চীনের নতুন শিশু পরিচর্যা ভর্তুকি: জন্মহার বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া নীতি
চীন দেশজুড়ে শিশু পরিচর্যা ভর্তুকি কর্মসূচি চালু করেছে। এতে তিন বছরের কম বয়সী প্রতিটি শিশুর জন্য বাবা-মাকে বছরে ৩,৬০০ ইউয়ান (প্রায় ৫০০ ডলার) দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর এই নীতি জাতীয় পর্যায়ে এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ। দেশের দ্রুত কমতে থাকা জন্মহার ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যা মোকাবিলায় এটি নেওয়া হয়েছে। তবে কর্মসূচিটির কঠোর যোগ্যতার শর্ত—বিশেষ করে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জন্ম নেওয়া শিশুদের বাদ দেওয়া—ন্যায্যতা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং চীনের পারিবারিক নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সূচিপত্র
- চীনের নতুন শিশু পরিচর্যা ভর্তুকি: জন্মহার বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া নীতি
- শিশু পরিচর্যা ভর্তুকি কী এবং কেন চালু করা হলো?
- যোগ্যতার শর্ত: বিয়ের বাধ্যবাধকতা ও এর পরিণতি
- চীনে একক মায়েরা: আইনি ও সামাজিক বাধা
- বিশেষজ্ঞদের মতামত ও জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া
- ভর্তুকি কি কাজে দেবে? নগদ প্রণোদনার সীমাবদ্ধতা
- স্থানীয় উদ্যোগ ও পরিবারের জন্য বিস্তৃত সহায়তা
- বিস্তৃত তাৎপর্য: সামাজিক মূল্যবোধ, লিঙ্গ ও পারিবারিক নীতির ভবিষ্যৎ
- সারসংক্ষেপ
শিশু পরিচর্যা ভর্তুকি কী এবং কেন চালু করা হলো?
চীনের জনমিতিক চ্যালেঞ্জগুলো প্রকট। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির জন্মহার ব্যাপকভাবে কমেছে। ২০২৪ সালে জন্মেছে মাত্র ৯৫ লাখ ৪০ হাজার শিশু—২০১৬ সালের সংখ্যার অর্ধেক, যে বছর এক সন্তাননীতি শেষ হয়েছিল। বিয়ের হারও ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ২০২৪ সালে বিয়ে নিবন্ধিত হয়েছে মাত্র ৬১ লাখ, যা আগের বছরের তুলনায় ২০.৫ শতাংশ কম। এদিকে জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হচ্ছে, যা পেনশন ব্যবস্থার স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ কর্মশক্তি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
এই প্রবণতা ঠেকাতে চীনা সরকার কয়েক দশকের কঠোর পরিবার পরিকল্পনা নীতি থেকে সরে এসে সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন শিশু পরিচর্যা ভর্তুকি এই প্রচেষ্টার অন্যতম প্রধান অংশ। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, তিন বছরের কম বয়সী প্রতিটি শিশুর জন্য পরিবারগুলো এই ভর্তুকি পাবে, যদি শিশুটি “আইনসম্মতভাবে জন্মগ্রহণ করে এবং চীনা নাগরিকত্ব ধারণ করে”। এই অর্থ আয়করমুক্ত এবং সামাজিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে আয় হিসেবে গণ্য হবে না। কর্মসূচিটি থেকে বছরে ২ কোটির বেশি পরিবার উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকারগুলোও নিজস্ব প্রণোদনা চালু করেছে। যেমন, হোহহট প্রথম সন্তানের জন্য এককালীন ১০ হাজার ইউয়ান এবং পরবর্তী সন্তানদের জন্য বার্ষিক ভর্তুকি দেয়। শেনইয়াং তৃতীয় সন্তানের জন্য মাসিক অর্থ দেয়। এসব ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত কৌশলের অংশ, যার মধ্যে রয়েছে অভিভাবকদের ছুটির মেয়াদ বাড়ানো, শিশু পরিচর্যা সেবা উন্নত করা এবং বিনা মূল্যে প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা।
যোগ্যতার শর্ত: বিয়ের বাধ্যবাধকতা ও এর পরিণতি
ভর্তুকিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও এর যোগ্যতার নিয়ম বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আবেদনকারীদের শিশুর পরিচয় ও বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণপত্রের পাশাপাশি বিয়ের সনদ জমা দিতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জন্ম নেওয়া শিশুরা ভর্তুকি পাবে না।
সিচুয়ান প্রদেশের চেংদুর এক অবিবাহিত মা প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলার পর নীতিটি যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়ে। বিয়ের বাইরে জন্ম নিলেও আইনগতভাবে নিবন্ধিত তাঁর সন্তান ভর্তুকি পাবে কি না, তা জানতে চান তিনি। কর্তৃপক্ষ জানায়, সুবিধাটি “পরিবারের একক ধরে” দেওয়া হয় এবং এর জন্য বিয়ে নিবন্ধিত থাকতে হয়। বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সন্তানের হেফাজত যার কাছে, তিনি ভাতার জন্য আবেদন করতে পারেন; তবে অবিবাহিত বাবা-মা যোগ্য নন।
ঘটনাটি দ্রুত চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নীতিটি ন্যায্য কি না, তা নিয়ে হাজারো ব্যবহারকারী বিতর্ক করেন। কারও যুক্তি, ভর্তুকি বাবা-মায়ের বৈবাহিক অবস্থার সঙ্গে নয়, শিশুর সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত—বিশেষ করে চীনে একক অভিভাবক পরিবারের সংখ্যা বাড়তে থাকায়। অন্যরা কঠোর শর্তের পক্ষে মত দেন; তাঁদের মতে, ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে এটি জরুরি।
এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এই ভর্তুকি সন্তান জন্মদানের জন্য, বিয়ের জন্য নয়। এটি দাবি করা যাবে না কেন?” আরেকজন বলেন, “নীতির লক্ষ্য যদি জন্মহার বাড়ানো হয়, তাহলে ভর্তুকি শিশুকে দেওয়া উচিত, বিয়ের সঙ্গে যুক্ত করা নয়।”
চীনে একক মায়েরা: আইনি ও সামাজিক বাধা
একক মায়েদের শিশু পরিচর্যা ভর্তুকি থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়। কয়েক দশক ধরে চীনের পরিবার পরিকল্পনা নীতির কারণে সন্তান নিতে ইচ্ছুক অবিবাহিত নারীদের জীবন কঠিন হয়েছে। পুরোনো এক সন্তাননীতির সময় অবিবাহিত নারীদের সন্তানদের জন্মসনদ নিয়মিতভাবে দেওয়া হতো না। ফলে ওই শিশুরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পেতে সমস্যায় পড়ত। পরিবার পরিকল্পনার নিয়ম ভাঙার জন্য অবিবাহিত মায়েদের বড় অঙ্কের “সামাজিক রক্ষণাবেক্ষণ ফি” দিতে হতো; এই জরিমানার পরিমাণ গড় বার্ষিক আয়ের কয়েক গুণ পর্যন্ত হতে পারত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু প্রদেশ এসব জরিমানা শিথিল করলেও বড় বাধা এখনো রয়ে গেছে। একক নারীদের সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি ব্যবহারে এখনো নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, আর একক মায়েদের ঘিরে সামাজিক কলঙ্কও টিকে আছে। বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনে অবিবাহিত নারীদের জন্য ডিম্বাণু সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় কেউ কেউ এ জন্য বিদেশেও গেছেন।
চীনে আনুমানিক ৩ কোটি একক মা রয়েছেন। বিবাহবিচ্ছেদের হার বাড়া এবং আরও বেশি নারীর বিয়ে না করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁদের সংখ্যা বাড়ছে। সাম্প্রতিক বিতর্কে দেখা গেছে, সরকারি নীতি এখনো ঐতিহ্যবাহী বাবা-মা ও সন্তান নিয়ে গঠিত পরিবারকে অগ্রাধিকার দেয়। ফলে একক অভিভাবকের পরিবারগুলো কম সম্পদ ও সহায়তা পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও ভাষ্যকারদের মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, বিয়ের বাধ্যবাধকতা সেকেলে এবং সরকারের ঘোষিত জন্মহার বাড়ানোর লক্ষ্যের পরিপন্থী। অন্যদের মতে, এ নীতি গভীরভাবে প্রোথিত সামাজিক রীতিনীতির প্রতিফলন; জনমনে ব্যাপক