ভিয়েতনামের সাহসী পদক্ষেপ: ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ প্রযুক্তি প্রশিক্ষণে ছয়টি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা
ইন্ডাস্ট্রি ৪.০-এর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে প্রশিক্ষণ ও মেধা বিকাশের ছয়টি বিশেষায়িত নেটওয়ার্ক চালু করে আঞ্চলিক প্রযুক্তি শক্তিধর দেশে পরিণত হওয়ার পথে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে ভিয়েতনাম। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের আগস্টে এ উদ্যোগের ঘোষণা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং দেশি-বিদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নজিরবিহীন সহযোগিতার মাধ্যমে উচ্চমানের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করাই এর লক্ষ্য। এ উদ্যোগ ভিয়েতনামের উচ্চশিক্ষা ও কর্মশক্তি উন্নয়নে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যা দেশটির উচ্চাভিলাষী ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির স্বপ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সূচিপত্র
- ভিয়েতনামের সাহসী পদক্ষেপ: ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ প্রযুক্তি প্রশিক্ষণে ছয়টি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা
- ৪.০ প্রযুক্তির ছয়টি নেটওয়ার্ক কী?
- এই ক্ষেত্রগুলো কেন? ইন্ডাস্ট্রি ৪.০-এর কৌশলগত গুরুত্ব
- উপমন্ত্রীর ভাবনা: উদ্ভাবনের চালিকাশক্তি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়
- নেটওয়ার্কগুলো কীভাবে কাজ করবে? সহযোগিতা ও উদ্ভাবনই মূল ভিত্তি
- আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মেধা আকর্ষণ
- ভিয়েতনামের ডিজিটাল রূপান্তর কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য
- বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ভিয়েতনামের অর্জন
- শিক্ষার্থী, গবেষক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এর অর্থ কী?
- বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি: নেটওয়ার্ক মডেলের গুরুত্ব
- তুলনামূলক চিত্র: ভিয়েতনামের উদ্যোগ কতটা এগিয়ে?
- চ্যালেঞ্জ ও সামনের পথ
- সারসংক্ষেপ
৪.০ প্রযুক্তির ছয়টি নেটওয়ার্ক কী?
নতুন প্রতিষ্ঠিত নেটওয়ার্কগুলো ইন্ডাস্ট্রি ৪.০-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও দ্রুত পরিবর্তনশীল ক্ষেত্রগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এ যুগের বৈশিষ্ট্য হলো ডিজিটাল, ভৌত ও জৈবপ্রযুক্তির সমন্বয়। প্রতিটি নেটওয়ার্কের নেতৃত্বে রয়েছে ভিয়েতনামের একটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়; এতে যুক্ত হয়েছে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা কেন্দ্র এবং শিল্পখাতের অংশীদারদের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম। ছয়টি নেটওয়ার্ক হলো:
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সেমিকন্ডাক্টর (দক্ষিণাঞ্চল) – ভিয়েতনাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি–হো চি মিন সিটির অধীন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর (মধ্যাঞ্চল) – দা নাং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে
- কৃষিজৈবপ্রযুক্তি (দক্ষিণাঞ্চল) – ক্যান থো বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে
- কৃষিজৈবপ্রযুক্তি (মধ্যাঞ্চল) – হুয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে
- নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হাইড্রোজেন জ্বালানি – হো চি মিন সিটি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড এডুকেশনের নেতৃত্বে
- শিক্ষা প্রযুক্তি – হো চি মিন সিটি ওপেন ইউনিভার্সিটির নেতৃত্বে
প্রতিটি নেটওয়ার্কের দায়িত্ব প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে উৎকর্ষ গড়ে তোলা। বাস্তব প্রয়োগ এবং বিভিন্ন শাস্ত্রের মধ্যে সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই ক্ষেত্রগুলো কেন? ইন্ডাস্ট্রি ৪.০-এর কৌশলগত গুরুত্ব
ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ বলতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে বোঝায়। এর বৈশিষ্ট্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), জৈবপ্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো উন্নত প্রযুক্তির উৎপাদন ও সেবাখাতে একীভূতকরণ। এসব প্রযুক্তি অর্থনীতির রূপান্তর ঘটাচ্ছে, নতুন শিল্প তৈরি করছে এবং ভবিষ্যৎ কর্মশক্তির প্রয়োজনীয় দক্ষতাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে।
