প্রোগ্রামিং অ্যাপের মাধ্যমে সুইচ ২-এ প্রবেশের পথ
অনলাইনে pepsipu নামে পরিচিত নিরাপত্তা গবেষক স্যামি হাজহামিদ ফার্মওয়্যার 23.0.1-এ চলা নিনটেন্ডো সুইচ ২-এর একটি সফটওয়্যার এক্সপ্লয়েট দেখিয়েছেন। এর মাধ্যমে কী ধরনের প্রবেশাধিকার পাওয়া যায়, তা বোঝাতে তিনি মারিও কার্ট ওয়ার্ল্ডের পরিবর্তিত রেস ব্যবহার করেন। হার্ডওয়্যার মডচিপ ছাড়াই গেমটিতে সিনামোরল, হাৎসুনে মিকু ও পিটার গ্রিফিনের মতো চরিত্র দেখা যায়।
সূচিপত্র
- প্রোগ্রামিং অ্যাপের মাধ্যমে সুইচ ২-এ প্রবেশের পথ
- মারিও কার্টের প্রদর্শনীতে কী দেখা গেছে
- পুরোনো সুইচ অ্যাপ যেভাবে প্রবেশপথ হলো
- দ্বিতীয় ত্রুটিতে ফাইলসিস্টেম সার্ভিসে প্রবেশ
- Codex সহায়তা করেছে, তবে কাজটিতে লেগেছে দুই সপ্তাহ
- ব্রাউজার ব্যবহারের পথ কেন বাদ পড়ে
- ব্যবহারকারীদের কী লাগবে, আর রিস্টার্টে কী বন্ধ হয়
- নিনটেন্ডোর প্রতিক্রিয়া ও প্রকাশের সময়রেখা
- মূল বিষয়গুলো
ns2jb নামের টুলটি মূল সুইচের একটি প্রোগ্রামিং অ্যাপের দুর্বলতার সঙ্গে কনসোলের ফাইলসিস্টেম সার্ভিসের একটি ত্রুটি কাজে লাগায়। হাজহামিদ বলেন, এর মাধ্যমে একাধিক সিস্টেম সার্ভিসের অনুমতিসহ নেটিভ কোড চালানো যায়। ফলে অনানুষ্ঠানিক অ্যাপ চালানো, গেমে পরিবর্তন আনা এবং কনসোল থেকে সেভ করা গেমের কপি বের করার সুযোগ তৈরি হয়।
এর প্রধান সীমাবদ্ধতা সহজেই বোঝা যায়: কনসোল রিস্টার্ট হলে এই প্রবেশাধিকার আর থাকে না। প্রতিবার রিবুটের পর ব্যবহারকারীদের আবার এক্সপ্লয়েটটি চালু করতে হয়। এটি এখনো স্থায়ী কাস্টম ফার্মওয়্যার দেয় না; কাস্টম ফার্মওয়্যার হলো কনসোলের সিস্টেম সফটওয়্যারের বিকল্প সংস্করণ, যা ইনস্টল অবস্থায় থেকে যায়।
হাজহামিদের প্রযুক্তিগত বিবরণে ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবরের তারিখ রয়েছে, আর তাঁর প্রকাশ্য প্রদর্শনী আসে ২২ অক্টোবর। সে সময় 23.0.1-কে সর্বশেষ ফার্মওয়্যার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। গবেষণায় প্রায় দুই সপ্তাহ লেগেছে বলে জানা গেছে। এতে ডেভেলপারের উল্লেখযোগ্য কাজের পাশাপাশি OpenAI-এর Codex কোডিং টুলও ব্যবহার করা হয়।
প্রদর্শনী নিয়ে প্রকাশিত বিবরণগুলোর সময় পর্যন্ত নিনটেন্ডো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং অ্যাপ SmileBASIC 4 কিছু আঞ্চলিক eShop থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে এক্সপ্লয়েটটি খতিয়ে দেখতে আগ্রহীদের জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার পাওয়াই তাৎক্ষণিক উদ্বেগ হয়ে ওঠে।
মারিও কার্টের প্রদর্শনীতে কী দেখা গেছে
সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো ফল দেখা যায় মারিও কার্ট ওয়ার্ল্ডে: পরিচিত রেসারদের পাশে নিনটেন্ডোর বাইরের চরিত্ররাও হাজির হয়। প্রদর্শনীতে ছিল সিনামোরল, হাৎসুনে মিকু, পিটার গ্রিফিন এবং লাল রঙের অ্যাংরি বার্ড RED। পরিবর্তিত গেমটির বিবরণে মাইনক্রাফটের স্টিভের কথাও এসেছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি ঘটে রেসের আড়ালে। নেটিভ কোড এক্সিকিউশন মানে গেম বা প্রোগ্রামিং অ্যাপের স্বাভাবিক অনুমোদিত কমান্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি কনসোলের প্রসেসরে নির্দেশ চালানো। সেই কোডের সঙ্গে যুক্ত অনুমতিই নির্ধারণ করে, এটি যন্ত্রের কোন অংশে পৌঁছাতে পারবে।
ক্যালটেকের স্নাতক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত নিরাপত্তা গবেষক হাজহামিদ এই প্রবেশাধিকারের সম্ভাব্য ব্যবহারগুলো বর্ণনা করেছেন:
এর মাধ্যমে আমরা হোমব্রু চালাতে, সুইচ ২-এর গেমের রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং ও মোড করতে, সুইচ থেকে সেভ ফাইলের ব্যাকআপ নিতে এবং MMIO-এর মাধ্যমে সুইচ ২-এর বেশির ভাগ পেরিফেরালে প্রবেশ করতে পারি।
হোমব্রু বলতে কনসোল নির্মাতার অনুমোদিত বিতরণব্যবস্থার বাইরে তৈরি অনানুষ্ঠানিক সফটওয়্যার বোঝায়। রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং হলো বিদ্যমান সফটওয়্যার কীভাবে কাজ করে তা পরীক্ষা করা। MMIO বা মেমরি ম্যাপড ইনপুট/আউটপুট হলো নির্দিষ্ট মেমরি ঠিকানার মাধ্যমে হার্ডওয়্যারের সঙ্গে সফটওয়্যারের যোগাযোগের একটি পদ্ধতি।
এই সক্ষমতাগুলো বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো খেলোয়াড় সেভ ফাইলের আলাদা কপি চাইতে পারেন, কোনো মোডার চরিত্র বদলাতে চাইতে পারেন, আবার কোনো গবেষক সিস্টেম সার্ভিস পরীক্ষা করতে চাইতে পারেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমন প্রবেশাধিকার দরকার, যা সাধারণ গেম সাধারণত পায় না।
পুরোনো সুইচ অ্যাপ যেভাবে প্রবেশপথ হলো
SmileBASIC 4-এ ব্যবহারকারীরা মূল নিনটেন্ডো সুইচে প্রোগ্রাম লিখে চালাতে পারেন। ব্যাকওয়ার্ড কম্প্যাটিবিলিটির মাধ্যমে সুইচ ২-তেও এই সফটওয়্যার চলে; এই সুবিধায় আগের কনসোলের গেম তার উত্তরসূরি কনসোলে কাজ করে। এই সংযোগের ফলে পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করে নতুন যন্ত্রে প্রবেশের পথ পান হাজহামিদ।
প্রথম দুর্বলতাটি ছিল SmileBASIC ইন্টারপ্রেটারে একটি ইন্টিজার ওভারফ্লো। ইন্টারপ্রেটার হলো সেই অংশ, যা প্রোগ্রামিং কমান্ড পড়ে এবং কার্যকর করে। কোনো হিসাবের ফল সংখ্যার জন্য কম্পিউটারে নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেলে ইন্টিজার ওভারফ্লো ঘটে; তখন ফলটি ঘুরে অন্য একটি মানে চলে যায়।
