এভারগ্র্যান্ডের পতন: চীনের আবাসন খাতের উত্থানের প্রতীকী সমাপ্তি
সোমবার চায়না এভারগ্র্যান্ড গ্রুপের শেয়ার হংকং স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুত হবে। একসময় দেশটির বৃহত্তম ও সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার তালিকাচ্যুত হওয়ার মধ্য দিয়ে এমন একটি কোম্পানির উত্থান-পতনের কাহিনির নাটকীয় ও চূড়ান্ত অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে, যার মূল্য একসময় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল এবং যা চীনের অভাবনীয় অর্থনৈতিক উত্থানের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। এখন এভারগ্র্যান্ডের পতন সতর্কতামূলক দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে, যা চীনের আবাসন বাজারের ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতেও ঢেউ তুলেছে।
সূচিপত্র
- এভারগ্র্যান্ডের পতন: চীনের আবাসন খাতের উত্থানের প্রতীকী সমাপ্তি
- এভারগ্র্যান্ড এত বড়—এবং এত নাজুক—হলো কীভাবে?
- মোড় ঘোরানো মুহূর্ত: ঋণের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের কঠোর পদক্ষেপ
- চীন ও বিশ্বের জন্য এভারগ্র্যান্ডের পতন কেন গুরুত্বপূর্ণ
- চীনা পরিবার ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব
- বিশ্বজুড়ে প্রভাব: ‘লেহম্যান মুহূর্ত’ কি আসছে?
- বেইজিং কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে?
- সামনের চ্যালেঞ্জ: আবাসন বাজার কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?
- এভারগ্র্যান্ডের উত্তরাধিকার: চীন ও বিশ্বের জন্য শিক্ষা
- সারসংক্ষেপ
এভারগ্র্যান্ডের চোখধাঁধানো পতন কেবল করপোরেট অব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত ঋণের গল্প নয়। এটি চীনের অর্থনৈতিক মডেলের দুর্বলতা, লাগামহীন ফাটকাবাজির ঝুঁকি এবং দ্রুত প্রবৃদ্ধি থেকে আরও টেকসই ভবিষ্যতের পথে রূপান্তরিত হতে থাকা একটি দেশের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো বোঝার জানালা।
এভারগ্র্যান্ড এত বড়—এবং এত নাজুক—হলো কীভাবে?
১৯৯৬ সালে গ্রামীণ হেনান প্রদেশের সাবেক ইস্পাতশ্রমিক হুই কা ইয়ানের প্রতিষ্ঠিত এভারগ্র্যান্ড চীনের নগরায়ণ ও আবাসন খাতের বেসরকারীকরণের ঢেউয়ে চড়ে এগিয়ে যায়। কোম্পানিটির ব্যবসায়িক মডেল ছিল সরল, তবে আগ্রাসী: বিপুল ঋণ নিয়ে জমি কেনা, নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করা এবং সেই অর্থ দিয়ে ঋণদাতাদের পাওনা পরিশোধ ও নতুন প্রকল্পে অর্থায়ন করা। বাড়ির দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় এই কৌশল ২০১৭ সালের মধ্যে হুইকে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি করে তোলে এবং এভারগ্র্যান্ডকে চীনের ঘরে ঘরে পরিচিত নাম বানায়।
২০১০-এর দশকের শেষ দিকে এভারগ্র্যান্ডের ২৮০টিরও বেশি শহরে ১,৩০০টির বেশি প্রকল্প ছিল। প্রতিষ্ঠানটি বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যটন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে; এমনকি চীনের সবচেয়ে সফল ফুটবল দল গুয়াংঝৌ এফসির মালিকও ছিল। কিন্তু আড়ালে কোম্পানিটি বিপজ্জনক মাত্রায় ঋণনির্ভর হয়ে পড়েছিল। এর ঋণের পরিমাণ ৩০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা একে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে।
সহজে ঋণ পাওয়া এবং ফাটকানির ওপর নির্ভরশীল আবাসন বাজার এভারগ্র্যান্ডের দ্রুত সম্প্রসারণে জ্বালানি জুগিয়েছিল। সেখানে প্রায়ই মানুষ বসবাসের জন্য নয়, বরং দাম বাড়বে—এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগ হিসেবে বাড়ি কিনত। নিজেদের সম্পদ ব্যবস্থাপনা পণ্য কিনতে কর্মীদের উৎসাহিত করা এবং প্রকৃত দায় আড়াল করতে জটিল আর্থিক উপকরণ ব্যবহারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ চর্চাও করেছিল কোম্পানিটি। ২০১৬ সালের মধ্যে কিছু কর্মীকে তাদের বেতনের অর্ধেক পর্যন্ত এসব পণ্যে বিনিয়োগ করতে বলা হয়েছিল বলে জানা যায়, যা কৃত্রিমভাবে কোম্পানিটির দৃশ্যমান মুনাফা বাড়িয়েছিল।
মোড় ঘোরানো মুহূর্ত: ঋণের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের কঠোর পদক্ষেপ
২০২০ সালে আবাসন খাতে ফুলে-ফেঁপে ওঠা ঋণ নিয়ে উদ্বিগ্ন চীনা নিয়ন্ত্রকেরা “তিনটি লাল রেখা” নীতি চালু করে, যার মাধ্যমে আবাসন নির্মাতারা কতটা ঋণ নিতে পারবে, তার ওপর কঠোর সীমা আরোপ করা হয়। এভারগ্র্যান্ডের জন্য, যার ব্যবসা নিরবচ্ছিন্নভাবে পুরোনো ঋণ পুনঃঅর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল ছিল, এটি ছিল কার্যত মৃত্যুঘণ্টা। সম্পত্তি বিক্রি ও নগদ অর্থ জোগাড় করতে কোম্পানিটি বড় ছাড় দিতে শুরু করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। ২০২১ সালের শেষ দিকে এভারগ্র্যান্ড বিদেশি কিছু ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয় এবং এর শেয়ারের দাম ৯৯ শতাংশের বেশি কমে যায়।
এরপর আইনি লড়াই শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হংকংয়ের একটি আদালত এভারগ্র্যান্ডকে অবসায়নের নির্দেশ দেয়। কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা হুই কা ইয়ানকে ৬৫ লাখ ডলার জরিমানা করা হয় এবং চীনের পুঁজিবাজারে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়। এর আগে জানা যায়, এভারগ্র্যান্ড তাদের আয় ৭৮ বিলিয়ন ডলার বেশি দেখিয়েছিল। পাওনাদারদের জন্য যতটা সম্ভব অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন অবসায়নকারীরা। তবে এভারগ্র্যান্ডের অধিকাংশ সম্পদ চীনের মূল ভূখণ্ডে, যা হংকংয়ের এখতিয়ারের বাইরে। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বেশি অর্থ ফেরত পাবেন, এমন সম্ভাবনা কম।
চীন ও বিশ্বের জন্য এভারগ্র্যান্ডের পতন কেন গুরুত্বপূর্ণ
এভারগ্র্যান্ডের ধস কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কয়েক দশক ধরে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি আবাসন খাতে চলমান বৃহত্তর সংকটের সবচেয়ে দৃশ্যমান লক্ষণ এটি। আবাসন ও সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলো চীনের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশের জন্য দায়ী, আর স্থানীয় সরকারগুলো দীর্ঘদিন ধরে রাজস্বের বড় উৎস হিসেবে আবাসন নির্মাতাদের কাছে জমি বিক্রির ওপর নির্ভর করেছে।
এই পতনে ডমিনো প্রভাব তৈরি হয়েছে। কান্ট্রি গার্ডেন ও চায়না সাউথ সিটি হোল্ডিংসের মতো অন্য বড় আবাসন নির্মাতারাও এখন নিজেদের ঋণসংকটে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কান্ট্রি গার্ডেনের ৩,০০০টিরও বেশি প্রকল্প এবং ২০০ বিলিয়ন ডলারের দায় রয়েছে। এর সংকটের ব্যাপ্তি এভারগ্র্যান্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ খাতের সংকটে বিপুলসংখ্যক কর্মী ছাঁটাই, বেতন কমানো এবং আবাসন প্রকল্প অসমাপ্ত পড়ে থাকার ঘটনা ঘটেছে, ফলে লাখো চীনা বাড়ির ক্রেতা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
চীনা পরিবার ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব
সাধারণ চীনা পরিবারের কাছে আবাসন সংকটের প্রভাব গভীরভাবে ব্যক্তিগত। চীনে পরিবারের মোট সম্পদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আবাসন খাতে বিনিয়োগ করা। অনেক শহরে বাড়ির দাম অন্তত ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ায় পরিবারগুলোর সঞ্চয় উবে গেছে; ফলে তাদের ব্যয় বা বিনিয়োগের সম্ভাবনাও কমেছে। এতে ভোক্তাদের দুর্বল চাহিদা আরও বেড়েছে, যা মহামারির পর চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে অন্যতম প্রধান বাধা।
একই সময়ে জমি বিক্রি থেকে রাজস্ব কমে যাওয়ায় স্থানীয় সরকারগুলো চাপে পড়েছে। ফলে তাদের ব্যয় কমাতে হচ্ছে অথবা আরও ঋণ নিতে হচ্ছে। আবাসন খাতের মন্দায় সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বৃহত্তর আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্বজুড়ে প্রভাব: ‘লেহম্যান মুহূর্ত’ কি আসছে?
কিছু বিশ্লেষক এভারগ্র্যান্ডের পতনকে ২০০৮ সালে লেহম্যান ব্রাদার্সের ধসের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটের সূত্রপাত করেছিল। তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের বিশ্বাস, বিশ্বজুড়ে সংক্রমণের ঝুঁকি সীমিত। চীনের আর্থিক ব্যবস্থা জটিল ডেরিভেটিভের ওপর কম নির্ভরশীল এবং ব্যাংক ও পুঁজিপ্রবাহের ওপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবু এই সংকট চীনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নাড়িয়ে দিয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে এবং দেশটির দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে, চীনের আবাসন বাজারের মন্দা অস্ট্রেলিয়ার মতো পণ্য রপ্তানিকারক দেশগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে, কারণ দেশটি আকরিক লোহা ও অন্যান্য সম্পদের জন্য চীনা চাহিদার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। চীনের অর্থনীতি দুর্বল হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমতে পারে এবং বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়তে পারে। বিশেষ করে সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা হিসেবে চীন যদি সস্তা পণ্যে বাজার ভাসিয়ে দেয়, তাহলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বেইজিং কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে?
অতিরিক্ত ঋণনির্ভর শিল্পে আরও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ উৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কায় চীন সরকার এখন পর্যন্ত এভারগ্র্যান্ড বা অন্য বড় আবাসন নির্মাতাদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা এড়িয়ে গেছে। এর পরিবর্তে বেইজিং আবাসন বাজার স্থিতিশীল করা ও বৃহত্তর অর্থনীতিকে সহায়তা করার জন্য লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপে মনোযোগ দিয়েছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে:
- বন্ধকি ঋণের সুদ কমানো এবং বাড়ি কেনার বিধিনিষেধ শিথিল করা
- সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন ও অসমাপ্ত প্রকল্পের জন্য তহবিল দেওয়া
- আর্থিকভাবে সুস্থ আবাসন নির্মাতাদের ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করা
- বৈদ্যুতিক গাড়ি ও গৃহস্থালি পণ্য কেনায় প্রণোদনার মাধ্যমে ভোক্তা ব্যয় বাড়ানো
এসব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় ৫ শতাংশে নেমেছে—বিশ্বের মানদণ্ডে যা এখনো শক্তিশালী, তবে অতীতের দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দেশকে উন্নয়নের নতুন যুগে নিয়ে যেতে চাইছেন। এ লক্ষ্যে সরকারের অগ্রাধিকার আবাসন খাত থেকে সরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও রোবোটিকসের মতো উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের দিকে যাচ্ছে।
সামনের চ্যালেঞ্জ: আবাসন বাজার কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?
