২০২২ সালের পর প্রথমবার টোকিওর হোটেল ভাড়া কেন কমল
আগের বছরের তুলনায় জুলাইয়ে টোকিওর হোটেল ভাড়া ২ শতাংশের বেশি কমেছে। দুই বছর নয় মাসের মধ্যে এটাই প্রথম পতন। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির অবসান ঘটিয়ে এই পতন ভ্রমণকারীদের চাহিদায় সাময়িক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৫ সালের এক্সপোর ব্যস্ত মাসগুলোতে দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক ওসাকামুখী হয়েছেন। একই সময়ে, জুলাইয়ে জাপানে সম্ভাব্য ভূমিকম্প নিয়ে অনলাইনে আলোচনা কিছু ভ্রমণকারীকে তাঁদের ভ্রমণসূচি বদলাতে উৎসাহিত করেছে। এ দুইয়ের প্রভাবে রাজধানীতে হোটেলের কক্ষ ভর্তির হার কমেছে এবং মাসজুড়ে ভাড়ার ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।
সূচিপত্র
- ২০২২ সালের পর প্রথমবার টোকিওর হোটেল ভাড়া কেন কমল
- ২০২৫ সালের এক্সপো ওসাকাকে আকর্ষণের কেন্দ্র করে তুলেছে
- দর্শনার্থীর সংখ্যা, টিকিট ও কক্ষ ভর্তির হার
- অবকাঠামো ও পরিবহন
- জুলাইয়ে ভূমিকম্পের গুজব ভ্রমণ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছে
- চাহিদার আকস্মিক পরিবর্তন ও উল্লম্ফনে হোটেলের ভাড়া কীভাবে বদলায়
- এক্সপো ঘিরে বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রভাব
- আঞ্চলিকভাবে লাভবান গন্তব্য ও ভ্রমণকারীদের বিকল্প ব্যবস্থা
- ব্যস্ত মৌসুমে ভ্রমণ পরিকল্পনার ব্যবহারিক পরামর্শ
- ২০২৫ সালের শেষ ভাগের পূর্বাভাস
- মূল কথা
সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর থেকে এশিয়ার নগর হোটেল বাজারগুলোর মধ্যে টোকিও অন্যতম স্থিতিশীল। ইয়েনের দুর্বলতা বিদেশি পর্যটকদের ব্যয়ে সহায়তা করেছে, আর সম্মেলন ও অনুষ্ঠানের ব্যস্ত সূচির কারণে অনেক এলাকায় হোটেলের কক্ষ পূর্ণ থেকেছে। জুলাইয়ের ঘটনাটি দেখিয়েছে, এককালীন বৈশ্বিক আকর্ষণ এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ঝুঁকি-সংক্রান্ত আলোচনা কীভাবে জাপানের বৃহত্তম শহরগুলোর মধ্যে রাতযাপনের চাহিদা দ্রুত সরিয়ে দিতে পারে। এতে টোকিওর আকর্ষণ মৌলিকভাবে কমে গেছে, এমন ইঙ্গিত নেই। বরং অন্য অঞ্চলে প্রজন্মে একবারের মতো বড় কোনো অনুষ্ঠান শুরু হলে এবং গুজব ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণাকে প্রভাবিত করলে, মূল্য নির্ধারণের মডেল যে তাৎক্ষণিকভাবে বদলে যায়, সেটিই বোঝা যায়।
২০২৫ সালের এক্সপো ওসাকাকে আকর্ষণের কেন্দ্র করে তুলেছে
ওসাকার ইউমেশিমা দ্বীপে ১৩ এপ্রিল থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ২০২৫ সালের এক্সপো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকেরা ১৫০টিরও বেশি দেশের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং সর্বোচ্চ ২ কোটি ৮২ লাখ দর্শনার্থীর পরিকল্পনা করেছেন। জাতীয় প্যাভিলিয়ন, করপোরেট প্রদর্শনী এবং বিকেল ও সন্ধ্যার অনুষ্ঠানগুলো দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সময় অবস্থান এবং বারবার আসতে উৎসাহিত করছে। চাহিদার এই ঢল সামলাতে কানসাই অঞ্চলের হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন সংস্থাগুলো সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং সময়সূচি নতুন করে সাজিয়েছে।
জাপান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ২০২৫ ওয়ার্ল্ড এক্সপোজিশনের কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, দর্শনার্থীদের প্রায় ৯০ শতাংশ হবেন দেশের ভেতরের এবং প্রায় ৪০ শতাংশ আসবেন কিনকি অঞ্চলের (পশ্চিম জাপান) বাইরে থেকে। এই অনুপাতগুলো ব্যাখ্যা করে, কেন ওসাকা ও আশপাশের শহরগুলোতে আগেভাগেই বুকিং বেড়ে গিয়েছিল। প্যাভিলিয়ন দলের সদস্য ও প্রদর্শকদের কর্মীদের দলগত প্রশিক্ষণের কারণে উদ্বোধনের আগে এবং গ্রীষ্মজুড়ে হোটেলের কক্ষের ব্লকগুলো পূর্ণ হয়ে যায়।
দর্শনার্থীর সংখ্যা, টিকিট ও কক্ষ ভর্তির হার
উদ্বোধনের আগে আগাম টিকিট বিক্রি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে ছিল। মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত ১ কোটি ৪০ লাখের আগাম বিক্রির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৮২ লাখ ১০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। এই ঘাটতিতে দর্শনার্থীর সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। মাঠ খুলে যাওয়ার পর এবং গ্রীষ্মকালীন অনুষ্ঠানের কারণে দিন ও সন্ধ্যায় দর্শনার্থী বাড়তে শুরু করলে যাতায়াতও বেড়ে যায়। ওসাকার হোটেল বাজার আগে থেকেই চাপে ছিল। জাপান ট্যুরিজম এজেন্সির এক জরিপে দেখা যায়, ২০২৪ সালে ওসাকায় হোটেলের গড় কক্ষ ভর্তির হার ছিল ৭৫.৮ শতাংশ, যা টোকিওর পর প্রিফেকচারগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এক্সপো চলাকালে ওসাকার কেন্দ্রীয় এলাকায় এবং গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনের আশপাশে সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট ছিল; অতিরিক্ত চাহিদার কিছুটা সামলেছে কিয়োটো।
দামের ওপরও সেই চাপের প্রভাব পড়ে। ভ্রমণ পরামর্শক ও বুকিংয়ের ধরন থেকে বোঝা যায়, মূল মাসগুলোতে ওসাকার অনেক মধ্যম ও উচ্চমানের হোটেলে কক্ষভাড়া প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়েছে। কিয়োটোর ঐতিহ্যবাহী সরাইখানাগুলো আমানতের সময়সীমা এগিয়ে এনেছে এবং বাতিলের শর্ত কঠোর করেছে। কোবে বা নারায় অবস্থান করা ভ্রমণকারীরা প্রায়ই তুলনামূলক স্থিতিশীল ভাড়া এবং কম সময় আগে বুকিংয়ের সুযোগ পেয়েছেন; পরে রেলে করে এক্সপো প্রাঙ্গণে যাতায়াত করেছেন।
অবকাঠামো ও পরিবহন
যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পরিবহন সংস্থাগুলো কাজ করেছে। উন্নয়নের মধ্যে ছিল ইউমেশিমা পর্যন্ত পাতালরেল সম্প্রসারণ, ওসাকা ও কিয়োটোর মধ্যে ঘন ঘন ট্রেন চালানো, বিমানবন্দরের সঙ্গে যাতায়াতের ব্যবস্থা বাড়ানো, বিশেষ বাস রুট এবং অতিরিক্ত ফেরি। টোকিও ও ওসাকার মধ্যে শিনকানসেন দক্ষতার সঙ্গে চলেছে, তবে সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ের ট্রেনগুলোতে চাহিদা ছিল বেশি। যাঁরা সময়সূচিতে নমনীয় ছিলেন, তাঁরা সকাল গড়িয়ে বা দুপুরের শুরুতে আসন পেতে তুলনামূলক সুবিধা পেয়েছেন। একটি সরকারি দর্শনার্থী অ্যাপ সময়সূচি, মানচিত্র ও সতর্কবার্তার মাধ্যমে ভিড় এড়িয়ে পরিকল্পনা করতে সহায়তা করেছে।
জুলাইয়ে ভূমিকম্পের গুজব ভ্রমণ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছে
এদিকে, জুলাইয়ে জাপানে বড় ভূমিকম্প হবে বলে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মাস আগে থেকে বড় ভূমিকম্পের সঠিক সময় পূর্বাভাস দেওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নেই। জাপান আবহাওয়া সংস্থা ও ভূকম্পবিদ্যার বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে পদক্ষেপ না নিতে নিয়মিত সতর্ক করেন। ভূকম্পন শুরু হওয়ার ঠিক আগে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের নোটিশ দিতে পারে; কয়েক সপ্তাহ বা মাস আগে নিশ্চিতভাবে জানাতে পারে না।
তবু গুজব মানুষের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু ভ্রমণকারী জুলাইয়ে টোকিও সফর পিছিয়ে দিয়েছেন বা সংক্ষিপ্ত করেছেন। অন্যরা ওসাকা ও আশপাশের শহরকে কেন্দ্র করে ভ্রমণ করেছেন, পরে মৌসুমের শেষ দিকে টোকিও ফিরেছেন। এতে রাজধানীর পর্যটন অর্থনীতি ব্যাহত হয়নি। তবে এক্সপোর আকর্ষণের সঙ্গে মিলিত হয়ে এক মাসের জন্য গড় হোটেল ভাড়া কমানোর মতো প্রভাব তৈরি হয়েছে।
চাহিদার আকস্মিক পরিবর্তন ও উল্লম্ফনে হোটেলের ভাড়া কীভাবে বদলায়
জাপানের অধিকাংশ হোটেল চাহিদার সংকেত অনুযায়ী ভাড়া সমন্বয়ে রেভিনিউ ম্যানেজমেন্ট টুল ব্যবহার করে। কোনো শহরে অনলাইন অনুসন্ধান, দলগত বুকিং ও বুকিংয়ের গতি বাড়লে ভাড়া বাড়ে। ক্যালেন্ডারে ফাঁকা সময় থাকলে অল্প সময় আগে করা বুকিং আকৃষ্ট করতে ভাড়া কমানো হয়। এখন আন্তর্জাতিক চেইন থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র হোটেলেও গতিশীল মূল্য নির্ধারণ প্রচলিত, আর বড় অনুষ্ঠানের সময় এর প্রভাব সহজেই চোখে পড়ে।
সক্ষমতা ও কর্মীসংখ্যা কঠোর সীমা তৈরি করে। আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল ব্র্যান্ড ফোর সিজনস ও ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়াসহ গত দুই বছরে ওসাকায় নতুন কক্ষ যুক্ত হয়েছে। নতুন কক্ষের সরবরাহ থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে লাখ লাখ দর্শনার্থীকে কেন্দ্রীভূত করা কোনো অনুষ্ঠান ভাড়া বাড়িয়ে দিতে পারে। কর্মীর সংখ্যাও আরেকটি সীমাবদ্ধতা। পুরো সক্ষমতায় কাজ করার মতো পর্যাপ্ত কর্মী না থাকলে হোটেলগুলো সব কক্ষ ভাড়া দিতে পারে না। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জাপানের অনেক শহরেই এই সীমাবদ্ধতা বজায় রয়েছে।
টোকিওর বাজার আরও বিস্তৃত ও গভীর; ব্যবসায়িক, অবকাশযাপন ও দলগত ভ্রমণকারীদের বিভিন্ন অংশ থাকায় ঝুঁকিও ছড়িয়ে থাকে। জুলাইয়ে স্বল্পমেয়াদি অবকাশযাপনের চাহিদা সরে গেলেও সেই ভারসাম্য বদলায়নি। ইয়েনের দুর্বলতা বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছে খাবার, কেনাকাটা ও দর্শনীয় স্থানগুলোকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী করে তুলছে। শরতের পর এক্সপোকেন্দ্রিক চাহিদা স্বাভাবিক হলে ছুটি, উৎসব ও সম্মেলনের সপ্তাহগুলোতে টোকিওর ভাড়ার ওপর আবার চাপ বাড়তে পারে।
এক্সপো ঘিরে বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রভাব
এক্সপোকে ঘিরে অর্থনৈতিক প্রত্যাশা বড়। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে এর প্রভাব প্রায় ২.৯ ট্রিলিয়ন ইয়েন হবে বলে হিসাব করেছে। এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্টিটিউট অব রিসার্চের পৃথক এক গবেষণায় প্রভাবের পরিমাণ প্রায় ২.৭৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন বলা হয়েছে। চূড়ান্ত দর্শনার্থীর সংখ্যা এবং ব্যয়ের কতটা প্রকৃত নতুন ব্যয়, আর কতটা জাপানের ভেতরে অন্য ভ্রমণ থেকে স্থানান্তরিত, তার ওপর এই মোট হিসাব নির্ভর করছে।
ব্যয় ও আয়ের হিসাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। প্রাথমিক বাজেটের তুলনায় নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে, আর উদ্বোধনের আগে টিকিট বিক্রি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে ছিল। গ্রীষ্মকালীন অনুষ্ঠান, জাতীয় দিবসের আয়োজন এবং বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শনার্থী বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন আয়োজকেরা। প্রাঙ্গণটি প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ভাবনা তুলে ধরার মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে, যা স্কুল, পরিবার ও পেশাজীবীদের বারবার আসতে আকৃষ্ট করতে পারে।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে নগর উন্নয়ন প্রকল্পের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউমেশিমার আশপাশে মেট্রো ও সড়ক উন্নয়ন, নতুন হোটেলের পরিকল্পনা এবং জলতীরবর্তী এলাকার পুনর্বিকাশ থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। অক্টোবরে এক্সপো শেষ হওয়ার পর ভ্রমণের ধরন নতুনভাবে স্থির হওয়ায় কিছুটা মন্দা আসতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। পরিকল্পিত সমন্বিত রিসোর্ট এগিয়ে গেলে এবং নতুন পরিবহন সংযোগ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের প্রবাহ বদলাতে থাকলে প্রবৃদ্ধির দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে।
আঞ্চলিকভাবে লাভবান গন্তব্য ও ভ্রমণকারীদের বিকল্প ব্যবস্থা
এক্সপো-সংশ্লিষ্ট রাতযাপনের বেশিরভাগই পেয়েছে ওসাকা ও কিয়োটো। কেন্দ্রীয় এলাকাগুলো পূর্ণ হয়ে গেলে অতিরিক্ত চাহিদার কিছুটা পেয়েছে কোবে, নারা ও ওয়াকায়ামা। হিরোশিমা, কানাজাওয়া ও হাকোনের মতো গন্তব্যও লাভবান হয়েছে; বিদেশি পর্যটকেরা কানসাই ও চুগোকু অঞ্চলে দীর্ঘ ভ্রমণসূচি সাজিয়ে পরে ফ্লাইটে ফেরার আগে রাজধানীতে ফিরেছেন।
টোকিওর হোটেলগুলো খালি পড়ে থাকেনি। পরিবার ও প্রথমবার আসা দর্শনার্থীরা রাজধানীর সঙ্গে ফুজি পর্বত বা উপকূলীয় অবকাশের গন্তব্য যুক্ত করেছেন। পরিবর্তনটা হয়েছে প্রান্তিক অংশে। যাঁরা এক সপ্তাহের ভ্রমণে টোকিও ও কানসাইয়ে সমান সময় কাটানোর কথা ভাবছিলেন, তাঁদের একাংশ এক্সপোকে সফরের মূল আকর্ষণ করে কিয়োটো বা হিরোশিমাকে পার্শ্বভ্রমণ হিসেবে যুক্ত করেছেন।
ভ্রমণ পরিকল্পনাকারী ও বুকিং ফোরামের অভিজ্ঞতাভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের শরতে ওসাকা ও কিয়োটোয় প্রতি রাতের খরচ বেড়েছে, এমনকি মধ্যম মানের হোটেলেও। অক্টোবর ও নভেম্বরে টোকিওতেও ভাড়া চড়া ছিল, যদিও কানসাইয়ের মতো অতটা বাড়েনি। আগাম বুকিং এবং ব্যস্ত মৌসুমের আগে-পরে ভ্রমণে বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে।
ব্যস্ত মৌসুমে ভ্রমণ পরিকল্পনার ব্যবহারিক পরামর্শ
এক্সপোর সময় ওসাকায় যাওয়া দর্শনার্থীরা আগেভাগে সিদ্ধান্ত নিলে সুবিধা পাবেন। তারিখ ঠিক হলে ফেরতযোগ্য বুকিংসহ কক্ষ নিশ্চিত করুন। ওসাকার কেন্দ্রে ভাড়া বেশি হলে কোবে বা নারায় থাকার কথা বিবেচনা করুন। দুটিই রেলে সহজে ইউমেশিমায় যাওয়ার দূরত্বে এবং সাধারণত তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ ভাড়া পাওয়া যায়। কিয়োটোয় কম দর্শনার্থী যান এমন এলাকা বিবেচনা করুন এবং ঐতিহ্যবাহী সরাইখানায় বাতিলের কঠোর শর্তের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
পরিবহনের ক্ষেত্রে, সপ্তাহান্ত ও ছুটির আগে শিনকানসেনের আসন সংরক্ষণ করুন। সকাল গড়িয়ে বা দুপুরের শুরুতে ছাড়ে এমন ট্রেনে সাধারণত আসন পাওয়ার সুযোগ বেশি। কানসাই অঞ্চলে ওসাকা ও কিয়োটোর মধ্যে ঘন ঘন ট্রেন চলায় যাতায়াতের সময় কম, তবে এক্সপো খোলার ও বন্ধের সময় স্টেশনে ভিড় হতে পারে। সংযোগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় হাতে রাখুন এবং সবচেয়ে ব্যস্ত পরিবহনকেন্দ্রগুলো থেকে দূরে খাবারের পরিকল্পনা করুন।
জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ও দর্শনীয় স্থানে আগাম সংরক্ষণের প্রয়োজন হতে পারে। কিয়োটোর কিছু মন্দির ও বাগানে নির্দিষ্ট সময়ে প্রবেশের ব্যবস্থা রয়েছে, আবার সেখানে রাত কাটানো অতিথিরা সকালে আগে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন। বড় আকর্ষণগুলোতে ডিজিটাল সারি ব্যবস্থাপনা ও বর্ধিত সময়সূচি ভিড় ভাগ করে নিতে সাহায্য করতে পারে, তবে ব্যস্ত দিনগুলোতে ধৈর্য ধরাও জরুরি।
২০২৫ সালের শেষ ভাগের পূর্বাভাস
অক্টোবরে এক্সপো শেষ হলে টোকিও ও ওসাকার মধ্যে ভারসাম্য আবার বদলাতে পারে। অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক চাহিদার উল্লম্ফন পেরিয়ে ওসাকায় দর্শনার্থীর প্রবাহ আরও সমান হয়ে আসবে। শরতের অনুষ্ঠান ও বছরের শেষের ভ্রমণের সময় টোকিওর ভাড়া বাড়তে পারে, বিশেষত মুদ্রার দর দুর্বল থাকলে এবং বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ বেশি থাকলে। সরবরাহ বাড়লে এবং সময়ের সঙ্গে চাহিদা ছড়িয়ে পড়লে কানসাইয়ে ভাড়া কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
হোটেল পরিচালকেরা সপ্তাহ ধরে বুকিংয়ের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করবেন। এক্সপোতে মৌসুমের শেষ ভাগেও দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি থাকলে কানসাইয়ের দিকে চাহিদার টান অক্টোবরে অব্যাহত থাকতে পারে। তা কমলে কিছু চাহিদা আরও আগেই টোকিওমুখী হতে পারে। টোকিওয় জুলাইয়ের ভাড়া কমার ঘটনা ভ্রমণকারীদের পছন্দে কাঠামোগত পরিবর্তনের চেয়ে রাতযাপনের জন্য অসাধারণ প্রতিযোগিতার একটি সাময়িক চিত্র বলেই মনে হচ্ছে।
মূল কথা
- আগের বছরের তুলনায় জুলাইয়ে টোকিওর হোটেল ভাড়া ২ শতাংশের বেশি কমেছে। দুই বছর নয় মাসের মধ্যে এটাই প্রথম পতন।
- ওসাকায় ২০২৫ সালের এক্সপো ব্যস্ত মাসগুলোতে রাজধানী থেকে দর্শনার্থীদের টেনেছে, ফলে কানসাইয়ের হোটেল বাজারে চাপ বেড়েছে।
- মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত ১ কোটি ৪০ লাখের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৮২ লাখ ১০ হাজার আগাম টিকিট বিক্রি হয়েছিল; উদ্বোধনের পর গ্রীষ্মকালীন অনুষ্ঠানের কারণে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।
- ২০২৪ সালে ওসাকায় হোটেলের কক্ষ ভর্তির হার গড়ে ছিল ৭৫.৮ শতাংশ, যা প্রিফেকচারগুলোর মধ্যে টোকিওর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
- এক্সপোর জাতীয় অর্থনৈতিক প্রভাবের হিসাব প্রায় ২.৭৫ ট্রিলিয়ন থেকে ২.৯ ট্রিলিয়ন ইয়েন।
- ভ্রমণকারীরা আগাম বুকিং করে অথবা কোবে বা নারায় থেকে রেলে যাতায়াত করে খরচ সামলেছেন।
- ভিত্তিহীন ভূমিকম্পের গুজব জুলাইয়ে কিছু মানুষের ভ্রমণ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে, যা চাহিদার পরিবর্তনকে আরও বাড়িয়েছে।
- এক্সপোর পর টোকিওর ভাড়া আবার বাড়তে পারে, আর কানসাইয়ের ভাড়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে।