এ ক্ষেত্রে অ্যারে—সংরক্ষিত মানের একটি তালিকা—নিয়ে কোনো কাজ যাচাইয়ের হিসাব ঋণাত্মক সংখ্যায় ঘুরে যেতে পারত। ফলে এমন একটি কাজও যাচাই পেরিয়ে যেত, যা বাতিল হওয়ার কথা। পরে মেমরির একটি কপি নির্ধারিত এলাকার বাইরে তথ্য সরিয়ে নিত।
হাজহামিদ বর্ণনা করেন, এই আচরণ কাজে লাগিয়ে প্রোগ্রামকে অ্যারের একটি অংশকে স্ট্রিং হিসেবে বিবেচনা করানো হয়েছিল। এই বিভ্রান্তির ফলে প্রোগ্রামের নির্ধারিত সীমার বাইরে মেমরি পড়া ও বদলানোর উপায় তৈরি হয়। গবেষণার প্রাথমিক ধাপটি মূল সুইচে করা সম্ভব ছিল; পরে সুইচ ২-এ ব্যবহৃত এক্সপ্লয়েট-চেইনের অংশ হয় এটি।
এর আগে নিনটেন্ডোর 3DS-এ হোমব্রু এক্সপ্লয়েটের ক্ষেত্রেও SmileBASIC ব্যবহৃত হয়েছিল। এবার এর বিশেষ গুরুত্ব ছিল, পুরোনো একটি অ্যাপ নতুন কনসোলের ওপর আক্রমণের প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করতে পেরেছে।
দ্বিতীয় ত্রুটিতে ফাইলসিস্টেম সার্ভিসে প্রবেশ
SmileBASIC-এর ভেতরে প্রবেশ ছিল কেবল শুরু। এরপর হাজহামিদ স্টোরেজ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিল্ট-ইন ফাইলসিস্টেম সার্ভিস, যার নাম fs, লক্ষ্য করেন। প্রোগ্রামিং অ্যাপের সীমাবদ্ধতা পেরোতে আরও বিস্তৃত অনুমতিসম্পন্ন সার্ভিসে পৌঁছানো জরুরি ছিল।
দ্বিতীয় দুর্বলতাটি ছিল পাথ নরমালাইজেশন নিয়ে। ফাইল পাথ সফটওয়্যারকে স্টোরেজে কোনো কিছু কোথায় আছে তা জানায়; সিস্টেম ব্যবহারের আগে নরমালাইজেশন সেই পাথকে একটি মানসম্মত রূপ দেয়। হাজহামিদ এমন একটি পরিস্থিতির কথা জানান, যেখানে সার্ভিসটি পাথকে খুব ছোট একটি অস্থায়ী বাফারে কপি করত।
বাফার হলো মেমরির জন্য সংরক্ষিত একটি এলাকা। তথ্য এর সীমানা ছাড়িয়ে গেলে আশপাশের তথ্য মুছে যেতে বা বদলে যেতে পারে। হাজহামিদ এই ওভারফ্লো ব্যবহার করে স্টোরেজ ক্যাশ অবজেক্টে প্রভাব ফেলেন, যার ফলে ফাইলসিস্টেম সার্ভিসের মেমরি পড়া ও লেখার উপায় তৈরি হয়।
এরপর তিনি SmileBASIC-এর সংযোগের জন্য নথিভুক্ত প্রসেস আইডেন্টিটি বদলে আরও বিস্তৃত ফাইলসিস্টেম অনুমতি পান বলে জানান। এতে পরীক্ষা করার জন্য অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ এবং সাধারণ সিস্টেম মডিউলের কোড কপি করা সম্ভব হয়। সিস্টেম মডিউল বা sysmodule হলো অপারেটিং সিস্টেমের কাজ সম্পন্ন করা সার্ভিস।
হাজহামিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ns2jb-এর মাধ্যমে সাধারণ সিস্টেম মডিউল এবং বিল্ট-ইন ফাইলসিস্টেম মডিউল হিসেবে নেটিভ কোড চালানো যায়। অর্থাৎ, এই চেইনের দুটি স্বতন্ত্র ধাপ রয়েছে: SmileBASIC-এর মাধ্যমে প্রাথমিক প্রবেশ এবং আরও বিস্তৃত প্রবেশাধিকার দেয় এমন দ্বিতীয় দুর্বলতা।
Codex সহায়তা করেছে, তবে কাজটিতে লেগেছে দুই সপ্তাহ
