চীনে লিথিয়াম খনি বন্ধ: বিশ্বজুড়ে সরবরাহে বড় ধাক্কা
চীনের জিয়াংসি প্রদেশের ইচুনে জিয়ানশিয়াও খনির আকস্মিক বন্ধে বিশ্ব লিথিয়াম বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশ্বের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক যান (ইভি) ব্যাটারি নির্মাতা Contemporary Amperex Technology Co. Limited (CATL) পরিচালিত এই খনি বন্ধ হওয়ায় লিথিয়ামের দাম বেড়েছে, খনিশিল্পের শেয়ারের দর চড়েছে এবং বৈশ্বিক ব্যাটারি সরবরাহব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে জরুরি প্রশ্ন উঠেছে।
সূচিপত্র
- চীনে লিথিয়াম খনি বন্ধ: বিশ্বজুড়ে সরবরাহে বড় ধাক্কা
- কেন CATL-এর জিয়ানশিয়াও খনি বন্ধ হলো?
- বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া: দাম ও শেয়ারের দর ঊর্ধ্বমুখী
- কতটা লিথিয়াম সরবরাহ ঝুঁকিতে?
- নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তা ও ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা
- বৃহত্তর প্রভাব: সরবরাহব্যবস্থা, ইভি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে উত্তরণ
- বিনিয়োগের সুযোগ ও ঝুঁকি
- CATL-এর অবস্থান: ব্যাটারি উৎপাদনে সামান্য প্রভাব?
- বিশ্বের লিথিয়াম বাজারের পরবর্তী গতিপথ কী?
- সংক্ষেপে
২০২৫ সালের ৯ আগস্ট CATL জানায়, খনির অনুমতিপত্র নবায়ন করতে না পারায় তারা তাদের প্রধান লিথিয়াম খনির কার্যক্রম বন্ধ করছে। নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করে এই বন্ধ অন্তত তিন মাস স্থায়ী হতে পারে, তবে সময় আরও বাড়তে পারে। প্রায়ই “এশিয়ার লিথিয়াম রাজধানী” নামে পরিচিত জিয়ানশিয়াও খনি বিশ্বের লিথিয়াম সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বৈশ্বিক লিথিয়াম কার্বোনেট সমতুল্য (এলসিই) উৎপাদনের ৩% থেকে ৬% আসে এই খনি থেকে। এ খনি বন্ধের প্রভাব চীন থেকে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন মহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
কেন CATL-এর জিয়ানশিয়াও খনি বন্ধ হলো?
খনি বন্ধের তাৎক্ষণিক কারণ ছিল নিয়ন্ত্রক জটিলতা: CATL-এর খনির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং প্রতিষ্ঠানটি সময়মতো নবায়ন করতে পারেনি। তবে এর পেছনের বিষয় আরও গভীর। চীন সরকার সম্প্রতি খনিশিল্পের ওপর তদারকি জোরদার করেছে, বিশেষ করে লিথিয়ামের মতো কৌশলগত খনিজের ক্ষেত্রে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে কার্যকর সংশোধিত খনিজ সম্পদ আইন অনুযায়ী, অনুমতিপত্র অনুমোদনের ক্ষমতা প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে এবং অন্য খনিজের অনুমতিপত্রের আওতায় লিথিয়াম উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়া ফাঁকফোকর বন্ধ করা হয়েছে।
এই নিয়ন্ত্রক অভিযান বৃহত্তর “অতি-প্রতিযোগিতা রোধ” নীতির অংশ। লিথিয়াম, ইস্পাত ও কয়লার মতো দ্রুত বর্ধনশীল খাতে অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ, বিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা এবং টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা এই উদ্যোগের লক্ষ্য। বেপরোয়া সম্প্রসারণ ঠেকানো, দাম স্থিতিশীল রাখা এবং পরিবেশ সুরক্ষা করাই সরকারের উদ্দেশ্য। ব্যাংক অব আমেরিকার এক বিশ্লেষকের ভাষায়:
ইচুন অঞ্চলের অন্যান্য খনির সঙ্গে এই খনি বন্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক লিথিয়াম সরবরাহের ১১ শতাংশের বেশি প্রভাবিত হচ্ছে। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত যে চীন তার কৌশলগত সম্পদের মূল্য পুনর্নির্ধারণ এবং খনিশিল্পে নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করার বিষয়ে আন্তরিক।
CATL-এর খনিটি অর্থনৈতিক চাপেরও মুখে ছিল। জিয়ানশিয়াওয়ে লেপিডোলাইট আকরিক থেকে প্রতি টন লিথিয়াম কার্বোনেট উৎপাদনে আনুমানিক ১ লাখ ইউয়ান (প্রায় ১৩ হাজার ৯২০ ডলার) খরচ হয়, যা বর্তমান বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে খনিটি লোকসানে চলছিল। এই আর্থিক চাপের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক নজরদারি যুক্ত হয়ে খনিটি বন্ধ হওয়া প্রায় অনিবার্য করে তোলে।
বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া: দাম ও শেয়ারের দর ঊর্ধ্বমুখী
খবরটি প্রকাশের পর বিশ্ববাজার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়। গুয়াংঝু ফিউচারস এক্সচেঞ্জে লিথিয়াম কার্বোনেটের ফিউচার দর দৈনিক সর্বোচ্চ ৮% বেড়ে নভেম্বরের সরবরাহের জন্য প্রতি টন ৮১ হাজার ইউয়ানে (প্রায় ১১ হাজার ২৮০ ডলার) দাঁড়ায়। চীনে স্পট দামও বেড়ে ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক বাজারে লিথিয়াম উৎপাদকদের শেয়ারের দরও চড়ে:
- হংকংয়ে Tianqi Lithium Corp. ও Ganfeng Lithium Group Co.-এর শেয়ারের দর সর্বোচ্চ ২১% বেড়েছে।
- অস্ট্রেলিয়ার Pilbara Minerals ও Liontown Resources-এর মতো খনি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বেড়েছে ১৬% থেকে ২৫%।
- যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক Albemarle Corp. ও Lithium Americas Corp.-এর শেয়ারের দর যথাক্রমে ১৫% ও ১৩%-এর বেশি বেড়েছে।
সরবরাহ কমে যাওয়া ও দাম বাড়ার আশায় বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত লিথিয়াম কোম্পানির শেয়ার কিনেছেন। খাতটি নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হওয়ায় Global X Lithium & Battery Tech ETF-ও নয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। দামের এই উল্লম্ফন চোখে পড়ার মতো হলেও সাম্প্রতিক অতিরিক্ত সরবরাহ ও দাম পতনে চিহ্নিত লিথিয়াম বাজারের মৌলিক পরিস্থিতি জটিলই রয়ে গেছে। ২০২২ সালের শেষ দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর লিথিয়ামের দাম প্রায় ৯০% কমে গিয়েছিল, যার ফলে বিশ্বজুড়ে উৎপাদন ব্যয় বেশি এমন অনেক খনি বন্ধ হয়ে যায় অথবা প্রকল্প পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়। CATL-এর খনি বন্ধ হওয়া সরবরাহে বড় ধাক্কা, তবে এতে সামগ্রিক দরপতন থামবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কতটা লিথিয়াম সরবরাহ ঝুঁকিতে?
জিয়ানশিয়াও খনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ লিথিয়াম কার্বোনেটের উৎস। বছরে এখানে ৪৬ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টন এলসিই উৎপাদিত হয়। এটি বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৬% এবং চীনের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ২০%। খনিটি বন্ধ থাকলে চীনের মাসিক লিথিয়াম কার্বোনেট উৎপাদন ৮% বা প্রায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টন কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইচুন অঞ্চলের অন্যান্য খনিও বন্ধ হলে সম্ভাব্য প্রভাব বৈশ্বিক সরবরাহের ১১%-এর বেশি হতে পারে।
লিথিয়াম পরিশোধন ও উৎপাদনে চীনের আধিপত্যের কারণে দেশটির সরবরাহব্যবস্থায় যেকোনো বিঘ্ন বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৬ সালের মধ্যে চীন অস্ট্রেলিয়াকে ছাড়িয়ে বিশ্বের বৃহত্তম লিথিয়াম উৎপাদক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। CATL-এর নেতৃত্বে দেশটির ব্যাটারি নির্মাতারা বৈশ্বিক ইভি বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তা ও ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা
ইচুনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আরও আটটি লিথিয়াম খনির কাছ থেকে মজুতের প্রতিবেদন চেয়েছে। এ জন্য সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর। নিবন্ধন ও অনুমোদনসংক্রান্ত নিয়ম না মানার বিষয়টি নিরীক্ষায় ধরা পড়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যালোচনার ফল থেকে বোঝা যাবে, CATL-এর খনি বন্ধ হওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি শিল্পজুড়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, আরও খনি বন্ধ করতে বাধ্য হলে সরবরাহে ধাক্কা আরও গভীর হতে পারে। তাতে দাম আরও বাড়বে এবং লিথিয়াম বাজারে অস্থিরতাও বাড়বে।
বৃহত্তর প্রভাব: সরবরাহব্যবস্থা, ইভি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে উত্তরণ
পরিচ্ছন্ন জ্বালানিভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি লিথিয়াম। বৈদ্যুতিক যান, বিদ্যুৎ গ্রিডে শক্তি সঞ্চয়, স্মার্টফোন ও ল্যাপটপে ব্যবহৃত রিচার্জযোগ্য ব্যাটারি তৈরিতে এটি অপরিহার্য। বিশ্ব নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎচালিত পরিবহনের দিকে দ্রুত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে স্থিতিশীল ও সাশ্রয়ী মূল্যে লিথিয়াম সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকার ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কৌশলগত অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।
CATL-এর খনি বন্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার ভঙ্গুরতা স্পষ্ট হয়েছে। চিপের ঘাটতি ও পরিবহন-সংক্রান্ত বিঘ্ন সামলাতে থাকা গাড়ি নির্মাতারা এখন ব্যাটারির দাম বৃদ্ধি এবং কাঁচামালের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কায় রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানকে আরও বেশি লিথিয়াম আমদানি করতে হতে পারে, এতে খরচ বাড়বে এবং উৎপাদন পরিকল্পনা জটিল হবে।
চীনের নিয়ন্ত্রক অভিযান অন্য দেশগুলোকেও লিথিয়ামের উৎসে বৈচিত্র্য আনতে উদ্যোগ জোরদারে তাগিদ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশের অভ্যন্তরে খনি ও পরিশোধন প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার উদীয়মান বাজারগুলোও উৎপাদন বাড়াচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক হার্ড-রক লিথিয়ামের ১৮% আফ্রিকা থেকে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগের সুযোগ ও ঝুঁকি
সরবরাহে এই ধাক্কা বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ ও ঝুঁকি, দুই-ই তৈরি করেছে। লিথিয়াম উৎপাদকদের শেয়ারের দর বেড়েছে, বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয় কম অথবা ব্যবসায় বৈচিত্র্য রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের খনি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি লিথিয়াম পুনর্ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলো সরবরাহ সংকোচনের সম্ভাব্য সুবিধাভোগী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে লিথিয়াম বাজার এখনো চক্রাকার এবং অত্যন্ত অস্থির। অন্যত্র উৎপাদন বাড়লে বা ইভির চাহিদা কমলে দাম আবার পড়তে পারে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে, অনিশ্চয়তা আরও বাড়াচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনা এবং ইভি গ্রহণ ও ব্যাটারি প্রযুক্তির বৈশ্বিক প্রবণতা সম্পর্কে অবগত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
CATL-এর অবস্থান: ব্যাটারি উৎপাদনে সামান্য প্রভাব?
খনি বন্ধের ব্যাপকতা সত্ত্বেও CATL জানিয়েছে, এতে তাদের ব্যাটারি উৎপাদনে সামান্যই প্রভাব পড়বে। খনি, পরিশোধন, ক্যাথোড উপাদান উৎপাদন ও ব্যাটারি নির্মাণসহ পুরো সরবরাহশৃঙ্খলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কার্যক্রম থাকায় অন্য সরবরাহকারীর কাছ থেকে লিথিয়াম সংগ্রহ বা প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানির নমনীয়তা রয়েছে।
তবু দেশের অভ্যন্তরীণ একটি বড় উৎস হারালে খরচ বাড়তে পারে এবং সরবরাহব্যবস্থা জটিল হতে পারে, বিশেষ করে খনি বন্ধ দীর্ঘায়িত হলে বা অন্য খনিও নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপের আওতায় এলে। ইভি ব্যাটারি বাজারে CATL-এর আধিপত্যের পেছনে লিথিয়াম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তাদের বড় বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি কোনো একক অঞ্চল বা সরবরাহব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকিও তুলে ধরেছে।
বিশ্বের লিথিয়াম বাজারের পরবর্তী গতিপথ কী?
লিথিয়াম বাজার এখন সন্ধিক্ষণে। কয়েক বছরের অতিরিক্ত সরবরাহ ও দরপতনের পর চীনের নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপজনিত সরবরাহ-ধাক্কা বাজারে কাঠামোগত ভারসাম্য ফেরার সূচনা হতে পারে। Fastmarkets-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক লিথিয়ামের উদ্বৃত্ত ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার টন। ২০২৫ সালে তা কমে মাত্র ১০ হাজার টনে দাঁড়াবে এবং চাহিদা বাড়তে থাকলে ২০২৬ সালে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
বৈদ্যুতিক যান বিক্রি এখনো বাড়ছে। ২০২৪ সালে বিশ্বে লিথিয়ামের ব্যবহার বেড়েছে ২৯% এবং ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে ইভি বিক্রি বেড়েছে ৩৫%। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুতায়নের দিকে বিশ্বের অগ্রযাত্রায় আগামী বছরগুলোতে লিথিয়ামের চাহিদা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সামনের পথ অনিশ্চিত। চীনের নিয়ন্ত্রক পরিবেশ কত দ্রুত স্থিতিশীল হয়, অন্য দেশগুলো উৎপাদন কতটা বাড়াতে পারে এবং সরবরাহ ও চাহিদার নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে শিল্প খাত কীভাবে খাপ খায়, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। ইচুনের খনিগুলোর মজুতের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা হবে নজর রাখার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
সংক্ষেপে
- চীনের ইচুনে CATL-এর জিয়ানশিয়াও লিথিয়াম খনি বন্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহের সর্বোচ্চ ৬% বাজার থেকে সরে গেছে। এতে বিশ্বজুড়ে লিথিয়ামের দাম ও খনিশিল্পের শেয়ারের দর বেড়েছে।
- নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন, অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং লিথিয়ামের কম দামের কারণে সৃষ্ট আর্থিক চাপ খনি বন্ধের পেছনে কাজ করেছে।
- খনিশিল্পে অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতা ও নিয়ম না মানার বিরুদ্ধে চীনের অভিযান সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এ ক্ষেত্রে ৩০ সেপ্টেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সময়সীমার দিকে নজর থাকবে।
- ইভি ব্যাটারি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে উত্তরণের জন্য লিথিয়াম অপরিহার্য। তাই স্থিতিশীল সরবরাহ এখন বৈশ্বিক অগ্রাধিকার।
- সরবরাহে এই ধাক্কা বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ ও ঝুঁকি, দুই-ই তৈরি করেছে। নিয়ন্ত্রক ও ভূরাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রতি সংবেদনশীল এই বাজার এখনো অত্যন্ত অস্থির।
- CATL বলছে, তাদের ব্যাটারি উৎপাদনে প্রভাব সামান্য হবে; তবে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় এর বৃহত্তর প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
- নিয়ন্ত্রক ও বাজারের বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে চাহিদা সরবরাহকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে লিথিয়াম বাজার কাঠামোগত ভারসাম্যের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারে।






