ভিয়েতনামের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
তরুণ জনগোষ্ঠী নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ভিয়েতনাম। ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ১৫-২৪ বছর বয়সী প্রায় ১৪ লাখ তরুণ কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের কোনোটিতেই ছিলেন না (NEET)। ভিয়েতনামের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন জেনারেল স্ট্যাটিস্টিকস অফিসের তথ্যমতে, এ সংখ্যা দেশটির মোট তরুণ জনগোষ্ঠীর ১০.২ শতাংশ। পরিসংখ্যানগুলোতে অর্থবহ কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজতে তরুণ ভিয়েতনামিদের যে অসুবিধা হচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্বও প্রকাশ পেয়েছে।
সূচিপত্র
- ভিয়েতনামের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
- NEET পরিস্থিতি বোঝা
- ভিয়েতনামের তরুণদের কর্মসংস্থান সংকটের বিস্তারিত
- লিঙ্গ ও ভৌগোলিক বৈষম্য
- আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
- ভিয়েতনামের তরুণদের কর্মসংস্থান চ্যালেঞ্জের মূল কারণ
- সরকারের পদক্ষেপ ও নীতিগত উদ্যোগ
- অর্থনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
- ভিয়েতনামের তরুণদের সামনে এগোনোর পথ
- মূল বিষয়গুলো
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তরুণ জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে ভিয়েতনাম। এতে তৈরি হয়েছে এক ধরনের বৈপরীত্য। জনসংখ্যার বার্ধক্যও যখন দেশটির আরেকটি চ্যালেঞ্জ, তখন এ সংকট দেখা দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে। ভবিষ্যতে কর্মীর ঘাটতি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাড়তি চাপের সম্ভাবনাকে বিশেষজ্ঞরা ‘দ্বিমুখী বোঝা’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।
জেনারেল স্ট্যাটিস্টিকস অফিস আগেভাগে পেশাগত দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুস্পষ্ট পথ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে আরও ভালোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে স্কুল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জনমিতিক পরিবর্তনে দেশের শ্রমবাজার পুরোপুরি বদলে যাওয়ার আগেই তরুণ কর্মীবাহিনীকে কাজে লাগানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে ভিয়েতনাম।
NEET পরিস্থিতি বোঝা
NEET-এর পূর্ণরূপ ‘Not in Employment, Education, or Training’। কর্মসংস্থান, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের কোনো কার্যক্রমে যুক্ত নয়—এমন তরুণদের অনুপাত বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এতে বেকার বা অর্থনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়া ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত। OECD ও ILO-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, শিক্ষার মধ্যে খণ্ডকালীন বা পূর্ণকালীন প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি রয়েছে। আর কর্মসংস্থানের আওতায় পড়েন এমন ব্যক্তিরা, যারা তথ্য সংগ্রহের আগের সপ্তাহে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অন্তত এক ঘণ্টা কাজ করেছেন অথবা সাময়িকভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
তরুণদের অন্তর্ভুক্তির অবস্থা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক এই পরিমাপ, যা সারা বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তরুণেরা দীর্ঘ সময় কাজ ও শেখার সুযোগ—দুটো থেকেই বিচ্ছিন্ন থাকলে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব, সারা জীবনে কম আয় এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। নির্দিষ্ট বয়সসীমার জনগোষ্ঠীর শতাংশ হিসেবে NEET হার প্রকাশ করা হয়, ফলে আন্তর্জাতিক তুলনার জন্য এটি একটি মানসম্মত পরিমাপ।
NEET পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এতে শুধু সক্রিয়ভাবে কাজ খুঁজছেন এমন ব্যক্তিরাই নন, নিরাশ হয়ে শ্রমবাজার থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়া তরুণেরাও অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের আড়ালে থাকা বেকারত্ব শিক্ষা ব্যবস্থা, শ্রমবাজার ও সামাজিক নীতিতে আরও গভীর কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। NEET তরুণদের সঙ্গে শিক্ষা বা কর্মসংস্থানের পথের কার্যকর সংযোগ ফিরিয়ে আনতে উপযোগী পদক্ষেপ নকশা করার জন্য তাদের বৈশিষ্ট্য ও পরিস্থিতি বোঝা জরুরি।
NEET সমস্যা মোকাবিলায় শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলেই হবে না; দরকার সামগ্রিক উদ্যোগ। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার মান, শ্রমবাজার-সংক্রান্ত তথ্যব্যবস্থা, পেশাগত দিকনির্দেশনা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো পর্যালোচনা। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, NEET কেবল অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক চ্যালেঞ্জও। শিক্ষা ও কাজ থেকে দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্নতা তরুণদের আত্মবিশ্বাস, প্রেরণা ও সামাজিক সংযুক্তিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
ভিয়েতনামের তরুণদের কর্মসংস্থান সংকটের বিস্তারিত
ভিয়েতনামের সর্বশেষ তথ্য উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড থেকে তরুণদের বিচ্ছিন্নতার উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে NEET তরুণের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৫০ হাজারে, যা তরুণ জনগোষ্ঠীর ১০.৪ শতাংশ। ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৬৬ হাজার ৯০০ কমলেও আগের প্রান্তিকের চেয়ে বেড়েছে ৮৪ হাজার ৪০০। এতে টেকসই উন্নতির বদলে তরুণদের কর্মসংস্থানের ধরনে ওঠানামার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
২০২৫ সালের শুরুর দিকে ১৫-২৪ বছর বয়সীদের বেকারত্বের হার ছিল ৭.৯৩ শতাংশ। আঞ্চলিক গড়ের সঙ্গে তুলনা করে ভিয়েতনামের শ্রমমন্ত্রী দাও নগক জুং একে ‘গ্রহণযোগ্য হার’ বলে বর্ণনা করেন। ধীর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলা নানা অস্থিতিশীলতার কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বেকারত্বের গড় হার প্রায় ৯.৫ শতাংশ। তবে সামগ্রিক এ হার তরুণ জনগোষ্ঠীর ভেতরের উল্লেখযোগ্য বৈষম্য আড়াল করে।
মন্ত্রী দাও নগক জুং বলেন, ভিয়েতনামের বেকারত্বের হার ‘গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে’ রয়েছে এবং তরুণদের বেকারত্বের হার ৭.৯২ শতাংশ। তিনি এ হারকে বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে তুলনা করেন, যেখানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বেকারত্বের গড় প্রায় ৯.৫%।
বেকারত্বের পরিসংখ্যানের বাইরেও শ্রমশক্তির অপূর্ণ ব্যবহারের আরও বিস্তৃত পরিমাপে গভীরতর চ্যালেঞ্জ দেখা যায়। ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ভিয়েতনামে ২১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ, অর্থাৎ কর্মীবাহিনীর ৪ শতাংশ, শ্রমশক্তির অপূর্ণ ব্যবহারের শিকার ছিলেন। এ গোষ্ঠীতে বেকার, অপর্যাপ্ত কর্মসংস্থানে থাকা এবং শ্রমশক্তির বাইরে থাকলেও কাজ করতে আগ্রহী ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত। গ্রামীণ এলাকায় এ হার ছিল ৪.১ শতাংশ এবং শহরে ৩.৮ শতাংশ। এতে বোঝা যায়, কর্মীবাহিনীর চ্যালেঞ্জ শহরের বাইরেও কৃষি ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করছে।
জেনারেল স্ট্যাটিস্টিকস অফিস জানিয়েছে, স্বাভাবিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও শ্রমশক্তির একটি অংশের অপূর্ণ ব্যবহার থাকে এবং অর্থনীতি বড় ধাক্কার মুখে পড়লে এ হার প্রায়ই বাড়ে। ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিক থেকে হারটি দ্রুত বেড়ে ২০২১ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর ধীরে ধীরে কমে প্রায় ৪ শতাংশের আশপাশে ওঠানামা করেছে। ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে সামগ্রিক শ্রমবাজার মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও অপর্যাপ্ত কর্মসংস্থানে থাকা মানুষের সংখ্যা সামান্য বেড়ে প্রায় ৭ লাখ ৮৪ হাজার হওয়াকে উদ্বেগের লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন কর্মকর্তারা।
লিঙ্গ ও ভৌগোলিক বৈষম্য
ভিয়েতনামের NEET সংকট সব তরুণকে সমানভাবে প্রভাবিত করে না। গ্রাম ও শহরের পাশাপাশি নারী ও পুরুষের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য বৈষম্য রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় NEET হার ১১.৭ শতাংশ, যা শহরাঞ্চলের ৮.২ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। এই গ্রাম-শহর ব্যবধান ভিয়েতনামের অর্থনীতির চলমান রূপান্তরকে প্রতিফলিত করে। নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চেয়ে দ্রুতগতিতে কমেছে প্রচলিত কৃষিভিত্তিক কাজ। ফলে তরুণেরা শহরমুখী হচ্ছেন, যেখানে চাকরি পেতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা বা সামাজিক যোগাযোগ তাদের নাও থাকতে পারে।
লিঙ্গবৈষম্যও এ চ্যালেঞ্জের আরেকটি দিক। তরুণীদের মধ্যে NEET-এর হার ১২ শতাংশ, যেখানে তরুণদের ক্ষেত্রে তা ৮.৩ শতাংশ। সামাজিক রীতিনীতির স্থায়িত্ব, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগে অসম প্রবেশাধিকার এবং পারিবারিক দায়িত্ব নিয়ে ভিন্ন প্রত্যাশা এ ব্যবধানের পেছনে রয়েছে। ভিয়েতনামের নারীরা প্রচলিত ভূমিকা ও শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় বিশেষ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় কৃষিকাজ ক্রমেই যান্ত্রিক হওয়ায় এবং সেবা খাতের চাকরি শহরে কেন্দ্রীভূত থাকায় এ চ্যালেঞ্জ বাড়ছে।
গ্রাম-শহর ও লিঙ্গবৈষম্য পরস্পরের সঙ্গে মিলে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর ঝুঁকি বাড়ায়। গ্রামীণ তরুণীরা শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বাধার মুখে পড়েন। তাদের সামনে প্রায়ই স্থানীয় সুযোগের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি চলাচলে সামাজিক বিধিনিষেধও থাকে। সবার জন্য একই ধরনের নীতির বদলে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ দরকার।
ভিয়েতনামের সরকারি পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, মৌলিক চাহিদা পূরণে ঘাটতি থাকা তরুণদের অনুপাতেও একই ধরনের প্রবণতা রয়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামে এবং তরুণদের তুলনায় তরুণীদের মধ্যে এ হার বেশি। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পথ থেকে স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাতে ভৌগোলিকভাবে লক্ষ্যভিত্তিক ও লিঙ্গ-সংবেদনশীল উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা এসব বৈষম্য তুলে ধরে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
তরুণদের শ্রমবাজারের বৃহত্তর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটেই ভিয়েতনামের তরুণ বেকারত্বের সমস্যা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) অনুমান, ২০২৫ সালে বিশ্বে তরুণদের বেকারত্বের হার বেড়ে ১২.৪ শতাংশ হতে পারে। এ হিসাবে NEET হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ তরুণের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২৬ কোটি। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এ হার প্রায় ২৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা কম উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর চ্যালেঞ্জের তীব্রতা দেখায়।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চ্যালেঞ্জটি বিশেষভাবে তীব্র। ২০২৩ সালে এ অঞ্চলে NEET হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ তরুণের সংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ৭০ লাখ, যা ২০১৯ সালের ১৪ কোটি ৫০ লাখের চেয়ে বেশি। অর্থাৎ, অঞ্চলের প্রতি পাঁচ তরুণের একজনের কাছাকাছি শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণে যুক্ত নয়। ভিয়েতনামের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক হলেও দেশটির NEET হার প্রায় ১০-১০.৪ শতাংশ, যা কয়েকটি আঞ্চলিক প্রতিবেশীর তুলনায় ভালো। তবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এতে স্বস্তির কিছু নেই।
আঞ্চলিক তুলনায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে তরুণদের বিচ্ছিন্নতার হারে ভিন্নতা দেখা যায়। থাইল্যান্ডে NEET হার ১২.৮ থেকে ১৫ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ায় ১৭-১৮ শতাংশ; ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ হারের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। ফিলিপাইনেও NEET হার ১২-১৩ শতাংশ, যার বড় অংশ দরিদ্র শহরাঞ্চলের তরুণ। ILO-এর তথ্য অনুযায়ী, চীনে এ হার প্রায় ১৫-১৭ শতাংশে ওঠানামা করে; যা ভিয়েতনামের চেয়ে বেশি, তবে বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে কম।
ILO-এর ‘Employment and Social Trends 2026’ প্রতিবেদনের পূর্বাভাস, বৈশ্বিক বেকারত্বের হার ৪.৯ শতাংশে স্থির থাকবে, অর্থাৎ বেকার মানুষের সংখ্যা হবে প্রায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ। তবে এ সামগ্রিক পরিসংখ্যান আঞ্চলিক ভিন্নতা ও তরুণ জনগোষ্ঠীর নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো আড়াল করে। ২০২৬ সালে আয়ের স্তরভেদে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পূর্বাভাসে বড় পার্থক্য রয়েছে: উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ০.৫ শতাংশ, নিম্ন-মধ্যম আয়ের অর্থনীতিতে ১.৮ শতাংশ এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে ৩.১ শতাংশ।
ভিয়েতনামের তরুণদের কর্মসংস্থান চ্যালেঞ্জের মূল কারণ
ভিয়েতনামে NEET হার বেশি হওয়ার পেছনে একাধিক পরস্পর-সম্পর্কিত কারণ রয়েছে। শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার অসামঞ্জস্য প্রধান উদ্বেগের একটি। অনেক তরুণ প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট দক্ষতা ছাড়াই স্নাতক হন, ফলে একদিকে পদ খালি থাকে, অন্যদিকে শিক্ষিত তরুণেরা কাজ খুঁজে পান না। বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে কম গুরুত্ব দেওয়ায় সমস্যা আরও বাড়ে। কারণ, মর্যাদাকেন্দ্রিক একাডেমিক শিক্ষার পথ শ্রমিকের ঘাটতিতে থাকা কারিগরি পেশার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।
ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিয়েতনামের শ্রমবাজারকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে শুরু করেছে। এতে কিছু প্রচলিত প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরি বিলুপ্ত হচ্ছে, আবার নতুন ধরনের দক্ষতার চাহিদাও তৈরি হচ্ছে। ডিজিটাল সাক্ষরতা বা বিশেষায়িত কারিগরি প্রশিক্ষণ নেই—এমন তরুণেরা এসব পরিবর্তনে বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েন। মন্ত্রী জুং বলেন, ব্যয় কমাতে নিয়োগকর্তারা একাধিক কাজ সামলাতে সক্ষম অভিজ্ঞ কর্মীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এতে তরুণ কর্মীদের জন্য মানিয়ে নেওয়া কঠিন হচ্ছে এবং চাকরি হারানোর ঝুঁকি বাড়ছে।
আচরণগত ও সামাজিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিভাবকদের অতিরিক্ত প্রশ্রয়, অনলাইনে বাস্তবতা এড়িয়ে চলা এবং অনানুষ্ঠানিক ঋণের কারণে ঋণের চক্রে পড়া তরুণদের কর্মজীবন থেকে বিচ্ছিন্নতায় ভূমিকা রাখে। কিছু তরুণ কর্মী বেশি পারিশ্রমিকের স্বল্পমেয়াদি কাজের বদলে স্থিতিশীল, দীর্ঘমেয়াদি চাকরি পছন্দ করেন। ফলে উপযুক্ত সুযোগের অপেক্ষায় সাময়িকভাবে বেকার থাকেন। তবে এমন সুযোগ আসতে দেরি হলে তাদের দক্ষতা ক্ষয়ে যেতে পারে।
কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব শিক্ষা থেকে কর্মজীবনে স্বাভাবিক উত্তরণ ব্যাহত করে চলেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগকর্তারা মহামারির পরিস্থিতির সঙ্গে ভিন্নভাবে খাপ খাইয়েছেন, ফলে শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতায় এমন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা তরুণদের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মহামারি ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করেছে এবং ব্যবসায়িক মডেল বদলে দিয়েছে। এতে প্রচলিত শিক্ষাপথের সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের সংযোগ দুর্বল হয়েছে।
জনসংখ্যার বার্ধক্যের পাশাপাশি বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী বজায় থাকায় ভিয়েতনাম এক অনন্য জনমিতিক চ্যালেঞ্জের মুখে। ILO শ্রমবাজারের এক বৈপরীত্যের কথা বলেছে: উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো জনসংখ্যার বার্ধক্য ও কর্মীবাহিনীর ধীর প্রবৃদ্ধি সামলাচ্ছে, অন্যদিকে নিম্ন আয়ের দেশগুলো দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে রূপান্তর করতে হিমশিম খাচ্ছে। ভিয়েতনামে দুই ধরনের চ্যালেঞ্জই একসঙ্গে রয়েছে: কিছু অঞ্চলে তরুণ জনগোষ্ঠীর আকার কমছে, অন্যদিকে অন্য অঞ্চলে তরুণদের বেকারত্ব বেশি।
