উচ্চপ্রযুক্তির নিরাপত্তা পরীক্ষায় ভিয়েতনাম সীমান্তে হিউম্যানয়েড রোবট মোতায়েন চীনের

পড়তে 7 মিনিট
উচ্চপ্রযুক্তির নিরাপত্তা পরীক্ষায় ভিয়েতনাম সীমান্তে হিউম্যানয়েড রোবট মোতায়েন চীনের

সীমান্তে নতুন প্রহরী

চীন-ভিয়েতনাম সীমান্তের আর্দ্র এক এলাকায় নতুন ধরনের সীমান্তরক্ষী দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। উপকূলীয় শহর ফাংচেংগাং সাধারণত ট্রাকের দীর্ঘ সারি আর অধৈর্য পর্যটকদের জন্য পরিচিত। তবে শহরটি নীরবে হিউম্যানয়েড রোবোটিকসের বাস্তব পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে। দেশটির ব্যস্ততম স্থলসীমান্তগুলোর একটিতে ইউবটেকের ওয়াকার এস২ মেশিন মোতায়েন করতে প্রায় ২৬৪ কোটি ইউয়ান (৩৭ কোটি মার্কিন ডলার) ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে বেইজিং। একই সঙ্গে যানজট কমানো এবং নিরাপত্তা জোরদার করাই এর লক্ষ্য।

সূচিপত্র
  1. সীমান্তে নতুন প্রহরী
  2. এই সীমান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ
  3. ওয়াকার এস২: যন্ত্রটির গঠন
  4. কাজের দায়িত্ব ও মানুষের সঙ্গে সহযোগিতা
  5. একটানা কাজের সক্ষমতা
  6. জাতীয় কৌশলের বাস্তবায়ন
  7. প্রযুক্তির বাস্তব সীমাবদ্ধতা ও বিশ্বজুড়ে সংশয়
  8. দেহধারী এআইয়ের ভবিষ্যৎ
  9. মূল বিষয়গুলো

সরকারি কার্যক্রমে হিউম্যানয়েড ব্যবস্থার বাস্তব ব্যবহারের বৃহত্তম উদ্যোগগুলোর একটি এই প্রকল্প। আধুনিক সীমান্তে সচরাচর দেখা যায় এমন স্থায়ী গেট বা কিয়স্কের বদলে কর্তৃপক্ষ এমন দ্বিপদী মেশিন আনছে, যেগুলো হাঁটতে, কথা বলতে এবং যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকস যুক্ত করার চীনের বৃহত্তর কৌশলের একটি বহুল আলোচিত পরীক্ষা এই প্রকল্প।

বিজ্ঞাপন

এই সীমান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ

ফাংচেংগাং গুয়াংশি অঞ্চলে, ভিয়েতনামের ঠিক পাশেই অবস্থিত। এ পথ দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক, সীমান্তপারের বাস ও এক দিনের ভ্রমণে আসা যাত্রীদের আনাগোনা লেগেই থাকে। এখানকার শুল্ক কর্মকর্তাদের সামনে দ্বৈত চ্যালেঞ্জ: বিপুল বাণিজ্যপ্রবাহ সামলানোর পাশাপাশি দ্রুত ও নির্বিঘ্নে সীমান্ত পারাপারের ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশা পূরণ করা। মানুষ ও পণ্যের বিপুল চাপ যানজট তৈরি করে, যা বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ায়।

কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘ সারি, যাত্রীদের একই প্রশ্নের বারবার জবাব দেওয়া এবং বাণিজ্য ব্যাহত না করে মানুষ ও পণ্য পরীক্ষা করার অবিরাম চাপ সামলাতে হয়। যানজটপূর্ণ এই সীমান্তচৌকিকে এআইচালিত হিউম্যানয়েড সহকারীদের বাস্তব পরীক্ষাক্ষেত্রে পরিণত করে চীন উন্নত স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির সাহায্যে একটি লজিস্টিকস সমস্যা সমাধান করতে চায়। সফল হলে, দেশের অন্যান্য ব্যস্ত প্রবেশপথেও এই মডেল চালু করা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

