বিপ্লবী অপটিক্যাল ফাইবার প্রযুক্তিতে ইন্টারনেট গতির বিশ্ব রেকর্ড ভাঙল জাপান

পড়তে 7 মিনিট
Japan's new internet speed record makes today's broadband look ancient

জাপানের যুগান্তকারী সাফল্য: এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ ইন্টারনেট গতি

বিশ্ব যোগাযোগে এক বিস্ময়কর অগ্রগতির মধ্য দিয়ে জাপানের গবেষকেরা ইন্টারনেট গতিতে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। এমন গতিতে তথ্য পাঠানো হয়েছে, যা আগে কল্পনাও করা যেত না। সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত ৪৮তম অপটিক্যাল ফাইবার কমিউনিকেশন কনফারেন্সে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস টেকনোলজি (NICT) এ সাফল্যের ঘোষণা দেয়। এতে ১,১২০ মাইল (১,৮০২ কিলোমিটার) দূরত্বে প্রতি সেকেন্ডে ১ লাখ ২৫ হাজার গিগাবাইটের (GB) বেশি তথ্য পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গড় ইন্টারনেট গতির তুলনায় এটি প্রায় ৪০ লাখ গুণ দ্রুত এবং মাত্র এক বছর আগে গড়া আগের বিশ্ব রেকর্ডের দ্বিগুণেরও বেশি।

সূচিপত্র
  1. জাপানের যুগান্তকারী সাফল্য: এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ ইন্টারনেট গতি
  2. জাপান কীভাবে এই রেকর্ড গড়া গতি অর্জন করল?
  3. প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন: ১৯-কোর অপটিক্যাল ফাইবার
  4. এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? বৈশ্বিক তথ্যের ক্রমবর্ধমান চাপ
  5. তুলনা: এই গতি কতটা বেশি?
  6. গতির পেছনের বিজ্ঞান: প্রযুক্তিগত বাধা অতিক্রম
  7. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: আমরা কত দূর এগিয়েছি
  8. ভবিষ্যতের জন্য এর অর্থ কী?
  9. বিশেষজ্ঞদের মতামত ও জনমত
  10. চ্যালেঞ্জ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
  11. আরও দ্রুত ইন্টারনেটের প্রতিযোগিতা: বৈশ্বিক প্রভাব
  12. সংক্ষেপে

বিষয়টি বোঝাতে বলা যায়, এই গতিতে পুরো ইন্টারনেট আর্কাইভ চার মিনিটেরও কম সময়ে ডাউনলোড করা সম্ভব, কিংবা একই সঙ্গে লাখ লাখ আল্ট্রা-হাই-ডেফিনিশন সিনেমা স্ট্রিম করা যাবে। ইন্টারনেট, ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বৈশ্বিক যোগাযোগের ভবিষ্যতের জন্য এর তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী।

জাপান কীভাবে এই রেকর্ড গড়া গতি অর্জন করল?

এই প্রযুক্তিগত বিস্ময়ের পেছনে রয়েছে নতুন উদ্ভাবিত একটি অপটিক্যাল ফাইবার কেবল। এটি যান্ত্রিক পেনসিলের চেয়েও সরু, অথচ একটি তন্তুর মধ্যে ১৯টি প্রচলিত ফাইবার-অপটিক লাইনের ক্ষমতা ধারণ করে। প্রচলিত ফাইবার-অপটিক কেবল আলোর স্পন্দনের মাধ্যমে তথ্য পাঠাতে একটি কোর ব্যবহার করে। জাপানি দলটি এমন একটি কেবল তৈরি করেছে, যাতে রয়েছে ১৯টি আলাদা কোর; প্রতিটি কোর নিজস্ব তথ্যধারা বহন করতে পারে। এই নকশায় কেবলের আকার না বাড়িয়েই এর ধারণক্ষমতা বহুগুণ করা যায়, ফলে এটি বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান অবকাঠামোর সঙ্গে ব্যবহার করা সম্ভব।

কেবলের ১৯টি কোরের প্রতিটিই আলোর সঙ্গে ঠিক একইভাবে ক্রিয়া করে। দীর্ঘ দূরত্বে তথ্য হারানো ও সংকেত বিকৃতি কমাতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগের পরীক্ষায় কাছাকাছি গতি অর্জন করা গেলেও তা কেবল অনেক কম দূরত্বে সম্ভব হয়েছিল। নতুন সাফল্য হলো ১,১০০ মাইলের বেশি দূরত্বজুড়ে এই গতি ধরে রাখা। তথ্যের শক্তি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখে এমন অত্যাধুনিক অ্যামপ্লিফায়ার এবং সংকেত-লুপের ব্যবস্থায় এটি সম্ভব হয়েছে।

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন: ১৯-কোর অপটিক্যাল ফাইবার

১৯-কোর ফাইবারটি প্রকৌশলের এক বিস্ময়। এর ব্যাস মাত্র ০.১২৭ মিলিমিটার—বর্তমানে ব্যবহৃত অধিকাংশ একক-ফাইবার কেবলের সমান—তাই বিদ্যমান নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবহার করেই এটি স্থাপন করা যায়। প্রতিটি কোর মহাসড়কের একটি লেনের মতো কাজ করে, ফলে বিপুল পরিমাণ তথ্য একই সঙ্গে চলাচল করতে পারে। গবেষকেরা এমন উন্নত অ্যামপ্লিফিকেশন ব্যবস্থাও তৈরি করেছেন, যা বিশেষ অ্যামপ্লিফায়ার ও পুনঃসঞ্চালনকারী লুপ ব্যবহার করে ১৯টি কোরের সবকটিতে একই সঙ্গে সংকেত শক্তিশালী করে এবং দীর্ঘ দূরত্বে তথ্য পাঠানোর পরিস্থিতি তৈরি করে।

গ্রহণ প্রান্তে ১৯-চ্যানেলের একটি রিসিভার ও ডিজিটাল প্রসেসর সংকেতগুলো পরিষ্কার করে এবং মোট তথ্যের হার হিসাব করে। ফলাফল: প্রচলিত আকারের ফাইবার যোগাযোগে নতুন বিশ্ব রেকর্ড, যার ধারণক্ষমতা-দূরত্ব গুণফল প্রতি সেকেন্ডে-কিলোমিটারে ১.৮৬ এক্সাবিট—এ যাবৎ অর্জিত সর্বোচ্চ।

বিজ্ঞাপন

এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? বৈশ্বিক তথ্যের ক্রমবর্ধমান চাপ

অধিকাংশ মানুষের কয়েক মিনিটে পুরো ইন্টারনেট আর্কাইভ ডাউনলোড করার প্রয়োজন হবে না। তবে এই সাফল্যের প্রকৃত গুরুত্ব হলো, তথ্যের দ্রুত বাড়তে থাকা বৈশ্বিক চাহিদা মেটানোর সম্ভাবনা। স্ট্রিমিং সেবা, ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট সিটি এবং কোটি কোটি সংযুক্ত ডিভাইসের বিস্তারে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ট্রাফিক দ্রুত বাড়ছে। শিল্পখাতের হিসাব অনুযায়ী, তথ্যের পরিমাণ প্রতিবছর প্রায় ৫০ শতাংশ করে বাড়ছে—এ প্রবণতা কমার কোনো লক্ষণ নেই।

বর্তমান নেটওয়ার্কগুলোই এই চাহিদা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। নতুন সমাধান না এলে, উদ্ভাবন ও সংযোগ সীমিত করে এমন ডিজিটাল প্রতিবন্ধকতার মুখে আমরা শিগগিরই পড়তে পারি। জাপানি দলের সাফল্য দেখায়, বিদ্যমান কেবলের আকার না বদলিয়েও অতি-উচ্চগতির দীর্ঘপাল্লার ফাইবার নেটওয়ার্ক তৈরি করা সম্ভব। এতে বাস্তবে প্রযুক্তিটি চালু করা অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হতে পারে।

তুলনা: এই গতি কতটা বেশি?

এই সাফল্যের ব্যাপ্তি সত্যিকার অর্থে বুঝতে কয়েকটি তুলনা বিবেচনা করুন:

  • যুক্তরাষ্ট্রে স্থির ব্রডব্যান্ডের গড় গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২৮৯ মেগাবিট (Mbps), অর্থাৎ মোটামুটি ৩৬ মেগাবাইট। জাপানের নতুন রেকর্ড প্রতি সেকেন্ডে ১ লাখ ২৫ হাজার গিগাবাইটেরও বেশি—প্রায় ৪০ লাখ গুণ দ্রুত।
  • ভারতের গড় ইন্টারনেট গতি এর চেয়েও কম; কিছু হিসাব অনুযায়ী, জাপানের এই সাফল্য সেখানে ১ কোটি ৬০ লাখ গুণ দ্রুত।
  • এই গতিতে পুরো নেটফ্লিক্স লাইব্রেরি এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে অথবা ইংরেজি উইকিপিডিয়া এক সেকেন্ডে ১০ হাজার বার ডাউনলোড করা সম্ভব।

এক বিশেষজ্ঞের কথায়,

এটা যেন একই জায়গার মধ্যে এক লেনের সড়ককে ১৯ লেনের মহাসড়কে রূপান্তর করা।

গতির পেছনের বিজ্ঞান: প্রযুক্তিগত বাধা অতিক্রম

দীর্ঘ দূরত্বে এত বেশি গতিতে তথ্য পাঠানো মানে শুধু আরও বেশি ফাইবার কোর যোগ করা নয়। চলার পথে আলোর সংকেত দুর্বল হয়ে যায়; আবার বহু কোরে কোনো ধরনের ব্যতিচার ছাড়া সংকেত শক্তিশালী করাও বড় চ্যালেঞ্জ। NICT-এর দলটি ১৯টি কোরের অপটিক্যাল বৈশিষ্ট্য অভিন্ন রেখে এই বাধা অতিক্রম করেছে। এতে আলো একই ছন্দে চলতে পারে এবং তথ্যের ক্ষতি কমে।

পরীক্ষায় তথ্য সংকেতকে একটি সঞ্চালন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ২১ বার পাঠানো হয়, যা ১,১২০ মাইলের পুরো যাত্রাপথের অনুকরণ করে। তথ্যের অখণ্ডতা বজায় রাখতে উন্নত অ্যামপ্লিফিকেশন ও ত্রুটি সংশোধন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। গবেষকেরা মাল্টি-ব্যান্ড ওয়েভলেংথ ডিভিশন মাল্টিপ্লেক্সিং (WDM) প্রযুক্তিও ব্যবহার করেন। এতে আলোর বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে একাধিক তথ্য চ্যানেল একই সঙ্গে পাঠানো যায়, ফলে ধারণক্ষমতা আরও বাড়ে।

বিজ্ঞাপন

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: আমরা কত দূর এগিয়েছি

গত তিন দশকে ইন্টারনেটের গতি নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০০০-এর দশকের গোড়ায় বাড়ির ব্রডব্যান্ডের গতি মাপা হতো প্রতি সেকেন্ডে কিলোবিট বা অল্প কয়েক মেগাবিটে। ফাইবার-অপটিক সঞ্চালনে আগের বিশ্ব রেকর্ড ছিল প্রতি সেকেন্ডে ৫০,২৫০ GB, যা ২০২৪ সালে গড়া হয়। এর আগে রেকর্ডের হিসাব ছিল প্রতি সেকেন্ডে কয়েক শ টেরাবিটে। জাপানের নতুন রেকর্ড—প্রতি সেকেন্ডে ১.০২ পেটাবিট (১,০২০,০০০ গিগাবিট)—এক বিশাল অগ্রগতি।

উল্লেখযোগ্য অন্যান্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে:

  • যুক্তরাজ্যের অ্যাস্টন ইউনিভার্সিটির ৬৩ কিলোমিটার দূরত্বে প্রতি সেকেন্ডে ৪০২ টেরাবিট সঞ্চালন
  • ২০২৪ সালে NICT-এর উন্নত অ্যামপ্লিফিকেশন ও স্পেকট্রাম-শেপিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে প্রতি সেকেন্ডে ৪০২ টেরাবিট সঞ্চালন

তবে প্রচলিত আকারের কেবলে এত দীর্ঘ দূরত্বে এত বেশি গতি আর কেউ অর্জন করতে পারেনি।

ভবিষ্যতের জন্য এর অর্থ কী?

এই সাফল্যের প্রভাব সিনেমা দ্রুত ডাউনলোড করার বাইরেও অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। বিশ্ব যখন ৫জি-পরবর্তী যুগের দিকে এগোচ্ছে, তখন চালকবিহীন গাড়ি, রিয়েল-টাইম ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি এবং বৈশ্বিক এআই ব্যবস্থার মতো প্রযুক্তির জন্য নির্ভরযোগ্য, উচ্চ-ধারণক্ষমতার নেটওয়ার্কের চাহিদা বাড়তেই থাকবে। সম্পূর্ণ নতুন অবকাঠামো তৈরি না করে দীর্ঘ দূরত্বে বিপুল পরিমাণ তথ্য পাঠানোর সক্ষমতা বৈশ্বিক সংযোগে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।

NICT-এর দলের মতে, এই প্রযুক্তি হয়ে উঠতে পারে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোর মেরুদণ্ড:

  • স্বায়ত্তশাসিত যানবাহনের নেটওয়ার্ক, যেখানে শহর ও দেশের মধ্যে রিয়েল-টাইমে তথ্য ভাগাভাগি করতে হয়
  • বিশ্বজুড়ে শেখে ও কাজ করে এমন এআই ব্যবস্থা, যা লাখ লাখ উৎস থেকে রিয়েল-টাইমে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে
  • একই সময়ে কোটি কোটি ব্যবহারকারীকে সেবা দেয় এমন ক্লাউড কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম
  • স্মার্ট সিটি ও ইন্টারনেট অব থিংস (IoT), যেখানে ট্রাফিক সিগন্যাল থেকে রেফ্রিজারেটর—সবকিছুই সংযুক্ত

প্রযুক্তিটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত নয়। তবে বিদ্যমান কেবল অবকাঠামো ব্যবহার করে এটি স্থাপন করা যাবে বলে ভবিষ্যতে ব্যাপকভাবে চালু করা আরও বাস্তবসম্মত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও জনমত

এ ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা এই সাফল্যকে বড় অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রযুক্তি বিশ্লেষক ড. রেন রেশ বলেন,

এই নতুন রেকর্ড গড়া গতিতে পুরো নেটফ্লিক্স লাইব্রেরি এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে ডাউনলোড করা সম্ভব। বিষয়টি শুধু গতি নিয়ে নয়—এটি আমাদের বৈশ্বিক যোগাযোগ অবকাঠামোকে ভবিষ্যতের চাহিদার উপযোগী করে তোলার ব্যাপার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি বিস্ময় ও হাস্যরস—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই তৈরি করেছে। কেউ কেউ ঠাট্টা করে বলেছেন, এত গতি মূলত এইচডি ভিডিও দেখতেই কাজে লাগবে; আবার অনেকে এমন সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। একটি বিষয়ে স্পষ্ট ঐকমত্য রয়েছে: ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে কী সম্ভব, তার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে জাপানের উদ্ভাবন।

বিজ্ঞাপন

চ্যালেঞ্জ ও পরবর্তী পদক্ষেপ

উদ্দীপনা থাকলেও, বিশ্বজুড়ে এই প্রযুক্তি চালুর আগে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। রেকর্ডটি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি; বাস্তব পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্যতা ও ব্যয়সাশ্রয়িতা নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা দরকার হবে। এ ছাড়া, কেবলগুলো বিদ্যমান অবকাঠামোয় বসানো গেলেও, এত গতি সামাল দিতে নেটওয়ার্কের বাকি অংশ—যেমন রাউটার ও সুইচ—হালনাগাদ করতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

NICT-এর দলটি এখন টেলিযোগাযোগে প্রযুক্তিটির বাস্তব প্রয়োগ খতিয়ে দেখছে এবং বাণিজ্যিক সমাধান তৈরিতে শিল্পখাতের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে। বিশ্বজুড়ে তথ্য সঞ্চালনের পরিমাণ সূচকীয় হারে বাড়তে থাকায়, ডিজিটাল অচলাবস্থা এড়াতে এ ধরনের উদ্ভাবন অপরিহার্য হবে।

আরও দ্রুত ইন্টারনেটের প্রতিযোগিতা: বৈশ্বিক প্রভাব

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেটের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় জাপানকে এগিয়ে দিয়েছে এই সাফল্য। ডিজিটাল যুগের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়তে দেশগুলোর প্রতিযোগিতার মধ্যে এ ধরনের অগ্রগতি নির্ধারণ করে দিতে পারে, এআই, স্বায়ত্তশাসিত যানবাহন এবং পরবর্তী প্রজন্মের যোগাযোগের মতো ক্ষেত্রে কারা নেতৃত্ব দেবে।

আপাতত, জাপান এগিয়ে যাওয়ায় বাকি বিশ্বকে বাফারিংয়ের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। উচ্চগতির তথ্য সঞ্চালনের ক্ষেত্রে কী সম্ভব, তার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে দেশটি।

বিজ্ঞাপন

সংক্ষেপে

  • জাপানি গবেষকেরা ইন্টারনেট গতিতে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন: ১,১২০ মাইল দূরত্বে প্রতি সেকেন্ডে ১ লাখ ২৫ হাজার GB-এর বেশি
  • প্রচলিত কেবলের চেয়ে মোটা নয়, এমন ১৯-কোর অপটিক্যাল ফাইবার কেবল ব্যবহার করে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে; এটি বিদ্যমান অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ
  • এই গতি যুক্তরাষ্ট্রের গড় ব্রডব্যান্ডের তুলনায় প্রায় ৪০ লাখ গুণ বেশি; এতে পুরো ইন্টারনেট আর্কাইভ চার মিনিটেরও কম সময়ে ডাউনলোড করা সম্ভব
  • প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মধ্যে রয়েছে উন্নত অ্যামপ্লিফিকেশন, ত্রুটি সংশোধন এবং মাল্টি-ব্যান্ড ওয়েভলেংথ ডিভিশন মাল্টিপ্লেক্সিং
  • এই সাফল্য তথ্যের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে এবং এআই, স্বায়ত্তশাসিত যানবাহন ও স্মার্ট সিটির মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির মেরুদণ্ড হতে পারে
  • প্রযুক্তিটি এখনো পরীক্ষামূলক হলেও, এটি দেখায় যে বর্তমান অবকাঠামো পুরোপুরি বদলে না ফেলেও অতি-উচ্চগতির দীর্ঘপাল্লার নেটওয়ার্ক তৈরি সম্ভব
  • বিশেষজ্ঞরা বৈশ্বিক যোগাযোগকে ভবিষ্যতের চাহিদার উপযোগী করার পথে এই সাফল্যকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে