দশ গুণ পার্থক্য নির্দেশ করে স্ফটিকটির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের দিকে
একই নিরোধক পদার্থের পাঁচটি স্ফটিক দৈর্ঘ্য বরাবর সমান দক্ষতায় তাপ পরিবহন করলেও, চৌম্বক ক্ষেত্রে তাদের পার্শ্বীয় প্রতিক্রিয়ায় প্রায় দশ গুণ পার্থক্য দেখা গেছে। ২০০৫ সাল থেকে চলে আসা পদার্থবিজ্ঞানের একটি ধাঁধা—বৈদ্যুতিকভাবে নিরপেক্ষ কম্পনের মাধ্যমে পরিবাহিত তাপ চৌম্বক ক্ষেত্রে কেন দিক বদলায়—তা বোঝার উপায় দিচ্ছে স্তরবিশিষ্ট চৌম্বক স্ফটিক NiPS3 নিয়ে গবেষণার এই প্রধান ফলাফল।
সূচিপত্র
- দশ গুণ পার্থক্য নির্দেশ করে স্ফটিকটির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের দিকে
- বৈদ্যুতিক চার্জ ছাড়াই তাপ কীভাবে দিক বদলায়?
- শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিমাপে যা দেখা গেল
- পাঁচটি নমুনার তুলনা কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল
- সংকেতের সঙ্গে যে চৌম্বক দিকটির মিল ছিল
- কম্পন কীভাবে চৌম্বক প্রতিক্রিয়া ধার নিতে পারে
- আগের সূত্র দিয়েছিল ব্ল্যাক ফসফরাস
- অন্য একটি স্ফটিক গরম করে বিশৃঙ্খলা ও উৎসকে আলাদা করা হলো
- ২০০৫ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বিস্তৃত গবেষণা
- মূল বিষয়গুলো
এই গবেষণায় চীনের উহানে অবস্থিত হুয়াজং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ন্যাশনাল পালসড হাই ম্যাগনেটিক ফিল্ড সায়েন্স সেন্টার এবং ফ্রান্সের ESPCI Paris-এর গবেষকেরা একসঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁদের পরিমাপে তাপের পার্শ্বীয় প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে স্ফটিকের চৌম্বক বৈশিষ্ট্যের যোগসূত্র পাওয়া গেছে, তাপবাহক কণাগুলো সংঘর্ষের আগে কত দূর যায় তার সঙ্গে নয়।
গবেষকদের ব্যাখ্যায়, এই যোগসূত্র একটি অন্তর্নিহিত প্রক্রিয়ার প্রমাণ; অর্থাৎ, পদার্থটির নিজস্ব চৌম্বক ও কম্পনগত আচরণের পারস্পরিক সংযোগ থেকেই এর উৎপত্তি। এই ফল বিজ্ঞানীদের এমন একটি পরীক্ষামূলক উপায় দেয়, যার সাহায্যে এই ব্যাখ্যাকে সেইসব প্রক্রিয়া থেকে আলাদা করা যায়, যেখানে অপদ্রব্য বা অন্য বিচ্ছুরণকেন্দ্র পার্শ্বীয় প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
NiPS3 নিয়ে গবেষণাপত্রটির arXiv-এ দ্বিতীয় সংস্করণের তারিখ ১ অক্টোবর ২০২৪। এতে ২৫ কেলভিন তাপমাত্রায় এবং ১৪ টেসলা চৌম্বক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পার্শ্বীয় তাপ পরিবাহিতা প্রতি মিটার প্রতি কেলভিনে প্রায় -১.৬৩ ওয়াট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাপমাত্রাটি প্রায় মাইনাস ২৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরীক্ষায় ব্যবহৃত পরিমাপ-পদ্ধতি অনুযায়ী পার্শ্বীয় প্রতিক্রিয়ার দিক বোঝায় ঋণাত্মক চিহ্নটি।
২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর বেইজিং সময়, অর্থাৎ স্থানীয় সময় ২২ অক্টোবর, সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশনার সঙ্গে গবেষণাটির ঘোষণা দেওয়া হয় এবং একে প্রচ্ছদ-প্রবন্ধ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তবে এর বিস্তারিত পরীক্ষামূলক যুক্তি ২০২৪ সালের পাণ্ডুলিপিতেই ছিল।
বৈদ্যুতিক চার্জ ছাড়াই তাপ কীভাবে দিক বদলায়?
