সফটওয়্যার এখনো তাল মেলাতে পারেনি, অথচ দাম প্রিমিয়াম
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাবে, যার দাম শুরু ১,৯৯৯ ডলার থেকে। তবে বড় পর্দার জন্য বিশেষভাবে তৈরি লেআউটের অপেক্ষায় রয়েছে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ও আউটলুক। অ্যাপল জানিয়েছে, ৫০টির বেশি অ্যাপ ও গেম প্রস্তুত হয়েছে বা শিগগিরই আসছে। তবে প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, জিমেইল, গুগল ম্যাপস, উবার ও কিন্ডলের মতো পরিচিত সেবাগুলো এখনো প্রচলিত ফোনের জন্য তৈরি লেআউট ব্যবহার করছে।
সূচিপত্র
- সফটওয়্যার এখনো তাল মেলাতে পারেনি, অথচ দাম প্রিমিয়াম
- কেন কিছু অ্যাপ পুরো পর্দাজুড়ে চলে, অন্যগুলো চলে না
- প্রস্তুতির সময় কম, জমা দেওয়ার তারিখেও অমিল
- নেটফ্লিক্স, প্রাইম ভিডিও ও এমএলবি কাজে লাগাচ্ছে ভাঁজের সুবিধা
- ফোনের পরে আসছে ওয়ার্ড ও আউটলুক
- একসঙ্গে দুটি অ্যাপ, তবে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে
- এশীয় সেবায় উদ্বোধনী তালিকা আরও বিস্তৃত
- সৃজনশীল অ্যাপ ও গেমের সময়সূচি আলাদা
- অ্যাপলের টুল ও ব্যাজ ক্রেতাদের কী জানায়
- কেনার সিদ্ধান্ত শুধু ভবিষ্যৎ আপডেটের ওপর নির্ভর করে না
- মূল বিষয়গুলো
আইফোন ডুয়ো বন্ধ অবস্থায় ৫.৪ ইঞ্চির বাইরের পর্দা থেকে খুলে ৭.৬ ইঞ্চির ভেতরের পর্দায় রূপ নেয়। অ্যাপলের ভাষ্য, ভেতরের পর্দাটি আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের পর্দার চেয়ে ৫০ শতাংশ বড়। এর উপযোগিতা নির্ভর করছে ডেভেলপাররা এই বাড়তি জায়গা কীভাবে কাজে লাগান তার ওপর: এতে পুরো পর্দাজুড়ে চলচ্চিত্র দেখা যায়, বার্তার পাশে ইনবক্স রাখা যায়, কিংবা দুটি ভিন্ন অ্যাপ একসঙ্গে চালানো যায়।
অ্যাপলের ২২ অক্টোবরের ঘোষণায় নেটফ্লিক্স, প্রাইম ভিডিও, ফ্যান্টাস্টিক্যাল এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সেবার এই নকশার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় বিস্তৃত অ্যাপসম্ভারে অভিজ্ঞতার অসংগতি উঠে এসেছে; কিছু অ্যাপের সরু উইন্ডোর চারপাশে বড় অংশজুড়ে কালো ফাঁকা জায়গা দেখা গেছে।
ক্রেতাদের জন্য বাস্তব প্রশ্নটি নির্দিষ্ট: প্রতিদিন ব্যবহৃত অ্যাপগুলো প্রায় ২,০০০ ডলারের এই ফোনের পর্দা কতটা কাজে লাগায়। যিনি মূলত নেটফ্লিক্স দেখেন এবং বিয়ারে লেখালেখি করেন, তাঁর অভিজ্ঞতা জিমেইল ও মাইক্রোসফট অফিসনির্ভর কারও থেকে আলাদা হতে পারে।
কেন কিছু অ্যাপ পুরো পর্দাজুড়ে চলে, অন্যগুলো চলে না
অ্যাপল জানিয়েছে, দুই পর্দার অনুপাত একই, অর্থাৎ প্রস্থ ও উচ্চতার সম্পর্ক এক। এতে ফোন খুললে অ্যাপ আনুপাতিকভাবে বড় হয় এবং ব্যবহারকারীরা দুই পর্দায় একই কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।
তবে বোতাম, মেনু ও কনটেন্ট কোথায় থাকবে, তা ডেভেলপারদেরই ঠিক করতে হয়। প্রচলিত ফোনের ইন্টারফেস শুধু বড় করে দেখানোর চেয়ে ইনবক্সের পাশে ইমেইল সাজানো, বা কোনো নথির পাশে সম্পাদনার নিয়ন্ত্রণ দেখানো বেশি উপযোগী।
বিদ্যমান আইফোন অ্যাপগুলো ডুয়োতে চলতে পারে, তবে সেগুলোর চেহারা নির্ভর করে অ্যাপ তৈরিতে অ্যাপলের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কিটের কোন সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছে তার ওপর। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কিট বা এসডিকে হলো অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে অ্যাপকে কাজ করানোর জন্য ডেভেলপারদের ব্যবহৃত টুল ও উপাদানের সমষ্টি।
প্রাথমিক পরীক্ষায় সহায়তার বিভিন্ন স্তর দেখা গেছে। কিছু অ্যাপ পর্দার মাঝখানে ছোট উইন্ডোজুড়ে ছিল, কিছু বড় হলেও কালো সীমানা রেখেছিল, আর খাপ খাইয়ে নেওয়া অ্যাপগুলো অতিরিক্ত কলাম বা নিয়ন্ত্রণ দেখাতে চওড়া পর্দা ব্যবহার করেছে। পরীক্ষার সময় গুগল ম্যাপস, জিমেইল, কল অব ডিউটি মোবাইল, উবার ও কিন্ডলকে পূর্ণাঙ্গ সহায়তার অপেক্ষায় থাকা অ্যাপগুলোর মধ্যে চিহ্নিত করা হয়। টেলিগ্রাম ও সোর্ড অব কনভ্যালেরিয়ার লেআউট নিয়েও সমালোচনা হয়েছে।
পর্যালোচনার সময়েও আপডেট আসছিল। গুগল সার্চ, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডস-এ পরিবর্তন এসেছে, আর কর্মদিবসের একটি পরীক্ষার ঠিক আগে স্ল্যাকেও সহায়তা যুক্ত হয়েছে। ব্যবহারকারীরা এও দেখতে পারেন যে ফোনটি উল্লম্বের বদলে আড়াআড়ি ধরে ব্যবহার করলে কোনো অ্যাপ ভালো কাজ করছে।
প্রস্তুতির সময় কম, জমা দেওয়ার তারিখেও অমিল
অ্যাপল ৯ সেপ্টেম্বর ডুয়ো ঘোষণা করে; প্রথমবার দোকানে বিক্রির আগে সময় ছিল ৪৪ দিন। উদ্বোধনী অংশীদারত্বের বাইরে থাকা ডেভেলপারদের হাতে বাস্তব ডিভাইস পাওয়ার সুযোগ সাধারণত সীমিত ছিল, ফলে সফটওয়্যার সিমুলেশন প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
ডেভেলপমেন্টের সময়সূচিতে একটি অমিলও রয়েছে। অ্যাপলের ৫ অক্টোবরের ডেভেলপার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সেদিন থেকেই অপ্টিমাইজ করা অ্যাপ জমা দেওয়া যাবে। অন্য একটি প্রতিবেদনে প্রথম জমার অনুমোদিত তারিখ ৮ অক্টোবর বলা হয়েছে। সে হিসাবে ২৩ অক্টোবরের উদ্বোধনের আগে যথাক্রমে ১৮ বা ১৫ দিন সময় ছিল।
প্রধান মাইলফলকগুলো দেখায়, হার্ডওয়্যার ঘোষণার পরপরই সফটওয়্যারের কাজ কত দ্রুত এগিয়েছে:
- ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: অ্যাপল আইফোন ডুয়ো ঘোষণা করে।