অধিকাংশ বিশ্লেষক একমত যে চীনের আবাসন সংকট এখনো অনেক দূর গড়াবে। গোল্ডম্যান স্যাকস জুনে সতর্ক করে বলেছে, বাড়ির দাম অন্তত ২০২৭ সাল পর্যন্ত কমতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সরবরাহের সঙ্গে চাহিদার সামঞ্জস্য হতে আরও দুই বছর লাগতে পারে। ব্যর্থ আবাসন নির্মাতাদের সহায়তা দিতে সরকারের অনীহার অর্থ হলো, আরও কোম্পানি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর পুনরুদ্ধার শুরু হলেও তা হবে ধীরগতির ও অসম।
এদিকে এভারগ্র্যান্ডের দীর্ঘায়িত অবসায়ন প্রক্রিয়া জটিল ও বিতর্কিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোম্পানিটির ৯০ শতাংশের বেশি সম্পদ চীনের মূল ভূখণ্ডে থাকায় বিদেশি পাওনাদারদের বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার পথ কঠিন। এই প্রক্রিয়ার ফল আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, কারণ তারা এরই মধ্যে চীনে ব্যবসা করার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক।
এভারগ্র্যান্ডের উত্তরাধিকার: চীন ও বিশ্বের জন্য শিক্ষা
এভারগ্র্যান্ডের উত্থান ও পতনে চীনের অর্থনৈতিক মডেলের শক্তি ও দুর্বলতা দুটোই ফুটে উঠেছে। দ্রুত নগরায়ণ, সহজে ঋণ পাওয়া এবং ফাটকামূলক বিনিয়োগের ওপর ভর করে কোম্পানিটির সাফল্য গড়ে উঠেছিল। এসব কারণ কয়েক দশকের প্রবৃদ্ধিতে জ্বালানি জুগিয়েছে, তবে বিপজ্জনক ভারসাম্যহীনতাও তৈরি করেছে। কোম্পানিটির পতন ঋণনির্ভর সম্প্রসারণের সীমাবদ্ধতা এবং আরও টেকসই ও স্বচ্ছ ব্যবসায়িক চর্চার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
চীনের জন্য এই সংকট একটি সতর্কবার্তা। অসমাপ্ত অ্যাপার্টমেন্টের জন্য অর্থ পরিশোধ করা বাড়ির ক্রেতাদের মধ্যে সামাজিক অস্থিরতা ঠেকানোর প্রয়োজনের সঙ্গে অনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হওয়া এড়ানো এবং অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়া নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বের ভারসাম্য সরকারকে রক্ষা করতে হবে। উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প ও অভ্যন্তরীণ ভোগের দিকে ঝোঁক শুরু হয়েছে, তবে এই রূপান্তর হবে কঠিন ও অনিশ্চয়তাপূর্ণ।
সারসংক্ষেপ
- চীনের একসময়ের বৃহত্তম আবাসন নির্মাতা এভারগ্র্যান্ড ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের ভারে ধসে পড়ার পর হংকং স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুত হবে।
- কোম্পানিটির পতনে চীনের আবাসন খাতে বৃহত্তর সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে কর্মী ছাঁটাই, অসমাপ্ত প্রকল্প ও বাড়ির দাম কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
- আবাসনে যাদের সম্পদের বড় অংশ বিনিয়োগ করা, সেই সাধারণ চীনা পরিবারগুলোর সঞ্চয় কমে গেছে; এতে ভোক্তা ব্যয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
- চীন সরকার সরাসরি আর্থিক সহায়তা এড়িয়ে বাজার স্থিতিশীল করা ও অর্থনীতিকে সহায়তার জন্য লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপে মনোযোগ দিয়েছে।
- বিশ্বজুড়ে সংক্রমণের ঝুঁকি সীমিত হলেও এই সংকট বিনিয়োগকারীদের আস্থা নাড়িয়ে দিয়েছে এবং পণ্য রপ্তানিকারক দেশ ও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে।
- উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প ও আরও টেকসই প্রবৃদ্ধির দিকে সরকারের মনোযোগ সরে যাওয়ায় চীনের আবাসন বাজার কয়েক বছর দুর্বল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- এভারগ্র্যান্ডের পতন চীনসহ সারা বিশ্বে অতিরিক্ত ঋণ ও ফাটকাবাজির বিপদ সম্পর্কে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।






