অগ্নিবীরদের জন্য আরও দুই বছরের অনুমোদন ভারতের, নিয়মিত সামরিক চাকরিতে সুযোগের আরেকটি ধাপ

পড়তে 10 মিনিট
India Approves Two More Years for Agniveers, With Another Chance at Regular Military Service

চার বছর ইউনিফর্মে থাকার পর দ্বিতীয় সুযোগ

প্রাথমিক চার বছর শেষে নিয়মিত সামরিক পদে নির্বাচিত না হওয়া ৭৫% অগ্নিবীরের চাকরির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল এন. এস. রাজা সুব্রামণি ২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর এ ঘোষণা দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউনিফর্মে ছয় বছর কাটানোর পর সশস্ত্র বাহিনীতে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়ার আরেকটি সুযোগ পাবেন ওই সদস্যরা।

সূচিপত্র
  1. চার বছর ইউনিফর্মে থাকার পর দ্বিতীয় সুযোগ
  2. কী বদলাচ্ছে, আর কী থাকছে আগের মতো?
  3. নতুন চাকরির মেয়াদ যেভাবে কাজ করবে
  4. নিয়মিত চাকরি নির্ভর করবে কর্মদক্ষতার ওপর
  5. বেতন বাড়ছে, তবে বছর উল্লেখে অমিল
  6. অভিজ্ঞ সদস্য ধরে রাখতে চান কমান্ডাররা
  7. যাঁরা চাকরি ছাড়বেন, তাঁদের কী হবে?
  8. সরকারের যুক্তি নিয়ে কংগ্রেসের প্রশ্ন
  9. সিদ্ধান্তে বদলাচ্ছে পরবর্তী দুই বছর
  10. মূল বিষয়গুলো

প্রাথমিক বাছাইয়ের ধাপ অপরিবর্তিত থাকছে: যোগ্যতার ভিত্তিতে চার বছর পর ২৫% অগ্নিবীর নিয়মিত বাহিনীতে যোগ দেবেন। বাকি ৭৫% সদস্যকে, যাঁদের আগে ওই পর্যায়ে বাহিনী ছাড়তে হতো, দুই বছরের দ্বিতীয় মেয়াদ দেওয়া হবে। সেই মেয়াদ শেষে নিয়মিত চাকরির জন্য তাঁদের বাছাই নির্ভর করবে বাহিনীতে থাকার ইচ্ছা এবং বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নের মানদণ্ড পূরণের ওপর।

ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ অগ্নিবীর কর্মরত। অগ্নিপথ প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ পাওয়া প্রথম সদস্যদের প্রাথমিক চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। ফলে সামরিক ক্যারিয়ারের পরিকল্পনা করা তরুণ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের জন্য সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম ব্যাচের প্রায় ১৮ হাজার অগ্নিবীরের প্রাথমিক মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার আগে বুধবার, ৪ নভেম্বর মন্ত্রিসভা মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেয়।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, বাছাইয়ের শর্ত পূরণ করতে পারলে বাহিনীতে থাকতে ইচ্ছুক অগ্নিবীরদের নিয়মিত সৈনিক হওয়ার সুযোগ দেবে এ সিদ্ধান্ত। ভবিষ্যৎ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সরঞ্জামসহ আরও তরুণ ও কর্মক্ষম সামরিক বাহিনী গড়ার সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির অংশ হিসেবেও তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন।

কী বদলাচ্ছে, আর কী থাকছে আগের মতো?

জেনারেল সুব্রামণি বলেন, অগ্নিপথ প্রকল্প চলবে এবং এর বিদ্যমান চার বছরের প্রাথমিক চাকরির মেয়াদ অপরিবর্তিত থাকবে। প্রথম মেয়াদ শেষে প্রাথমিক বাছাইয়ে যাঁরা নির্বাচিত হবেন না, তাঁদের জন্য ‘সেকেন্ড ট্যুর অব ডিউটি’ নামে অতিরিক্ত মেয়াদ যুক্ত হচ্ছে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য ব্যবহারিক পরিবর্তনটি বড়। চার বছর পর চলে যাওয়ার বদলে, মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাওয়া সদস্যরা আরও দুই বছর সামরিক বেতন পাবেন, অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন এবং পরবর্তী বাছাই মূল্যায়নের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

