তিমুর সাগরে কৌশলগত উত্তেজনাকেন্দ্র
চীনের মালিকানাধীন একটি কোম্পানির কাছ থেকে ডারউইন বন্দর ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ক্যানবেরাকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত। অস্ট্রেলীয় সরকার জোর করে মালিকানা ছাড়তে বাধ্য করলে কী ধরনের প্রতিশোধ নেওয়া হবে, তা নির্দিষ্ট না করেই এমন হুমকি দিয়েছেন তিনি। কূটনৈতিক এই পাল্টা বার্তা এমন এক বিরোধে উত্তেজনা বাড়িয়েছে, যার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আইন এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের বৃহত্তর প্রতিদ্বন্দ্বিতা জড়িত।
সূচিপত্র
ক্যানবেরায় বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত শিয়াও চিয়ান অ্যালবানিজ সরকারের সেই পরিকল্পনার সমালোচনা করেন, যাতে শানডংভিত্তিক সমষ্টি প্রতিষ্ঠান ল্যান্ডব্রিজ গ্রুপের ৯৯ বছরের ইজারা বাতিল করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি ধনকুবের ইয়ে চেংয়ের নিয়ন্ত্রণে। অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত নর্দার্ন টেরিটরিতে অবস্থিত বন্দরটি চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বজায় রাখা এবং ক্রমবর্ধমান কৌশলগত উদ্বেগ সামলানোর চ্যালেঞ্জের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বেইজিংয়ের কঠোর অবস্থান
সম্ভাব্য পুনঃক্রয় নিয়ে কথা বলার সময় শিয়াও রাখঢাক করেননি। তিনি এ পদক্ষেপকে বাণিজ্যিকভাবে অনৈতিক বলে বর্ণনা করেন এবং সতর্ক করেন, চীনা কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় বেইজিং বাস্তব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
লোকসান হলে বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেবেন, আর আয় শুরু হলে ফেরত নিতে চাইবেন। ব্যবসা করার নিয়ম এটা নয়।
রাষ্ট্রদূত বিষয়টিকে নিয়মিত বাণিজ্যিক বিরোধের বদলে নীতিগত প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিক্রি করা বা অবস্থান ধরে রাখার বিষয়ে ল্যান্ডব্রিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বায়ত্তশাসন রয়েছে। তবে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ জোর করে অধিগ্রহণের চেষ্টা করলে চীনা সরকারের হস্তক্ষেপের বাধ্যবাধকতা থাকবে।
চীনা সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে এবং আমাদের চীনা কোম্পানিগুলোর বৈধ স্বার্থ রক্ষা করতে কখন কথা বলতে হবে, কখন পদক্ষেপ নিতে হবে, তা আমরা দেখব।
এক দশক পুরোনো চুক্তি নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা
বিতর্কের সূত্রপাত ২০১৫ সালে। সে বছর নর্দার্ন টেরিটরি সরকার ল্যান্ডব্রিজকে প্রায় ৫০ কোটি ৬০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারে ৯৯ বছরের ইজারা দেয়। তখন অঞ্চলটি তীব্র আর্থিক সংকটে ছিল, আর কর্মকর্তারা আশা করেছিলেন, এই বিনিয়োগ বিস্তীর্ণ গ্রামীণ অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে। চুক্তিটি দ্রুত আন্তর্জাতিক মনোযোগ পায়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের কাছে আগাম পরামর্শ না করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, বিশেষ করে বন্দরের কাছে পর্যায়ক্রমে মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েনের কারণে।
শানডং প্রদেশভিত্তিক জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতের সমষ্টি প্রতিষ্ঠান ল্যান্ডব্রিজ বন্দরটির সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করেছিল। অস্ট্রেলিয়ায় কোম্পানিটির নন-এক্সিকিউটিভ পরিচালক টেরি ও’কনর পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষায়, এসব দাবি ক্যানবেরার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার থেকে তৈরি হওয়া মিথ।
আন্তর্জাতিক সালিশির ঝুঁকি
ইজারা বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণের যেকোনো অস্ট্রেলীয় উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় বড় আইনি বাধার মুখে পড়তে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, জোর করে মালিকানা ছাড়তে বাধ্য করলে চীন-অস্ট্রেলিয়া দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি (CABIT) অথবা চীন-অস্ট্রেলিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ChAFTA) অধীনে বিনিয়োগকারী-রাষ্ট্র বিরোধ নিষ্পত্তি (ISDS) সালিশি শুরু হতে পারে।
ISDS ব্যবস্থায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের ক্ষতি করে—এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে স্বাগতিক সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। CABIT-এর ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সম্পত্তি অধিগ্রহণ বৈষম্যহীনতা ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত পূরণ করতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ মানদণ্ড থেকে আলাদা সূত্রে ট্রাইব্যুনাল ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে পারে। ফলে ক্যানবেরাকে মূল ইজারামূল্যের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ দিতে হতে পারে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, বাকি ইজারা-স্বত্বের জন্য ল্যান্ডব্রিজ ১৩০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি দাবি করতে পারে, যেখানে ২০১৫ সালে দেওয়া হয়েছিল প্রায় ৫০ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
ChAFTA-র বিধান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। চীনা বিনিয়োগকারীদের দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সমান আচরণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে এই চুক্তিতে। অস্ট্রেলীয় মালিকানাকে স্পষ্টভাবে অগ্রাধিকার দিলে তা অসম আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদিও জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অব্যাহতি কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। তবে ISDS-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক রায়গুলোতে দেখা গেছে, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।
সামরিক ভূগোল ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা কাঠামোয় ডারউইন বন্দরের অবস্থান অনন্য। দেশটির সবচেয়ে উত্তরের সামুদ্রিক স্থাপনা হিসেবে এটি লারাকিয়া প্রতিরক্ষা এলাকার পাশে অবস্থিত এবং বছরে পর্যায়ক্রমে প্রায় ২ হাজার মার্কিন মেরিন সেনার অবস্থানকে সহায়তা করার অবকাঠামো রয়েছে এখানে। মার্কিন বোমারু ও যুদ্ধবিমান রাখার জন্য অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী বর্তমানে উত্তরের ঘাঁটিগুলো সম্প্রসারণ করছে। এতে কাছাকাছি বাণিজ্যিক সম্পদের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার ঠিক দক্ষিণে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নৌপথের আঘাতসীমার মধ্যে বন্দরের অবস্থান। এ কারণে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ বা সামুদ্রিক নজরদারিতে এর ব্যবহার নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ভারত মহাসাগরজুড়ে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এগিয়ে নিতে চীন বিশ্বজুড়ে বন্দরগুলোতে বিনিয়োগ করছে। এ নীতিকে প্রায়ই ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ কৌশল বলা হয়।
২০২১ ও ২০২৩ সালে করা দুটি কেন্দ্রীয় পর্যালোচনায় নিরাপত্তাঝুঁকি সামাল দিতে বিদ্যমান নজরদারি ব্যবস্থা যথেষ্ট বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে দুই প্রধান দলের রাজনৈতিক ঐকমত্য এখন সম্পদটি ফিরিয়ে নেওয়ার পক্ষে। ২০১৫ সালের ইজারা চুক্তিটি শুরুতে বিদেশি অধিগ্রহণ ও দখল আইন-এর ১২এ(৭)(এ)(বি) ধারার আওতায় কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পর্যালোচনা থেকে অব্যাহতি পেয়েছিল। পরে সেই আইনি ফাঁক বন্ধ করা হয়। তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ স্কট মরিসনের চুক্তিটি আটকে দেওয়ার আইনি ক্ষমতা ছিল না, কারণ এটি কোনো বেসরকারি বিক্রেতার কাছ থেকে নয়, সরাসরি রাজ্য সরকারের কাছ থেকে অধিগ্রহণের বিষয় ছিল।
চীনা নৌবাহিনীর সাম্প্রতিক তৎপরতা বন্দরটি নিয়ে নজরদারি আরও বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে চীনা নৌবহর অস্ট্রেলিয়া প্রদক্ষিণ করে তাসমান সাগরে সরাসরি গোলাবর্ষণের মহড়া চালায়। এর পর প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ ভবিষ্যতে সামরিক মহড়ার বিষয়ে আগাম জানানোর নিশ্চয়তা চাইতে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রাষ্ট্রদূত শিয়াও এসব মহড়াকে নিয়মিত বলে উড়িয়ে দেন এবং বলেন, ফেডারেল নির্বাচনী প্রচারের সময় হলেও এগুলোর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার কোনো সম্পর্ক ছিল না।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও আলোচনার বাস্তবতা
২০২৫ সালের মে মাসের ফেডারেল নির্বাচনী প্রচারে অস্ট্রেলিয়ার দুই প্রধান রাজনৈতিক দলই বন্দরটি দেশীয় নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছিল। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বারবার বলেছেন, স্থাপনাটি অস্ট্রেলীয়দের হাতে থাকাই জাতীয় স্বার্থে জরুরি। বিরোধীদলীয় নেতা পিটার ডাটনও একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও সরকারকে জটিল আলোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। ল্যান্ডব্রিজ সম্পদটি বিক্রির বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহের কথা জানিয়েছে, যদিও কোম্পানিটি বলছে, সক্রিয় আলোচনা চলছে না। সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে পণ্য পরিবহন প্রতিষ্ঠান টোল গ্রুপ ও মার্কিন বেসরকারি ইকুইটি প্রতিষ্ঠান সেরবেরাস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের একটি কনসোর্টিয়াম এবং অস্ট্রেলীয় পেনশন তহবিল রয়েছে বলে জানা গেছে।
অ্যালবানিজ সরকার ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে এটি স্বেচ্ছায় বিক্রি, বাণিজ্যিকভাবে পুনঃক্রয়, নাকি সংশোধিত বিদেশি অধিগ্রহণ ও দখল আইনের ক্ষমতাবলে বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণের মাধ্যমে করা হবে, তা কর্মকর্তারা জানাতে চাননি।
লোকসান থেকে মুনাফায়
ডারউইন বন্দরের আর্থিক অবস্থার গতিপথ কূটনৈতিক বিরোধের কেন্দ্রে এসেছে। এর আগে একসময় ৩ কোটি ডলারের ঘাটতিসহ বছরের পর বছর লোকসানের পর সর্বশেষ অর্থবছরে বন্দরটির আয় হয়েছে ৯৬ লাখ ডলার। এই ঘুরে দাঁড়ানোকে কাজে লাগিয়ে বেইজিং পুনঃক্রয়কে সুযোগসন্ধানী সম্পদ দখল বলে সমালোচনা করছে।
বন্দর অবকাঠামোয় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে ল্যান্ডব্রিজ। ২০২৩-২৪ সালে লৌহ আকরিক, ম্যাঙ্গানিজ ও গবাদিপশুসহ ৯ লাখ ৮৬ হাজার টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে এই বন্দর দিয়ে। উত্তরাঞ্চলের গবাদিপশু উৎপাদকদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। ইন্দোনেশিয়ার বাজারে যাওয়ার পথে ৪ লাখের বেশি গবাদিপশু এই বন্দর দিয়ে যায়।
বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণ হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অস্ট্রেলীয় করদাতাদের কয়েক শ কোটি ডলার দিতে হতে পারে। একই সঙ্গে বাণিজ্যপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার এবং বিদেশি অবকাঠামো বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাণিজ্যনির্ভরতার ভারসাম্য
অস্ট্রেলিয়া-চীন সম্পর্কে নতুন করে তৈরি হওয়া, তবে নাজুক স্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে এই বিরোধ সামনে এসেছে। কয়েক বছর ধরে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে অস্ট্রেলীয় রপ্তানিকারকদের বছরে আনুমানিক ২ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হওয়ার পর বেইজিং সম্প্রতি মদ, বার্লি, কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। ২০২৪-২৫ সালে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৮০ কোটি ডলার। ব্যবধান অনেকটাই রেখে চীন এখন অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ডারউইন বন্দর নিয়ে বড় পরিসরে অর্থনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ তাতে উভয় পক্ষেরই ক্ষতি হবে। তবে বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় অন্য উত্তেজনার সঙ্গেও জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে স্থগিত মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অস্ট্রেলীয়-চীনা লেখক ইয়াং হেংজুনের আটক থাকা এবং তাইওয়ান পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান। রাষ্ট্রদূত শিয়াও এ বিষয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই বলে বর্ণনা করেছেন।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে বৈঠকে অ্যালবানিজ উল্লেখযোগ্যভাবে সরাসরি ডারউইন বন্দরের প্রসঙ্গ তোলেননি। বরং তিনি নৌবাহিনীর স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার-সংক্রান্ত মামলার ওপর জোর দেন। এই বেছে নেওয়া নীরবতা ইঙ্গিত দেয়, ক্যানবেরা কৌশলগত লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিরোধটিকে অন্যান্য বিষয় থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করছে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০১৫ সালে ৯৯ বছরের ইজারা পাওয়া ল্যান্ডব্রিজ গ্রুপের কাছ থেকে অস্ট্রেলিয়া জোর করে ডারউইন বন্দর বিক্রি করালে প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রদূত
- জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ২০২৫ সালের নির্বাচনী প্রচারে বন্দরটি দেশীয় নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে অস্ট্রেলীয় সরকার
- চীন-অস্ট্রেলিয়া বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণে আন্তর্জাতিক সালিশি শুরু হতে পারে এবং ক্ষতিপূরণে করদাতাদের কয়েক শ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে বলে আইন বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
- মার্কিন মেরিন সেনাদের পর্যায়ক্রমিক অবস্থান এবং অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা স্থাপনার কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর দিয়ে গবাদিপশু ও খনিজসহ বছরে প্রায় ১০ লাখ টন পণ্য রপ্তানি হয়
- বছরের পর বছর লোকসানের পর বন্দরটি সম্প্রতি লাভজনক হয়েছে, ফলে সরকার হস্তক্ষেপ করবে কি না, সে বিষয়ে নৈতিক ও আইনি যুক্তি জটিল হয়েছে
- সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে টোল গ্রুপ ও সেরবেরাস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের একটি কনসোর্টিয়াম এবং অস্ট্রেলীয় পেনশন তহবিল রয়েছে; ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য