- প্রায় এক সপ্তাহ পর: ডুয়ো অ্যাপ তৈরি ও সিমুলেট করার জন্য এক্সকোডে সহায়তা আসে।
- ৫ অক্টোবর: অ্যাপল নির্দেশনা প্রকাশ করে জানায়, ডেভেলপাররা অপ্টিমাইজ করা অ্যাপ জমা দিতে পারবেন।
- ২২ অক্টোবর: অ্যাপল অ্যাপের তালিকা ও ডেভেলপার সহায়তা কর্মসূচির বিস্তারিত জানায়।
- ২৩ অক্টোবর: ৭০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে বিক্রি শুরু।
- ৩০ অক্টোবর: আরও ২৮টি দেশ ও অঞ্চলে প্রাপ্যতা বাড়বে।
এই সময়ের মধ্যে ডেভেলপারদের লেআউট পর্যালোচনা, পরিবর্তন লেখা, বিভিন্ন অবস্থায় পরীক্ষা এবং অ্যাপ স্টোরের উপকরণ প্রস্তুত করতে হয়েছে। সিমুলেটর ব্যবহারকারী দলগুলো ভাঁজ হওয়া পর্দার প্রিভিউ দেখতে পেরেছে; আর বাস্তব ডিভাইসে স্পর্শনিয়ন্ত্রণ, দেখার কোণ এবং এক পর্দা থেকে অন্য পর্দায় যাওয়ার অভিজ্ঞতা যাচাই করা সম্ভব হয়েছে।
নেটফ্লিক্স, প্রাইম ভিডিও ও এমএলবি কাজে লাগাচ্ছে ভাঁজের সুবিধা
নেটফ্লিক্স বাইরের পর্দায় ক্লিপস দেখায়, যা অনুষ্ঠান ও চলচ্চিত্র খুঁজে পাওয়ার জন্য ছোট ভিডিওর ফিড। ফোন খুললে ভিডিও দেখা বড় ভেতরের পর্দায় চলে যায়; ফোন খোলা, বন্ধ বা ঘোরানোর সঙ্গে লেআউটও বদলে যায়।
নেটফ্লিক্সের প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক টম রিচার্ডস নকশাটির উদ্দেশ্য এভাবে বর্ণনা করেছেন:
মানুষ নানা সময়ে নেটফ্লিক্স দেখে, তাই আমরা এমন নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছি, যা তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে।
আংশিক ভাঁজ করা পর্দার দুই অংশে প্রাইম ভিডিও আলাদা কাজ দেয়। ওপরের অংশে ভিডিও চলে, নিচে দেখা যায় অভিনয়শিল্পী ও অতিরিক্ত কনটেন্ট সম্পর্কে এক্স-রে তথ্য। প্যারামাউন্ট+ আরও বেশি প্লেব্যাক নিয়ন্ত্রণ এবং অনুষ্ঠান ও লাইভ চ্যানেল খোঁজার জন্য জায়গা দেয়।
বেসবলের জন্য এমএলবিও একই রকম বিন্যাস ব্যবহার করে: খাড়া রাখা অংশে সরাসরি খেলা দেখা যায়, আর টেবিলে ঠেকানো অংশে থাকে পরিসংখ্যান। এমএলবির মিডিয়া, ব্যবসা উন্নয়ন ও পণ্য বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কেনি গের্শ বলেন, ওয়ার্ল্ড সিরিজের আগেই অ্যাপটি প্রস্তুত করতে তারা অ্যাপলের সঙ্গে কাজ করেছেন।
পিজিএ ট্যুর চওড়া পর্দায় স্কোর, হাইলাইটস ও লিডারবোর্ড দেখায়। এসব উদাহরণ দেখায়, বড় আয়তাকার পর্দায় ভিডিও শুধু টেনে বড় করার বদলে ভাঁজকে সম্পর্কিত কাজগুলোর মধ্যে বিভাজন হিসেবে দেখলে সুবিধা পাওয়া যায়।
ফোনের পরে আসছে ওয়ার্ড ও আউটলুক
অ্যাপলের ভাষায়, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ও আউটলুক আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ডেস্কটপ-মানের অভিজ্ঞতা পাবে। ওয়ার্ডে নথির পাশে ফরম্যাটিং টুল থাকবে, আর আউটলুকে ইনবক্সের পাশে পুরো বার্তা দেখা যাবে। কোনো আপডেটেরই নির্দিষ্ট প্রকাশের তারিখ অ্যাপল জানায়নি।
বিয়ার, থিংস ও নোটওয়াইজ ইতিমধ্যে খাপ খাইয়ে নেওয়া উৎপাদনশীলতা অ্যাপগুলোর মধ্যে রয়েছে। ওমনিফোকাস ও ওমনিআউটলাইনারেও রয়েছে ছোট বাইরের পর্দা ও চওড়া ভেতরের পর্দার জন্য আলাদা লেআউট। ফ্যান্টাস্টিক্যাল ক্যালেন্ডার, কাজ ও মেনু একসঙ্গে দেখায়, যাতে ব্যবহারকারীদের বারবার একটির পর আরেকটিতে যেতে না হয়।
ফ্যান্টাস্টিক্যাল ও কার্ডহপ নির্মাতা ফ্লেক্সিবিটসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল সিমন্স এই সমন্বিত দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন:
ভেতরের পর্দায় ক্যালেন্ডার, কাজ ও মেনু একসঙ্গে দেখা যায়। এতে মনে হয়, ম্যাক ও আইপ্যাডের পূর্ণাঙ্গ ফ্যান্টাস্টিক্যাল অভিজ্ঞতাই পকেটে রয়েছে।
অ্যাপলের বর্ণনা অনুযায়ী, জুমে অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি শেয়ার করা উপকরণ দেখা যায়, স্ল্যাকে কর্মক্ষেত্রের আরও বেশি অংশ প্রকাশ পায়, আর সেলসফোর্সে ড্যাশবোর্ডের আরও তথ্য দেখা যায়। আগের পরীক্ষায়, জুমের ডিভাইসটির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা থাকলেও স্ল্যাকের হালনাগাদ লেআউট পাওয়া গিয়েছিল। উদ্বোধনের আগে অ্যাপগুলোর প্রস্তুতির অবস্থা কত দ্রুত বদলাচ্ছিল, তা থেকে বোঝা যায়।
একসঙ্গে দুটি অ্যাপ, তবে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে
স্প্লিট ভিউতে ডুয়োতে পাশাপাশি দুটি অ্যাপ চালানো যায়, যা আইফোনে এই প্রথম। ব্যবহারকারী ইনবক্সের পাশে ক্যালেন্ডার রাখতে পারেন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট ঠিক করার সময় যোগাযোগের তথ্য দেখতে পারেন, কিংবা ফটোস থেকে কোনো ছবি বার্তায় টেনে নিতে পারেন।
পছন্দের দুটি অ্যাপ জুটি হিসেবে পিন করে রাখা যায়, ফলে পরিচিত বিন্যাস আবার তৈরি করতে কম পরিশ্রম হয়। একটি প্রাথমিক পর্যালোচনায় অবশ্য দেখা গেছে, স্প্লিট ভিউ শুরু করার আগে কোনো অ্যাপ খোলা থাকতে হয়।
কর্মদিবসের একটি পরীক্ষায় আরও উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে: দুটি অ্যাপ সমানভাবে পর্দা ভাগ করে নেয়, কিন্তু কোনোটি বেশি জায়গা পাওয়ার জন্য বিভাজক সরানো যায় না। নকশা অনুযায়ী ৭.৬ ইঞ্চি মাপের পর্দা অর্ধেক ভাগ করলে প্রতিটি অ্যাপের জায়গা সীমিত মনে হতে পারে।
একই পরীক্ষায় বহনযোগ্য কিবোর্ড দিয়ে দীর্ঘ সময় লেখার জন্য বিয়ার ব্যবহার করা হয়। কার্সর পেতে মাউস ও ট্র্যাকপ্যাড ব্যবহারের ক্ষেত্রে অ্যাক্সেসিবিলিটি সেটিংসে অ্যাসিস্টিভটাচ চালু করতে হয়েছে। ডুয়োতে মনোযোগ দিয়ে লেখা ও যোগাযোগের কাজ করা সম্ভব, তবে প্রচলিত ল্যাপটপের বদলে আইওএসের নিয়ম ও সেটিংস মেনেই কাজ করতে হয়।
এশীয় সেবায় উদ্বোধনী তালিকা আরও বিস্তৃত
অ্যাপলের আঞ্চলিক অ্যাপের তালিকায় এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য বৈশ্বিক স্ট্রিমিং ও অফিস সেবার বাইরেও নানা উদাহরণ রয়েছে। চীনে তাওবাও ভেতরের পর্দায় পণ্যের ছবি ও বিবরণ একসঙ্গে দেখায়; জুম করার অঙ্গভঙ্গিতে প্রতি সারিতে দেখা পণ্যের সংখ্যা বদলে যায়।
ডব্লিউপিএস অফিস ভাঁজের বিভিন্ন অবস্থার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণগুলো মানিয়ে নেয়, আর এক্সমাইন্ডে মাইন্ড ম্যাপের পাশে আউটলাইন থাকে। অ্যাম্যাপ সামনে থাকা রাস্তার প্রতিকৃতি দৃশ্য ও চওড়া আড়াআড়ি দৃশ্যের মধ্যে বদলায়। ওয়েইবো ফিড, ভিডিও ও পোস্ট করার সরঞ্জাম মানিয়ে নেয়, আর রেডনোট একই দৃশ্যে ভিডিও চালানো ও মন্তব্য দেখায়। আইকিউআইওয়াইও ব্রাউজিং ও প্লেব্যাকের নিয়ন্ত্রণ মানিয়ে নিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায়, ব্যবহারকারী কোনো নির্দিষ্ট কথোপকথন পড়ার সময় কাকাওটক চ্যাট ও গ্রুপগুলো দৃশ্যমান রাখে। ওয়েবটুন ও নেভার সিরিজ বড় পর্দায় কমিকস ও বই দেখায়, কাকাওপেজ স্প্লিট ভিউ দিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা দেয়, আর ব্যান্ডে কমিউনিটির পোস্ট, অনুষ্ঠান ও অ্যালবাম একত্রে দেখা যায়।
ভ্রমণ ও স্থানীয় তথ্য খোঁজার অ্যাপগুলোও ব্যবহারিক সিদ্ধান্তে একই পদ্ধতি কাজে লাগায়। লিফটে বড় রুট ম্যাপের পাশে যাত্রার বিকল্প দেখা যায়, ইয়েল্পে ম্যাপের পাশে পর্যালোচনা থাকে, আর ফোন ঠেস দিয়ে রাখলে ফ্লাইটের অবস্থা দেখার জন্য ফ্লাইটিতে বিশেষ মোড আছে। আমেরিকান এয়ারলাইনস ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনস চওড়া পর্দার জন্য ভ্রমণতথ্য ও নেভিগেশনের বিন্যাস বদলায়।
সৃজনশীল অ্যাপ ও গেমের সময়সূচি আলাদা
ডিটেইল ভিডিওর পাশে তার কথ্য অংশের প্রতিলিপি দেখায়, যাতে নির্মাতারা কথাগুলো পড়তে পড়তে সাক্ষাৎকার ও পডকাস্ট সম্পাদনা করতে পারেন। ডেভেলপারের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাপশন তৈরি ও অপ্রয়োজনীয় শব্দ সরানোর মতো কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল ডিভাইসেই চলে।
ইনস্টাগ্রামে আরও বেশি পোস্ট ও স্টোরিজ দেখা যায়, আর এডিটস ও ভিএলএলও ফুটেজ, টাইমলাইন এবং সম্পাদনার সরঞ্জামকে একই কর্মক্ষেত্রে নিয়ে আসে। তবে প্রাথমিক পরীক্ষায় ইনস্টাগ্রামসহ খাপ খাইয়ে নেওয়া কিছু অ্যাপে ত্রুটি পাওয়া গেছে। তাই নতুন লেআউটের পাশাপাশি ক্রেতারা আরও সংশোধনীও আশা করতে পারেন।
