কম্পিউটার ছাড়াই শুরু হতে পারে এআই শেখা
ভারতের ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য কম্পিউটেশনাল থিংকিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি প্রাথমিক মডিউল তৈরি করেছে। এতে এমন কিছু কার্যক্রম রয়েছে, যা স্কুলগুলো কম্পিউটার বা ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও পরিচালনা করতে পারে। ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর এনসিইআরটির একটি পোস্টে মডিউলটি পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এতে প্রযুক্তির প্রাথমিক জ্ঞানের সঙ্গে তথ্য যাচাই, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা ও সমস্যা সমাধানের পাঠ যুক্ত করা হয়েছে।
সূচিপত্র
এনসিইআরটির আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে "NCERT Press Release regarding An Introductory Module on AI & CT (Secondary Stage Grades 9 to 12)" শিরোনামের বিজ্ঞপ্তি রয়েছে এবং PDF ও ফ্লিপবুক—দুই সংস্করণেই "An Introductory Module on AI & CT (Secondary Stage Grades 9 to 12)"-এর লিংক দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে তৈরি এই মডিউলটি চার শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্যই প্রাথমিক পর্যায়ের। শুরু করার জন্য শিক্ষার্থীদের এআই বা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে পূর্বজ্ঞান প্রয়োজন নেই। স্কুলে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে, তার ওপর নির্ভর করে শিক্ষকরা ডিজিটাল কার্যক্রমের পাশাপাশি আলোচনা, কাগজে অনুশীলন ও দলগত কাজও ব্যবহার করতে পারবেন—এভাবে মডিউলটি তৈরি করা হয়েছে।
শেখার প্রক্রিয়ায় মানুষের বিচারবোধ, সৃজনশীলতা ও নৈতিক দায়িত্বকে কেন্দ্রে রেখেছে এনসিইআরটি। শিক্ষার্থীরা এআই কীভাবে কাজ করে এবং কোথায় কাজে লাগে তা জানবে; পাশাপাশি ভুল, অসম্পূর্ণ উত্তর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য চিনতে শিখবে।
এই উদ্যোগে দুই ধরনের শিক্ষা একত্র হয়েছে: উত্তর তৈরি করতে পারে এমন প্রযুক্তিকে বোঝা এবং সেই উত্তর কার্যকর ও নির্ভুল কি না, তা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় যুক্তিবোধ গড়ে তোলা। সমস্যা মোকাবিলার পদ্ধতি দেয় কম্পিউটেশনাল থিংকিং; আর এআই-সাক্ষরতা শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য সমাধানের সরঞ্জামগুলো মূল্যায়নে সহায়তা করে।
কার জন্য তৈরি এই মডিউল
নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এর লক্ষ্যপাঠক। এনসিইআরটি উপকরণটিকে একটি পরিচিতিমূলক পাঠ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ফলে যারা আগে কখনো এআই নিয়ে পড়েনি এবং যেসব স্কুলে বিভিন্ন মাত্রার সরঞ্জাম রয়েছে, সেখানকার শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি উপযোগী।
শেখার লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তিগত পরিভাষা জানা নয়। শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করা, বিভিন্ন সমাধনা বিবেচনা করা, ধারণা তৈরি করা এবং নিজেদের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করার চর্চা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব দক্ষতা প্রযুক্তিবিষয়ক পাঠকে তাদের চলমান স্কুলশিক্ষা ও দৈনন্দিন সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করে।
মডিউলটিতে ২০ ঘণ্টার একটি প্রস্তাবিত পাঠদান পরিকল্পনা রয়েছে। সিবিএসই-সংশ্লিষ্ট স্কুলে নবম শ্রেণি থেকে এনসিইআরটির পাঠ্যবই ও মডিউল বাধ্যতামূলক; তবে এই মডিউলটির জন্য আলাদা করে বাধ্যতামূলক করার কোনো নির্দেশনা বা বাস্তবায়নের তারিখ দেওয়া হয়েছে কি না, উপলভ্য তথ্যে তা উল্লেখ নেই। পাঁচটি ইউনিটের কার্যক্রমের পর পর্যবেক্ষণ, যুক্তি ও ভাবনা লিখে রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের একটি "কৌতূহল নোটবুক"—চলমান পোর্টফোলিও—রাখতে বলা হয়েছে; আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা কী হবে, উপলভ্য তথ্যে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। স্কুলের সময়সূচিতে মডিউলটি কীভাবে যুক্ত হবে, তা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এসব তথ্য পরিবার ও শিক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কম্পিউটেশনাল থিংকিং বলতে কী বোঝায়
