দীর্ঘমেয়াদি বিধিনিষেধের আগে দূষণ কমার মাত্রা পরিমাপের দাবি পরিবহনকারীদের
অল ইন্ডিয়া মোটর অ্যান্ড গুডস ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (AIMGTA) দিল্লি সরকারকে ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ১৫ দিনের জন্য পরিকল্পিত শীতকালীন যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ পরীক্ষামূলকভাবে কার্যকর করার এবং ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তা বহাল রাখার আগে ফলাফল প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, মূল্যায়নে বায়ুদূষণের পরিবর্তনের পাশাপাশি পণ্য সরবরাহ, কারখানায় উপকরণ পৌঁছানো, পরিবহন ব্যয় ও কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাবও পরিমাপ করা উচিত।
সূচিপত্র
- দীর্ঘমেয়াদি বিধিনিষেধের আগে দূষণ কমার মাত্রা পরিমাপের দাবি পরিবহনকারীদের
- কোন যানবাহন প্রবেশে বিধিনিষেধের মুখে পড়বে?
- পরীক্ষামূলক প্রয়োগে কী পরিমাপ করা হবে?
- পণ্য পরিবহনকারীদের বেশি ব্যয়ের আশঙ্কা কেন
- কারখানা, কর্মসংস্থান ও সরকারি রাজস্ব
- শীতকালীন ব্যবস্থা শুধু ট্রাকের মধ্যে সীমিত নয়
- নিয়ম প্রয়োগ ও পরিবহন খাতে বিনিয়োগ
- ধুলা, নির্মাণকাজ ও আঞ্চলিক পরিদর্শন
- মূল বিষয়গুলো
সংগঠনের সভাপতি রাজেন্দ্র কাপুর বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের অনুরোধ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসাকে চিঠি লিখেছেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথমে বিধিনিষেধ পরীক্ষামূলকভাবে কার্যকর করা হবে, বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং বিধিনিষেধ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তের আগে অর্থনৈতিক প্রভাব পর্যালোচনা করা হবে।
দিল্লি রাজধানীতে প্রবেশকারী যানবাহনের ওপর বিধিনিষেধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পাশাপাশি অফিস, পার্কিং, নির্মাণকাজ ও দূষণ পরিদর্শনসংক্রান্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। ঘোষিত শীতকালীন প্রবেশ-বিধিনিষেধ দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত এবং ভারত স্টেজ সিক্স বা BS-VI নির্গমনমান পূরণ করে না—এমন যানবাহনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বাণিজ্যিক পরিবহনের জন্য আরও বিস্তারিত নির্দেশনায় বৈদ্যুতিক যান, সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাসে (CNG) চলা যান এবং BS-VI মান পূরণকারী ডিজেলচালিত যানকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীতে পণ্য সরবরাহকারী ব্যবসাগুলোর তাৎক্ষণিক উদ্বেগ হলো, পুরোনো ট্রাকে পরিবাহিত পণ্য এখন দোকান, বাজার ও কারখানায় কীভাবে পৌঁছাবে। AIMGTA বলেছে, ২০ থেকে ২৫ টন পণ্য বহনকারী ভারী ট্রাককে ছোট যানবাহনে পণ্য খালাস করতে হতে পারে। এতে পণ্য ওঠানো-নামানো, যাতায়াতের সংখ্যা ও বিলম্ব বাড়বে।
দিল্লি সরকার সড়কের ধুলা, নির্মাণকাজ, শিল্পকারখানার নির্গমন ও বর্জ্য পোড়ানোর বিরুদ্ধে বৃহত্তর কর্মসূচির একটি অংশ হিসেবে পরিচ্ছন্নতর পরিবহনকে তুলে ধরেছে। পরিবহনকারীদের আবেদনের মূল প্রশ্ন হলো, বিধিনিষেধে বায়ু কতটা পরিষ্কার হবে এবং সেই উন্নতি পরিমাপের সময় জরুরি পণ্যের সরবরাহ সচল রাখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোন যানবাহন প্রবেশে বিধিনিষেধের মুখে পড়বে?
