সিউলের প্রতিটি জেলায় প্রবীণদের জন্য খেলার মাঠ তৈরি
২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সিউলের ২৫টি জেলাতেই প্রবীণদের জন্য খেলার মাঠের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে নগর কর্তৃপক্ষ। এ জন্য পাড়ার পার্কের কিছু অংশকে বয়স্ক বাসিন্দাদের ব্যায়াম ও বিনোদনের নির্দিষ্ট এলাকায় রূপান্তর করা হবে। রাজধানীর দৈনন্দিন জীবনকে বদলে দিচ্ছে জনসংখ্যার বয়সকাঠামোর পরিবর্তন; এই উদ্যোগ তারই জবাব। সিউলের প্রায় প্রতি পাঁচজন বাসিন্দার একজনের বয়স এখন ৬৫ বছর বা তার বেশি, আর দেশটি অতি-বয়স্ক সমাজের বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছেছে। নগর পরিকল্পনাবিদেরা সক্রিয় বার্ধক্যকে জনসেবার মূল অংশ হিসেবে দেখছেন। বাড়ির কাছাকাছি এমন জায়গা তৈরি করে, যেখানে চলাফেরা, কথাবার্তা ও নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে, কর্মকর্তারা স্বাস্থ্য ভালো রাখা, নিঃসঙ্গতা কমানো এবং বয়স্ক বাসিন্দাদের আরও দীর্ঘ সময় স্বনির্ভর থাকতে সহায়তা করতে চান।
২০২২ সালে গুরোতে পরীক্ষামূলক উদ্যোগ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত গোয়াংজিন ও সঙবুক থেকে ইয়াংচন ও দোংজাক পর্যন্ত ১৩টি স্থান চালু হয়েছে। ধারণাটি সহজ এবং বয়স্কদের শারীরিক সক্ষমতার কথা মাথায় রেখে তৈরি। ছোট ছোট এলাকায় সহজে ব্যবহারযোগ্য ব্যায়ামের সরঞ্জাম ও খেলার উপকরণ রাখা হয়েছে, পাশাপাশি দৃশ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থাও রয়েছে। পড়ে গেলে আঘাত কমাতে মেঝেতে স্থিতিস্থাপক আবরণ রয়েছে। এক সরঞ্জাম থেকে অন্যটিতে যাওয়ার পথে হাতল ধরে চলা যায়। কাছেই বসার জায়গা ও ছায়ার ব্যবস্থা আছে। নির্দেশনা স্পষ্ট, আর সরঞ্জামগুলোতে হালকা প্রতিরোধ থাকায় সন্ধির ওপর চাপ পড়ে না। উদাহরণস্বরূপ, গোয়াংজিনের সিউল চিলড্রেন’স গ্র্যান্ড পার্কে আট ধরনের সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে হাত দিয়ে চালানোর সাইকেল, যা শরীরের ওপরের অংশের শক্তি বাড়ায়, এবং পাথরের ওপর দিয়ে পা ফেলে এগোনোর একটি পথ, যা সমন্বয়ক্ষমতার পরীক্ষা নিয়ে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ভালো রাখতে সহায়তা করে। পুরো এলাকাটি প্রতিবন্ধকতামুক্ত; মেঝেতে মসৃণ রাবারের আবরণ, কোথাও উঁচু ধার নেই। ফলে হুইলচেয়ার বা ওয়াকার ব্যবহারকারীরাও স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে পারেন।
দ্বিতীয় মেট্রো লাইনের সিনজংনেগোরি স্টেশনের কাছে ইয়াংচনের জাংশু পার্কে ব্যায়াম ও খেলার উপকরণ মিলিয়ে সাজানো হয়েছে। প্রসারণের ব্যায়ামের সরঞ্জামের পাশেই রয়েছে ইউতনোরির মতো ঐতিহ্যবাহী খেলার জন্য মাটিতে আঁকা চিহ্ন। এই খেলায় কাঠের লাঠি ছুড়ে গুটিগুলো একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হয়। সাধারণ দিনে জায়গাটিতে প্রায় ২০০ জন আসেন, আর পরিবেশটি ব্যায়ামাগারের চেয়ে পাড়ার চত্বরের মতোই বেশি মনে হয়। মানুষ এখানে কিছুক্ষণ থেকে নিজেদের ব্যায়ামের অভ্যাস নিয়ে আলোচনা করেন, পরামর্শ বিনিময় করেন এবং প্রতিদিন একই সময়ে পরিচিত মুখগুলোর সঙ্গে দেখা করেন।
ইয়াংচনের সত্তরোর্ধ্ব এক বাসিন্দা বলেন, এই জায়গাটি তাঁর দৈনন্দিন অভ্যাস বদলে দিয়েছে। তিনি প্রবীণদের একটি কেন্দ্রে বসে থাকার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু অস্থির লাগত বলে বেশির ভাগ দিন বাড়িতেই থাকতেন। এখানকার সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করা সহজ মনে হয়েছে, আর কয়েকবার আসার পরই সহজে কথাবার্তা শুরু হয়ে যায়।