কম্পিউটেশনাল থিংকিং হলো কোনো সমস্যার কাছে গুছিয়ে এগোনো। শিক্ষার্থী শনাক্ত করে কী সমাধান করতে হবে, সমস্যাটিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে, প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে এবং সমাধানে পৌঁছানোর সম্ভাব্য উপায়গুলো বিবেচনা করে। "কম্পিউটেশনাল" শব্দটি শুনে মনে হতে পারে কম্পিউটার লাগবে, কিন্তু কাগজে-কলমে বা আলোচনার মাধ্যমেও এই যুক্তিপ্রক্রিয়া চলতে পারে।
মডিউলটি তৈরি করা জাতীয় শিক্ষা সংস্থা এনসিইআরটি এর উদ্দেশ্য এভাবে ব্যাখ্যা করেছে:
"এতে সমস্যা সমাধানের একটি পদ্ধতিগত উপায় হিসেবে কম্পিউটেশনাল থিংকিং (সিটি) পরিচয় করানো হয়েছে এবং এআই কীভাবে কাজ করে, এর প্রয়োগ, সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বুঝতে সহায়তা করা হয়েছে," বলেছে এনসিইআরটি।
একটি কঠিন স্কুলের কাজের কথা ভাবলে এই পদ্ধতিটি বোঝা সহজ হয়। শিক্ষার্থী কাজটিকে কয়েকটি প্রশ্নে ভাগ করতে পারে, প্রতিটি প্রশ্নের জন্য কী তথ্য দরকার তা ঠিক করতে পারে এবং যুক্তিসংগত ক্রমে অংশগুলো শেষ করতে পারে। এটি এনসিইআরটি ঘোষিত কোনো নির্দিষ্ট অনুশীলন নয়; বরং মডিউলটি যে যুক্তিবোধ গড়ে তুলতে চায়, তার একটি উদাহরণ।
নিজের কাজ পর্যালোচনার সুযোগও দেয় এই পদ্ধতি। কোনো সমাধান কাজে না এলে, কী ভুল হয়েছে তা না বুঝে আবার শুরু করার বদলে শিক্ষার্থীরা ব্যবহৃত তথ্য বা অনুসৃত ধাপগুলো ফিরে দেখতে পারে।
এআইয়ের ব্যবহার ও সীমাবদ্ধতা বোঝা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলতে এমন কম্পিউটার সিস্টেমকে বোঝায়, যা ধরন শনাক্ত করা, ভাষা প্রক্রিয়াকরণ বা কনটেন্ট তৈরির মতো কাজ করে। তথ্য খোঁজা, ভাষা নিয়ে কাজ করা ও ছবি তৈরি করা এর পরিচিত কিছু ব্যবহার। এআই কীভাবে কাজ করে, এর প্রয়োগ কী এবং ব্যবহারের সময় কোন সীমাবদ্ধতাগুলো শিক্ষার্থীদের বোঝা দরকার—মডিউলটি তার পরিচয় করিয়ে দেয়।
নতুনদের জন্য মূল বিষয় হলো কোনো সরঞ্জামের কাজ এবং তার ফলাফলের মানের মধ্যে সম্পর্ক বোঝা। কোনো সিস্টেম পড়তে সুবিধাজনক উত্তর বা বিশ্বাসযোগ্য ছবি তৈরি করলেও তাতে ভুল থাকতে পারে। তাই প্রযুক্তি কী করতে পারে তা বোঝার পাশাপাশি এটি যা তৈরি করে তা যাচাই করার অভ্যাসও শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে হবে।
এনসিইআরটির পদ্ধতিতে এসব প্রশ্ন একই শেখার প্রক্রিয়ার অংশ। শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক প্রয়োগ জানবে এবং কোথায় সতর্কতা প্রয়োজন, তা-ও বিবেচনা করবে। এআই শেখার মধ্যে রয়েছে কখন কোনো উত্তর যাচাই করতে হবে, কখন তথ্য অনুপস্থিত এবং কখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একজন মানুষকেই নিতে হবে, তা বোঝা।
লক্ষ্য হলো প্রাথমিক ধারণা তৈরি করা: এআই সম্পর্কে আরও ভালো প্রশ্ন করার এবং ভেবেচিন্তে এটি ব্যবহারের মতো যথেষ্ট জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি স্বাধীনভাবে যুক্তি করার চর্চা চালিয়ে যাওয়া।
নিষ্ক্রিয় শেখার বদলে কার্যক্রম
আলোচনা, ব্যবহারিক অনুশীলন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা—এই মডিউলের পাঠদানের পদ্ধতির মূল অংশ। শুধু সংজ্ঞা পড়ে শেখার বদলে শিক্ষার্থীদের অংশ নিতে, ধারণা প্রয়োগ করে দেখতে এবং ফলাফল থেকে কী শিখল তা ভাবতে বলা হবে।
দলগত কাজের মাধ্যমে একই সমস্যার বিভিন্ন সমাধান শিক্ষার্থীরা তুলনা করতে পারে। আলোচনায় তারা কেন নির্দিষ্ট একটি উত্তর বেছে নিয়েছে তা ব্যাখ্যা করতে পারে। পর্যালোচনা হলো নিজের কাজ ফিরে দেখা—কী সফল হয়েছে, কী হয়নি এবং কী পরিবর্তন করা যেতে পারে, তা বিবেচনা করা।
বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকা স্কুলে অংশগ্রহণের বিষয়টিও এনসিইআরটি সরাসরি বিবেচনা করেছে:
"ডিজিটাল ডিভাইস থাকুক বা না থাকুক, বিভিন্ন ধরনের স্কুলের শিক্ষার্থীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করা যায়," সংস্থাটি বলেছে।
কম্পিউটার বা ইন্টারনেটের সুযোগ সীমিত, এমন স্কুলের শিক্ষকরা আলোচনা, কাগজে অনুশীলন ও সহযোগিতামূলক কাজ ব্যবহার করতে পারেন। ডিজিটাল সরঞ্জাম আছে এমন স্কুলগুলো একই সামগ্রিক পদ্ধতির মধ্যে সেগুলো ব্যবহার করতে পারে। এই নকশায় স্কুলগুলো পাঠদানের মাধ্যম বেছে নিতে পারে, তবে যুক্তিবোধ, অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার সবার জন্যই অভিন্ন লক্ষ্য।
প্রস্তাবিত পাঠদান পরিকল্পনায় তিনটি পদ্ধতি রয়েছে: প্রত্যেক শিক্ষার্থী বা জুটির জন্য একটি ডিভাইস, সবার সঙ্গে শেয়ার করা স্ক্রিনে শিক্ষকের পরিচালনায় প্রদর্শন এবং কাগজে-কলমে ও আলোচনাভিত্তিক "আনপ্লাগড" অনুশীলন।
এআই শেখার অংশ হলো উত্তর যাচাই
এআইয়ের তৈরি তথ্য, তারিখ ও পরিসংখ্যান নির্ভরযোগ্য উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হবে। দ্রুত পাওয়া উত্তরও ভুল, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। যাচাই করার অর্থ হলো এর দাবিগুলো নির্ভরযোগ্য তথ্যের সঙ্গে মেলে কি না, তা দেখা।
কোনো তারিখের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক সরকারি নথি দেখা যেতে পারে। পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে যে সংস্থা সংখ্যাটি প্রকাশ করেছে তা খুঁজে বের করে সংখ্যাটি কী পরিমাপ করছে, তা যাচাই করতে হয়। সমালোচনামূলক যাচাইয়ের ওপর মডিউলের গুরুত্ব বোঝার জন্য এগুলো বাস্তবধর্মী উপায়।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের পাশাপাশি এনসিইআরটি ভুল তথ্যের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করেছে। এদের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে: উত্তর যাচাই করতে শেখা শিক্ষার্থীরা কোনো ভুল দাবি অ্যাসাইনমেন্টে পুনরাবৃত্তি করার বা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার আগেই তা শনাক্ত করতে বেশি সক্ষম হবে।
এই প্রক্রিয়ার পুরোটা জুড়েই মানুষের বিচারবোধ প্রয়োজন। কোন তথ্য প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে, প্রমাণ নির্ভরযোগ্য কি না এবং কোনো জরুরি বিষয় বাদ পড়েছে কি না—শিক্ষার্থীদের তা নির্ধারণ করতে হবে। কোনো কাজে এআই সহায়তা করতে পারে, কিন্তু শিক্ষার্থীর উপস্থাপিত সিদ্ধান্তের দায় তারই থাকে।
গোপনীয়তা, ন্যায্যতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা
ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা মডিউলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তথ্যের গোপনীয়তা বলতে একজন ব্যক্তির তথ্য কীভাবে সংগ্রহ, ব্যবহার ও শেয়ার করা হয়, তা বোঝায়। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বোঝার মধ্যে ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের সময় কী ব্যক্তিগত তথ্য দিচ্ছে, তা ভেবেচিন্তে দেখাও রয়েছে।
প্রযুক্তি ব্যবহারের সময় মানুষ যেসব ঝুঁকির মুখে পড়ে, তা নিয়েই ডিজিটাল নিরাপত্তার আলোচনা। এনসিইআরটি গোপনীয়তা, ভুল তথ্য ও ন্যায্যতার পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তাকেও রেখেছে; অর্থাৎ দায়িত্বশীল আচরণকে এআই বোঝারই অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
ন্যায্যতা বলতে কোনো সিস্টেম মানুষ ও গোষ্ঠীর সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করছে কি না, তা বিবেচনা করা বোঝায়। এআই সিস্টেম তথ্য নিয়ে কাজ করে, আর সেই তথ্যে সমস্যা থাকলে ফলাফলও প্রভাবিত হতে পারে। ন্যায্যতার বিষয়টি যুক্ত করায় শিক্ষার্থীরা ভাবতে পারে, কোনো উত্তর বা সিদ্ধান্তে কারা উপকৃত হতে পারে এবং কারা অন্যায্য আচরণের শিকার হতে পারে।
