চীনের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে হংকংয়ের সংযোগে বড় সম্প্রসারণ
উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কের বড় সম্প্রসারণের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ড চীনের সঙ্গে যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে যাচ্ছে হংকং। এমটিআর করপোরেশন জানিয়েছে, ২৬ জানুয়ারি থেকে মূল ভূখণ্ডের আরও ১৬টি গন্তব্যে সরাসরি উচ্চগতির রেল চলাচল শুরু হবে। এতে যাত্রীরা দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র ঘুরে দেখার অভূতপূর্ব সুযোগ পাবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের ফলে হংকং ওয়েস্ট কাউলুন স্টেশন থেকে সরাসরি যাওয়া যায় এমন গন্তব্যের সংখ্যা বেড়ে ১১০-এ দাঁড়াবে, যা আন্তসীমান্ত পরিবহন সংহতকরণের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
সূচিপত্র
- চীনের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে হংকংয়ের সংযোগে বড় সম্প্রসারণ
- নতুন গন্তব্যে খুলছে সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্য ও অর্থনৈতিক সুযোগের দুয়ার
- কুয়াংতুংয়ে সম্প্রসারণে জোরদার হচ্ছে আঞ্চলিক সংহতি
- সাংহাইগামী স্লিপার ট্রেন এখন প্রতিদিন
- জনপ্রিয় গন্তব্যে উন্নত পরিষেবা
- রেকর্ড গড়া নেটওয়ার্কে চীনের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হংকং
- মহামারির পর পুনরুদ্ধারে আন্তসীমান্ত ভ্রমণের নতুন অধ্যায়
- ভিসামুক্ত ট্রানজিট নীতিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আকর্ষণ বাড়ছে
- অর্থনৈতিক সংহতি ও পর্যটন বৃদ্ধি
- সম্প্রসারণের পেছনের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো
- ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও অব্যাহত উন্নয়ন
- এক নজরে
এই সম্প্রসারণে ইয়াংজি নদীর বদ্বীপ ও কুয়াংতুং প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর ফলে হংকং কৌশলগতভাবে চীনের ইতিহাসসমৃদ্ধ ও অর্থনৈতিকভাবে প্রাণবন্ত কয়েকটি শহরের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। নতুন গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে চিয়াংসু প্রদেশের নানচিং ও উশি এবং আনহুই প্রদেশের হেফেই। প্রতিটি শহরই হংকং থেকে যাওয়া যাত্রীদের জন্য আলাদা সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যবসার সুযোগ দেবে।
এমটিআর করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনি ইয়ং এই সম্প্রসারণের পেছনে যৌথ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
এমটিআর হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল ও মূল ভূখণ্ডের সরকারি বিভাগগুলোর পাশাপাশি মূল ভূখণ্ডের রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। এর লক্ষ্য, নিয়মিত নতুন গন্তব্য যুক্ত করা ও পরিষেবা উন্নত করা, আন্তসীমান্ত যাতায়াত সহজ করা, উচ্চগতির রেলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং জাতীয় উন্নয়নে সহায়তা করা।
ঘোষণাটিতে জনসাধারণের সাড়া ছিল ব্যাপক ইতিবাচক। নতুন গন্তব্যগুলোর ট্রেনে কয়েকটি শ্রেণির আসনের টিকিট বিক্রি শুরুর প্রথম দিনেই দ্রুত শেষ হয়ে যায়। ২৬ জানুয়ারি নানচিং নান স্টেশনের ট্রেনের বিজনেস ক্লাসের আসনগুলো বিকেলের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। এসব আসনের দাম ছিল ৩,১৩৬ হংকং ডলার (৪০২.৪০ মার্কিন ডলার)। প্রথম শ্রেণির মাত্র সাতটি আসন বাকি ছিল, প্রতিটির দাম ১,৬২৮ হংকং ডলার। বিপুল চাহিদা ভ্রমণের জন্য মানুষের জমে থাকা আগ্রহ এবং ব্যবসা ও অবকাশযাপনের জন্য সুবিধাজনক আন্তসীমান্ত যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে।