পরিবর্তন না এলে এর বদল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের জনসংখ্যা পর্যবেক্ষণ ও পরিবার উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ওয়াং হাইদং এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আবেদনকারীদের শুধু শিশুর পরিচয় এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ “আইনসম্মতভাবে সন্তান জন্মদান” বলতে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা বুঝেছে। এতে প্রদেশভেদে বিভ্রান্তি ও নীতি বাস্তবায়নে অসংগতি দেখা দিয়েছে।
ভর্তুকি না পাওয়ার পর শেনঝেনের এক একক মা অনলাইনে লিখেছেন, “আমার সন্তান আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত… এর অর্থ, তার জন্ম পুরোপুরি স্বীকৃত।”
তাঁর পোস্টকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেক ব্যবহারকারী একক অভিভাবকদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে নীতি সংশোধনের আহ্বান জানান। কেউ কেউ বলেন, বিয়ের ওপর সরকারের জোর দেওয়া আধুনিক চীনা সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না; সেখানে আরও বেশি মানুষ বিয়ে পিছিয়ে দিচ্ছেন বা একেবারেই করছেন না।
ভর্তুকি কি কাজে দেবে? নগদ প্রণোদনার সীমাবদ্ধতা
শিশু পরিচর্যা ভর্তুকি নীতিতে বড় পরিবর্তন হলেও অনেক বিশ্লেষকের সন্দেহ, চীনের জনসংখ্যা হ্রাসের ধারা উল্টে দেওয়ার জন্য এটি যথেষ্ট হবে না। আয়ের অনুপাতে শিশু লালন-পালনের খরচ বিশ্বের সর্বোচ্চ দেশগুলোর মধ্যে চীনের অবস্থান। ইউওয়া পপুলেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি শিশুকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত বড় করতে গড়ে ৭৫ হাজার ৭০০ ডলার খরচ হয়। সাংহাইয়ের মতো বড় শহরে এই খরচ ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। বছরে ৫০০ ডলারের ভর্তুকি সহায়ক হলেও তা এই ব্যয়ের সামান্য অংশই মেটায়।
তরুণ চীনারা সন্তান নেওয়া পিছিয়ে দেওয়া বা এড়িয়ে যাওয়ার নানা কারণ উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ির উচ্চ দাম, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং সন্তানকে ভালো শিক্ষা দেওয়ার তীব্র চাপ। কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষার অভাব, অভিভাবকদের ছুটির সীমিত মেয়াদ এবং দীর্ঘস্থায়ী লিঙ্গবৈষম্যকেও অনেক নারী বড় বাধা হিসেবে দেখেন।
বেইজিংয়ের ২৯ বছর বয়সী জুন ঝাও সিএনএনকে বলেন, “সন্তান লালন-পালনের খরচ বেশি, কিন্তু এর বিপরীতে প্রাপ্তি কম। এর সঙ্গে তীব্র চাপও সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।”
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, শুধু নগদ ভর্তুকি দিয়ে জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সচরাচর সম্ভব হয় না। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ একই ধরনের নীতি নিলেও সাফল্য সীমিত। কারণ, গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা বিষয় এখনো পরিবার গঠনে নিরুৎসাহিত করে।
স্থানীয় উদ্যোগ ও পরিবারের জন্য বিস্তৃত সহায়তা
চীনের কিছু স্থানীয় সরকার পরিবারগুলোর জন্য আরও উদার প্রণোদনা ও বিস্তৃত সহায়তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। উদাহরণস্বরূপ, হোহহট তিন বা তার বেশি সন্তান থাকা পরিবারকে প্রতিটি সন্তানের জন্য কয়েক বছর ধরে পরিশোধযোগ্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ইউয়ান দেয়। অন্য শহরগুলো নতুন মায়েদের বিনা মূল্যে দুধ দেয় বা অভিভাবকদের ছুটির মেয়াদ বাড়ায়। এসব উদ্যোগ নতুনত্বপূর্ণ হলেও স্থানীয় বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে সেগুলোর পরিসর