সাধারণ বৈদ্যুতিক হল প্রভাবে চৌম্বক ক্ষেত্র চলমান বৈদ্যুতিক চার্জকে পাশের দিকে ঠেলে দেয়। পরিবাহকের এক পাশে চার্জ জমে, ফলে মূল তড়িৎ প্রবাহের লম্বভাবে একটি ভোল্টেজ তৈরি হয়।
NiPS3 একটি বৈদ্যুতিক নিরোধক। এতে তাপ মূলত স্ফটিক জালের কম্পনের মাধ্যমে চলে; স্ফটিক জাল হলো পরমাণুর সুশৃঙ্খল বিন্যাস। পদার্থবিজ্ঞানীরা এই কম্পনের প্যাকেটকে ফোনন বলেন, যেমন আলোর প্যাকেটকে বলেন ফোটন।
ফোনন শক্তি বহন করে, কিন্তু নিট বৈদ্যুতিক চার্জ বহন করে না। তাই ইলেকট্রনের গতিপথ বাঁকিয়ে দেওয়া প্রচলিত চৌম্বক বল ফোননের ক্ষেত্রে কাজ করে না। তবু কোনো নিরোধক স্ফটিকের মধ্য দিয়ে তাপ প্রবাহিত হওয়ার সময় সেই প্রবাহের লম্বভাবে চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করলে স্ফটিকটির দুই পাশে তাপমাত্রার পার্থক্য দেখা দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা একে ফোনন তাপীয় হল প্রভাব বলেন।
২০০৫ সালে এ প্রভাবের প্রথম পরীক্ষামূলক প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর থেকে মূল বিতর্কের বিষয় হলো এর প্রক্রিয়া: পার্শ্বীয় প্রতিক্রিয়া স্ফটিকের সামগ্রিক আচরণ থেকে আসে, নাকি অপদ্রব্য, ত্রুটি বা অন্য প্রতিবন্ধকের মুখে ফোননের অসম বিচ্ছুরণ থেকে তৈরি হয়। দুটিই পরিমাপ করা সংকেতের সম্ভাব্য ভৌত ব্যাখ্যা, তবে এর উৎস হিসেবে তারা ভিন্ন প্রক্রিয়াকে চিহ্নিত করে।
শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিমাপে যা দেখা গেল
NiPS3-তে নিকেল, ফসফরাস ও সালফার রয়েছে। এর নিকেল পরমাণুগুলো মৌচাকের মতো স্তর তৈরি করে। ১৫৫ কেলভিনের নিচে, অর্থাৎ প্রায় মাইনাস ১১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, তাদের চৌম্বক ভ্রামকগুলো জিগজ্যাগ অ্যান্টিফেরোম্যাগনেটিক বিন্যাস গড়ে তোলে। অ্যান্টিফেরোম্যাগনেটিজমে চৌম্বক ভ্রামকগুলো একই দিকে না থেকে পরস্পরবিরোধী বিন্যাসে সাজে।
দলটি রাসায়নিক বাষ্প পরিবহন পদ্ধতিতে একক স্ফটিক তৈরি করে। একটি হিটার ও তিনটি থার্মোকাপল দিয়ে একই সঙ্গে স্ফটিকের দৈর্ঘ্য বরাবর এবং আড়াআড়ি তাপ প্রবাহ মাপে। এতে গবেষকেরা মূল তাপ প্রবাহের সঙ্গে ছোট পার্শ্বীয় তাপমাত্রা-প্রতিক্রিয়ার তুলনা করতে পারেন।
স্পন্দিত চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে ৪.২ কেলভিনে চুম্বকায়ন ৫৫ টেসলা পর্যন্ত মাপা হয়। এই পরিসরে কোনো চৌম্বকীয় দশা পরিবর্তন দেখা যায়নি। পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত তাপীয় হল পরিমাপ ১৪ টেসলা পর্যন্ত করা হয়। সেখানে প্রয়োগ করা ক্ষেত্রের সঙ্গে পার্শ্বীয় প্রতিক্রিয়া রৈখিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