নতুন গন্তব্যে খুলছে সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্য ও অর্থনৈতিক সুযোগের দুয়ার
নতুন ১৬টি গন্তব্য বাছাই করা হয়েছে এমন শহর থেকে, যেগুলোতে হংকংয়ের বাসিন্দাদের যাওয়ার আকর্ষণীয় কারণ রয়েছে। চিয়াংসু প্রদেশে যাত্রীরা এখন প্রাচীন রাজধানী নানচিং ঘুরে দেখতে পারবেন। ‘ছয় রাজবংশের’ রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই শহরের রয়েছে গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব। দর্শনার্থীরা ছিনহুয়াই নদীতে রাতের নৌভ্রমণ করতে পারেন, বিখ্যাত লবণাক্ত হাঁসের মাংসের স্বাদ নিতে পারেন অথবা সান ইয়াত-সেন সমাধিসৌধে গিয়ে এর জাঁকজমকপূর্ণ স্থাপত্য ও প্রাচীন-আধুনিক বৈশিষ্ট্যের অনন্য মিশেল দেখতে পারেন।
চিয়াংসু প্রদেশের আরেক শহর উশি ‘থাইহু হ্রদের মুক্তা’ নামে পরিচিত এবং উচ্চগতির রেলে সহজেই সেখানে যাওয়া যায়। শহরটিতে চিয়াংনানের মনোরম জলপথ ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। হংকংয়ের ব্যস্ত নগরজীবন থেকে বিরতি খুঁজছেন, এমন মানুষের কাছে এটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। এই দুই শহর যুক্ত হওয়ায় চীনের অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর একটি, ইয়াংজি নদীর বদ্বীপের কেন্দ্রস্থলে সরাসরি যাওয়া যাবে।
আনহুই প্রদেশের হেফেইয়ে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে বাও ঝেং (যিনি ‘লর্ড বাও’ নামে পরিচিত) সম্পর্কিত সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং তিন রাজ্যের ইতিহাস। যাত্রীরা বাও গং পার্কে গিয়ে তাঁর সততা ও ন্যায়পরায়ণতার উত্তরাধিকার সম্পর্কে জানতে পারেন অথবা বিনহু জলাভূমি পার্কে হেঁটে হ্রদপাড় ও পাহাড়ের শান্ত দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। এই গন্তব্যগুলো ‘ব্যক্তিগত ভ্রমণ কর্মসূচি’র অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় হংকংয়ের পর্যটকদের জন্য সহজেই যাওয়া সম্ভব।
কুয়াংতুংয়ে সম্প্রসারণে জোরদার হচ্ছে আঞ্চলিক সংহতি
কুয়াংতুং প্রদেশে সম্প্রসারণের ফলে নতুন নয়টি স্টপ যুক্ত হচ্ছে: ছিংইয়ুয়ান, হুইদং, হুইঝৌ নান, শানথৌ নান, হুইলাই, লুফেং দং, লুফেং নান, ছাওনান ও শিংনিং নান। এসব গন্তব্য বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বাড়িয়ে হংকং ও প্রতিবেশী কুয়াংতুংয়ের শহরগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক জোরদার করবে। ছিংইয়ুয়ান যুক্ত হওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবহন নেটওয়ার্ক আরও সংহত হবে এবং আঞ্চলিক যাতায়াত হবে আরও নির্বিঘ্ন ও দক্ষ।
এর আগে নেটওয়ার্কে নতুন গন্তব্য যুক্ত হওয়ার ধারাবাহিকতায় এই সম্প্রসারণ ঘটছে। এর মধ্যে রয়েছে অক্টোবরে চালু হওয়া ঝানচিয়াংশি রুট, যা হংকংকে কুয়াংতুং প্রদেশের পাঁচটি গন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করে। সেগুলোর মধ্যে ছিল কুয়াংতুং-হংকং-মাকাও বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলের ১১টি শহরের একটি চিয়াংমেন, পাশাপাশি পশ্চিম কুয়াংতুংয়ের কাইপিং নান, ইয়াংচিয়াং, মাওমিং ও ঝানচিয়াং শি। নতুন গন্তব্য যুক্ত হওয়ায় হংকংয়ের উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক এখন বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি প্রধান শহর—শেনচেন, কুয়াংচৌ, ঝাওছিং, ফোশান, দোংগুয়ান, হুইঝৌ ও চিয়াংমেন—সরাসরি যাওয়ার সুবিধা দিচ্ছে।
কুয়াংতুংয়ের গন্তব্যগুলোর সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, কারণ হংকংয়ের সঙ্গে এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক সম্পর্ক গভীর। এমটিআর করপোরেশনের হংকং পরিবহন পরিষেবা পরিচালক জেনি ইয়ং বলেন, চিয়াংমেন ও কাইপিং অঞ্চলের প্রবাসী চীনা সম্প্রদায়ের সঙ্গে হংকংয়ের অনেক বাসিন্দা ও প্রবাসী চীনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চিয়াংমেনে জাতীয় পর্যায়ের একটি উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প উন্নয়ন অঞ্চল এবং তরুণদের উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমের কয়েকটি কেন্দ্র রয়েছে। এ কারণে পর্যটকদের পাশাপাশি ব্যবসায়িক যাত্রীদের কাছেও শহরটি আকর্ষণীয়।
সাংহাইগামী স্লিপার ট্রেন এখন প্রতিদিন
বিপুল চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এমটিআর করপোরেশন সাংহাইয়ের হংচিয়াও স্টেশনগামী স্লিপার ট্রেন পরিষেবায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। আগে শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সপ্তাহে চার জোড়া ট্রেন চলত। এখন প্রতিদিন ট্রেন চলবে, ফলে চীনের আর্থিক রাজধানীতে যাত্রার পরিকল্পনায় যাত্রীরা আরও বেশি নমনীয়তা পাবেন।
স্লিপার ট্রেনে ‘সন্ধ্যায় যাত্রা, সকালে পৌঁছানো’র সুবিধা রয়েছে। এতে যাত্রীরা গন্তব্যে বেশি সময় দিতে পারবেন এবং সতেজ অবস্থায় পৌঁছে দিনের কাজ শুরু করতে পারবেন। কয়েকটি ট্রেন নানছাংদং ও কানঝৌশি স্টেশনেও থামবে, যা বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়া যাত্রীদের আরও বেশি সংযোগের সুযোগ দেবে।
মাঝারি দূরত্বের যাত্রায় আকাশপথের বিকল্প হিসেবে রাতের রেলভ্রমণের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এই উন্নত পরিষেবায় রাতে থাকার জন্য আলাদা আবাসনের প্রয়োজন কমে এবং হংকং ও সাংহাই—এশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি আর্থিক কেন্দ্রের মধ্যে আরামদায়ক ও দক্ষ উপায়ে যাতায়াত করা যায়।
চালুর পর থেকেই স্লিপার ট্রেন পরিষেবা বেশ জনপ্রিয়। প্রতিদিন ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত যাত্রীদের চাহিদা পূরণ এবং সামগ্রিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উন্নত করার বিষয়ে এমটিআরের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। সপ্তাহের প্রতিদিন ট্রেন চলায় ব্যবসায়িক যাত্রী ও পর্যটকেরা সপ্তাহান্ত বা নির্দিষ্ট দিনের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই আরও সুবিধাজনক সময়সূচি বেছে নিতে পারবেন।
জনপ্রিয় গন্তব্যে উন্নত পরিষেবা
নতুন গন্তব্য ও স্লিপার ট্রেনের উন্নতির পাশাপাশি উচ্চগতির রেলে সামগ্রিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা বাড়াতে এমটিআর করপোরেশন আরও কিছু পরিষেবা উন্নত করেছে। হংকং ও কুয়াংচৌ নান স্টেশনের মধ্যে ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে। আগে ফুতিয়ান বা শেনচেন পেই স্টেশনে যেসব ট্রেনের যাত্রা শেষ হতো, সেগুলোর কয়েকটি এখন কুয়াংচৌ নান পর্যন্ত চলবে। এতে হংকং ওয়েস্ট কাউলুন স্টেশন ও কুয়াংচৌ নান স্টেশনের মধ্যে প্রতিদিন ট্রেনের জোড়ার সংখ্যা বেড়ে ৩৭ হবে, যা কুয়াংতুং প্রদেশের রাজধানী কুয়াংচৌয়ের সঙ্গে যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে।
কুয়াংচৌ নানে পৌঁছাতে মাত্র ৪৭ মিনিট লাগে। ব্যবসা বা অবকাশযাপনের জন্য কুয়াংচৌগামী অনেক যাত্রীর কাছে তাই এটি পছন্দের মাধ্যম। ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে যাত্রীরা আরও বেশি বিকল্প পাবেন, অপেক্ষার সময় কমবে এবং আন্তসীমান্ত যাতায়াত আগের চেয়ে সহজ হবে। দক্ষিণ চীনের প্রধান বাণিজ্যিক ও পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে কুয়াংচৌয়ের গুরুত্ব বিবেচনায় এই উন্নতি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
ছাওশান, শিয়ামেন ও ফুঝৌগামী পরিষেবাও উন্নত করা হয়েছে। শানথৌ ও হংকং ওয়েস্ট কাউলুন স্টেশনের মধ্যে প্রতিদিন ট্রেনের জোড়ার সংখ্যা বেড়ে পাঁচ হবে। কয়েকটি ট্রেন হুইয়াংদং, লুফেংদং ও শানথৌ নানসহ নতুন স্টেশনে থামবে। এ ছাড়া বর্তমানে হংকং ওয়েস্ট কাউলুন স্টেশন ও শিয়ামেনের মধ্যে প্রতিদিন চলাচলকারী তিন জোড়া ট্রেনের একটি ফুঝৌ পর্যন্ত চালানো হবে। ফলে পূর্ব কুয়াংতুং ও দক্ষিণ ফুজিয়ানে যাতায়াত আরও সহজ হবে।
রেকর্ড গড়া নেটওয়ার্কে চীনের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হংকং
এই পরিষেবা উন্নয়নের পর উচ্চগতির রেলে দূরপাল্লার, স্বল্পপাল্লার ও স্লিপার ট্রেন মিলিয়ে প্রতিদিন ১০৬ জোড়া ট্রেন চলবে। শুক্রবার, রবিবার ও সোমবার এই সংখ্যা বেড়ে ১০৭ জোড়া হবে; শনিবার চলবে সর্বোচ্চ ১০৯ জোড়া। ফলে প্রতিটি যাত্রায় যাত্রীরা পাবেন ব্যতিক্রমী নমনীয়তা ও সুবিধা।
এই বিস্তৃত নেটওয়ার্ক হংকংকে চীনের বিশাল উচ্চগতির রেল অবকাঠামোর সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত করেছে। এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং এতে যাত্রীসংখ্যাও সর্বোচ্চ। বিশ্বের মোট উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ চীনে। দেশটির নেটওয়ার্কের চালু রুটের দৈর্ঘ্য ৫০ হাজার কিলোমিটারের বেশি এবং তা সব প্রাদেশিক পর্যায়ের প্রশাসনিক অঞ্চল ও হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত।
চীনের উচ্চগতির রেলব্যবস্থায় বিভিন্ন শ্রেণির ট্রেন রয়েছে। জি-সিরিজের ট্রেন সবচেয়ে দ্রুত ও সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। এগুলো বিশেষভাবে নির্মিত উচ্চগতির রেললাইনে ঘণ্টায় প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে চলে। ডি-সিরিজের ট্রেন সাধারণত ঘণ্টায় ২০০-২৫০ কিলোমিটার গতিতে চলে। সি-সিরিজের ট্রেন স্বল্পদূরত্বের আন্তশহর রুটে চলাচল করে, সাধারণত ঘণ্টায় ২০০-৩৫০ কিলোমিটার গতিতে। বিভিন্ন ধরনের ট্রেনের কারণে প্রতিবেশী শহরের মধ্যে স্বল্প যাত্রা থেকে শুরু করে একাধিক প্রদেশ পেরিয়ে দূরপাল্লার ভ্রমণ—বিভিন্ন চাহিদা দক্ষতার সঙ্গে মেটাতে পারে এই নেটওয়ার্ক।
এই বিশাল নেটওয়ার্কে হংকংয়ের অন্তর্ভুক্তি মূল ভূখণ্ড চীনের সঙ্গে শহরটির সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে। এটি ব্যবসায়িক যোগাযোগ সহজ করে, পর্যটন বাড়ায়, পারিবারিক সম্পর্ক জোরদার করে এবং বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সংহতিতে অবদান রাখে। হংকং ওয়েস্ট কাউলুন স্টেশন থেকে সরাসরি ১১০টি গন্তব্যে যাওয়ার সুবিধা হংকংয়ের বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মূল ভূখণ্ড চীনকে দেখার অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আনবে।
মহামারির পর পুনরুদ্ধারে আন্তসীমান্ত ভ্রমণের নতুন অধ্যায়
হংকংয়ে কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব কাটিয়ে ওঠার ধারাবাহিকতার মধ্যেই সর্বশেষ সম্প্রসারণের ঘোষণা এসেছে। মহামারির কারণে প্রায় তিন বছর আন্তসীমান্ত যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি বন্ধ হওয়ার পর ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি হংকং ও মূল ভূখণ্ড চীনের মধ্যে উচ্চগতির রেল পরিষেবা আবার চালু হয়। পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়া ছিল সীমান্ত ধীরে ধীরে খুলে দেওয়া এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার বিষয়ে হংকং সরকারের নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
মহামারির বছরগুলোতে সুবিধাজনক আন্তসীমান্ত যাতায়াতের বিকল্প না থাকায় সীমান্ত বিধিনিষেধে বিচ্ছিন্ন পরিবার, মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসা এবং পর্যটনশিল্প বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ায় মূল ভূখণ্ডে পরিবার, বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী যাত্রীরা স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেন। ট্রেনে ওঠার আগে হংকংয়ের ওয়েস্ট কাউলুন স্টেশনে সীমান্ত পরীক্ষা করাতে আসা কয়েক ডজন যাত্রীর একজন, ৩৩ বছর বয়সী মাং লি, অনেক যাত্রীর অনুভূতিই তুলে ধরেন।
উচ্চগতির রেল আবার চালু হওয়ায় আমাদের যাতায়াত অনেক সুবিধাজনক হয়েছে, আর বাড়ির আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। গত তিন বছর মহামারির কারণে চীনে প্রবেশের কোনো উপায়ই সহজ ছিল না।
শুরুতে শুধু স্বল্পদূরত্বের যাত্রা চালু হয়েছিল; পরে ধাপে ধাপে দূরপাল্লার পরিষেবা ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমান সম্প্রসারণ মহামারির আগের পরিষেবাগুলো পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা ও উন্নত করার প্রতিফলন। এতে আন্তসীমান্ত পরিবহন নেটওয়ার্কের স্থিতিস্থাপকতা এবং হংকং ও মূল ভূখণ্ড চীনের মধ্যে যোগাযোগের প্রবল চাহিদা স্পষ্ট হয়েছে।
মহামারি-পরবর্তী সময়ে ওয়েস্ট কাউলুন স্টেশনে ভ্রমণ অভিজ্ঞতারও উন্নতি হয়েছে। টিকিট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনে কাগজের টিকিটের বদলে ই-টিকিট চালু করা হয়েছে। ভ্রমণসংক্রান্ত নথির সঙ্গে এই টিকিট যুক্ত থাকে। ফলে যাত্রীরা শুধু ভ্রমণ নথি দেখিয়েই গেট পার হয়ে ট্রেনে উঠতে পারেন, যা চীনের উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কজুড়ে ব্যবহৃত দক্ষ ব্যবস্থার অনুরূপ।
ভিসামুক্ত ট্রানজিট নীতিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আকর্ষণ বাড়ছে
বিস্তৃত উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কের সুবিধার পাশাপাশি চীনের জাতীয় অভিবাসন প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, ২৪০ ঘণ্টার (১০ দিনের) ভিসামুক্ত ট্রানজিট কর্মসূচিতে আন্তসীমান্ত ওয়েস্ট কাউলুন উচ্চগতির রেল টার্মিনালকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৬ নভেম্বর থেকে কার্যকর এই নীতির আওতায় ৫৫টি যোগ্য দেশের যাত্রীরা হংকংয়ে বিমানে বা উচ্চগতির ট্রেনে আসতে পারবেন, নতুন বন্দর দিয়ে সীমান্ত পার হতে পারবেন এবং তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার আগে মূল ভূখণ্ডের ২৪টি প্রদেশের যেকোনো স্থানে সর্বোচ্চ ১০ দিন থাকতে পারবেন।
নীতির এই পরিবর্তনে হংকং হয়ে যাতায়াতকারী আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য বহু-গন্তব্যের নতুন ভ্রমণসূচি তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগে থেকে পূর্ণ ভিসা না নিয়েই তাঁরা এখন দক্ষিণ চীনের বিভিন্ন শহর ঘুরতে পারবেন। এতে কুয়াংচৌ, শেনচেন এবং সদ্য যুক্ত হওয়া নানচিং, উশি ও হেফেইয়ের মতো গন্তব্যে যাওয়া সহজ হবে। হংকংয়ের পর্যটন কর্মকর্তারা আরও বেশি যাত্রাবিরতির যাত্রী আকর্ষণ এবং ‘ভিসামুক্ত চীন ভ্রমণের সংক্ষিপ্ত বিরতি’র প্রবেশদ্বার হিসেবে শহরটিকে প্রতিষ্ঠিত করার আশা করছেন।
করপোরেট ভ্রমণ পরিকল্পনাকারী ও ব্যবসায়িক যাত্রীদের জন্য এই পরিবর্তনে হংকং ও মূল ভূখণ্ড চীনের গন্তব্য মিলিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা সহজ হবে। কর্মসূচিতে ভিসার প্রয়োজন না থাকলেও যাত্রীদের ২৪০ ঘণ্টার মধ্যে নির্ধারিত তারিখসহ পরবর্তী যাত্রার টিকিট সঙ্গে রাখতে হবে এবং পৌঁছানোর পর সংক্ষিপ্ত একটি ফরম পূরণ করতে হবে। বৈঠক ও কর্মস্থল পরিদর্শনের মতো ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অনুমতি রয়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যাত্রীদের জন্য এটি আকর্ষণীয় বিকল্প।
অর্থনৈতিক সংহতি ও পর্যটন বৃদ্ধি
উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে হংকং এবং যুক্ত হওয়া মূল ভূখণ্ডের গন্তব্যগুলোর উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুফল আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে ব্যবসায়িক বিনিময় সহজ হয়, পর্যটন উৎসাহিত হয় এবং হংকং ও মূল ভূখণ্ডের শহরগুলোর অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়।
হংকংয়ের জন্য মূল ভূখণ্ডের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে উন্নত যোগাযোগ আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে শহরটির ভূমিকা আরও শক্তিশালী করবে। এর ফলে চীনের বিভিন্ন বাজার, সরবরাহকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারের কাছে পৌঁছানো সহজ হবে। শক্তিশালী শিল্পভিত্তির নানচিং এবং বড় প্রযুক্তি ও উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হওয়া হেফেইয়ের মতো শহরে দ্রুত ও সুবিধাজনকভাবে যাওয়ার সুযোগ হংকংয়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে নতুন সম্ভাবনা খুলে দেবে।
মূল ভূখণ্ডের গন্তব্যগুলোর জন্য হংকং থেকে সরাসরি যোগাযোগ পর্যটক, ব্যবসায়িক দর্শনার্থী ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আসবে। সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আধুনিক অর্থনৈতিক বিকাশের কারণে নানচিং ও উশির মতো শহর হংকং এবং প্রবেশদ্বার হিসেবে হংকং ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যা বাড়লে বিশেষভাবে লাভবান হবে।
সম্প্রসারণে অন্তর্ভুক্ত কুয়াংতুংয়ের গন্তব্যগুলো চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সংহতি জোরদার করবে। রেল যোগাযোগ উন্নত হলে এক শহরে বসবাস করে অন্য শহরে কাজ করা সহজ হবে, পণ্য ও পরিষেবার প্রবাহ বাড়বে এবং আরও ঐক্যবদ্ধ আঞ্চলিক অর্থনীতি গড়ে উঠবে। বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সম্প্রসারণের পেছনের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো
নেটওয়ার্কের এই সম্প্রসারণ সফলভাবে বাস্তবায়নে উন্নত অবকাঠামো ও প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চীনের উচ্চগতির রেলব্যবস্থায় উন্নত রেলপথ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যাতে ট্রেনগুলো উচ্চগতিতে নিরাপদে চলতে পারে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন হলো ব্যাপকভাবে ব্যালাস্টবিহীন রেলপথের ব্যবহার। এতে প্রচলিত নুড়িপাথরের ভিত্তির বদলে শক্ত কংক্রিটের স্ল্যাব ব্যবহার করা হয়। এই রেলপথে যাত্রা হয় মসৃণ, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমে এবং ঘন ঘন চলাচলকারী ভারী ট্রেন সামলানো যায়।
ওয়েস্ট কাউলুন স্টেশন নিজেই প্রকৌশলের এক অসাধারণ নিদর্শন। বিশ্বের বৃহত্তম ভূগর্ভস্থ স্টেশন হিসেবে এটি হংকংয়ের উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কের কেন্দ্র। স্টেশনটিতে পাঁচটি তলা রয়েছে। জি১, বি১ ও বি২ স্তরে যথাক্রমে তলাভিত্তিক লবি, টিকিট কাউন্টার ও আগমন কনকোর্স রয়েছে। উড়াল সেতু বা পথচারী সুড়ঙ্গ দিয়ে স্টেশনটি এমটিআরের তুয়েন মা লাইনের অস্টিন স্টেশন এবং তুং চুং লাইন/এয়ারপোর্ট এক্সপ্রেসের কাউলুন স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে হংকংয়ের স্থানীয় পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে নির্বিঘ্ন সংযোগ নিশ্চিত হয়।
স্টেশনটি প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। স্টেশনজুড়ে ইংরেজি সাইনবোর্ড থাকায় যাত্রীরা সহজে চলাচল করতে পারেন, ফলে আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা হয় নির্বিঘ্ন ও ঝামেলামুক্ত। স্টেশনটির নকশা ও পরিচালনায় আধুনিক চীনা উচ্চগতির রেল অবকাঠামোর বৈশিষ্ট্য—উচ্চ দক্ষতা ও সুবিধা—প্রতিফলিত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও অব্যাহত উন্নয়ন
বর্তমান সম্প্রসারণ হংকংয়ের উচ্চগতির রেল যোগাযোগের চলমান উন্নয়নের একটি পর্যায়। চাহিদা বাড়তে থাকলে এবং মূল ভূখণ্ড চীনে নতুন উচ্চগতির রেললাইন সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। চীনের উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক বিস্তারের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা থামার লক্ষণ নেই। ২০৩০ সালের মধ্যে নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য ৬০ হাজার কিলোমিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মূল ভূখণ্ড চীনের সঙ্গে সংহতি জোরদার করার ধারাবাহিকতায় মানুষ, ব্যবসা ও অর্থনীতির সংযোগে উচ্চগতির রেল ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। হংকং ও মূল ভূখণ্ডের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বাস্তব প্রতিফলন এই রেল সংযোগ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পারস্পরিক বোঝাপড়ায় সহায়ক বিনিময়কে এটি সহজ করে।
উচ্চগতির রেল সংযোগের সাফল্য হংকং ও মূল ভূখণ্ড চীনের মধ্যে আরও অবকাঠামোগত সহযোগিতার সম্ভাবনাও তুলে ধরে। ভবিষ্যতে নতুন রেল সংযোগ, উন্নত সীমান্তসুবিধা এবং পরিবহনব্যবস্থার আরও সংহতকরণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হতে পারে, যাতে আন্তসীমান্ত যাতায়াত আরও নির্বিঘ্ন ও দক্ষ হয়।
এক নজরে
- ২৬ জানুয়ারি থেকে হংকংয়ের উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কে ১৬টি নতুন গন্তব্য যুক্ত হচ্ছে। সরাসরি যাওয়া যায় এমন মোট গন্তব্যের সংখ্যা বেড়ে হবে ১১০।
- নতুন গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে চিয়াংসু প্রদেশের নানচিং ও উশি, আনহুই প্রদেশের হেফেই এবং কুয়াংতুং প্রদেশের নয়টি স্টপ।
- বিপুল চাহিদার কারণে সাংহাই হংচিয়াওগামী স্লিপার ট্রেনের পরিষেবা সপ্তাহে চার জোড়া থেকে বাড়িয়ে প্রতিদিন করা হচ্ছে।
- নতুন রুটের টিকিট বিক্রির প্রথম দিনেই দ্রুত শেষ হয়ে যায়, যা জনসাধারণের প্রবল আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
- সম্প্রসারণে ইয়াংজি নদীর বদ্বীপ ও বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ছে।
- পরিষেবা উন্নয়নের পর দিনে ১০৬-১০৯ জোড়া ট্রেন চলবে, যা দিনের ওপর নির্ভর করবে।
- এই নেটওয়ার্ক হংকংকে চীনের ৫০ হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ, বিশ্বের বৃহত্তম উচ্চগতির রেলব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছে।
- আন্তসীমান্ত যাতায়াতে কোভিড-১৯ মহামারির বিঘ্ন কাটিয়ে হংকংয়ের পুনরুদ্ধারের সময় এই সম্প্রসারণ ঘটছে।
- ২৪০ ঘণ্টার ভিসামুক্ত ট্রানজিট নীতিতে এখন ওয়েস্ট কাউলুন স্টেশন অন্তর্ভুক্ত, যা আন্তর্জাতিক যাত্রীদের সুবিধা দেবে।
- উন্নত যোগাযোগ হংকং ও মূল ভূখণ্ড চীনের অর্থনৈতিক সংহতি, পর্যটন বৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক বিনিময়ে সহায়তা করবে।