কম এবং সারা দেশে টেকসই করা কঠিন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নগদ ভর্তুকির সঙ্গে শিশু পরিচর্যা সেবার বিস্তার, সাশ্রয়ী আবাসন, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা এবং লিঙ্গবৈষম্য কমানোর প্রচেষ্টা যুক্ত করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার। চীনের পারিবারিক নীতি নিয়ে ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বৈবাহিক অবস্থা নির্বিশেষে সব পরিবারের চাহিদা পূরণে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
বিস্তৃত তাৎপর্য: সামাজিক মূল্যবোধ, লিঙ্গ ও পারিবারিক নীতির ভবিষ্যৎ
শিশু পরিচর্যা ভর্তুকি নিয়ে বিতর্ক চীনা সমাজে লিঙ্গভূমিকা, পারিবারিক কাঠামো এবং ব্যক্তিগত জীবনে রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে গভীর টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয়। কয়েক দশক ধরে সরকারি নীতিতে বিয়ে ও ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক মূল্যবোধকে উৎসাহিত করা হয়েছে, অনেক সময় নারীর স্বায়ত্তশাসন ও একক অভিভাবকের পরিবারগুলোর স্বার্থের বিনিময়ে। নতুন ভর্তুকি কিছু দিক থেকে অগ্রগতি হলেও এতে সেই অগ্রাধিকারের প্রতিফলন এখনো রয়েছে।
নারীবাদী কর্মীরা সতর্ক করেছেন, জন্মহার বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া নীতি অনিচ্ছাকৃতভাবে বাড়িতে ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, নারীদের নিজস্ব আকাঙ্ক্ষা ও অধিকারসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে না দেখে সরকারের জনসংখ্যার লক্ষ্য পূরণের উপায় হিসেবে দেখা হতে পারে।
নারীবাদী কর্মী ল্যু বিন বলেন, “দুই সন্তাননীতির অধীনেও চীনের নারীদের এখনো সরকারের জনসংখ্যার লক্ষ্য পূরণের উপায় হিসেবে দেখা হয়।”
একই সময়ে একক মায়ের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন থেকে বোঝা যায়, পরিবারের ঐতিহ্যবাহী ধারণা বদলাচ্ছে। আরও বেশি নারী বিয়ে পিছিয়ে দিচ্ছেন বা একাই সন্তান লালন-পালন করছেন। ফলে নীতিনির্ধারকদের নীতি বদলে বিভিন্ন ধরনের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার চাপ বাড়ছে।
সারসংক্ষেপ
- চীনের নতুন দেশব্যাপী শিশু পরিচর্যা ভর্তুকিতে তিন বছরের কম বয়সী প্রতিটি শিশুর জন্য বছরে ৩,৬০০ ইউয়ান (৫০০ ডলার) দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য দেশের কমতে থাকা জন্মহার বাড়ানো।
- আবেদনকারীদের বিয়ের সনদ জমা দিতে হবে। এর ফলে বেশির ভাগ একক মা এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জন্ম নেওয়া শিশু কার্যত বাদ পড়বে।
- একক মায়েদের বাদ দেওয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি, বাবা-মায়ের বৈবাহিক অবস্থা যা-ই হোক, সব শিশুর জন্য ভর্তুকি থাকা উচিত।
- জনসংখ্যা হ্রাস ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, জন্ম ও বিয়ের হার কমে যাওয়া এবং সন্তান লালন-পালনের উচ্চ খরচসহ বড় ধরনের জনমিতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে চীন।
- বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, শিশু পরিচর্যা সেবার বিস্তার, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা এবং বিভিন্ন পারিবারিক কাঠামোর জন্য সহায়তাসহ বৃহত্তর সংস্কার ছাড়া শুধু নগদ ভর্তুকিতে এসব প্রবণতা উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
- ভর্তুকি নিয়ে বিতর্ক চীনা সমাজে লিঙ্গভূমিকা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ব্যক্তিগত জীবনে রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে গভীর টানাপোড়েনের প্রতিফলন।