সরকারের পদক্ষেপ ও নীতিগত উদ্যোগ
তরুণদের কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জের তীব্রতা স্বীকার করে ভিয়েতনামের কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে কয়েকটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন মন্ত্রী জুং। এর মধ্যে রয়েছে বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা গড়ে তোলার নমনীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তরুণদের নেতৃত্বাধীন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (SME) জন্য প্রণোদনা।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তার জন্য আর্থিক সহায়তা, ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ ও করছাড়সহ উদ্যোক্তা-সহায়ক নীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে সরকার। বেকারত্ব বিমাকে তরুণদের দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্ব ঠেকানোর ‘নিরাপত্তাবলয়’ বলে বর্ণনা করেছেন মন্ত্রী জুং। এ ছাড়া, দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং সাধারণ শ্রমিকের কাজে বিদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে কর্তৃপক্ষ।
NEET তরুণদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ নিতে জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং শিক্ষা বা কর্মসংস্থানের সঙ্গে তাদের পুনরায় যুক্ত করার কর্মসূচির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা যাবে। দ্রুত বদলে যাওয়া শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে—এমন নমনীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদনশীল পেশাজীবনের গ্রহণযোগ্য পথ হিসেবে বৃত্তিমূলক শিক্ষার মূল্যায়নে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও প্রয়োজন।
কাজ ও শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন তরুণদের জন্য মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা বাড়ানোও অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব ও শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্নতার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব উপেক্ষা করা যায় না। নিরাশ তরুণদের দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও চাকরি খুঁজে দেওয়ার সহায়তার পাশাপাশি কাউন্সেলিং এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার উদ্যোগও লাগতে পারে। অংশগ্রহণের পথে মানসিক বাধা দূর করা প্রচলিত শ্রমবাজারভিত্তিক পদক্ষেপের গুরুত্বপূর্ণ পরিপূরক।
জেনারেল স্ট্যাটিস্টিকস অফিস বিশেষভাবে আগেভাগে পেশাগত দিকনির্দেশনা দেওয়া, ব্যক্তির সক্ষমতা অনুযায়ী উপযুক্ত শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক পথ নির্ধারণ এবং স্কুল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ জোরদারের সুপারিশ করেছে। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হওয়ার আগেই তরুণদের পছন্দের সঙ্গে বিদ্যমান সুযোগের সামঞ্জস্য বাড়িয়ে শুরুতেই তাদের NEET হয়ে পড়া ঠেকানো এ পদক্ষেপগুলোর লক্ষ্য।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
তরুণদের বেকারত্বের চ্যালেঞ্জের অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যক্তিগত দুর্ভোগের সীমা ছাড়িয়ে জাতীয় উন্নয়নের সম্ভাবনাকেও প্রভাবিত করে। জনমিতিক সুযোগের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে বর্তমান তরুণ কর্মীবাহিনীকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে জনসংখ্যার বার্ধক্য, দারিদ্র্য ও অসহনীয় সামাজিক নিরাপত্তার বোঝা সামলাতে হবে। বিশ্বব্যাংকের মতে, পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো কর্মসংস্থান। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ভিয়েতনামে দারিদ্র্য হ্রাসের প্রায় পুরো কৃতিত্ব ছিল উৎপাদন ও সেবা খাতে শ্রম আয় বৃদ্ধির।
তবে অতীতের সাফল্য ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেয় না। বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, রপ্তানি ও উৎপাদননির্ভর প্রবৃদ্ধি—যা একসময় এ অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল—এখন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত ধরনে বাধার মুখে। একই সময়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে এবং উচ্চমূল্যের সেবা ও বিশেষায়িত দক্ষতাভিত্তিক কাজের নতুন সুযোগ তৈরি করে প্রযুক্তি সেবা খাতকে বদলে দিচ্ছে। এই রূপান্তরের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শিক্ষা ব্যবস্থা ও তরুণ কর্মী—উভয়েরই ব্যাপক পরিবর্তন দরকার।
ILO-এর অনুমান, বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি কর্মী চরম দারিদ্র্যে বসবাস করছেন এবং দিনে ৩ মার্কিন ডলারের কম আয় করেন। অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান বাড়ছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে এ ধরনের কর্মীর সংখ্যা ২১০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। তাদের অনেকেরই স্থিতিশীল চাকরি, শ্রম অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নেই। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে কাজের মান উন্নয়নের অগ্রগতি ধীর, ফলে ঝুঁকিতে থাকা কর্মীরা আরও পিছিয়ে পড়ছেন। কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভিয়েতনামের তরুণেরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল পাওয়ার বদলে এই বৈশ্বিক কর্মজীবী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অংশ হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবেন।
বৈশ্বিক বাণিজ্যে নীতিগত অনিশ্চয়তা ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন মজুরির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, বিশেষত ইউরোপ ও এশিয়ায়, যার মধ্যে ভিয়েতনামও রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪৬ কোটি ৫০ লাখ কর্মীর জীবিকা বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল; তাদের অর্ধেকেরও বেশি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। পরিবর্তনশীল বাণিজ্য পরিবেশে ভিয়েতনামের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে মানসম্মত দেশীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জ।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস, আগামী দশকে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ৩২ কোটি মানুষ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছাবেন। এতে বড় পরিসরে চাকরি সৃষ্টির জন্য শ্রমবাজারের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হবে। তবে অনেক মধ্যম আয়ের দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি পিছিয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে: বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে নতুন চাকরি যোগ হতে পারে মাত্র প্রায় ১১ কোটি। তরুণেরাই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, কারণ চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে তাদের বাধা বেশি এবং নিয়োগকর্তাদের ক্রমবর্ধমান অভিজ্ঞতার চাহিদা পূরণের অভিজ্ঞতা তাদের নেই।
ভিয়েতনামের তরুণদের সামনে এগোনোর পথ
ভিয়েতনামে তরুণদের কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একাধিক ক্ষেত্রে সমন্বিত পদক্ষেপ দরকার। দক্ষতা, শিক্ষা, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগসহ শ্রম উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর নীতি গ্রহণের পাশাপাশি নারী ও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ILO। সরকারি ঋণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বাণিজ্য-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা থেকে তৈরি ঝুঁকির প্রতিও আরও মনোযোগ দিতে দেশগুলোকে বলেছে সংস্থাটি।
ILO-এর ‘Global Employment Trends for Youth’ প্রতিবেদনে ‘তরুণ নিশ্চয়তা’ পদ্ধতির সুপারিশ করা হয়েছে। এটি সক্রিয় শ্রমবাজার নীতির একটি সামগ্রিক প্যাকেজ, যার লক্ষ্য নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সব তরুণের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। প্রতিক্রিয়াভিত্তিক কৌশল থেকে আগাম উদ্যোগে যাওয়ার এটি একটি মৌলিক পরিবর্তন: বিচ্ছিন্নতা তৈরি হওয়ার পর শুধু তা মোকাবিলার বদলে শুরুতেই তা ঠেকানোই এর লক্ষ্য।
