ট্র্যাকার লাগানো ভালুক কয়েক দিনের মধ্যে হাদানোতে ফিরে এল
১০১ কেজি ওজনের একটি পুরুষ এশীয় কালো ভালুককে ২০ অক্টোবর তানজাওয়া পাহাড়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। ২৪ অক্টোবর নিশ্চিত হওয়া যায়, ভালুকটি কানাগাওয়া প্রিফেকচারের হাদানো শহরের একটি আবাসিক এলাকার কাছে ফিরে এসেছে। যেখানে ভালুকটিকে ধরা হয়েছিল, সেখান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ছেড়ে দেওয়ার আগে তার শরীরে লাগানো রেডিও ট্রান্সমিটারের সংকেত ধরে কর্মকর্তারা ভালুকটিকে শনাক্ত করেন।
সূচিপত্র
প্রাপ্তবয়স্ক ভালুকটি বাড়িঘর ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছের কোবোয়ামা পার্ক এলাকায় ফিরে আসে। ২৪ অক্টোবর হাদানো কর্তৃপক্ষ সেখানে যাওয়ার পথগুলো বন্ধ করে, টহল বাড়ায় এবং প্রাণীটির ফিরে আসার খবর জানায়। আশপাশের স্কুলগুলো শিশুদের দলবদ্ধভাবে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করে এবং তাদের মধ্যে ভালুকের ঘণ্টা বিতরণ করে।
কর্মকর্তারা প্রথমে ভালুকটিকে কম ঝুঁকির বলে বিবেচনা করেছিলেন। তার মলে দেখা যায়, প্রধানত ওকগাছের ফল খেয়েছে। আবর্জনা ঘাঁটা, কৃষিজমিতে ঢোকা বা মানুষকে আক্রমণ করার কোনো নথিভুক্ত ইতিহাসও ছিল না। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রিফেকচারের নিয়ম মেনে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভালুকটি ফিরে আসার পর সেটিকে ধরে মেরে ফেলা হবে কি না, তা নিয়ে প্রিফেকচার ও শহর কর্তৃপক্ষ আলোচনা শুরু করেছে। এ সিদ্ধান্তে জননিরাপত্তা ও সংরক্ষণ, দুই বিষয়ই বিবেচ্য: কানাগাওয়ায় এশীয় কালো ভালুককে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, আর তানজাওয়ার ভালুকের সংখ্যা আনুমানিক ৮০টি।
ফিরে আসা ভালুকটিকে যেভাবে শনাক্ত করেন কর্মকর্তারা
ছেড়ে দেওয়ার তিন দিন পর, ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় শিবুজাওয়া গিরিপথের কাছে একটি সেন্সর ক্যামেরায় ভালুকের ছবি ধরা পড়ে। পরদিন কর্মকর্তারা ট্রান্সমিটারের সংকেত অনুসরণ করে নিশ্চিত হন, কোবোয়ামা পার্কের কাছে থাকা প্রাণীটিই সেই ভালুক।
ক্যামেরা ও ট্রান্সমিটার ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছিল। ক্যামেরাটি নির্দিষ্ট একটি স্থান দিয়ে যাওয়া প্রাণীর ছবি ধারণ করে। আর ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে কর্মকর্তারা নতুন করে দেখা ভালুকটিকে ২০ অক্টোবর তাদের ধরা ভালুকটির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন। শনাক্তকরণের ফলে শহর কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে কী ঘটেছে: ছেড়ে দেওয়া ভালুকটি পার্ক এলাকায় ফিরে এসেছে।
ধরা ও ছেড়ে দেওয়ার স্থান দুটির মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটারের দূরত্বটি বোঝায়, কর্মকর্তারা ভালুকটিকে কত দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন। ফেরার সঠিক পথটি জানানো হয়নি। পাহাড়ের পরিচিত শৈলশিরাগুলো হয়তো ফেরার পথ হিসেবে কাজ করেছে, কারণ পার্কসংলগ্ন এলাকাটি তার স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্রের অংশ বলে মনে হয়।
প্রথম দেখা থেকে আবার বন্ধ হলো পথ
কর্মকর্তারা ধরার আগে স্থানীয় পাহাড়গুলোতে ভালুকটিকে দেখা গিয়েছিল। প্রথমবার ১১ অক্টোবর গঙ্গেন-ইয়ামার কাছে তাকে দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এরপর আশপাশের এলাকায় ক্যামেরায় বারবার তার ছবি ধরা পড়ে।
ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা থেকে বোঝা যায়, কর্মকর্তারা কেন এখন তাদের পদক্ষেপ নতুন করে বিবেচনা করছেন:
- ১১ অক্টোবর: গঙ্গেন-ইয়ামার কাছে প্রথম ভালুকটিকে দেখা যায়।
- ২০ অক্টোবরের আগে: কোবোয়ামা পার্কের কাছের পাহাড়ি এলাকায় ক্যামেরায় বারবার তার ছবি ধরা পড়ে।
- ২০ অক্টোবর: কর্মকর্তারা বাক্স-ফাঁদে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ভালুকটিকে ধরেন, তার গায়ে রেডিও ট্রান্সমিটার লাগান এবং প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে তানজাওয়া পাহাড়ে ছেড়ে দেন।
- ২৩ অক্টোবর: সন্ধ্যায় শিবুজাওয়া গিরিপথের কাছে একটি সেন্সর ক্যামেরায় ভালুকের ছবি ধরা পড়ে।
- ২৪ অক্টোবর: ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে কর্মকর্তারা ভালুকটিকে শনাক্ত করেন, তার ফিরে আসার খবর জানান এবং পার্কে যাওয়ার পথগুলো বন্ধ করে দেন।
ধরার আগে বারবার ভালুকটিকে দেখা যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে বোঝা যায়, পাহাড়গুলো তার আগে থেকেই পরিচিত ছিল। তাকে আরও গভীর পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ায় তার অবস্থান বদলেছিল, কিন্তু পরে সে আবার সেই এলাকার দিকে ফিরে আসে, যেখানে এর আগে তার উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছিল।
কেন ভালুকটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল
প্রাণীটির নথিভুক্ত আচরণ এবং মল পরীক্ষা করে কর্মকর্তারা প্রথমে তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার প্রধান খাবার ছিল ওকগাছের ফল। আবর্জনা থেকে খাবার নেওয়া, কৃষিজমিতে ঢোকা বা কাউকে আক্রমণ করার কোনো নথিভুক্ত ঘটনা ছিল না।
বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা কোনো প্রাণী সম্প্রতি কী খেয়েছে, তা মল পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন। এ ক্ষেত্রে মলের নমুনায় বনের খাবারের প্রমাণ পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা ভালুকটির অতীত আচরণের পাশাপাশি এই প্রমাণও বিবেচনায় নিয়ে তাকে কম ঝুঁকির বলে শ্রেণিবদ্ধ করেন।
ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে কানাগাওয়ার নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল। স্থানান্তরের পর প্রাণীটিকে শনাক্ত করার উপায়ও দিয়েছিল রেডিও ট্রান্সমিটারটি। কয়েক দিন পর পার্কের কাছে ভালুকের ছবি ক্যামেরায় ধরা পড়লে সেটিই কর্মকর্তাদের পদক্ষেপের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ভালুকটির ফিরে আসায় শহরের তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বদলে যায়। তার খাবার খাওয়ার নথিভুক্ত আচরণ আগেরবার ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে থাকলেও, কর্মকর্তাদের আবার বাড়িঘর ও একটি স্কুলের কাছে বড় একটি ভালুকের উপস্থিতি সামলাতে হয়।
বাসিন্দা ও স্কুলগুলোর জন্য পরিস্থিতি যেভাবে বদলাল
ভালুকটি ফিরে আসার পর হাদানো কর্তৃপক্ষ পাহাড়ের তিনটি পথ বন্ধ করে দেয় এবং ২৪ অক্টোবর থেকে কোবোয়ামা পার্কে যাওয়ার প্রবেশপথ ও পথগুলোতে চলাচল সীমিত করে। শহর কর্তৃপক্ষ টহলও বাড়ায় এবং মানুষকে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানায়।
বাসিন্দাদের জন্য এর অর্থ ছিল কর্মকর্তারা প্রাণীটির গতিবিধির ওপর নজর রাখার সময় পরিচিত হাঁটার পথগুলো ব্যবহার করতে না পারা। পার্কসংলগ্ন পাহাড়ে মানুষ যেসব স্থান দিয়ে প্রবেশ করতে পারে, সেগুলোতে চলাচল সীমিত করার ওপর পদক্ষেপগুলো জোর দেয়। ফলে ভালুকটির চলাচল মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও বিনোদনের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে।
আশপাশের স্কুলগুলো শিশুদের একসঙ্গে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করে এবং তাদের মধ্যে ভালুকের ঘণ্টা বিতরণ করে। জনবসতির কাছাকাছি প্রাণীটির আবার উপস্থিতির পর শহর কর্তৃপক্ষের বন্ধাদেশ ও টহল বাড়ানোর পাশাপাশি এসব ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।
অবস্থানটির কারণেই জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজন হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ে চলাচল করা ভালুকের ব্যবস্থাপনা, বাড়িঘর ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে দেখা যাওয়া ভালুকের ব্যবস্থাপনার থেকে ভিন্ন। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে প্রিফেকচার ও শহর কর্তৃপক্ষের আলোচনার মধ্যে হাদানোর তাৎক্ষণিক উদ্যোগ ছিল মানুষের প্রবেশ সীমিত করা এবং সতর্কতা বাড়ানো।
সংখ্যায় কম হওয়ায় সিদ্ধান্ত আরও জটিল
তানজাওয়া পাহাড়ে এশীয় কালো ভালুকের সংখ্যা আনুমানিক ৮০টি। কানাগাওয়ায় প্রজাতিটিকে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করায় ধরা পুরুষ ভালুকটিকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সংরক্ষণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়েছিল।
স্থানীয় এই অবস্থার কারণে সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ। ছোট একটি জনগোষ্ঠী থেকে কোনো প্রাণীকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দিলে সংরক্ষণের ক্ষতি হয়, অন্যদিকে বাসিন্দাদের ব্যবহৃত স্থানের কাছে তাকে থাকতে দিলে জননিরাপত্তার উদ্বেগ তৈরি হয়। এই নির্দিষ্ট ভালুকটির বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা ঠিক করতে কর্মকর্তাদের দুই দিকই বিবেচনা করতে হবে।
ভালুকটি ফিরে আসার পর সেটিকে ধরে মেরে ফেলা হবে কি না, তা নিয়ে প্রিফেকচার ও শহর কর্তৃপক্ষ আলোচনা করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আবার ধরার চেষ্টার কোনো তারিখ জানানো হয়নি।
প্রথমবারের পদক্ষেপ থেকেও আলোচনার জন্য দরকারি তথ্য মিলেছে। কর্মকর্তারা এখন জানেন, প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার পর এই ভালুকটি ফিরে এসেছিল। তার চলাচলের তথ্য, খাবার খাওয়ার ইতিহাস, কাছের স্কুল এবং স্থানীয় ভালুকের সংখ্যা, এসবের পাশাপাশি বিবেচনার জন্য একটি নির্দিষ্ট উদাহরণ পেয়েছেন তারা।
স্পষ্ট সীমানা কেন গুরুত্বপূর্ণ
পরিবেশবিদ শিনসুকে কোইকে বলেছেন, ধাপে ধাপে নেওয়া পদক্ষেপগুলো যুক্তিসংগত ছিল। কর্মকর্তারা প্রথমে প্রাণীটিকে মূল্যায়ন করেন, ট্র্যাকার লাগিয়ে ছেড়ে দেন এবং শহরের কাছে ফিরে এলে বিধিনিষেধ আরও কঠোর করেন।
প্রাণীকে শুধু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানোর বদলে মানুষ ও ভালুকের জন্য নির্ধারিত এলাকার মধ্যে আরও স্পষ্ট সীমারেখা তৈরির আহ্বানও জানিয়েছেন কোইকে। এর অর্থ, কোন স্থান প্রধানত মানুষের কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবস্থাপনা করা হবে এবং কোন স্থান বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে থাকবে, তা নির্ধারণ করে প্রতিটি এলাকার উপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া।
কোবোয়ামা পার্ক এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জটিলতা তুলে ধরে। পাহাড়গুলো ভালুকটির পরিচিত বিচরণক্ষেত্র বলে মনে হয়, আর আশপাশে রয়েছে বাড়িঘর, স্কুলে যাওয়ার পথ এবং জনসাধারণের ব্যবহৃত চলাচলের পথ। একই ভূদৃশ্য বন্যপ্রাণী ও মানুষের কাজে লাগে।
তাৎক্ষণিক কাজ হলো, এখন হাদানোর কাছে ফিরে আসা ভালুকটির ব্যবস্থাপনা করা। কোইকে যে বৃহত্তর সমস্যাটির কথা বলেছেন, তা হলো জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো আরেকটি মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই এই সীমানাগুলো কীভাবে আরও স্পষ্ট করা যায়। এ ক্ষেত্রে ট্রান্সমিটারের কারণে প্রাণীটির ফিরে আসার বিষয়টি জানা গেছে, আর বন্ধাদেশ দেখিয়ে দিয়েছে, সেই ফিরে আসা দৈনন্দিন জীবনে কোথায় প্রভাব ফেলছে।
মূল বিষয়
- ১০১ কেজি ওজনের একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এশীয় কালো ভালুককে ২০ অক্টোবর প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ছেড়ে দেওয়ার পর কোবোয়ামা পার্কের কাছে ফিরে আসে।
- ২৩ অক্টোবর একটি ক্যামেরায় ভালুকটির ছবি ধরা পড়ে। ২৪ অক্টোবর কর্মকর্তারা রেডিও ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সেটিকে শনাক্ত করেন।
- ভালুকটি প্রধানত ওকগাছের ফল খেত এবং আবর্জনা ঘাঁটা, কৃষিজমিতে ঢোকা বা আক্রমণ করার কোনো নথিভুক্ত ইতিহাস ছিল না বলে কর্মকর্তারা প্রথমে একে কম ঝুঁকির বলে মনে করেছিলেন।
- হাদানো তিনটি পাহাড়ি পথ বন্ধ করে, টহল বাড়ায় এবং পার্কে প্রবেশ সীমিত করে। আশপাশের স্কুলগুলো শিশুদের দলবদ্ধভাবে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করে এবং ভালুকের ঘণ্টা বিতরণ করে।
- তানজাওয়ায় ভালুকের সংখ্যা আনুমানিক ৮০টি, আর কানাগাওয়ায় প্রজাতিটিকে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
- ফিরে আসা ভালুকটিকে ধরে মেরে ফেলা হবে কি না, তা নিয়ে প্রিফেকচার ও শহর কর্তৃপক্ষ আলোচনা করছে।






