পর্যটকদের কার্ডে অতিরিক্ত ফি আরোপের কথা কেন ভাবছে জাপান
দেশের বাইরে ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার ওপর নতুন ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে জাপান। এতে পর্যটকদের অনেক লেনদেনে ১ থেকে ৩ শতাংশ অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। বিদেশে ইস্যু করা ভিসা ও মাস্টারকার্ডের লেনদেন প্রক্রিয়াকরণে ধারাবাহিক লোকসানের কথা জানাচ্ছে দেশটির কার্ড কোম্পানিগুলো। জাপান ও বিদেশের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি আরোপের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সরকারও জানিয়েছে, শিল্প খাতের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিস্তারিত জানানো হবে।
সূচিপত্র
- পর্যটকদের কার্ডে অতিরিক্ত ফি আরোপের কথা কেন ভাবছে জাপান
- জাপানে বিদেশে ইস্যু করা কার্ডের ক্ষেত্রে কী আলাদা
- একটি সাধারণ কেনাকাটায় খরচের হিসাব
- নতুন ফি কে নির্ধারণ ও আদায় করবে
- মার্চেন্টদের যা জানা দরকার
- জাপানে দুই স্তরের মূল্যব্যবস্থা বাড়ছে
- পর্যটকদের কার্ডে সারচার্জে গড়পড়তা কত খরচ হতে পারে
- সময়সূচি এবং চালুর আগে যেসব পরিবর্তন হতে পারে
- জাপানে কার্ডের খরচ কমানোর উপায়
- অন্য গন্তব্যের সঙ্গে জাপানের তুলনা
- যা জানা দরকার
এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে জাপানে বিদেশি পর্যটকের ঢল এবং বৈশ্বিক কার্ড ফি কাঠামো। ২০২৪ সালে রেকর্ড ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার আন্তর্জাতিক পর্যটক জাপান সফর করেন। তাঁদের ব্যয়ের বড় অংশই হয় কার্ডে। কোনো পর্যটক বিদেশি ব্যাংকের ইস্যু করা কার্ড ব্যবহার করলে জাপানি লেনদেন প্রক্রিয়াকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নেটওয়ার্ক ও ইন্টারচেঞ্জ ফি দিতে হয়, যা অভ্যন্তরীণ লেনদেনের ফি থেকে বেশি। অন্যদিকে, জাপানে মার্চেন্ট ফি কম—গড়ে প্রায় ১.৯ শতাংশ, আর বড় খুচরা বিক্রেতাদের ক্ষেত্রে কখনো কখনো ১ শতাংশেরও কম। এই অসামঞ্জস্যের ফলে দেশীয় কার্ড কোম্পানিগুলোর ঘাটতি বাড়ছে।
নিকেইয়ের প্রকাশিত এবং আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে সংক্ষেপে তুলে ধরা আটটি বড় প্রতিষ্ঠানের এক জরিপে দেখা গেছে, ছয়টি প্রতিষ্ঠানের বিদেশে ইস্যু করা কার্ডের লেনদেনে ঘাটতি আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। কিছু কোম্পানি শুধু বিদেশে ইস্যু করা কার্ডের ওপর ১ থেকে ৩ শতাংশ ফি আরোপের কথা ভাবছে। নিউজনজাপানে উদ্ধৃত শিল্প খাতের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রতিটি লেনদেনে ঘাটতি প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ইয়েন। পর্যটকদের বিপুল ব্যয়ের কথা বিবেচনায় নিলে বছরে এই ঘাটতি ৩০ বিলিয়ন ইয়েন পর্যন্ত হতে পারে।
কয়েকটি পথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কার্ড কোম্পানিগুলো কার্ডধারীর ওপর দৃশ্যমান সারচার্জ আরোপ করতে পারে। মার্চেন্টরা আলাদা মূল্য তালিকা দিতে পারে, যেখানে বিদেশি কার্ড ব্যবহার করলে মোট দাম বেশি হবে। অথবা পর্যটকদের ভিড় বেশি এমন নির্দিষ্ট খাতের জন্য লেনদেন প্রক্রিয়াকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পরোক্ষ ফি সমন্বয় করতে পারে। যেকোনো পদক্ষেপের ক্ষেত্রেই বৈশ্বিক নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং স্পষ্ট নিয়ম দরকার, যাতে ক্রেতারা ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে অপ্রত্যাশিত ফি দেখে চমকে না যান।
জাপানে বিদেশে ইস্যু করা কার্ডের ক্ষেত্রে কী আলাদা
জাপানের কার্ড বাজারে মার্চেন্ট ফি কম। কার্ড ইস্যুকারী ও মার্চেন্টের অধিগ্রহণকারী—দুই প্রতিষ্ঠানই স্থানীয় হলে দেশীয় কাঠামোর কারণে খরচও প্রায়ই নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু কোনো পর্যটক বিদেশে ইস্যু করা কার্ডে মূল্য পরিশোধ করলে পরিস্থিতি বদলে যায়। জাপানি অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে ভিসা বা মাস্টারকার্ডকে ব্র্যান্ড ফি, আন্তসীমান্ত মূল্যায়ন ফি এবং বিদেশি কার্ড ইস্যুকারীকে ইন্টারচেঞ্জ ফি দিতে হয়। মার্চেন্টের ফি খুব কম হলে, ওই বিক্রিতে প্রক্রিয়াকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যয় আয়ের চেয়ে বেশি হতে পারে।
একটি সাধারণ কেনাকাটায় খরচের হিসাব
ধরা যাক, বড় একটি চেইন স্টোরে বিদেশে ইস্যু করা কার্ডে ১০ হাজার ইয়েনের কেনাকাটা করা হলো। স্টোরটি মার্চেন্ট ফি দেয় ০.৯ শতাংশ। অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান পাবে ৯০ ইয়েন। এরপর তাকে নেটওয়ার্ক ফি দিতে হবে—মাস্টারকার্ড বা ভিসাকে প্রায় ১.০ থেকে ১.১ শতাংশ—এর সঙ্গে ইন্টারচেঞ্জ ও দেশীয় ব্যবস্থার খরচও রয়েছে। নিউজনজাপানে প্রকাশিত শিল্প খাতের ভাষ্য অনুযায়ী, হিসাবের ফলে ওই লেনদেনে ৭০ থেকে ৮০ ইয়েন ঘাটতি হতে পারে। পর্যটনের ব্যস্ত মৌসুমে লাখ লাখ কেনাকাটার ক্ষেত্রে এই লোকসান দ্রুত বাড়ে।
কার্ড নেটওয়ার্কের ফি কমানো কঠিন। বৈশ্বিক নেটওয়ার্কগুলো নির্ধারিত হার প্রকাশ করে, যা বদলানোর ক্ষমতা পৃথক বাজারগুলোর সীমিত। ইয়েনের দর দুর্বল থাকায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে এবং কার্ডে লেনদেনের পরিমাণও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বিদেশে ইস্যু করা কার্ডের লেনদেনকে আবার লোকসান-লাভের ভারসাম্যে আনতে দেশীয় প্রক্রিয়াকারীরা কার্ডধারীর ওপর নির্দিষ্ট সারচার্জ আরোপের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
নতুন ফি কে নির্ধারণ ও আদায় করবে
নিকেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিতসুই সুমিতোমো কার্ড ও মিতসুবিশি ইউএফজে নিকোসসহ বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিকল্পটি খতিয়ে দেখেছে। এতে বোঝা যায়, জাতীয় কর হিসেবে নয়, বরং কার্ড শিল্পের উদ্যোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ভোক্তা সুরক্ষা, ফি প্রকাশ এবং বিভিন্ন মার্চেন্ট ও খাতে একইভাবে ফি প্রয়োগ নিশ্চিত করাই হবে সরকারের প্রধান ভূমিকা।
চালু হলে কয়েকভাবে ফি নেওয়া হতে পারে। টার্মিনাল বিদেশে ইস্যু করা কার্ড শনাক্ত করলে আলাদা একটি লাইন হিসেবে ফি দেখাতে পারে। কিছু মার্চেন্ট বিদেশি কার্ডে মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে ভিন্ন মোট দাম দেখাতে পারে। অতিরিক্ত খরচটি মার্চেন্টের বদলে কার্ডধারীর ওপর চাপাতে লেনদেন প্রক্রিয়াকারীরাও নিষ্পত্তির অঙ্ক সমন্বয় করতে পারে। যেকোনো মডেলকেই নেটওয়ার্কের নিয়ম এবং দেশীয় মূল্য প্রদর্শন আইন মেনে চলতে হবে।
মার্চেন্টদের যা জানা দরকার
খুচরা বিক্রেতাদের স্পষ্ট নোটিশ টাঙানো এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। টার্মিনালকে নির্ভরযোগ্যভাবে বিদেশে ইস্যু করা কার্ড শনাক্ত করে শুধু সেসব ক্ষেত্রেই ফি আরোপ করতে হবে। অনেক দোকান পর্যটকদের জন্য করমুক্ত কেনাকাটার কাগজপত্র এমনিতেই সামলায়। বিদেশি কার্ড ফি যোগ হলে সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং সতর্ক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, যাতে বিদেশি ব্যাংকের কার্ড ব্যবহারকারী জাপানের বাসিন্দাদের ভুল করে ফি দিতে না হয়।
জাপানে দুই স্তরের মূল্যব্যবস্থা বাড়ছে
পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন দাম রাখার বিতর্কও সামনে আসছে। টোকিও উইকেন্ডারের প্রতিবেদনে এ ধরনের নানা চর্চার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ওকিনাওয়ার একটি নতুন থিম পার্কের ইংরেজি ওয়েবসাইটে জাপানি সাইটের তুলনায় বেশি দাম দেখানো হয়; জাপানি সাইটে স্থানীয় যোগাযোগের তথ্য দিতে হয়। বড় রেস্তোরাঁ বুকিং প্ল্যাটফর্ম তাবেলগ দেশীয় ও বিদেশি গ্রাহকদের জন্য আলাদা বুকিং ব্যবস্থা চালায়। বিদেশি ব্যবহারকারীদের জনপ্রতি ৪৪০ ইয়েন সিস্টেম ফি দিতে হয়। বাড়তি কর্মঘণ্টা ও সেবার খরচের কথা উল্লেখ করে টোকিওর কিছু রেস্তোরাঁ পর্যটকদের ওপর সারচার্জ আরোপ করেছে বা তাঁদের জন্য দাম বাড়িয়েছে।
সমর্থকেরা বলছেন, পর্যটকেরা আয়কর দিয়ে স্থানীয় বাজেটে অবদান রাখেন না, আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের সেবা দিতে বাড়তি সম্পদ লাগে এবং চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেলে সবার জন্য একই দাম রাখলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। সমালোচকেরা ন্যায্যতা এবং অসংগত মানদণ্ড নিয়ে উদ্বিগ্ন। দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বিদেশিদেরও কখনো কখনো পর্যটক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা জনমনে ক্ষোভ বাড়ায়। দরজায় দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগত বিচার-বিবেচনার বদলে স্বচ্ছ, আবাসিক অবস্থাভিত্তিক নিয়মের আহ্বান জানিয়েছেন সমর্থকেরা।
নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ফিও চালু করেছে সরকারি কর্তৃপক্ষ। ফুজি পর্বতে আরোহণের মৌসুমে ভিড় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্য ২০২৫ সালে প্রিফেকচার কর্তৃপক্ষ প্রবেশপথে ৪ হাজার ইয়েন ফি অনুমোদন করে। শিজুওকা প্রিফেকচারের কর্মকর্তা নাতসুকো সোদেয়ামা চ্যালেঞ্জের মাত্রা এবং নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন।
মাত্র দুই মাসের কিছু বেশি সময়ে এত মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠা জাপানের আর কোনো পাহাড় নেই," বলেন সোদেয়ামা। "তাই তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু বিধিনিষেধ প্রয়োজন।
বিদেশি কার্ডে সারচার্জ হবে বেসরকারি খাতের পরিবর্তন, জনসাধারণের প্রবেশ ফি নয়। তবে দুটিই একই চাপের প্রতিফলন: পর্যটকের বিপুল চাহিদা, যা স্থানীয় ব্যবস্থার খরচ বাড়ায়।
পর্যটকদের কার্ডে সারচার্জে গড়পড়তা কত খরচ হতে পারে
প্রতিবেদনগুলোতে ১ থেকে ৩ শতাংশ ফি আরোপের কথা বলা হয়েছে। রেস্তোরাঁয় ২০ হাজার ইয়েনের বিল হলে বাড়তি ২০০ থেকে ৬০০ ইয়েন দিতে হবে। ১ লাখ ইয়েনের কেনাকাটায় ফি হবে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার ইয়েন। কিছু পর্যটকের খরচ এর চেয়েও বেশি হতে পারে। ফি-মুক্ত কার্ড ব্যবহার না করলে অনেক ব্যাংক বিদেশে লেনদেনে প্রায় ৩ শতাংশ ফি যোগ করে। দুটি ফিই প্রযোজ্য হলে কেনাকাটার অঙ্কের ৪ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি খরচ হতে পারে।
আরেকটি সম্ভাব্য বাড়তি খরচের নাম ডায়নামিক কারেন্সি কনভার্সন। টার্মিনাল বা ওয়েবসাইটে ইয়েনের বদলে নিজ দেশের মুদ্রায় বিল দেওয়ার প্রস্তাব আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে দেওয়া বিনিময় হার সাধারণত ব্যাংকের হারের চেয়ে কয়েক শতাংশ বেশি হয়। সাধারণত ইয়েনে মূল্য পরিশোধ করলে ভালো বিনিময় হার পাওয়া যায়।
অন্য কিছু ক্ষেত্রে জাপানে সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। পাসপোর্ট দেখিয়ে এবং নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি কেনাকাটা করলে পর্যটকেরা অনেক খুচরা কেনাকাটায় করমুক্ত সুবিধা পান, ফলে ১০ শতাংশ ভোগকর দিতে হয় না। কার্ডে সারচার্জ থাকলেও কর বাদ দেওয়ার পর যোগ্য পণ্যের চূড়ান্ত বিল স্থানীয় বাসিন্দাদের দামের চেয়ে কম হতে পারে।
সময়সূচি এবং চালুর আগে যেসব পরিবর্তন হতে পারে
বিষয়টি এখনো পর্যালোচনাধীন। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসে কার্ড কোম্পানি ও মার্চেন্টদের সঙ্গে আলোচনা হবে। প্রযুক্তিগত ও আইনি বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। টার্মিনাল কীভাবে বিদেশে ইস্যু করা কার্ড শনাক্ত করবে, ফি কীভাবে দেখানো হবে, ফেরত ও চার্জব্যাক কীভাবে সামলানো হবে এবং করমুক্ত কেনাকাটার সঙ্গে ফি কীভাবে সমন্বয় হবে—এসব বিষয়ে কোম্পানিগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তথ্য প্রকাশের মানদণ্ড ও ভোক্তা সুরক্ষার বিষয়ে বৈশ্বিক নেটওয়ার্কগুলোও মত দেবে।
ধাপে ধাপে চালু করা হতে পারে। যেসব খাতে লোকসান সবচেয়ে বেশি, যেমন মার্চেন্ট ফি খুব কম এমন বড় ডিপার্টমেন্ট স্টোর, কিংবা পর্যটকের আনাগোনা বেশি এমন এলাকায় কার্ড কোম্পানিগুলো আগে ফি চালু করতে পারে। বিস্তৃতভাবে চালুর আগে নির্বাচিত কয়েকটি শহরে পরীক্ষামূলক কর্মসূচি হতে পারে। মূল লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীর সঙ্গে খরচের সামঞ্জস্য আনা, পাশাপাশি ব্যবস্থা এতটাই সহজ রাখা, যাতে পর্যটকেরা বুঝতে পারেন তাঁদের কত দিতে হবে।
জাপানে কার্ডের খরচ কমানোর উপায়
পর্যটকদের কার্ড ব্যবহার বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বিদেশি কার্ডে সারচার্জ চালু হলে কয়েকটি পরিবর্তনে খরচ কমানো যেতে পারে।
- কেনাকাটার জন্য বিদেশি লেনদেন ফি নেই এমন ক্রেডিট কার্ড সঙ্গে রাখুন। অনেক ব্যাংক ভ্রমণকারীদের জন্য এমন কার্ড দেয়, যাতে প্রচলিত ৩ শতাংশ ফি মওকুফ করা হয়।
- নগদ টাকা তুলতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। নগদ অগ্রিমে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সুদ জমতে শুরু করে এবং আলাদা ফিও থাকে। এর বদলে ভ্রমণের জন্য ডেবিট কার্ড বা প্রিপেইড ট্রাভেল কার্ড ব্যবহার করুন।
- ডায়নামিক কারেন্সি কনভার্সনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইয়েনে মূল্য পরিশোধ করুন। সাধারণত মার্চেন্টের রূপান্তর করা হারের চেয়ে আপনার ব্যাংকের বিনিময় হার ভালো হয়।
- ছোটখাটো কেনাকাটার জন্য কিছু নগদ টাকা সঙ্গে রাখুন। সেভেন ইলেভেন ও জাপান পোস্ট ব্যাংকের এটিএম অনেক বিদেশি কার্ডে চলে। ফি কমাতে আপনার ব্যাংকের আন্তর্জাতিক এটিএম অংশীদারদের তালিকা দেখুন।
- কনভিনিয়েন্স স্টোরের কেনাকাটা ও যাতায়াতে সুইকা বা পাসমোর মতো ট্রানজিট আইসি কার্ড ব্যবহার করুন। পর্যটকদের প্রায়ই সরাসরি ব্যবহারযোগ্য আইসি কার্ডে টাকা ভরতে নগদ লাগে। জাপানের অনাবাসী বা নির্দিষ্ট ফোন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে মোবাইলের মাধ্যমে টাকা ভরা ও স্বয়ংক্রিয় রিচার্জের সুবিধা সীমিত।
- বিদেশি কার্ড ফি কাটা হলে রসিদ রেখে দিন। জাপানে বসবাস করলে এবং বিদেশি ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করলে ভুল করে ফি কাটা হচ্ছে কি না খেয়াল রাখুন। এমন হলে মার্চেন্ট বা কার্ড কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
- যোগ্য ক্ষেত্রে করমুক্ত কেনাকাটার সুবিধা নিন। পাসপোর্ট দেখান এবং যোগ্য পণ্যে ১০ শতাংশ ভোগকর বাদ দিতে দোকানের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
পর্যটন ছাড়াও জাপানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিজস্ব ব্যবস্থায় বিদেশি কার্ডে বাড়তি খরচ হতে পারে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের অনলাইন কনস্যুলার ফি পরিশোধের নির্দেশনায় বিষয়টি উল্লেখ করেছে।
জাপানের বাইরে ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ডে বিনিময় ফি কাটা হতে পারে।
অন্য গন্তব্যের সঙ্গে জাপানের তুলনা
বিশ্বজুড়েই পর্যটকদের ওপর ফি আরোপ প্রচলিত। ভিড় সামলাতে ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ জোগাতে কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ফি নেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সাম্প্রতিক যেসব উদাহরণ এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে ভুটানের দৈনিক টেকসই উন্নয়ন ফি, নিউজিল্যান্ডের আন্তর্জাতিক পর্যটক শুল্ক, বালির পর্যটন কর, আকাশপথে থাইল্যান্ডে আসা পর্যটকদের প্রবেশ ফি, ব্যস্ত দিনে ভেনিসের এক দিনের ফি এবং মাচু পিচুর মতো বিখ্যাত স্থানে বেশি দাম। এগুলো সরকারি ফি, কার্ড সারচার্জ নয়। তবে যুক্তি একই: পর্যটকদের কারণে তৈরি হওয়া বাড়তি খরচের একটি অংশ তাঁদের বহন করতে হবে।
জাপানের কার্ড শিল্প বিদেশি কার্ডে সারচার্জ চালু করলে তা হবে প্রবেশ ফি নয়, বরং অর্থ পরিশোধের অবকাঠামোকেন্দ্রিক একটি আলাদা পদক্ষেপ। কতটা ব্যাপকভাবে এটি চালু হবে, বিক্রির সময় নোটিশ কতটা স্পষ্ট থাকবে এবং ফি-মুক্ত অর্থ পরিশোধের বিকল্প কতটা পাওয়া যাবে—এসবের ওপর নির্ভর করবে পর্যটকেরা বিষয়টি কীভাবে নেবেন।
যা জানা দরকার
- জাপানের বড় কার্ড কোম্পানিগুলো বিদেশে ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ডে মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রায় ১ থেকে ৩ শতাংশ সারচার্জ আরোপের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
- দেশীয় প্রক্রিয়াকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য, নেটওয়ার্ক ও ইন্টারচেঞ্জ ফি জাপানের কম মার্চেন্ট ফির চেয়ে বেশি হওয়ায় এসব লেনদেনে লোকসান হয়।
- শিল্প খাতের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি লেনদেনে ঘাটতি প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ইয়েন এবং বছরে মোট ৩০ বিলিয়ন ইয়েন পর্যন্ত হতে পারে।
- সরকার তথ্য প্রকাশ ও ভোক্তা সুরক্ষার নিয়ম নির্ধারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে; উদ্যোগটি আসবে শিল্প খাত থেকে।
- চালু হলে শুধু বিদেশে ইস্যু করা কার্ডে ফি প্রযোজ্য হবে, জাপানি কার্ডে নয়।
- ফি-মুক্ত কার্ড ব্যবহার, নগদ অগ্রিম এড়িয়ে চলা, ইয়েনে মূল্য পরিশোধ এবং করমুক্ত কেনাকাটার মাধ্যমে পর্যটকেরা খরচ কমাতে পারেন।
- ধাপে ধাপে ফি চালু হতে পারে; শুরুতে পর্যটকের ভিড় বেশি এবং মার্চেন্ট ফি খুব কম এমন খাতকে বেছে নেওয়া হতে পারে।






