সংকীর্ণ নৌপথে উন্মোচিত হলো আরও বড় দুর্বলতা
২০২৫ সালে জাপানের অপরিশোধিত তেল আমদানির ৯৪% এবং ন্যাফথা আমদানির ৭৬% এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন এই নির্ভরতার পরিণতি সামনে এনেছে। এতে সরকার সতর্ক করেছে, ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের পর থেকে গড়ে তোলা পদক্ষেপগুলো দিয়ে এখন আর সব জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।
সূচিপত্র
- সংকীর্ণ নৌপথে উন্মোচিত হলো আরও বড় দুর্বলতা
- সংকট কীভাবে কারখানা ও পরিবারে পৌঁছাল
- মজুত সহায়তা দিয়েছে, তবে এশিয়ায় সুরক্ষা ছিল অসম
- মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা আবার কেন বেড়েছে
- হরমুজের বাইরের পথ চালু রাখতে সহায়তা করবে চারটি বিল
- আরও সুরক্ষিত সরবরাহে খরচ বাড়তে পারে
- পারমাণবিক শক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ঝুঁকির আরেকটি দিক মোকাবিলা করে
- কয়েক দশকের জ্বালানি সাশ্রয়ে যা অর্জিত হয়েছে
- মূল বিষয়গুলো
প্রণালি দিয়ে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে সরকার ২৩ অক্টোবর একটি জ্বালানি শ্বেতপত্র অনুমোদন করেছে। পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে সরবরাহ এবং বিকল্প পথে কেনাকাটা সরবরাহ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে। তবে শ্বেতপত্রে জাপানের জ্বালানি সংগ্রহ ও ব্যবহারের পদ্ধতি আরও মৌলিকভাবে শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি এখন আরও স্থিতিশীল: শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের মজুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে এবং ন্যাফথা থেকে তৈরি রাসায়নিকের সরবরাহ স্থিতিশীল। তবে দীর্ঘমেয়াদি কাজটি আরও কঠিন। জাপান আরও বেশি সরবরাহকারী, হরমুজ এড়িয়ে চলা নৌপথ, নির্ভরযোগ্য ট্যাংকার বিমা এবং পারমাণবিক শক্তি ও দেশীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আরও বিদ্যুৎ চায়।
দেশটির অন্তর্নিহিত ঝুঁকির চিত্র উঠে এসেছে প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানি সংস্থার ২০২৫ সালের জুনের শ্বেতপত্রে। ২০২৪ অর্থবছর নিয়ে তৈরি ওই নথিতে জাপানের জ্বালানি স্বনির্ভরতার হার ১৫.৩% বলা হয়েছে, যা গ্রুপ অব সেভেনভুক্ত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। এতে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৭০% আসে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে।
২০২৫ সালের জুনে প্রকাশিত নথি এবং ২৩ অক্টোবর অনুমোদিত বলে বর্ণিত শ্বেতপত্রের তারিখ ও অর্থবছরের বিবরণ আলাদা। জুনের নথিটি জাপানের জ্বালানি নির্ভরতার আনুষ্ঠানিক ভিত্তিচিত্র তুলে ধরে; অক্টোবরের বিবরণে হরমুজ সংকট মোকাবিলার পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
সংকট কীভাবে কারখানা ও পরিবারে পৌঁছাল
হরমুজ প্রণালি হলো পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের দিকে যাওয়া জলসীমার সঙ্গে যুক্ত করা সরু সমুদ্রপথ। জাপানের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ ঐতিহ্যগতভাবে উপসাগরের ভেতরে জাহাজে তোলা হয় এবং ওই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যাতে প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক নৌপরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। শ্বেতপত্রে অবাধ নৌচলাচলে চলমান অসুবিধা এবং ন্যাফথাসহ পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিবহনে প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়েছে।
ন্যাফথা হলো পেট্রোলিয়াম থেকে তৈরি হালকা তরল, যা রাসায়নিক উৎপাদনের প্রাথমিক কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব জ্বালানির বাইরেও ছড়াতে পারে—রং, থিনার এবং অন্যান্য শিল্পপণ্যে ব্যবহৃত উপকরণের উৎপাদন ও সরবরাহে। ফলে জাপানের নির্ভরতা একদিকে শোধনাগারে আসা তেল, অন্যদিকে অন্যান্য কারখানার প্রয়োজনীয় উপকরণ—দুই ক্ষেত্রেই বিস্তৃত।
সংকটটি কয়েকটি ধাপে তৈরি হয়েছে:
- ২০২৫ সালে জাপানের অপরিশোধিত তেল আমদানির ৯৪% এবং ন্যাফথা আমদানির ৭৬% এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
- ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর হরমুজ দিয়ে নৌপরিবহনে তীব্র বিঘ্ন ঘটে।
- মার্চ থেকে জাপান ঘাটতি পূরণে পেট্রোলিয়াম মজুত ব্যবহার করে এবং বিকল্প পথে কেনাকাটা বাড়ায়।
- ১৬ মার্চ ২০২৬-এ জাপানের গৃহস্থালি কাগজশিল্প ভোক্তাদের আশ্বস্ত করে যে কাঁচামাল, উৎপাদন ও সরবরাহ সুরক্ষিত রয়েছে।
- ২৩ অক্টোবর সরকার জ্বালানি মোকাবিলার পদক্ষেপ পর্যালোচনা এবং প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান জানানো শ্বেতপত্র অনুমোদন করে।
কিছু পণ্যের প্রকৃত ঘাটতির চেয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগ দ্রুত ছড়িয়েছিল। মার্চে টয়লেট পেপার নিয়ে আতঙ্কের সময় উৎপাদকেরা স্বাভাবিকভাবে কেনাকাটা করার আহ্বান জানান। তাদের কাঁচামালের প্রায় ৬০% আসে জাপানে পুনর্ব্যবহৃত কাগজ থেকে, আর বাকিটা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে আমদানি করা পাল্প। তাৎক্ষণিক উদ্বেগ ছিল, অতিরিক্ত কেনাকাটার হিড়িকে দোকানের তাক খালি হয়ে যেতে পারে।
মজুত সহায়তা দিয়েছে, তবে এশিয়ায় সুরক্ষা ছিল অসম
জাপানের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির অবনতির জবাবে পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রথম দেশ ছিল তারা। মার্চ থেকে মজুত ছাড়া এবং বিকল্প উৎস থেকে সংগ্রহ পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করেছে।
তেলের মজুত হলো সংরক্ষিত সরবরাহ, যা স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হলে ব্যবহার করা যায়। বিকল্প চালান আনার ব্যবস্থা করতে এগুলো সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সময় দেয়। মজুতের কার্যকারিতা নির্ভর করে কতটা তেল জমা আছে, কোথায় রাখা হয়েছে এবং যেসব ব্যবসার তা প্রয়োজন, সেখানে পৌঁছানো সম্ভব কি না—তার ওপর।
শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, জাপানের পদক্ষেপ দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে। এতে এশিয়ার অন্যত্র বিঘ্নের কথাও বলা হয়েছে, যেখানে কিছু দেশের মজুত ছিল সীমিত। একই সময়ে একাধিক আমদানিকারক দেশকে প্রভাবিত করা নৌপরিবহন সংকট বৃহত্তর আঞ্চলিক সরবরাহ নেটওয়ার্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
সরবরাহ নেটওয়ার্ক ও মজুতব্যবস্থা নিয়ে এশীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ করার পরিকল্পনা করেছে জাপান। শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় থাকা দেশগুলো জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এর বাস্তব লক্ষ্য হলো জরুরি মজুত এবং জ্বালানি পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় সংযোগ—দুটিই উন্নত করা। কোনো দেশের তেল পাওয়ার সুযোগ থাকলেও নির্দিষ্ট পরিশোধিত পণ্য সংগ্রহ বা তা সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিতে সমস্যা হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা আবার কেন বেড়েছে
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানের অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের বিকল্প কমেছে। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ এবং এশিয়ার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা আবার বাড়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে শ্বেতপত্র।
