সিনেমা হলে মুক্তির কয়েক দিন আগে আদালতের সুরক্ষা
৫ নভেম্বর, ২০২৬-এ বিশ্বজুড়ে সিনেমা হলে মুক্তির আগে অনুমতি ছাড়া রেকর্ডিং, আপলোড ও স্ট্রিমিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়ে রামায়ণ: পার্ট ১-কে অন্তর্বর্তী কপিরাইট সুরক্ষা দিয়েছে বোম্বে হাইকোর্ট। ব্যক্তিগত ট্রেলার প্রদর্শনী থেকে ফুটেজ ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পর পাইরেসি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে গডপাওয়ার মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের আবেদনে ২ নভেম্বর বিচারপতি মাধব জামদার এই আদেশ দেন।
সূচিপত্র
- সিনেমা হলে মুক্তির কয়েক দিন আগে আদালতের সুরক্ষা
- কেন জরুরি আদেশ চেয়েছিল গডপাওয়ার
- বিচারকের আদেশে কী রয়েছে
- অজ্ঞাত আপলোডকারীদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
- বুকিংয়ের পরিসংখ্যানে কী দেখা যাচ্ছে
- একাধিক দিনজুড়ে চাহিদা দেখছে সিনেমা হলের চেইনগুলো
- প্রিমিয়াম ফরম্যাট ও আঞ্চলিক সংস্করণে বাড়ছে দর্শকের পরিসর
- বড় উদ্বোধনের পূর্বাভাস, এরপর উৎসবের সময়ের পরীক্ষা
- ছবি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও সামনের তারিখগুলো
- মূল বিষয়গুলো
কোম্পানিটি আদালতকে জানায়, প্রথম ছবিটি নির্মাণে প্রায় ২,০০০ কোটি রুপি খরচ হয়েছে এবং দুটি ছবির সম্মিলিত বাজেট ৪,০০০ কোটি রুপি। ছবিটির পাশাপাশি চিত্রনাট্য, চরিত্র, ফুটেজ, গানের কথা ও সাউন্ড রেকর্ডিংসহ সৃজনশীল উপাদানের সুরক্ষা চেয়ে মামলা করেছে তারা।
পাইরেটেড লিংক ও মিরর ওয়েবসাইট মোকাবিলার প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করেছে আদালত। এসব ওয়েবসাইট অন্য ওয়েব ঠিকানায় উপাদানটি পুনরায় প্রকাশ করে। গডপাওয়ারকে আপত্তিকর ইউআরএল লিখিতভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে জানাতে হবে; এরপর তাদের দ্রুত প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে বা বিষয়বস্তু সরিয়ে ফেলতে হবে।
রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী ও যশ অভিনীত ছবিটির অগ্রিম বুকিংয়ে উল্লেখযোগ্য চাহিদার ইঙ্গিত মিলছে। ৩ নভেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত জানানো হিসাবে, ১৮.৫৬ লাখ টিকিট বিক্রি থেকে বুকিংয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭২.৯১ কোটি রুপি। ব্লক করা আসন বাদ দিলে অঙ্কটি ৫৭.৯৭ কোটি রুপি এবং টিকিটের সংখ্যা ১৪.৭৯ লাখ।
কেন জরুরি আদেশ চেয়েছিল গডপাওয়ার
আইন সংস্থা আনন্দ অ্যান্ড নায়েকের মাধ্যমে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে গডপাওয়ার মিডিয়া জানায়, ছবিটির কপিরাইট এবং ভারত ও বিদেশের নির্দিষ্ট অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে বিতরণ ও ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে। কোম্পানির বক্তব্য, তারা প্রাসঙ্গিক দেশীয় ও আঞ্চলিক মেধাস্বত্ব অধিকার অর্জন করেছে।
তাৎক্ষণিক উদ্বেগের কারণ ছিল আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য সীমিত প্রদর্শনীতে কথিত নিরাপত্তা লঙ্ঘন। কোম্পানির আদালতে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, উপস্থিত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা চুক্তিতে সই করতে হয়েছিল। তা সত্ত্বেও দুটি ট্রেলার থেকেই গোপনে ফুটেজ রেকর্ড করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ফাঁসের অভিযোগ সুরক্ষার আবেদনের পক্ষে সুনির্দিষ্ট ভিত্তি তৈরি করে: নিয়ন্ত্রিত প্রদর্শনী থেকে উপাদান ইতিমধ্যে বাইরে চলে গিয়েছিল, আর পুরো ছবির সিনেমা মুক্তির বাকি ছিল মাত্র কয়েক দিন। আরও অননুমোদিত কপি ছড়িয়ে পড়ার আগেই আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছিল গডপাওয়ার।
বিচারকের আদেশে কী রয়েছে
আরও লঙ্ঘনের আশঙ্কার পক্ষে কোম্পানিটির প্রাথমিক ভিত্তি রয়েছে বলে মেনে নেন বিচারপতি মাধব জামদার। অনুমতি ছাড়া ছবিটি বা এর অংশ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সম্পর্কে বিচারক পর্যবেক্ষণে বলেন:
প্রাথমিকভাবে, বাদীর (গডপাওয়ার) যথার্থ ও সুপ্রতিষ্ঠিত আশঙ্কা রয়েছে যে ছবিটি বা এর অংশবিশেষ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে রেকর্ড করে আপলোড, স্ট্রিম কিংবা জনসাধারণের কাছে প্রচার করা হবে।
প্রাথমিকভাবে বলতে বোঝায়, আদালতের সামনে থাকা তথ্য থেকে প্রাথমিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। মামলা চলাকালে নতুন অনলাইন ঠিকানায় লঙ্ঘনকারী উপাদান দেখা দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখতে আদালত ডায়নামিক অ্যাড ইন্টারিম ইনজাংশন দিয়েছে। এটি একটি অস্থায়ী আদেশ।
আদালতের মূল আদেশটি পর্যালোচনার জন্য পাওয়া যায়নি। তাই এখানে বর্ণিত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট পরিধি, কাদের উদ্দেশে এটি দেওয়া হয়েছে এবং কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার শর্ত রয়েছে, তা যাচাই করা যায়নি।
নিষেধাজ্ঞায় অননুমোদিত রেকর্ডিং, হোস্টিং, স্ট্রিমিং ও বিতরণ অন্তর্ভুক্ত। ছবিটির পাশাপাশি এটি তৈরিতে ব্যবহৃত সৃজনশীল উপাদানও গডপাওয়ারের আবেদনের আওতায় রয়েছে। ফলে সম্পূর্ণ কপির পাশাপাশি ফাঁস হওয়া অংশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা চাইতে পারবে কোম্পানিটি।
পরবর্তী শুনানি ১৬ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়েছে; তত দিন অন্তর্বর্তী সুরক্ষা বহাল থাকবে। অর্থাৎ মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্ত পেরিয়েও মামলা চলবে এবং ছবিটির প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের শুরুর সময়কালেও তা কার্যকর থাকবে।
অজ্ঞাত আপলোডকারীদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
মামলায় প্রায় ৩৪টি কোম্পানির পাশাপাশি অজ্ঞাত বিবাদীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের জন ডো পক্ষ বলা হয়। জন ডো হলো এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য আইনি পরিভাষা, যাদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। কোনো অ্যাকাউন্ট বা ওয়েবসাইটের পেছনের ব্যক্তিকে শনাক্ত করা না গেলেও সম্ভাব্য লঙ্ঘনমূলক আচরণের বিরুদ্ধে আদালতকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয় এটি।
এই ছবির ক্ষেত্রে আদেশে একটি কার্যকর প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। অননুমোদিত কপি বা ক্লিপ থাকা ইউআরএল শনাক্ত করে গডপাওয়ার সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বা ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীকে লিখিত নোটিশ দেবে। প্রাপককে দ্রুত উপাদানটি সরাতে বা সেটিতে প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে হবে।
মিরর ওয়েবসাইটও এর আওতায় রয়েছে, কারণ প্রথম লিংকটি বন্ধ হওয়ার পর পাইরেটেড কপি অন্য ঠিকানায় আবার দেখা দিতে পারে। ডায়নামিক ব্যবস্থার ফলে নতুন ঠিকানাগুলোতেও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
গুগল এলএলসি ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যস্থতাকারীদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীরা অন্তর্বর্তী প্রতিকারের বিরোধিতা করেননি। তারা আদালতকে জানান, আপত্তিকর লিংকের নোটিশ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। আদেশের বিবরণে ঘণ্টা হিসেবে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
বুকিংয়ের পরিসংখ্যানে কী দেখা যাচ্ছে
৩ নভেম্বরের মধ্যে প্রায় ৭০০ শহরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলছিল; বুকিং নথিভুক্ত হয়েছিল ৫৯,৮২২টি শোর জন্য। জানানো ৭২.৯১ কোটি রুপির মোট অঙ্কে ব্লক করা আসন অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেগুলো বাদ দিলে অঙ্কটি ছিল ৫৭.৯৭ কোটি রুপি।
বুকিং ব্যবস্থায় সাধারণের কাছে বিক্রির জন্য না রাখা আসনকে ব্লক করা আসন বলা হয়। সেগুলো বাদ দিয়ে হিসাব করলে টিকিট বিক্রির পরিসংখ্যান আরও স্পষ্ট হয়। দুই অঙ্কের ব্যবধান ১৪.৯৪ কোটি রুপি, যা বড় অঙ্কটির প্রায় ২০.৫ শতাংশ। টিকিটের হিসাবে ব্যবধান ৩.৭৭ লাখ।
পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, ৩ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে বুকিং বেড়েছে ১.৪২ কোটি রুপি। চাহিদায় এগিয়ে ছিল হিন্দি সংস্করণ; কন্নড় ও তেলুগু সংস্করণ নিয়েও আগ্রহ বাড়ছিল। ছবিটি তামিল ও মালয়ালম ভাষাতেও মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
অগ্রিম বুকিং বলতে নির্ধারিত শোতে দর্শক যাওয়ার আগে টিকিট কেনাকে বোঝায়। প্রদর্শনী শুরু হলে প্রথম দিনের বক্স অফিসের হিসাব আলাদাভাবে করা হবে। প্রযোজ্য কর বাদ দেওয়ার আগে টিকিট বিক্রির আয়কে গ্রস কালেকশন এবং কর বাদ দেওয়ার পরের আয়কে নেট কালেকশন বলা হয়।
একাধিক দিনজুড়ে চাহিদা দেখছে সিনেমা হলের চেইনগুলো
পিভিআর আইএনওএক্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দীর্ঘ উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে তাদের চেইনজুড়ে চার লাখের বেশি টিকিট বুক হয়েছে। কোম্পানির ব্যবসা পরিকল্পনা ও কৌশল বিভাগের নির্বাহী কামাল জিয়ানচাঁদানি আশা প্রকাশ করেন, বৃহস্পতিবার মুক্তির আগে বুধবার রাতের মধ্যে বুকিং এক মিলিয়ন টিকিটে পৌঁছাবে।
প্রাথমিক সাড়া সম্পর্কে জিয়ানচাঁদানি বলেন:
রামায়ণের প্রতি সাড়া সত্যিই অসাধারণ। পিভিআর আইএনওএক্সের পুরো চেইনজুড়ে অগ্রিম বুকিং ইতিমধ্যে ৪ লাখ টিকিট ছাড়িয়েছে।
চেইনটির পরিসংখ্যানে কয়েক দিনের শো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা প্রথম দিনের বাইরেও চাহিদার আভাস দেয়। ইতিমধ্যে চার লাখ টিকিটের সীমা পেরোনোর পর তাদের এক মিলিয়ন টিকিটের লক্ষ্য হবে তার আড়াই গুণ।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া পৃথক এক বিবৃতিতে পিভিআর আইএনওএক্স লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক সঞ্জীব কুমার বিজলি বলেন, তাদের চেইনজুড়ে অগ্রিম বুকিং ২.৫ লাখ টিকিট ছাড়িয়েছে। তিনি সাড়াকে "খুবই উৎসাহব্যঞ্জক" বলে বর্ণনা করেন এবং জানান, ছবিটি ছয় দিনের উৎসবের সময় মুক্তি পাচ্ছে, যখন পরিবারগুলো ঐতিহ্যগতভাবে একত্র হয় এবং উদ্যাপনের অংশ হয়ে ওঠে সিনেমা দেখা।
সিনেপোলিস ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাং সম্পতও তাদের চেইনজুড়ে শক্তিশালী বিক্রির কথা জানান। ভারতে ৫০০টি স্ক্রিনে পৌঁছানোর মাইলফলকের সঙ্গে মুক্তির যোগসূত্র টানেন তিনি। মুভিম্যাক্সের প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জয় দালিয়া বলেন, অগ্রিম বুকিং শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া মিলেছে। রাজহংস সিনেমাসের প্রধান নির্বাহী কুলদীপ সিং আশা প্রকাশ করেন, ছবিটি সব বয়সের দর্শক টানবে।
প্রিমিয়াম ফরম্যাট ও আঞ্চলিক সংস্করণে বাড়ছে দর্শকের পরিসর
বুকমাইশোর সিনেমা বিভাগের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আশিস সাকসেনা ডাব সংস্করণের পাশাপাশি আইম্যাক্স ও থ্রিডি প্রদর্শনীর চাহিদার কথা উল্লেখ করেন। এসব ফরম্যাটে ছবি দেখার ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়; পাঁচটি ভাষায় মুক্তির ফলে দর্শকদের বেছে নেওয়ার সুযোগও বাড়ে।
ডিস্ট্রিক্টের প্রধান নির্বাহী রাহুল গাঞ্জু বলেন, হাইপ ফিচারের মাধ্যমে চার লাখ মানুষ ছবিটি নিয়ে আগ্রহ জানিয়েছেন। এই ফিচারে ব্যবহারকারীরা কোনো সিনেমার জন্য তাদের আগ্রহ নথিভুক্ত করতে পারেন। দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, কলকাতা, বিশাখাপত্তনম, চেন্নাই, পুনে, জয়পুর, আহমেদাবাদ ও হায়দরাবাদ ছিল এগিয়ে থাকা শহরগুলোর মধ্যে।
গাঞ্জু গল্পটির ঘরে ঘরে পরিচিতির সঙ্গে এই আগ্রহের যোগসূত্র টেনে বলেন:
আমাদের অনেকেই এই গল্প প্রথম বাড়িতেই শুনেছি। তাই প্রথম শো শুরু হওয়ার আগেই এই উন্মাদনা বাড়তে দেখা স্বাভাবিক।
হাইপে আগ্রহ প্রকাশের হিসাব রাখা হয়, আর সিনেমার বুকিংয়ের মোট হিসাবে ধরা হয় সংরক্ষিত টিকিট। দুই পরিসংখ্যান মিলে দর্শকের কার্যকলাপের দুটি ধাপ তুলে ধরে: যারা ছবিটি দেখতে চান বলে আগ্রহ জানিয়েছেন এবং যারা শো বেছে নিয়ে আসন বুক করেছেন।
বড় উদ্বোধনের পূর্বাভাস, এরপর উৎসবের সময়ের পরীক্ষা
প্রদর্শক অক্ষয় রাঠি পূর্বাভাস দিয়েছেন, উদ্বোধনী দিনে রামায়ণ হিন্দি সংস্করণে ৬০ কোটি রুপির বেশি নেট কালেকশন করতে পারে। দেশজুড়ে সব ভাষা মিলিয়ে গ্রস কালেকশন ১০০ কোটি রুপিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। মুক্তির আগেই দেওয়া হয়েছে এই পূর্বাভাস।
ক্যালেন্ডারে একটি নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জের কথাও বলেছেন রাঠি। দীপাবলির আগের দিনগুলোতে কেনাকাটা, প্রস্তুতি ও সামাজিক ব্যস্ততা সিনেমা দেখতে যাওয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। দর্শকের সাড়া ইতিবাচক হলে ৯ নভেম্বর থেকে উপস্থিতি বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।
আদালতে জানানো নির্মাণ ব্যয়ের অঙ্ক এই প্রত্যাশার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে। উদ্বোধনী দিনে ১০০ কোটি রুপি গ্রস আয় হলে তা পার্ট ১-এর ঘোষিত ২,০০০ কোটি রুপি বাজেটের ৫ শতাংশের সমান হবে। টিকিটের আয়ের পুরোটা প্রযোজকেরা পান না, কারণ কর, প্রদর্শক ও পরিবেশকেরাও এর ভাগ পান। অন্যান্য বাণিজ্যিক অধিকার থেকেও আয় হতে পারে।
তাই বাণিজ্যিক সাফল্যের পরীক্ষা শুধু বড় উদ্বোধনী দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বারবার দর্শক আসা, উৎসবের প্রস্তুতি শেষে বিক্রি এবং বিভিন্ন ভাষায় চাহিদা প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির প্রদর্শনকাল নির্ধারণ করবে; এ সময় কপিরাইট আদেশও বহাল থাকবে।
ছবি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও সামনের তারিখগুলো
নিতেশ তিওয়ারি ছবিটি পরিচালনা করছেন। রামের ভূমিকায় রণবীর কাপুর, সীতার ভূমিকায় সাই পল্লবী, রাবণের ভূমিকায় যশ, হনুমানের ভূমিকায় সানি দেওল এবং লক্ষ্মণের ভূমিকায় রবি দুবে অভিনয় করছেন। প্রথম পর্বটি রামায়ণ: রাইজ অব আ লেজেন্ড নামেও পরিচিত।
নমিত মালহোত্রার প্রাইম ফোকাস স্টুডিওজ ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস প্রতিষ্ঠান ডিএনইজি এবং যশের মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের সঙ্গে যৌথভাবে ছবিটি নির্মাণ করছে। ভারতের বাইরে আন্তর্জাতিক পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে সনি পিকচার্স, আর হিন্দিভাষী বাজারে ছবিটি পরিবেশন করছে ধর্মা প্রোডাকশনস।
সিক্যুয়েল মুক্তির সময় এখনো চূড়ান্ত নয়; সম্ভাব্য সময় হিসেবে দীপাবলি ২০২৮ এবং দীপাবলি ২০২৭, দুই তারিখই উল্লেখ করা হয়েছে। পার্ট ১ ও আদালতের কার্যক্রমের সামনের সময়সূচি আরও নির্দিষ্ট:
- ২ নভেম্বর, ২০২৬: বিচারপতি মাধব জামদার অন্তর্বর্তী কপিরাইট সুরক্ষা দেন।
- ৩ নভেম্বর, ২০২৬: সকালের বুকিংয়ের হিসাবে ব্লক করা আসনসহ ৭২.৯১ কোটি রুপি এবং সেগুলো বাদে ৫৭.৯৭ কোটি রুপি জানানো হয়।
- ৫ নভেম্বর, ২০২৬: পার্ট ১ বিশ্বজুড়ে সিনেমা হলে মুক্তি পাওয়ার কথা।
- ৯ নভেম্বর, ২০২৬ থেকে: দর্শকের সাড়ার ওপর নির্ভর করে দীপাবলির পর উপস্থিতি বাড়বে বলে রাঠির প্রত্যাশা।
- ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৬: কপিরাইট মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আবার আদালতে যাবে।
গডপাওয়ারের পরবর্তী কাজ হলো লঙ্ঘনকারী লিংক শনাক্ত করে প্ল্যাটফর্মগুলোকে নোটিশ দেওয়া। আর সিনেমা হলগুলোর নজর থাকবে অগ্রিম আগ্রহ থেকে উদ্বোধনী সপ্তাহান্ত এবং পরবর্তী উৎসবের সময়ের দর্শক উপস্থিতির দিকে।
মূল বিষয়গুলো
- বোম্বে হাইকোর্ট রামায়ণ: পার্ট ১ রেকর্ড, আপলোড, হোস্ট ও স্ট্রিম করার অননুমোদিত কার্যক্রম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
- নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট পরিধি, কাদের উদ্দেশে এটি দেওয়া হয়েছে এবং ব্যবস্থা নেওয়ার শর্ত যাচাইয়ের জন্য আদালতের মূল আদেশ পাওয়া যায়নি।
- দুটি ব্যক্তিগত ট্রেলার প্রদর্শনীর ফুটেজ অনলাইনে ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সুরক্ষা চেয়েছিল গডপাওয়ার মিডিয়া।
- লঙ্ঘনকারী ইউআরএল ও মিরর ওয়েবসাইট শনাক্ত করে লিখিত নোটিশ দিলে প্ল্যাটফর্ম ও ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
- ৩ নভেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ব্লক করা আসন বাদে অগ্রিম বুকিংয়ের পরিমাণ ৫৭.৯৭ কোটি রুপিতে পৌঁছেছিল।
- ছবিটি পাঁচটি ভাষায় ৫ নভেম্বর, ২০২৬-এ বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাবে।
- অন্তর্বর্তী সুরক্ষা বহাল রেখে পরবর্তী শুনানি ১৬ ডিসেম্বর হবে।