প্রধান তাপ পরিবাহিতা সর্বোচ্চ প্রতি মিটার প্রতি কেলভিনে ২৭৪ ওয়াটে পৌঁছায়। শূন্য ক্ষেত্র ও ১৪ টেসলায় এর তাপমাত্রানির্ভরতা প্রায় অভিন্ন ছিল এবং পার্শ্বীয় পরিবাহিতার মতো একই তাপমাত্রায় এটি সর্বোচ্চ হয়। গবেষকদের মতে, তাপের প্রধান বাহক ফোনন; মূল তাপ প্রবাহে চৌম্বক উত্তেজনার অবদান সামান্য।
পাঁচটি নমুনার তুলনা কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল
NiPS3-এর পাঁচটি স্ফটিক তুলনার জন্য উপযোগী ছিল, কারণ সেগুলোর সাধারণ তাপ পরিবহন কার্যত অপরিবর্তিত ছিল। দৈর্ঘ্য বরাবর পরিবাহিতার রেখাচিত্রগুলো একটির ওপর আরেকটি মিলে যায়, আর তাদের তাপধারণ ক্ষমতাও প্রায় একই ছিল।
ফলে নমুনাগুলোর মধ্যে ফোননের গড় মুক্তপথ—বিচ্ছুরিত হওয়ার আগে একটি কম্পন গড়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে—মূলত একই ছিল। সহজ করে বললে, পাঁচটি সড়কে যানবাহন বাধার মুখে পড়ার আগে সমান দূরত্ব যেতে পারে।
কিন্তু পার্শ্বীয় প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারেই ভিন্ন। সামনের দিকে তাপ পরিবহনের ক্ষমতা প্রায় একই থাকা সত্ত্বেও, এক স্ফটিকে এর সর্বোচ্চ মান অন্যটির তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি ছিল। সাধারণ তাপ পরিবহন প্রায় অপরিবর্তিত রেখে চৌম্বক আচরণের তুলনা করার সুযোগ দেয় এ বিষয়টি।
বেশ কয়েকটি প্রস্তাবিত বিচ্ছুরণ প্রক্রিয়া অনুযায়ী, ফোননের গড় মুক্তপথ বাড়লে পার্শ্বীয় প্রতিক্রিয়াও বাড়ার কথা। গবেষণাপত্রে আলোচিত একটি মডেলে দৈর্ঘ্য বরাবর পরিবাহিতা ওই দূরত্বের সমানুপাতিক, আর আড়াআড়ি পরিবাহিতা তার বর্গের সমানুপাতিক। কিন্তু NiPS3 পরীক্ষায় গড় মুক্তপথ কার্যত অপরিবর্তিত থাকলেও আড়াআড়ি পরিবাহিতায় বড় পরিবর্তন দেখা গেছে।
NiPS3-তে তাপ পরিবহন নিয়ে গবেষণাকারী লেখকেরা প্রবন্ধের সারাংশে তাঁদের সিদ্ধান্ত এভাবে তুলে ধরেছেন:
তাপগতীয় একটি ধর্মের প্রাসঙ্গিকতা এবং গড় মুক্তপথের অপ্রাসঙ্গিকতা—দুটিই অন্তর্নিহিত উৎসের দিকে ইঙ্গিত করে।
সংকেতের সঙ্গে যে চৌম্বক দিকটির মিল ছিল
পার্শ্বীয় পরিবাহিতা স্ফটিকগুলোর চৌম্বক অ্যানিসোট্রপি অনুসরণ করেছে; অর্থাৎ, দিকভেদে তাদের চৌম্বক প্রতিক্রিয়া ভিন্ন ছিল। a-দিক বরাবর চুম্বকায়ন পাঁচটি নমুনায় প্রায় অভিন্ন। b-দিক বরাবর তা সবচেয়ে বেশি ও সবচেয়ে কম অ্যানিসোট্রপিক নমুনার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ ভিন্ন ছিল।
স্ফটিকের টুইনিং এই পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে। টুইনযুক্ত স্ফটিকে এমন অঞ্চল থাকে, যেগুলোর জাল একে অপরের তুলনায় ঘোরানো। এই পদার্থে অঞ্চলগুলো একটি অভিন্ন অক্ষ ভাগ করে নিতে পারে, তবে একে অপরের তুলনায় ১২০ ডিগ্রি ঘোরানো থাকে। অঞ্চলগুলোর ভিন্ন অনুপাত নির্দিষ্ট একটি দিকে মাপা চৌম্বক প্রতিক্রিয়া বদলে দেয়।