গবেষণার সময় OpenAI-এর Codex ব্যবহার করেন হাজহামিদ। তাঁর কাস্টম ব্যবস্থায় AI এজেন্টগুলো কনসোলে কন্ট্রোলারের ইনপুট পাঠাতে এবং ভিডিও আউটপুট দেখতে পারত। JetKVM যন্ত্র USB-র মাধ্যমে কন্ট্রোলারের ইনপুট পাঠাত এবং HDMI-তে ভিডিও ধারণ করত।
সেটআপের একটি অস্বাভাবিক কিন্তু কার্যকর অংশ ছিল ব্লুটুথ লাইট সুইচের ব্যবস্থা: কনসোল ক্র্যাশ করলে সেটি শারীরিকভাবে পাওয়ার বাটন চাপত। এ ধরনের মেমরি গবেষণায় বারবার ক্র্যাশ হওয়া স্বাভাবিক সম্ভাবনা, তাই হার্ডওয়্যার রিস্টার্ট করাও পরীক্ষার অংশ ছিল।
হাজহামিদের বিবরণ অনুযায়ী, SmileBASIC-এ কাজে লাগানো যায় এমন ইন্টিজার ওভারফ্লোটি Codex খুঁজে পায়। গবেষণায় সিস্টেম সার্ভিস অনুসন্ধান, কোড পরীক্ষা এবং ফাইলসিস্টেম সার্ভিসে পৌঁছানোর চেইন তৈরি করাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। হাজহামিদ জানান, AI এজেন্টরা অন্য লক্ষ্যগুলো খতিয়ে দেখার সময় তিনি নিজে ওই সার্ভিস নিয়ে কাজ করেন।
ডেভেলপার স্পষ্ট করেন, কেবল AI-কে কনসোল জেলব্রেক করতে বললেই সব হয়ে গেছে, এমন ইঙ্গিত দেওয়া ঠাট্টার ক্যাপশনটি আসল প্রক্রিয়া ছিল না। অন্য একটি পথ দিয়ে কোড চালানোর প্রাথমিক চেষ্টা সফল হয়নি; আর জেলব্রেকের জন্য প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে উল্লেখযোগ্য পরিশ্রম করতে হয়েছে।
হাজহামিদ বলেন, Codex এক দিনেই মারিও কার্ট ওয়ার্ল্ডের পরিবর্তনটি তৈরি করেছে। এতে মজার প্রদর্শনীটির সময়সীমা আর এর পেছনের নিরাপত্তা গবেষণার সময়সীমা আলাদা হয়ে যায়: প্রবেশাধিকার পাওয়ার কঠিন কাজটি শেষ হওয়ার পরই চোখে পড়ার মতো চরিত্র পরিবর্তনগুলো আসে।
ব্রাউজার ব্যবহারের পথ কেন বাদ পড়ে
প্রাথমিক প্রচেষ্টায় ব্যবহৃত ব্রাউজার ইঞ্জিন WebKit ছিল শুরুতে একটি লক্ষ্য, কারণ ব্রাউজার জটিল কনটেন্ট প্রক্রিয়া করে এবং প্রায়ই নিরাপত্তা গবেষণার লক্ষ্য হয়। হাজহামিদের সেটআপে কাস্টম Wi-Fi ক্যাপটিভ পোর্টালের মাধ্যমে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছিল; কোনো যন্ত্র নেটওয়ার্কে যুক্ত হলে এ ধরনের পেজ দেখা যেতে পারে।
পদ্ধতিটি কয়েকটি সুরক্ষার বাধায় পড়ে। এক্সিকিউট-অনলি মেমরিতে এক্সিকিউটেবল নির্দেশনা পড়া সীমিত থাকে, ফলে কাজে লাগার মতো কোডের ধাপ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়। পয়েন্টার অথেনটিকেশন ব্যবহারের আগে নির্দিষ্ট ঠিকানা যাচাই করে; আর কন্ট্রোল ফ্লো ইন্টেগ্রিটি পরীক্ষা করে, এক্সিকিউশন স্থানান্তরের কিছু পথ অনুমোদিত নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না।
