আটলান্টিকের দুই পাড়ে চিপ নিয়ে বিরোধে উৎপাদন লাইন বন্ধ
উত্তর আমেরিকা ও জাপানের কিছু অংশে হোন্ডা মোটরের সংযোজন লাইনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ক্রমবর্ধমান করপোরেট বিরোধের সবচেয়ে দৃশ্যমান ক্ষতির ঘটনা এটি। নেক্সপেরিয়ার সরবরাহ করা যন্ত্রাংশের তীব্র সংকটের কারণে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটিকে মেক্সিকোর কারখানায় উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় কার্যক্রম সমন্বয় করতে হয়েছে। নেক্সপেরিয়ার চীনা ইউনিট ও ডাচ মূল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তীব্র আইনি ও কার্যক্রমসংক্রান্ত অচলাবস্থার জেরে এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিরোধটি এখন ইউরোপ, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের নজর কেড়েছে।
সূচিপত্র
বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু গুয়াংডং প্রদেশের দংগুয়ান উৎপাদনকেন্দ্র, যা ঐতিহাসিকভাবে নেক্সপেরিয়ার মোট উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশের জন্য দায়ী। কার ও শিল্প খাতের চিপ উৎপাদনে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কারখানা। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক গাড়ি শিল্পে জরুরি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিরোধ যত বাড়ছে, উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকছে। এতে ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, যা পুরোনো প্রজন্মের চিপ সরবরাহব্যবস্থাকে নতুন রূপ দিতে এবং শেষ পর্যন্ত কোম্পানিটিকে পুরোপুরি ভাগ করে দিতে পারে।
অর্থ পরিশোধ ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে করপোরেট অচলাবস্থা
শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর সাংহাইয়ে এক শেয়ারহোল্ডার সভায় নেক্সপেরিয়া চীনের মালিক উইংটেক টেকনোলজি সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে। কোম্পানিটির অভিযোগ, সরবরাহ করা উপকরণের মূল্য পরিশোধে চীনা ইউনিট অস্বীকৃতি জানানোর পর নিজমেগেনের নেদারল্যান্ডসের প্রধান কার্যালয় ২৯ অক্টোবর ওয়েফার পাঠানো বন্ধ করে দেয়। উইংটেকের আরও অভিযোগ, ডাচ পক্ষ অভ্যন্তরীণ তহবিল স্থানান্তরে বিধিনিষেধ আরোপ করে, যা কার্যক্রমের ওপর চাপ আরও বাড়ায়।
ডাচ মূল কোম্পানির বক্তব্য, চুক্তি লঙ্ঘন ও পরিচালনাগত সমস্যার কারণে তারা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। এই আর্থিক বিরোধ বিচ্ছিন্নভাবে ঘটেনি। এর আগে সেপ্টেম্বরে ডাচ সরকার আকস্মিক হস্তক্ষেপ করে। সে সময় অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৯৫২ সালের পণ্যপ্রাপ্যতা আইন প্রয়োগ করে ডাচ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির সাময়িক নিয়ন্ত্রণ নেয়। সরকার জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে এবং সরকারি অনুমতি ছাড়া এক বছরের জন্য নেক্সপেরিয়ার সম্পদ স্থানান্তরে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
ওয়েফার সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর নেক্সপেরিয়া চীন নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। চীনা ইউনিটটি ইউরোপীয় ব্যবস্থাপনা থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে এবং দেশীয় ওয়েফার সরবরাহকারীদের যাচাই শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যে শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে নেদারল্যান্ডসকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে একটি সমান্তরাল সরবরাহব্যবস্থা তৈরি হবে।
কার্যক্রমে প্রভাব ও গাড়ি নির্মাতাদের বিকল্প ব্যবস্থা