গুরগাঁও ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, BS-IV বা তার চেয়ে পুরোনো নির্গমনমান পূরণকারী বাণিজ্যিক পণ্যবাহী যান ও বাস ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে দিল্লিতে প্রবেশ করতে পারবে না। নির্দেশনায় হালকা, মাঝারি ও ভারী পণ্যবাহী যান এবং অল ইন্ডিয়া ট্যুরিস্ট পারমিট (AITP)-এর আওতায় চলা বাস অন্তর্ভুক্ত। দিল্লিতে নিবন্ধিত বাস আপাতত ছাড় পাবে।
ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক যান, CNG-চালিত যান এবং BS-VI মান পূরণকারী ডিজেলচালিত বাণিজ্যিক যান প্রবেশ করতে পারবে। ভারত স্টেজ নির্গমনমান যানবাহনের ধোঁয়া থেকে নির্গত দূষকের সীমা নির্ধারণ করে। BS-VI হলো BS-IV-এর তুলনায় কঠোর মান। ফলে কোনো যান প্রবেশ করতে পারবে কি না, তা নির্ধারণে তার নির্গমন-শ্রেণি গুরুত্বপূর্ণ।
দিল্লিতে যাওয়ার আগে পরিবহনকারী, ট্যুর অপারেটর ও চালকদের নির্গমনমান এবং নিবন্ধনের কাগজপত্র যাচাই করতে বলেছে পুলিশ। নিয়ম ভাঙলে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাই পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা অপারেটরদের রুট ও যাত্রার সময় বেছে নেওয়ার পাশাপাশি যাত্রার জন্য কোন যান নির্ধারিত হয়েছে, সেটিও যাচাই করতে হবে।
বৃহত্তর শীতকালীন ঘোষণায় দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত এবং BS-VI মান পূরণ করে না—এমন যানবাহনও অন্তর্ভুক্ত। ফলে বিধিনিষেধের বিষয়টি পণ্য পরিবহনের বাইরেও বিস্তৃত। এসব বিধিনিষেধ ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। AIMGTA-র আবেদন পণ্য পরিবহনের ব্যবহারিক পরিণতির ওপর জোর দিয়েছে, বিশেষ করে অন্য রাজ্য থেকে সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসাগুলোর ক্ষেত্রে।
পরীক্ষামূলক প্রয়োগে কী পরিমাপ করা হবে?
বিধিনিষেধের প্রথম ১৫ দিনে PM2.5 ও PM10 পর্যবেক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছে AIMGTA। এগুলো বাতাসে ভাসমান অতিক্ষুদ্র কণার শ্রেণি। PM2.5 বলতে ২.৫ মাইক্রোমিটার বা তার চেয়ে কম ব্যাসের কণা বোঝায়, আর PM10-এর মধ্যে ১০ মাইক্রোমিটার পর্যন্ত ব্যাসের কণা অন্তর্ভুক্ত। কণাদূষণ পরিমাপের জন্য দুটিই গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
পরীক্ষামূলক সময়কালে আবহাওয়া, বাতাসের দিক এবং আশপাশের অঞ্চলের দূষণও পর্যবেক্ষণ করতে চায় সংগঠনটি। এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দিল্লির বায়ুর মান নির্গমন এবং বায়ুপ্রবাহ—দুটির সঙ্গেই পরিবর্তিত হয়। বাতাস দূষণকে শহরের ভেতরে বা বাইরে নিয়ে যেতে পারে, আর আবহাওয়ার অবস্থা কণাকে জমতে দিতে পারে।
তাই কার্যকর মূল্যায়নে দূষণের পরিমাপের পাশাপাশি এসব পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা দরকার। বাতাসের গতি বেশি থাকার সময় কণার মাত্রা কমা এবং বাতাস স্থির থাকার সময় কমার ব্যাখ্যা এক হবে না। পরিবেশগত ফলাফল ও পরিবহন ব্যয় একসঙ্গে বিবেচনার সুযোগ দিতে ফলাফল প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
AIMGTA বলেছে, পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেলে অর্থনৈতিক ও পরিচালনাগত প্রভাব পর্যালোচনা করে বিধিনিষেধ চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে। প্রত্যাশিত উন্নতি না হলে সড়কের ধুলা, নির্মাণকাজ, শিল্পকারখানার নির্গমন ও বর্জ্য পোড়ানোর বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিতে চায় তারা। প্রস্তাবিত পরীক্ষামূলক প্রয়োগ গ্রহণ করা হবে কি না, সরকার তা জানায়নি।
পণ্য পরিবহনকারীদের বেশি ব্যয়ের আশঙ্কা কেন
AIMGTA-র মতে, দিল্লির বাজার ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অন্য রাজ্য থেকে আসা পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। সংগঠনটি বলেছে, ২০ থেকে ২৫ টন পণ্য বহনকারী ট্রাকের ওপর বিধিনিষেধ এলে শহরে ঢোকার আগে পণ্য ছোট যানবাহনে স্থানান্তর করতে হতে পারে।
