জাপানের লিঙ্গসমতার সংকট: কেন বিশ্ব নজর রাখছে
অর্থনৈতিক শক্তি ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রশংসিত জাপান এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে বিশ্বজুড়ে তীব্র নজরদারির মুখে: দেশটিতে লিঙ্গসমতার দীর্ঘস্থায়ী ও ক্রমবর্ধমান সংকট। ২০২৫ সালে গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্সে ১৪৮টি দেশের মধ্যে জাপানের অবস্থান ছিল ১১৮তম, যা জি৭ দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন এবং বিশ্বে অন্যতম পেছনের সারিতে। এই অবস্থান কেবল একটি সংখ্যা নয়—এটি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, কর্মক্ষেত্রে সমতা এবং নারীর আইনি সুরক্ষার গভীর সমস্যাগুলো তুলে ধরে। জাপান সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো, বিশেষ করে নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপবিষয়ক জাতিসংঘ কমিটির (সেডো) জন্য অর্থায়ন বন্ধের পদক্ষেপ, এসব বিষয়কে আন্তর্জাতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
সূচিপত্র
- জাপানের লিঙ্গসমতার সংকট: কেন বিশ্ব নজর রাখছে
- সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত কীভাবে?
- জাপানের প্রতিক্রিয়া: জাতিসংঘে অর্থায়ন বন্ধ
- জাপান কীভাবে এই অবস্থায় পৌঁছাল? লিঙ্গবৈষম্যের শিকড়
- কমফোর্ট উইমেন ইস্যু ও ঐতিহাসিক অবিচার
- আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক প্রভাব
- জাপানের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা
- সম্রাটের উত্তরাধিকার এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
- জনমত বনাম রাজনৈতিক বাস্তবতা
- বৃহত্তর প্রভাব: বিশ্বে জাপানের অবস্থান
- কী পরিবর্তন জরুরি?
- সংক্ষেপে
সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত কীভাবে?
বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক সূত্রপাত ২০২৪ সালের শেষ দিকে সেডোর দেওয়া এক সুপারিশ থেকে। কমিটি জাপানকে পুরুষদের জন্য সংরক্ষিত সম্রাটের উত্তরাধিকার আইন সংশোধনের সুপারিশ করেছিল। ১৯৪৭ সালের ইম্পেরিয়াল হাউসহোল্ড ল অনুযায়ী, কেবল পিতৃবংশের পুরুষরাই ক্রিস্যান্থেমাম সিংহাসনে আরোহণ করতে পারেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই প্রথা চলে আসছে। লিঙ্গসমতার নীতি এবং রাজপরিবারে পুরুষ উত্তরাধিকারীর সংখ্যা কমে আসার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সেডো সংস্কারের আহ্বান জানায়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৬৫ বছরে পা রাখা সম্রাট নারুহিতোর উত্তরাধিকারী মাত্র তিনজন পুরুষ। এতে রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জনসমর্থন ব্যাপক—জনমত জরিপে দেখা যায়, জাপানের প্রায় ৯০ শতাংশ নাগরিক নারী সম্রাটের অনুমতি দেওয়ার পক্ষে। তবু একের পর এক সরকার পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছে। তাদের যুক্তি, পুরুষ সম্রাটের অবিচ্ছিন্ন বংশধারা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি নিছক প্রতীকী নয়; নারীর বিরুদ্ধে কাঠামোগত বৈষম্য মোকাবিলায় জাপানি নীতিনির্ধারকদের বৃহত্তর অনীহাও এতে স্পষ্ট হয়।
জাপানের প্রতিক্রিয়া: জাতিসংঘে অর্থায়ন বন্ধ
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জাপান সরকার ঘোষণা দেয়, তারা সেডোর জন্য স্বেচ্ছায় দেওয়া অর্থায়ন স্থগিত করবে। কমিটির সুপারিশের প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরকে জানায়, জাপানের অনুদান যেন সেডোর কার্যক্রমে ব্যবহার করা না হয়। সেডো কমিটির সদস্যদের জাপার পরিকল্পিত সফরও বাতিল করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তোশিহিরো কিতামুরা ব্যাখ্যা করেন, সরকার সম্রাটের উত্তরাধিকারকে মৌলিক মানবাধিকার বলে মনে করে না, তাই পুরুষদের জন্য সংরক্ষিত বিধানটিকেও বৈষম্যমূলক বলে বিবেচনা করে না। তিনি বলেন, “সম্রাটের সিংহাসনে উত্তরাধিকার এমন একটি বিষয়, যা দেশের ভিত্তিকে প্রভাবিত করে। তাই ইম্পেরিয়াল হাউস ল নিয়ে কমিটির আলোচনা করা সমীচীন নয়।”