এআই, সেমিকন্ডাক্টর, জৈবপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও শিক্ষা প্রযুক্তির ওপর ভিয়েতনামের গুরুত্বারোপ বৈশ্বিক প্রবণতা এবং জাতীয় অগ্রাধিকার—দুইয়েরই প্রতিফলন। ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট উৎপাদনের ভিত্তি হলো এআই ও সেমিকন্ডাক্টর। টেকসই কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য জৈবপ্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সবুজ প্রবৃদ্ধি ও জলবায়ু-সংক্রান্ত অঙ্গীকারের কেন্দ্রে রয়েছে নবায়নযোগ্য ও হাইড্রোজেন জ্বালানি। সব খাতে শিক্ষার আধুনিকায়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির ভিত্তি হলো শিক্ষা প্রযুক্তি।
এসব ক্ষেত্রে লক্ষ্য স্থির করে ভিয়েতনাম ভবিষ্যৎ-উপযোগী কর্মশক্তি গড়ে তুলতে, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতিতে নেতৃত্বের অবস্থান নিতে চায়।
উপমন্ত্রীর ভাবনা: উদ্ভাবনের চালিকাশক্তি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ উপমন্ত্রী নগুয়েন ভান ফুক ভিয়েতনামের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন। এসব লক্ষ্য পলিটব্যুরোর রেজল্যুশন ৫৭-এ নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন:
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একই সঙ্গে দুটি কৌশলগত দায়িত্ব পালন করতে হবে: আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি করা এবং উন্নত প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে কাজ করা।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রশিক্ষণ ও গবেষণাকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং অর্থনীতির চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করলে গবেষণার ফল তাত্ত্বিক বা ‘কাগজে-কলমে’ সীমাবদ্ধ না থেকে উৎপাদন ও ব্যবসায় কাজে লাগানো সম্ভব। এ পদ্ধতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
নেটওয়ার্কগুলো কীভাবে কাজ করবে? সহযোগিতা ও উদ্ভাবনই মূল ভিত্তি
ছয়টি নেটওয়ার্ক নিছক একাডেমিক জোট নয়; শিক্ষা ও শিল্পের ব্যবধান কমাতে গড়ে তোলা হয়েছে গতিশীল পরিসর। তাদের সহযোগিতার মডেলে রয়েছে:
- যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি: সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের অংশীদারেরা যৌথভাবে পাঠ্যক্রম তৈরি করবে।
- শিক্ষক উন্নয়ন: শিক্ষকেরা অত্যাধুনিক গবেষণা ও শিল্পখাতের চর্চা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা পাবেন, যা বিশ্বমানের শিক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে।
- গবেষণা সুবিধা ভাগাভাগি: সদস্যরা উন্নত গবেষণাগার ও গবেষণা অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাবেন, যা হাতে-কলমে শেখা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে সহায়তা করবে।
- প্রযুক্তি হস্তান্তর: গবেষণার ফল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবহারিক সমাধানে রূপান্তরিত হবে, যা উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকীকরণে সহায়তা করবে।
- বিশ্ববিদ্যালয়–শিল্পখাতের যৌথ গবেষণা প্রকল্প: শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন এবং বিভিন্ন শাস্ত্রের দক্ষতা ও শিল্পখাতের অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।
উচ্চশিক্ষার প্রচলিত বিচ্ছিন্ন পদ্ধতি থেকে এটি একটি কৌশলগত পরিবর্তন। এর বদলে এ মডেল সম্পদ ভাগাভাগি, বিভিন্ন খাতের অংশীদারত্ব এবং উদ্ভাবনের সংস্কৃতি গড়ে তোলে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মেধা আকর্ষণ
প্রতিটি নেটওয়ার্ককে শিক্ষকতা ও গবেষণায় অবদান রাখতে খ্যাতনামা বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে বিদেশে বসবাসরত ভিয়েতনামি নাগরিক এবং বিদেশি পেশাজীবীরাও থাকবেন। এ আন্তর্জাতিকীকরণের ফলে শিক্ষার ও গবেষণার মান বাড়বে, প্রযুক্তি হস্তান্তর সহজ হবে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভিয়েতনামের সক্ষমতা জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনা অনুযায়ী, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য প্রতিটি নেটওয়ার্ককে অভিযোজনমূলক, পুনঃপ্রশিক্ষণ, উন্নত ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করে অন্তত একটি উচ্চমানের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা এবং অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর জন্য টিউশন সহায়তা ও বৃত্তি দেওয়া হবে।
ভিয়েতনামের ডিজিটাল রূপান্তর কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য
এই নেটওয়ার্কগুলো চালু করা ভিয়েতনামের জাতীয় ডিজিটাল রূপান্তর কৌশলের অন্যতম ভিত্তি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার ডিজিটাল সরকার, অর্থনীতি ও সমাজ গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এর লক্ষ্য অনলাইন সরকারি সেবা, তথ্য একীভূতকরণ এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর ক্ষেত্রে উচ্চাভিলাষী অগ্রগতি অর্জন।
গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের মধ্যে রয়েছে সরকারি ডিজিটাল স্থাপত্য কাঠামো ভি৪.০ চালু, ৫জি নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং জাতীয় তথ্য অর্থনীতি কাঠামো উন্নয়ন। এসব উদ্যোগ এগিয়ে নিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় নেতৃত্ব দিয়েছে; প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিনসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছ থেকেও এসেছে জোরালো দিকনির্দেশনা।
তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়েছে। অনলাইন সরকারি সেবার মান সর্বত্র একরকম নয়, তথ্য আদান-প্রদান খণ্ডিত এবং আইনি কাঠামোর বিকাশ এখনো চলছে। প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজন্মের পেশাজীবী তৈরি ও উদ্ভাবনের সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে এসব ঘাটতি পূরণে ছয়টি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ভিয়েতনামের অর্জন
২০২৫ সালের প্রথমার্ধে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল রূপান্তরে ভিয়েতনামের অগ্রগতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন খাত ও স্থানীয় প্রশাসন জাতীয় কর্মসূচির অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে।
২০৩০ সালের মধ্যে ভিয়েতনামকে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে আঞ্চলিক নেতৃত্বের অবস্থানে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে সরকার। শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের জাতীয় পরিসর গড়ে তোলার মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে ছয়টি নেটওয়ার্কের। এসব কেন্দ্রে ভিয়েতনামি মেধাবীরা একত্র হবেন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সংযোগ ঘটবে।
শিক্ষার্থী, গবেষক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এর অর্থ কী?
শিক্ষার্থীদের জন্য এই নেটওয়ার্কগুলো বিশ্বমানের শিক্ষা, অত্যাধুনিক সুবিধা এবং শিল্পখাতের নেতাদের সঙ্গে বাস্তব প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ দেবে। হাতে-কলমে ও বিভিন্ন শাস্ত্রভিত্তিক এই পদ্ধতির লক্ষ্য হলো দ্রুত পরিবর্তনশীল ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ পরিবেশে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা দিয়ে স্নাতকদের প্রস্তুত করা।
গবেষকদের জন্য নেটওয়ার্কগুলো যৌথ গবেষণা, অর্থায়নের সুযোগ এবং উদ্ভাবন বাণিজ্যিকীকরণের পথ তৈরি করবে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে গবেষকেরা নিশ্চিত করতে পারবেন, তাঁদের কাজ বাস্তব সমস্যার সমাধান করছে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই নেটওয়ার্কগুলো দক্ষ কর্মী, উদ্ভাবনী সমাধান এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি করবে। যৌথ প্রকল্প ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কোম্পানিগুলো প্রযুক্তিগত অগ্রগতির শীর্ষে থাকতে এবং নিজেদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে পারবে।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি: নেটওয়ার্ক মডেলের গুরুত্ব
শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা নেটওয়ার্ক মডেলকে ভিয়েতনামের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। দক্ষতা, অবকাঠামো ও জ্ঞান একত্রিত করে নেটওয়ার্কগুলো উদ্ভাবন ও মেধা বিকাশের আরও শক্তিশালী পরিসর তৈরি করছে।
ওপেনগভ এশিয়ার মতে, এ সহযোগিতামূলক পদ্ধতি একাডেমিক শিক্ষা ও বাস্তব প্রয়োগের ব্যবধান কমাতে সাহায্য করে এবং স্নাতকদের ইন্ডাস্ট্রি ৪.০-এর চাহিদা পূরণে প্রস্তুত করে। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে এমন ডিজিটাল সমাজ গড়ার সরকারি লক্ষ্যেও নেটওয়ার্কগুলো সহায়তা করে।
তুলনামূলক চিত্র: ভিয়েতনামের উদ্যোগ কতটা এগিয়ে?