এআইয়ের প্রয়োগ ও কম্পিউটেশনাল থিংকিংয়ের পাশাপাশি এই বিষয়গুলোও একই প্রাথমিক কোর্সে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোনো সরঞ্জাম দিয়ে কাজটি সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তার পাশাপাশি সেটি ব্যবহারের পরিণতি কী হতে পারে, তা-ও বিবেচনা করতে বলা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তথ্য সুরক্ষা ও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলা শেখার প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে উঠছে।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর সঙ্গে উদ্যোগটির যোগসূত্র
এনসিইআরটি জানিয়েছে, মডিউলটি জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ২০২০-এর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই যোগসূত্রের কেন্দ্রে রয়েছে প্রয়োজনীয় দক্ষতার বিকাশ এবং পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাকে মানিয়ে নেওয়া; সমালোচনামূলক চিন্তা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধান মডিউলটির ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে।
নীতিগত প্রেক্ষাপট ও মডিউলটির পরিচিতির সময়রেখা হলো:
- ২০২০: জাতীয় শিক্ষানীতি শিক্ষার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করে, এনসিইআরটির মতে মডিউলটি তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ২৩ অক্টোবর, ২০২৬: এনসিইআরটি প্রকাশ্য পোস্টে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য কম্পিউটেশনাল থিংকিং ও এআই মডিউলটি পরিচয় করিয়ে দেয়।
শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিকে বোঝা ও প্রশ্ন করতে শেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে লাগে এমন যুক্তিবোধ গড়ে তোলা। শিক্ষকদের জন্য নকশাটি শ্রেণিকক্ষে থাকা সরঞ্জাম অনুযায়ী পাঠদানের সুযোগ রাখে।
মডিউলটি এআই, সমস্যা সমাধান ও দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে দেয়। এর শিক্ষাগত লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের জ্ঞানী ও আত্মবিশ্বাসী ব্যবহারকারী হিসেবে গড়ে তোলা, যারা নিজেদের বিচারবোধ, সৃজনশীলতা এবং কাজের জন্য দায়িত্ববোধ ধরে রাখবে।
মূল বিষয়গুলো
- নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য কম্পিউটেশনাল থিংকিং ও এআইয়ের একটি প্রাথমিক মডিউল তৈরি করেছে এনসিইআরটি।
- এনসিইআরটির ওয়েবসাইটে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি রয়েছে এবং PDF ও ফ্লিপবুক সংস্করণে মডিউলের লিংক দেওয়া হয়েছে।
- অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের এআই বা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে পূর্বজ্ঞান প্রয়োজন নেই।
- কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে আলোচনা, ব্যবহারিক অনুশীলন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা; ডিজিটাল ডিভাইস থাকুক বা না থাকুক, এগুলো করা যাবে।
- প্রস্তাবিত পাঠদান পরিকল্পনা ২০ ঘণ্টার; এতে ডিভাইসভিত্তিক, শেয়ার করা স্ক্রিনে এবং আনপ্লাগড পদ্ধতি রয়েছে।
- সিবিএসই-সংশ্লিষ্ট স্কুলে নবম শ্রেণি থেকে এনসিইআরটির পাঠ্যবই ও মডিউল বাধ্যতামূলক; এই মডিউলটির জন্য আলাদা করে বাধ্যতামূলক করার কোনো নির্দেশনা বা বাস্তবায়নের তারিখ দেওয়া হয়েছে কি না, উপলভ্য তথ্যে তা উল্লেখ নেই।
- শিক্ষার্থীদের একটি "কৌতূহল নোটবুক" পোর্টফোলিও রাখতে বলা হয়েছে; আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা কী হবে, উপলভ্য তথ্যে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।
- পাঠ্যবস্তুতে রয়েছে এআইয়ের প্রয়োগ ও সীমাবদ্ধতা, তথ্যের গোপনীয়তা, ন্যায্যতা, ভুল তথ্য এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা।
- এআইয়ের তৈরি তথ্য, তারিখ ও পরিসংখ্যান নির্ভরযোগ্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে শিখবে শিক্ষার্থীরা।
- এনসিইআরটি উদ্যোগটিকে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং শেখার কেন্দ্রে রেখেছে মানুষের বিচারবোধ, সৃজনশীলতা ও নৈতিক দায়িত্বকে।