ব্রাউজার নিয়ে প্রাথমিক কাজ একটি সীমিত নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত পৌঁছেছিল, কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জেলব্রেকের জন্য সিস্টেম সার্ভিসের সঙ্গে ইচ্ছামতো যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তাই ব্রাউজার নিয়ে গবেষণা আলাদাভাবে চললেও হাজহামিদ SmileBASIC-এর পথ অনুসরণ করেন।
আরও কাজের সম্ভাব্য দিক হিসেবে তিনি WebKit-এ ফাইলসিস্টেম এক্সপ্লয়েট মানিয়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। এতে প্রবেশের আরেকটি পথ তৈরি হতে পারে, যদিও এমন সংস্করণের প্রকাশের তারিখ জানানো হয়নি। তিনি আরও বলেন, মূল সুইচে এক্সপ্লয়েটটি পরীক্ষা করা হয়েছে, তবে ওই কনসোলের জন্য এখনো প্যাকেজ করা হয়নি।
ব্যবহারকারীদের কী লাগবে, আর রিস্টার্টে কী বন্ধ হয়
বর্ণিত পদ্ধতিতে SmileBASIC 4-এর 4.4.9 সংস্করণ ব্যবহার করা হয়; যুক্তরাষ্ট্রের eShop-এ এর দাম প্রায় 25 ডলার বলে জানা গেছে। অন্য একজন মোডার বলেন, শিরোনামটি অপরিহার্য নাও হতে পারে, তবে প্রদর্শিত চেইনটি প্রোগ্রামিং অ্যাপ দিয়ে শুরু হয়। বিকল্প কোনো পথের ব্যবহারিক শর্ত এখনো নিশ্চিত নয়।
সফটওয়্যার পাওয়ার উপায় খুঁজতে গিয়ে বিনা মূল্যের একটি জাপানি ট্রায়াল সংস্করণও আলোচনায় আসে। তবে সেটি এক্সপ্লয়েটের সঙ্গে অসংগত বলে জানা গেছে। ফলে এই নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ট্রায়াল ও অর্থ দিয়ে কেনা সংস্করণের কার্যকারিতা এক নয়।
ns2jb-কে টেথারড হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এর অর্থ, কনসোল চালু হওয়ার পর প্রতিবার গেম থেকে আবার এক্সপ্লয়েটটি চালাতে হবে। রিস্টার্টে মেমরির সক্রিয় এক্সপ্লয়েট মুছে যায় এবং সংশ্লিষ্ট প্রসেসগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
সফটওয়্যার এক্সপ্লয়েট এবং স্থায়ী কাস্টম ফার্মওয়্যার দুই ধরনের আলাদা প্রবেশাধিকার দেয়। সক্রিয় সেশনে কী চালানো যাবে, তা ns2jb বদলে দেয়। স্থায়ী কাস্টম ফার্মওয়্যারের জন্য এমন অতিরিক্ত ব্যবস্থা দরকার, যা রিস্টার্টের পরও কাজ করে।
বর্তমান নির্দেশনা একজন সাধারণ খেলোয়াড়ের অনুসরণ করা কঠিন বলেও বর্ণনা করা হয়েছে। তাই এর তাৎক্ষণিক লক্ষ্যগোষ্ঠী গবেষক ও প্রযুক্তিগতভাবে অভিজ্ঞ মোডাররা; অনানুষ্ঠানিক অ্যাপ ইনস্টলের সহজ মেনু চান এমন সব কনসোল মালিক নন।
নিনটেন্ডোর প্রতিক্রিয়া ও প্রকাশের সময়রেখা
প্রদর্শনীর পরপরই SmileBASIC 4-এর প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। কিছু ব্যবহারকারী অ্যাপটি কিনে কনসোল ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করেছেন বলে জানা গেছে, কারণ তাঁদের আশঙ্কা ছিল আপডেটে প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। ঘোষণার কাছাকাছি সময়ে প্রকাশিত বিবরণগুলোতে অ্যাপ সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা অথবা কিছু আঞ্চলিক স্টোর থেকে অ্যাপটি ইতিমধ্যেই উধাও হওয়ার কথা বলা হয়।
