সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে বিরোধ: ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন উত্তেজনাকেন্দ্র
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পানি বণ্টন ও কূটনীতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত কয়েক দশক পুরোনো সিন্ধু পানি চুক্তি (আইডব্লিউটি) এখন বড় ধরনের আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক বিরোধের কেন্দ্রে। ২০২৫ সালের জুনে হেগে অবস্থিত স্থায়ী সালিশি আদালত (পিসিএ) একটি সম্পূরক রায়ে জানায়, ভারত একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত বা নিষ্ক্রিয় রাখতে পারে না। পাকিস্তান এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে, আর ভারত তা দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সূচিপত্র
- সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে বিরোধ: ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন উত্তেজনাকেন্দ্র
- সিন্ধু পানি চুক্তি কী?
- প্রেক্ষাপট: কাশ্মীরে হামলা ও ভারতের প্রতিক্রিয়া
- আইনি লড়াই: হেগে পাকিস্তানের মামলা
- পিসিএর রায়: একতরফা স্থগিতের সুযোগ নেই
- ভারতের প্রত্যাখ্যান: সার্বভৌমত্ব ও আইনি যুক্তি
- পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া: অবস্থানের সত্যতা প্রতিষ্ঠা ও সংলাপের আহ্বান
- সিন্ধু পানি চুক্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ
- কিষেনগঙ্গা ও রাতলে প্রকল্প: কারিগরি বিরোধ ও বিস্তৃত তাৎপর্য
- আন্তর্জাতিক আইন ও ভিয়েনা কনভেনশন
- বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি
- এরপর কী?
- সংক্ষেপে
ভারত-শাসিত কাশ্মীরে প্রাণঘাতী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই রায় এসেছে। হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত। এর জবাবে ভারত জানায়, তারা আইডব্লিউটি নিষ্ক্রিয় রাখবে। পাকিস্তান এই পদক্ষেপকে "যুদ্ধের কাজ" এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। পিসিএর সিদ্ধান্ত চুক্তির বৈধতা ও আদালতের এখতিয়ার পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা আরও আইনি ও কূটনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
সিন্ধু পানি চুক্তি কী?
নয় বছরের আলোচনার পর ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এবং বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত সিন্ধু পানি চুক্তি বিশ্বের অন্যতম সফল পানি বণ্টন চুক্তি। এতে সিন্ধু অববাহিকার ছয়টি নদীর পানি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে:
- পূর্বাঞ্চলীয় নদী (সতলুজ, বিয়াস, রাভি): অবাধ ব্যবহারের জন্য ভারতকে বরাদ্দ করা হয়েছে।
- পশ্চিমাঞ্চলীয় নদী (সিন্ধু, ঝিলম, চেনাব): পাকিস্তানকে বরাদ্দ করা হয়েছে; তবে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো পানি ভোগ না করে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারতকে সীমিত অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
চুক্তিতে তথ্য আদান-প্রদান, বাঁধ নির্মাণ এবং নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ও প্রয়োজন হলে সালিশি আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি শক্তিশালী ব্যবস্থাসহ বিস্তারিত বিধান রয়েছে। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও আইডব্লিউটি টিকে আছে এবং দুই দেশের মধ্যে সংলাপের বিরল একটি পথ জুগিয়েছে।
প্রেক্ষাপট: কাশ্মীরে হামলা ও ভারতের প্রতিক্রিয়া
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পহেলগামে এক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হন। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার জন্য ভারত তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তানকে দায়ী করে। ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারত জানায়, পাকিস্তান "সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বিশ্বাসযোগ্যভাবে ও চূড়ান্তভাবে পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত" তারা সিন্ধু পানি চুক্তি নিষ্ক্রিয় রাখবে এবং চুক্তির অধীনে নিজেদের দায়বদ্ধতা স্থগিত করবে।
চুক্তির ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দেশ এটি স্থগিত করা বা একতরফাভাবে এর কার্যক্রম পরিবর্তনের চেষ্টা করল। পাকিস্তান এই পদক্ষেপকে অবৈধ বলে আখ্যা দেয়। দেশটির বক্তব্য, চুক্তিতে একতরফাভাবে স্থগিত করার কোনো বিধান নেই। এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালের চুক্তি আইনবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের অধীনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেয় পাকিস্তান।
আইনি লড়াই: হেগে পাকিস্তানের মামলা
ভারতের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে এবং আদালতের এখতিয়ার স্পষ্ট করার আবেদন করে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে পিসিএতে সালিশি কার্যক্রম শুরু করে। বিরোধের আরেকটি কেন্দ্র হলো জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের কিষেনগঙ্গা ও রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা নিয়ে পাকিস্তানের কারিগরি আপত্তি। ইসলামাবাদের দাবি, প্রকল্পগুলো চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে।
২০২৫ সালের ২৭ জুন ঘোষিত পিসিএর সম্পূরক রায়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়:
- ভারত চুক্তি স্থগিত করলেও আদালতের কি বিরোধটি শুনানির এখতিয়ার রয়েছে?
- ভারত কি একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত বা নিষ্ক্রিয় রাখতে পারে?
পিসিএর রায়: একতরফা স্থগিতের সুযোগ নেই
পিসিএ সর্বসম্মতভাবে রায় দিয়েছে, সিন্ধু পানি চুক্তি বৈধ ও কার্যকর রয়েছে এবং একে নিষ্ক্রিয় রাখার ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের কোনো আইনি প্রভাব নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ:
- চুক্তিতে একতরফাভাবে স্থগিত বা নিষ্ক্রিয় রাখার কোনো বিধান নেই।
- উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতিতে চুক্তি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে।
- একতরফা স্থগিতের ফলে চুক্তিতে বাধ্যতামূলক তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া দুর্বল হবে।
পিসিএর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়:
আদালত প্রথমে চুক্তির (আইডব্লিউটি) শর্তগুলো বিবেচনা করেছে। এতে চুক্তি একতরফাভাবে ‘নিষ্ক্রিয়’ বা ‘স্থগিত’ রাখার বিধান নেই; বরং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তানের পারস্পরিক সম্মতিতে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে।
আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ভারত তার পদক্ষেপকে যেভাবেই বর্ণনা করুক না কেন, মামলাটি শুনতে আদালতের এখতিয়ার অটুট রয়েছে বলেও জোর দিয়েছে পিসিএ।
ভারতের প্রত্যাখ্যান: সার্বভৌমত্ব ও আইনি যুক্তি
পিসিএর সম্পূরক রায় এবং আদালতের বৈধতা—দুটিই দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) কঠোর ভাষায় এক বিবৃতিতে বলেছে:
- তথাকথিত সালিশি আদালতের আইনগত অস্তিত্ব ভারত কখনো স্বীকার করেনি।
- ভারতের দৃষ্টিতে, সালিশি সংস্থাটি গঠন করা সিন্ধু পানি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন।
- আদালতের যেকোনো কার্যক্রম বা রায়কে অবৈধ ও বাতিল বলে গণ্য করা হয়।
এমইএ আরও বলেছে, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাবে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে চুক্তির দায়বদ্ধতা স্থগিত করার অধিকার ভারতের রয়েছে। মন্ত্রণালয় পিসিএর পদক্ষেপকে "পাকিস্তানের ইশারায় সাজানো প্রহসন" বলে বর্ণনা করেছে এবং ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের জবাবদিহি এড়াতে আন্তর্জাতিক মঞ্চ ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে।
ভারতের অবস্থান হলো, বিরোধটি সালিশির মাধ্যমে নয়, চুক্তির নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। পিসিএর সম্পৃক্ততাকেই তারা চুক্তির শর্তের লঙ্ঘন বলে মনে করে।
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া: অবস্থানের সত্যতা প্রতিষ্ঠা ও সংলাপের আহ্বান
পিসিএর রায়কে বড় ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, রায়টি "পাকিস্তানের এই অবস্থানকে সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করে যে সিন্ধু পানি চুক্তি বৈধ ও কার্যকর রয়েছে এবং এ বিষয়ে একতরফা পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ভারতের নেই"।
উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন:
এই রায় নিশ্চিত করেছে যে সিন্ধু পানি চুক্তি (আইডব্লিউটি) পুরোপুরি বৈধ রয়েছে। ভারত একতরফাভাবে একে ‘নিষ্ক্রিয়’ রাখতে পারে না। আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে চলার মাধ্যমেই রাষ্ট্রগুলোর মূল্যায়ন হয়। আইডব্লিউটি-কে অক্ষরে ও চেতনায় মেনে চলতে হবে।
চুক্তির স্বাভাবিক কার্যক্রম অবিলম্বে পুনরায় শুরু করে দায়বদ্ধতা পূরণের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। পানি, বাণিজ্য, সন্ত্রাসবাদ ও জম্মু-কাশ্মীরের মর্যাদাসহ সব অমীমাংসিত বিষয়ে অর্থবহ সংলাপে বসার প্রস্তুতির কথাও সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সিন্ধু পানি চুক্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ
সিন্ধু পানি চুক্তি কেবল একটি কারিগরি পানি বণ্টন চুক্তি নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ। সিন্ধু অববাহিকার নদীগুলো পাকিস্তানের কৃষি ও অর্থনীতির প্রাণশক্তি, আর ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো জলবিদ্যুৎ ও সেচের জন্য এসব নদীর ওপর নির্ভরশীল। চুক্তি ব্যাহত হলে উভয় দেশের জন্য গুরুতর মানবিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিণতি হতে পারে।
চুক্তির শক্তিশালী বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা ঐতিহাসিকভাবে পানি নিয়ে বিরোধকে প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নেওয়া থেকে ঠেকাতে সাহায্য করেছে। তবে বর্তমান অচলাবস্থা এই ব্যবস্থার সীমা পরীক্ষা করছে এবং জলবায়ুর চাপ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির মুখে থাকা একটি অঞ্চলে আন্তঃসীমান্ত পানি সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
কিষেনগঙ্গা ও রাতলে প্রকল্প: কারিগরি বিরোধ ও বিস্তৃত তাৎপর্য
বর্তমান আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প:
- কিষেনগঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প: ঝিলম নদীর একটি উপনদীতে নির্মিত এই প্রকল্পের নকশা নিয়ে পাকিস্তানের আপত্তি রয়েছে। দেশটির আশঙ্কা, এর ফলে নিজেদের ভূখণ্ডে পানিপ্রবাহ কমে যাবে।
- রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প: চেনাব নদীর ওপর অবস্থিত এই প্রকল্পের পানি সরিয়ে নেওয়া ও সংরক্ষণক্ষমতা নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তান প্রথমে চুক্তির নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান চেয়েছিল। পরে দেশটি পূর্ণাঙ্গ সালিশির আবেদন করে। তাদের যুক্তি, বিষয়গুলো এত জটিল যে শুধু একজন কারিগরি বিশেষজ্ঞের পক্ষে তা নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে ভারত নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের পথেই সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে এবং পাকিস্তানের সালিশির আবেদনকে চুক্তির লঙ্ঘন বলে মনে করে।
চুক্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিশ্বব্যাংক ২০২২ সালে একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ও একটি সালিশি আদালত—দুটিই নিয়োগ করে। এর ফলে পাশাপাশি দুটি কার্যক্রম শুরু হয় এবং বিরোধ আরও জটিল হয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক আইন ও ভিয়েনা কনভেনশন
আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদন, ব্যাখ্যা ও বাতিলের নিয়ম নির্ধারণকারী ১৯৬৯ সালের চুক্তি আইনবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের কথা উল্লেখ করেছে পাকিস্তান। এই কনভেনশন অনুযায়ী, চুক্তিতে এমন পদক্ষেপের বিধান না থাকলে বা কোনো পক্ষ চুক্তির শর্তের গুরুতর লঙ্ঘন না করলে কোনো পক্ষ একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত বা বাতিল করতে পারে না। পিসিএর রায় এই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এতে জোর দেওয়া হয়েছে যে পারস্পরিক সম্মতিতেই কেবল আইডব্লিউটি পরিবর্তন বা বাতিল করা যায়।
বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি
বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পরিবেশগত চাপের মধ্যে সিন্ধু পানি নিয়ে বিরোধটি চলছে। খাদ্যনিরাপত্তা, জ্বালানি ও জীবিকার জন্য ভারত ও পাকিস্তান—উভয়ই সিন্ধু অববাহিকার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদীর পানিপ্রবাহ, হিমবাহের বরফ গলা ও বৃষ্টিপাতের ধরন ইতিমধ্যে বদলে যাচ্ছে। এতে পানির সংকট ও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, চুক্তি ভেঙে পড়লে ‘পানিযুদ্ধের’ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যার পরিণতি হবে লাখ লাখ মানুষের জন্য বিপর্যয়কর। পিসিএর রায় আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হলেও তা মেনে চলা নিশ্চিত করে না বা অন্তর্নিহিত রাজনৈতিক উত্তেজনার সমাধান ঘটায় না। সংলাপ ও সহযোগিতার প্রয়োজন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি।
এরপর কী?
পিসিএর সম্পূরক রায় বাধ্যতামূলক, তবে তা কার্যকর করা উভয় পক্ষের মেনে চলার সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। আদালতের কর্তৃত্ব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। এতে সালিশি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ এবং এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আদালতের সিদ্ধান্ত অর্থবহ সংলাপে ফেরার পথ তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। সালিশির পরবর্তী পর্যায়ে কিষেনগঙ্গা ও রাতলে প্রকল্প নিয়ে পাকিস্তানের আপত্তির যৌক্তিকতা বিবেচনা করা হবে। এ বিষয়ে হেগে শুনানির দিন নির্ধারিত হয়েছে। এর ফল আন্তর্জাতিক পানি আইন ও চুক্তির ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।
সংক্ষেপে
- স্থায়ী সালিশি আদালত রায় দিয়েছে, ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত বা নিষ্ক্রিয় রাখতে পারে না।
- ভারতের আপত্তি সত্ত্বেও চুক্তির অধীনে বিরোধ শুনানির এখতিয়ার আদালত নিশ্চিত করেছে।
- সার্বভৌমত্ব ও আইনি যুক্তি তুলে ধরে আদালতের কর্তৃত্ব এবং সম্পূরক রায় দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত।
- রায়কে নিজেদের অবস্থানের সত্যতা প্রতিষ্ঠা হিসেবে স্বাগত জানিয়ে চুক্তির স্বাভাবিক কার্যক্রম অবিলম্বে পুনরায় শুরুর আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান।
- বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে কারিগরি আপত্তি এবং সন্ত্রাসবাদ, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনসংক্রান্ত বিস্তৃত বিষয়।
- দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পানির নিরাপত্তার জন্য সিন্ধু পানি চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখে এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।






