ওসাকা-কানসাই এক্সপো ২০২৫: দর্শনার্থীর সংখ্যা কি মুনাফা নিশ্চিত করতে পারে?
বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীগুলোর একটি ২০২৫ সালের ওসাকা-কানসাই এক্সপো জাপানের ওসাকায় চলছে। আয়োজনটি অর্ধেক সময় পেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এর উচ্চাভিলাষী দর্শনার্থী লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং মুনাফা করার সক্ষমতা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। আয়োজকেরা স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন: ছয় মাসের আয়োজনে মুনাফা করতে এক্সপোতে ২ কোটি ২০ লাখ প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। দৈনিক দর্শনার্থীর গড় সংখ্যা এখন প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার। ফলে এক্সপোর আর্থিক গতিপথ, দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সূচিপত্র
- ওসাকা-কানসাই এক্সপো ২০২৫: দর্শনার্থীর সংখ্যা কি মুনাফা নিশ্চিত করতে পারে?
- সফল হতে এক্সপোতে কত দর্শনার্থী দরকার?
- টিকিট বিক্রি ও দর্শনার্থীর উপস্থিতির হিসাব: লক্ষ্য কি নাগালের মধ্যে?
- দর্শনার্থীর উপস্থিতি বাড়াচ্ছে বা কমাচ্ছে কী?
- অর্থনৈতিক প্রভাব: এক্সপোর ফটকের বাইরেও
- এক্সপোর প্রতিপাদ্য: ভবিষ্যৎ সমাজের রূপ তুলে ধরা
- চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক: জটিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়া
- সামনে কী: এক্সপো কি লক্ষ্য অর্জন করবে?
- সংক্ষেপে
সফল হতে এক্সপোতে কত দর্শনার্থী দরকার?
আয়োজনটির সংগঠক জাপান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ২০২৫ ওয়ার্ল্ড এক্সপোজিশন জানিয়েছে, মুনাফা করার সীমা হলো ২ কোটি ২০ লাখ প্রবেশ। এ সংখ্যায় মৌসুমি পাসধারীদের একাধিকবার প্রবেশও অন্তর্ভুক্ত, শুধু স্বতন্ত্র দর্শনার্থী নয়। ব্যয়-আয় সমান করতে ১ কোটি ৮০ লাখ টিকিট বিক্রি করতে হবে, যা এক্সপোর ১১৬ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার) পরিচালন বাজেটের ৮০ শতাংশের বেশি জোগাবে। প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল আরও বেশি: ২ কোটি ৩০ লাখ টিকিট বিক্রি এবং মোট ২ কোটি ৮২ লাখ প্রবেশ, যা আয়োজনটির ব্যাপকতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
শুরুর ধীরগতির পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দৈনিক দর্শনার্থীর সংখ্যা ১ লাখের কম থেকে বেড়ে গড়ে ১ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আর্থিক লক্ষ্য অর্জনে এক্সপোকে এই গতি বজায় রাখতে বা এর চেয়ে বেশি দর্শনার্থী টানতে হবে। অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারপারসন এবং জাপান বিজনেস ফেডারেশনের (কেইদানরেন) সম্মানসূচক চেয়ার মাসাকাজু তোকুরা সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন:
আমরা ভালোভাবে শুরু করেছি। গত এক মাসে বৃদ্ধির যে গতি দেখা গেছে, তা অব্যাহত থাকলে [এক্সপো] মুনাফা করতে পারবে।
জুনের শেষ দিকে এক্সপোতে ১ কোটি দর্শনার্থী ছাড়ানোর উদ্যাপন করা হয়। উদ্বোধনের মাত্র ৭৯ দিনের মাথায় এই মাইলফলক অর্জিত হয়। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠান এবং এক কোটি-তম দর্শনার্থীকে স্মারক উপহার দেওয়া হয়, যা একদিকে গতি সঞ্চার, অন্যদিকে জনসম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়।
টিকিট বিক্রি ও দর্শনার্থীর উপস্থিতির হিসাব: লক্ষ্য কি নাগালের মধ্যে?
টিকিট বিক্রিই এক্সপোর আয়ের প্রধান উৎস। পরিচালন বাজেটের প্রায় ৯৭ বিলিয়ন ইয়েন এ থেকে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসের শুরু নাগাদ ১ কোটি ৯ লাখ টিকিট বিক্রি হয়েছিল। স্কুলভ্রমণসহ হিসাব করলে এ সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তখনও পাঁচ মাস বাকি থাকায় ব্যয়-আয় সমান করতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি সম্ভব বলেই মনে হচ্ছিল।
তবে দর্শনার্থীর সংখ্যা সব সময় পূর্বাভাসের সঙ্গে মেলেনি। প্রথম মাসে দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রত্যাশিত গতির প্রায় ৬০ শতাংশ ছিল। এতে আয়োজকেরা শুরুর দিকে দর্শনার্থী বাড়াতে এবং আয়োজনের শেষভাগে অতিরিক্ত ভিড় ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নেন। এর মধ্যে ছিল মৌসুমি পাসে ছাড় এবং জনপ্রিয় সময়ে প্রবেশের জন্য সংরক্ষিত স্লট বাড়ানো। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘ সারি এড়াতে তৈরি এক্সপোর সংরক্ষণব্যবস্থা কার্যকারিতার জন্য প্রশংসিত হয়েছে, আবার তাৎক্ষণিকভাবে ঘুরতে আসার সুযোগ সীমিত করার কারণে সমালোচিতও হয়েছে।
বিশ্বমেলা আয়োজনের ইতিহাসে দেখা যায়, সময় গড়ানোর সঙ্গে দর্শনার্থীর সংখ্যা সাধারণত বাড়ে; প্রায়ই শেষার্ধে ভিড় বেশি হয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৫ সালের আইচি এক্সপোতে শুরুর দিকে দৈনিক দর্শনার্থীর সংখ্যা ৪০ হাজার থেকে ৯০ হাজার থাকলেও পরে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছায়। ওসাকা-কানসাই এক্সপোর আয়োজকেরাও একই ধরনের প্রবণতার ওপর ভরসা করছেন। মুখে মুখে প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমে দর্শনার্থীর সংখ্যা শেষ দিকে বেড়ে যাবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
দর্শনার্থীর উপস্থিতি বাড়াচ্ছে বা কমাচ্ছে কী?
এক্সপোতে দর্শনার্থীর উপস্থিতির গতিপথে কয়েকটি বিষয় প্রভাব ফেলেছে:
- শুরুর সংশয় ও সমালোচনা: আয়োজনের আগে নির্মাণে বিলম্ব, বাজেট বেড়ে যাওয়া এবং বড় আকর্ষণের অভাব নিয়ে এক্সপো সমালোচনার মুখে পড়ে। স্থানীয় কিছু কর্মকর্তা এক্সপোর স্বাক্ষরধর্মী কাঠের স্থাপনা গ্র্যান্ড রিংকে অপচয় বলে আখ্যা দেন। টিকিটের উচ্চ মূল্য (প্রবেশমূল্য ৭,৫০০ ইয়েন) এবং খাবার ও স্মারকসামগ্রীর চড়া দাম নিয়েও অভিযোগ ওঠে।
- দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতার উন্নতি: শুরুর সংশয় সত্ত্বেও অনেক দর্শনার্থী তাঁদের অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন। এক্সপোর বৃত্তাকার বিন্যাসে কোথাও ভিড় আটকে যায় না, আর গ্র্যান্ড রিং ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি অনন্য দৃষ্টিকোণ থেকে চারপাশ দেখার সুযোগ করে দেয়। প্যাভিলিয়নে দীর্ঘ সারি থাকলেও সংরক্ষণব্যবস্থা ও কর্মীদের দক্ষতায় প্রবেশের সময় কমেছে। কোন প্রদর্শনী অবশ্যই দেখা উচিত, তা তুলে ধরতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে; এতে আগ্রহ ও দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।
- নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য: আবর্জনা ফেলার স্থান থেকে মিথেন গ্যাস নির্গমন এবং কাঠামোগত ঝুঁকি নিয়ে গুজবের মতো উদ্বেগগুলো অনেকটাই নিরসন করা হয়েছে। আয়োজকেরা নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা এনেছেন এবং উদ্বোধনের পর থেকে বড় কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
- আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও কূটনীতি: বিভিন্ন দেশ তাদের সংস্কৃতি ও উদ্ভাবন তুলে ধরায় এক্সপো বৈশ্বিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে। ডেনমার্কের রাজা দশম ফ্রেডেরিকের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সফর আয়োজনটির কূটনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরেছে। ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, ইউক্রেন ও তাইওয়ানের প্যাভিলিয়নে রাজনৈতিক ও মানবিক বিষয়গুলো তুলে ধরায় চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনারও প্রতিফলন ঘটেছে।
এসব কারণে দর্শনার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এক্সপো এখন মুনাফার লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব: এক্সপোর ফটকের বাইরেও
ওসাকা-কানসাই এক্সপো প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির প্রদর্শনীই নয়, অঞ্চলটির পাশাপাশি সমগ্র জাপানের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের হিসাব, এক্সপোতে সর্বোচ্চ ৩ কোটি দর্শনার্থী আসতে পারে, যা ২০০৫ সালের আইচি এক্সপোতে আসা ২ কোটি ২০ লাখ দর্শনার্থীর চেয়ে বেশি। নির্মাণ, পরিচালনা, পর্যটন ও সংশ্লিষ্ট ভোগব্যয় হিসাব করে মোট অর্থনৈতিক প্রভাব ২.৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনে (প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার) পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ওসাকা উপসাগরের কৃত্রিম দ্বীপ ইউমেশিমায় এক্সপোর অবস্থানও তাৎপর্যপূর্ণ। এলাকাটিতে আরও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ক্যাসিনোসহ সমন্বিত রিসোর্ট (আইআর) রয়েছে, যা অর্থনৈতিক সুফল আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্মাণ, আতিথেয়তা ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে ব্যবসা বাড়তে দেখছে। রেকর্ডসংখ্যক দর্শনার্থীর প্রত্যাশায় পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট শেয়ারের দামও বেড়েছে।
জাপানে পর্যটন খাতের সামগ্রিক উত্থান আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০২৪ সালে দেশটিতে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ বিদেশি পর্যটক এসেছেন; ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ৪ কোটি ছাড়াবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। ইয়েনের দুর্বল দর এবং এক্সপোর বৈশ্বিক আকর্ষণ এ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি, যা দেশজুড়ে হোটেল, খুচরা বিক্রেতা ও সেবা খাতকে উপকৃত করছে।
এক্সপোর প্রতিপাদ্য: ভবিষ্যৎ সমাজের রূপ তুলে ধরা
ওসাকা-কানসাই এক্সপোর মূল প্রতিপাদ্য “আমাদের জীবনের জন্য ভবিষ্যৎ সমাজের নকশা”; এর উপপ্রতিপাদ্য স্বাস্থ্য, স্থায়িত্ব ও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে। আয়োজনে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি এবং টেকসই জীবনযাপনবিষয়ক প্রদর্শনী রয়েছে, যা জীবনবিজ্ঞান ও উদ্ভাবনে জাপানের নেতৃত্বের প্রতিফলন।
ওসাকার বয়স্ক জনসংখ্যা এবং কানসাই অঞ্চলে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘনত্বের কারণে স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর ওপর এক্সপোর গুরুত্ব বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। চিকিৎসা নির্ণয় খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান সিসমেক্সের মতো কোম্পানিগুলো ক্যানসার ও আলঝেইমার শনাক্তকরণে অগ্রগতি তুলে ধরতে এক্সপোকে কাজে লাগাচ্ছে। প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের প্রচেষ্টাও এ আয়োজনে তুলে ধরা হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক: জটিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়া
বড় কোনো আন্তর্জাতিক আয়োজনই চ্যালেঞ্জের বাইরে নয়; ওসাকা-কানসাই এক্সপোকেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে:
- বাজেট বৃদ্ধি ও নির্মাণে বিলম্ব: মূল্যস্ফীতি ও মহামারিসংশ্লিষ্ট বিলম্বের কারণে এক্সপোর বাজেট প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এতে জনসাধারণের সংশয় ও রাজনৈতিক বিতর্ক বেড়েছে।
- নিরাপত্তাজনিত ঘটনা: মিথেন গ্যাস নিয়ে শুরুর উদ্বেগ এবং একটি জলধারায় লেজিওনেলা ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হওয়ার মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনা মোকাবিলায় আয়োজকদের দ্রুত পদক্ষেপ ও স্বচ্ছতা দেখাতে হয়েছে।
- রাজনৈতিক উত্তেজনা: এক্সপো আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে পরিণত হয়েছে, কখনো কখনো বিতর্কেরও। পূর্ব জেরুজালেম থেকে আনা ২ হাজার বছরের পুরোনো পাথর ইসরায়েলের প্রদর্শনীতে দেখানো এবং গাজা সংকটকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনের প্যাভিলিয়নের উপস্থাপনা চলমান বৈশ্বিক সংঘাতের বিষয়গুলো সামনে এনেছে। রাশিয়ার সরে দাঁড়ানো এবং বেসরকারি সংস্থার ব্যানারে তাইওয়ানের অংশগ্রহণ এ আয়োজনের জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরেছে।
- জনমত: জরিপে দেখা গেছে, জাপানি উত্তরদাতাদের মাত্র প্রায় ৩৫ শতাংশ এক্সপোতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, যা আয়োজকদের ৫৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। তবে বিদেশি দর্শনার্থী এবং মুখে মুখে ইতিবাচক প্রচারের ফলে প্রকৃত উপস্থিতি বেড়েছে।
এসব বাধা সত্ত্বেও এক্সপো গতি ধরে রাখতে পেরেছে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সুযোগ কাজে লাগাতে আয়োজকেরা কৌশলও বদলেছেন।
সামনে কী: এক্সপো কি লক্ষ্য অর্জন করবে?
আর মাত্র চার মাসের কিছু বেশি সময় বাকি। ওসাকা-কানসাই এক্সপোর মুনাফা ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের সম্ভাবনা আশাব্যঞ্জক হলেও তা নিশ্চিত নয়। দৈনিক দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি রাখা, তাঁদের অভিজ্ঞতা ভালোভাবে পরিচালনা এবং রাজনৈতিক ও সরবরাহসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ সামাল দেওয়ার সক্ষমতাই আয়োজনটির শেষ পর্যন্ত সাফল্য নির্ধারণ করবে।
দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ার প্রবণতা এবং “বিশ্বের জানালা” হিসেবে এক্সপোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আয়োজকেরা আশাবাদী। টিকিট বিক্রির বাইরেও এ আয়োজনের প্রভাব থাকবে: আগামী বছরগুলোতে আঞ্চলিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বিশ্বে জাপানের ভাবমূর্তিতে এর ছাপ পড়বে।
সংক্ষেপে
- মুনাফা করতে ২০২৫ সালের ওসাকা-কানসাই এক্সপোতে ২ কোটি ২০ লাখ প্রবেশ প্রয়োজন; ব্যয়-আয় সমান করতে ১ কোটি ৮০ লাখ টিকিট বিক্রি করতে হবে।
- দৈনিক দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এক্সপো আর্থিক লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে।
- ধীর শুরুর পর টিকিট বিক্রি ও দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতার উন্নতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এ বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।
- এক্সপোর অর্থনৈতিক প্রভাব ২.৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে, যা ওসাকা এবং জাপানের পর্যটন ও সেবা খাতকে উপকৃত করবে।
- বাজেট বৃদ্ধি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, রাজনৈতিক বিতর্ক ও জনমতের মিশ্র প্রতিক্রিয়া চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে; তবে এসব মোকাবিলায় আয়োজকেরা কৌশল বদলেছেন।
- স্বাস্থ্য, স্থায়িত্ব ও উন্নত প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে এক্সপো উদ্ভাবন, কূটনীতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বৈশ্বিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে।
- আরও কয়েক মাস বাকি থাকায় এক্সপোর শেষ পর্যন্ত সাফল্য নির্ভর করবে দর্শনার্থীর উপস্থিতি ধরে রাখা, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং ওসাকা ও জাপানের জন্য ইতিবাচক উত্তরাধিকার রেখে যাওয়ার ওপর।