ILO বলেছে, “শোভন কাজ তরুণদের উন্নত ভবিষ্যতের টিকিট। একই সঙ্গে সামাজিক ন্যায়বিচার, অন্তর্ভুক্তি ও শান্তির পাসপোর্ট। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরির সময় এখনই।” সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, শিক্ষা ও শোভন কাজের সমান সুযোগ না থাকায় লাখো তরুণ উন্নত ভবিষ্যতের সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ভিয়েতনামের জন্য নির্দিষ্ট সুপারিশের মধ্যে রয়েছে পাঠ্যক্রম প্রাসঙ্গিক রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা, কাজের মাধ্যমে শেখার সুযোগ বাড়ানো এবং পেশাগত দিকনির্দেশনা সেবা উন্নত করা। এ ছাড়া, আঞ্চলিক বৈষম্য মোকাবিলায় গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ এবং গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থা ও শহরের শ্রমবাজারের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করা দরকার।
তরুণদের উদ্যোক্তা উদ্যোগের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। ব্যবসা শুরু করতে তরুণেরা প্রায়ই তুলনামূলক বেশি বাধার মুখে পড়েন; যেমন জামানতের অভাব, সীমিত ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং নিয়ন্ত্রক জটিলতা। ব্যবসা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সহজ করা, ঋণ পাওয়ার সুযোগ ও পরামর্শদাতা কর্মসূচি এসব বাধা দূর করতে পারে এবং নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।
সামনের দিনগুলোতে ভিয়েতনামকে জটিল জনমিতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগোতে হবে। ভিয়েতনামের মতো বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার দেশগুলোকে দ্রুত সংকুচিত কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে খাপ খাইয়ে শ্রমবাজার ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা—দুটোই একই সঙ্গে বদলাতে হবে। পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিবছর ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ৬৫ বছর বয়সে পৌঁছাবেন, যা চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সুযোগও তৈরি করবে। কর্মীবাহিনী কমে গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হতে পারে। তবে যথাযথ প্রস্তুতি ও মানবসম্পদে বিনিয়োগের মাধ্যমে ভিয়েতনাম এ রূপান্তর সফলভাবে সামলাতে পারে এবং তার তরুণ জনগোষ্ঠীকে হারিয়ে যাওয়া প্রজন্মে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ১৫-২৪ বছর বয়সী প্রায় ১৪ লাখ ভিয়েতনামি তরুণ NEET হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হন, যা তরুণ জনগোষ্ঠীর ১০.২%
- শহরাঞ্চলের (৮.২%) তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় NEET হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি (১১.৭%)
- তরুণীদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার হার বেশি: ১২%, যেখানে তরুণদের ক্ষেত্রে ৮.৩%
- বিশ্বে ২৬ কোটি তরুণ NEET হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ; নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এ হার ২৮%-এ পৌঁছাতে পারে
- এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১৫ কোটি ৭০ লাখ NEET তরুণ রয়েছেন, অর্থাৎ প্রতি পাঁচ তরুণের একজন
- ভিয়েতনামের NEET হার (১০-১০.৪%) ইন্দোনেশিয়া (১৭-১৮%) ও থাইল্যান্ডের (১২.৮-১৫%) মতো আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের চেয়ে কম
- দক্ষতার অসামঞ্জস্য, প্রচলিত চাকরি বিলুপ্ত করে দেওয়া ডিজিটাল রূপান্তর এবং গ্রাম-শহর বৈষম্য প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে
- সরকারের পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে নমনীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা এবং প্রস্তাবিত জাতীয় NEET তথ্যভান্ডার
- আগামী দশকে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছানো ৩২ কোটি মানুষের বিপরীতে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস, নতুন চাকরি হবে মাত্র ১১ কোটি
- নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সব তরুণের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ILO ‘তরুণ নিশ্চয়তা’ পদ্ধতির সুপারিশ করেছে