ইন্ডাস্ট্রি ৪.০-এর জন্য মেধা ও অবকাঠামোয় বিনিয়োগের বৃহত্তর প্রবণতার অংশ ভিয়েতনামের এ উদ্যোগ; একই পথে হাঁটছে আরও অনেক উদীয়মান অর্থনীতি। সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো দেশ এআই, সেমিকন্ডাক্টর ও জৈবপ্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে সেখানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং উৎকর্ষ কেন্দ্রের অনুরূপ মডেল ব্যবহার করা হয়েছে।
ভিয়েতনামের উদ্যোগকে আলাদা করেছে এর ব্যাপ্তি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি। একাধিক অঞ্চল ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে এবং বিস্তৃত অংশীজনদের যুক্ত করে ভিয়েতনাম দেশজুড়ে প্রভাব তৈরির ভিত্তি নির্মাণ করছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মেধা আকর্ষণের ওপর জোর দেশটির বৈশ্বিক উদ্ভাবনী পরিসরে অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।
চ্যালেঞ্জ ও সামনের পথ
নতুন নেটওয়ার্কগুলোর সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সাফল্য নিশ্চিত করতে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে:
- মান নিশ্চিতকরণ: সব অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচিতে উচ্চমান বজায় রাখতে কার্যকর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নব্যবস্থা প্রয়োজন।
- সম্পদ বণ্টন: অবকাঠামো, শিক্ষক উন্নয়ন ও গবেষণা অর্থায়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ অপরিহার্য।
- শিল্পখাতের সম্পৃক্ততা: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও গভীর করা এবং পাঠ্যক্রম ও গবেষণা প্রকল্প বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
- আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো: ডিজিটাল রূপান্তর, তথ্য আদান-প্রদান ও মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় সহায়ক আইন ও নীতি হালনাগাদের কাজ এখনো চলছে।
আগামী বছরগুলোর জন্য সরকার স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উন্নত করা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রসার এবং সরকারি সেবার অভিজ্ঞতা উন্নত করা। বর্তমানে খসড়া করা ডিজিটাল রূপান্তর আইন এসব উদ্যোগের জন্য একটি সমন্বিত আইনি ভিত্তি দেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপ
- এআই, সেমিকন্ডাক্টর, জৈবপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও শিক্ষা প্রযুক্তির মতো ইন্ডাস্ট্রি ৪.০-এর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও মেধা বিকাশের ছয়টি জাতীয় নেটওয়ার্ক চালু করেছে ভিয়েতনাম।
- বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় উচ্চমানের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন এগিয়ে নেওয়া এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
- প্রতিটি নেটওয়ার্কের নেতৃত্বে রয়েছে একটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়। এতে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের অংশীদারদের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম; বাস্তব প্রয়োগ ও বিভিন্ন শাস্ত্রের দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- নেটওয়ার্কগুলো ভিয়েতনামের ডিজিটাল রূপান্তর কৌশলের অন্যতম ভিত্তি এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- উন্নত প্রশিক্ষণ, গবেষণার সুযোগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, গবেষক এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উপকৃত হবে।
- মান নিশ্চিতকরণ, সম্পদ বণ্টন, শিল্পখাতের সম্পৃক্ততা এবং আইনি কাঠামো নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে; তবে সরকার এসব মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
- নেটওয়ার্ক মডেল ভিয়েতনামকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতিতে উদীয়মান নেতৃত্বের অবস্থানে নিচ্ছে এবং টেকসই উন্নয়ন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করছে।






