ছুটির সপ্তাহে হংকংয়ের ভ্রমণ নেটওয়ার্কের পরীক্ষা
বছরের মধ্যে অন্যতম ব্যস্ত গোল্ডেন উইকের প্রস্তুতি নিচ্ছে হংকং। নগর কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাস, ১ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রগুলো দিয়ে প্রায় ৮৭ লাখ ৬০ হাজার যাত্রীর যাতায়াত হবে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বেশি যাত্রীর চাপ থাকবে বুধবার ও শনিবার, যথাক্রমে জাতীয় দিবস (১ অক্টোবর) এবং ছুটির প্রথম সপ্তাহান্তে। এই ঢল সীমান্তের চেকপয়েন্ট, নগরের সড়ক ও গণপরিবহনের সক্ষমতার পরীক্ষা নেবে। সবখানেই বিশেষ পরিকল্পনা কার্যকর করা হচ্ছে।
সূচিপত্র
- ছুটির সপ্তাহে হংকংয়ের ভ্রমণ নেটওয়ার্কের পরীক্ষা
- সীমান্ত পেরিয়ে যাত্রীর চাপ কতটা হবে
- ব্যস্ততম দিন ও যানজটের স্থান
- কোথায় এবং কখন আতশবাজি দেখবেন
- বন্দরের আশপাশে সড়ক বন্ধ ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ
- গণপরিবহন: বাড়তি ট্রেন ও রাতভর পরিষেবা
- সীমান্ত পারাপারের পরামর্শ ও তথ্যসেবা
- এ বছর যাত্রীর সংখ্যা কেন বাড়ছে
- দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা: অনুষ্ঠান, ছাড় ও দর্শনীয় স্থান
- নৌ-নিরাপত্তা ও বন্দরে বিধিনিষেধ
- বিমান পরিবহন ও পর্যটনে অর্থনৈতিক গুরুত্ব
- যা জানা জরুরি
পর্যটন খাতের নেতাদের ধারণা, ৬ অক্টোবর মধ্য-শরৎ উৎসবের সপ্তাহের সঙ্গে মিলে যাওয়া এই ছুটিতে চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ১৫ লাখ পর্যটক আসবেন। এ বছর মূল ভূখণ্ডে ছুটি টানা আট দিনের। ১ অক্টোবর রাত ৮টায় ভিক্টোরিয়া হারবারের ওপর ২৩ মিনিটের আতশবাজি প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠার ৭৬তম বার্ষিকী পালন করবে শহরটি। বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের জনপ্রিয় এলাকায় টানতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিনা মূল্যে ট্রাম ভ্রমণ, অতিরিক্ত সমুদ্রপথের ফেরি এবং ছাড়ে সিনেমার টিকিটের ব্যবস্থাও সমন্বয় করছে কর্তৃপক্ষ।
সীমান্তে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অভিবাসন বিভাগ বিভিন্ন চেকপয়েন্টে প্রায় ৭০০টি স্বয়ংক্রিয় ইমিগ্রেশন লেন চালু রাখবে। তাদের Easy Boundary প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষার সময় ও শাটল-সংযোগের হালনাগাদ তথ্যও প্রকাশ করা হবে। জলতীরবর্তী এলাকায় বড় পরিসরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ অভিযান চালাবে পুলিশ। এ সময়ে এমটিআর করপোরেশন নেটওয়ার্কজুড়ে ৫৭০টির বেশি অতিরিক্ত ট্রেন চালাবে। ব্যস্ততম যাত্রার দিনগুলোতে হংকং হাই স্পিড রেল সেকশনে বাড়তি পরিষেবার পরিকল্পনাও রয়েছে। পায়ে হেঁটে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড় সামলাতে আতশবাজি প্রদর্শনীর সময় বন্দরের দুই পাশের প্রধান সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ রাখা হবে।
পর্যটনের কয়েকটি মাপকাঠিতে প্রত্যাশিত এই ভিড় হবে ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ। দর্শনীয় স্থানগুলোতে দীর্ঘ সারি, দর্শকে ভরা জলতীরবর্তী পথ এবং সন্ধ্যার অনুষ্ঠান শেষে গভীর রাতে যাতায়াতের প্রস্তুতি নিচ্ছে নগরসেবা সংস্থাগুলো।
সীমান্ত পেরিয়ে যাত্রীর চাপ কতটা হবে
অভিবাসন বিভাগের হিসাব, ১ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত হংকংয়ের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রগুলো দিয়ে প্রায় ৮৭ লাখ ৬০ হাজার যাত্রা হবে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৭১ লাখ ৬০ হাজার। মূল ভূখণ্ডে দীর্ঘ ছুটি এবং বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলে স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণের জোরালো চাহিদা মিলিয়ে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে কর্মকর্তাদের ধারণা, সম্মিলিত ছুটির সময়ে চীনের প্রধান বন্দরগুলোতে দৈনিক গড়ে সীমান্ত পেরোনো যাত্রীর সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়াবে। শেনঝেন ও ঝুহাইগামী সীমান্তপথসহ বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থলবন্দরগুলোতে যাত্রীর চাপ বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হংকং থেকে মূল ভূখণ্ডে যাওয়া বাসিন্দা এবং কেনাকাটা, খাবার ও আতশবাজি দেখতে শহরে আসা দর্শনার্থীরাই যাত্রীর সংখ্যা বাড়াবেন।
ব্যস্ততম দিন ও যানজটের স্থান
১ অক্টোবর এবং আবার ৬ অক্টোবর যান চলাচল সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত সকালে মূল ভূখণ্ডমুখী যাত্রার ঢল এবং গভীর রাতে ফেরার সময় স্থলসীমান্তে সবচেয়ে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। লো উ, লোক মা চাউ ও শেনঝেন বে-র মতো জনপ্রিয় উত্তরমুখী পথ ব্যবহারকারীদের হাতে বাড়তি সময় রাখা উচিত; বিকেলের তুলনামূলক কম ব্যস্ত সময়ে যাত্রার কথাও বিবেচনা করতে পারেন। Easy Boundary প্ল্যাটফর্মে প্রতিটি সীমান্তপথের গড় অপেক্ষার সময় সরাসরি হালনাগাদ করা হয়, যা কখন ও কোথা দিয়ে সীমান্ত পার হবেন, সে সিদ্ধান্ত নিতে যাত্রীদের সহায়তা করে।
কোথায় এবং কখন আতশবাজি দেখবেন
১ অক্টোবর রাত ৮টায় আতশবাজি প্রদর্শনী শুরু হবে। সেন্ট্রাল ও সিম শা সুইয়ের মাঝামাঝি ভিক্টোরিয়া হারবারের ওপর প্রদর্শনীটি প্রায় ২৩ মিনিট চলবে। গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠার ৭৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চীনা অ্যানিমেশন এবং আসন্ন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে অনুপ্রাণিত বিষয়ভিত্তিক দৃশ্য থাকবে। বন্দরের দুই পাশে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার দর্শকের সমাগম হবে বলে আয়োজকদের ধারণা।
আতশবাজি ছোড়ার জন্য বন্দরের মাঝের নৌপথে বড় বড় বার্জ রাখা হবে। দর্শনার্থীদের জন্য প্রকাশিত আয়োজন-সংক্রান্ত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংগীতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ৩০ হাজারের বেশি আতশবাজি ছোড়া হবে। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সব জলতীরবর্তী স্থান থেকে বিনা মূল্যে প্রদর্শনী দেখা যাবে।
আতশবাজি দেখার ভালো জায়গার মধ্যে রয়েছে সিম শা সুইয়ের জলতীরবর্তী এলাকা ও অ্যাভিনিউ অব স্টারস, সেন্ট্রাল হারবারফ্রন্ট ও তামার পার্ক এবং ওয়েস্ট কাউলুন কালচারাল ডিস্ট্রিক্ট। একটু দূরে যেতে রাজি থাকলে নর্থ পয়েন্ট ইস্ট কোস্ট পার্ক প্রিসিঙ্কটে তুলনামূলক কম ভিড়ে বেশি জায়গা পাওয়া যাবে। ভালো জায়গা পেতে আগে পৌঁছান, সম্ভব হলে দুই থেকে চার ঘণ্টা আগে। সঙ্গে পানি, আবহাওয়া থেকে সুরক্ষার সরঞ্জাম ও আরামদায়ক জুতা রাখুন, কারণ অনেক সড়ক বন্ধ থাকবে এবং দীর্ঘ পথ হাঁটতে হতে পারে।
ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি তুলে ধরা নানা আয়োজনের সঙ্গে আতশবাজি প্রদর্শনীও করছে শহরটি। ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান টমি ট্যাম কং-শুন বলেন, ছুটির সপ্তাহে বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবিষয়ক আয়োজন দর্শনার্থীদের কাছে এখনও বেশ আকর্ষণীয়।
এ বছর জাতীয় দিবসের আতশবাজির মতো বড় ও ছোট নানা আয়োজনের পাশাপাশি মধ্য-শরৎ উৎসব উপলক্ষে তাই হ্যাং ফায়ার ড্রাগন ড্যান্সের মতো বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানও থাকবে। দর্শনার্থীরা এসব আয়োজন সত্যিই পছন্দ করেন। ভিক্টোরিয়া পার্কের মধ্য-শরৎ লণ্ঠন উৎসবও তাঁদের আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বন্দরের আশপাশে সড়ক বন্ধ ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ
ভিক্টোরিয়া হারবারের দুই তীরেই ব্যাপক ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। সিম শা সুই ও ওয়েস্ট কাউলুনে বিকেলের শেষভাগে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক বন্ধের ব্যবস্থা শুরু হবে; আনুমানিক বিকেল ৫টা থেকে পর্যায়ক্রমে সড়ক বন্ধ করা হবে। বাসগুলোকে অস্থায়ী স্টপে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে এবং কিছু ট্যাক্সি স্ট্যান্ড জলতীরবর্তী এলাকা থেকে সরানো হবে। ঘন ভিড়ের পথে মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পথচারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যারিকেড এবং একমুখী চলাচলের ব্যবস্থা করা হতে পারে।
হংকং দ্বীপে গোল্ডেন বাউহিনিয়া স্কয়ার, ওয়ান চাই ও সেন্ট্রালের আশপাশের সড়ক পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হবে। জলতীরবর্তী পথ ও দর্শনস্থলের দিকে যাওয়া পথচারীদের চলাচল থেকে যানবাহনের চলাচল আলাদা করাই এ বন্ধের উদ্দেশ্য। ব্যস্ত সময়ে সেন্ট্রাল ও ওয়ান চাই এলাকায় গাড়ি চলাচলে বিধিনিষেধ এবং বন্দরের কেন্দ্রীয় জলতীরবর্তী এলাকায় পার্কিংয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে।
জলপথের যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আতশবাজি বহনকারী বার্জের জন্য ভিক্টোরিয়া হারবারের কিছু অংশ নির্ধারিত থাকবে এবং প্রদর্শনীর সময় অন্য নৌযানের জন্য নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণা করা হবে। নৌযান পরিচালনাকারীদের মেরিন বিভাগ ও মেরিন পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলতে এবং নিষিদ্ধ এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
গণপরিবহন: বাড়তি ট্রেন ও রাতভর পরিষেবা
ছুটির ভিড় সামলাতে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ৫৭০টির বেশি অতিরিক্ত ট্রেন চালু করছে এমটিআর। জাতীয় দিবসে আইল্যান্ড, চুয়েন ওয়ান, কুন টং, সাউথ আইল্যান্ড, তুং চুং, ইস্ট রেল ও তুয়েন মা লাইনসহ প্রধান রুটগুলোতে, বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যায়, বাড়তি ট্রেন চলবে। ৬ অক্টোবর মধ্য-শরৎ উৎসবের অনুষ্ঠান শেষে রাতের যাত্রীদের বাড়ি ফেরার সুবিধায় অধিকাংশ স্থানীয় লাইনে রাতভর পরিষেবা দেবে রেল কর্তৃপক্ষ। স্টেশনে ভিড় বাড়লে যাত্রীদের হাতে বাড়তি সময় রাখা, স্টেশনের নির্দেশনা অনুসরণ এবং ঘোষণাগুলো শোনার পরামর্শ দিয়েছে এমটিআর।
গোল্ডেন উইকে সীমান্তপারের পরিবহন পরিষেবা বাড়ানো হচ্ছে। লো উ ও লোক মা চাউ থেকে উত্তরমুখী এবং দক্ষিণমুখী ট্রেনের সংখ্যা বাড়াবে ইস্ট রেল লাইন। ১ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত হংকং হাই স্পিড রেল সেকশনে প্রতিদিন স্বল্প দূরত্বের যাত্রায় ১৩ জোড়া অতিরিক্ত ট্রেন চলবে। ৪ অক্টোবর হংকং ওয়েস্ট কাউলুন স্টেশন ও মূল ভূখণ্ডের গন্তব্যগুলোর মধ্যে রেকর্ড ১২০ জোড়া ট্রেন চলবে।
ব্যস্ত সংযোগ স্টেশন ও সীমান্ত স্টেশনগুলোতে ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে। সারি সামলাতে অতিরিক্ত কর্মী সহায়তা করবেন, বয়স্ক যাত্রী ও পরিবারগুলোর জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক লেন থাকবে। বড় পরিবহনকেন্দ্রগুলোতে মোবাইল ও ওয়াই-ফাই সংযোগ উন্নত করায় অপেক্ষার সময় যাত্রীদের যোগাযোগ বজায় রাখা সহজ হবে।
সীমান্ত পারাপারের পরামর্শ ও তথ্যসেবা
স্থল চেকপয়েন্টে যাত্রী চলাচল দ্রুত করতে ইলেকট্রনিক ইমিগ্রেশন পরিষেবা বাড়াচ্ছে অভিবাসন বিভাগ। ছুটির সময়ে শহরজুড়ে প্রায় ৭০০টি স্বয়ংক্রিয় লেন চালু থাকবে। প্রতিটি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে গড় অপেক্ষার সময়ের সরাসরি হালনাগাদ এবং শাটল বাস ও সংযোগ পরিষেবার তথ্য পেতে যাত্রীরা Easy Boundary প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন। লো উ, লোক মা চাউ ও শেনঝেন বে-তে ব্যস্ত সময়ের ভিড় এড়াতে এ তথ্যসেবাগুলো কাজে আসবে।
- সম্ভব হলে ব্যস্ত সময় এড়িয়ে চলুন; যেমন, সকালে দেরিতে মূল ভূখণ্ডমুখী এবং দুপুরের পরের দিকে হংকংমুখী যাত্রা করুন।
- বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে পাসপোর্টের মেয়াদ ও প্রবেশের কাগজপত্র যাচাই করুন। গেটে সময় কমাতে পরিচয়পত্র পরীক্ষা করার জন্য প্রস্তুত রাখুন।
- যোগ্য হলে স্বয়ংক্রিয় লেন ব্যবহার করুন। ছোট শিশু বা বড় লাগেজসহ যাত্রীদের কর্মী-পরিচালিত কাউন্টার বা অগ্রাধিকার লেনের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
- ভ্রমণসূচিতে হাতে বাড়তি সময় রাখুন। অতিরিক্ত কর্মী থাকলেও ছুটির ভিড়ে ইমিগ্রেশন ও পরিবহন—দুই ক্ষেত্রেই অনিশ্চিত দীর্ঘ সারি তৈরি হতে পারে।
এ বছর যাত্রীর সংখ্যা কেন বাড়ছে
এ বছর জাতীয় দিবসের ছুটি মধ্য-শরৎ উৎসবের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় ১ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত মূল ভূখণ্ডে টানা আট দিনের ছুটি থাকছে। দীর্ঘ ছুটিতে আঞ্চলিক ভ্রমণ ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করার প্রবণতা বাড়ে, যা দক্ষিণ চীনে সীমান্তপারের যাতায়াত বাড়ায়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল পুনরুদ্ধার এবং বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলে নিয়মিত সপ্তাহান্তের ভ্রমণ আবার চালু হওয়ায় গ্রীষ্মের পর থেকে যাত্রীর চাপ আরও বেড়েছে।
রেলভ্রমণে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আগস্টের শেষ নাগাদ গুয়াংঝৌ-শেনঝেন-হংকং হাই স্পিড রেলপথে ২০২৫ সালে ২ কোটির বেশি যাত্রী চলাচল করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশের বেশি। হংকং ও শেনঝেনের মধ্যে সীমান্তপারের যাতায়াত এখন এই যাত্রীসংখ্যার বড় অংশ। ছুটির সময়ে দৈনিক যাত্রীসংখ্যা নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। পর্যটন খাতের নেতারাও আশা করছেন, সপ্তাহটিতে হংকংয়ে আসা পর্যটকের সংখ্যা ২০১৮ সালের প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজারের রেকর্ডের কাছাকাছি হবে।
দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা: অনুষ্ঠান, ছাড় ও দর্শনীয় স্থান
গোল্ডেন উইকে নানা উদ্যাপনের আয়োজন করছে নগর সংস্থা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। বন্দরের আতশবাজি ছাড়াও বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা বিনা মূল্যে ট্রাম ভ্রমণ, সমুদ্রপথের উন্নত ফেরি পরিষেবা এবং নির্দিষ্ট দিনে ছাড়ে সিনেমার টিকিট পাবেন। মধ্য-শরৎ উৎসবের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্য ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মধ্যে রয়েছে তাই হ্যাং ফায়ার ড্রাগন ড্যান্স এবং ভিক্টোরিয়া পার্কসহ বিভিন্ন এলাকায় লণ্ঠন প্রদর্শনী। আতশবাজি সম্পর্কে সরকারি তথ্য ও হালনাগাদের জন্য cpo.gov.hk-এর অনুষ্ঠানসংক্রান্ত পাতাটি দেখুন।
জলতীরবর্তী এলাকায় দ্রুত ভিড় জমতে পারে। তুলনামূলক ফাঁকা জায়গা চাইলে ওয়েস্ট কাউলুন কালচারাল ডিস্ট্রিক্টের খোলা চত্বর, অ্যাডমিরালটির কাছে তামার পার্ক, সেন্ট্রাল হারবারফ্রন্টের অনুষ্ঠানস্থল অথবা হংকং দ্বীপের পূর্ব দিকে নর্থ পয়েন্ট ইস্ট কোস্ট পার্ক প্রিসিঙ্কটে যেতে পারেন। প্রতিটি জায়গা থেকেই বাধাহীনভাবে আতশবাজি দেখা যায় এবং পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। অনেক রেস্তোরাঁ ও হোটেলেও আতশবাজি দেখার প্যাকেজ আছে। তবে আগে পৌঁছালে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত জলতীরবর্তী পথ থেকেও বিনা মূল্যে ভালো দৃশ্য দেখা যায়।
গোল্ডেন উইকে হংকংয়ে আসা বা হংকং থেকে যাওয়া আকাশযাত্রীরা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নতুন পরিষেবাগুলো দেখতে পারেন। যোগ্য যাত্রীদের জন্য বিমানযাত্রী প্রস্থান করের অর্থ ফেরত আবেদনের নতুন প্ল্যাটফর্ম ১ অক্টোবর চালু হচ্ছে। দর্শনীয় স্থান ও সীমান্তপথের ব্যস্ত সময়সংক্রান্ত ব্যবহারিক হালনাগাদ পাওয়া যাবে হংকং ট্যুরিজম বোর্ডের গোল্ডেন উইক তথ্যকেন্দ্রে।
নৌ-নিরাপত্তা ও বন্দরে বিধিনিষেধ
আতশবাজি প্রদর্শনীর সময় আতশবাজি ছোড়ার বার্জগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্দরের মাঝের নৌপথের কিছু অংশ নিয়মিত নৌযান চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে। নৌযান পরিচালনাকারীদের মেরিন বিভাগের বিজ্ঞপ্তি পর্যবেক্ষণ এবং সাময়িক নিষিদ্ধ এলাকা মেনে চলা উচিত। মেরিন পুলিশ পরিচালনাকারীদের মনে করিয়ে দিয়েছে, নৌযানের চালকের আসনে বসে মদ্যপান বা মাদক গ্রহণের জন্য কঠোর শাস্তি রয়েছে। বন্দরের প্রবেশমুখের আশপাশে নিরাপত্তা তল্লাশি জোরদার করা হবে। নিষিদ্ধ এলাকার কাছে অনিয়মিতভাবে নোঙর করলে আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বিমান পরিবহন ও পর্যটনে অর্থনৈতিক গুরুত্ব
ছুটিতে যাত্রীর বড় ঢল সামলাতে প্রস্তুতি নিয়েছে বিমান সংস্থা ও পরিবহন পরিচালনাকারীরা। খাতসংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের বড় তথ্যভান্ডার থেকে আট দিনের ছুটির আগে ফ্লাইট খোঁজা ও বুকিং বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মূল ভূখণ্ডের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টিকিট বুকিং গত বছরের তুলনায় অনেক এগিয়ে, আন্তর্জাতিক বুকিংও বেড়েছে। অপচয়মূলক সময়সূচি এড়িয়ে সম্ভব হলে আসনসংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দিচ্ছে চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল প্রশাসন। আসনভর্তি যাত্রীর হার বেশি এবং জ্বালানির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় বিশ্লেষকদের ধারণা, ব্যস্ত সপ্তাহগুলোতে আসনপ্রতি আয় বাড়বে।
হংকংয়ের বিমান পরিবহনকেন্দ্রেও গতি ফিরছে। ক্যাথে প্যাসিফিক গ্রুপের যাত্রীসংখ্যা এক বছর আগের তুলনায় জুলাইয়ে ২৪ শতাংশ বেড়েছে। তাদের স্বল্পমূল্যের সহযোগী বিমান সংস্থা এইচকে এক্সপ্রেসের নেটওয়ার্কও ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। মধ্য-শরৎ উৎসবের সঙ্গে গোল্ডেন উইক মিলে যাওয়ায় অক্টোবরে অবকাশযাত্রার চাহিদা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে; এতে হংকংয়ের বাসিন্দাদের বহির্গামী ভ্রমণ এবং মূল ভূখণ্ড থেকে আসা যাত্রী—দুই প্রবাহই বাড়বে। হাই স্পিড রেলপথের ভালো কার্যক্রমও এই চিত্রকে শক্তিশালী করছে; ৪ অক্টোবর রেকর্ডসংখ্যক ট্রেন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়েস্ট কাউলুন স্টেশন।
শহরের অর্থনীতিতে এ সপ্তাহ আতিথেয়তা, খুচরা বিক্রি ও খাবারের ব্যবসায় স্বস্তিদায়ক গতি আনবে। ১ থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে মূল ভূখণ্ডের প্রায় ১,৩০০টি পর্যটকদল আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জলতীরবর্তী রেস্তোরাঁ, বন্দরে ভ্রমণের নৌযান পরিচালনাকারী, সিম শা সুই ও সেন্ট্রালের বিপণিবিতান এলাকা এবং ছুটির অনুষ্ঠান আয়োজনকারী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়তে পারে।
যা জানা জরুরি
- ১ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত হংকংয়ের সীমান্তগুলো দিয়ে প্রায় ৮৭ লাখ ৬০ হাজার যাত্রা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বছরওয়ারি প্রায় ২২ শতাংশ বেশি।
- জাতীয় দিবসের আতশবাজি ১ অক্টোবর রাত ৮টায় শুরু হবে এবং ভিক্টোরিয়া হারবারের ওপর প্রায় ২৩ মিনিট চলবে।
- প্রদর্শনী দেখতে বন্দরের দুই পাশে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার দর্শকের সমাগম হবে বলে আয়োজকদের ধারণা।
- ভিড় সামলাতে বিকেলের শেষভাগ থেকে সিম শা সুই, ওয়েস্ট কাউলুন, ওয়ান চাই ও সেন্ট্রালে পর্যায়ক্রমে সড়ক বন্ধ করবে পুলিশ।
- এমটিআর এ সময়ে ৫৭০টির বেশি অতিরিক্ত ট্রেন চালাবে এবং ৬ অক্টোবর মধ্য-শরৎ উৎসবের অনুষ্ঠান শেষে রাতভর পরিষেবা দেবে।
- হংকং হাই স্পিড রেল সেকশনে ১ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন ১৩ জোড়া অতিরিক্ত ট্রেন চলবে; ৪ অক্টোবর চলবে রেকর্ড ১২০ জোড়া।
- প্রায় ৭০০টি স্বয়ংক্রিয় ইমিগ্রেশন লেন চালু থাকবে এবং Easy Boundary প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষার সময়ের হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে।
- আতশবাজি দেখার ভালো জায়গার মধ্যে রয়েছে সিম শা সুইয়ের জলতীরবর্তী এলাকা, সেন্ট্রাল হারবারফ্রন্ট, তামার পার্ক, ওয়েস্ট কাউলুন কালচারাল ডিস্ট্রিক্ট এবং নর্থ পয়েন্ট ইস্ট কোস্ট পার্ক প্রিসিঙ্কট।
- প্রদর্শনী চলাকালে বন্দরের কিছু অংশে নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে এবং মেরিন পুলিশ নিরাপত্তা তল্লাশি চালাবে।
- যোগ্য যাত্রীদের বিমানযাত্রী প্রস্থান করের অর্থ ফেরত আবেদনের নতুন প্ল্যাটফর্ম ১ অক্টোবর চালু করছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।






