এখন কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো তার টাইফন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা জাপানে এনেছে। রেজলুট ড্রাগন ২৫ মহড়ায় স্থলভিত্তিক উৎক্ষেপণব্যবস্থাটি দেখানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের এই বার্ষিক মহড়া দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চলে এবং সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ও উপকূলীয় অভিযানকে গুরুত্ব দেয়। টাইফন ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থাটি জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মেরিন কর্পস এয়ার স্টেশন ইওয়াকুনিতে আনা হয়েছে। মহড়ার সময় এতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে না। তবে এর উপস্থিতিই চীন সাগর ও তাইওয়ান প্রণালিজুড়ে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে মিত্রদের আরও দৃঢ় ও নমনীয় প্রতিরোধক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।
সূচিপত্র
- এখন কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
- টাইফন ব্যবস্থা যা দিতে পারে
- ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয় যেভাবে কাজ করে
- যুক্তরাষ্ট্র-জাপান জোটের পরিকল্পনায় এর ভূমিকা
- বেইজিং, মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের প্রতিক্রিয়া
- জাপানের নীতিগত পরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ বিতর্ক
- মানচিত্রে কী বদলাচ্ছে
- অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে শূন্যতা ও ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন যুগ
- নৌপথ, বাণিজ্য ও সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ
- এরপর কী নজরে রাখবেন
- একনজরে
এ পদক্ষেপের আগে এ অঞ্চলে টাইফন দ্রুত ধারাবাহিকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে একটি বড় মহড়ার জন্য ফিলিপাইনে উৎক্ষেপণব্যবস্থাটি আনা হয় এবং ম্যানিলার অনুরোধে সেটি দেশটিতে থেকে যায়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ব্যবস্থাটি অস্ট্রেলিয়ায় মোতায়েন করা হয় এবং তালিসমান সাবর মহড়ায় সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুতে একটি এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। রেজলুট ড্রাগন চলাকালে জাপানে একটি ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা মোতায়েন করায় প্রথম দ্বীপশৃঙ্খলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে স্থল ও সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মিত্রদের সক্ষমতা বাড়বে। এতে চীনের সামরিক পরিকল্পনা জটিল হবে এবং কোনো সংকটে দ্রুত সাড়া দিতে ওয়াশিংটন ও টোকিও প্রস্তুত—এমন আশ্বাস পাবে অংশীদাররা।
টোকিওর অবস্থানও বদলাচ্ছে। জাপানের ২০২২ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে পাল্টা হামলার সক্ষমতা অর্জন এবং ২০২৭ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির প্রায় ২ শতাংশে উন্নীত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং ফিলিপাইনের মতো অংশীদারদের সঙ্গে গভীরতর নিরাপত্তা সহযোগিতা—এসবই চীনের চাপ মোকাবিলা, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র তৎপরতা সামলানো এবং দূরপ্রাচ্যে রুশ বাহিনীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে জাপানের বৃহত্তর কৌশলগত পরিবর্তনের প্রতিফলন।
টাইফন ব্যবস্থা যা দিতে পারে
টাইফন একটি চলনক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা, যেখান থেকে টমাহক স্থল-আক্রমণ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল ৬—যা এসএম-৬ নামে বেশি পরিচিত—ছোড়া যায়। সাধারণত একটি ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থায় থাকে একটি পরিচালনা কেন্দ্র, চারটি উৎক্ষেপণযন্ত্র, টানার যান ও ট্রেলার। দ্রুত স্থাপন, ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া এবং অবস্থান বদলের উপযোগী করে ব্যবস্থাটি নকশা করা হয়েছে। ২০১৯ সালে মধ্যপাল্লার পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি (আইএনএফ) শেষ হওয়ার পর এটি তৈরি করা হয়। ওই চুক্তির আওতায় আগে নিষিদ্ধ থাকা পাল্লার স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সামনে খুলে যায়।
ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয় যেভাবে কাজ করে
টমাহক দূরপাল্লার নির্ভুল হামলা চালাতে পারে। এর পাল্লা সাধারণত প্রায় ১,০০০ মাইল (প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার) বলে উল্লেখ করা হয়। স্থির, উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তু, সদর দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এটি কার্যকর। এসএম-৬-এর পাল্লা তুলনামূলক কম, সাধারণত কয়েক শ কিলোমিটার বলা হয়, তবে এটি বহুমুখী। স্বল্প পাল্লায় আকাশ প্রতিরক্ষা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ পরিচালন পদ্ধতিতে জাহাজ এবং নির্দিষ্ট কিছু স্থল লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে পারে। টমাহক ও এসএম-৬ একসঙ্গে থাকায় টাইফন ব্যবস্থা সমুদ্র ও স্থল—দুই ধরনের লক্ষ্যবস্তুকে হুমকিতে ফেলতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রে থাকা জাহাজ এবং বিস্তৃত সেন্সর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শনাক্ত ও অনুসরণ করা সম্ভব এমন চলনক্ষম উৎক্ষেপণযন্ত্র।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এ সমন্বয়ের উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষকে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ফেলা। জাপানে ব্যবস্থাটি দেখানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর তৃতীয় মাল্টি-ডোমেইন টাস্ক ফোর্সের কমান্ডার কর্নেল ওয়েড জারম্যান এর প্রভাব সরল ভাষায় ব্যাখ্যা করেন।
একাধিক ব্যবস্থা ও বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহারের মাধ্যমে টাইফন শত্রুপক্ষকে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ফেলতে পারে।
উৎক্ষেপণযন্ত্রটির কাঠামো প্রমাণিত উল্লম্ব উৎক্ষেপণ প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা স্থলভাগে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। প্রতিটি উৎক্ষেপণযন্ত্রে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা যায় এবং ছোড়ার পর আবার ক্ষেপণাস্ত্র ভরা যায়। নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা বিমান, জাহাজ, স্যাটেলাইট ও স্থলভিত্তিক সেন্সর থেকে লক্ষ্যবস্তুর তথ্য পেতে পারে। এরপর চলনক্ষম বা স্থির লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য ক্ষেপণাস্ত্রকে নির্দেশনা দিতে পারে। বাস্তবে এর অর্থ হলো, টাইফন ইউনিট উপকূলে বা অভ্যন্তরীণ কোনো সড়কে অবস্থান নিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে প্রতিপক্ষ সেটি শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করার আগেই সরে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-জাপান জোটের পরিকল্পনায় এর ভূমিকা
জাপানে টাইফনের উপস্থিতি প্রথম দ্বীপশৃঙ্খলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অভিযানের মিত্র-পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জাপান থেকে তাইওয়ান ও ফিলিপাইন পর্যন্ত বিস্তৃত দ্বীপ ও ভূখণ্ডের সারিকে প্রথম দ্বীপশৃঙ্খল বলা হয়। দ্বীপ ও উপকূলীয় এলাকাজুড়ে চলনক্ষম, টিকে থাকার উপযোগী উৎক্ষেপণযন্ত্র ও সেন্সর ছড়িয়ে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি ও নৌপথে প্রতিপক্ষের অবাধ চলাচল ঠেকানোই এর লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কর্পস রিউকিউ দ্বীপপুঞ্জে এনএমইসিস নামে আলাদা একটি স্থলভিত্তিক জাহাজবিধ্বংসী ব্যবস্থা মোতায়েন করছে। জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলোর সঙ্গে মিলে এসব বাহিনী পূর্ব চীন সাগরের জাহাজ ও উপকূলীয় ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে একাধিক স্তরের হুমকি তৈরি করছে।
রেজলুট ড্রাগন ২৫ মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের ১৯ হাজারের বেশি সেনাসদস্য সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা, সরবরাহব্যবস্থা এবং উপকূলীয় অভিযান অনুশীলনে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে প্রত্যন্ত দ্বীপ পুনর্দখলের পরিস্থিতিও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মাল্টি-ডোমেইন টাস্ক ফোর্স দূরপাল্লার হামলার সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য, সাইবার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং মহাকাশ সক্ষমতার সমন্বয় করে। এ কাঠামোর ফলে টাইফন বৃহত্তর আঘাত হানার ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারে এবং উন্নত টাইপ ১২ জাহাজবিধ্বংসী ও স্থল-আক্রমণ ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত জাপানি বাহিনীর সঙ্গে দ্রুত লক্ষ্যবস্তুর তথ্য ভাগ করতে পারে। মহড়ার উদ্দেশ্য আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানো, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কমানো এবং জাপানের দ্বীপপুঞ্জজুড়ে মিত্রবাহিনীর চলাচল ও আঘাত হানার সক্ষমতা দেখানো।
জোটের বাইরেও টাইফন আঞ্চলিক কৌশলের সঙ্গে খাপ খায়। ফিলিপাইন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা গভীর করেছে এবং নিজেদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করছে। জাপান ও ফিলিপাইন সম্প্রতি পারস্পরিক প্রবেশাধিকার চুক্তি অনুমোদন করেছে, যা যৌথ প্রশিক্ষণ ও মোতায়েন সহজ করে। এ বলয়ের পাশে স্থলভিত্তিক হামলার সক্ষমতা জোরদার হলে প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে। দক্ষিণ চীন সাগর পেরিয়ে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে যাওয়া জাপানের বাণিজ্যিক নৌপথ সুরক্ষাতেও এটি সহায়তা করে।
বেইজিং, মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের প্রতিক্রিয়া
জাপানে টাইফন দেখানোর সমালোচনা করেছে চীন সরকার। তাদের দাবি, এ ব্যবস্থা মোতায়েন উত্তর-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তাকে দুর্বল করছে। ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের বিরোধিতা বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে। চীনা কর্মকর্তাদের বক্তব্য, সামগ্রিকভাবে এসব ব্যবস্থার ফলে মূল ভূখণ্ড ও উপকূলীয় ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্রমবর্ধমান এক বলয় তৈরি হচ্ছে।
নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এ পদক্ষেপকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন এবং এশিয়ার যেসব দেশে ব্যবস্থা রয়েছে, সেখান থেকে তা সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
এশিয়ার দেশগুলোতে টাইফন মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা মোতায়েন অন্যদের বৈধ নিরাপত্তা স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে, আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায় এবং আঞ্চলিক কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে।
রাশিয়াও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাগুলো রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার কাছে এ ধরনের মোতায়েন অব্যাহতভাবে বিস্তৃত হলে মস্কো পাল্টা পদক্ষেপ নেবে।
উত্তেজনা বাড়তে থাকলে, রাশিয়া তার নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক-প্রযুক্তিগত পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়ানোর বিরোধিতা উত্তর কোরিয়া বারবার করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম জাপান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় পুরো কোরীয় উপদ্বীপ থাকায় পিয়ংইয়ং সম্ভবত টাইফনকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাড়ানোর পক্ষে আরেকটি যুক্তি হিসেবে দেখাবে। অন্যদিকে, জাপানের কর্মকর্তারা জাপানের কাছে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে পাল্টা হামলার বিকল্প ও সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন।
জাপানের নীতিগত পরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের স্থলভিত্তিক আঘাত হানার ব্যবস্থা জাপানে রাখতে টোকিও বহু বছর অনাগ্রহী ছিল। তবে আঞ্চলিক ক্ষেপণাস্ত্র ভারসাম্য বদলে যাওয়ায় সে অনাগ্রহ কমছে। ২০২২ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে পাল্টা হামলার সক্ষমতা, দূরপাল্লার অস্ত্র এবং সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় নতুন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাপান প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, সামুদ্রিক টহল বিমান ও দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্রের মতো সরঞ্জাম সংগ্রহ দ্রুত করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে ব্যয় জিডিপির প্রায় ২ শতাংশে পৌঁছাবে। এই লক্ষ্য জাপানকে ন্যাটোর মানদণ্ডের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে।
জনমত এখনো সতর্ক। ওকিনাওয়া ও দক্ষিণ-পশ্চিম দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন হলে তাদের এলাকা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। এ কারণে জাপানের নেতারা মহড়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা সাময়িকভাবে আনার বিষয়টিকে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই কার্যক্রম পরীক্ষা এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া যাচাইয়ের উপায় হিসেবে দেখছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, ইওয়াকুনিতে টাইফন ব্যবস্থা রেজলুট ড্রাগন মহড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং পরে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। ফিলিপাইনেও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের পন্থা নিয়েছে। প্রথমে একটি মহড়ার জন্য উৎক্ষেপণযন্ত্র আনা হয়, পরে ম্যানিলার অনুরোধে সেটি থেকে যায়।
জাপানও নিজস্ব দূরপাল্লার বিকল্প তৈরি করছে। টাইপ ১২ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১,০০০ কিলোমিটারে বাড়ানো এবং জ্যামিং ও প্রতিহত করার চেষ্টা থেকে এর টিকে থাকার সক্ষমতা উন্নত করতে সংস্কার করা হচ্ছে। চলনক্ষম উৎক্ষেপণযন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত এবং আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কে সমন্বিত হলে, এসব ব্যবস্থা চীনের উপকূল বরাবর লক্ষ্যবস্তুকে ঝুঁকিতে রাখার এবং টাইফন ও এনএমইসিসের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে জাপানের সক্ষমতাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।
মানচিত্রে কী বদলাচ্ছে
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবস্থান থেকে টাইফনের ছোড়া টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র চীনের পূর্ব উপকূলের বহু ঘাঁটি, বন্দর ও সরবরাহকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে। পূর্ব চীন সাগর, বাসি প্রণালি এবং তাইওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথের গভীর পর্যন্তও এগুলো যেতে পারে। এসএম-৬ সামুদ্রিক আঘাত হানা এবং স্বল্প পাল্লায় উচ্চমাত্রার আকাশ প্রতিরক্ষার পরিপূরক ব্যবস্থা। সরু নৌপথ সুরক্ষায় এবং জাপানের জলসীমার কাছে আসা জাহাজকে হুমকিতে ফেলতে এটি কাজে লাগে। পশ্চিম জাপানে মোতায়েন থাকলে ব্যবস্থাটি পুরো কোরীয় উপদ্বীপে পৌঁছাতে পারে, যা উত্তর কোরিয়ার উসকানির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরদার করে।
ব্যবস্থাটির কার্যকারিতার কেন্দ্রে রয়েছে চলনক্ষমতা। টাইফন ব্যবস্থার চারটি উৎক্ষেপণযন্ত্র ছড়িয়ে দেওয়া, বেসামরিক যানবাহন বা ভূপ্রকৃতির আড়ালে লুকিয়ে রাখা এবং দ্রুত প্রস্তুত করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া সম্ভব। এক দফা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর প্রতিপক্ষ অবস্থান শনাক্ত করে আঘাত হানার আগেই ক্রুরা অন্যত্র চলে যেতে পারে। ‘বিড়াল-ইঁদুর’ ধরনের এই কৌশল পিপলস লিবারেশন আর্মির জন্য গুরুতর সমস্যা তৈরি করে। চলতে ও লুকাতে পারে এমন লক্ষ্যবস্তু খুঁজে ধ্বংস করতে তাদের আরও নজরদারি, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমানশক্তি নিয়োজিত করতে হয়। একটি ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থার চারটি উৎক্ষেপণযন্ত্রে মোট ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা যায়, আর পেছনের অবস্থানে পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র ভরার ব্যবস্থাও করা যায়।
প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত রাখাও জরুরি। এ অঞ্চলে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীই বৃহত্তম। এতে রয়েছে জাহাজবিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ডিএফ-১৭-এর মতো হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল ও ওয়াইজে-২১-এর মতো সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যবস্থা। চীনের কৌশল ‘অ্যান্টি-অ্যাক্সেস অ্যান্ড এরিয়া ডিনায়াল’ নামে পরিচিত; এর লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের বাহিনীকে দূরে রাখা। টাইফন এ চ্যালেঞ্জ দূর করে না। তবে চীনের পরিকল্পনা জটিল করা, জাপানের বিরুদ্ধে দূরপাল্লার হামলায় সহায়তা করতে পারে এমন লক্ষ্যবস্তুকে হুমকিতে ফেলা এবং সংঘাতের ক্ষেত্রে মূল্য চুকাতে বাধ্য করার উপায় দেয় জোটকে। সেন্সর, সাইবার সক্ষমতা এবং মিত্রবাহিনীর অন্য অংশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ওপরই ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা নির্ভর করে।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে শূন্যতা ও ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন যুগ
২০১৯ সালে আইএনএফ চুক্তির অবসান ঘটে। এর ফলে শীতল যুদ্ধের সময়কার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি সরে যায়। ওই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে ৫০০ থেকে ৫,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন থেকে বিরত রেখেছিল। এশিয়ায় এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা কখনো ছিল না। কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিকের দেশগুলো ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নিয়েছে। চীন পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে ঘাঁটি ও জাহাজকে হুমকিতে ফেলতে সক্ষম বিশাল অস্ত্রভান্ডার গড়ে তুলেছে। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র টাইফন ও এনএমইসিসের মতো ব্যবস্থা এনেছে এবং ২০২৬ সাল থেকে ইউরোপে দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা সামনে মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররাও একই পথে এগোচ্ছে। জাপান টাইপ ১২-এর পাল্লা বাড়াচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার হিউনমু সিরিজের পাল্লা ও নির্ভুলতা বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়া নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন এবং দূরপাল্লার আকাশ-থেকে-আকাশ ও ভূমি-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রে বিনিয়োগ করছে। ভারত ফিলিপাইনে ব্রহ্মস রপ্তানি শুরু করেছে।
এ প্রবণতায় ভুল হিসাবের ঝুঁকি বাড়ে। আরও নির্ভুল ও দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক কমান্ডারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কমিয়ে দেয়। সংকটে আগাম আঘাত হানার প্রলোভন বাড়ে, যখন অস্ত্রগুলো চলনক্ষম, টিকে থাকার উপযোগী এবং শনাক্ত করা কঠিন হয়। সংকটকালে যোগাযোগ, সামরিক হটলাইন, মহড়ার স্পষ্ট নিয়ম এবং স্বচ্ছ আগাম বিজ্ঞপ্তি এ ঝুঁকি কমাতে পারে। কিছু সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকলে উত্তর-পূর্ব এশিয়া পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের এমন চক্রে পড়তে পারে, যা ভবিষ্যতের সংকটকে আরও তীব্র ও সামলানো কঠিন করে তুলবে।
নৌপথ, বাণিজ্য ও সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ
জাপানের অর্থনীতির জীবনরেখা দক্ষিণ চীন সাগর ও সংলগ্ন জলসীমা দিয়ে গেছে। জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে এমন যেকোনো সংঘাত বা চাপ সৃষ্টির অভিযান জ্বালানি আমদানি ও বাণিজ্যপ্রবাহে আঘাত হানবে। এ কারণেই জাপান, ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি সামুদ্রিক আইন প্রয়োগের সক্ষমতাও বাড়াচ্ছে। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড সেন্টিনেল শ্রেণির টহলজাহাজের বহর বাড়াচ্ছে এবং গুয়ামে সক্ষমতা যোগ করছে। জাপান হেলিকপ্টার ওঠানামার ডেকসহ নতুন বড় কোস্ট গার্ড জাহাজ চালু করছে। এসব সম্পদ মাছধরা নৌবহর ও কোস্ট গার্ডের সঙ্গে দৈনন্দিন মোকাবিলা সামলাতে সহায়তা করে এবং শান্তিকালীন টহল ও যুদ্ধকালীন অভিযানের মধ্যকার ব্যবধান কমায়।
রেজলুট ড্রাগনের মতো সামরিক মহড়া এমন আইনি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত, যা বাহিনীকে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ ও মোতায়েনের সুযোগ দেয়। জাপান-ফিলিপাইন নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি পারস্পরিক সফর ও যৌথ প্রশিক্ষণ সহজ করে। উন্নত সেন্সর ও তথ্য ভাগাভাগির সঙ্গে মিলিয়ে এসব পদক্ষেপ বিপজ্জনকভাবে চালানো কোস্ট গার্ড জাহাজের মতো ‘গ্রে জোন’ কৌশল সফল হওয়া কঠিন করে তোলে। সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের কাছে চীনের নিয়মিত অনুপ্রবেশ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা জাপানের এসব অগ্রাধিকার নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে।
এরপর কী নজরে রাখবেন
টোকিও ও ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা বলছেন, ইওয়াকুনিতে টাইফনের উপস্থিতি রেজলুট ড্রাগন ২৫-এর সঙ্গে সম্পর্কিত; এটি স্থায়ীভাবে ঘাঁটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নয়। ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থাগুলো জাপানে আরও ঘন ঘন ফিরছে কি না, বেশি সময় থাকছে কি না, কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিম দ্বীপপুঞ্জের আরও স্থান থেকে কাজ শুরু করছে কি না—এমন লক্ষণ নজরে রাখুন। ভবিষ্যতের মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মাল্টি-ডোমেইন টাস্ক ফোর্সের ভূমিকা সম্ভবত বাড়বে। কমান্ডটি যৌথ যুদ্ধ পরিচালনার দিকে এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর সঙ্গে এর সমন্বয় আরও ঘনিষ্ঠ হবে। জার্মানি ২০২৬ সাল থেকে দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা ও একটি মাল্টি-ডোমেইন টাস্ক ফোর্স মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি মনে করিয়ে দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন অঞ্চলে এসব সক্ষমতাকে একই মানে গড়ে তুলছে।
মিত্রদের সক্ষমতা বাড়তে থাকবে। জাপানের সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কাঠামো সম্প্রসারিত হচ্ছে। মেরিনরা আরও এনএমইসিস ইউনিট মোতায়েন করবে। ফিলিপাইন উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র রেজিমেন্ট গড়ে তুলছে। ইউরোপ ও এশিয়ায় টাইফন নিয়ে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। জার্মানি ও ফিলিপাইন ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
চীনের প্রতিক্রিয়াও নিবিড়ভাবে নজরে রাখা দরকার। নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, জাপানের কাছে মহড়া এবং পাল্টা মোতায়েন হতে পারে; এর সঙ্গে টোকিও ও ম্যানিলার ওপর কূটনৈতিক চাপও আসতে পারে। রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া এসব পদক্ষেপকে অস্থিতিশীল বলে আখ্যা দিতে থাকবে। তাই প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রেখে উত্তেজনা বাড়ার চক্র এড়াতে মিত্রদের সংকট সামলানোর প্রস্তুতি, স্বচ্ছতা ও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
একনজরে
- রেজলুট ড্রাগন ২৫ মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র জাপানে টাইফন ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা দেখিয়েছে; সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পরিকল্পনা নেই।
- টাইফন থেকে টমাহক ও এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া যায়, যা জোটকে দূরপাল্লার স্থল-আক্রমণ ও সামুদ্রিক আঘাত—দুই ধরনের সক্ষমতা দেয়।
- ইওয়াকুনির ব্যবস্থায় একটি পরিচালনা কেন্দ্র ও চারটি উৎক্ষেপণযন্ত্র রয়েছে। প্রতিটিতে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র রাখা যায় এবং দ্রুত পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র ভরার সুযোগ আছে।
- এর আগে ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবস্থাটি আনা হয়েছিল। তালিসমান সাবর মহড়ায় এসএম-৬ সরাসরি ছোড়াও হয়।
- চীন এ পদক্ষেপকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে নিন্দা করেছে। রাশিয়া সামরিক-প্রযুক্তিগত পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
- জাপানের ২০২২ সালের কৌশলে পাল্টা হামলার সক্ষমতা, বেশি প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং উন্নত টাইপ ১২-এর মতো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের বাহিনী প্রথম দ্বীপশৃঙ্খলজুড়ে মেরিনদের এনএমইসিস ইউনিটসহ অন্যান্য ব্যবস্থার সঙ্গে টাইফনের সমন্বয় করছে।
- আইএনএফ যুগের সীমাবদ্ধতা আর কার্যকর না থাকায় ইন্দো-প্যাসিফিকজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্তার দ্রুত হচ্ছে।
- গুয়াম ও জাপানে সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ এবং কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি সমুদ্রে সামরিক প্রতিরোধকে সহায়তা করছে।
- টাইফন জাপানে আবার আসে কি না, মিত্রদের সমন্বয় কত দ্রুত বাড়ে এবং বেইজিং কীভাবে মোতায়েন ও মহড়া বদলায়—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নজরে রাখতে হবে।