উৎপাদনকারী দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলে নিজস্ব জ্বালানি চাহিদা বাড়তে পারে, ফলে রপ্তানির জন্য কম তেল থাকে। সংঘাতও প্রচলিত বাণিজ্যিক সম্পর্ক কঠিন করে তুলতে পারে। জাপানের ক্ষেত্রে এসব চাপ বাস্তবে কাজে লাগানো যায় এমন বিকল্পের পরিসর কমিয়েছে।
নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল এখনো আকর্ষণীয়। ওই অঞ্চলের গ্রেডের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার জন্য জাপানি শোধনাগারগুলো নকশা করা হয়েছে। ভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেলের জন্য ভিন্ন প্রক্রিয়াকরণ দরকার, তাই সরবরাহকারী বদলানো মানে শুধু আরেকজন বিক্রেতা বেছে নেওয়া নয়।
জাপান পেট্রোলিয়াম অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শুনিচি কিতো শিল্পখাতের হিসাবটি এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন:
গুণমান ও ব্যয়—দুই দিক থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেলের উল্লেখযোগ্য সুবিধা রয়েছে।
পরিবহনের সময়ও এই সুবিধা বাড়ায়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জাপানে তেল পৌঁছাতে প্রায় ২০ দিন লাগে, যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির সময়ের অর্ধেকেরও কম। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় জাহাজ ও পণ্য বেশি সময় আটকে থাকে এবং শোধনাগারে সরবরাহ বজায় রাখার খরচ বাড়তে পারে।
হরমুজ এড়িয়ে যাওয়া পাইপলাইন ও অন্যান্য পথ ব্যবহার করে জাপান এখনো তার অপরিশোধিত তেল আমদানির মোটামুটি ৬০% মধ্যপ্রাচ্য থেকে পায়। ২০২৫ সালে নথিভুক্ত ৯৪% অংশের তুলনায় এটি প্রায় ৩৪ শতাংশ পয়েন্ট কম। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে বিকল্প পথে কেনাকাটার বড় অংশই স্থায়ী সরবরাহব্যবস্থার বদলে এককালীন জরুরি ক্রয়।
হরমুজের বাইরের পথ চালু রাখতে সহায়তা করবে চারটি বিল
পরবর্তী জরুরি পরিস্থিতির আগেই বিকল্প তেল পরিবহনপথকে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর করতে জাপানের পার্লামেন্ট ডায়েটের বিশেষ অধিবেশনে চারটি বিল পাস করানোর চেষ্টা করছে সরকার।
প্রস্তাবিত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে হরমুজ এড়িয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের খরচে আংশিক সহায়তা, জাপান অর্গানাইজেশন ফর মেটালস অ্যান্ড এনার্জি সিকিউরিটিকে (জেওজেএমইসি) বিদেশি পাইপলাইনে বিনিয়োগ ও ঋণের নিশ্চয়তা দেওয়ার অনুমতি এবং অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বহনকারী ট্যাংকারের জন্য সরকার-সমর্থিত বিমাব্যবস্থা।
পরিবহন খরচে সহায়তার উদ্দেশ্য হলো বিকল্প পথে খরচ বেশি হলেও স্বাভাবিক বাণিজ্যের সময় কোম্পানিগুলোকে সেসব পথ ব্যবহারে উৎসাহিত করা। নিয়মিত কেনাকাটা চালু রাখলে সংকট দেখা দিলে শোধনাগার ও সরবরাহকারীদের কাজে লাগানোর মতো প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা থাকে।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রকল্পগুলোর জন্য জেওজেএমইসির প্রস্তাবিত পাইপলাইন পরিচালনার ক্ষমতা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হবে। পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রণালির বাইরে অবস্থিত তেল বোঝাইয়ের স্থানে তেল নেওয়া যায়। জরুরি পরিস্থিতিতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে তেল পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতেও জাপানের সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।
পরিবহনের আরেকটি অপরিহার্য দিক হলো বিমা। সম্ভাব্য বড় ক্ষতির বিরুদ্ধে একটি জাহাজের বিমা সুরক্ষা দরকার। আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়লে জাপানগামী ট্যাংকারগুলো যাতে সেই বিমা থেকে বঞ্চিত না হয়, প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
প্রস্তাবগুলোর জন্য এখনো সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন। পরিবহন সহায়তা তহবিলের বিস্তারিত চূড়ান্ত হয়নি এবং ভোটের তারিখও জানানো হয়নি। পাইপলাইন প্রকল্পে সাধারণত কয়েক বছর লাগে, তাই সেগুলো মূলত ভবিষ্যতের বিঘ্ন মোকাবিলার প্রস্তুতিতে কাজে দেবে।
আরও সুরক্ষিত সরবরাহে খরচ বাড়তে পারে
প্রস্তাবিত পরিবহন সহায়তা কর্মসূচির তহবিলে তেলের পাইকারি বিক্রেতা ও শিল্পখাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অবদান থাকবে। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা, বিকল্প চালান এবং নতুন অবকাঠামোর কারণে সংগ্রহের খরচ বাড়তে পারে, যার কিছু অংশ ভোক্তাদের ওপর পড়বে।
সরকার ইতিমধ্যে পেট্রল ও অন্যান্য জ্বালানিতে ভর্তুকি দিচ্ছে। শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, এই ভর্তুকি পেট্রলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে এবং জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তুলনায় দাম ছিল সর্বনিম্ন।
তাই ভোক্তাদের সামনে রয়েছে পরস্পর-সম্পর্কিত দুটি খরচ: জ্বালানির দাম এবং সেই দাম কম রাখতে ব্যবহৃত সরকারি ব্যয়। জ্বালানি ভর্তুকি চালু রেখে সরবরাহ সুরক্ষায় সহায়তা বাড়ালে সরকারি অর্থায়নের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
জ্বালানি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ওয়াকো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কোইচি ইওয়ামা দীর্ঘমেয়াদি খরচের দিকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়ে পরিবহন ও পাইপলাইনে সহায়তার পক্ষে মত দিয়েছেন:
পরিবহন খরচ ও পাইপলাইনে সহায়তা প্রয়োজন, তবে হরমুজ প্রণালি খুলে যাওয়ার পরও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা বিবেচনায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তা বাস্তবায়ন করা উচিত।
ইওয়ামা আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য জাপানের প্রধান সরবরাহকারী থাকবে—এ কথা মেনে নিয়েও দেশটির অপরিশোধিত তেলের উৎস বৈচিত্র্যময় করা দরকার। নীতিনির্ধারকদের সামনে থাকা বাস্তব পছন্দটি তার বক্তব্যে উঠে এসেছে: আরও বিকল্পের জন্য খরচ করা, পাশাপাশি জাপানি শোধনাগারের উপযোগী ও তুলনামূলক দ্রুত পৌঁছায় এমন তেল সরবরাহকারীদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখা।
পারমাণবিক শক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ঝুঁকির আরেকটি দিক মোকাবিলা করে
শ্বেতপত্রে জীবাশ্ম জ্বালানির সরবরাহ শক্তিশালী করার পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তি ও দেশীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এ দুটি পদ্ধতি জাপানের ঝুঁকির ভিন্ন দুটি দিক মোকাবিলা করে: আমদানি করা জ্বালানির প্রবাহ বজায় রাখা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে তার প্রয়োজন কমানো।
২০২৫ সালের জুনের সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, জাপানের বিদ্যুতের প্রায় ৭০% আসে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে সংকট ও দাম বৃদ্ধি জাপানের বাণিজ্য ভারসাম্যে কী প্রভাব ফেলেছে, তাও নথিতে তুলে ধরা হয়েছে।
এলএনজি হলো তরল অবস্থায় জাহাজে পরিবহনের জন্য ঠান্ডা করা প্রাকৃতিক গ্যাস। আমদানি মূল্য বাড়লে জ্বালানি সংগ্রহে জাপানকে বিদেশে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। এর প্রভাব বিদ্যুতের খরচ এবং বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয়ে পড়তে পারে।