ওয়াকার এস২: যন্ত্রটির গঠন

এই প্রকল্পের মূল আকর্ষণ ওয়াকার এস২ রোবটগুলো। এগুলো শিল্পকারখানায় ব্যবহারের উপযোগী হিউম্যানয়েড, যেগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার জন্য নকশা করা হয়েছে। উচ্চতা প্রায় ১.৭৬ মিটার এবং ওজন প্রায় ৭০ কেজি হওয়ায় মেশিনগুলো গড়পড়তা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের আকারের। ৫২ ডিগ্রি অব ফ্রিডমসহ এদের শরীরের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন দিকে নড়াচড়া করতে পারে। রয়েছে সূক্ষ্ম কাজ করতে সক্ষম দক্ষ হাত, যা দিয়ে নির্ভুলভাবে বস্তু ধরা ও নাড়াচাড়া করা যায়। প্রতিটি বাহু দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ কেজি ওজন বহন করতে পারে রোবটগুলো। গভীরভাবে বসা ও ঝুঁকে পড়ার জন্য রয়েছে উচ্চ টর্কের জয়েন্ট।

ওয়াকার এস২-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো এর স্বয়ংক্রিয়, দ্রুত বদলানো যায় এমন দ্বৈত-ব্যাটারি ব্যবস্থা। রোবটটি প্রায় তিন মিনিটে নিজেই শেষ হয়ে যাওয়া ব্যাটারি খুলে সম্পূর্ণ চার্জ করা ব্যাটারি বসাতে পারে। এ সুবিধায় মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করা সম্ভব, যা সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি, কারণ সেখানে কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। জটিল পরিবেশে চলাচলের জন্য ব্যবস্থাটিতে ইউবটেকের ব্রেইননেট ২.০ ও কো-এজেন্ট এআই ফ্রেমওয়ার্ক যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো বহুমাত্রিক যুক্তি ও কাজের পরিকল্পনাকে একত্র করে।

পরিবেশ বুঝতে ওয়াকার এস২ বিশুদ্ধ আরজিবি দ্বিনেত্র স্টেরিও ভিশন ব্যবস্থা ব্যবহার করে, যা মানুষের মতো দূরত্ব ও গভীরতা বুঝতে পারে। এর ফলে জনাকীর্ণ সীমান্ত পারাপারের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে রোবটটি মানিয়ে নিতে পারে। উন্নত গতিশীল ভারসাম্য রক্ষার অ্যালগরিদম ভারী বোঝা বহন করার সময় বা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭.২ কিলোমিটার গতিতে চলার সময়ও এর স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

বিজ্ঞাপন

কাজের দায়িত্ব ও মানুষের সঙ্গে সহযোগিতা

চেকপয়েন্টে রোবটগুলো মানব সীমান্তরক্ষীদের সরিয়ে দিচ্ছে না; বরং তাদের দিয়ে করানো হচ্ছে পুনরাবৃত্তিমূলক ও জনসমক্ষে দৃশ্যমান কাজগুলো। এর মধ্যে রয়েছে যাত্রীদের সঠিক সারিতে যাওয়ার পথ দেখানো, ফরম ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং অপেক্ষাকক্ষগুলোতে মাইকের ঘোষণার মতো নির্দেশনা দেওয়া। পণ্য পরিবহনের এলাকায় রোবটগুলো পার্ক করা ট্রাক ও কনটেইনারের সারির মধ্যে টহল দেয়, কনটেইনার স্ক্যান করে এবং তথ্য মানব পরিচালনাকেন্দ্রে পাঠায়।

এ ধরনের কার্যক্রমের দায়িত্ব রোবটদের দিলে মানবকর্মীরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তল্লাশি, জটিল কাগজপত্র এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমে মনোযোগ দিতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ফাংচেংগাংয়ে হিউম্যানয়েডগুলো একসঙ্গে ট্রাফিক পরিচালনাকারী, ট্যুর গাইড ও চলমান সিসিটিভি টাওয়ার হিসেবে কাজ করছে। অভিবাসনসংক্রান্ত দায়িত্বের বাইরে, কয়েকটি ইউনিট ইস্পাত, তামা ও অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকেন্দ্রেও পরিদর্শন চালাবে। উচ্চ তাপমাত্রার শিল্পস্থাপনায় পূর্বনির্ধারিত পথে হাঁটবে তারা।