অ্যাপল আর্কেডের স্নিকি সাসকোয়াচ ও রেট্রোকেড ফোল্ডেবল পর্দার জন্য প্রস্তুত করা গেমগুলোর মধ্যে রয়েছে। অ্যাসফাল্ট লেজেন্ডস বড় পর্দা রেসিংয়ে কাজে লাগায়, আর অন্য গেমগুলো পরে আসবে: জেনলেস জোন জিরোর ডুয়ো আপডেট নভেম্বরে আসার কথা, আর আনগডলিরও ওই মাসে উদ্বোধনের সময় নির্ধারিত হয়েছে।
অ্যাপলের দাবি, এ২০ প্রো চিপ ও বিশেষ ভেপার চেম্বারের কারণে দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে আইফোন ১৭ প্রো-এর তুলনায় কর্মক্ষমতা সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ ভালো। ভেপার চেম্বার প্রসেসর থেকে তাপ সরিয়ে নিতে সাহায্য করে। দীর্ঘক্ষণ গেম খেলার মতো কাজে ডিভাইস কতটা গতি ধরে রাখতে পারে, দীর্ঘমেয়াদি কর্মক্ষমতা বলতে সেটিই বোঝায়।
ডোরড্যাশের বড় ডেলিভারি ট্র্যাকিং ম্যাপ ২০২৬ সালের শেষের দিকে আসার কথা। তাই অফিস সফটওয়্যার ও গেমের পাশাপাশি রান্না, কেনাকাটা ও সৃজনশীলতার অ্যাপও এমন এক হালনাগাদ প্রক্রিয়ার অংশ, যা ফোন বিক্রির প্রথম দিনের পরও চলবে।
অ্যাপলের টুল ও ব্যাজ ক্রেতাদের কী জানায়
অ্যাপল জানিয়েছে, ১৯টি শহরে ৫০টির বেশি কর্মশালায় ২,০০০-এর বেশি ডেভেলপার অংশ নিয়েছেন। লন্ডন, মেক্সিকো সিটি, মন্ট্রিল, প্যারিস ও টরন্টোতে আরও কর্মশালা হবে। এর ফলে আরও দল হার্ডওয়্যার ব্যবহারের সুযোগ এবং অ্যাপলের প্রকৌশলী ও ডিজাইনারদের সহায়তা পাবে।
এক্সকোড ২৭.১-এ রয়েছে ডিভাইস হাব, যা ডুয়ো খোলা, বন্ধ, ভাঁজ ও ঘোরানোর অনুকরণ করে। স্ট্যান্ডার্ড সুইফটইউআই ও ইউআইকিট উপাদান স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানিয়ে নিতে পারে; এর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ সরানো এবং কনটেন্টকে কলামে বিস্তৃত করাও রয়েছে। কাস্টম লেআউটে এমন টুল ব্যবহার করা যায়, যা হিঞ্জের কোণ অনুযায়ী সাড়া দেয় বা বোতামগুলোকে ভাঁজের জায়গা থেকে দূরে রাখে।
খাপ খাইয়ে নেওয়া সফটওয়্যার খুঁজে পেতে ক্রেতাদের সহায়তার জন্য অ্যাপল ‘মেড ফর আইফোন ডুয়ো’ ব্যাজ ও অ্যাপ স্টোরে বিশেষ তালিকা চালু করছে। ডেভেলপারদের নির্দেশনা অনুযায়ী, ডুয়োর স্ক্রিনশট জমা দিলে পণ্যের পেজে ব্যাজটি যোগ হবে। ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে জমা দেওয়া অ্যাপ ও গেমে ডুয়োর স্ক্রিনশট থাকা বাধ্যতামূলক হবে।
ক্রেতাদের জন্য, কোনো জরুরি অ্যাপের বর্তমান সংস্করণ যাচাই করা ঘোষিত সহায়তার সামগ্রিক তালিকার ওপর নির্ভর করার চেয়ে বেশি কাজে দেবে। অ্যাপলের তালিকায় ইতিমধ্যে পাওয়া আপডেটের পাশাপাশি পরে আসার কথা থাকা সংস্করণও রয়েছে; আর প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, খাপ খাইয়ে নেওয়া লেআউটেও সংশোধন প্রয়োজন হতে পারে।
