থাইল্যান্ডে গাঁজার উত্থান ও চোরাচালান সংকট
২০২২ সালে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে গাঁজাকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে শিরোনামে আসে থাইল্যান্ড। এতে দেশটির সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন শুরু হয়। পর্যটন বাড়ানো, কৃষিকে চাঙা করা এবং নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরির সম্ভাবনার জন্য শুরুতে এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়েছিল। কয়েক মাসের মধ্যেই ব্যাংককের নীলন আলোয় ঝলমলে সড়ক থেকে শুরু করে ব্যাকপ্যাকারদের জনপ্রিয় গন্তব্য খাও সান রোড পর্যন্ত সারা দেশে ১১ হাজারের বেশি গাঁজার দোকান চালু হয়। গাঁজার ক্যাফে, গাঁজাভিত্তিক স্পা, এমনকি উৎসবও পরিচিত দৃশ্যে পরিণত হয়, যা স্থানীয় ও বিদেশি পর্যটক—উভয়কেই আকৃষ্ট করে।
সূচিপত্র
- থাইল্যান্ডে গাঁজার উত্থান ও চোরাচালান সংকট
- অপরাধমুক্তকরণে কীভাবে চোরাচালানের পথ খুলে গেল
- চোরাচালানের উল্লম্ফন: রুট, কৌশল ও গ্রেপ্তার
- আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
- নিয়ন্ত্রণে নীতির উল্টো মোড়: নতুন বিধি ও এর প্রভাব
- আইন প্রয়োগের চ্যালেঞ্জ ও সামনের পথ
- বিস্তৃত প্রভাব: পর্যটন, অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য
- সংক্ষেপে
তবে পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভাবে দ্রুতই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। গাঁজার বাজার হয়ে ওঠে ‘আইনশৃঙ্খলাহীন’, যেখানে তদারকি ছিল সামান্য, বিনোদনমূলক ব্যবহার ব্যাপক এবং ভোজ্য পণ্য ও নির্যাসের মতো প্রক্রিয়াজাত পণ্যের আধিক্য দেখা দেয়। এই নিয়ন্ত্রক শূন্যতা জনস্বাস্থ্য ও তরুণদের নাগাল নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে উদ্বেগই শুধু বাড়ায়নি, আন্তর্জাতিক চোরাচালানেও নাটকীয় উল্লম্ফন ঘটিয়েছে—বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে।
অপরাধমুক্তকরণে কীভাবে চোরাচালানের পথ খুলে গেল
অপরাধমুক্তকরণ নীতির আওতায় থাইল্যান্ড গাঁজাকে মাদকদ্রব্যের তালিকা থেকে বাদ দেয়। ফলে গাঁজা ও হেম্পজাত পণ্য চাষ, বাণিজ্য ও ব্যবহার বৈধ হয়। ২০১৮ সাল থেকেই চিকিৎসার প্রয়োজনে গাঁজা বৈধ ছিল; তবে ২০২২ সালের সংস্কার আরও দূর এগিয়ে ব্যক্তিগত পরিসরে বিনোদনমূলক ব্যবহারও অনুমোদন করে। সরকারের আশা ছিল, এতে কৃষকদের জন্য নতুন অর্থকরী ফসল তৈরি হবে এবং গাঁজার ক্ষেত্রে তুলনামূলক উদার পরিবেশ খুঁজতে আসা পর্যটকেরা আকৃষ্ট হবেন।
কিন্তু উৎপাদন, বিক্রি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে স্পষ্ট আইন না থাকায় নানা ফাঁক তৈরি হয়। বয়সসীমা বা লাইসেন্সের শর্তের প্রতি প্রায়ই নজর না রেখেই গজিয়ে ওঠে অসংখ্য দোকান। গাঁজামিশ্রিত পণ্যের অনলাইন বিক্রি—যা কারিগরিভাবে অবৈধ—ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিদেশি মাদক চক্র পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে থাই নাগরিকদের নাম ব্যবহার করে বড় আকারের চাষের কার্যক্রম গড়ে তোলে এবং বাজারে উচ্চক্ষমতার জাতের গাঁজা ছাড়ে। দাম পড়ে যায়, ফলে যেসব দেশে গাঁজা অবৈধ এবং এর দাম অনেক বেশি, সেখানে তা পাচার করা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
চোরাচালানের উল্লম্ফন: রুট, কৌশল ও গ্রেপ্তার
থাই গাঁজার অন্যতম প্রধান গন্তব্য হয়ে ওঠে যুক্তরাজ্য। চোরাচালানের কৌশলের মধ্যে ছিল ভ্যাকুয়াম-সিল করা প্যাকেট ডাকযোগে পাঠানো এবং তরুণ ভ্রমণকারীদের বাহক হিসেবে নিয়োগ করা। ‘বাহক’ হিসেবে পরিচিত এসব তরুণকে সহজে অর্থ আয়ের প্রলোভন দেখানো হতো—সাধারণত প্রতি যাত্রায় প্রায় ২ হাজার পাউন্ড। তারা থাইল্যান্ড থেকে যুক্তরাজ্যগামী ফ্লাইটে, প্রায়ই সিঙ্গাপুর বা জর্জিয়ার মতো তৃতীয় দেশ হয়ে, সর্বোচ্চ ৪৬ কেজি গাঁজাভর্তি স্যুটকেস বহন করত।
২০২৩ সালে ব্রিটিশ ও থাই কর্তৃপক্ষ এই প্রবণতা লক্ষ করতে শুরু করে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) তথ্যমতে, ২০২৩ সালে পাঁচ টন গাঁজাসহ ১৪২ জন বাহককে আটক করা হয়। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮০০ জন বাহক ও ২৬ টনে, এবং পাচারের গতি আরও বাড়তে থাকে। যুক্তরাজ্য সরকার জানায়, ডাকযোগে থাইল্যান্ড থেকে আসা গাঁজা জব্দের পরিমাণ ৯০ শতাংশ বেড়েছে; শুধু ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকেই ১৫ টনের বেশি গাঁজা শনাক্ত করা হয়।
সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত গ্রেপ্তার এই ঝুঁকির দিকটি স্পষ্ট করেছে। এক ঘটনায়, বিপুল পরিমাণ থাই গাঁজাসহ জর্জিয়া ও শ্রীলঙ্কায় দুই তরুণী ব্রিটিশ নারীকে আটক করা হয়; তাদের দীর্ঘ কারাদণ্ড হতে পারে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে চোরাচালানের চেষ্টার অভিযোগে থাইল্যান্ডে ৫০ জনের বেশি ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের আদালত-প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন ১৭৩ জন, যাদের মোট ২৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
চোরাচালান সংকটের ব্যাপকতা কূটনৈতিক পদক্ষেপের তাগিদ দেয়। যুক্তরাজ্য ও থাইল্যান্ড যৌথ অভিযান শুরু করে। এর মধ্যে ব্যাংকক বিমানবন্দরে ‘অপারেশন চাওফ্রায়া’ ছিল উল্লেখযোগ্য; এতে ট্রানজিট যাত্রীদের কাছ থেকে দুই টনের বেশি গাঁজা জমা নেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও থাই কাস্টমস নতুন চুক্তি করে, যার আওতায় পাঠানোর আগে থাইল্যান্ড থেকে আসা পার্সেল পরীক্ষা করতে হবে। এর ফলে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ডাকযোগে গাঁজা আসার পরিমাণ ৯০ শতাংশ কমে যায়।
যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ও অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী সীমা মালহোত্রা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন:
থাই কাস্টমসের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্ব মাত্র তিন মাসে ডাকযোগে গাঁজা চোরাচালান ৯০ শতাংশ কমিয়েছে। এই সহযোগিতায় বাস্তব ফল পাওয়া যাচ্ছে। এটি আমাদের ‘পরিবর্তনের পরিকল্পনা’র আওতায় নিরাপদ সড়ক গড়ার অভিযানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কতটা জরুরি, তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
থাই কাস্টমসের মুখপাত্র পান্থং লয়কুলনান্ত চ্যালেঞ্জগুলোর কথা স্বীকার করেন:
লাভ অনেক বেশি, কিন্তু এখানে শাস্তি তেমন কঠোর নয়। বিমানবন্দরে কাউকে ধরলে বেশির ভাগ সময় তারা লাগেজ ফেলে পালিয়ে যায়। কিন্তু তাতে কোনো শাস্তি হয় না। তারা লাগেজ চেক-ইন করাতে চাইলে আমরা গ্রেপ্তার করতে পারি, কিন্তু তারা শুধু জরিমানা দেয় এবং আবার চেষ্টা করে।
নিয়ন্ত্রণে নীতির উল্টো মোড়: নতুন বিধি ও এর প্রভাব
দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তে থাকা চাপের মুখে গাঁজা শিল্প নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। ২০২৫ সালের জুনে জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী সোমসাক থেকসুথিন নতুন বিধির ঘোষণা দেন, যাতে গাঁজা বিক্রি শুধু চিকিৎসার প্রয়োজনে সীমাবদ্ধ করা হয়। নতুন নিয়মে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র এবং রোগের উল্লেখসহ মেডিকেল সনদ থাকা গ্রাহকের কাছেই দোকানগুলো গাঁজা বিক্রি করতে পারবে। লাইসেন্স নবায়ন বা আবেদনের জন্য দোকানে চিকিৎসক উপস্থিত থাকতে হবে, আর বিক্রির পরিমাণ সীমিত থাকবে ৩০ দিনের সরবরাহে।
ব্যাপক বিনোদনমূলক ব্যবহার ও চোরাচালানের সুযোগ তৈরি করা ফাঁকগুলো বন্ধ করাই এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য। সরকার এও ইঙ্গিত দিয়েছে যে গাঁজাকে শিগগিরই আবার মাদকদ্রব্যের তালিকাভুক্ত করা হতে পারে, যার ফলে বিনোদনমূলক ব্যবহার কার্যত ফের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তবে পুরোপুরি বাস্তবায়নের সময়সীমা এখনো স্পষ্ট নয়। পূর্ণাঙ্গ গাঁজাবিষয়ক বিল পাস না হওয়া পর্যন্ত নতুন বিধিগুলো অস্থায়ী থাকতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নীতির এই পরিবর্তন থাইল্যান্ডে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমর্থকদের যুক্তি, শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং শিল্পকে মূল চিকিৎসাগত উদ্দেশ্যে ফিরিয়ে আনতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ জরুরি। গাঁজা বৈধ করতে সহায়তাকারী ব্যবসায়ী টম ক্রুয়েসোপন এখন কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে:
সবকিছু অবাধে চলতে দিতে পারেন না, তাই না? এটা বক্সিং ম্যাচের বদলে বাররুমের মারামারিতে পরিণত হয়েছে। প্রতি মোড়ে যখন গাঁজার দোকান থাকে, মানুষ যখন রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ধূমপান করে, পর্যটকেরা যখন আমাদের সৈকতে নেশা করে, আমাদের আইনের প্রভাবে যখন অন্য দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষ অবৈধভাবে গাঁজা পাঠায়—এসবই নেতিবাচক দিক।
ক্ষুদ্র চাষি ও গাঁজা অধিকারকর্মীসহ বিরোধীরা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন বিধি স্থানীয় ব্যবসাকে ধ্বংস করবে, অথচ অবৈধ কর্মকাণ্ড কমাতে তেমন কাজে আসবে না। ক্ষুদ্র উৎপাদকদের পক্ষে সোচ্চার কিটি চোপাকা হতাশা প্রকাশ করেন:
আমি পুরোপুরি বুঝতে পারি, আন্তর্জাতিক বৈঠকে সরকার হয়তো তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ছে। দেশগুলো বলছে, ‘তোমাদের সব গাঁজা আমাদের দেশে পাচার হয়ে আসছে’—এটা বেশ বিব্রতকর। কিন্তু এখনো তারা বিদ্যমান নিয়মগুলোই কার্যকর করছে না। সেগুলো কার্যকর করলে চোরাচালান বা লাইসেন্স ছাড়া বিক্রির মতো অনেক সমস্যা হয়তো কমানো যেত।
আইন প্রয়োগের চ্যালেঞ্জ ও সামনের পথ
নতুন বিধি সত্ত্বেও আইন প্রয়োগ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। থাই কাস্টমস কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ গাঁজা জব্দ করে চলেছেন। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে ৮০০ জনের বেশি পাচারকারী ধরা পড়েছেন এবং নয় টনের বেশি গাঁজা জব্দ হয়েছে। ‘রান্টজ’ ও ‘জেডকিটলজ’-এর মতো ব্র্যান্ডের গাঁজার জাতভর্তি জব্দ করা স্যুটকেস বিমানবন্দরের পেছনের কক্ষে স্তূপ হয়ে আছে।
আইনগত অস্পষ্টতাও রয়ে গেছে। থাইল্যান্ডে গাঁজাকে মাদকদ্রব্যের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও গাঁজার কুঁড়ি এখনো নিয়ন্ত্রিত পদার্থ। এসব কুঁড়ি রপ্তানি, গবেষণা, বিক্রি বা বাণিজ্যিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে ‘থাই ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাবিদ্যার জ্ঞান সংরক্ষণ ও প্রসার আইন’ এবং জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২২ সালের বিধি অনুযায়ী লাইসেন্স প্রয়োজন। তবে নিয়ম ভাঙার শাস্তি প্রায়ই জরিমানার মধ্যেই সীমিত থাকে, আর অনেক পাচারকারী মামলা এড়াতে স্যুটকেস ফেলে চলে যায়।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের যুক্তি, নতুন বিধি যাই হোক, অবৈধ চাষি ও চক্রগুলো আইনবহির্ভূতভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। চাষি ও প্রতিবাদকারী পরিনিয়া সাংপ্রাসের্ত ব্যাপক নতুন বিধিনিষেধের বদলে বিদ্যমান নিয়ম আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন:
বিপুল পরিমাণ গাঁজা কিনতে বা বিক্রি করতে চাইলে সরকারের দেওয়া লাইসেন্স প্রয়োজন। গাঁজার প্রতিটি দোকানকে গাঁজা কেনার জন্য এই লাইসেন্স নিতে হয়। গাঁজাটি কোন খামার থেকে এসেছে এবং কার কাছে বিক্রি হয়েছে, তার নথিও রাখা হয়।
এদিকে প্রস্তাবিত বিধি নিয়ে জনসাধারণ ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতামত চাইছে সরকার; এ জন্য ৫ জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত খসড়া গাঁজা বিলটি এখনো মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়নি বা আলোচনার জন্য সংসদে পৌঁছায়নি।
বিস্তৃত প্রভাব: পর্যটন, অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য
গাঁজা নীতিতে এই পরিবর্তনের ফলে থাইল্যান্ডের অর্থনীতি ও সমাজে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। শুরুতে এই উত্থান কৃষক, উদ্যোক্তা ও পর্যটন খাতের জন্য হাজারো কর্মসংস্থান ও আয়ের নতুন উৎস তৈরি করে। থাই চেম্বার অব কমার্সের হিসাব, এই শিল্পের বার্ষিক মূল্য ১.২ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। তবে নিয়ন্ত্রণের অভাবে জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়; এর মধ্যে ছিল তরুণদের গাঁজার নাগাল বেড়ে যাওয়া এবং আসক্তির হার বৃদ্ধি।
থাইল্যান্ডের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি পর্যটন খাতও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। গাঁজাবান্ধব পর্যটন বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছিল; চিয়াং মাই ও ব্যাংককের মতো শহরে গাঁজা উৎসব ও বিষয়ভিত্তিক আয়োজন হতো। নতুন বিধিনিষেধে এ আকর্ষণ কমতে পারে, বিশেষ করে বিনোদনমূলক ব্যবহারের আশায় আসা বিদেশি পর্যটকদের কাছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সুবিধা, জননিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চাপেও রয়েছে সরকার।
ইন্টারন্যাশনাল ড্রাগ পলিসি কনসোর্টিয়ামের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক গ্লোরিয়া লাই তড়িঘড়ি নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক করেন:
গাঁজা থাইল্যান্ডের বাইরে পাচার হওয়ার উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা তাৎক্ষণিক ও অপরিকল্পিত পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে। শুধু চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের ভিত্তিতে গাঁজা কেনাবেচা সীমিত করার প্রস্তাব এই উদ্বেগ দূর করবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
হাইল্যান্ড নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা রাত্তাফোন সানরাক সতর্ক করে বলেন, নতুন নিয়ম খুব দ্রুত কার্যকর হলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে:
হঠাৎ করে আইন প্রয়োগ শুরু হলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। আইন সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সাধারণ মানুষ ও কর্মকর্তারা নতুন নিয়ম শিখতে বা নিজেদের কাজের ধরন বদলাতে সময় পাবেন না। রাতারাতি সবকিছু বদলে ফেলা বাস্তবসম্মত নয়।
সংক্ষেপে
- ২০২২ সালে থাইল্যান্ডে গাঁজাকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ফলে দ্রুত বড় হওয়া, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত একটি বাজার তৈরি হয় এবং বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক চোরাচালান বাড়ে।
- থাই ও যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গাঁজা জব্দ ও বহুজন গ্রেপ্তার হয়েছেন; ৮০০ জনের বেশি পাচারকারী ধরা পড়েছেন এবং ডাকযোগে গাঁজা পাঠানোর পরিমাণ ৯০ শতাংশ কমেছে।
- নতুন বিধিতে গাঁজা বিক্রি শুধু চিকিৎসার প্রয়োজনে সীমিত করা হয়েছে। এর জন্য ব্যবস্থাপত্র লাগবে এবং বিক্রির পরিমাণও নির্দিষ্ট করা হয়েছে; গাঁজাকে পুরোপুরি আবার অপরাধের আওতায় আনার সম্ভাবনাও রয়েছে।
- নীতির এই পরিবর্তন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমর্থকেরা শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন, আর সমালোচকেরা অর্থনৈতিক ক্ষতি ও আইন প্রয়োগে অকার্যকারিতার আশঙ্কা করছেন।
- শাস্তি কম থাকায় এবং অবৈধ চক্রগুলো নতুন নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ায় আইন প্রয়োগের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
- পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রক বিল এখনো প্রণয়নের পর্যায়ে এবং অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যে টানাপোড়েন চলায় থাইল্যান্ডের গাঁজা শিল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।






