ফোনকলের নতুন ধরন
জীবনের বেশির ভাগ সময় আলফ্রেড ইওর কাছে আসা ফোনকলের অর্থ ছিল আর কোনো পথ নেই। পাঁচ বছর বয়স থেকে বধির ইও ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তির কথা শুনতে পারতেন না, ব্যাংক কর্মকর্তার প্রশ্নের উত্তর দিতে বা কোনো সংস্থার হটলাইনের সমস্যার সমাধান করতে পারতেন না। এখন তিনি ফোন ধরতে ও জবাব দিতে পারেন। সিঙ্গাপুরে তৈরি অ্যাপ কলব্রিজ বধির ব্যবহারকারীর জন্য কথাকে লেখায় রূপান্তর করে এবং টাইপ করা উত্তরকে স্পষ্ট কণ্ঠে শোনায়, যাতে শ্রবণক্ষম ব্যক্তি তা শুনতে পান। ফোনে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে অনেক বধির ও শ্রবণ-প্রতিবন্ধী মানুষের পথে যে মৌলিক বাধা ছিল, অ্যাপটি তা দূর করে।
সূচিপত্র
- ফোনকলের নতুন ধরন
- কলব্রিজ যেভাবে কাজ করে
- মূল সুবিধা
- কল চলাকালে
- সিঙ্গাপুরের কেন নিজস্ব সমাধান দরকার ছিল
- কমিউনিটির মানুষের কথা
- কল কেটে দেওয়া ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া কমানো
- কোথায় পাওয়া যাবে, এরপর কী
- অন্যান্য প্রবেশগম্যতার বিকল্পের সঙ্গে তুলনা
- যেসব চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে
- সিঙ্গাপুরে প্রবেশগম্যতার জন্য এর তাৎপর্য
- মূল বিষয়গুলো
ফোন এলে অ্যাপটি ব্যবহারকারীকে জানায়, অপর ব্যক্তি কী বলছেন তা তাৎক্ষণিকভাবে লিখে দেখায় এবং বধির ব্যবহারকারীকে এমন উত্তর টাইপ করতে দেয়, যা কৃত্রিম কণ্ঠে পড়ে শোনানো হয়। কলব্রিজ ব্যবহারকারী নিজে ফোন করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি প্রথমে একটি ভদ্র পরিচিতি বার্তা শোনেন। এতে জানানো হয়, তিনি একজন বধির ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছেন এবং ব্যবহারকারী টাইপ করার সময় একটু বেশি অপেক্ষা করতে হতে পারে। এই সামান্য তথ্য ভুল-বোঝাবুঝি কমায় এবং মানুষকে ফোনে ধরে রাখতে সাহায্য করে বলে দেখা গেছে।
সিঙ্গাপুরে অনেক মানুষ এ সুবিধা পেতে পারেন। সিঙ্গাপুর অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ডেফের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কোনো না কোনো মাত্রায় শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে। অথচ সংস্থাটিতে নিবন্ধিত আছেন মাত্র প্রায় ৫,৪০০ জন। অনেক সেবা এখনো পরিচয় যাচাই, সহায়তা বা জরুরি প্রয়োজনে ফোনকলের ওপর নির্ভরশীল। বধির ব্যবহারকারীদের জন্য এর অর্থ হতে পারে দীর্ঘ অপেক্ষা অথবা অন্যের ওপর নির্ভর করা। গোপনীয়তা ও স্বনির্ভরতা বজায় রেখে তাঁদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দিতে চায় কলব্রিজ।
কলব্রিজ যেভাবে কাজ করে
কথাকে লেখায় এবং লেখাকে কথায় রূপান্তরের প্রযুক্তি মিলিয়ে কলব্রিজ বধির ব্যবহারকারীকে স্বাভাবিকভাবে ফোনে কথা বলার সুযোগ দেয়। কথোপকথনের দুই দিকই সামলায় অ্যাপটি। বধির ব্যবহারকারীর পর্দায় বলা কথাগুলো লেখা হিসেবে দেখা যায়। শ্রবণক্ষম ব্যক্তির কাছে বধির ব্যবহারকারীর টাইপ করা উত্তর স্বাভাবিক কণ্ঠে পৌঁছায়। লক্ষ্য হলো, এই ফোনকলগুলোকে যতটা সম্ভব সাধারণ ফোনকলের মতো করে তোলা।
