তাঙ্গেরাংয়ে উৎপাদন খাতে বড় ধাক্কা
ইন্দোনেশিয়ার বানতেন প্রদেশের তাঙ্গেরাংয়ের জুতা উৎপাদনকেন্দ্রে নতুন করে ছাঁটাইয়ের ঢেউ আঘাত হেনেছে। নাইকির গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিভিত্তিক উৎপাদক PT Victory Chingluh Indonesia প্রায় ১,৮০০ কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পণ্যের চালান মান যাচাইয়ে বাতিল হয়ে রপ্তানি বাজার থেকে ফেরত এসেছে। এর জেরে উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা এড়ানো সম্ভব ছিল বলে শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি। ইন্দোনেশিয়ার শ্রমনির্ভর শিল্পগুলোর জন্য সংবেদনশীল এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। এসব শিল্পকে ক্রমবর্ধমান ব্যয়, বৈশ্বিক চাহিদার সংকোচন এবং ব্র্যান্ডগুলোর দ্রুত পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।
সূচিপত্র
- তাঙ্গেরাংয়ে উৎপাদন খাতে বড় ধাক্কা
- ছাঁটাইয়ের কারণ
- মান পরীক্ষায় ব্যর্থতা ও পণ্য ফেরত
- এখনই ত্রুটি কেন বেড়ে থাকতে পারে
- কতগুলো কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে, কারা প্রভাবিত
- বেতন, দক্ষতা ও মজুরি বিতর্ক
- কারখানা সরানোর চাপ ও মধ্য জাভার বিকল্প
- নাইকিকে ঘিরে চাপের প্রভাব সরবরাহকারীদের ওপর
- সরকারি পদক্ষেপ ও শ্রমিক সুরক্ষা
- তাঙ্গেরাংয়ের জুতা উৎপাদনকেন্দ্রের জন্য এর অর্থ কী
- নিকট ভবিষ্যতের চিত্র
- মূল বিষয়গুলো
স্থানীয় অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক স্নিকার সরবরাহব্যবস্থা—দুই ক্ষেত্রেই এই ছাঁটাইয়ের ব্যাপকতা গুরুত্বপূর্ণ। ভিয়েতনাম ও চীনের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া নাইকির অন্যতম প্রধান উৎপাদনকেন্দ্র। বড় ব্র্যান্ডগুলোর জুতা ও পোশাক তৈরির শ্রমশক্তির বড় অংশ সরবরাহ করে দেশটি। শিল্প কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিশ্বজুড়ে নাইকি ও অ্যাডিডাসের জন্য কাজ করা কারখানাগুলোর শ্রমশক্তির প্রায় ৩০ শতাংশ ইন্দোনেশীয়। বৈশ্বিক ক্রীড়াপোশাক সরবরাহব্যবস্থায় দেশটির কেন্দ্রীয় ভূমিকার কথা এ তথ্য মনে করিয়ে দেয়।
শ্রমিক নেতাদের দাবি, মজুরির চাপ নয়, বরং মান নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার কারণেই ছাঁটাই করা হয়েছে। নিয়োগকর্তাদের সংগঠনগুলোর পাল্টা বক্তব্য, তাঙ্গেরাংয়ে আঞ্চলিক ন্যূনতম মজুরি বেশি, বিভিন্ন ফি অস্পষ্ট এবং যোগ্য কর্মীর সংকট রয়েছে। এসব কারণে ব্যয় বেড়েছে এবং উৎপাদনশীলতা কমেছে। শুরুতে প্রায় ৩,০০০ কর্মীর পদ কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ১,৮০০ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় ত্রুটিগুলো মেরামতের অযোগ্য বলে বিবেচিত হলে আরও ছাঁটাই হতে পারে বলে ইউনিয়ন সতর্ক করেছে। একই সময়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কারখানাটি পুরোপুরি মধ্য জাভার পেকালঙ্গানে সরিয়ে নেওয়া ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছে। সেখানে শ্রম ও পরিচালন ব্যয় কম।
ছাঁটাইয়ের কারণ
