্রীড়ার দাবি দ্রুত বাড়ার কথা জানিয়েছে। সাউদার্ন ক্রস ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের তথ্যমতে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জাপানে স্কিইং ও স্নোবোর্ডিং দুর্ঘটনার বিমা-দাবি ৭৫ শতাংশ বেড়েছে; গড় দাবির পরিমাণ ১,১০০ থেকে ১,৫০০ ডলার। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান 1Cover জানিয়েছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এ ধরনের দাবি ৪৩ শতাংশ বেড়েছে।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, বর্তমান স্বেচ্ছামূলক বিমা ব্যবস্থা ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদেশি পর্যটকদের জন্য বাধ্যতামূলক উদ্ধার-বিমা, গুরুতরভাবে নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিল পাঠানোর ব্যবস্থা এবং জাপানে আসার আগে নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষার শর্ত জোরদার করা।
কোল্ড রিজিয়ন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তুষার ও বরফবিষয়ক দলের প্রধান গবেষক ইউসুকে হারাদা জোর দিয়ে বলেন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ তুষারধসের সর্বোচ্চ ঝুঁকির সময়। ভারী তুষারপাত ও ঝড়ের পর নতুন তুষার আগে মসৃণ হয়ে যাওয়া ঢালের ওপর জমে পৃষ্ঠতলীয় তুষারধসের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে। ব্যাককান্ট্রিপ্রেমীদের জন্য তাঁর নির্দিষ্ট পরামর্শ:
এবারের মতো পৃষ্ঠতলীয় তুষারধস ঘটার মতো পরিস্থিতি আর কখনো হয়নি। ফিরে আসার সাহস রাখতে হবে।
মাউন্টেন সেফটি কালেক্টিভের ওওয়েন ল্যান্সবেরি পর্যটকদের মনে করিয়ে দেন, অনেক পশ্চিমা রিসোর্টের মতো জাপানে স্কি-প্যাট্রল সাধারণত রিসোর্টের সীমানার বাইরে যায় না। সীমানা পার হওয়ার পরিণতি সম্পর্কে তিনি সতর্ক করেন:
সীমানার দড়ির নিচ দিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে তুষারধস নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা থাকে না, আর আটকে পড়লে বা আহত হলে সাহায্যের জন্য কোনো স্কি-প্যাট্রলও থাকে না।
ফলে পুলিশকে উদ্ধার অভিযান চালাতে হলে সাড়া দিতে বেশি সময় লাগে এবং খরচও বাড়ে।
পর্যটনের উত্থানে সাংস্কৃতিক টানাপোড়েন
উদ্ধার নিয়ে বিতর্কটি ঘটছে পর্যটনের নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধির পটভূমিতে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে মৌলিকভাবে বদলে দিয়েছে। ২০২৫ সালে ১০ লাখের বেশি অস্ট্রেলীয় জাপান সফর করেছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য বাজার থেকেও একই ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। দুর্বল ইয়েনের কারণে ঐতিহ্যবাহী গন্তব্যগুলোর তুলনায় জাপান এখন সাশ্রয়ী; পাশাপাশি খরায় ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর আমেরিকার রিসোর্টগুলোর চেয়ে এখানকার তুষারের মানও ভালো।
এই পর্যটকসমাগম স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আসা পর্যটকেরা বলছেন, বড় রিসোর্টের বাইরের অনেক স্থানে ইংরেজি ভাষায় সহায়তা বা আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম নেই। এক দশক ধরে জাপানে থাকা অস্ট্রেলীয় গাইড ম্যাট গাইয়ের পর্যবেক্ষণ, ছোট লজগুলো ইংরেজিভাষীদের জন্য প্রস্তুত নয় এবং গুঁড়ো তুষারের খোঁজে আসা পর্যটকদের মনোভাব ও আচরণ সম্পর্কে তাদের পরিচিতি কম। এগুলো মূলত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য গড়ে উঠেছে, ফলে পর্যটনের দ্রুত প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্রমেই মনে করছেন, বিদেশি পর্যটকেরা মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছেন এবং নিরাপত্তাবিধিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু বিদেশি পর্যটককে নির্ধারিত পথের বাইরে স্কিইং করতে দেখা গেছে; পরে তাঁদের মুখোমুখি হলে তাঁরা ভাষাগত বাধার কথা বলেছেন। ২০২৪ সালে ফুজি পর্বতে উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে এ ঘটনার তুলনা করা হচ্ছে। সে সময় সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আরোহণের মৌসুম বন্ধ থাকলেও বিদেশি পর্বতারোহীদের উদ্ধার করতে হয়েছিল। এতে এমন ধারণা আরও জোরালো হয়েছে যে পর্যটকেরা জাপানের নিরাপত্তাবিধিকে জরুরি সুরক্ষা নয়, ঐচ্ছিক পরামর্শ বলে মনে করেন।
স্কিইং-সংশ্লিষ্ট মহলে এ টানাপোড়েন সম্পর্কে সচেতনতা বেড়েছে। কিছু বিদেশি বাসিন্দা পর্যটকদের স্থানীয় নিয়ম মানার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বিদেশিবিরোধী গণমাধ্যমের বক্তব্য জোরালো করার সুযোগ না হয়। পর্যটন থেকে আয়কে স্বাগত জানানো এবং স্থানীয় সম্পদ ও নিরাপত্তা রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখা হবে, তা এখনো অমীমাংসিত—আর হোক্কাইদো বৈশ্বিক শীতকালীন গন্তব্য হিসেবে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার পথে এগোচ্ছে।
মূল কথা
- নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির শুরুর মধ্যে হোক্কাইদোতে পিস্টের বাইরে উদ্ধার অভিযানের ৮২.৮ শতাংশে ছিলেন বিদেশি নাগরিক; মোট ৫৮টি অভিযানের মধ্যে তাঁদের সংখ্যা ৪৮।
- এ মৌসুমে জাপানে তিন অস্ট্রেলীয় স্কিয়ার মারা গেছেন। ইয়োতেই ও রিশিরিজান পর্বতে তুষারধসে ব্যাককান্ট্রি অভিযানে আরও কয়েকজন বিদেশির প্রাণ গেছে।
- উদ্ধারের খরচে বড় পার্থক্য রয়েছে: পুলিশ ও দমকল বিভাগের উদ্ধার কার্যক্রম করদাতাদের অর্থে চলে, আর জটিল রাতের অভিযানে বেসামরিক স্কি-প্যাট্রলের বিল এক মিলিয়ন ইয়েন ছাড়াতে পারে।
- ২০১৪-২০১৯ সালের পুলিশের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সাইডকান্ট্রি এলাকায় ঘটনা প্রতিবছর ৩০ শতাংশ বেড়েছে; জাপানি নাগরিকদের তুলনায় বিদেশিরা ধারাবাহিকভাবে বেশি সংখ্যায় এসব ঘটনায় জড়িয়েছেন।
- প্রস্তাবিত সমাধানের মধ্যে রয়েছে হালনাগাদ নিসেকো রুলস অনুযায়ী তুষারধস-নিরাপত্তার সরঞ্জাম বাধ্যতামূলক করা, বিদেশি পর্যটকদের জন্য বাধ্যতামূলক উদ্ধার-বিমা এবং নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষা জোরদার করা।
- ফেব্রুয়ারি ও মার্চে তুষারধসের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে; এ সময় মসৃণ ঢালের ওপর নতুন তুষার জমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
- জাপানে তুষারক্রীড়ার দুর্ঘটনা নিয়ে ভ্রমণবিমার দাবি ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৭৫ শতাংশ বেড়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মধ্যে দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।