প্রতিটি স্থানান্তরে সরবরাহের আরেকটি ধাপ যুক্ত হয়। পণ্য খালাস, বাছাই বা অন্য যানবাহনে বরাদ্দ, আবার তোলা এবং পাঠানোর কাজ করতে হয়। অপারেটরদের অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ, যানবাহনের ব্যয় ও অপেক্ষার সময় গুনতে হতে পারে। ভারী ট্রাকের বোঝা বহনের বিকল্প হতে ছোট যানগুলোরও সম্মিলিতভাবে যথেষ্ট বহনক্ষমতা থাকতে হবে।
এতে দিল্লির সীমান্ত ও আশপাশের সড়কে যানজট বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে AIMGTA। এই উদ্বেগ যানজট কমানোর সরকারি প্রচেষ্টার সঙ্গেও সম্পর্কিত: বিধিনিষেধ রাজধানীতে প্রবেশকারী ইঞ্জিনের ধরন বদলানোর পাশাপাশি সরবরাহযাত্রার সংখ্যা ও ধরনও পাল্টে দিতে পারে।
সংগঠনটির মতে, ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য জরুরি পণ্যের সরবরাহ প্রভাবিত হতে পারে। যেসব পণ্য দ্রুত নষ্ট হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিলম্ব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবহনকারীরা সতর্ক করেছেন, সরবরাহ ও পণ্য ওঠানো-নামানোর বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত দামের মাধ্যমে ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে, যদিও সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির কোনো হিসাব তারা দেননি।
কারখানা, কর্মসংস্থান ও সরকারি রাজস্ব
AIMGTA-র যুক্তি, দিল্লির শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো একই সঙ্গে দুটি চাপে পড়তে পারে: পরিবহন ব্যয় বাড়া এবং কাঁচামালের সরবরাহ কম নির্ভরযোগ্য হওয়া। কোনো উপকরণের অপেক্ষায় থাকা কারখানাকে উৎপাদনসূচি বদলাতে হতে পারে, আর সরবরাহ খরচ বাড়লে পণ্য তৈরি বা বিক্রির ব্যয়ও বাড়তে পারে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা, উৎপাদন, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো বিবেচনার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি। এসব উদ্বেগ সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপে বিধিনিষেধ কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে—দিল্লিতে উপকরণ নিয়ে আসা যান থেকে শুরু করে সেই উপকরণ ব্যবহারকারী ব্যবসা এবং তৈরি পণ্য কেনা গ্রাহক পর্যন্ত।
ডিজেল বিক্রি এবং পণ্য ও পরিষেবা করের (GST) রাজস্ব কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও মূল্যায়ন করতে চায় AIMGTA। তাদের চিঠিতে কোনো আর্থিক পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। এসব উদ্বেগের আর্থিক পরিমাণ নির্ধারণে পরীক্ষামূলক মূল্যায়নে জ্বালানি কেনাকাটা, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও সরবরাহ ব্যয়ের বাস্তব তথ্য প্রয়োজন হবে।
শীতকালীন ব্যবস্থা শুধু ট্রাকের মধ্যে সীমিত নয়
কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুপ্তা, সিরসা এবং এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চলজুড়ে শীতকালীন দূষণ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
মঙ্গলবার গুপ্তা শীতকালীন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এর ব্যবস্থাগুলো ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। শীতকালীন কর্মসূচিতে ধাপে ধাপে অফিসের সময় নির্ধারণ, পার্কিং চার্জ দ্বিগুণ করা এবং দূষণের হটস্পটগুলোতে সাপ্তাহিক পরিদর্শন অন্তর্ভুক্ত। ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিসের ৫০% কর্মীকে বাসা থেকে কাজ করতে হবে, বাকি অর্ধেককে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও একই ধরনের যানবাহন ও কর্মস্থলসংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অব দিল্লির (MCD) অফিস সকাল ৮:৩০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ক্যাপিটাল টেরিটরি অব দিল্লির (GNCTD) অফিস সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০টা পর্যন্ত চলবে। দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনের (DMRC) মালিকানাধীন ও পরিচালিত পার্কিং স্থাপনা ছাড়া অনুমোদিত পার্কিং স্থাপনাগুলোতে ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পার্কিং চার্জ দ্বিগুণ করা হবে।
বৃহত্তর বায়ুদূষণ প্রশমন কর্মপরিকল্পনা, ২০২৬-এ ধাপে ধাপে অফিসের সময় নির্ধারণ, বাসা থেকে কাজ এবং দূষণকারী যানবাহনের ওপর আরও বিধিনিষেধকে তীব্র দূষণের সময় সরকার বিবেচনা করতে পারে—এমন ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। শীতকালীন কর্মপরিকল্পনায় শীতের দূষণ মৌসুমে অফিসের অর্ধেক কর্মীকে বাসা থেকে কাজ করার বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মূল তারিখ এবং প্রস্তাবিত পর্যালোচনার সময়কাল:
- ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে শীতকালীন কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
- ১ নভেম্বর, ২০২৬: যানবাহন প্রবেশে বিধিনিষেধ ও শীতকালীন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা।
- ১ নভেম্বর থেকে প্রথম ১৫ দিন: AIMGTA বিধিনিষেধ পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ, দূষণ পর্যবেক্ষণ এবং পরিচালনাগত প্রভাব মূল্যায়ন করতে চায়।
- ৩১ জানুয়ারি, ২০২৭: দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত এবং BS-VI মান পূরণ করে না—এমন যানবাহনের ওপর ঘোষিত প্রবেশ-বিধিনিষেধ শেষ হওয়ার কথা।
- ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭: শীতকালীন পরিকল্পনার ধাপে ধাপে অফিসের সময়, ৫০% কর্মীর বাসা থেকে কাজের বাধ্যবাধকতা এবং দ্বিগুণ পার্কিং চার্জ শেষ হওয়ার কথা।
নিয়ম প্রয়োগ ও পরিবহন খাতে বিনিয়োগ
গুপ্তা বলেছেন, পণ্যবাহী যানবাহনের নিয়ম প্রযুক্তি ও কঠোর প্রয়োগের সহায়তায় নেওয়া উদ্যোগের অংশ। বায়ুদূষণ প্রশমন কর্মপরিকল্পনা, ২০২৬ ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী প্রবেশের শর্তটি এভাবে বর্ণনা করেন:
১ নভেম্বর থেকে দিল্লিতে পণ্যবাহী যানবাহনের প্রবেশ শুধু BS VI মান মেনে চলা অথবা CNG বা বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের মধ্যে সীমিত থাকবে,
দিল্লিতে ১ অক্টোবর থেকে ‘নো পিইউসি, নো ফুয়েল’ নিয়ম কার্যকর রয়েছে। মে মাসে এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট কমিশন নির্দেশ দেয়, দিল্লি-NCR-এর জ্বালানি স্টেশনগুলো বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ (PUC) সনদ ছাড়া কোনো যানবাহনে জ্বালানি দিতে পারবে না। নিয়ম প্রয়োগে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরা ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবহার করা হয়। PUC-এর অর্থ দূষণ নিয়ন্ত্রণ; যানবাহনের নির্গমন পরীক্ষা-সংক্রান্ত সনদকে এটি বোঝায়। ক্যামেরা নিবন্ধন নম্বর শনাক্ত করে, যাতে ডিজিটাল নথির মাধ্যমে যানবাহন যাচাই করা যায়।
যানজট কমাতে দিল্লি ৬২টি ট্রাফিক হটস্পট চিহ্নিত করেছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে বাসের বহর বাড়িয়ে ১৩,৭৬০ করা, যেখানে বৈদ্যুতিক বাসকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, এবং চার বছরে ৩২,০০০টি বৈদ্যুতিক যান চার্জিং পয়েন্ট স্থাপন করা।
পরিকল্পনায় মেট্রো ও আঞ্চলিক দ্রুতগতির পরিবহনব্যবস্থার সঙ্গে ফিডার বাস, বৈদ্যুতিক অটোরিকশা এবং শেয়ার করা পরিবহনের সংযোগ উন্নত করার কথাও বলা হয়েছে। স্টেশন থেকে চূড়ান্ত গন্তব্য পর্যন্ত স্বল্প দূরত্বের যাত্রার ক্ষেত্রে এসব সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ; এগুলোই মানুষ গণপরিবহন নাকি ব্যক্তিগত যান বেছে নেবে, তাতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ধুলা, নির্মাণকাজ ও আঞ্চলিক পরিদর্শন
দিল্লির পরিকল্পনায় ১১টি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করা হয়েছে, প্রতিটির জন্য দায়িত্ব, সময়সীমা ও নজরদারি ব্যবস্থা নির্ধারিত। ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে যান্ত্রিকভাবে সড়ক ঝাড়ু দেওয়া, পানির স্প্রিংকলার ব্যবহার এবং প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার সড়কে কাজ; এর মধ্যে পাকা পৃষ্ঠ ও সবুজ বাফারও রয়েছে। নির্মাণজনিত দূষণ C&D Portal 2.0-এর মাধ্যমে অবস্থানসংক্রান্ত নথি ও স্বয়ংক্রিয় প্রয়োগব্যবস্থা ব্যবহার করে পর্যবেক্ষণ করা হবে। শীতকালীন কর্মপরিকল্পনায় নির্মাণ ও ভাঙার কাজে বিধিনিষেধ এবং নির্মাণস্থলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারিও রয়েছে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইন নির্গমন পর্যবেক্ষণব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। পরিকল্পনায় বায়োমাস পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কথাও রয়েছে। দিল্লি বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং কেন্দ্রীয় গ্রিন ওয়ার রুম ও সমন্বিত কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে পদক্ষেপে সহায়তার জন্য ‘বায়ু রক্ষক’ নামে ওয়ার্ডভিত্তিক দল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের জেলাগুলোতে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান কার্যকর হওয়ার আগে দূষণ পরিদর্শন জোরদারের নির্দেশ আলাদাভাবে দিয়েছেন হরিয়ানার পরিবেশমন্ত্রী রাও নারবীর সিং। বায়ুদূষণ বাড়তে থাকলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এই পরিকল্পনায় নির্ধারিত রয়েছে। এটি সাধারণত GRAP নামে পরিচিত।
সংশোধনমূলক পদক্ষেপে পৌর সংস্থা ও গুরগাঁও মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটিকে সহায়তার জন্য হরিয়ানা স্টেট পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাপ্তাহিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পরিদর্শনের অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে নির্মাণস্থল, রেডি-মিক্স কংক্রিট উৎপাদনকারী কারখানা, সড়ক পরিষ্কার এবং বেশি বর্জ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান; পাশাপাশি পয়োনিষ্কাশন শোধনাগারের নজরদারিও।
তাই দিল্লির যানবাহনসংক্রান্ত বিধিনিষেধ দূষণের আরও কয়েকটি উৎসকে লক্ষ্য করে নেওয়া ব্যবস্থার পাশাপাশি কার্যকর হবে। AIMGTA-র প্রস্তাবিত পরীক্ষামূলক প্রয়োগে যানবাহনের নিয়মগুলোরও জনসমক্ষে মূল্যায়ন যুক্ত হবে—এর মধ্যে থাকবে পণ্য পরিবহনের পরিবর্তনে বায়ুর মানে পরিমাপযোগ্য উন্নতি হচ্ছে কি না এবং রাজধানীতে সরবরাহকারী ব্যবসাগুলোর কী ব্যয় হচ্ছে।
মূল বিষয়গুলো
- শীতকালজুড়ে যানবাহনসংক্রান্ত বিধিনিষেধ চালিয়ে যাওয়ার আগে ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ১৫ দিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চায় AIMGTA।
- বাণিজ্যিক যানবাহনসংক্রান্ত নির্দেশনায় BS-IV ও তার চেয়ে পুরোনো মানের পণ্যবাহী যান এবং আওতাভুক্ত বাসের প্রবেশ নিষিদ্ধ; বৈদ্যুতিক, CNG ও BS-VI মানের ডিজেলচালিত যান চলতে পারবে।
- পরিবহনকারীরা সরবরাহ ব্যয় ও ব্যবসায়িক প্রভাবের পাশাপাশি PM2.5, PM10, আবহাওয়া এবং আঞ্চলিক দূষণ পরিমাপের দাবি জানিয়েছেন।
- ভারী ট্রাকের পণ্য ছোট যানবাহনে স্থানান্তর করলে পণ্য ওঠানো-নামানোর খরচ, বিলম্ব ও সীমান্তে যানজট বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংগঠনটি।
- দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত এবং BS-VI মান পূরণ করে না—এমন যানবাহনের ওপর দিল্লির প্রবেশ-বিধিনিষেধ ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে; ধাপে ধাপে অফিসের সময়, ৫০% কর্মীর বাসা থেকে কাজের বাধ্যবাধকতা এবং দ্বিগুণ পার্কিং চার্জ ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। DMRC-পরিচালিত পার্কিং স্থাপনাগুলো এই চার্জ বৃদ্ধির বাইরে থাকবে।
- প্রস্তাবিত পরীক্ষামূলক প্রয়োগের বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি।