ব্র্যান্ডের মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ রপ্তানি পণ্যের বড় চালান ফেরত আসার কথা জানিয়েছেন নির্বাহীরা। চুক্তিভিত্তিক কারখানার জন্য চালান বাতিল হওয়া ভয়াবহ হতে পারে। ফেরত আসা পণ্যে অর্থ আটকে থাকে, মেরামত করতে হয় বা ফেলে দিতে হয়, আর ভবিষ্যৎ অর্ডারের পরিমাণও কমে যেতে পারে। একসঙ্গে কয়েকটি চালানের পণ্য মান পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে উৎপাদন সূচি ও কর্মী ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ে।
মান পরীক্ষায় ব্যর্থতা ও পণ্য ফেরত
বিশ্বের বড় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য তৈরি জুতা পাঠানোর আগে মান নিয়ন্ত্রণের একাধিক ধাপ পার হতে হয়। পরিদর্শকেরা সেলাই, জোড়া লাগানোর কাজ, আঠার রেখা, মিডসোলের অবস্থান, রঙের যথার্থতা, লেবেল এবং প্যাকেজিং পরীক্ষা করেন। হাজার হাজার জুতায় একই ত্রুটি থাকলে পুরো চালান বাতিল হতে পারে। সমস্যা ছোট ও মেরামতযোগ্য হলে কারখানা পণ্য ঠিক করে নিতে পারে। কিন্তু ত্রুটি কাঠামোগত বা ব্যাপক হলে পণ্য আবার তৈরি করার চেয়ে মেরামতে খরচ বেশি হতে পারে—বিশেষ করে সরবরাহের সময়সীমা ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেলে।
এখনই ত্রুটি কেন বেড়ে থাকতে পারে
বিভিন্ন চাপের কারণে ত্রুটির হার বাড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে উৎপাদন লাইনে কর্মীদের ঘন ঘন চলে যাওয়া, পণ্যের ধরন বদলানোর সময় ব্র্যান্ডের কমিয়ে আনা সময়সীমা, উপকরণ বা যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী বদল এবং ব্যয় কমাতে লাইনে তদারকি কমিয়ে দেওয়া। প্রশিক্ষণের ঘাটতি ও রক্ষণাবেক্ষণে চাপ থাকলেও বিপুল পরিমাণ উৎপাদনে জোড়া লাগানো বা সেলাইয়ে ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ে। বাজেট সংকুচিত হলে পণ্যের ধরন ও জটিলতা বাড়ার সময়ই মান রক্ষার ব্যবস্থাগুলো প্রায়ই চাপে পড়ে।
ইন্দোনেশীয় ইউনিয়নগুলোর জোট কংগ্রেসের (KASBI) চেয়ারম্যান উনাং সুনারনোর যুক্তি, পুরো প্রক্রিয়ায় মান সুরক্ষিত রাখতে ব্যবস্থাপনা যে সিদ্ধান্ত নেয়নি, তার মূল্য দিচ্ছেন শ্রমিকেরা।
একতরফা ছাঁটাইয়ের বিরোধিতা করছি, কারণ এর জন্য শ্রমিকেরা দায়ী নন; বরং উৎপাদনব্যবস্থায় সমস্যা রয়েছে। ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার শিকার করা উচিত নয় শ্রমিকদের।
ফেরত আসা পণ্য নিয়ে কারখানাগুলো ক্রেতাদের সঙ্গে দাম কমানো, মেরামতের খরচ বহন বা সরবরাহের সময়সীমা পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা করতে পারে। আলোচনা ব্যর্থ হলে ক্ষতির বোঝা কারখানাকেই বহন করতে হয়। মুনাফার সীমা কম—এমন ব্যবসায় মানের ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে ব্যবস্থাপনা দ্রুত পালা কমানো, অতিরিক্ত কাজ কমানো বা পুরো উৎপাদন লাইন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। Victory Chingluh-এর সিদ্ধান্তের পটভূমি এটাই।
কতগুলো কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে, কারা প্রভাবিত
ইউনিয়ন প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, প্রায় ১,৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের নোটিশ পেয়েছেন; আরও কয়েক শ জনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ব্যবস্থাপনা শুরুতে প্রায় ৩,০০০টি পদ কমানোর তালিকা করেছিল। অক্টোবরের শেষ দিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কোম্পানির পাসার কেমিস কারখানায় দ্বিতীয় দফায় আরও ২,৮০৪ জন কর্মী ছাঁটাই হতে পারে। তবে সিকুপার অন্য একটি কারখানা গ্রহণযোগ্য মান বজায় রেখে স্বাভাবিকভাবে চলছে বলে জানা গেছে। একই প্রতিষ্ঠানের কারখানাভেদে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে; তা নির্ভর করে পণ্যের ধরন, ক্রেতা এবং সাম্প্রতিক নিরীক্ষার ফলের ওপর।
KASBI-এর মহাসচিব আন্দি ক্রিস্তিয়ানতোনোর ভাষ্য, মূল সমস্যা অব্যবস্থাপনা। উৎপাদনব্যবস্থার সমস্যার ভুল সমাধান হলো ছাঁটাই।
বর্তমান সমস্যার জন্য শুধু শ্রমিকেরা দায়ী নন; এটি কোম্পানির অব্যবস্থাপনার ফল।
একতরফা ছাঁটাইয়ের বদলে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে ইউনিয়ন। সাম্প্রতিক আলোচনায় উভয় পক্ষ এমন প্যাকেজ নিয়ে কথা বলেছে, যাতে আইনে নির্ধারিত সব পাওনা এবং স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়লে ইন্দোনেশিয়ার শ্রম আইনে নির্ধারিত সাধারণ হিসাবের দ্বিগুণ হারে বাড়তি ক্ষতিপূরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। স্বাভাবিকভাবে চালু থাকা কারখানাগুলোর কর্মীদের উদ্বেগ কমাতে ইউনিয়ন নেতারা স্বচ্ছ যোগাযোগেরও দাবি জানিয়েছেন।
বেতন, দক্ষতা ও মজুরি বিতর্ক
ইউনিয়নগুলোর দাবি, তাঙ্গেরাংয়ে উৎপাদনকারী বড় ব্র্যান্ডগুলো আঞ্চলিক মজুরিবিধি মানতে পারে। KASBI নেতাদের ভাষ্য, ব্র্যান্ডের জুতা তৈরি করা কারখানাগুলোর স্থানীয় মানদণ্ড অনুযায়ী মজুরি দেওয়ার আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে। তাঁদের যুক্তি, মানের প্রতিরোধযোগ্য বিপর্যয় ও দুর্বল পরিকল্পনা থেকে মনোযোগ সরাতেই মজুরিকে দোষারোপ করা হচ্ছে। নিয়োগকর্তাদের সংগঠন ইন্দোনেশিয়ান এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অবশ্য পাল্টা বলেছে, তাঙ্গেরাংয়ের কারখানাগুলোর জন্য ব্যয় কাঠামো প্রতিকূল হয়ে উঠেছে। তারা বেশি ন্যূনতম মজুরি, অনিশ্চিত আনুষঙ্গিক ফি ও কর এবং চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা আধুনিক কারখানার চাহিদা পূরণ না করলেও স্থানীয়ভাবে নিয়োগ দেওয়ার সামাজিক চাপের কথা উল্লেখ করেছে।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য, এর ফলে দক্ষতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা উৎপাদনশীলতা ও মানের ক্ষতি করছে। তাঙ্গেরাংয়ের নিয়োগকর্তা সংগঠনের নেতারা বেকার বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় শুরু করেছেন। শিল্পের চাহিদার সঙ্গে দক্ষতার সামঞ্জস্য আনাই এর লক্ষ্য। এতে নতুন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিতে কারখানার সময় ও ব্যয় কমবে, উৎপাদন লাইনে প্রথমবারেই ত্রুটিমুক্ত পণ্যের হার বাড়বে এবং রপ্তানি পরিদর্শনে উত্তীর্ণ হওয়ার মতো পর্যায়ে ত্রুটির হার রাখা যাবে।
কারখানা সরানোর চাপ ও মধ্য জাভার বিকল্প
শ্রম ও পরিচালন ব্যয় যখন উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হারে বাড়ে, তখন কোম্পানিগুলো প্রায়ই কম ব্যয়ের অঞ্চলের দিকে নজর দেয়। এ কারণেই মধ্য জাভার পেকালঙ্গানে স্থানান্তরের সম্ভাবনা বিবেচনায় রয়েছে। মধ্য জাভায় আইননির্ধারিত মজুরি কম এবং জমির দামও সস্তা, যদিও সরবরাহব্যবস্থা পরিচালনা আরও জটিল হতে পারে। তাঙ্গেরাংয়ের নিয়োগকর্তা সংগঠনগুলো স্থানীয় নেতাদের ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অন্যত্র সম্প্রসারণ করলেও Victory Chingluh বানতেন প্রদেশে অন্তত কিছু কার্যক্রম চালু রাখে। কর্মকর্তাদের প্রতি সংগঠনটির বার্তা স্পষ্ট: কারখানাটি টিকিয়ে রাখুন, নইলে স্থানীয় কর্মসংস্থান আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
কারখানা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত খুব কম ক্ষেত্রেই সহজ হয়। কোম্পানিগুলোকে সরবরাহব্যবস্থার নৈকট্য, দক্ষ কর্মীর জোগান, পরিবহন, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণের সময় এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছু বিবেচনায় নিতে হয়। কোনো একটি স্থানে মানের সমস্যা কেন্দ্রীভূত হলে নির্বাহীরা সেখানে উৎপাদন লাইন পুনর্গঠন করতে পারেন এবং তুলনামূলক স্থিতিশীল স্থানের উৎপাদন বজায় রাখতে পারেন। আজকের পরিস্থিতিতে সেটিই করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে; ব্যবস্থাপনা জোর দিয়ে বলেছে, গ্রুপের আরেকটি কারখানা এখনো ব্র্যান্ডের মানদণ্ড পূরণ করছে।
নাইকিকে ঘিরে চাপের প্রভাব সরবরাহকারীদের ওপর
নাইকির ব্যবসায়িক পরিবেশ চাপের মুখে রয়েছে। মুনাফা বাড়াতে তিন বছরে প্রায় ২০০ কোটি ডলার ব্যয় কমানো, পণ্যের বৈচিত্র্য সহজ করা এবং স্বয়ংক্রিয়করণ দ্রুত করার পরিকল্পনা করেছে কোম্পানিটি। একই সময়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে ভোক্তাদের ঐচ্ছিক পণ্যের চাহিদা কমেছে। আগের মৌসুমের মজুত ব্যবস্থাপনার ভুলে বাজারে ছাড়ে বিক্রি হওয়া পণ্যের পরিমাণ বেড়েছে। দৌড়ানোর জুতা ও লাইফস্টাইল পণ্যের বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডগুলোর অংশ বাড়ায় প্রতিযোগিতাও তীব্র হয়েছে।
এই পরিবর্তনের প্রভাব দ্রুত কারখানায় পৌঁছায়। পণ্যের বৈচিত্র্য কমলে কিছু নকশার জন্য ক্রয়াদেশ কমতে পারে, বিভিন্ন মাপের উৎপাদন সংকুচিত হতে পারে, অথবা নকশা বদলানোর সময় যন্ত্রাংশের অনুমোদন পেতে দেরি হতে পারে। দ্রুত অনুমোদন ও কম সময়সীমায় মানের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে প্রশিক্ষণ ও কর্মীসংখ্যা তাল মিলিয়ে না বাড়লে। ক্রেতারা নতুন করে দর-কষাকষি করে প্রতি ইউনিটের দাম কমানো বা দ্রুত পণ্য সরবরাহের দাবি জানালে সরবরাহকারীদের ব্যয়ের চাপও বাড়তে পারে। উৎপাদনের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কারখানাগুলো তদারকি ও পরিদর্শনের সক্ষমতা না বাড়ালে মানের ত্রুটি আরও সম্ভাব্য হয়ে ওঠে।
বাণিজ্যনীতিও অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। শুল্ক ও আমদানি বিধিতে পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোকে সরবরাহের মানচিত্র নতুন করে সাজাতে, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের মধ্যে উৎপাদনের পরিমাণ পুনর্বণ্টন করতে অথবা নতুন স্থানে উৎপাদন সক্ষমতা খুঁজতে হতে পারে। নির্দিষ্ট পণ্যচক্র বা ভৌগোলিক অবস্থানের সুবাদে সুবিধা পাওয়া সরবরাহকারীরা কৌশল বদলালে হঠাৎ কম বরাদ্দ পেতে পারে। বরাদ্দ কমলে ব্যয় ছাঁটাইয়ের তাগিদ বাড়ে এবং মানের ক্ষেত্রে ভুলের সুযোগ কমে যায়।
সরকারি পদক্ষেপ ও শ্রমিক সুরক্ষা
ইন্দোনেশিয়ার জনশক্তি মন্ত্রণালয় ছাঁটাইয়ের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। তাঙ্গেরাংয়ের স্থানীয় শ্রম দপ্তরগুলো কোম্পানি ও ইউনিয়ন—উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ক্ষতিপূরণ, নোটিশের সময়সীমা এবং সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলে চাঁদা দেওয়ার ক্ষেত্রে কারখানাগুলো আইন মানছে কি না, তা কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। চাকরি সৃষ্টিবিষয়ক আইনে ক্ষতিপূরণ হিসাবের নিয়ম বদলেছে। এখন অনেক নিয়োগকর্তা চাকরি ছাড়ার প্যাকেজে ক্ষতিপূরণ, চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী পাওনা এবং কর্মীরা যে অধিকারগুলো ব্যবহার করেননি তার জন্য অর্থ—এসব মিলিয়ে হিসাব করেন। উভয় পক্ষের সম্মতি থাকলে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্যাকেজে ন্যূনতমের চেয়ে বেশি সুবিধা দেওয়া হতে পারে, বিশেষ করে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড জড়িত থাকায় ব্যাপক নজরে আসা ঘটনায়।
চাহিদা কমার সময়ে কারখানাগুলোকে স্থিতিশীল রাখতে আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনা করেছে কর্তৃপক্ষ। জুতা, বস্ত্র, আসবাবপত্র ও খাদ্য উৎপাদনের মতো শ্রমনির্ভর খাতকে সহায়তা করতে প্রায় ১৩০ কোটি ডলারের একটি ঋণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর লক্ষ্য, নগদ প্রবাহের ঘাটতি পূরণ করা, যাতে কার্যকর কারখানাগুলো উৎপাদন লাইন চালু রাখতে, উপকরণ কিনতে এবং চাহিদা কম থাকা প্রান্তিকে অপরিকল্পিতভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া এড়াতে পারে।
সাম্প্রতিক ছাঁটাই সত্ত্বেও বৈশ্বিক ক্রীড়াপোশাক উৎপাদনে ইন্দোনেশিয়া গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেই রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা তুলে ধরেছেন, বিশ্বজুড়ে নাইকি ও অ্যাডিডাসের সরবরাহকারী কারখানাগুলোর শ্রমশক্তির বড় অংশ ইন্দোনেশীয় এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশটিতে নতুন উৎপাদন সক্ষমতা আনছেন। কারখানাগুলো শ্রমিকের সুরক্ষা ক্ষুণ্ন না করে মান বজায় রাখতে এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে পারলে এই ব্যাপকতা, অভিজ্ঞতা ও ক্রমবর্ধমান সরবরাহকারী নেটওয়ার্ক প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা দেবে।
তাঙ্গেরাংয়ের জুতা উৎপাদনকেন্দ্রের জন্য এর অর্থ কী
প্রতিবার ছাঁটাইয়ের ঢেউ স্থানীয় জনগোষ্ঠীতেও প্রভাব ফেলে। কারখানার নিয়মিত বেতনের ওপর নির্ভরশীল শাটলচালক, খাবারের দোকান, বোর্ডিং হাউস, উপকরণ বিক্রেতা এবং ছোট মেরামতের দোকানগুলো। বড় কোনো উৎপাদক পালা কমালে বা কর্মীসংখ্যা ছাঁটাই করলে আশপাশের জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত এক বছরে বস্ত্র ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্য খাতে হাজারো কর্মী ছাঁটাইয়ের মধ্য দিয়ে যে বৃহত্তর উৎপাদন মন্দা চলছে, তার ওপরই এই ধাক্কা এসেছে।
তাঙ্গেরাংয়ে নাইকির আরেক বড় অংশীদার Adis Dimension Footwear গত বছর ব্যয় কমানোর উদ্যোগে প্রায় ১,৫০০ কর্মী ছাঁটাই করেছিল। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বানতেনের বৃহত্তর জুতা শিল্পে দুর্বল অর্ডার, ব্যয়বহুল সরবরাহব্যবস্থা এবং আমদানি করা পণ্যের ঢল—এসব সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মানের ক্ষেত্রে ভুলের সুযোগ কমে যায়। যেসব কারখানা ত্রুটির হার কম রাখতে এবং ধারাবাহিকভাবে নিরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে, মন্দার সময়ে সেগুলোর কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখার সম্ভাবনাই বেশি।
অঞ্চলটিকে আকর্ষণীয় রাখতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তিনটি পদক্ষেপের কথা বলছে। প্রথমত, উৎপাদন লাইনের সঙ্গে যুক্ত সংক্ষিপ্ত ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানো। দ্বিতীয়ত, নিয়ম মেনে চলা কারখানার মজুরি-বহির্ভূত বোঝা—অনুমতিপত্র থেকে সরবরাহব্যবস্থার বাধা পর্যন্ত—কমিয়ে আনা। তৃতীয়ত, দেশীয় উৎপাদকদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন অবৈধ আমদানির বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদার করা। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে কোম্পানিগুলোর স্থানান্তরের কারণ কমবে এবং যেখানে তারা ইতিমধ্যে কাজ করছে, সেখানে উন্নত মানব্যবস্থায় বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়বে।
নিকট ভবিষ্যতের চিত্র
Victory Chingluh-এর পাসার কেমিস কারখানার কর্মীদের জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরও ২,৮০৪ জনকে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। বাড়তি ক্ষতিপূরণসহ স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার ব্যবস্থা চালু এবং কোন উৎপাদন লাইন ঝুঁকিতে রয়েছে তা স্পষ্টভাবে জানাতে ইউনিয়ন নেতারা চাপ অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন। পাসার কেমিসের পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে অন্য কারখানার কর্মীদের ওপর চাপ না দিতেও তারা ব্যবস্থাপনাকে সতর্ক করেছেন। আপাতত গ্রুপের সিকুপা কারখানায় উৎপাদন স্থিতিশীল বলে বর্ণনা করা হয়েছে। সমস্যাগ্রস্ত কারখানায় মানের ত্রুটি ঠিক করার সময় সক্রিয় অর্ডার পূরণে এটি কোম্পানিকে সহায়তা করতে পারে।
মান স্থিতিশীল করতে সাধারণত মৌলিক বিষয়গুলোতে ফিরে যেতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে লাইনে পরিদর্শক বাড়ানো, বাধা ও তারতম্য শনাক্ত করতে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপ নিরীক্ষা করা, পুনরায় কাজের প্রয়োজন কমাতে উৎপাদন লাইনের ভারসাম্য ঠিক করা, ওপরের অংশ জোড়া লাগানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আসা উপকরণ আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা করা। সরবরাহের সময়সূচি রক্ষায় এসব পদক্ষেপ ব্র্যান্ডগুলোরও স্বার্থে; তাই তারা প্রায়ই কারিগরি দল পাঠিয়ে সহায়তা করে। এসব ব্যবস্থা যত দ্রুত কার্যকর হবে, অর্ডারের পরিমাণ স্থিতিশীল হওয়া এবং আরেক দফা কঠোর ছাঁটাই এড়ানোর সম্ভাবনা তত বাড়বে।
ইতিমধ্যে চাকরি হারানো কর্মীদের জন্য অগ্রাধিকার হলো ক্ষতিপূরণ, নতুন চাকরির সঙ্গে মেলানো এবং দ্রুত কাজে লাগানো যায় এমন দক্ষতা। স্থানীয় সরকারের সঙ্গে প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের বিষয়ে নিয়োগকর্তারা আলোচনা করেছেন। কর্মীরা তাঁদের প্রাপ্য পাওনা পান তা নিশ্চিত করতে ইউনিয়নগুলো আইনি ও অন্যান্য সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারের ঋণ কর্মসূচি কার্যকর অবস্থায় থাকা কারখানাগুলোতে পৌঁছালে কর্মীসংখ্যা কমানোর তাগিদ কমতে পারে। কারণ, ফেরত আসা পণ্য সরিয়ে ফেলা, দলগুলোকে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং পরবর্তী নিরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় পেলেই কাজ হতে পারে।
মূল বিষয়গুলো
- তাঙ্গেরাংয়ে নাইকির সরবরাহকারী PT Victory Chingluh Indonesia রপ্তানি চালান মান পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর প্রায় ১,৮০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে।
- ইউনিয়ন নেতাদের দাবি, মজুরি নয়; মান নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার কারণেই ছাঁটাই হয়েছে।
- নিয়োগকর্তাদের সংগঠনগুলো তাঙ্গেরাংয়ের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আঞ্চলিক মজুরি বেশি, বিভিন্ন ফি অস্পষ্ট এবং দক্ষ কর্মীর সংকটের কথা বলেছে।
- শুরুতে প্রায় ৩,০০০টি পদ কমানোর তালিকায় ছিল; আরও কয়েক শ পদের বিষয়টি পর্যালোচনাধীন।
- প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাসার কেমিস কারখানায় দ্বিতীয় দফায় আরও ২,৮০৪টি কর্মসংস্থান কমতে পারে; অন্যদিকে একই প্রতিষ্ঠানের সিকুপা কারখানায় উৎপাদন চলছে।
- আইন অনুযায়ী সব পাওনা এবং বাড়তি ক্ষতিপূরণসহ স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার ব্যবস্থা চালুর দাবি জানাচ্ছে ইউনিয়নগুলো।
- নাইকের ব্যয় হ্রাস, বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া এবং পণ্য কৌশলে পরিবর্তনের কারণে সরবরাহকারীদের অর্ডার কমেছে।
- কর্মকর্তারা আইন মেনে চলা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং শ্রমনির্ভর খাতগুলোর জন্য ১৩০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি চালু করেছেন।
- বৈশ্বিক ক্রীড়াপোশাক উৎপাদনে ইন্দোনেশিয়া গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে রয়ে গেছে; নাইকি ও অ্যাডিডাসের কারখানাগুলোর শ্রমশক্তির বড় অংশ ইন্দোনেশীয়।
- কারখানাগুলোকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো উন্নত দক্ষতা প্রশিক্ষণ, মজুরি-বহির্ভূত বোঝা কমানো এবং অবৈধ আমদানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।