একটানা কাজের সক্ষমতা

একটানা কাজ করার সক্ষমতা সীমান্ত নিরাপত্তার প্রচলিত কর্মপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে। ঐতিহ্যবাহী সীমান্তচৌকিতে পালা করে মানবকর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে হয়, যার জন্য বিরতি, দায়িত্ব হস্তান্তর ও বিশ্রামের সময় দরকার। নিজের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিজে সামলাতে পারা রোবট দীর্ঘ সময় কাজে থাকতে পারে। যেসব স্থানে সার্বক্ষণিক সতর্কতা প্রয়োজন, সেখানে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বয়ংক্রিয় চার্জ বদলানোর ব্যবস্থার কারণেই এই একটানা কাজ সম্ভব হয়েছে। রোবটটির শুধু একটি চার্জিং স্টেশনে পৌঁছানোর সুযোগ দরকার, যেখানে কয়েক মিনিটেই ব্যাটারি প্যাক বদলে নেওয়া যায়। এ ব্যবস্থায় সার্বক্ষণিক তদারকির বদলে আগে থেকে পরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণের দিকে কাজের ধরন সরে যায়। সীমান্ত কর্তৃপক্ষের জন্য এর অর্থ, পালাবদল বা খাবারের বিরতির সময় নজরদারিতে ঘাটতি পড়বে না; তাত্ত্বিকভাবে এতে নিরাপত্তার উপস্থিতি আরও ধারাবাহিক হবে।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় কৌশলের বাস্তবায়ন

ফাংচেংগাংয়ে এই মোতায়েন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি অনেক বড় একটি জাতীয় কৌশলের অংশ। ২০২৫ সালের মধ্যে হিউম্যানয়েড রোবটকে ঘিরে জাতীয় উদ্ভাবনব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এ খাতে সরকারের জোরালো নীতিগত সমর্থন রয়েছে, আর একাধিক প্রদেশের সংস্থাগুলো নিয়মিত কাজে রোবট যুক্ত করতে শুরু করেছে।

ইউবটেকের তথ্য অনুযায়ী, সরবরাহ শুরুর পর থেকে ওয়াকার সিরিজের ক্রমবর্ধমান অর্ডারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১১০ কোটি ইউয়ানে। বছরের শেষ নাগাদ ৫০০টি শিল্পকারখানায় ব্যবহারের উপযোগী হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ এবং আগামী বছর উৎপাদন দশ গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে কোম্পানিটি। ২০২৭ সালের মধ্যে বছরে ১০ হাজার ইউনিট উৎপাদনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যও রয়েছে। বিমানবন্দর, সরকারি কার্যালয় ও বড় আয়োজনেও এ ধরনের রোবট মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলন, যেখানে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বহুভাষী রোবট ব্যবহার করেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রযুক্তির বাস্তব সীমাবদ্ধতা ও বিশ্বজুড়ে সংশয়

চীনের অভ্যন্তরে সমর্থকেরা এই মোতায়েনকে অগ্রগতির পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, দেশটির বাইরের বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছেন। অনেক গবেষক একমত যে গত পাঁচ বছরে হিউম্যানয়েডের সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবে প্রযুক্তিটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। কার্ডিফ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির রোবোটিকস বিশেষজ্ঞ এসিন চিউ বলেন, রোবট স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক-দুটি কাজ করতে পারলেও মানুষের মস্তিষ্কের মতো বাস্তব জগতের সমস্যায় এখনো সাড়া দিতে পারে না।

প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এখনো বড় বাধা। প্রযুক্তি প্রদর্শনী থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দ্বিপদী রোবোটিকস কোম্পানিগুলোর প্রতিশ্রুত সক্ষমতার ধারেকাছেও পৌঁছায়নি। রোবটগুলো প্রায়ই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়, হোঁচট খায় বা কাজ শেষ করতে দূর থেকে সহায়তা প্রয়োজন হয়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার সময় ওয়াকার এস২ ব্যর্থ হলে, কাজটি শেষ করতে প্রায়ই দূর থেকে নিয়ন্ত্রণকারী একজন বিকল্প অপারেটর দায়িত্ব নেন। সেই সুযোগে পরবর্তী সংস্করণের জন্য তথ্যও সংগ্রহ করেন তিনি।

আর্দ্র ও ধুলোময় পরিবেশে ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও বাস্তব উদ্বেগ রয়েছে। ব্যাটারির স্থায়িত্ব, চার্জিংয়ের ব্যবস্থাপনা এবং খুচরা যন্ত্রাংশের জোগান উল্লেখযোগ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। দায়িত্বে থাকা রোবটটির রক্ষণাবেক্ষণ বা চার্জের জন্য কোনো সারি আটকে গেলে, এ মোতায়েনের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। এ ছাড়া, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার গোপনীয়তা ও তথ্য সংগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, কারণ এসব মেশিন চলমান নজরদারি যন্ত্র হিসেবে কাজ করে।

চীনের সীমান্তে হিউম্যানয়েড রোবট মোতায়েনের খবর নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুকৃতি সিং দাহিয়া। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যন্ত্রের পেছনের মানুষটিই গুরুত্বপূর্ণ।” তাঁর ব্যাখ্যা, যেকোনো প্রযুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করে সেটিকে পরিচালনাকারী মানুষের ওপর। তাই যন্ত্রের বদলে মানুষের ভূমিকাতেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই মোতায়েন প্রযুক্তিগত অগ্রগতি তুলে ধরলেও, ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশের সামরিক পর্যবেক্ষকেরা একে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার স্বাভাবিক বিবর্তন হিসেবেই দেখছেন, যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে নয়। তাঁদের মধ্যে ঐকমত্য হলো, প্রযুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করে এর পেছনে থাকা কৌশল ও কর্মীদের ওপর।

বিজ্ঞাপন

দেহধারী এআইয়ের ভবিষ্যৎ

ফাংচেংগাংয়ের পরীক্ষা সফল বলে বিবেচিত হলে, চীনা পরিকল্পনাকারীদের সামনে সম্ভাব্য স্থানের দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। ভিয়েতনাম সীমান্তের অন্যান্য পারাপারপথ, লাওসের সঙ্গে ব্যস্ত সীমান্ত, অভ্যন্তরীণ লজিস্টিকস কেন্দ্র এবং বড় শহরের বিমানবন্দর ও মেট্রো স্টেশন—সবই সম্ভাব্য স্থান। ভবিষ্যতে হিউম্যানয়েড রোবট বেইজিং বা সাংহাই বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির আগে যাত্রীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, অথবা বড় শহরের মেট্রো নেটওয়ার্কের প্ল্যাটফর্মে ঘুরে প্রশ্নের উত্তর দিতে ও সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত করতে পারে।

চীনের দৈনন্দিন সরকারি অবকাঠামোতে হিউম্যানয়েড কীভাবে যুক্ত হতে পারে, তার একটি নমুনা এই ফাংচেংগাং প্রকল্প। এ প্রকল্প আরও দেখায়, এআই ও রোবোটিকস কীভাবে জনসাধারণের প্রত্যাশা বদলে দিতে পারে। সীমান্তে সাহায্যের জন্য রোবটকে প্রশ্ন করতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে, মানুষ জনজীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও একই ধরনের স্বয়ংক্রিয় সহায়তা আশা করতে পারে। ভিয়েতনাম সীমান্তের এই পরীক্ষা শুধু যান চলাচল নিয়েই নয়; সমাজ দেহধারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কীভাবে মিথস্ক্রিয়া করে এবং একে গ্রহণ করে, সেটিও এর পরীক্ষার বিষয়।

মূল বিষয়গুলো

  • ৩৭ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তির অংশ হিসেবে ভিয়েতনামের সঙ্গে ফাংচেংগাং সীমান্ত পারাপারপথে ইউবটেকের ওয়াকার এস২ হিউম্যানয়েড রোবট মোতায়েন করেছে চীন।
  • দক্ষতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে রোবটগুলো যাত্রীদের পথ দেখানো, সারি সামলানো, টহল দেওয়া এবং কনটেইনার পরিদর্শনের মতো কাজ করবে।
  • ওয়াকার এস২-এ স্বয়ংক্রিয় ব্যাটারি বদলানোর ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যুতের জন্য ব্যাটারি বদলাতে মাত্র তিন মিনিট বিরতি নিয়ে এটি একটানা কাজ করতে পারে।
  • গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সরকারি সেবায় রোবোটিকস যুক্ত করার চীনের বৃহত্তর জাতীয় কৌশলের অংশ এই মোতায়েন।
  • হিউম্যানয়েড রোবটের বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক। তাঁরা প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও মানব তদারকির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।
  • উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে ইউবটেক; ২০২৭ সালের মধ্যে বছরে ১০ হাজার ইউনিট তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে