এখন প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি কেন জরুরি
থাইল্যান্ড একটি সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাংক দেশটিকে গতিপথ বদলে প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ২০৩৭ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করা যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি প্রায় ২ শতাংশে আটকে আছে, যা মানুষের আয় দ্রুত বাড়ানো এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য প্রয়োজনীয় গতির চেয়ে অনেক কম। বিশ্বব্যাংকের বার্তা স্পষ্ট: একসময় শক্তিশালী পর্যটন, কম খরচের উৎপাদন এবং স্থিতিশীল বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল যে মডেল ছিল, ডিজিটাল, জ্ঞাননির্ভর ও জলবায়ু-চাপে বিপর্যস্ত এই সময়ে তা আর যথেষ্ট নয়।
সূচিপত্র
- এখন প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি কেন জরুরি
- প্রবৃদ্ধির পথে বাধা কী
- থাইল্যান্ডের প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বব্যাংকের রূপরেখা
- মানবসম্পদ ও দক্ষতা
- উদ্ভাবন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার চালিকাশক্তি
- অঞ্চল ও সরকারি অর্থব্যবস্থা
- বিনিয়োগ ও স্থিতিস্থাপকতার জন্য সবুজ রূপান্তর
- সেবা অর্থনীতির দুয়ার খোলা
- ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী, দক্ষতায় ঘাটতি
- সরকারি পদক্ষেপ ও মুদ্রানীতির অবস্থান
- আঞ্চলিক অবস্থান ও বাণিজ্য কৌশল
- সাফল্যের চিত্র কেমন হতে পারে
- মূল বিষয়গুলো
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ দিকনির্দেশনায় প্রতিযোগিতার তিনটি ক্ষেত্র—সবুজ, ডিজিটাল ও সেবা—এবং ভবিষ্যৎমুখী পাঁচটি খাতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খাতগুলো হলো ডিজিটাল সেবা, উন্নত ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, নতুন করে ‘বিশ্বের রান্নাঘর’ হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে কৃষিভিত্তিক ব্যবসা, টেকসই ও সুস্থতাকেন্দ্রিক পর্যটন এবং সৃজনশীল অর্থনীতি। এসব সুযোগ কাজে লাগাতে বাজারকে আরও উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে, দক্ষতার দ্রুত উন্নয়ন ঘটাতে হবে এবং স্থিতিস্থাপকতায় ব্যাপক বিনিয়োগ করতে হবে। বিশেষ করে পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনায় এমন বিনিয়োগ দরকার, যা জনগোষ্ঠী ও কারখানা—উভয়কেই সুরক্ষা দেবে।
বিশ্বব্যাংকের থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার বিভাগের পরিচালক মেলিন্ডা গুড এই মুহূর্তের জরুরিতা এবং অতীতের পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন।
যে পথে থাইল্যান্ড এখানে এসেছে, সেই পথ তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে না।
২০২৬ সালের অক্টোবরে ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা আয়োজন করবে থাইল্যান্ড। এই সম্মেলনে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী ও করপোরেট নেতারা দেশটিতে আসবেন। সংস্কার, পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর এবং মানবসম্পদের উন্নয়নে অগ্রগতির প্রমাণ দেওয়ার জন্য এটি একধরনের সময়সীমাও—যা প্রবৃদ্ধির পরবর্তী অধ্যায়ের ভিত্তি গড়তে পারে।
প্রবৃদ্ধির পথে বাধা কী
অর্থনীতিবিদেরা প্রায়ই থাইল্যান্ডের চ্যালেঞ্জকে মধ্যম আয়ের ফাঁদ বলে বর্ণনা করেন। এ শব্দটি এমন দেশগুলোকে বোঝায়, যারা নিম্ন আয়ের অবস্থা থেকে দ্রুত উন্নতি করেছে, কিন্তু উৎপাদনশীলতা দুর্বল, উদ্ভাবন সীমিত বা জনসংখ্যা বার্ধক্যের দিকে যাওয়ায় উচ্চ আয়ের দেশে পৌঁছানোর আগেই তাদের প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়েছে। থাইল্যান্ড এই চিত্রের সঙ্গে মেলে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির গতি কমেছে, বেসরকারি বিনিয়োগ দুর্বল হয়েছে এবং জনসংখ্যা বয়স্ক হচ্ছে—যা শ্রমশক্তি ও সরকারি অর্থায়নের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। শিক্ষার ফলাফল আঞ্চলিক নেতৃস্থানীয় দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে, গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় সীমিত, আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় সেবা খাত তুলনামূলকভাবে বন্ধ।
ডিজিটাল সংযোগ শক্তিশালী হলেও থাইল্যান্ডের মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ মানুষের মধ্যবর্তী পর্যায়ের ডিজিটাল দক্ষতা রয়েছে। এই অসামঞ্জস্যের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ এবং স্টার্টআপগুলোর বড় পরিসরে কার্যক্রম বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশ্বব্যাংকের মতে, নতুন প্রবৃদ্ধি আসতে হবে উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী কার্যক্রম থেকে—তা হতে পারে নির্ভুল উৎপাদন, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, কিংবা ক্লাউড, ডেটা, নকশা, গেমিং ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বাণিজ্যযোগ্য সেবা।
আর্থিক খাতের প্রতিকূলতাও স্পষ্ট। বহু বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হয়েছে। খেলাপি ঋণ বাড়ার সঙ্গে চাহিদা দুর্বল হওয়া ও ঋণ প্রদানের শর্ত কঠোর হওয়ার এটি একটি লক্ষণ। বাণিজ্য উত্তেজনা ও পর্যটন প্রবাহ দুর্বল হওয়ায় বিশ্লেষকেরা প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছেন। সাম্প্রতিক নীতিসুদ কমানোর পরও ব্যাংক অব থাইল্যান্ড জোর দিয়ে বলেছে, কাঠামোগত বাধা মোকাবিলায় মুদ্রানীতি সীমিত কাজই করতে পারে।
ব্যাংক অব থাইল্যান্ডের ডেপুটি গভর্নর পিতি দিসায়াত বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
মুদ্রানীতির করার মতো কাজ সীমিত, আর কমিটি নিশ্চিত করতে চায় যেন এটি প্রবৃদ্ধির পথে বাধা না হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিশ্বব্যাংকের বক্তব্য একটি বিষয়েই মিলে যায়। উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর সংস্কার ছাড়া স্বল্পমেয়াদি প্রণোদনা ও সুদহার পরিবর্তন প্রবৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি গতি বাড়াতে পারবে না।
থাইল্যান্ডের প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বব্যাংকের রূপরেখা
থাইল্যান্ডের জন্য বিশ্বব্যাংকের ‘সিস্টেম্যাটিক কান্ট্রি ডায়াগনস্টিক আপডেট’-এ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রকে একসূত্রে গাঁথা পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়েছে। এতে মানবসম্পদ জোরদার, আরও প্রতিযোগিতামূলক ও উদ্ভাবনী অর্থনীতি, দ্বিতীয় সারির শহরগুলোর প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন এবং শক্তিশালী রাজস্ব প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অর্থব্যবস্থার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিটি অগ্রাধিকারের লক্ষ্য উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, বৈষম্য কমানো এবং অভিঘাত মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তোলা।
মানবসম্পদ ও দক্ষতা
প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা করতে থাইল্যান্ডের শিক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার। বিশ্বব্যাংক শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানো ও তা আরও লক্ষ্যভিত্তিক করার, পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার সংযোগ জোরদার করার এবং ডিজিটাল ও কারিগরি দক্ষতার ঘাটতি পূরণে ব্যাপক পুনঃদক্ষতা অর্জনের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত বৃত্তিমূলক শিক্ষা, কর্মরত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য স্বল্পমেয়াদি মাইক্রো-সনদ এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণে বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করার ব্যবস্থা। উন্নত শিশুযত্ন, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রবীণসেবা শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে—বিশেষত নারীদের—এবং জনমিতিক চাপ কমাতে পারে।