এই ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দুটি ধাপ রয়েছে। চার বছর শেষে প্রথম দল নিয়মিত চাকরিতে যোগ দেবে। ছয় বছর শেষে অতিরিক্ত মেয়াদ সম্পন্ন করা সদস্যরা আরেকটি মূল্যায়নের মাধ্যমে নিয়মিত পদে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে স্থায়ী পদ পাওয়া বাছাইয়ের ওপর নির্ভর করবে।

ধরা যাক, ১০০ জনের একটি দল রয়েছে। ঘোষিত অনুপাত অনুযায়ী, চার বছর পর ২৫ জন নিয়মিত চাকরিতে যোগ দেবেন এবং বাকি ৭৫ জনকে অতিরিক্ত মেয়াদের প্রস্তাব দেওয়া হবে। ওই ৭৫ জনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কতজন নির্বাচিত হবেন, তা পরবর্তী বাছাই প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। সরবরাহ করা বিবরণে দ্বিতীয় বাছাইয়ে চূড়ান্তভাবে কত শতাংশ সদস্যকে রাখা হবে বা তা কবে বাস্তবায়িত হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি।

নতুন চাকরির মেয়াদ যেভাবে কাজ করবে

তরুণদের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে প্রাথমিক চার বছরের জন্য নিয়োগ দিতে ২০২২ সালের জুনে অগ্নিপথ প্রকল্প চালু করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্তদের অগ্নিবীর বলা হয়।

প্রাথমিক ব্যবস্থায় ২৫% সদস্য যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়মিত চাকরির জন্য বিবেচিত হতেন এবং বাকি ৭৫% বেসামরিক জীবনে ফিরে যেতেন। নতুন ঘোষণায় এতে আরও একটি ধাপ যুক্ত হয়েছে। ধারাবাহিকতাটি এখন এমন:

  • জুন ২০২২: কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা চার বছরের প্রাথমিক চাকরির মেয়াদসহ অগ্নিপথ প্রকল্প চালু করে।
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬: প্রাথমিক পর্যায়ে রাখা না হওয়া ৭৫% সদস্যের জন্য আরও দুই বছরের মেয়াদের মন্ত্রিসভার অনুমোদনের কথা জানান জেনারেল সুব্রামণি।
  • ডিসেম্বর ২০২৬: প্রায় ১৮ হাজার অগ্নিবীরের প্রথম ব্যাচের প্রাথমিক চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
  • চার বছর চাকরির পর: যোগ্যতার ভিত্তিতে বাছাইয়ে প্রথম ২৫% নিয়মিত বাহিনীতে যোগ দেবেন, আর বাকি সদস্যদের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হবে।
  • ছয় বছর চাকরির পর: অতিরিক্ত মেয়াদ সম্পন্ন করা সদস্যরা নিজেদের ইচ্ছা ও বাছাইয়ের ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়মিত চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিটি অগ্নিবীরের এই পর্যায়গুলোতে পৌঁছানোর তারিখ নির্ভর করবে তাঁর চাকরিতে যোগদানের সময়ের ওপর। তাই মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যোগ্য সদস্যদের ক্যারিয়ারের ধারায় পরিবর্তন আনছে; কর্মরত সব অগ্নিবীরকে একই সময়ে বাহিনী ছাড়তে হচ্ছে না।

নিয়মিত চাকরি নির্ভর করবে কর্মদক্ষতার ওপর

জেনারেল সুব্রামণি অতিরিক্ত মেয়াদকে অগ্নিবীরদের অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি আরও বলেন, প্রথম চার বছর পর বাছাইয়ে বাদ পড়ার অর্থ এই নয় যে কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত কম সক্ষম। প্রথম মূল্যায়ন এমন এক ব্যবস্থায় হয়, যেখানে শুরুতে দলের মাত্র এক-চতুর্থাংশকে রাখা হয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে কর্মরত থেকে নিজেদের সক্ষমতা দেখানোর জন্য সদস্যরা আরও সময় পাবেন। তাঁদের নিয়মিত বাহিনীতে যোগ দেওয়া শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে কর্মদক্ষতা, প্রযোজ্য বাছাইয়ের মানদণ্ড এবং বাহিনীতে থাকার বিষয়ে তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর।

