বৈদ্যুতিক যান চলাচলে ক্যান জিওর উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ
ভিয়েতনামে টেকসই নগর উন্নয়নের নজির গড়তে পারে এমন এক যুগান্তকারী পদক্ষেপে, হো চি মিন সিটির (এইচসিএমসি) বিস্তৃত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের আবাসস্থল ক্যান জিও জেলার কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের পেট্রলচালিত মোটরবাইকের বদলে বৈদ্যুতিক মোটরবাইক কিনতে ১০০ শতাংশ ভর্তুকির প্রস্তাব দিয়েছে। অনুমোদন পেলে, ক্যান জিও হবে এইচসিএমসির প্রথম জেলা, যেখানে বৈদ্যুতিক দুই চাকার যানবাহনে রূপান্তরের পুরো খরচ স্থানীয় সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বহন করবে।
সূচিপত্র
- বৈদ্যুতিক যান চলাচলে ক্যান জিওর উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ
- কেন ক্যান জিও? ভিয়েতনামের জীবমণ্ডল সংরক্ষিত এলাকার বিশেষ প্রেক্ষাপট
- সামাজিক-অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও সহায়তার প্রয়োজন
- প্রস্তাবিত ভর্তুকি কর্মসূচির বিস্তারিত
- কর্মসূচিটি যেভাবে কাজ করবে
- বৈদ্যুতিক যানবাহনে রূপান্তরে এইচসিএমসির বৃহত্তর কৌশল
- কম নির্গমন অঞ্চল ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ
- রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ
- অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব
- অংশীজনদের দৃষ্টিভঙ্গি: সরকার, ব্যবসা ও বাসিন্দা
- অন্যান্য শহরের অভিজ্ঞতা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
- ক্যান জিও ও এইচসিএমসির পরবর্তী পদক্ষেপ
- সংক্ষেপে
সম্প্রতি এক সম্মেলনে ক্যান জিওর উপচেয়ারম্যান হো ভান বিন এই প্রস্তাব ঘোষণা করেন। জেলাটিকে নিট-শূন্য নগর এলাকায় রূপান্তরের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ এটি। পরিকল্পনাটি সবুজ সামুদ্রিক অর্থনীতির বিকাশ, পরিবেশবান্ধব পর্যটন প্রসার এবং পরিবেশ সুরক্ষায় এইচসিএমসির কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
কেন ক্যান জিও? ভিয়েতনামের জীবমণ্ডল সংরক্ষিত এলাকার বিশেষ প্রেক্ষাপট
এইচসিএমসির ব্যস্ত নগরকেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ক্যান জিওর আয়তন ৭০ হাজার হেক্টরের বেশি। এর অর্ধেকজুড়ে রয়েছে ম্যানগ্রোভ ও সংরক্ষিত বন। জেলাটি শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত অঞ্চলই নয়, ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব জীবমণ্ডল সংরক্ষিত এলাকাও। ভিয়েতনাম যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পর পুনরুদ্ধার করা ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রের জন্য এটি বিশেষভাবে পরিচিত।
মাত্র ৭০ হাজারের কিছু বেশি জনসংখ্যার ক্যান জিও এইচসিএমসির অন্যান্য জেলার তুলনায় ছোট। তবু এখানে প্রায় ৩৩ হাজার মোটরবাইক ও প্রায় ১ হাজার গাড়ি রয়েছে, যা এলাকাটির পরিবেশগত সংবেদনশীলতার বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য। ভিনগ্রুপের ৯০০ কোটি ডলারের নগর আবাসন প্রকল্প এবং ক্যান জিওকে নগরকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করার উচ্চগতির মেট্রোর পরিকল্পনাসহ বড় বিনিয়োগও জেলার ভবিষ্যৎকে রূপ দিচ্ছে।
সামাজিক-অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও সহায়তার প্রয়োজন
ভর্তুকির প্রস্তাবের পেছনে অন্যতম চালিকাশক্তি ক্যান জিওর বাসিন্দাদের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, জনসংখ্যার প্রায় ২২ শতাংশকে দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। নতুন নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর নির্মাণপর্বে অনেকের আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য সহায়তা না পেলে এসব পরিবারের জন্য পেট্রলচালিত মোটরবাইকের বদলে বৈদ্যুতিক মোটরবাইক কেনার খরচ বহন করা কঠিন হতে পারে।
উপচেয়ারম্যান হো ভান বিন এই আর্থিক চাপ কমানোর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, পুরো ভর্তুকি নিশ্চিত হলে সবাই পরিচ্ছন্ন পরিবহন ব্যবহারের সুযোগ পাবে এবং শহরের সবুজ রূপান্তরে কম আয়ের বাসিন্দারা পিছিয়ে পড়বেন না।
প্রস্তাবিত ভর্তুকি কর্মসূচির বিস্তারিত
ক্যান জিওর ভর্তুকি পরিকল্পনায় বাসিন্দাদের পেট্রলচালিত মোটরবাইক বদলে বৈদ্যুতিক মোটরবাইক নিতে সহায়তার একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজের কথা বলা হয়েছে। এর ব্যয় স্থানীয় সরকার ও বেসরকারি খাতের অংশীদাররা ভাগ করে নেবে। তাদের মধ্যে রয়েছে ভিনগ্রুপ, যারা এইচসিএমসিতে বৈদ্যুতিক যান (ইভি) গ্রহণে উৎসাহ দিতে ইতিমধ্যে একাধিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে।
ভিনগ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ভিনফাস্ট ১ আগস্ট থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এইচসিএমসিতে বৈদ্যুতিক মোটরবাইক ক্রেতাদের সম্পূর্ণ নিবন্ধন ফি পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে। অতিরিক্ত প্রণোদনার মধ্যে রয়েছে:
- বৈদ্যুতিক গাড়ির ঋণে তিন বছরের জন্য সুদের হার ৩ শতাংশ কমানো
- বৈদ্যুতিক মোটরবাইকের দামে ১০ শতাংশ ছাড় এবং ঋণের সুদের হার তিন বছরের জন্য ১০ শতাংশ কমানো
- ভি-গ্রিনের সরকারি চার্জিং স্টেশনে বিনা মূল্যে ব্যাটারি চার্জের সুবিধা
বিশেষ করে কম আয়ের পরিবারের জন্য বৈদ্যুতিক যানবাহনকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচিটি যেভাবে কাজ করবে
কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নবিধি এখনও চূড়ান্ত হচ্ছে। তবে মূল ধারণাটি হলো, বাসিন্দাদের বর্তমান পেট্রলচালিত মোটরবাইক ও নতুন বৈদ্যুতিক মডেলের দামের পুরো পার্থক্য সরাসরি ভর্তুকি হিসেবে দেওয়া। কর্মসূচিতে সম্ভবত থাকবে:
- পুরোনো পেট্রলচালিত মোটরবাইক কিনে নেওয়া বা বদলে দেওয়ার ব্যবস্থা
- বৈদ্যুতিক মোটরবাইক কেনার জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তা বা ভাউচার
- অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের জন্য স্বল্প সুদের ঋণ
- নিবন্ধন ও অন্যান্য প্রশাসনিক ফি মওকুফ
এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ইভি গ্রহণের আর্থিক ও ব্যবহারিক—দুই ধরনের বাধাই দূর করা।
বৈদ্যুতিক যানবাহনে রূপান্তরে এইচসিএমসির বৃহত্তর কৌশল
ক্যান জিওর উদ্যোগটি বিচ্ছিন্ন কোনো পদক্ষেপ নয়। যানবাহনের নির্গমন কমানো ও নগর পরিবহন আধুনিকায়নে এইচসিএমসির বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ এটি। ২০২৮ সালের মধ্যে ৪ লাখ পেট্রলচালিত মোটরবাইকের বদলে বৈদ্যুতিক যান চালুর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে শহরটি। শুরুতে রাইড-হেইলিং ও পণ্য সরবরাহকারী চালকদের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
হো চি মিন সিটি ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে রাইড-হেইলিং ও পণ্য সরবরাহের প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের জন্য শুধু বৈদ্যুতিক মোটরবাইকই অনুমোদিত হবে। ধাপে ধাপে এই রূপান্তর হবে: ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ৩০ শতাংশ, ২০২৭ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশ এবং ২০২৮ সালের মধ্যে পুরোপুরি রূপান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৯ সালের পর এসব প্ল্যাটফর্মে পেট্রলচালিত মোটরবাইক পুরোপুরি নিষিদ্ধ হবে।
কম নির্গমন অঞ্চল ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ
এইচসিএমসি কম নির্গমন অঞ্চলও চালু করার পরিকল্পনা করছে। এসব এলাকায় ২০২৭ সাল থেকে ব্যস্ত সময়ে পেট্রলচালিত যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ থাকবে এবং ২০২৮ সাল থেকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হবে। পরিবেশগত গুরুত্ব ও চলমান নগর উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে ক্যান জিও শহরের প্রথম দিকের কম নির্গমন অঞ্চলগুলোর একটি হতে যাচ্ছে।
জরুরি পরিবেশ সুরক্ষায় জাতীয় নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া বৃহত্তর নির্গমন নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অংশ এসব উদ্যোগ। দীর্ঘমেয়াদে রূপান্তরকে আর্থিকভাবে টেকসই করতে কার্বন ক্রেডিট বেচাকেনা থেকে আয় দিয়ে ভর্তুকি ও কর ছাড়ের খরচ পুষিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য শহরটির।
রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ
লক্ষ্যটি উচ্চাভিলাষী হলেও ক্যান জিও ও এইচসিএমসিতে বৈদ্যুতিক যান চলাচলে রূপান্তরের পথে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হলো পর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এইচসিএমসিতে ব্যাটারি বদলের স্টেশন ছিল মাত্র প্রায় ৫০টি। নতুন প্রতিষ্ঠান বাজারে আসায় এ সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য চার্জিং পয়েন্টের মানচিত্র তৈরি এবং স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ চার্জিং ব্যবস্থায় বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে কাজ করছে শহরটি।
আরেকটি উদ্বেগ হলো ভাড়া বাড়ির এলাকায় ইভি ব্যবহারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এসব স্থানে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার মান ও অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা যথাযথ নাও হতে পারে। ঝুঁকি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন বাড়ানোর পাশাপাশি বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব
বৈদ্যুতিক মোটরবাইকে রূপান্তরের পরিবেশগত সুফল উল্লেখযোগ্য। এইচসিএমসিতে যানবাহনজনিত নির্গমনের ৯০ শতাংশের জন্য দায়ী মোটরবাইক। এতে বায়ুর মান খারাপ হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে। শহরটির হিসাব, নির্গমন নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপে বছরে ৫৬ হাজার টনের বেশি কার্বন মনোক্সাইড ও ৪ হাজার ৪০০ টন হাইড্রোকার্বন নির্গমন কমানো সম্ভব।
অর্থনৈতিকভাবে এই রূপান্তর ইভি উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ ও চার্জিং অবকাঠামো খাতে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত ব্যয় বা বিঘ্নে যেন কম আয়ের বাসিন্দারা অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করতে সতর্ক ব্যবস্থাপনাও জরুরি।
অংশীজনদের দৃষ্টিভঙ্গি: সরকার, ব্যবসা ও বাসিন্দা
ক্যান জিওর ভর্তুকি কর্মসূচির সাফল্য নির্ভর করবে সরকারি সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর। সম্প্রতি সম্মেলনে ভিনগ্রুপের এক প্রতিনিধি রূপান্তরে সহায়তার বিষয়ে কোম্পানির অঙ্গীকার তুলে ধরে বলেন:
স্থানীয় বাসিন্দাদের বৈদ্যুতিক যানবাহনে রূপান্তরে সহায়তার জন্য আমরা এইচসিএমসিকে আর্থিক প্রণোদনা ও অবকাঠামোতে বিনিয়োগসহ নানা নীতির প্রস্তাব দিয়েছি।
অন্যদিকে, সবুজ উন্নয়নের সুফল যেন ন্যায্যভাবে সবার মধ্যে ভাগ হয়, সে গুরুত্ব তুলে ধরেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। উপচেয়ারম্যান হো ভান বিন বলেন:
স্থানীয় বাসিন্দাদের পেট্রলচালিত মোটরবাইক থেকে বৈদ্যুতিক মোটরবাইকে রূপান্তরে সহায়তার জন্য পুরো অর্থ পরিশোধ করলে তাদের আর্থিক চাপ কমবে। বিশেষ করে নতুন নগর প্রকল্পের নির্মাণকাজে অনেকের আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাসিন্দাদের কাছে এই রূপান্তর একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ। বৈদ্যুতিক মোটরবাইকে চালানোর খরচ কমবে এবং বাতাস পরিচ্ছন্ন হবে। তবে নতুন প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা, চার্জিং স্টেশনের প্রাপ্যতা এবং নগর পুনর্গঠন চলাকালে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
অন্যান্য শহরের অভিজ্ঞতা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
পরিচ্ছন্ন পরিবহন দ্রুত চালু করতে সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন ব্যবহারের যে বৈশ্বিক প্রবণতা বাড়ছে, ক্যান জিওর উদ্যোগ তারই অংশ। বৈদ্যুতিক যানবাহনে রূপান্তরে বাসিন্দাদের উৎসাহিত করতে বিশ্বের বিভিন্ন শহর ভর্তুকি, কর ছাড় ও অবকাঠামোতে বিনিয়োগ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
উদাহরণ হিসেবে, ইউরোপে প্যারিস ও লন্ডনের মতো শহর কম নির্গমন অঞ্চল চালু করেছে। অন্যদিকে, চীন ও ভারত সরকার বড় পরিসরে ইভি ভর্তুকি কর্মসূচি নিয়েছে। এসব উদ্যোগে দেখা গেছে, শক্তিশালী অবকাঠামো ও জনসচেতনতার পাশাপাশি আর্থিক প্রণোদনা পরিচ্ছন্নতর যান চলাচলে রূপান্তর অনেক দ্রুত করতে পারে।
যানবাহনের নির্গমন নিয়ন্ত্রণে ভিয়েতনামের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ২০১০ সাল থেকে শুরু হলেও আইনি ও বাস্তবায়নগত বাধার কারণে অগ্রগতি ধীর। ক্যান জিওকে দিয়ে শুরু হওয়া এইচসিএমসির নতুন সমন্বিত উদ্যোগ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য মডেল হতে পারে।
ক্যান জিও ও এইচসিএমসির পরবর্তী পদক্ষেপ
ক্যান জিওতে বৈদ্যুতিক মোটরবাইক কেনার ভর্তুকির প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন ও বিস্তারিত বাস্তবায়ন নির্দেশিকার অপেক্ষায় রয়েছে। সফল হলে এইচসিএমসি ও ভিয়েতনামের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের কর্মসূচির পথ খুলে দিতে পারে এটি। পরিবেশগত গুরুত্ব, সামাজিক-অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং বড় নগর উন্নয়ন প্রকল্পের অনন্য সমন্বয়ের কারণে ভিয়েতনামের সবুজ রূপান্তরের জন্য জেলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্র।
এইচসিএমসি যত প্রসারিত ও আধুনিক হচ্ছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য রক্ষা ততই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। ক্যান জিওর উদ্যোগ দেখায়, শক্তিশালী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সমর্থনে উচ্চাভিলাষী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি শহরগুলোকে আরও টেকসই ও ন্যায়সংগত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিতে পারে।
সংক্ষেপে
- ক্যান জিও জেলা পেট্রলচালিত মোটরবাইকের বদলে বৈদ্যুতিক মোটরবাইক নিতে বাসিন্দাদের ১০০ শতাংশ ভর্তুকির প্রস্তাব দিয়েছে। লক্ষ্য, এইচসিএমসির প্রথম নিট-শূন্য নগর এলাকা হওয়া।
- পরিকল্পনাটি ৩৩ হাজারের বেশি মোটরবাইক বদলের লক্ষ্য নিয়েছে এবং কম আয়ের বাসিন্দাদের সহায়তার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ব্যয় সরকার ও বেসরকারি খাত ভাগ করে নেবে।
- ভিনগ্রুপ ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়, ঋণের সুদ কমানো এবং বিনা মূল্যে চার্জের সুবিধাসহ অতিরিক্ত প্রণোদনা দিচ্ছে।
- এই উদ্যোগ ২০২৮ সালের মধ্যে ৪ লাখ পেট্রলচালিত মোটরবাইক ইভিতে বদলানো এবং কম নির্গমন অঞ্চল গড়ে তোলার এইচসিএমসির বৃহত্তর কৌশলের অংশ।
- চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা ও সবার জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে কর্মসূচিটি ভিয়েতনামে টেকসই নগর উন্নয়নের মডেল হতে পারে।