এর সুফল সরাসরি দেখা যাবে। মৌলিক দক্ষতা ও ডিজিটাল পারদর্শিতায় শক্তিশালী কর্মীবাহিনী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, স্বয়ংক্রিয়তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গ্রহণে সহায়তা করে এবং নির্ভরযোগ্য দক্ষ কর্মীসমষ্টি খোঁজেন এমন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে। এতে ব্যাংককের বাইরের অঞ্চলগুলোও মানসম্মত কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
উদ্ভাবন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার চালিকাশক্তি
উদ্ভাবনের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ন্যায্য ও গতিশীল বাজার দরকার। বিশ্বব্যাংক প্রতিযোগিতার বিধি জোরদার, ব্যবসার লাইসেন্স সহজ করা এবং স্টার্টআপ ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের অর্থায়নে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। পরিবেশব্যবস্থা সম্প্রসারিত হলে, দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বাড়লে এবং নীতিমালা উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করলে থাইল্যান্ডের ডিজিটাল স্টার্টআপগুলো বছরে ১৮০ কোটি ডলার পর্যন্ত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল আকর্ষণ করতে পারে। সরকারি গবেষণা তহবিল ও গবেষণা ও উন্নয়নে কর-প্রণোদনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী পণ্য ও প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে নিতে পারে।
একই সঙ্গে ডেটা, গোপনীয়তা ও আন্তসীমান্ত সেবা নিয়ে পূর্বানুমানযোগ্য বিধি ডিজিটাল সেবা রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় স্পষ্টতা দেবে। এর মধ্যে ক্লাউড ও ডেটা সেন্টারের জন্য আধুনিক কাঠামোও রয়েছে—এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের আগ্রহ ইতিমধ্যে বাড়ছে।
অঞ্চল ও সরকারি অর্থব্যবস্থা
দ্বিতীয় সারির শহরগুলোর প্রবৃদ্ধির পথ খুলে দেওয়া আরও বিস্তৃত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত পরিবহন যোগাযোগ, নির্ভরযোগ্য পানি ও বিদ্যুৎ এবং এলাকাভিত্তিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঐতিহ্যগত কেন্দ্রগুলোর বাইরেও প্রতিষ্ঠানকে আকৃষ্ট করতে পারে। এসব স্থানীয় পরিকল্পনা নির্ভর করে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে সুসমন্বিত সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর। বিশ্বব্যাংক শক্তিশালী রাজস্ব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব তুলে ধরেছে; এগুলো সেবা প্রদান, আঞ্চলিক বৈষম্য কমানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সহায়তা করে।
বন্যা ও খরা ব্যবস্থাপনা এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্য এমন অবকাঠামো দরকার, যা চরম আবহাওয়ায় কারখানার কার্যক্রম সচল রাখে, কৃষি উৎপাদনশীলতা বজায় রাখে এবং জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ রাখে। ইস্টার্ন ইকোনমিক করিডরের পানি ব্যবস্থা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এটি শিল্প ও আবাসিক এলাকাকে—উভয়কেই—সুরক্ষা দেয়।
বিনিয়োগ ও স্থিতিস্থাপকতার জন্য সবুজ রূপান্তর
জলবায়ু ঝুঁকি ইতিমধ্যে থাইল্যান্ডের অর্থনীতিকে বদলে দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের ‘কান্ট্রি ক্লাইমেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট’-এ সতর্ক করা হয়েছে, অভিযোজন জোরদার না হলে বন্যা, তাপজনিত চাপ, পানির সংকট ও উপকূলীয় ভাঙনে ২০৫০ সালের মধ্যে জিডিপি ৭ থেকে ১৪ শতাংশ কমে যেতে পারে। বিচক্ষণ পদক্ষেপ নিলে দেশটি এসব ঝুঁকিকে সুযোগে রূপ দিতে পারে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও পরিবহন সময়ের সঙ্গে জ্বালানি খরচ কমায় এবং বায়ুর মান উন্নত করে। উন্নত পানি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমায় এবং কৃষির উৎপাদন বাড়ায়। কার্বন মূল্য নির্ধারণ এবং ধারাবাহিক বিনিয়োগ থাইল্যান্ডকে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা ও ২০৬৫ সালের মধ্যে নিট শূন্য নির্গমনের পথে নিতে পারে। অভিযোজন ও প্রশমন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আগামী ২৫ বছরে প্রায় ২১৯ বিলিয়ন ডলার লাগবে, যা ক্রমসঞ্চিত জিডিপির প্রায় ২.৪ শতাংশ। এই অর্থ সরকারি বাজেট, কার্বন আয় ও বেসরকারি পুঁজি থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
সবুজ অর্থনীতিও প্রবৃদ্ধির একটি বাজার। থাইল্যান্ড জ্বালানিসাশ্রয়ী এয়ার কন্ডিশনার রপ্তানি করে, বৈশ্বিক সৌর ফটোভোলটাইক মূল্যশৃঙ্খলে একটি অংশের সরবরাহ দেয় এবং বৈদ্যুতিক যান উৎপাদনের ভিত্তি গড়ছে। তবু মোট রপ্তানির তুলনায় পরিবেশবান্ধব পণ্যের অংশ এখনো সামান্য। বাণিজ্য বাধা কমানো, শুল্ক সমন্বয়, অনুমোদন দ্রুত করা এবং দক্ষতা গড়ে তোলার মতো নীতিগত পদক্ষেপ ২০৩০ সালের মধ্যে সবুজ পণ্য রপ্তানি জিডিপির প্রায় ২৩ শতাংশে উন্নীত করতে পারে। এতে আরও বেশি মানসম্মত কর্মসংস্থান, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং জলবায়ুপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পরিসর বাড়বে।
কিছু না করার খরচ বাড়ছে। গবেষণায় কৃষি উৎপাদনে কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির আশঙ্কা, সমুদ্রের তাপজনিত চাপে বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মৎস্য খাতে বড় ঝুঁকি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে শীতলীকরণের ব্যয় বাড়ার ইঙ্গিত রয়েছে—যা শতাব্দীর মাঝামাঝি বছরে ১১ থেকে ১৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। উন্নত ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা না থাকলে বন উজাড় অব্যাহত থেকে বন্যা ও ভাঙনের ঝুঁকি বাড়াবে এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষয় ঘটাবে। বড় বন্যা বার্ষিক জিডিপি থেকে কয়েক শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে, আর উপকূলীয় ভাঙনে শহর ও পর্যটন খাতে ব্যয় বাড়ছে। লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এই গতিপথ বদলাতে পারে। আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, ভূমি ব্যবহারে কঠোর বিধি প্রয়োগ, বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনার সবুজ অবকাঠামো এবং পুনর্বনায়ন ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারে, এমনকি জাতীয় সম্পদও বাড়াতে পারে। অভিযোজন খাতে ব্যয় জিডিপির প্রায় ১.৬ শতাংশ হতে পারে—উল্লেখযোগ্য ব্যয় হলেও তা অনেক বড় ক্ষতি ঠেকাবে। ইস্টার্ন ইকোনমিক করিডরে পানির স্থিতিস্থাপকতা এর আদর্শ উদাহরণ। এটি পরিবার ও কারখানা—উভয়ের কাজে আসে এবং শুষ্ক মৌসুম ও আকস্মিক ঝড়েও কার্যক্রম সচল থাকবে বলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা দেয়।
সেবা অর্থনীতির দুয়ার খোলা
বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অংশ সেবা খাত—অর্থায়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ক্লাউড, কনটেন্ট ও ডিজিটাল ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার রপ্তানি পর্যন্ত। আঞ্চলিক অন্য দেশগুলোর তুলনায় থাইল্যান্ডের সেবা খাত অপেক্ষাকৃত বন্ধ। বিশ্বব্যাংকের মতে, নির্বাচিত ক্ষেত্রে বিদেশি মালিকানার সীমা শিথিল করা, অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সেবা খাতে গভীর অঙ্গীকারসম্বলিত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করলে পুঁজি, জ্ঞান ও প্রতিযোগিতা আসবে—যা সেবার মান বাড়াবে এবং দাম কমাবে। আরও উন্মুক্ত সেবা বাজার থাই উদ্যোক্তাদের শুধু দেশের বাজার নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য প্ল্যাটফর্ম ও পণ্য গড়তে সক্ষম করবে।
বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে পেশাদার সেবার লাইসেন্স সহজ করা, আন্তসীমান্ত ডেটা প্রবাহে পূর্বানুমানযোগ্য বিধি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের অনুমোদন দ্রুত করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ও ই-কমার্সের কাঠামো আধুনিক করা। টেলিমেডিসিন ও প্রবীণসেবা থেকে শুরু করে ডিজিটাল নকশার স্টুডিও ও ফিনটেক—সব ক্ষেত্রেই এর সুফল দেখা যাবে; এসব ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের ইতিমধ্যে দক্ষ কর্মী ও গ্রাহক রয়েছে।
মেলিন্ডা গুড বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে সুযোগটির কথা তুলে ধরে থাইল্যান্ডকে স্বল্পমেয়াদি প্রবণতাকে টেকসই শক্তিতে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
থাইল্যান্ডকে সবুজ পথে যেতে হবে, ডিজিটাল হতে হবে, বিশ্বের রান্নাঘর হয়ে উঠতে হবে, ডিজিটাল সেবায় নেতৃত্ব দিতে হবে এবং উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী সেবা খাত গড়ে তুলতে হবে।
ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী, দক্ষতায় ঘাটতি
ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় অনেক ভিত্তিই থাইল্যান্ডে রয়েছে। মোবাইল ব্রডব্যান্ডের বিস্তার ব্যাপক, প্রম্পটপে জনপ্রিয় তাৎক্ষণিক অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা এবং জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়পত্র সেবায় প্রবেশাধিকার উন্নত করেছে। বৈশ্বিক ক্লাউড সেবা প্রদানকারীরা ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগ করছে। দক্ষ কর্মী প্রস্তুত থাকলে এবং বিধি স্পষ্ট হলে এসব অবকাঠামো আঞ্চলিক সেবা কেন্দ্রের ভিত্তি হতে পারে।
দক্ষতার ঘাটতিই বাধা। কর্মীদের অল্পসংখ্যকের মধ্যবর্তী বা উন্নত পর্যায়ের ডিজিটাল দক্ষতা রয়েছে, যা উৎপাদনশীলতা ও নতুন সরঞ্জাম গ্রহণের সক্ষমতা সীমিত করে। বিদ্যালয় সংস্কারের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের দক্ষতা উন্নয়ন যুক্ত করে একটি জাতীয় কর্মসূচি এই চিত্র বদলাতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি কলেজ ও বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যার, বিশ্লেষণ, নকশা, সাইবার নিরাপত্তা, রোবট রক্ষণাবেক্ষণ ও সবুজ প্রযুক্তিতে স্বল্পমেয়াদি, ধাপে ধাপে অর্জনযোগ্য সনদ দিতে পারে। নিয়োগকর্তারা কাজের পাশাপাশি শেখার সুযোগ বাড়াতে পারেন, যাতে কর্মীরা কর্মস্থলেই দক্ষতা অর্জন করেন। কম আয়ের কর্মীদের এগিয়ে যেতে বৃত্তি ও কর্মজীবনের মাঝামাঝি সময়ে ভাতা সহায়তা করতে পারে।
দক্ষ প্রতিভার ভিত্তি বাড়লে স্টার্টআপের প্রবাহও জোরালো হবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, দক্ষতা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রক স্পষ্টতার সঠিক সমন্বয় থাকলে থাইল্যান্ডের স্টার্টআপগুলো বছরে প্রায় ১৮০ কোটি ডলার ভেঞ্চার বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ের তহবিলকে সহায়তা করা পুঁজিবাজার সংস্কার, স্টক অপশনের সহজ নিয়ম এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাতাদের ব্যবসা বড় করতে সহায়তা করবে। উন্মুক্ত সেবা বাণিজ্যের সঙ্গে মিলিয়ে থাই প্রতিষ্ঠানগুলো আসিয়ানসহ এর বাইরের বাজারেও ডিজিটাল কনটেন্ট, সফটওয়্যার ও ব্যবসায়িক সেবা বিক্রি করতে পারবে।
সরকারি পদক্ষেপ ও মুদ্রানীতির অবস্থান
সরকার অর্থনীতিকে নতুনভাবে গড়ার উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী পিচাই চুনহাভিচারা পাঁচটি স্তম্ভের কথা তুলে ধরেছেন: বৈদ্যুতিক যান ও সবুজ জ্বালানির মতো ভবিষ্যৎমুখী শিল্পে উৎপাদন সরিয়ে নেওয়া, আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, উন্নত অবকাঠামো ও সেবার মাধ্যমে পর্যটনের মান বাড়ানো, পানি ব্যবস্থাপনা থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গড়া এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি সহায়তায় বাজেট ঘাটতির পরিকল্পনা করা হয়েছে, তবে ঋণকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য পর্যায়ে রাখার লক্ষ্য রয়েছে। সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৬০ শতাংশ, যা শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে স্থিতিশীল করা সম্ভব বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
পরিচ্ছন্ন রূপান্তরকে পথ দেখাতে নীতিনির্ধারকেরা কার্বন মানদণ্ড ও ক্রেডিট ব্যবস্থা প্রস্তুত করছেন। একই সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠনের সরঞ্জাম ও ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়েও কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় পুনর্গতি ধীর না করে পরিবর্তনের সময় ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দেওয়াই এর লক্ষ্য।
সুদের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক পদক্ষেপে ব্যাংক অব থাইল্যান্ড নীতিসুদ কমিয়ে ১.৫ শতাংশে এনেছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট ও উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হলে কিংবা অপ্রত্যাশিত অভিঘাত এলে তবেই আরও সুদ কমানোর কথা বিবেচনা করা হবে। তাঁদের জোরালো বক্তব্য, দুর্বল প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ কাঠামোগত সমস্যা, মুদ্রানীতির সহায়তার অভাব নয়। ঋণ সংকোচন, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি দুর্বল হওয়া দেখায়, স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পাশাপাশি অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সংস্কারও দরকার।
কার্যক্রমে বাধা না দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থানও তুলে ধরেছেন ডেপুটি গভর্নর পিতি দিসায়াত।
কমিটি নিশ্চিত করতে চায় যেন এটি প্রবৃদ্ধির পথে বাধা না হয়।
আঞ্চলিক অবস্থান ও বাণিজ্য কৌশল
বহিরাগত অভিঘাত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলেছে। বড় বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে উত্তেজনা ও শুল্ক রপ্তানি কমাতে এবং প্রবৃদ্ধিতে ধাক্কা দিতে পারে; কিছু পরিস্থিতিতে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে কর্মদক্ষতা দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। পর্যটন ঘুরে দাঁড়ালেও উৎসবাজারভেদে এর গতি অসম, আর চীনা পর্যটকের সংখ্যা আগের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফিরতে সময় লাগতে পারে। এসব প্রবণতা বৈচিত্র্যময় বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে যুক্তি জোরালো করে—বিশেষত সেবা, ডিজিটাল বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাধা কমায় এমন চুক্তির। ডেটা ও ডিজিটাল সেবার জন্য নিয়মনির্ভর কাঠামো থাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আঞ্চলিকভাবে সম্প্রসারণের সুযোগ দেবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় থাইল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান এখনো কৌশলগত সম্পদ। অবকাঠামো ও পানির নিরাপত্তার উন্নতি অব্যাহত থাকলে ইস্টার্ন ইকোনমিক করিডর উন্নত উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্র হতে পারে। স্বাস্থ্য ও সুস্থতাকেন্দ্রিক পর্যটন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ-সংশ্লিষ্ট ইকো-ট্যুরিজম পর্যন্ত পর্যটনের মান উন্নয়ন করলে বেশি ব্যয়কারী পর্যটক আকৃষ্ট হবে এবং সারা দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসা উপকৃত হবে।
সাফল্যের চিত্র কেমন হতে পারে
থাইল্যান্ড সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারলে স্থিতিশীলতা বিসর্জন না দিয়েই অর্থনীতি উচ্চতর প্রবৃদ্ধির পথে এগোতে পারে। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, সেবা খাত উন্মুক্ত করা ও দক্ষতার উন্নয়ন মজুরি বাড়াবে এবং আরও স্থিতিস্থাপক কর্মসংস্থান তৈরি করবে। উন্নত শিশুযত্ন ও পরিবারবান্ধব নীতির মাধ্যমে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বাড়ালে কর্মীবাহিনী বিস্তৃত হবে এবং পরিবারের আয় বাড়বে। থাইল্যান্ডে বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ওয়ারুনথর্ন পুথং সমাজের সর্বস্তরের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
উন্নত ভবিষ্যৎ শুধু অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের কাজের ওপর নির্ভর করে না, এর জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
২০৩০ সাল ও তার পরের সময়ে সাফল্যের পরিমাপযোগ্য লক্ষণের মধ্যে থাকবে সবুজ ও উচ্চপ্রযুক্তির রপ্তানির অংশ বৃদ্ধি, আরও প্রতিযোগিতামূলক ও উদ্ভাবনী ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগ আকর্ষণকারী শক্তিশালী দ্বিতীয় সারির শহর এবং বন্যা ও খরার ঝুঁকি কমাতে সক্ষম জলবায়ু-উপযোগী অবকাঠামো। এসব ভিত্তি গড়ে উঠলে ২০৩৭ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্য নাগালের মধ্যে আসবে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০৩৭ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হতে সবুজ, ডিজিটাল ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি গড়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক
- সাম্প্রতিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ২ শতাংশ; উচ্চ আয়ের দেশের লক্ষ্য পূরণে প্রায়ই প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করা ৫ শতাংশ গতির চেয়ে কম
- পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতের মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল সেবা, উন্নত ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা, টেকসই ও সুস্থতাকেন্দ্রিক পর্যটন এবং সৃজনশীল অর্থনীতি
- সংস্কার রূপরেখায় মানবসম্পদ, উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতা, দ্বিতীয় সারির শহরের প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং শক্তিশালী সরকারি অর্থব্যবস্থাকে লক্ষ্য করা হয়েছে
- শক্তিশালী সংযোগ ও ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও থাইদের মাত্র প্রায় ৫ শতাংশের মধ্যবর্তী পর্যায়ের ডিজিটাল দক্ষতা রয়েছে
- দক্ষতা ও নীতিগত সহায়তা উন্নত হলে স্টার্টআপগুলো বছরে প্রায় ১৮০ কোটি ডলার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল আকর্ষণ করতে পারে
- অভিযোজন ছাড়া জলবায়ু ঝুঁকিতে ২০৫০ সালের মধ্যে জিডিপি ৭ থেকে ১৪ শতাংশ কমতে পারে; সহায়ক নীতি থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে সবুজ রপ্তানি জিডিপির প্রায় ২৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে
- অভিযোজন ও প্রশমনে ২৫ বছরে আনুমানিক ২১৯ বিলিয়ন ডলার লাগবে, যা ক্রমসঞ্চিত জিডিপির প্রায় ২.৪ শতাংশ
- সরকারি পরিকল্পনায় বৈদ্যুতিক যান ও সবুজ জ্বালানি, কৃষির উন্নয়ন, পর্যটনের মান, পানি ও সরবরাহ অবকাঠামো এবং মানবসম্পদে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে
- ব্যাংক অব থাইল্যান্ড সহায়ক মুদ্রানীতি বজায় রেখেছে; দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে শুধু সুদ কমানো নয়, কাঠামোগত সংস্কারও জরুরি বলে জোর দিয়েছে