দেশীয় নবায়নযোগ্য উৎস ও পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে আরও বিদ্যুৎ উৎপাদন জীবাশ্ম জ্বালানির কিছু চাহিদা কমাবে। তবে রাসায়নিক উৎপাদনের জন্য ন্যাফথার প্রয়োজনও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে; কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা আলাদা।
আঞ্চলিক উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালে ১১টি অংশগ্রহণকারী দেশ নিয়ে শুরু হওয়া এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এর অন্যতম লক্ষ্য। সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং টোকিও ও বেইজিংয়ের অবনতিশীল সম্পর্ক জাপানের বৃহত্তর জ্বালানি নিরাপত্তা প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে।
কয়েক দশকের জ্বালানি সাশ্রয়ে যা অর্জিত হয়েছে
আগের তেল সংকটের পর থেকে জাপান শিল্পক্ষেত্রে জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। জাপান এনার্জি কনজারভেশন সেন্টারের এনার্জি কনজারভেশন হ্যান্ডবুক ২০০৫/২০০৬-এ বলা হয়েছে, উৎপাদন বাড়লেও শিল্পখাতের জ্বালানি ব্যবহার তেল সংকটের সময়কার প্রায় একই মাত্রায় ছিল।
এর অর্থ, জ্বালানি ব্যবহারে সমপরিমাণ বৃদ্ধি ছাড়াই কারখানাগুলো বেশি উৎপাদন করতে পেরেছে। তবে হ্যান্ডবুকে বলা হয়েছে, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৪০% তখনো শিল্পখাতের অংশ, যা খাতটির জ্বালানি ও বিদ্যুতের বিপুল প্রয়োজনের পরিচয় দেয়।
হ্যান্ডবুকে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জাপান বিজনেস ফেডারেশন ১৯৯৭ সালের জুনে কেইদানরেন এনভায়রনমেন্টাল ভলান্টারি অ্যাকশন প্ল্যান চালু করে। স্বেচ্ছামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি আরও দক্ষভাবে ব্যবহারে উৎসাহিত করা ছিল এই পরিকল্পনার লক্ষ্য।
সরকারের নতুন সতর্কবার্তা ওই ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। দক্ষতা বাড়ালে জাপানের সংগ্রহ করতে হয় এমন জ্বালানির পরিমাণ কমে, মজুত সাময়িক সুরক্ষা দেয় এবং বহুমুখী পথ বিকল্প সরবরাহ পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়ায়। হরমুজ সংকট নীতিনির্ধারকদের শোধনাগার ও রাসায়নিক উৎপাদনকারীদের নির্দিষ্ট প্রয়োজনের পাশাপাশি এই তিনটি বিষয়ই মোকাবিলা করতে বাধ্য করেছে।
মজুতের তাৎক্ষণিক পুনরুদ্ধার জাপানকে কিছুটা স্বস্তির সময় দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত কাজ হলো জরুরি কেনাকাটাকে নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থায় রূপ দেওয়া, প্রণালির বাইরে পথ গড়ে তোলা এবং আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ঝুঁকি কমানো—এমনভাবে, যাতে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে সামলানো কঠিন খরচ না বাড়ে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৫ সালে জাপানের অপরিশোধিত তেল আমদানির ৯৪% এবং ন্যাফথা আমদানির ৭৬% এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
- ২৩ অক্টোবরের শ্বেতপত্রে সতর্ক করা হয়েছে, তেল সংকটের পর থেকে গড়ে তোলা পদক্ষেপগুলো দিয়ে নতুন সব জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না।
- মজুত থেকে তেল ছাড়া এবং বিকল্প পথে কেনাকাটা পণ্যের মজুত পুনরুদ্ধার ও রাসায়নিক সরবরাহ স্থিতিশীল করতে সহায়তা করেছে।
- প্রস্তাবিত চারটি বিল বিকল্প পরিবহনপথ, বিদেশি পাইপলাইন এবং ট্যাংকার বিমায় সহায়তা দেবে।
- জাপানের অপরিশোধিত তেল আমদানির মোটামুটি ৬০% এখনো মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, আর বিকল্প পথে কেনাকাটার অনেকটাই সাময়িক।
- সরবরাহ ও মজুত নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তি ও দেশীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে জাপানের।






