চিবার আফগান মায়েরা: সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য ভাষার বাধা অতিক্রম
টোকিওর ঠিক বাইরে চিবা প্রিফেকচারের প্রাণকেন্দ্রে আফগান নারীদের মধ্যে নীরবে এক পরিবর্তন ঘটছে। যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির শিরোনাম থেকে দূরে, এই নারীরা লড়ছেন ভিন্ন এক সংগ্রামে: ভাষার মাধ্যমে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং জাপানি সমাজে একীভূত হওয়ার লড়াই। এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সেদেকা এতো, দীর্ঘদিনের আফগান বাসিন্দা, যিনি অভিবাসন ও সাংস্কৃতিক অভিযোজনের গভীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজের জীবন সম্প্রদায়ের মানুষদের সহায়তায় উৎসর্গ করেছেন।
সূচিপত্র
- চিবার আফগান মায়েরা: সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য ভাষার বাধা অতিক্রম
- ভাষা কেন গুরুত্বপূর্ণ: জাপানে আফগান সম্প্রদায়ের বিশেষ চ্যালেঞ্জ
- বিচ্ছিন্নতা থেকে ক্ষমতায়ন: ভাষা স্কুলের সূচনা
- শ্রেণিকক্ষের অভিজ্ঞতা: সংগ্রাম ও আশার গল্প
- সমাজে একীভূত হওয়া ও পরিচয়: চিবার আফগানদের বৃহত্তর অভিজ্ঞতা
- বিকল্প পথ: আফগান শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসূচি ও সুযোগ
- শ্রেণিকক্ষের বাইরে: আফগান নারীদের আকাঙ্ক্ষা ও অর্জন
- সংক্ষেপে
জাপানে অনেক আফগান মায়ের জন্য ভাষার বাধা নিছক অসুবিধার চেয়েও বেশি—এটি বিচ্ছিন্নতা, উদ্বেগ এবং কখনো কখনো পরিবারের সঙ্গে দূরত্বের কারণ। সন্তানরা দ্রুত জাপানি জীবনযাপন ও ভাষার সঙ্গে মানিয়ে নিলেও মায়েরা প্রায়ই পিছিয়ে পড়েন; নিজের পরিবারের সঙ্গে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে বা সন্তানদের শিক্ষায় অংশ নিতে পারেন না। এতো প্রতিষ্ঠিত বিনা মূল্যের জাপানি ভাষা স্কুলটি শুধু শ্রেণিকক্ষ নয়; নিজেদের কণ্ঠস্বর এবং মা ও সমাজের সদস্য হিসেবে ভূমিকা ফিরে পেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নারীদের জন্য এটি জীবনরেখা।
ভাষা কেন গুরুত্বপূর্ণ: জাপানে আফগান সম্প্রদায়ের বিশেষ চ্যালেঞ্জ
চিবায় জাপানের অন্যতম বৃহৎ আফগান সম্প্রদায়ের বসবাস; দেশটির ৬,০০০ আফগান বাসিন্দার প্রায় ৪০ শতাংশ এই এলাকায় থাকেন। ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর অনেকেই শরণার্থী হিসেবে জাপানে আসেন। সহিংসতা ও মৌলিক অধিকার হরণের মুখে, বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের অধিকার হারানোর আশঙ্কায় তাঁরা দেশ ছাড়েন। জাপানের বৃহত্তর অভিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোর তুলনায় আফগানরা কিছু স্বতন্ত্র বাধার মুখে পড়েন: ছোট ও ঘনিষ্ঠ সম্প্রদায়, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার সীমাবদ্ধতা এবং এমন সাংস্কৃতিক রীতিনীতি, যা নারীদের চলাফেরা ও স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে।
Wiley Online Library-তে প্রকাশিত গবেষণাসহ বিভিন্ন একাডেমিক গবেষণা অনুযায়ী, জাপানের আফগান সম্প্রদায়ের মানুষ নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় গুচ্ছবদ্ধভাবে বসবাস করেন; এসব এলাকা প্রায়ই গাড়ি ভাঙা ও রপ্তানির মতো কর্মস্থলের কাছাকাছি। এই নৈকট্য সংহতির অনুভূতি গড়ে তোলে, তবে গোষ্ঠীর বাইরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিতও করতে পারে। ফলে প্রাপ্তবয়স্কদের, বিশেষ করে ঘরের বাইরে কাজ করার সম্ভাবনা যাঁদের কম, সেই নারীদের জন্য সমাজে একীভূত হওয়া ও ভাষা শেখা কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, শিশুরা স্কুলে জাপানি ভাষার মধ্যে বেড়ে ওঠে এবং দ্রুত সাবলীল হয়ে যায়। প্রজন্মের মধ্যে ভাষাগত এই ব্যবধান গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এতো বলেন, “শিশুরা স্কুলে জাপানি বলতে শেখে, কিন্তু মায়েরা তা বুঝতে পারেন না। এরপর শিশুরা আফগান ভাষা ভুলে যায়।” এর ফলে মা-বাবা ও সন্তানের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে এবং যোগাযোগ প্রায়ই জাপানি ভাষার সহজ কিছু বাক্যে সীমাবদ্ধ থাকে। স্কুলের সমস্যা বা মানসিক টানাপোড়েনের মতো জটিল বিষয় নিয়ে কথা বলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বিচ্ছিন্নতা থেকে ক্ষমতায়ন: ভাষা স্কুলের সূচনা
সেদেকা এতো ১৯৮৩ সালে আফগানিস্তান থেকে জাপানে আসেন। এক জাপানি পুরুষকে বিয়ে করার পর তিনি প্রায় চার দশক ধরে আইনবিষয়ক দোভাষী হিসেবে কাজ করেন এবং সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বিচ্ছিন্নতার পরিণতি প্রত্যক্ষ করেন। এতো স্মৃতিচারণ করে বলেন, “বিদেশি তরুণদের দোকান থেকে চুরি ও অন্যান্য অপরাধের ঘটনা বাড়তে দেখে আমি বিষয়টি বুঝতে পারি।” তিনি একটি প্রবণতা লক্ষ করেন: মা-বাবা ও সন্তানদের মধ্যে যোগাযোগ না থাকলে সম্পর্ক ভেঙে পড়ে, যা কখনো কিশোর অপরাধ, এমনকি ঘরের ভেতর সহিংসতারও কারণ হয়।
এসব সমস্যা মোকাবিলায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে এতো আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য অলাভজনক সংস্থা ঈগল আফগান প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০২৩ সালে আফগান নারীদের জন্য বিনা মূল্যে একটি জাপানি ভাষা স্কুল চালু করেন। স্কুলে প্রতি শনিবার ক্লাস হয় এবং বর্তমানে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী ১২০ জনের বেশি। অনেকের জন্য এটি সপ্তাহের সবচেয়ে আনন্দের সময়—শেখা, মেলামেশা এবং একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা অন্যদের সঙ্গে নিজেদের উদ্বেগ ভাগ করে নেওয়ার বিরল সুযোগ।
স্কুলে যাওয়া সবসময় সহজ নয়। আফগানদের প্রচলিত রীতিনীতিতে প্রায়ই নারীদের একা বাইরে যাওয়া নিষেধ, আর কিছু স্বামী তাঁদের স্ত্রীদের অংশগ্রহণে আপত্তি জানান। তবু অনেক নারী যাওয়ার উপায় খুঁজে নেন; কখনো সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আসেন, কখনো জাপানি স্বেচ্ছাসেবীদের পরিচালিত স্কুলের শিশুযত্ন সেবার ওপর নির্ভর করেন। এতো বলেন, “স্বামীদের আপত্তি সত্ত্বেও নারীরা আন্তরিকভাবে জাপানি ভাষা শেখেন। সন্তানদের দেখাশোনা করতে করতেও কাজ থামিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দেন।”
শ্রেণিকক্ষের অভিজ্ঞতা: সংগ্রাম ও আশার গল্প
ভাষা স্কুলের প্রভাব সবচেয়ে ভালো বোঝা যায় নারীদের নিজেদের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। ৪৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আফগানিস্তানের অবনতিশীল পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে জাপানে আসেন। শুরুতে তাঁর মনে হয়েছিল, “আমার ভেতরটা মৃত মনে হতো, কারণ আমি জাপানি বলতে পারতাম না।” তাঁর স্বামী স্মার্টফোনে পড়াশোনার পরামর্শ দেন, কিন্তু শিক্ষকের ও ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে শ্রেণিকক্ষে শেখার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন আনে। তিনি বলেন, “এই অভিজ্ঞতা আমাকে আনন্দ দিয়েছে এবং আমার মানসিক অবস্থার উন্নতি করেছে।”
আফগানিস্তানে অনেক নারীকে নিজেদের পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছিল, যেখানে তালেবান নির্দিষ্ট বয়সের পর মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে। তাঁদের জন্য প্রাপ্তবয়স্ক হয়েও পড়ার সুযোগ ব্যক্তিগত বিজয় এবং ক্ষমতায়নের উৎস—দুটিই। এক শিক্ষার্থীর ভাষায়, “পড়াশোনা আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ, আর শিক্ষকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”
শ্রেণিকক্ষের বাইরেও এর সুফল রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, জাপানে দৈনন্দিন জীবন সামলাতে তাঁদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে—গণপরিবহনে চলাচল থেকে শুরু করে সন্তানদের স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলা পর্যন্ত। কেউ কেউ আরও পড়াশোনা বা চাকরির কথা ভাবছেন, স্বামীদের ওপর আর্থিক নির্ভরতার চক্র ভাঙছেন। এতো বলেন, “স্বামীদের ওপর আর্থিকভাবে নির্ভর না করে আরও বেশি নারী উচ্চতর পড়াশোনা ও ঘরের বাইরে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।”
অনেকের কাছে সাপ্তাহিক ক্লাসটি আশার আলো। এক নারী বলেন, “শনিবারের জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি।” এ দিন তাঁরা শিখতে ও পরস্পরের সঙ্গে সংযোগ গড়তে পারেন, আর কিছুক্ষণের জন্য ঘরের কাজ ও সাংস্কৃতিক প্রত্যাশার বোঝা পাশে সরিয়ে রাখতে পারেন।
সমাজে একীভূত হওয়া ও পরিচয়: চিবার আফগানদের বৃহত্তর অভিজ্ঞতা
চিবায় আফগান নারীদের জাপানি ভাষা শেখার গল্প অভিযোজন ও ঘুরে দাঁড়ানোর বৃহত্তর আখ্যানের অংশ। চিবা প্রিফেকচারের ইয়োৎসুকাইদো শহরে আফগান সম্প্রদায় ১৯৮০-এর দশক থেকে ক্রমাগত বড় হয়েছে। শুরুতে ব্যবহৃত গাড়ি রপ্তানির ব্যবসার সুযোগ তাঁদের আকৃষ্ট করেছিল। বর্তমানে শহরটিতে ১,২০০ আফগান বাস করেন, যা জাপানি নন এমন বাসিন্দাদের প্রায় ৩০ শতাংশ। আরিয়ান-এর মতো রেস্তোরাঁ পরিচিত খাবার ও আপনত্বের অনুভূতি দিয়ে খাবার এবং সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
তবে সমাজে একীভূত হওয়া চলমান একটি প্রক্রিয়া। অনেক আফগান প্রাপ্তবয়স্কের, বিশেষ করে নারীদের, জাপানি ভাষায় দক্ষ হওয়ার সুযোগ সীমিত। ইয়োৎসুকাইদোর ক্রস-কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের মতো স্থানীয় সংগঠনগুলো ভাষার ক্লাসের আয়োজন করে; ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় নারীদের জন্য আলাদা ক্লাসও রয়েছে। “সেনসেই” নামে স্নেহভরে পরিচিত আতসুকো হিমেনোর মতো শিক্ষকরা শুধু পাঠদানই করেন না, হাসপাতাল, স্কুল এবং জাপানি জীবনের অন্যান্য দিক সামলাতেও সহায়তা করেন। হিমেনো বলেন, “মানুষকে সাহায্য করাই আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি চাই, তাঁরা জাপানে দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন কাটান, কারণ নিজ দেশেই তাঁরা কঠিন সময় পার করেছেন।”
শিশুদের পরিস্থিতি ভিন্ন। স্কুলে জাপানি ভাষার মধ্যে বেড়ে ওঠায় তারা প্রায়ই পরিবারের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সেতু হয়ে দাঁড়ায়। তবে এতে টানাপোড়েনও তৈরি হতে পারে, কারণ মা-বাবা সন্তানদের দ্রুত অভিযোজনের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খান। এক মা আক্ষেপ করে বলেন, “আমার সন্তানেরা নিজেদের মধ্যে জাপানি ভাষায় কথা বলে, তাই তাদের কথা বোঝা আমার পক্ষে অসম্ভব।” প্রজন্মের এই ব্যবধান দেখায়, শুধু ব্যবহারিক কারণেই নয়, পারিবারিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখতেও প্রাপ্তবয়স্কদের ভাষা শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
বিকল্প পথ: আফগান শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসূচি ও সুযোগ
জাপানে আফগানদের সমাজে একীভূত হতে সহায়তাকারী উদ্যোগের মধ্যে চিবার ভাষা স্কুলটিই একমাত্র নয়। উদাহরণ হিসেবে, জাপান-আফগানিস্তান জাপানি ভাষা স্কুল পাথওয়েজ (JALP) কর্মসূচি আফগান তরুণদের সারা দেশের বেসরকারি ভাষা স্কুলে জাপানি ভাষা শেখার সুযোগ দেয়। সিরীয় শিক্ষার্থীদের জন্য অনুরূপ কর্মসূচির আদলে তৈরি JALP শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বা জাপানে চাকরির জন্য প্রস্তুত হতে টিউশন ফি, বিমানভাড়া এবং সহায়তা সেবা দেয়। নতুন সম্প্রদায়ে জীবন পুনর্গঠন ও অবদান রাখতে আগ্রহী তরুণ আফগানদের জন্য এ ধরনের কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জাপানে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার হার অন্যতম সর্বনিম্ন, আর অনেক আফগান উদ্ধারপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাঁদের আইনি মর্যাদা, কর্মসংস্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। একাডেমিক গবেষণায় আরও সুসংহত ও মানবিক শরণার্থী নীতির পাশাপাশি সমাজে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নারী ও পরিবারগুলোর জন্য, অধিকতর সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।
শ্রেণিকক্ষের বাইরে: আফগান নারীদের আকাঙ্ক্ষা ও অর্জন
জাপানি ভাষা শেখা ও সমাজে অংশ নিতে চিবায় আফগান নারীদের দৃঢ় সংকল্প অন্য সাফল্যের গল্পেও প্রতিফলিত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, কাবুল থেকে গোপনে সরিয়ে নেওয়ার পর জাকিয়া খুদাদাদি প্যারালিম্পিক গেমসে অংশ নেওয়া প্রথম আফগান নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। চিবায় তাঁর যাত্রা—যেখানে তিনি তায়কোয়ান্দোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন—প্রতিকূলতার মুখে আফগান নারীদের সাহস ও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক। একইভাবে, জাপানে বক্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে থাকা মাহদি মিরজাদের মতো তরুণ আফগানরা সম্প্রদায়ের নানা আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনার পরিচয় দেন।
এসব গল্প তুলে ধরে, ভাষা শুধু টিকে থাকার উপায় নয়; এটি সুযোগ, আত্মপ্রকাশ ও আপনত্বের দরজাও খুলে দেয়। চিবার আফগান নারীদের জন্য জাপানি ভাষায় দক্ষ হওয়া শুধু শব্দ শেখা নয়—এটি নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ফিরে পাওয়া, প্রজন্মের ব্যবধান ঘোচানো এবং বিদেশের মাটিতে নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার পথ।
সংক্ষেপে
- জাপানের চিবার আফগান নারীরা সেদেকা এতো প্রতিষ্ঠিত বিনা মূল্যের জাপানি ভাষা স্কুলের মাধ্যমে ভাষা ও সংস্কৃতির বড় বাধাগুলো অতিক্রম করছেন।
- দ্রুত জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা আফগান মা ও তাঁদের সন্তানদের মধ্যে বাড়তে থাকা যোগাযোগের ব্যবধান কমাতে স্কুলটি সহায়তা করে।
- প্রচলিত রীতিনীতি ও সীমিত সুযোগের কারণে আফগান নারীদের ক্লাসে যাওয়া কঠিন, তবে তাঁদের অনেকে অধ্যবসায় ধরে রেখে ক্ষমতায়ন ও সম্প্রদায়ের সান্নিধ্য খুঁজে পান।
- সমাজে একীভূত হওয়া, পারিবারিক বন্ধন এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার জন্য ভাষা শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- JALP কর্মসূচির মতো বৃহত্তর উদ্যোগ আফগান শিক্ষার্থীদের সহায়তা করে, তবে সীমাবদ্ধ শরণার্থী নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
- প্যারালিম্পিয়ান জাকিয়া খুদাদাদি ও বক্সার মাহদি মিরজাদের মতো মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প জাপানের আফগান সম্প্রদায়ের আকাঙ্ক্ষা ও অর্জনের প্রতিফলন।