উইংটেকের ভাষায়, ওয়েফার সরবরাহে “উল্লেখযোগ্য ঘাটতি” থাকা সত্ত্বেও দংগুয়ান কারখানাটি কম মাত্রায় উৎপাদন চালিয়ে যেতে পেরেছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে কারখানাটি বিশ্বজুড়ে ৮০০টিরও বেশি গ্রাহকের কাছে ১১ বিলিয়নের বেশি চিপ উৎপাদন ও সরবরাহ করেছে। উৎপাদনের এই পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হলেও বিরোধের আগের সময়ে নেক্সপেরিয়ার বছরে ১১০ বিলিয়নের বেশি যন্ত্র উৎপাদনের তুলনায় এটি ১৪ শতাংশ কম।
এই বিঘ্নের ফলে নিম্নমুখী সরবরাহব্যবস্থায় থাকা গাড়ি নির্মাতারা ইতিমধ্যে বাস্তব ক্ষতির মুখে পড়েছে। উত্তর আমেরিকায় হোন্ডার সাময়িক উৎপাদন বন্ধ হওয়া কেবল শুরু। প্রতিষ্ঠানটি জাপানের কয়েকটি কারখানায় ৫ ও ৬ জানুয়ারি আরও উৎপাদন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। উৎপাদন কমিয়ে চালানোর অবস্থা ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিল্প বিশ্লেষকদের সতর্কতা, ভক্সওয়াগেনসহ অন্যান্য গাড়ি নির্মাতা এবং বশ ও হেলার মতো বড় সরবরাহকারীদের গ্রাহকেরাও সংকটে পড়ছেন।
ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কিছু গাড়ি নির্মাতা ও যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী জটিল একটি বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা বিবেচনা করছে। এই ব্যবস্থায় গ্রাহকেরা ইউরোপে নেক্সপেরিয়ার হামবুর্গ কারখানা থেকে সরাসরি সিলিকন ওয়েফার কিনবেন, আলাদা পরিবহনের ব্যবস্থা করে সেগুলো চীনে পাঠাবেন, এরপর চূড়ান্ত প্যাকেজিংয়ের জন্য দংগুয়ান কারখানার সঙ্গে চুক্তি করবেন। এতে নেক্সপেরিয়ার ইউরোপীয় ও চীনা বিভাগকে পৃথক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যাতে প্রত্যেকে তাদের নির্দিষ্ট অবদানের জন্য অর্থ পায়।
নেক্সপেরিয়ার এক পণ্য পরিবেশক সংবাদমাধ্যমকে জানান, অনেক কোম্পানি বর্তমানে এই ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। কিছু কোম্পানি ইতিমধ্যে নেক্সপেরিয়া ইউরোপ থেকে ওয়েফার কিনে চীনা ইউনিটকে দিচ্ছে, যাতে উৎপাদনের নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ পাওয়া যায়। বড় গ্রাহকদের তাৎক্ষণিক সরবরাহ-উদ্বেগ সামলাতে এই অস্থায়ী ব্যবস্থা কাজে এলেও, জটিল আন্তর্জাতিক পরিবহন সমন্বয়ের মতো দর-কষাকষির ক্ষমতা না থাকায় ছোট গাড়ি-যন্ত্রাংশ সরবরাহকারীদের জন্য এটি কার্যকর সমাধান নয়।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
করপোরেট অচলাবস্থা দ্রুত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ডাচ সরকারের হস্তক্ষেপের পর চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জারি করে। এতে নেক্সপেরিয়া চীন ও এর উপঠিকাদারদের নির্দিষ্ট কিছু তৈরি যন্ত্রাংশ ও উপ-সংযোজন রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। গত মাসে দুই সরকারই এসব ব্যবস্থা শিথিল করলেও মূল উত্তেজনা এখনো মেটেনি।
৭ অক্টোবর ডাচ এন্টারপ্রাইজ চেম্বারে জরুরি শুনানির পর নেক্সপেরিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝাং শুয়েঝেংকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি উইংটেকের প্রতিষ্ঠাতাও। আদালত উইংটেকের হাতে থাকা সব ভোটাধিকার একজন স্বাধীন প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে দেয়। পরে নেক্সপেরিয়া অর্থ বিভাগের প্রধান স্টেফান টিলগারকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ করে, তবে আইনি লড়াই এখনো অনেক বাকি। উইংটেক জানিয়েছে, বৃহত্তর বিরোধ নিয়ে জানুয়ারিতে নেদারল্যান্ডসে আদালতে শুনানি হবে।
আটলান্টিকের ওপারে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা-বিষয়ক প্রতিনিধি পরিষদের বিশেষ কমিটির জ্যেষ্ঠ সংখ্যালঘু সদস্য কংগ্রেস সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিককে লেখা এক চিঠিতে কৃষ্ণমূর্তি সতর্ক করেছেন, এই সংকট পুরোনো প্রজন্মের সেমিকন্ডাক্টর সংগ্রহব্যবস্থার গভীর দুর্বলতা প্রকাশ করছে।
নেক্সপেরিয়া চীনের দেশীয় সরবরাহকারীদের দিকে ঝুঁকে পড়ায় সৃষ্ট একটি নির্দিষ্ট ঝুঁকির কথা কংগ্রেস সদস্য উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের গাড়ি শিল্পে এসব চিপ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। যাচাই না করা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে চিপ নেওয়া শুরু হলে নিরাপত্তা সনদ, মান নিয়ন্ত্রণ ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হবে। চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের ফলে গাড়ির নিরাপত্তা ও পণ্য প্রত্যাহারের ঝুঁকিতে সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়নের জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
দেশীয় সরবরাহকারীদের দিকে চীনের ঝোঁক
এই বিরোধের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য নেক্সপেরিয়া চীনের স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থায় দ্রুত রূপান্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্সের দেখা একটি নথি অনুযায়ী, চীনা ইউনিটটি তাদের গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ২০২৬ সালের পুরো উৎপাদনের জন্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠান থেকে সিলিকন ওয়েফার সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। এর লক্ষ্য ইনসুলেটেড-গেট বাইপোলার ট্রানজিস্টর (আইজিবিটি) পাওয়ার চিপ ও মডিউল, যা বৈদ্যুতিক যান ও শিল্প সরঞ্জামে বিদ্যুৎপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের সুইচ হিসেবে কাজ করে।
কোম্পানির ভাষায়, “পর্যাপ্ত সরবরাহ” নিশ্চিত করতে উইংটেক নিজেদের ফাউন্ড্রি উইংস্কাই সেমির ওয়েফার যাচাইয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। উইংস্কাই সেমি ১২ ইঞ্চি আকারের গাড়ি-শিল্পের উপযোগী আইজিবিটি ওয়েফার সরবরাহ করবে। সাংহাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনকেন্দ্রের মাসিক উৎপাদনক্ষমতা বর্তমানে ৩০ হাজার ওয়েফার। উইংস্কাই সেমির পাশাপাশি নেক্সপেরিয়া চীন সাংহাই গ্যাট সেমিকন্ডাক্টর এবং ইউনাইটেড নোভা টেকনোলজি কোম্পানির কাছ থেকেও ৮ ইঞ্চি আইজিবিটি ওয়েফারের সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। ইউনাইটেড নোভা সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশনের (এসএমআইসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি উৎপাদনকারখানা।
তবে ওয়াশিংটনে ঠিক এই দেশীয় সরবরাহকারীদের নিয়েই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস সদস্য কৃষ্ণমূর্তির চিঠিতে উক্সি এনসিই পাওয়ার, হাংঝৌ সিলান মাইক্রোইলেকট্রনিকস, ইয়াংজি টেকনোলজি এবং উইংস্কাই সেমির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা বা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকি আছে কি না, তা নির্ধারণ করাই এর লক্ষ্য।
চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য এই পরিবর্তন টিকে থাকার কৌশল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানান, দংগুয়ান কারখানায় ওয়েফারের মজুত কমে যাওয়ায় দেশীয় গাড়ি নির্মাতারা সংকটে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে লজিক ডিভাইস, ট্রানজিস্টর ও ডায়োডের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এগুলো নেক্সপেরিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্য। এ ঘাটতির ফলে শিল্পটি এক নতুন বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে চীনের উৎপাদন ক্রমেই চীনা উপকরণের ওপর নির্ভরশীল হবে।
আইনি পরিণতি ও সরবরাহব্যবস্থার ভবিষ্যৎ
এই বিচ্ছেদের আর্থিক ঝুঁকি বিপুল। উইংটেকের এক প্রতিনিধি রাষ্ট্রসমর্থিত সাংহাই সিকিউরিটিজ নিউজকে বলেন, ডাচ সরকারের হস্তক্ষেপ ২০০১ সালের দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি লঙ্ঘন করতে পারে। ছয় মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে ৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কোম্পানিটি।
সাম্প্রতিক করপোরেট ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ক্ষতিপূরণ দাবিতে পরিণত হতে পারে এই অঙ্ক। বৈশ্বিক নেক্সপেরিয়া ব্যবস্থায় চীনা কার্যক্রমের মূল্য কতটা, তা এ থেকে বোঝা যায়। জানুয়ারির আইনি কার্যক্রমে নির্ধারিত হতে পারে কোম্পানিটি আবার একীভূত হবে, নাকি স্থায়ী বিভাজন অনিবার্য।
তাৎক্ষণিক সংকটের বাইরেও শিল্পটি ইতিমধ্যে বিভক্ত বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। নেক্সপেরিয়ার ইউরোপীয় শাখা মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে প্যাকেজিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে, যাতে দংগুয়ানের ওপর নির্ভরতা কমানো যায়। অন্যদিকে, চীনা ইউনিট উইংস্কাই সেমি ও সাংহাই গ্যাটের মতো স্থানীয় চিপ কারখানার সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করছে।
কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করতে জানুয়ারির শুরুর দিকে নেদারল্যান্ডসের একটি প্রতিনিধি দল চীন সফরে যাবে। অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী ভিনসেন্ট কারেমানস বলেন, রপ্তানি বিধিনিষেধ শিথিল করার চীনের সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক রয়েছেন। এসব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সরবরাহব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তনগুলো ফিরিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে। গাড়ি নির্মাতারা এখন যে “বিকল্প ব্যবস্থা” ব্যবহার করছে, তা সহজেই আগামী দিনের প্রমিত কার্যপদ্ধতিতে পরিণত হতে পারে। ফলে বৈশ্বিক গাড়ি শিল্পে যন্ত্রাংশের দুটি স্বতন্ত্র ও পৃথক সরবরাহব্যবস্থা তৈরি হবে।
মূল কথা
- ডাচ মূল কোম্পানির ওয়েফারের বিকল্প হিসেবে নেক্সপেরিয়া চীন উইংস্কাই সেমি ও সাংহাই গ্যাটের মতো নতুন দেশীয় সরবরাহকারীদের যাচাই করছে; ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ সরবরাহ নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।
- বিরোধের কারণে নেক্সপেরিয়া চীনের উৎপাদন ১৪ শতাংশ কমেছে। এতে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও জাপানে হোন্ডার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়েছে।
- জাতীয় নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে ডাচ সরকার সেপ্টেম্বরে নেক্সপেরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেয়। জবাবে চীন তৈরি চিপ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।
- অভ্যন্তরীণ অবরোধ এড়াতে গাড়ি নির্মাতারা নেক্সপেরিয়ার ইউরোপীয় কারখানা থেকে ওয়েফার কিনে প্যাকেজিংয়ের জন্য চীনে পাঠানোর বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছে।
- যাচাই না করা চীনা সরবরাহকারীরা গাড়ির সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত হলে নিরাপত্তা ও মানের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বেগ জানিয়েছেন।
- দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে ডাচ সরকারের বিরুদ্ধে ৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সালিশি দাবির হুঁশিয়ারি দিয়েছে উইংটেক।






