পূর্ব এশিয়ায় রেকর্ড তাপপ্রবাহ: তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙল জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া
নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত পূর্ব এশিয়া। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রার মধ্যে জনস্বাস্থ্য ও অবকাঠামো রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে দুই দেশেই রেকর্ডের মধ্যে সবচেয়ে গরম দিন দেখা গেছে, পাশাপাশি টানা কয়েক রাতের অসহনীয় গরমে হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে এবং এই অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে জরুরি প্রশ্ন উঠেছে।
সূচিপত্র
- পূর্ব এশিয়ায় রেকর্ড তাপপ্রবাহ: তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙল জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া
- যেভাবে ছড়িয়ে পড়ল তাপপ্রবাহ
- বর্ষার ধরনে ব্যাঘাত ও আগাম তাপপ্রবাহ
- স্বাস্থ্য ও সমাজে প্রভাব
- অবকাঠামো ও দৈনন্দিন জীবনে চাপ
- জলবায়ু পরিবর্তন: চরম তাপের পেছনের প্রধান কারণ
- আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
- রাতের তাপমাত্রা কেন বাড়ছে?
- উষ্ণতর ভবিষ্যতের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো
- সংক্ষেপে
৩০ জুলাই জাপানের হায়োগো প্রিফেকচারের তাম্বায় সর্বোচ্চ ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৬.১৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় জুলাই মাসে টানা ২২টি “ক্রান্তীয় রাত” দেখা গেছে। সিউলে রাতের তাপমাত্রা তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৭৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট) নিচে নামেনি। ১৯০৭ সালে আধুনিক রেকর্ড রাখা শুরুর পর এমন ঘটনা আর দেখা যায়নি। তাপপ্রবাহে ইতিমধ্যে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী বিশেষভাবে বিপদের মুখে রয়েছে।
যেভাবে ছড়িয়ে পড়ল তাপপ্রবাহ
তাপপ্রবাহের শুরুটা ছিল আকস্মিক ও তীব্র। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ৩০ জুলাই তাদের ৯১৪টি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের মধ্যে ২৭১টিতে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায় এবং ৩৯টি স্থানে নতুন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। ঐতিহাসিক স্থাপনা ও পর্যটনের জন্য বিখ্যাত কিয়োতোয় ১৮৮০ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর প্রথমবার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। ২০১৮ সালে রেকর্ড করা এবং ২০২০ সালে সমান হওয়া ৪১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আগের জাতীয় রেকর্ডটিও ছাড়িয়ে যায়।
দক্ষিণ কোরিয়াতেও দেখা গেছে চরম তাপমাত্রা। কোরিয়া আবহাওয়া প্রশাসন (কেএমএ) নিশ্চিত করেছে, ৩০ জুলাই সিউলের রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ নিয়ে টানা ২২তম “ক্রান্তীয় রাত” দেখা গেল। কেএমএর সংজ্ঞা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিট থেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকলে তাকে ক্রান্তীয় রাত বলা হয়। জুলাই মাসে আগের রেকর্ড ছিল এমন ২১ রাত, যা ১৯৯৪ সালে হয়েছিল। কিছু অঞ্চলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। ২৭ জুলাই গিয়ংগি প্রদেশের আনসঙে তাপমাত্রা ছিল ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সিউলের আবহাওয়া পূর্বাভাস বিভাগের পরিচালক ইউন কি-হান এ পরিস্থিতির ব্যাখ্যায় বলেন:
সাধারণত এক দিন গরম পড়লে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, তারপর দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে গরম আবহাওয়া থাকলে তাপ পুরোপুরি কমে না—রয়ে যায় এবং প্রতিদিন জমতে থাকে।
বর্ষার ধরনে ব্যাঘাত ও আগাম তাপপ্রবাহ
প্রচলিত পূর্ব এশীয় বর্ষা মৌসুম ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সংকট আরও বেড়েছে। ঐতিহাসিকভাবে বর্ষাকাল গ্রীষ্মের গরম থেকে স্বস্তি দিত। কিন্তু এ বছর দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান—দুই দেশেই বর্ষা ছিল স্বল্পস্থায়ী ও কম তীব্র। পশ্চিম জাপানে জুনের শেষ দিকে বর্ষা শেষ হয়, রেকর্ড রাখা শুরুর পর যা সবচেয়ে আগে। দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্ষা এতটাই সংক্ষিপ্ত ও বিক্ষিপ্ত ছিল যে পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও অনেক বাসিন্দা ছাতা সঙ্গে নেওয়া বন্ধ করে দেন।
বিজ্ঞানীরা এসব পরিবর্তনের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন। এর ফলে বায়ুমণ্ডলের ধরন বদলে যাচ্ছে এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে। ফলে এ অঞ্চলে শুধু দিনের তাপমাত্রাই বাড়ছে না, রাতও উষ্ণ থাকছে এবং বৃষ্টিপাতের ধরনও অনিয়মিত হচ্ছে। এতে কৃষি, পানির সরবরাহ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
স্বাস্থ্য ও সমাজে প্রভাব
তাপপ্রবাহে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। জাপানে ২১ জুলাইয়ের আগের সপ্তাহে হিটস্ট্রোক ও গরমজনিত অন্যান্য অসুস্থতায় ১০ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন, যা এ বছর এ পর্যন্ত এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ সংখ্যা। ওই সময়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়; নিহতদের অধিকাংশের বয়স ৬৪ বছরের বেশি। জাপানের ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে ৩৩টিতে হিটস্ট্রোক সতর্কতা জারি করে অগ্নিনির্বাপণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। বাসিন্দাদের ঘরে থাকতে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র ব্যবহার করতে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে বলা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়াতেও গরমজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হিটস্ট্রোকে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় তিন গুণ। হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে এবং প্রচণ্ড গরমের সময় বাইরে না যাওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ বারবার সতর্ক করেছে।
বয়স্ক, শিশু ও বাইরে কাজ করা শ্রমিকেরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার শীতলীকরণ কেন্দ্র খুলেছে এবং পানি ও পাখা বিতরণ করেছে। সিউলে বাসিন্দাদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র চালাতে উৎসাহিত করতে কর্মকর্তারা পানির বিলেও ছাড় দিয়েছেন, যা সংকট মোকাবিলায় নেওয়া অসাধারণ পদক্ষেপগুলোর একটি।
অবকাঠামো ও দৈনন্দিন জীবনে চাপ
তাপপ্রবাহ অবকাঠামোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। লাখো মানুষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র ব্যবহার করায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে, ফলে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চরম গরমে রেললাইন ও সড়ক বেঁকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় পরিবহনব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে কৃষকেরা তাপ ও খরার ক্ষতি থেকে ফসল রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছেন। জেজু দ্বীপের মতো এলাকায় আগেভাগে ফল ঝরে পড়া ও সবজি রোদে পুড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
কিয়োতোর মতো শহরে অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তি পর্যটনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত বছর রেকর্ড ১ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার বিদেশি পর্যটককে স্বাগত জানানো শহরটিতে রেকর্ডে প্রথমবার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে ঘুরে বেড়ানো এড়াতে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা—উভয়কেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন: চরম তাপের পেছনের প্রধান কারণ
বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের ঘনত্ব ও তীব্রতা বাড়িয়ে তুলছে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন—এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা প্রায় একমত। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, এশিয়ায় উষ্ণতা বৃদ্ধির হার বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। গত বছর এশিয়ার স্থলভাগের গড় তাপমাত্রা ১৯৯১-২০২০ সময়কালের প্রবণতার চেয়ে প্রায় ১.০৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। তথ্যের উৎসভেদে ২০২৪ সাল রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণ অথবা দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর ছিল।
এনওএএ, নাসা ও কোপার্নিকাস জলবায়ু পরিবর্তন পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, ১৮৫০ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর বৈশ্বিকভাবে ২০২৫ সালের জুন ছিল তৃতীয় উষ্ণতম জুন। ইউরোপ ও এশিয়ায় জুন ছিল পঞ্চম উষ্ণতম। একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে একের পর এক তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। ডব্লিউএমও সতর্ক করেছে, চরম তাপ এখন লাখো মানুষের প্রতিদিনের বাস্তবতা। সংস্থাটি একে “নীরব ঘাতক” বলে বর্ণনা করেছে। মডেলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বছরে গড়ে প্রায় ৪ লাখ ৮৯ হাজার মানুষের গরমজনিত মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই এশিয়া ও ইউরোপের বাসিন্দা।
চরম তাপের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএমও ও জাতিসংঘ। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত করা, তাপ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, ৫৭টি দেশে তাপ-স্বাস্থ্য সতর্কতা ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করলে বছরে আনুমানিক ৯৮ হাজার ৩১৪টি প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
পূর্ব এশিয়ার তাপপ্রবাহ ২০২৫ সালের চরম আবহাওয়ার বৃহত্তর প্রবণতারই অংশ। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও বলকান এলাকায় গ্রীষ্মের তৃতীয় তাপপ্রবাহ চলছে। দাবানলের কারণে মানুষকে সরিয়ে নিতে হচ্ছে এবং প্রাণহানিও ঘটছে। উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহে তাপসূচক ৪৩-৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়াও রেহাই পায়নি: ফিনল্যান্ডে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা টানা ১৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে ছিল, আর নরওয়ে ও সুইডেনে বনে চরম অগ্নিঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
এশিয়ায় সংকটটি বিশেষভাবে তীব্র। চীনের জাতীয় জলবায়ু কেন্দ্র জানিয়েছে, মার্চের মাঝামাঝি থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। জুনে তাপসূচক ৫১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পর ভারতের নয়াদিল্লিতে লাল সতর্কতা জারি করা হয়। মিয়ানমারে এপ্রিল মাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়; চাউকে পারদ ৪৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে।
রাতের তাপমাত্রা কেন বাড়ছে?
বর্তমান তাপপ্রবাহের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি হলো রাতেও উচ্চ তাপমাত্রা বজায় থাকা, যা “ক্রান্তীয় রাত” নামে পরিচিত। এ ধরনের রাতে দিনের গরম থেকে তেমন স্বস্তি মেলে না। ফলে মানবদেহ সেরে ওঠার সুযোগ পায় না এবং গরমজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে। বয়স্ক, দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ নেই এমন মানুষের জন্য এ পরিস্থিতি বিশেষভাবে বিপজ্জনক।
কোরিয়া আবহাওয়া প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুলাইয়ে সিউলে ক্রান্তীয় রাতের সংখ্যা ১১৭ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। রাতে তাপমাত্রা না কমার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে: শহরে কংক্রিট ও পিচের কারণে তাপ আটকে থাকার প্রভাব, উচ্চ আর্দ্রতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহের বিস্তৃত পরিবর্তন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রান্তীয় রাত আরও সাধারণ হয়ে উঠবে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে এবং জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও তীব্র হবে। শহরগুলোকে সবুজ এলাকা বাড়ানো, ভবনের তাপ নিরোধক ব্যবস্থা উন্নত করা এবং জনসাধারণের জন্য শীতলীকরণ অবকাঠামোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে অভিযোজনের ওপর জোর দিয়েছে ডব্লিউএমও।
উষ্ণতর ভবিষ্যতের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো
চরম তাপের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। দুই দেশই জনসচেতনতামূলক প্রচার চালিয়েছে, শীতলীকরণ সরঞ্জাম বিতরণ করেছে এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও বাইরে কাজ করা শ্রমিকসহ সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও তৎপরতা বাড়িয়েছে। ডব্লিউএমও ও জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বে গ্লোবাল হিট হেলথ ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক দেশগুলোকে তাপজনিত ঝুঁকি কমানোর কৌশল শক্তিশালী করতে নতুন উপকরণ চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তাপ মোকাবিলার কর্মপরিকল্পনা মূল্যায়ন, তাপ সহনশীলতা নিয়ে কেস স্টাডি এবং সুশাসন ও উদ্ভাবনের জন্য সর্বোত্তম পদ্ধতিবিষয়ক নির্দেশনা।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শুধু অভিযোজন যথেষ্ট নয়। মূল কারণ—গ্রিনহাউস গ্যাসের ক্রমবর্ধমান নির্গমন—কার্যকর প্রশমন উদ্যোগের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বিপর্যয়কর প্রভাব এড়াতে প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, প্রাক্-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএমও ও জাতিসংঘ।
সংক্ষেপে
- জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ চলছে। জাপানে তাপমাত্রা ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে এবং সিউলে টানা ২২টি ক্রান্তীয় রাত দেখা গেছে।
- তাপপ্রবাহে গরমজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে, বিশেষ করে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের মধ্যে।
- বর্ষার ধরনে ব্যাঘাত ও দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে।
- কর্তৃপক্ষ জরুরি ব্যবস্থা নিচ্ছে, তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে জোরালো পদক্ষেপের পাশাপাশি অভিযোজনও জরুরি।
- পূর্ব এশিয়ার সংকট চরম তাপের বৈশ্বিক প্রবণতার অংশ, যা সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের জরুরি প্রয়োজন তুলে ধরছে।