কেনার সিদ্ধান্ত শুধু ভবিষ্যৎ আপডেটের ওপর নির্ভর করে না
ডুয়োর স্টোরেজ ২৫৬ জিবি থেকে ২ টেরাবাইট পর্যন্ত। শুরুতে চীন, ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন বাজারে এটি পাওয়া যাবে। প্রি-অর্ডার ছাড়া কিনতে আসা ক্রেতাদের জন্য সীমিত সংখ্যক ফোন থাকার কথা।
কেনার পরে সফটওয়্যার বদলাতে পারে, কিন্তু ফোনটির শারীরিক বৈশিষ্ট্যের বিনিময়গুলো থেকে যায়। প্রাথমিক পর্যালোচনায় ফোনটির ওজন ২৫৪ গ্রাম বলা হয়েছে। এতে টেলিফটো ক্যামেরাও নেই, ফলে জুম করে তোলা ছবিতে আইফোন ১৮ প্রো-এর তুলনায় বিস্তারিত কম পাওয়া যায়।
ব্যাটারি নিয়ে পর্যবেক্ষণ আশাব্যঞ্জক হলেও ব্যবহারের ধরনভেদে ফল আলাদা ছিল। কর্মদিবসের একটি পরীক্ষায় ছয় ঘণ্টা পর্দা ব্যবহারের পর চার্জ ছিল প্রায় ৪৫ শতাংশ; অন্য পর্যালোচনায় বেশির ভাগ দিন ঘুমাতে যাওয়ার সময় ৩৫ বা ৪৬ শতাংশ চার্জ অবশিষ্ট ছিল। এই হিসাবগুলো ভিন্ন ব্যবহারের ধরন তুলে ধরে, কোনো একক প্রতিশ্রুত ব্যাটারি-সময় নয়।
উদ্বোধনের সময় কেনার সবচেয়ে জোরালো কারণ হলো এমন অ্যাপে এখনই বড় পর্দার প্রয়োজন, যেগুলো ইতিমধ্যে সেটি ভালোভাবে কাজে লাগায়। ওয়ার্ড, আউটলুক বা অন্য যেসব অ্যাপের অভিযোজন এখনো অসম্পূর্ণ, সেগুলোর ওপর নির্ভরশীল ক্রেতাদের অ্যাপল যে অভিজ্ঞতার কথা বলছে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। নির্দিষ্ট আপডেটগুলো ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছালে ফোল্ডেবল নকশার অভিজ্ঞতা আরও ধারাবাহিক হবে।
মূল বিষয়গুলো
- আইফোন ডুয়ো ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর বাজারে আসছে; দাম শুরু ১,৯৯৯ ডলার থেকে, আর ভেতরের পর্দা ৭.৬ ইঞ্চি।
- অ্যাপল ৫০টির বেশি অ্যাপ ও গেমের কথা তুলে ধরেছে, যেগুলো খাপ খাইয়ে নেওয়া হয়েছে বা আপডেট পাওয়ার কথা রয়েছে।
- মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ও আউটলুকের আপডেট আগামী কয়েক সপ্তাহে আসার কথা, তবে নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।
- বিদ্যমান আইফোন অ্যাপগুলো চালানো যায়, তবে কিছু অ্যাপে পর্দার বড় অংশ অব্যবহৃত থাকে।
- নেটফ্লিক্স, প্রাইম ভিডিও, এমএলবি ও ফ্যান্টাস্টিক্যাল বড় পর্দা এবং ভাঁজের বিভিন্ন অবস্থার উপযোগী লেআউট দেখায়।
- ৩০ অক্টোবর আরও ২৮টি দেশ ও অঞ্চলে ফোনটির প্রাপ্যতা বাড়বে।
- ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে অ্যাপ স্টোরে জমা দেওয়া অ্যাপে আইফোন ডুয়োর স্ক্রিনশট থাকা বাধ্যতামূলক হবে।