যে নমুনাটিতে স্ফটিকের একটি অভিমুখের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি ছিল, সেটিতেই তাপীয় হল প্রতিক্রিয়া ছিল সবচেয়ে বড়। তিনটি সম্ভাব্য অভিমুখের প্রায় সমান অনুপাত থাকা নমুনায় প্রতিক্রিয়াটি ছিল সবচেয়ে ছোট। তাই সামনের দিকে তাপ পরিবহন একই থাকলেও চৌম্বক ও স্ফটিকের বিন্যাস গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
টর্ক পরিমাপও আরেকটি যাচাইয়ের সুযোগ দেয়। ক্ষেত্রের দিক ঘোরালে চৌম্বক মুক্তশক্তি কীভাবে বদলায়, তা এতে অনুসরণ করা হয়। নির্দিষ্ট অবস্থায় কোনো সিস্টেমের জন্য যে শক্তি কাজের উপযোগী থাকে, তাকে মুক্তশক্তি বলে; এখানে এর দিকনির্ভর পরিবর্তন মাপে স্ফটিক নির্দিষ্ট চৌম্বক অভিমুখকে কতটা পছন্দ করে। সাম্যাবস্থার এই ধর্ম পার্শ্বীয় তাপ সংকেতের সঙ্গে মিলে যায়, যা গবেষণাটির তাপগতীয় যুক্তির ভিত্তি।
কম্পন কীভাবে চৌম্বক প্রতিক্রিয়া ধার নিতে পারে
প্রস্তাবিত আণুবীক্ষণিক ব্যাখ্যায় ম্যাগনন জড়িত, যা চৌম্বক ভ্রামকের বিন্যাসে সমষ্টিগত তরঙ্গ। ফোনন দিয়ে পরমাণুর কম্পন বোঝানো হয়, আর ম্যাগনন দিয়ে চৌম্বক গতি। এ দুই ধরনের গতির সংযোগে তারা একে অপরকে প্রভাবিত করতে পারে।
গবেষকেরা গণনা করা ফোনন বর্ণালির সঙ্গে নিউট্রন বিচ্ছুরণ পরিমাপ থেকে পাওয়া ম্যাগনন বর্ণালির তুলনা করেছেন। স্ফটিকের মধ্য দিয়ে চলা তরঙ্গের সম্ভাব্য শক্তি দেখায় এই বর্ণালিগুলো। ফোনন ও ম্যাগননের কয়েকটি শাখা একে অপরকে ছেদ করে; শনাক্ত করা সর্বনিম্ন ছেদটি প্রায় ৩.৭ মিলিইলেকট্রনভোল্টে।
এমন ছেদস্থলে পারস্পরিক সংযোগের ফলে দুটি মিশ্র মোড তৈরি হতে পারে, যাতে কম্পন ও চৌম্বক—দুই ধরনের গতিই থাকে। চৌম্বক উপাদানটি মিশ্র উত্তেজনাকে ক্ষেত্রের প্রতি সাড়া দেওয়ার পথ করে দেয়, আর কম্পনগত উপাদানটি তাপ বহন করে।
ছেদগুলো স্ফটিকের b-অক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রেসিপ্রোকাল স্পেসের দিকে ঘটে। ফলে প্রস্তাবিত প্রক্রিয়াটি চুম্বকায়ন পরিমাপে গুরুত্বপূর্ণ দিকটির সঙ্গে যুক্ত হয়। হল প্রতিক্রিয়ার তাপমাত্রানির্ভরতা থেকে লেখকেরা প্রায় ১ মিলিইলেকট্রনভোল্ট শক্তিমাত্রাও নির্ণয় করেছেন। ম্যাগনন ও ফোননের সংকরায়ণের পক্ষে তাঁরা এই যোগসূত্রগুলোকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন; তবে বিস্তারিত আণুবীক্ষণিক প্রক্রিয়া আরও যাচাইয়ের বিষয়।
আগের সূত্র দিয়েছিল ব্ল্যাক ফসফরাস
এ-সম্পর্কিত একটি ফল ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নেচার কমিউনিকেশন্সে প্রকাশিত হয়। ব্ল্যাক ফসফরাস নিয়ে গবেষণায় চৌম্বকীয় বিন্যাসহীন একটি মৌলিক পদার্থ পরীক্ষা করা হয়, যাতে ফোনন তাপীয় হল প্রভাবের তুলনামূলক সরল পরিবেশ অনুসন্ধান করা যায়।
NiPS3-এর মতোই এতে দৈর্ঘ্য বরাবর ও আড়াআড়ি পরিবাহিতা প্রায় একই তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ হয়। ১২ টেসলায় দুটি বিন্যাসে পরিমাপ করা তাপীয় হল কোণ ছিল যথাক্রমে প্রায় ০.০০৫ ও ০.০০১২; অর্থাৎ ০.৫ শতাংশ ও ০.১২ শতাংশ। প্রধান তাপমাত্রা-ঢালের তুলনায় পার্শ্বীয় তাপমাত্রা-ঢাল কত, তা প্রকাশ করে এই কোণ।
ওই গবেষণাপত্রে তুলনা করা নিরোধক পদার্থগুলোর মধ্যে হল প্রতিক্রিয়া থেকে গণনা করা একটি বৈশিষ্ট্যসূচক দৈর্ঘ্য প্রায় ২ থেকে ৭ অ্যাংস্ট্রমের মধ্যে ছিল, যা পরমাণুগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্বের কাছাকাছি। এদিকে ফোননের গড় মুক্তপথে পার্থক্য ছিল তিন মাত্রারও বেশি, অর্থাৎ ১,০০০ গুণের বেশি।
ব্ল্যাক ফসফরাসের গবেষকেরা প্রস্তাব করেন, শব্দগত কম্পন শাখার সঙ্গে বন্ধনের চারপাশে বৈদ্যুতিক চার্জের অসম বণ্টনের সংযোগ চৌম্বক প্রতিক্রিয়া জোগাতে পারে। তাঁরা সম্ভাব্য ব্যাখ্যার মধ্যে বিচ্ছুরণকেও রেখেছেন। NiPS3 ভিন্ন একটি পরীক্ষামূলক উপায় যোগ করেছে: এমন পাঁচটি নমুনা, যাদের সামনের দিকে তাপ পরিবহন প্রায় অভিন্ন, কিন্তু চৌম্বক ও আড়াআড়ি প্রতিক্রিয়ায় বড় পার্থক্য রয়েছে।
অন্য একটি স্ফটিক গরম করে বিশৃঙ্খলা ও উৎসকে আলাদা করা হলো
আরেকটি গবেষণায়, ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ npj Quantum Materials-এ প্রকাশিত, বিভিন্ন সরবরাহকারীর কাছ থেকে পাওয়া স্ট্রনশিয়াম টাইটানেটের চারটি স্ফটিক পরীক্ষা করা হয়। বিশৃঙ্খলা ও অ্যানিলিং নিয়ে গবেষণাটিতে ছিলেন জিয়াওকাং লি, কামরান বেহনিয়া ও জেংওয়েই ঝু, যাঁরা NiPS3 গবেষণাতেও অংশ নিয়েছিলেন।
তুলনামূলক উন্নত মানের স্ট্রনশিয়াম টাইটানেট নমুনায় ৯ টেসলায় তাপীয় হল কোণ ০.৩ শতাংশ ও ০.১৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। বেশি বিশৃঙ্খল স্ফটিকে প্রায় কোনো সংকেতই পাওয়া যায়নি। বিশৃঙ্খল স্ফটিকগুলোকে বাতাসে ১,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গরম করার পর প্রতিক্রিয়া আংশিক ফিরে আসে; ৯ টেসলায় তা প্রায় ০.১ শতাংশে পৌঁছায়, অথচ দৈর্ঘ্য বরাবর তাপ পরিবাহিতায় সামান্যই পরিবর্তন হয়।
অ্যানিলিং—নিয়ন্ত্রিতভাবে গরম করার পর ঠান্ডা করা—অভ্যন্তরীণ পীড়নকে আরও সমান করতে পারে। লেখকেরা বিশৃঙ্খলা ও অসম পীড়নকে এমন কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা অন্তর্নিহিত প্রতিক্রিয়াকে দুর্বল করে। তাঁদের ফল দেখায়, ত্রুটি হল প্রভাবের প্রস্তাবিত উৎস না হলেও এর উপস্থিতি কেন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
দলটি একই নমুনায় ধাতব সিলভার পেস্টের সংযোগ এবং নিরোধক গ্রিজের সংযোগের তুলনাও করে; দুই ক্ষেত্রেই পরিমাপ ছিল অভিন্ন। ১০ টেসলায় ০.০২ শতাংশের নিচে কোণের মতো অতি ক্ষুদ্র সংকেত মাপার পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংযোগের সম্ভাব্য অবদান আরও যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
২০০৫ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বিস্তৃত গবেষণা
NiPS3 গবেষণায় নেতৃত্ব দেন উহান ও প্যারিসের গবেষকেরা। ন্যাশনাল পালসড হাই ম্যাগনেটিক ফিল্ড সায়েন্স সেন্টারের পরিচালক লিয়াং লি, জেংওয়েই ঝু এবং ESPCI Paris-এর পদার্থবিজ্ঞানী কামরান বেহনিয়ার সঙ্গে কাজ করেন। ডক্টরাল শিক্ষার্থী ছিংকাই মেং ও সহযোগী গবেষক জিয়াওকাং লি যৌথভাবে প্রথম লেখক ছিলেন।
তারিখসহ কয়েকটি ধাপ দেখায় কীভাবে পরীক্ষামূলক যুক্তিটি বিকশিত হয়েছে:
- ২০০৫: গবেষকেরা নিরোধক স্ফটিকে ফোনন হল প্রভাবের প্রথম পরীক্ষামূলক প্রমাণ প্রকাশ করেন।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩: ব্ল্যাক ফসফরাস নিয়ে গবেষণায় এ প্রভাবের সঙ্গে শব্দগত কম্পনের যোগসূত্র পাওয়া যায় এবং ফোননের গড় মুক্তপথের সঙ্গে এর সম্পর্ক না থাকার বিষয়টি চিহ্নিত হয়।
- ১ অক্টোবর ২০২৪: NiPS3 পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় সংস্করণ arXiv-এ প্রকাশিত হয়।
- ২৪ মার্চ ২০২৬: স্ট্রনশিয়াম টাইটানেট গবেষণায় বিশৃঙ্খলা, অ্যানিলিং ও সংযোগ উপাদানের প্রভাব নথিভুক্ত হয়।
- ২৩ অক্টোবর ২০২৬, বেইজিং সময়: সায়েন্সে অনলাইনে প্রকাশনার সঙ্গে NiPS3 গবেষণাটির ঘোষণা দেওয়া হয়।
সম্মিলিতভাবে, এই পরীক্ষাগুলো তাপের পার্শ্বীয় পরিবহন নিয়ন্ত্রণে চৌম্বক অভিমুখ, সংযুক্ত কম্পন ও অভ্যন্তরীণ পীড়নের দিকে নজর সরায়। প্রভাবটি পুনরায় দেখানোর চেষ্টা করা গবেষণাগারগুলোর জন্য স্ফটিক সামনের দিকে কত ভালো তাপ পরিবহন করে, তা মাপাই পুরো কাজ নয়। এর চৌম্বক ও কাঠামোগত বিন্যাসও ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
মূল বিষয়গুলো
- NiPS3-এর পাঁচটি স্ফটিকে পার্শ্বীয় তাপ পরিবাহিতায় প্রায় দশ গুণ পার্থক্য দেখা গেলেও, দৈর্ঘ্য বরাবর তাপ পরিবহন কার্যত অপরিবর্তিত ছিল।
- হল প্রতিক্রিয়া চৌম্বক অ্যানিসোট্রপি ও দিকনির্ভর চৌম্বক মুক্তশক্তির সঙ্গে মিলে গেছে, যা অন্তর্নিহিত উৎসের পক্ষে প্রমাণ দেয়।
- তাপীয় হল পরিবাহিতা ২৫ কেলভিনে এবং ১৪ টেসলায় প্রতি মিটার প্রতি কেলভিনে প্রায় -১.৬৩ ওয়াটে সর্বোচ্চ হয়।
- প্রায় ৩.৭ মিলিইলেকট্রনভোল্টে ম্যাগনন ও ফোননের ছেদ তাপবাহী কম্পনের চৌম্বক ক্ষেত্রে সাড়া দেওয়ার একটি সম্ভাব্য পথ দেখায়।
- ব্ল্যাক ফসফরাস ও স্ট্রনশিয়াম টাইটানেটের পরীক্ষাও ফোননের অতিক্রান্ত দূরত্বের বাইরের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এ প্রতিক্রিয়ার যোগসূত্র দেখায়; এর মধ্যে রয়েছে কম্পনের পারস্পরিক সংযোগ, বিশৃঙ্খলা ও পীড়ন।






