সাময়িক ধাক্কার পর ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস
২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে জাপানের অর্থনীতি আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বার্ষিক হিসাবে প্রবৃদ্ধি হবে ১.৬ শতাংশ। এর আগে তৃতীয় প্রান্তিকে বার্ষিক হিসাবে অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছিল ২.৩ শতাংশ, যা দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন। বার্ষিকীকরণ ছাড়া প্রান্তিক হিসাবে প্রবৃদ্ধি হবে ০.৪ শতাংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, তৃতীয় প্রান্তিকের মন্দা দীর্ঘস্থায়ী মন্দার সূচনা নয়, বরং সাময়িক ব্যতিক্রম ছিল।
সূচিপত্র
রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া ১৬ জন অর্থনীতিবিদের মধ্যম পূর্বাভাস অনুযায়ী, জোরালো করপোরেট বিনিয়োগ ও স্থিতিশীল ভোক্তা ব্যয় বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চলমান চাপ সামলে দিচ্ছে। মিজুহো রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজিসের প্রধান জাপানবিষয়ক অর্থনীতিবিদ নাওকি হত্তোরি প্রবৃদ্ধিতে ফেরার এই পূর্বাভাসকে জাপানের অর্থনীতির ধীরগতির পুনরুদ্ধার অব্যাহত থাকার প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তৃতীয় প্রান্তিকের দুর্বলতা কাটিয়ে অর্থনীতি উঠতে পেরেছে কি না, তার স্পষ্ট ধারণা দিতে ক্যাবিনেট অফিস ১৬ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ প্রান্তিকের প্রাথমিক জিডিপি তথ্য প্রকাশ করবে।
তৃতীয় প্রান্তিকের সংকোচনের কারণ
২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বার্ষিক হিসাবে ২.৩ শতাংশ সংকোচন আগের টানা পাঁচ প্রান্তিকের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পর উল্লেখযোগ্য বিপর্যয় ছিল। তবে বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৌলিক অর্থনৈতিক অবনতির চেয়ে সাময়িক কারণই এই সংকোচনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। পতনের উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায়। শুল্ক নিয়ে প্রাথমিক আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি মজুত দ্রুত কমে যায়, যা সামগ্রিক সংকোচনের অর্ধেকের কিছু বেশি অংশের জন্য দায়ী।
নিয়মকানুন সংশোধনের আগে চাহিদা আগেভাগে বেড়ে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আবাসন খাতে বিনিয়োগও তীব্রভাবে কমে যায়। এতে পরিসংখ্যানগত বিকৃতি তৈরি হয়, যা চতুর্থ প্রান্তিক পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার কথা নয়। তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যবসায়িক স্থায়ী বিনিয়োগ বার্ষিক হিসাবে ০.৮ শতাংশ কমে, আর সরকারি ব্যয় কমে ০.৩ শতাংশ। দেশীয় পারিবারিক ভোগ ব্যয় বার্ষিক হিসাবে মাত্র ০.৩ শতাংশ বাড়ে। অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সাম্প্রতিক ইতিবাচক প্রান্তিকগুলোর গড় হিসাব করলেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। এর ইঙ্গিত, তৃতীয় প্রান্তিকের দুর্বলতা জাপানের পুনরুদ্ধারের গতিপথে সাময়িক বাধা ছিল, উল্টো পথে যাত্রা নয়।
পুনরুদ্ধারে করপোরেট বিনিয়োগের ভূমিকা
চতুর্থ প্রান্তিকের পুনরুদ্ধারে মূলধনী ব্যয় নেতৃত্ব দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগের প্রান্তিকে ০.২ শতাংশ সংকোচনের পর এবার এ খাতে ০.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। শক্তিশালী করপোরেট মুনাফা ও উন্নত বাণিজ্যিক পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক আস্থা দৃঢ় থাকায় এই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ডিসেম্বরে জাপান ব্যাংকের ত্রৈমাসিক টানকান জরিপে বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের আস্থা চার বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছায়। প্রান্তিকটিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থায়ও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে।
দীর্ঘস্থায়ী শ্রমিকসংকট মোকাবিলা ও কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়াতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্বয়ংক্রিয়করণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযুক্তি এবং সরবরাহব্যবস্থা জোরদারে বড় বিনিয়োগ করছে। ২০২৫ সালে আবাসন লেনদেনের পরিমাণ ছয় লাখ কোটি ইয়েন ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে, যা এক বছরে নতুন রেকর্ড হবে। জোরালো ভাড়ার চাহিদায় প্রধান সব শহরে অফিস ভাড়াও বেড়েছে। জাপানি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার পর করপোরেট আশাবাদ আরও বেড়েছে। সফল বাণিজ্য আলোচনার পর এই হার কার্যকর হয়। চীনের চাহিদা ও গাড়ির বাজারে প্রতিযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহজ ঋণশর্তের সহায়তায় জাপানি উৎপাদকেরা ভবিষ্যৎমুখী বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।
স্থায়ী মূল্যস্ফীতির মধ্যে পরিবারের ব্যয়
ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বাড়লেও বেসরকারি ভোগ ব্যয়ের চিত্র মিশ্র। জাপানের জিডিপির অর্ধেকের বেশি জুড়ে থাকা পারিবারিক ব্যয় চতুর্থ প্রান্তিকে মাত্র ০.১ শতাংশ বেড়েছে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। স্থায়ী মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ায় এমনটা হয়েছে। তাজা খাবার বাদে ভোক্তা মূল্যসূচক নভেম্বরে ২.৯ শতাংশে ছিল, যা জাপান ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে। খাদ্য ও পানীয়ের মূল্যস্ফীতি বার্ষিক হিসাবে ৬ শতাংশ এবং জ্বালানির ব্যয় ৩.১ শতাংশ বেড়েছে।
নভেম্বরে চুক্তিভিত্তিক নামমাত্র আয়ের প্রবৃদ্ধি বেড়ে ২.২ শতাংশ হলেও প্রকৃত মজুরি চাপে রয়েছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয়ের পর মজুরি এক বছর আগের তুলনায় এখনো ২.৮ শতাংশ কম। শ্রমবাজারে কাঠামোগত টানটান অবস্থা বজায় রয়েছে। বেকারত্বের হার টানা চার মাস ২.৬ শতাংশে এবং কৃষি খাতের বাইরের কর্মসংস্থান বার্ষিক হিসাবে ০.৯ শতাংশ বেড়েছে। দেশের বৃহত্তম শ্রমিক ফেডারেশন রেঙ্গো ২০২৬ সালের বসন্তকালীন মজুরি আলোচনায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি জানানোর পরিকল্পনা করছে, যা আগের বছরের লক্ষ্যমাত্রার সমান। গত বছর শ্রমিক ইউনিয়নগুলো গড়ে ৫.২৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি আদায় করেছিল।
জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ সামলাতে সরকার ইউটিলিটি ভর্তুকি, কর হ্রাস এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের মজুরি সহায়তায় মনোযোগ দিয়ে ১৭.৭ লাখ কোটি ইয়েনের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। জিডিপির ২.৫ শতাংশের বেশি নতুন ব্যয়ের সমান এই পদক্ষেপগুলোর লক্ষ্য, পরিবারের ওপর মূল্যচাপ কমানোর পাশাপাশি ভোগ ব্যয়কে সহায়তা করা। নভেম্বরে ভোক্তা আস্থা ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে ইঙ্গিত মেলে, অব্যাহত মূল্যচাপ সত্ত্বেও পরিবারগুলো সতর্ক আশাবাদী রয়েছে।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে বাণিজ্য পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা
চতুর্থ প্রান্তিকের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে নিট বৈদেশিক চাহিদা ০.১ শতাংশ পয়েন্ট যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক রপ্তানিতে প্রাথমিক ধাক্কা দেওয়ায় তখন এই খাত জিডিপি প্রবৃদ্ধি থেকে ০.২ শতাংশ পয়েন্ট কমিয়েছিল। শুল্কের হার কমানোর সমঝোতার পর বাণিজ্য পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। টানা সাত মাস পতনের পর নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বার্ষিক হিসাবে ৮.৮ শতাংশ বেড়েছে। সেমিকন্ডাক্টর ও গাড়ি খাত এই পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দিয়েছে, যদিও চীনা উৎপাদকদের কঠোর প্রতিযোগিতা মুনাফার ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে।
বাণিজ্য বাধার প্রভাব প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায় নীতিনির্ধারকেরা আশ্বস্ত হয়েছেন এবং সুদের হার বাড়াতে জাপান ব্যাংকের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তবে চীনকে ঘিরে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। মূল ভূখণ্ড চীন ও হংকংয়ে সম্মিলিত রপ্তানি নভেম্বরে বার্ষিক হিসাবে মাত্র ১ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.৪ শতাংশ। চীনের চলমান অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি দুই দেশের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা জাপানি পণ্য ও সেবার চাহিদা সীমিত করে রেখেছে।
রপ্তানিতে ওঠানামা থাকলেও বিদেশি বিনিয়োগ থেকে আসা শক্তিশালী প্রাথমিক আয়ের সহায়তায় চলতি হিসাবের অবস্থা ভালো রয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে উদ্বৃত্ত জিডিপির ৪.৬ শতাংশে পৌঁছায়, যা বাণিজ্যের ওঠানামার বিপরীতে সুরক্ষা জোগাচ্ছে। জাপান-চীন সম্পর্কের টানাপোড়েনে পর্যটন ও বিদেশি দর্শনার্থীদের চাহিদায় সম্ভাব্য বাধা তৈরি হয়েছে। নভেম্বরে চীন ও হংকং থেকে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা এক বছর আগের তুলনায় কমেছে। এসব চাপ সত্ত্বেও খুচরা বাজারের স্থিতিস্থাপকতা দেখা গেছে। গিঞ্জা ও শিবুয়ার মতো প্রধান কেনাকাটার এলাকায় খালি দোকানের হার প্রায় শূন্য এবং ভাড়া মহামারিপূর্ব সর্বোচ্চ পর্যায় ছাড়িয়েছে।
মুদ্রা ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষের নীতিগত টানাপোড়েন
জাপানের অর্থনীতি এমন এক জটিল নীতিপরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে মুদ্রানীতি কঠোর হচ্ছে আর রাজস্ব ব্যয় বাড়ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জাপান ব্যাংক নীতিসুদ বাড়িয়ে ০.৭৫ শতাংশ করেছে, যা তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক নীতিতে ফেরার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে ব্যাংকটি। গভর্নর কাজুও উয়েদা বলেছেন, বর্তমান সুদের হার নিরপেক্ষ সীমার নিচে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী এই সীমা ১ থেকে ২.৫ শতাংশ। এতে ২০২৬ সালজুড়ে আরও সুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজারের বর্তমান পূর্বাভাসে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আরও দুই থেকে তিন দফা সুদ বৃদ্ধির কথা ধরা হয়েছে। তবে এর গতি নির্ভর করবে মজুরি বৃদ্ধি ও মূল মূল্যস্ফীতির প্রবণতার ওপর। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড ও রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট বিক্রি করে ব্যালান্স শিট ছোট করাও শুরু করেছে। এতে বছরের পর বছর ধরে চলা অতি-শিথিল মুদ্রানীতি থেকে সুস্পষ্ট সরে আসার ইঙ্গিত মিলেছে। মূল্যস্ফীতিকে টেকসইভাবে ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার দিকে নিয়ে যাওয়া এবং অর্থনীতিকে অতিরিক্ত উত্তপ্ত হওয়া থেকে ঠেকানোই এসব কঠোর পদক্ষেপের লক্ষ্য।
অন্যদিকে, অক্টোবরে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নেতৃত্ব নিশ্চিত করা এবং আসন্ন আগাম নির্বাচনে বড় জয়ের সম্ভাবনা থাকা প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগ্রাসী রাজস্ব প্রণোদনা গ্রহণ করেছেন। উল্লেখযোগ্য সম্পূরক বাজেটসহ তাঁর সরকারের সক্রিয় রাজস্ব নীতির কারণে ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের মুনাফা ২.৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা ১৯৯৮ সালের পর প্রথম। এই রাজস্ব সম্প্রসারণ জাপান ব্যাংকের মুদ্রানীতি কঠোর করার বিপরীতমুখী, ফলে প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরের জন্য সরকারের রেকর্ড বাজেট প্রস্তাবের পরিমাণ ১২২.৪৫ লাখ কোটি ইয়েন। এটি টানা তৃতীয় বার্ষিক বৃদ্ধি; স্বাস্থ্যসেবা, ঋণ পরিশোধ ও প্রতিরক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত সংশোধিত জাতীয় হিসাবের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের নামমাত্র জিডিপি আগের হিসাবের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। এর ফলে জিডিপির তুলনায় ঋণের অনুপাত কম দাঁড়ায় এবং সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের সুযোগ তৈরি হয়। তা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ টেকসই কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ধীরে ধীরে ঋণ কমলেও সরকারি ঋণের মাত্রা এখনো বেশি, জিডিপির ২৩৭ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ২৩২ শতাংশে রয়েছে।
২০২৬ সালের পূর্বাভাস ও প্রধান ঝুঁকি
শুল্কের প্রভাব পুরোপুরি অনুভূত হওয়া এবং চতুর্থ প্রান্তিকের প্রণোদনায় পাওয়া প্রাথমিক গতি কমে আসায় ২০২৬ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সামান্য ধীর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেশাদার পূর্বাভাসদাতারা ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ০.৯৯ শতাংশ হবে বলে মনে করছেন। পুরো অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৯ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে। আসিয়ান+৩ ম্যাক্রোইকোনমিক রিসার্চ অফিসের পূর্বাভাস, ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি কমে ০.৬ শতাংশে দাঁড়াবে। অন্যদিকে, রাজস্ব প্রণোদনার প্রভাব এবং বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টরের জোরালো চাহিদা বিবেচনায় জাপান ব্যাংক তার পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।
আগামী বছরে জাপানের অর্থনীতির গতিপথ কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি স্থিতিশীল হওয়া এবং জাপানে প্রকৃত মজুরি সর্বনিম্নে পৌঁছানোর ফলে ভোক্তা ব্যয় ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। ২০২৬ সালের বসন্তের মজুরি আলোচনায় টানা তৃতীয় বছরের মতো ৫ শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধি পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালের মধ্যে কমে ২.১ শতাংশের দিকে এলে প্রকৃত মজুরি ইতিবাচক পর্যায়ে যেতে পারে।
প্রধান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ইয়েনের অব্যাহত অবমূল্যায়ন, যা মূল্যস্ফীতির চাপ আবার বাড়াতে পারে; জাপান-চীন সম্পর্কের অবনতি, যা বাণিজ্য ও পর্যটনে প্রভাব ফেলতে পারে; এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে সম্ভাব্য দরপতন, যা উচ্চ আয়ের পরিবারের ব্যয় কমিয়ে দিতে পারে। জ্বালানির দামের অস্থিরতা ও চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখেও জাপান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নির্ধারণে রাজস্ব প্রণোদনা ও মুদ্রানীতি কঠোর করার মধ্যে ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
মূল বিষয়গুলো
- সাময়িক কারণের প্রভাবে তৃতীয় প্রান্তিকে ২.৩ শতাংশ সংকোচনের পর ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে জাপানের অর্থনীতিতে বার্ষিক হিসাবে ১.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে
- চার বছরের মধ্যে বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ব্যবসায়িক আস্থার সহায়তায় মূলধনী ব্যয় ০.৮ শতাংশ বেড়ে পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দিচ্ছে
- জাপান ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে স্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি ভোগ ব্যয়ে প্রবৃদ্ধি দুর্বল, মাত্র ০.১ শতাংশ
- ডিসেম্বরে জাপান ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে ০.৭৫ শতাংশ করেছে, যা ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আরও ধাপে ধাপে বৃদ্ধির প্রত্যাশা রয়েছে
- প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার ১৭.৭ লাখ কোটি ইয়েনের রাজস্ব প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করেছে, যা মুদ্রানীতি কঠোর করার সঙ্গে টানাপোড়েন তৈরি করছে
- তৃতীয় প্রান্তিকে নিট রপ্তানি জিডিপি প্রবৃদ্ধি থেকে ০.২ শতাংশ পয়েন্ট কমালেও চতুর্থ প্রান্তিকে ০.১ শতাংশ পয়েন্ট যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৫ শতাংশ হয়েছে
- শুল্কের প্রভাব পুরোপুরি দেখা দেওয়া এবং রাজস্ব প্রণোদনার প্রভাব কমে আসায় ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি আনুমানিক ০.৬-০.৯ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস রয়েছে