ওই বিবরণগুলোতে নিনটেন্ডনোর কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা প্যাচ ঘোষণার কথা ছিল না। কোন কোন অঞ্চল এর আওতায় পড়েছে, তা-সহ স্টোর থেকে অ্যাপ সরানোর খবরের পরিধি নিশ্চিত করা হয়নি। বিক্রি থেকে অ্যাপ সরালে নতুন করে কেনার সুযোগ সীমিত হয়; আর সিস্টেম বা সফটওয়্যার আপডেটে দুর্বল কোড অন্য উপায়ে সংশোধন করা সম্ভব।
ঘোষণা ও প্রযুক্তিগত বিবরণে উল্লেখ করা তারিখগুলো হলো:
- ১৮ অক্টোবর, ২০২৬: হাজহামিদের প্রযুক্তিগত বিবরণে এই তারিখ ছিল; এতে ns2jb-কে ফার্মওয়্যার 23.0.1-এর একটি সফটওয়্যার এক্সপ্লয়েট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- ২২ অক্টোবর, ২০২৬: হাজহামিদ মারিও কার্ট ওয়ার্ল্ডের প্রদর্শনী প্রকাশ্যে শেয়ার করেন এবং জেলব্রেকের ঘোষণা দেন।
- ২২ অক্টোবরের ঘোষণার কাছাকাছি সময়ে: ব্যবহারকারীরা SmileBASIC 4 কেনার বিষয়ে আলোচনা করেন; একই সময়ের বিবরণে আঞ্চলিক eShop থেকে অ্যাপ সরানোর সম্ভাবনা বা তা ইতিমধ্যে সরানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সুইচের দুই প্রজন্মকেই প্রভাবিত করে এমন আলাদা একটি দুর্বলতার তথ্য প্রকাশ করা ডেভেলপার Geziné বলেন, pepsipu-র সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং টুলটি বিশ্বাসযোগ্য বলেই মনে হয়েছে। Geziné আরও বলেন, pepsipu তাঁর তৈরি করা আলাদা একটি ইউজার-মোড এক্সপ্লয়েটের বিষয়েও জানতেন।
হাজহামিদের জানা মতে, ns2jb এ ধরনের প্রথম সুইচ ২ এক্সপ্লয়েট। এর তাৎক্ষণিক অবদান হলো আরও গভীর সফটওয়্যার গবেষণা ও গেমে পরিবর্তনের একটি কার্যকর পথ; তবে স্থায়িত্ব ও ব্যবহারের সহজতার ক্ষেত্রে স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
মূল বিষয়গুলো
- হার্ডওয়্যার মডচিপ ছাড়াই সুইচ ২-এর 23.0.1 ফার্মওয়্যারে ns2jb কাজ করে বলে জানা গেছে।
- প্রদর্শিত চেইনে SmileBASIC-এর মেমরি দুর্বলতার সঙ্গে ফাইলসিস্টেম সার্ভিসের একটি ত্রুটি যুক্ত করা হয়েছে।
- pepsipu নামে পরিচিত স্যামি হাজহামিদ প্রায় দুই সপ্তাহের গবেষণায় OpenAI-এর Codex ব্যবহার করেছেন।
- মারিও কার্ট ওয়ার্ল্ডের প্রদর্শনীতে সিনামোরল, হাৎসুনে মিকু ও পিটার গ্রিফিনসহ কাস্টম চরিত্র ছিল।
- রিস্টার্টের পর এক্সপ্লয়েটটি বন্ধ হয়ে যায় এবং বর্তমানে স্থায়ী কাস্টম ফার্মওয়্যার দেয় না।
- বর্ণিত প্রবেশপথে SmileBASIC 4-এর 4.4.9 সংস্করণ ব্যবহার করা হয়; আঞ্চলিক স্টোর থেকে অ্যাপ সরানোর খবর এলেও নিনটেন্ডনো প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি।