মূল সুবিধা
- পরিচিতি বার্তা: প্রতিটি কলের শুরুতে স্বয়ংক্রিয় পরিচিতি বার্তায় জানানো হয়, কলকারী কলব্রিজ ব্যবহার করছেন এবং টাইপ করতে তাঁর একটু সময় লাগতে পারে।
- দ্রুত উত্তর: প্রচলিত প্রশ্নের জবাব দ্রুত দিতে ব্যবহারকারীরা আগে থেকে ছোট বাক্য নির্ধারণ করে রাখতে পারেন।
- নম্বর প্যাড সুবিধা: অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয় কল সেন্টারের সঙ্গেও কাজ করে, যেখানে কলকারীকে নম্বর চাপতে বলা হয়। ফলে কণ্ঠনির্ভর ইনপুট গ্রহণ করে না এমন মেনুতেও ব্যবহারকারীরা চলাচল করতে পারেন।
- স্বাভাবিক স্থানীয় কণ্ঠ: সিঙ্গাপুরের মানুষের মতো শোনায় এমন কণ্ঠ তৈরি করতে দলটি ElevenLabs-এর সঙ্গে কাজ করেছে। এতে যান্ত্রিক কণ্ঠের কারণে শুরুতেই কল কেটে দেওয়ার ঘটনা কমেছে।
- টাইপের শব্দ: বিরতির সময় উত্তর আসছে—এ আশ্বাস দিতে ঐচ্ছিকভাবে কি-বোর্ডে চাপ দেওয়ার শব্দ শোনানো যায়।
কল চলাকালে
- ফোন এলে একটি পুশ নোটিফিকেশন আসে। ব্যবহারকারী সেটিতে ট্যাপ করে অ্যাপে কল ধরেন।
- কলকারীর বলা কথা তাৎক্ষণিকভাবে লিখে দেখানো হয়। বধির ব্যবহারকারী তা পড়ে উত্তর টাইপ করেন।
- অ্যাপটি ওই লেখা কথায় রূপান্তর করে। শ্রবণক্ষম ব্যক্তি সাধারণ ফোনকলের মতোই তা শোনেন।
- বধির ব্যবহারকারী ফোন করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি প্রথমে পরিচিতি বার্তা শোনেন। এতে ব্যবহারকারী টাইপ করার সময় ধৈর্য ধরতে উৎসাহিত হন।
এই সুবিধাগুলো একসঙ্গে কাজ করে কথোপকথন সচল রাখে। দৈনন্দিন কথাবার্তা লিখে দেখায় ট্রান্সক্রিপশন সুবিধা। অপেক্ষার সারির ব্যবস্থা ও পরিচয় যাচাইয়ে সহায়তা করে দ্রুত উত্তর এবং নম্বর প্যাড। স্থানীয় কণ্ঠ ও পরিচিতি বার্তা প্রত্যাশা ঠিক করে দেয়, ফলে হঠাৎ কল কেটে দেওয়ার ঘটনা কমে।
সিঙ্গাপুরের কেন নিজস্ব সমাধান দরকার ছিল
বিদেশে একই ধরনের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি নাগিশ ও ইনোক্যাপশনের মতো অ্যাপ আছে। তবে সিঙ্গাপুরে সেগুলো পাওয়া যায় না। কোনো সেবা পাওয়া যাবে কি না, তা নির্ভর করে বাজারে সমর্থন, টেলিকম সংস্থার সঙ্গে সংযোগ এবং অন্যান্য সেবা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। এখানকার অনেকের জন্য ক্যাপশন ও কথায় শোনানো উত্তরসহ স্বাধীনভাবে ফোন করা বা ধরার সরাসরি কোনো উপায় ছিল না।
এই ঘাটতি পূরণে স্থানীয় একটি দল পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ও ওপেন গভর্নমেন্ট প্রোডাক্টস (OGP) আয়োজিত স্পার্কস x বিল্ড ফর গুড কমিউনিটি হ্যাকাথনে কলব্রিজ তৈরি করে। বিল্ড ফর গুড অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচির জন্য প্রকল্পটি নির্বাচিত হয়। সেখানে দলটি অর্থায়ন, পরামর্শ এবং পাইলট পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পায়। শুরুতে তারা ডেফ হ্যাংআউটসে গিয়ে ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা বলে দৈনন্দিন বাধাগুলো বোঝে। সেই বৈঠকগুলো পণ্যটির নানা দিক গড়ে দেয়—নতুন ব্যবহারকারীকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে পরিচিতি বার্তার ধরন, এমনকি কণ্ঠ বাছাই পর্যন্ত।
ব্যবহারকারীরা দলটিকে জানান, অনেক ব্যাংক, টেলিকম সংস্থা ও সরকারি হটলাইনে এখনো কেবল ফোনেই সহায়তা দেওয়া হয়। ইমেইল বা টেক্সটের মাধ্যমে যোগাযোগে দেরি হতে পারে। দোভাষী নিয়োগ সব সময় সম্ভব নয়, এতে খরচ হতে পারে এবং ব্যক্তিগত বিষয়ে তা উপযুক্তও নাও হতে পারে। যেকোনো ফোন নম্বরে সরাসরি কথা বলার সুযোগ দিয়ে এই ঘাটতি পূরণের জন্যই কলব্রিজ তৈরি করা হয়েছে।
কমিউনিটির মানুষের কথা
আলফ্রেড ইও এখন বন্ধুদের ফোন করতে, ডেলিভারি কোথায় রেখে যেতে হবে তা ঠিক করতে, এমনকি নিজের পিকআপের জায়গা খুঁজছেন এমন চালককে বার্তা দিতেও অ্যাপটি ব্যবহার করেন। তাঁর ভাষায়, পরিবর্তনটি একই সঙ্গে বাস্তব ও ব্যক্তিগত। অন্য কারও ওপর নির্ভর না করে তিনি দৈনন্দিন কথাবার্তায় নিজের হয়ে কথা বলতে পারেন।
সিঙ্গাপুরের পাইলট কার্যক্রমে অংশ নেওয়া একজন ব্যবহারকারী নিজে একটি সাধারণ কাজ করতে পারার অনুভূতির কথা বলেছেন।
আমি বেকারিতে ফোন করেছিলাম, তারা আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে; কাজটা করতে পেরে বেশ ভালো লেগেছে।
আরেকজন পাইলট ব্যবহারকারী কর্মক্ষেত্রে অ্যাপটি ব্যবহারের পর নিজের স্বাধীনতার অনুভূতির কথা জানিয়েছেন।
আমাকে কারও ওপর নির্ভর করতে হয় না। কোনো দুশ্চিন্তা ছাড়াই এই টুলটি ব্যবহার করতে পারি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাথমিক পাইলট কার্যক্রমের পরিসর ছোট হলেও, সরাসরি ফোনে যোগাযোগের সুযোগ যে মানুষের সামনে নতুন বিকল্প খুলে দিতে পারে, তা এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে। দলের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পাইলটে সিঙ্গাপুর অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ডেফের কর্মীসহ ১০ জন বধির ব্যবহারকারীকে যুক্ত করা হয়। প্রথম দুই সপ্তাহেই তাঁরা সফলভাবে কয়েক ডজন ফোনকল সম্পন্ন করেন।
কল কেটে দেওয়া ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া কমানো
প্রাথমিক পরীক্ষায় একটি স্পষ্ট প্রবণতা দেখা যায়। কৃত্রিম কণ্ঠটি যান্ত্রিক শোনালে বা ব্যবহারকারী টাইপ করার সময় বিরতি বেশি দীর্ঘ হলে, শ্রবণক্ষম ব্যক্তি কল কেটে দেওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর জবাবে দলটি ElevenLabs-এর মডেল ব্যবহার করে সিঙ্গাপুরের মানুষের মতো শোনায় এমন কণ্ঠ চালু করে এবং কলের শুরুতে বলা পরিচিতি বার্তাটি আরও পরিমার্জন করে।
টাইপের শব্দও যোগ করা হয়। প্রচলিত প্রশ্নের উত্তরে ছোট বাক্য ও দ্রুত উত্তর ব্যবহার করতে দলটি ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দেয়। নাম ও সংখ্যার ক্ষেত্রে, যা স্বয়ংক্রিয় ট্রান্সক্রিপশনে সহজেই বাদ পড়ে যেতে পারে, সেগুলো আরও ভালোভাবে শনাক্ত করার কাজও করা হয়। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো কল ধরার হার বাড়ানো এবং ব্যবহারকারী কাজটি শেষ না করা পর্যন্ত অপর ব্যক্তিকে কলে ধরে রাখা।
সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও পাইলট কার্যক্রমে হেল্পলাইন কর্মীদের সঙ্গে কল করে কোথায় প্রশিক্ষণ সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে, তা বোঝা গেছে। সামনের সারির কর্মীরা কীভাবে সাড়া দেবেন, তা অনুশীলনের জন্য দলটি সরকারি সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে পরীক্ষামূলক কল করেছে। কলব্রিজের কল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি এমন হটলাইন কর্মীদের সনদ দেওয়ার কর্মসূচিতে এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ভুল-বোঝাবুঝি কমবে এবং উভয় পক্ষের জন্য কল দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।
কোথায় পাওয়া যাবে, এরপর কী
শুরুতে নিবন্ধনের একটি লিংকের মাধ্যমে ব্যক্তিগত পাইলট হিসেবে কলব্রিজ ব্যবহার করা যেত। এখন এটি অ্যাপ স্টোরগুলোতে চালু হচ্ছে এবং অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণটি গুগল প্লেতে পাওয়া যাচ্ছে। দলের লক্ষ্য নভেম্বরে আরও বড় পরিসরে চালু করা। কার্যকারিতা বাড়ানোর পরিবর্তন ও ইন্টারফেসের পরিমার্জন ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হচ্ছে বলে দলটি জানিয়েছে। আগ্রহী ব্যবহারকারীরা অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম লেখাতে এবং callbridge.sg থেকে আরও জানতে পারেন।
এখন অ্যাপটি ইংরেজি সমর্থন করে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের পরিস্থিতির উপযোগী ভাষায় যোগাযোগ করতে পারেন—এ জন্য ভবিষ্যতে আরও ভাষা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বহুভাষিক পরিবারে এবং বিভিন্ন ভাষায় গ্রাহকসেবা দেওয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগে তা সহায়ক হবে।
পরিকল্পিত উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে কলকারীর পরিচয় সম্পর্কে আস্থা বাড়াতে Singpass যাচাই, NAVH ও Mindline-এর মতো সংস্থার সঙ্গে আরও হটলাইন পরীক্ষা, এবং হেল্পলাইন কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সনদ দিতে পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশীদারত্ব। আরও বেশি সদস্যের কাছে পৌঁছাতে সিঙ্গাপুর অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ডেফের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বধির ব্যবহারকারীদের উপযোগী পরিকল্পনা নিয়ে টেলিকম সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে দলটি।
অন্যান্য প্রবেশগম্যতার বিকল্পের সঙ্গে তুলনা
যেসব সেবা ফোনে যোগাযোগ আশা করে, সেখানে পৌঁছাতে বধির ও শ্রবণ-প্রতিবন্ধী মানুষ নানা বিকল্প উপায় ব্যবহার করেন। কিছু কাজে টেক্সট বার্তা, ইমেইল ও চ্যাট কার্যকর হলেও, অনেক জরুরি সেবায় এখনো গ্রাহককে ফোন করতে বলা হয়। পরিবারের সদস্য বা বন্ধুকে দিয়ে ফোন করালে গোপনীয়তার সমস্যা তৈরি হয়। দোভাষীর জন্য অপেক্ষা করা জরুরি পরিস্থিতি বা এক মিনিটের দ্রুত খোঁজখবরের ক্ষেত্রে উপযোগী নাও হতে পারে।
ভিডিও রিলে সেবায় ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে একজন সাংকেতিক ভাষার দোভাষী থাকেন। অনেক দেশে এ পদ্ধতি এখনো কার্যকর। তবে দোভাষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হয় এবং ব্যাংকিংয়ের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এতে গোপনীয়তা কম থাকতে পারে। অন্য কিছু ক্যাপশনিং টুল বৈঠকে সহায়তা করে, কিন্তু সাধারণ ফোন লাইনে সংযোগ দেয় না।
কলব্রিজ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। এর মাধ্যমে একজন বধির ব্যবহারকারী যেকোনো সাধারণ ফোন নম্বরে কল করতে পারেন। অপর প্রান্তের ব্যক্তিকে কিছু ডাউনলোড করতে বা বিশেষ হেডসেট ব্যবহার করতে হয় না। কথোপকথন থাকে দুই ব্যক্তির মধ্যেই; কেবল ব্যবহারকারীর টাইপ করা কথাকে অ্যাপটি কণ্ঠে রূপান্তর করে। এর মূল সুবিধা হলো স্বনির্ভরতা ও সরাসরি যোগাযোগ।
যেসব চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে
প্রযুক্তি ও মানুষের আচরণ—দুই দিক থেকেই সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো বিলম্ব। শ্রবণক্ষম ব্যক্তিরা দ্রুত কথোপকথনে অভ্যস্ত। কলকারীকে টাইপ করতে সময় লাগলে, কিংবা নেটওয়ার্কের কারণে লেখা তৈরি বা কণ্ঠে উত্তর শোনাতে দেরি হলে, বিরতি অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। পরিচিতি বার্তা, টাইপের শব্দ এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হলো, কাজটি শেষ হওয়ার মতো সময় পর্যন্ত অপর ব্যক্তিকে কলে ধরে রাখা।
নাম, রেফারেন্স কোড ও সংখ্যার ক্ষেত্রে নির্ভুলতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বানান ও সংখ্যার ধারাবাহিকতা আরও ভালোভাবে সামলাতে দলটি কাজ করছে। বিরতির সময় কমাতে এবং ভুলের আশঙ্কা কমাতে ব্যবহারকারীদের ছোট বাক্য বলতে ও সম্ভব হলে দ্রুত উত্তর ব্যবহার করতে উৎসাহ দেওয়া হয়।
নতুন ব্যবহারকারীকে অ্যাপ ব্যবহারে অভ্যস্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত উত্তর কখন ব্যবহার করতে হবে, পরিচিতি বার্তা কীভাবে নির্ধারণ করতে হবে এবং নম্বর প্যাড দিয়ে কল সেন্টারের মেনুতে কীভাবে চলতে হবে—কিছু ব্যবহারকারীর তা শিখতে সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে দলটি কমিউনিটির সঙ্গে বৈঠক এবং ছোট দলের পাইলট কার্যক্রম আয়োজন করছে।
সরকারি সংস্থা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ব্যাপকভাবে এটি গ্রহণ করলে সফলতার হার বাড়বে। সামনের সারির কর্মীরা কলব্রিজের পরিচিতি বার্তা চিনতে পারলে এবং টাইপ করার বিরতির সময় সংযোগ ধরে রাখতে জানলে কল দ্রুত এগোবে। হটলাইন কর্মীদের সনদ দেওয়ার পরিকল্পনা ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে পাইলট কার্যক্রম সেই দিকেই এগোচ্ছে।
সিঙ্গাপুরে প্রবেশগম্যতার জন্য এর তাৎপর্য
জরুরি সেবায় পৌঁছানোর অন্যতম মাধ্যম এখনো ফোনকল। আনুমানিক পাঁচ লাখ বাসিন্দার কোনো না কোনো মাত্রায় শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে। তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাহায্য ছাড়াই ক্লিনিক, ব্যাংক বা সরকারি হটলাইনে ফোন করতে পারা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে। এতে গোপনীয়তা রক্ষা হয় এবং অন্যকে দিয়ে নিজের হয়ে কথা বলানোর প্রয়োজন কমে।
কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রযুক্তি কীভাবে গড়ে উঠতে পারে, কলব্রিজের গল্প তা-ও দেখায়। হ্যাকাথনের একটি প্রকল্প অ্যাক্সিলারেটর কর্মসূচিতে জায়গা পেয়েছে, ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেছে এবং সামনের সারির কর্মীদের নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে। প্রকৌশল আর ব্যবহারকারীদের সরাসরি মতামতের এই মিশেল একটি প্রোটোটাইপকে বাস্তব জগতে কার্যকর টুলে রূপ দিতে সাহায্য করছে। ভাষার পরিসর বাড়ানো, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও আরও গভীর অংশীদারত্বসহ পরবর্তী পদক্ষেপগুলোই ঠিক করবে, নতুন এই যোগাযোগমাধ্যম কতটা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হবে।
মূল বিষয়গুলো
- কথাকে লেখায় এবং লেখাকে কথায় রূপান্তরের মাধ্যমে বধির ও শ্রবণ-প্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীদের সাধারণ ফোনকল করা ও ধরার সুযোগ দেয় কলব্রিজ।
- ব্যবহারকারী ফোন করলে পরিচিতি বার্তায় অপর প্রান্তের ব্যক্তিকে জানানো হয়, তিনি একজন বধির ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছেন; ব্যবহারকারী টাইপ করার সময় ধৈর্য ধরতেও অনুরোধ করা হয়।
- যান্ত্রিক কণ্ঠের কারণে কল কেটে দেওয়ার ঘটনা কমাতে দলটি ElevenLabs ব্যবহার করে সিঙ্গাপুরের মানুষের মতো শোনায় এমন কণ্ঠ চালু করেছে।
- পাইলট কার্যক্রমে ১০ জন ব্যবহারকারী যুক্ত হয়েছেন এবং দুই সপ্তাহে ৫৭টি কল করা হয়েছে। বাস্তব কাজগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি এতে উঠে এসেছে।
- সুবিধার মধ্যে রয়েছে দ্রুত উত্তর, স্বয়ংক্রিয় মেনুর জন্য নম্বর প্যাড এবং বিরতির সময় অপর পক্ষকে আশ্বস্ত করতে ঐচ্ছিক টাইপের শব্দ।
- সরকারি সংস্থার সঙ্গে হটলাইন কর্মীদের প্রশিক্ষণ চলছে; কর্মীদের সনদ দেওয়া এবং আরও সেবায় পরীক্ষা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
- অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণটি গুগল প্লেতে পাওয়া যাচ্ছে; নভেম্বরে আরও বড় পরিসরে অ্যাপ স্টোরে চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
- এখন ইংরেজি সমর্থিত; আরও বেশি ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছাতে নতুন ভাষা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
- ব্যবহারকারীরা অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম লিখিয়ে callbridge.sg থেকে আরও জানতে পারেন।
- সিঙ্গাপুর অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ডেফের হিসাব অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কিছু মাত্রায় শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে; এ তথ্য সহজগম্য ফোনসেবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।