সিডিএস বলেন, তিন বাহিনীর রক্ষিত কেন্দ্রীয় ডেটাবেইসের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ডে প্রতিবছর কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। এ মূল্যায়নে শারীরিক সক্ষমতা, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, প্রেরণা, মনোবল, শৃঙ্খলা ও কারিগরি দক্ষতা বিবেচনা করা হয়। বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতা ও চাকরিতে অর্জনের পাশাপাশি পরিচালনাগত ও সাংগঠনিক চাহিদাও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

ভারতীয় বিমানবাহিনীর ইস্টার্ন এয়ার কমান্ড সদর দপ্তরের প্রশাসন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এয়ার ভাইস মার্শাল শেখর যাদব বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করা এবং নিয়মিত বাহিনীতে যোগ দিতে ইচ্ছুক সব অগ্নিবীর নির্ধারিত বস্তুনিষ্ঠ বাছাইয়ের মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে নিয়মিত কাঠামোতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

বিজ্ঞাপন

সিডিএসের ভাষ্য অনুযায়ী, ছয় বছর পর নির্বাচিত সদস্যদের জ্যেষ্ঠতার অবস্থান চার বছর পর নির্বাচিত ২৫% সদস্যের নিচে থাকবে। জ্যেষ্ঠতা বলতে বাহিনীর পদক্রমে কারও আপেক্ষিক অবস্থান বোঝায়। তাই পরবর্তী দলে নিয়মিত চাকরিতে যোগ দেওয়া সদস্যদের তুলনায় প্রথম দল তাদের আগের অবস্থান বজায় রাখবে।

তিনি আরও বলেন, “প্রথম পর্যায়ে নিয়মিত সৈনিক হিসেবে নির্বাচিতদের জ্যেষ্ঠতা বেশি থাকবে, আর পরে নির্বাচিতদের তাঁদের ঠিক পরের অবস্থানে রাখা হবে।”

দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করা অগ্নিবীরেরা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়তেও পারবেন। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ক্যারিয়ারের কথা যাঁরা ভাবছেন, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত মূল্যায়ন আরেকটি সুযোগ তৈরি করছে। আর যাঁরা বেসামরিক জীবন বেছে নেবেন, তাঁরা মেয়াদ বাড়ালে তাঁদের চাকরি ছাড়ার সময় চার বছরের বদলে ছয় বছর হবে।

বেতন বাড়ছে, তবে বছর উল্লেখে অমিল

অতিরিক্ত মেয়াদে যোগ দেওয়া অগ্নিবীরেরা বেশি পারিশ্রমিক পাবেন। সিডিএসের নামে উল্লেখ করা মাসিক বেতনের হিসাবে মেয়াদ বাড়ানোর প্রথম বছরে ৪৩,৫০০ রুপি এবং দ্বিতীয় বছরে ৪৭,৫০০ রুপি দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যের আরেকটি বিবরণে একই অঙ্ককে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরের বেতন বলা হয়েছে, যদিও ঘোষিত মেয়াদ বাড়ছে দুই বছর।

যাদব বৃহস্পতিবার স্পষ্ট করে বলেন, বর্ধিত মেয়াদের প্রথম বছরে নির্ধারিত মাসিক বেতন হবে ৪৩,৫০০ রুপি এবং দ্বিতীয় বছরে ৪৭,৫০০ রুপি, এর সঙ্গে প্রযোজ্য ভাতা যোগ হবে। এগুলো যথাক্রমে চাকরির পঞ্চম ও ষষ্ঠ বছরের বেতন।