তবে সমালোচকদের যুক্তি, এই অবস্থান আন্তর্জাতিক রীতিনীতি এবং জাপানের নিজস্ব চুক্তিগত বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সতর্ক করেছে, জাপানের পদক্ষেপ বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। অস্বস্তিকর সুপারিশের মুখে অন্য দেশগুলোও যাতে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উৎসাহিত হতে পারে।
জাপান কীভাবে এই অবস্থায় পৌঁছাল? লিঙ্গবৈষম্যের শিকড়
লিঙ্গসমতায় জাপানের চ্যালেঞ্জ নতুন নয়। দেশটি ১৯৮৫ সালে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কনভেনশন অনুমোদন করে। তবে এরপর অগ্রগতি হয়েছে ধীরগতিতে এবং অসমভাবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাপান লিঙ্গসমতার পক্ষে কাজ করেছে—বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের আমলে “উইমেনমিক্স” উদ্যোগের মাধ্যমে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ সংস্কার অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
রাজনীতিতে নারীরা এখনো চরমভাবে কম প্রতিনিধিত্বশীল। প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরুর বর্তমান মন্ত্রিসভার ২০ সদস্যের মধ্যে নারী মাত্র দুজন, যেখানে আগে ছিলেন পাঁচজন। এই পতন দেশে ও বিদেশে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, এটি ইঙ্গিত করে যে সরকারের কাছে লিঙ্গসমতার নীতিগুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।
কর্মক্ষেত্রে নারীরা পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্থায়ী বাধা, মজুরির ব্যবধান এবং নেতৃত্বের পদে সীমিত সুযোগের মুখে পড়েন। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা প্রায়ই অপর্যাপ্ত, আর জাপান এখনো বৈষম্য ও হয়রানিকে পুরোপুরি অপরাধ হিসেবে গণ্য করেনি। দেশটিতে এমন আইনও রয়েছে, যার ফলে বিবাহিত দম্পতিকে একই পদবি ব্যবহার করতে হয়। এই নীতি নারীদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাকে তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে।
কমফোর্ট উইমেন ইস্যু ও ঐতিহাসিক অবিচার
লিঙ্গবিষয়ক ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে জাপানের অস্বস্তিকর সম্পর্ক সম্রাটের উত্তরাধিকার বিতর্কেই সীমাবদ্ধ নয়। “কমফোর্ট উইমেন” ইস্যু মোকাবিলার ধরন নিয়ে দেশটি বারবার সমালোচনার মুখে পড়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সামরিক বাহিনী অনেক নারীকে, যাদের মধ্যে কোরিয়া ও এশিয়ার অন্যান্য দেশের নারীরাও ছিলেন, যৌনদাসত্বে বাধ্য করেছিল। সেডো ও জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা জাপানকে এসব অপরাধের ভয়াবহতা স্বীকার করে বেঁচে যাওয়া নারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার সঙ্গে প্রায়ই অতীতের বক্তব্য অস্বীকার করা বা তার গুরুত্ব খাটো করার চেষ্টা যুক্ত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও টানাপোড়েনের মধ্যে ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক প্রভাব
সেডোর জন্য অর্থায়ন বন্ধে জাপানের সিদ্ধান্ত এমন এক সংবেদনশীল সময়ে এসেছে, যখন এ বছর বেইজিং ঘোষণা ও জাতিসংঘের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা কর্মসূচির ২৫তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে—বিশ্বজুড়ে লিঙ্গসমতার আন্দোলনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপের ব্যাপক নিন্দা করেছে। জাপানের মিত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ তাদের অনেকেই কূটনৈতিক সম্পর্কে লিঙ্গসমতাকে অগ্রাধিকার দেয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, জাপানের অনুদান ২০০৫ সাল থেকে সেডোর কাজে ব্যবহার না হওয়ায় এই পদক্ষেপের প্রভাব মূলত প্রতীকী। তারপরও জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, “অগ্রহণযোগ্য সুপারিশ দেওয়ার কারণে কোনো মানবাধিকার সংস্থাকে প্রকাশ্যে কালোতালিকাভুক্ত করা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করে।”
জাতিসংঘ নারী সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহুস ২০২৫ সালের ভাষণে বৈশ্বিক সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, লিঙ্গসমতার অর্থায়ন কমালে “অগ্রগতি ব্যাহত হয়, সুযোগ কমে, শান্তি ঝুঁকিতে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হই।” বেইজিং ঘোষণায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো নতুন করে পূরণ এবং নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নে বিনিয়োগের জন্য তিনি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
জাপানের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা
জাপান সরকার অর্থায়ন বন্ধের গুরুত্ব খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকেশি ইওয়ায়া বলেন, জাপান “লিঙ্গসমতাকে গুরুত্ব দেয় এবং সেডোর সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।” তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে নয়; বরং সম্রাটের উত্তরাধিকার বিষয়ে জাপানের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য নেওয়া হয়েছে। তারপরও এই পদক্ষেপকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি এমন সংকেত হিসেবে দেখা হয়েছে যে সংবেদনশীল সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে বাইরের চাপ মেনে নিতে জাপান রাজি নয়।
সম্রাটের উত্তরাধিকার এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
সম্রাটের উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্কটি কেবল সিংহাসনে কে বসবেন, তা নিয়ে নয়। অনেক রক্ষণশীলের কাছে পুরুষদের জন্য সংরক্ষিত বিধানটি জাতীয় পরিচয় ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য অপরিহার্য। ১৯৪৭ সালে প্রণীত ইম্পেরিয়াল হাউসহোল্ড ল-এর উদ্দেশ্য ছিল পুরুষ বংশধারার অবিচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করা—যে ঐতিহ্য এক সহস্রাব্দেরও বেশি পুরোনো।
তবে জনসংখ্যাগত বাস্তবতা এ বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। রাজপরিবারে এখন মাত্র ১৬ জন সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে পুরুষ মাত্র চারজন। প্রিন্স হিসাহিতো তাঁর প্রজন্মের একমাত্র পুরুষ উত্তরাধিকারী; পিতৃবংশের ধারা বজায় রাখার শেষ ভরসা হিসেবে তাঁকে দেখা হয়। আইন পরিবর্তন না হলে উত্তরাধিকার সংকটের বড় ঝুঁকি দেখা দেবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাপানের অবস্থান সুইডেনের মতো দেশগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীত। সুইডেন লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে উত্তরাধিকার আইন সংস্কার করেছে। জাপানকে সেডোর সুপারিশও নজিরবিহীন নয়; এর আগে কমিটিটি অন্যান্য দেশকে বৈষম্যমূলক উত্তরাধিকার আইন ও পুরুষ অভিভাবকত্বের ব্যবস্থা মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছে।
জনমত বনাম রাজনৈতিক বাস্তবতা
নারী সম্রাটের অনুমতির পক্ষে জনসমর্থন ব্যাপক হলেও সংস্কারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা দুর্বল। নিপ্পন কাইগির মতো রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলোর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক সুপারিশকে জাতীয় সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখে। সেডোর জন্য অর্থায়ন বন্ধে সরকারের সিদ্ধান্ত এসব গোষ্ঠীকে আরও উৎসাহিত করতে পারে এবং লিঙ্গসমতার অগ্রগতি আরও বিলম্বিত করতে পারে।
বৃহত্তর প্রভাব: বিশ্বে জাপানের অবস্থান
জাপানের লিঙ্গসমতার সংকটের প্রভাব দেশের সীমানার অনেক বাইরেও পড়ে। জি৭-এর প্রভাবশালী সদস্য এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বড় অর্থদাতা হিসেবে জাপানের পদক্ষেপের দিকে মিত্র ও অংশীদাররা গভীরভাবে নজর রাখে। সেডো থেকে দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত জাপানের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার এবং মানবাধিকার ও লিঙ্গবিচার বিষয়ে দেশটির বিশ্বাসযোগ্যতা দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, জাপানের এই অবস্থান অন্য দেশগুলোকে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উৎসাহিত করতে পারে। বিশেষ করে তহবিলের ঘাটতি ও রাজনৈতিক মেরুকরণের চাপে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা যখন দুর্বল, তখন এই ঝুঁকি আরও বেশি। সেডোর মতো কমিটির স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নির্ভর করে সদস্যরাষ্ট্রগুলো নজরদারি মেনে নিতে এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতির সঙ্গে সদিচ্ছা নিয়ে যুক্ত হতে প্রস্তুত কি না, তার ওপর।
জাতিসংঘ নারীর ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে লিঙ্গসমতার জন্য নতুন করে অঙ্গীকারের জরুরি প্রয়োজন তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৫-এর ১৪টি সূচকের মধ্যে বিশ্বজুড়ে মাত্র দুটিতে লক্ষ্যমাত্রা প্রায় পূরণ হওয়ার পথে। এতে বিনিয়োগ বাড়ানো, আইনি সুরক্ষা জোরদার করা এবং বিশ্বজুড়ে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
কী পরিবর্তন জরুরি?
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাপানের বক্তব্য ও দেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার ব্যবধান কমাতে লিঙ্গসমতার পথে কাঠামোগত বাধাগুলো মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে:
- নারীদের উত্তরাধিকারের সুযোগ দিতে ইম্পেরিয়াল হাউসহোল্ড ল সংস্কার
- রাজনীতি ও নেতৃত্বের পদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো
- বৈষম্য ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা জোরদার করা
- কমফোর্ট উইমেন ইস্যুসহ ঐতিহাসিক অবিচারের মোকাবিলা করা
- আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে পুনরায় সম্পৃক্ত হওয়া এবং সেডোর ঐচ্ছিক প্রটোকল গ্রহণ করা, যার আওতায় ব্যক্তি অভিযোগ জানাতে পারেন
অর্থবহ সংস্কার না হলে দেশের ভেতরে ও বিশ্বমঞ্চে—উভয় ক্ষেত্রেই লিঙ্গসমতায় জাপানের অবস্থান আরও খারাপ হতে থাকবে।
সংক্ষেপে
- ২০২৫ সালের গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্সে ১৪৮টি দেশের মধ্যে জাপানের অবস্থান ১১৮তম, যা জি৭ দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন
- পুরুষদের জন্য সংরক্ষিত সম্রাটের উত্তরাধিকার আইন সংশোধনের সুপারিশ করার পর সরকার জাতিসংঘের সেডো কমিটির জন্য অর্থায়ন বন্ধ করে
- এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে এবং লিঙ্গসমতা বিষয়ে জাপানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করেছে
- রাজনীতিতে নারীদের কম প্রতিনিধিত্ব, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য এবং অপর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা জাপানের লিঙ্গসমতার সংকটের অংশ
- নারী সম্রাটের পক্ষে জনসমর্থন বেশি, তবে রক্ষণশীল রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো সংস্কারের বিরোধিতা করছে
- বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, জাপানের পদক্ষেপ অন্য দেশগুলোকে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উৎসাহিত করার বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে
- অর্থবহ অগ্রগতির জন্য আইনি সংস্কার, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতির সঙ্গে নতুন করে সম্পৃক্ততা জরুরি