প্রথম ও দ্বিতীয় বছরের বেতনের হিসাব ধরলে, বাড়তি মেয়াদের দুই বছরে মাসিক বেতন ৪,০০০ রুপি বাড়বে। জেনারেল সুব্রামণি অগ্নিবীরের প্রাথমিক চাকরির প্রথম বছরে শুরুর বেতন মাসে ৩০,০০০ রুপির কথাও উল্লেখ করেন।

ঘোষণার সঙ্গে বর্ণিত আর্থিক ব্যবস্থায় অগ্নিবীরের অবদানের সমপরিমাণ ৭০% সরকারি অবদান অব্যাহত রাখার কথা রয়েছে। অতিরিক্ত দুই বছর সম্পন্ন করার পর মোট প্রায় ১০.৯২ লাখ রুপি, অর্থাৎ ১০ লাখ ৯২ হাজার রুপির আর্থিক প্যাকেজের কথা বলা হয়েছে।

নতুন সেবা নিধি প্যাকেজের অবদানের হিসাব যাদব ভিন্নভাবে দিয়েছেন: অতিরিক্ত দুই বছরে অগ্নিবীরেরা দেবেন ৩.২৮ লাখ রুপি এবং সরকার দেবে ৭.৬৪ লাখ রুপি। সুদ বাদে মোট হবে ১০.৯২ লাখ রুপি। এই হিসাবে সম্মিলিত অবদানের প্রায় ৭০% সরকার দিচ্ছে; অগ্নিবীরদের অবদানের ৭০% নয়। সরবরাহ করা বিবরণে এই দুই ধরনের ব্যাখ্যার মধ্যে সামঞ্জস্য আনা হয়নি।

আর্থিক পরিকল্পনার সময় সদস্য ও তাঁদের পরিবারের মাসিক বেতন এবং উল্লিখিত আর্থিক প্যাকেজকে আলাদা হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা দরকার। বেশি পারিশ্রমিক চাকরির সময় অতিরিক্ত আয় দেবে। পরে বেসামরিক চাকরিতে যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে নিয়োগপ্রাপ্ত নিয়মিত পদে নির্বাচিত হন, নাকি নিজে বাহিনী ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, তার ওপর।

অভিজ্ঞ সদস্য ধরে রাখতে চান কমান্ডাররা

মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের আগে সামরিক কমান্ডার ও মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক মতামত পাওয়া যায়। সরকারের ঘোষিত উদ্দেশ্য হলো প্রশিক্ষিত সদস্যদের আরও দীর্ঘ সময় চাকরিতে রাখা এবং তাঁদের সক্ষমতা বিকাশে বেশি সময় দেওয়া।

জেনারেল সুব্রামণি বলেন, কয়েক মাস ধরে প্রকল্পটি পর্যালোচনায় ছিল এবং নির্দিষ্ট বিরতিতে পর্যালোচনা চলবে। অগ্নিবীরদের কর্মদক্ষতা ও পরিচালনাগত চাহিদা মূল্যায়নের পর সশস্ত্র বাহিনী অতিরিক্ত মেয়াদের সুপারিশ করে। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধের পরিবর্তনশীল ধরন মোকাবিলায় তারুণ্য, প্রযুক্তি ও পরিপক্বতার সমন্বয় দরকার।

জেনারেল সুব্রামণি বলেন, ২৫% থেকে ৩০% অগ্নিবীর পরিচালনাগত এলাকায় মোতায়েন রয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি চার থেকে দশজনের মধ্যে একজন, যা দেখায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য ইতিমধ্যে সক্রিয় সামরিক দায়িত্বসংশ্লিষ্ট এলাকায় কাজ করছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক মেয়াদ শেষে যাঁরা অন্যথায় বাহিনী ছেড়ে যেতেন, তাঁদের মধ্যে কর্মরত সদস্যদের আরও দুই বছর ধরে রেখে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবে সশস্ত্র বাহিনী। নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য এর অর্থ, ক্যারিয়ার নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের আগে সামরিক ইউনিটে প্রশিক্ষণ কাজে লাগানোর আরও সময় পাওয়া।

ঘোষণার পাশাপাশি যেসব অর্জনের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আরও বেশি জেলায় নিয়োগ কার্যক্রম পৌঁছানো, নিয়োগ প্রক্রিয়ার মানসম্মতকরণ, বিভিন্ন শাখায় নারীদের সুযোগ এবং কারিগরি অভিযোজনক্ষমতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার উন্নতি। প্রাথমিক চাকরির কাঠামো বজায় রেখে প্রকল্পের আরও বিকাশের কারণ হিসেবে এগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

যাঁরা চাকরি ছাড়বেন, তাঁদের কী হবে?

ছয় বছর পর যেসব অগ্নিবীরকে রাখা হবে না, ঘোষিত ব্যবস্থায় তাঁরা সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ পাবেন না। সংরক্ষণ বলতে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর জন্য পদের একটি অংশ বরাদ্দ রাখাকে বোঝায়। তাই অতিরিক্ত সামরিক মেয়াদ শেষে চাকরি ছাড়া সদস্যদের জন্য এ ব্যবস্থায় এ ধরনের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নেই।

আধাসামরিক বাহিনীতে সংরক্ষণের প্রসঙ্গে সিডিএস বলেন, চার বছর পর ৭৫% নিয়োগপ্রাপ্ত বাহিনী ছাড়বেন, এমন ধারণার ভিত্তিতে সংরক্ষণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এখন অতিরিক্ত মেয়াদ শেষে বাহিনীতে থেকে যাওয়ার সুযোগ থাকায় এ ব্যবস্থার আওতায় কোনো সংরক্ষণ থাকবে না বলে তিনি জানান।

এই সিদ্ধান্তে অগ্নিবীরের সামরিক বেতন পাওয়া এবং নিয়মিত চাকরির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় বাড়বে। দ্বিতীয় মেয়াদ গ্রহণকারীদের বেসামরিক চাকরিতে যাওয়াও পিছিয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত যাঁরা নির্বাচিত হবেন না, তাঁদের সশস্ত্র বাহিনীর বাইরের কাজের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে।

অতিরিক্ত চাকরির সময় অর্জিত যোগ্যতা ও দক্ষতা মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে সরকারের যুক্তির অংশ। ওই দুই বছরে নিশ্চিত সুবিধা হলো ইউনিফর্মে চাকরি চালিয়ে যাওয়া। পরবর্তী ক্যারিয়ারের পথ আলাদা হবে: কেউ নিয়মিত চাকরিতে নির্বাচিত হবেন, কেউ নিজে চলে যাবেন, আর কেউ শেষ পর্যন্ত চাকরিতে বহাল না হয়েই মেয়াদ শেষ করবেন।

সরকারের যুক্তি নিয়ে কংগ্রেসের প্রশ্ন

কংগ্রেস নেতা পবন খেরা ৪ নভেম্বর জয়পুরে মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তাঁর দল ও রাহুল গান্ধী শুরু থেকেই অগ্নিপথের বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁদের যুক্তি, স্বল্পমেয়াদি চাকরির মেয়াদ তরুণ নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

অতিরিক্ত মেয়াদ শেষে যাঁরা নিয়মিত বাহিনীতে যেতে পারবেন না, তাঁদের কী হবে—এ প্রশ্ন তোলেন খেরা:

“তারা বলছে, ২৫ শতাংশকে সেনাবাহিনীতে রেখে বাকিদের দুই বছরের মেয়াদ বাড়িয়ে দেবে। ২৫ শতাংশকে রাখবেন। বাকি ৭৫ শতাংশের কী হবে? দুই বছর পর কি তারা আবার রাস্তায় এসে দাঁড়াবে, নাকি আপনারা আবার অবস্থান বদলাবেন? না ভেবে কোনো প্রকল্প চালু করলে তার পরিণতি এমনই হয়,” তিনি বলেন।

বিজ্ঞাপন

খেরা আরও অভিযোগ করেন, উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব ও উত্তরাখণ্ডে বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে; এসব রাজ্যের অনেক তরুণ সামরিক বাহিনীতে ক্যারিয়ার গড়তে চান। নির্বাচনী উদ্দেশ্যের এই অভিযোগটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিয়ে বিরোধী দলের ব্যাখ্যা। সরকারের দেওয়া ব্যাখ্যায় গুরুত্ব পেয়েছে সদস্যদের দক্ষতা বিকাশ, সামরিক চাহিদা এবং কর্মরত অগ্নিবীরদের বিষয়ে ইতিবাচক মতামত।

সিদ্ধান্তে বদলাচ্ছে পরবর্তী দুই বছর

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে প্রাথমিকভাবে নিয়মিত চাকরিতে নির্বাচিত না হওয়া ৭৫% সদস্য আরও দীর্ঘ সময় সামরিক চাকরি এবং বাছাইয়ের আরেকটি সুযোগ পাবেন। প্রথম ২৫% চার বছর পর নিয়মিত চাকরিতে যাওয়ার সুযোগ এবং পরে নির্বাচিত সদস্যদের তুলনায় জ্যেষ্ঠতার সুবিধা বজায় রাখবেন।

মূল মতপার্থক্যটি অতিরিক্ত মেয়াদ শেষে কী হবে, তা নিয়ে। সরকারের বক্তব্য, অভিজ্ঞতা অর্জন ও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ক্যারিয়ারের যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ দেবে এই মেয়াদ। কংগ্রেসের যুক্তি, তখনও যাঁরা নির্বাচিত হবেন না, তাঁদের দুই বছর পর একই কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হবে।

প্রথম মেয়াদের শেষের দিকে থাকা অগ্নিবীরদের জন্য তাৎক্ষণিক ফলটি আরও স্পষ্ট: ইউনিফর্মে আরও দুই বছর চাকরির প্রস্তাব, বেশি পারিশ্রমিক এবং আরেক দফা মূল্যায়ন। এরপর তাঁদের সামনে থাকবে নিয়মিত চাকরি অথবা বাহিনী ছেড়ে যাওয়ার পথ।

মূল বিষয়গুলো

  • চার বছর পর নিয়মিত চাকরিতে নির্বাচিত না হওয়া ৭৫% অগ্নিবীরের জন্য মন্ত্রিসভা আরও দুই বছরের অনুমোদন দিয়েছে।
  • প্রাথমিক চাকরির মেয়াদ চার বছরই থাকছে; যোগ্যতার ভিত্তিতে ২৫% নিয়মিত পদে নির্বাচিত হবেন।
  • ছয় বছর পর বাছাই নির্ভর করবে কর্মদক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ড, পরিচালনাগত ও সাংগঠনিক চাহিদা এবং নিয়োগপ্রাপ্তের বাহিনীতে থাকার ইচ্ছার ওপর। বার্ষিক মূল্যায়নে শারীরিক সক্ষমতা, অভিযোজনক্ষমতা, প্রেরণা, মনোবল, শৃঙ্খলা ও কারিগরি দক্ষতা বিবেচনা করা হবে।
  • পরে নির্বাচিত সদস্যদের জ্যেষ্ঠতা প্রথম ২৫% সদস্যের নিচে থাকবে।
  • যাদবের দেওয়া হিসাবে, চাকরির পঞ্চম বছরে মাসিক বর্ধিত বেতন ৪৩,৫০০ রুপি এবং ষষ্ঠ বছরে ৪৭,৫০০ রুপি; এর সঙ্গে প্রযোজ্য ভাতা যোগ হবে।
  • নতুন সেবা নিধি প্যাকেজে অগ্নিবীরদের অবদান ৩.২৮ লাখ রুপি এবং সরকারের অবদান ৭.৬৪ লাখ রুপি, সুদ বাদে মোট ১০.৯২ লাখ রুপি। এটি অগ্নিবীরদের অবদানের ৭০% সরকারি অবদানের বিবরণের সঙ্গে মেলে না।
  • ঘোষিত ব্যবস্থায় ছয় বছর পর চাকরিতে রাখা না হলে অগ্নিবীরেরা সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ পাবেন না।
  • অতিরিক্ত মেয়াদ শেষে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং নির্বাচনী উদ্দেশ্যের অভিযোগ এনে কংগ্রেস সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছে।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে