ছয় বছর পর সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক উপস্থিতি ফিরল
ছয় বছর অনুপস্থিত থাকার পর পিয়ংইয়ংয়ে স্থায়ী উপস্থিতি ফিরিয়েছে সুইজারল্যান্ড। রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে একটি কূটনৈতিক কার্যালয় খুলেছে দেশটি এবং মানবিক সহায়তা আবার শুরু করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কার্যালয়টি ১৯ তারিখে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করেছে, তবে ঘোষণায় মাসের উল্লেখ করা হয়নি।
সূচিপত্র
- ছয় বছর পর সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক উপস্থিতি ফিরল
- বেইজিংয়ের কর্তৃত্ব বজায় রেখে রাজনৈতিক কার্যালয়
- যেভাবে এই পর্যায়ে পৌঁছাল সুইজারল্যান্ড
- সহায়তা ফেরাতে কেন শুধু কার্যালয় খোলাই যথেষ্ট নয়
- উত্তর কোরিয়াকে যেসব প্রবেশাধিকারের শর্ত পূরণ করতে হবে
- নির্দিষ্ট বাজেটের ছোট মিশন
- নিরাপত্তা সংলাপের মাধ্যম চায় সুইজারল্যান্ড
- নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে ইউরোপের সীমিত প্রত্যাবর্তন
- মূল বিষয়গুলো
কার্যালয়টি আগে সুইস মানবিক সহযোগিতা কার্যালয়ের জন্য ব্যবহৃত ভবনে অবস্থিত। ২০২০ সালের মার্চে কোভিড-১৯ মহামারির সময় উত্তর কোরিয়া সীমান্ত বন্ধ করে দিলে আন্তর্জাতিক কর্মীরা সেখান থেকে চলে যান। কার্যালয়টি ফিরে আসায় ১৯৭৪ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ায় আবাসিক রাজনৈতিক উপস্থিতি পেল সুইজারল্যান্ড।
পরিকল্পিত কার্যক্রম হবে ছোট পরিসরে: একজন আবাসিক সুইস কূটনীতিক এবং দুজন স্থানীয় কর্মী। কার্যালয়টি বেইজিংয়ে সুইস দূতাবাসের কাছে প্রতিবেদন দেবে; উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক ও কনস্যুলার সম্পর্কের দায়িত্ব ওই দূতাবাসেরই থাকবে। ফলে বিদ্যমান দূতাবাস কাঠামো বজায় রেখেই পিয়ংইয়ংয়ে যোগাযোগের একটি স্থায়ী মাধ্যম যোগ করছে সুইজারল্যান্ড।
উত্তর কোরিয়ার বাসিন্দাদের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক বাস্তব প্রশ্ন হলো, এই যোগাযোগের ফলে স্বাস্থ্য, পানীয় জল ও খাদ্যনিরাপত্তায় সহায়তা আবার শুরু হতে পারে কি না। সুইজারল্যান্ড বলেছে, মানবিক কাজ ফেরানোর বিষয়টি নির্ভর করছে প্রকল্প এলাকায় প্রবেশাধিকার, সরবরাহ আনার অনুমতি, বিশেষজ্ঞদের অবাধ চলাচল এবং সুইস অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে তা যাচাই করার সুযোগের ওপর।
এসব শর্তের ফলে ফিরে আসা কার্যালয়টির সামনে দুটি পৃথক কাজ রয়েছে: রাজনৈতিক যোগাযোগ পুনর্গঠন এবং সুইস মানদণ্ড মেনে সহায়তা কার্যক্রম চালানো সম্ভব কি না, তা নির্ধারণ করা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের বিষয়ে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
বেইজিংয়ের কর্তৃত্ব বজায় রেখে রাজনৈতিক কার্যালয়
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশনের (এসডিসি) আগের কার্যালয়টি মানবিক প্রকল্প সমন্বয় করত এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগে সহায়তা দিত। এটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক মিশন হিসেবে কাজ করত না। নতুন কার্যালয়টি উত্তর কোরিয়ার রাজধানীতে সুইজারল্যান্ডের উপস্থিতির সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ভূমিকা যুক্ত করছে।
স্থায়ীভাবে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণার সময় পররাষ্ট্র দপ্তর, যা এফডিএফএ নামে পরিচিত, কার্যালয়টির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেছিল:
পিয়ংইয়ংয়ে সুইস কার্যালয়টি সুইজারল্যান্ড ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সংলাপ সহজতর করার পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ায় সম্ভাব্য সুইস মানবিক কর্মসূচি সমন্বয়ের কাজে ব্যবহৃত হবে,
আবাসিক কূটনীতিক দেশের ভেতর থেকে উত্তর কোরিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারবেন, আর বেইজিংয়ের দূতাবাস বৃহত্তর সম্পর্ক পরিচালনা অব্যাহত রাখবে। কনস্যুলার দায়িত্বও বেইজিংয়ের কাছেই থাকবে। এর মধ্যে বিদেশে থাকা কোনো দেশের নাগরিকদের আনুষ্ঠানিক সহায়তার বিষয়টিও রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিবরণে নিশ্চিত করা হয়েছে যে কূটনৈতিক দায়িত্ব বেইজিং দূতাবাসের হাতে এবং নিয়মিত রাজনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, সদ্য ঘোষিত স্থায়ী প্রত্যাবর্তনের আগে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ উত্তর কোরিয়ায় কোনো সুইস নাগরিক বসবাস করছিলেন না।
যেভাবে এই পর্যায়ে পৌঁছাল সুইজারল্যান্ড
সুইজারল্যান্ডের মানবিক কার্যালয় খোলার বহু দশক আগেই কোরীয় উপদ্বীপে দেশটির সংশ্লিষ্টতা শুরু হয়। বর্তমান প্রত্যাবর্তনে দীর্ঘদিনের দুটি কার্যক্রম একত্র হয়েছে: নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়ে যোগাযোগে সহায়তা এবং বেসামরিক মানুষের প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা।
প্রধান মাইলফলকগুলোতে এসব ভূমিকার বিকাশ দেখা যায়:
- ১৯৫৩: কোরীয় যুদ্ধের পর নিরপেক্ষ দেশগুলোর তদারকি কমিশনে যোগ দেয় সুইজারল্যান্ড।
- ১৯৭৪: উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে সুইজারল্যান্ড।
- ১৯৯৫: তীব্র দুর্ভিক্ষের সময় সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন মানবিক সহায়তা শুরু করে।
- ১৯৯৭: পিয়ংইয়ংয়ে সহযোগিতা কার্যালয় খোলে সুইজারল্যান্ড।
- ২০১২: উত্তর কোরিয়ায় সুইস কার্যক্রম কঠোরভাবে মানবিক কাজের মধ্যে সীমিত করা হয়।
- মার্চ ২০২০: মহামারির কারণে সীমান্তে বিধিনিষেধ আরোপের পর কর্মীরা চলে যান এবং মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি স্থগিত হয়।
- নভেম্বর ২০২৪: কার্যালয়টি আবার খোলা যায় কি না, তা যাচাই করতে পিয়ংইয়ং সফর করে এফডিএফএ।
- এপ্রিল ২০২৬: ওই বছরের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের স্থায়ী উপস্থিতি ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নিশ্চিত করে এফডিএফএ।
সর্বশেষ ঘোষণায় পরিকল্পনা থেকে কার্যক্রমে এগোল প্রক্রিয়াটি। এর আগের প্রস্তুতির মধ্যে ছিল পিয়ংইয়ংয়ে নতুন কার্যালয়প্রধানের পৌঁছানো এবং উত্তর কোরিয়া ফিরে আসার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে বলে সুইস সরকারের বিবৃতি।
সহায়তা ফেরাতে কেন শুধু কার্যালয় খোলাই যথেষ্ট নয়
আগে সুইস মানবিক কাজের আওতায় ছিল স্বাস্থ্য, পানীয় জল, খাদ্যনিরাপত্তা, টেকসই কৃষি, বনায়ন, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যবিধি। প্রকল্পে সহায়তা তদারকিও অন্তর্ভুক্ত ছিল, অর্থাৎ সরবরাহ ও অর্থ নির্ধারিত কাজে লাগছে কি না, তা যাচাই করা।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি স্থগিত হয় ২০২০ সালের মার্চে, যখন বিদেশি কর্মীরা সেখানে যাওয়ার সুযোগ হারান। সুইস উন্নয়ন সংস্থার পরিচালিত বা সমর্থিত বাকি মানবিক কর্মসূচি ২০২৪ সালে শেষ হয়। দুটি তারিখ কর্মসূচির দুটি পৃথক পর্যায়ের কথা বলে: দেশের ভেতরে সরাসরি কাজ প্রথমে বন্ধ হয়, আর বাকি কর্মসূচি পরে শেষ হয়।
নতুন কূটনৈতিক কার্যালয়টি সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন, যা এসডিসি নামে পরিচিত, এর সঙ্গে কাজ করে উত্তর কোরিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করবে। এর ফলে প্রয়োজন নিরূপণ এবং বাস্তব ব্যবস্থা নিয়ে সমঝোতার জন্য সুইজারল্যান্ড স্থানীয় একটি যোগাযোগমাধ্যম পাবে।
কোনো প্রকল্প শুরুর তারিখ, নতুন করে সহায়তার বাজেট বা অনুমোদিত এলাকার তালিকা ঘোষণা করা হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভবিষ্যতে সহায়তা উত্তর কোরিয়ার বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেবে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে।
উত্তর কোরিয়াকে যেসব প্রবেশাধিকারের শর্ত পূরণ করতে হবে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী মানবিক কর্মসূচি আবার শুরু করতে হলে সুইস কর্মীদের পিয়ংইয়ংয়ের বাইরে প্রকল্পস্থলে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ থাকতে হবে। প্রাদেশিক এলাকায় প্রবেশাধিকার থাকলে কর্মীরা কাজ পরিদর্শন করতে এবং যেখানে মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর কথা, সেখানকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে পারবেন।
উত্তর কোরিয়ার কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সরবরাহ আমদানির অনুমতিও দিতে হবে এবং প্রকল্পের বিশেষজ্ঞদের অবাধে দেশে প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পানি, স্বাস্থ্য ও কৃষি প্রকল্পের জন্য উপকরণের পাশাপাশি সেগুলো স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ বা মূল্যায়নে দক্ষ মানুষেরও প্রয়োজন।
সুইজারল্যান্ডের আরও শর্ত হলো, তাদের অর্থায়ন যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা যেকোনো সময় যাচাই করার সক্ষমতা থাকতে হবে। বাস্তবে, কোনো প্রকল্পে অর্থ ও উপকরণ নির্ধারিত কাজে লাগছে কি না, তা অনুসরণ করার ব্যবস্থা এবং ফলাফল পরিদর্শনের অনুমতি দরকার।
এই শর্তগুলো কার্যালয়টির রাজনৈতিক কাজের সঙ্গে মানবিক সহায়তার সম্ভাবনাকে সরাসরি যুক্ত করে। উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়, কিন্তু সহায়তা কর্মসূচি চালাতে যাতায়াত, চালান, কর্মী নিয়োগ এবং আর্থিক যাচাই নিয়ে সমঝোতা দরকার। সুইজারল্যান্ড বলেছে, তাদের মান ও মূল্যবোধ মেনে প্রকল্প পরিচালনার জন্য এসব ব্যবস্থা জরুরি।
নির্দিষ্ট বাজেটের ছোট মিশন
সুইস সরকারের পরিকল্পনায় উত্তর কোরিয়ার অনুমোদন সাপেক্ষে একজন আবাসিক কূটনীতিকের সঙ্গে দুজন স্থানীয় কর্মীর কাজ করার কথা ছিল। সুইজারল্যান্ডের মন্ত্রিসভা ফেডারেল কাউন্সিল বড় দূতাবাসের বদলে অল্পসংখ্যক কূটনৈতিক কর্মী নিয়ে ছোট পরিসরের কার্যক্রমের কথা জানায়।
পরিকল্পনার প্রাক্কলনে আগের মানবিক কার্যালয়ের ভবন সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০০,০০০ থেকে ৫০০,০০০ সুইস ফ্রাঁ। যাতায়াত ও প্রশাসনিক ব্যয়সহ বার্ষিক পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯০০,০০০ ফ্রাঁ। এগুলো ছিল সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব; চূড়ান্ত ব্যয় ঘোষণা করা হয়নি।
বার্ষিক পরিচালন ব্যয়ের প্রাক্কলন সংস্কার ব্যয়ের প্রাক্কলনের ১.৮ থেকে ৪.৫ গুণ; ৯০০,০০০ ফ্রাঁর সঙ্গে সংস্কার ব্যয়ের ৫০০,০০০ থেকে ২০০,০০০ ফ্রাঁর পরিসর তুলনা করলে এই হিসাব পাওয়া যায়। ফলে ভবনটি আবার চালু করার প্রস্তুতির চেয়ে সেখানে স্থায়ী উপস্থিতি বজায় রাখা বেশি ব্যয়ের নিয়মিত অঙ্গীকার।
কর্মীসংখ্যার পরিকল্পনাও কার্যালয়টির কাঠামো ব্যাখ্যা করে। একজন সুইস কূটনীতিক পিয়ংইয়ংয়ে স্থায়ী যোগাযোগের কেন্দ্র হবেন, আর বৃহত্তর কূটনৈতিক সম্পর্ক ও কনস্যুলার কাজের দায়িত্ব থাকবে বেইজিং দূতাবাসের কাছে।
নিরাপত্তা সংলাপের মাধ্যম চায় সুইজারল্যান্ড
সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ২০০৩ সাল থেকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক সংলাপ বজায় রেখেছে সুইজারল্যান্ড। এ কারণে সম্পর্কটি অব্যাহত রাখা অল্প কয়েকটি পশ্চিমা দেশের একটি এটি। নিরাপত্তা উত্তেজনা বেশি থাকলে এবং সরকারগুলোর মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম সীমিত হলে এই যোগাযোগ বিশেষ মূল্যবান বলে মনে করে দেশটি।
নিরপেক্ষ দেশগুলোর তদারকি কমিশনে সুইজারল্যান্ডের ভূমিকা ১৯৫৩ সাল থেকে। কোরীয় যুদ্ধের পর উপদ্বীপে নতুন করে সংঘাত ঠেকানোর লক্ষ্যে গৃহীত ব্যবস্থাগুলোর অংশ এই কমিশন। এতে অংশ নেওয়াই ছিল সুইস সশস্ত্র বাহিনীর প্রথম বিদেশি মিশন।
আলোচনার স্থান হিসেবেও জেনেভা ব্যবহৃত হয়েছে। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বৈঠকের আয়োজন করে সুইজারল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর শর্ত নিয়ে আরও তিনটি বৈঠকের আয়োজনও করে দেশটি।
বিবৃতিতে প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে এই কূটনৈতিক ইতিহাসের যোগসূত্র তুলে ধরে এফডিএফএ বলেছে:
সৎ উদ্দেশ্যে মধ্যস্থতা ও মধ্যস্থতামূলক উদ্যোগের ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে সংলাপ, শান্তি ও স্থিতিশীলতা সহজতর করতে সুইজারল্যান্ড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। নিরপেক্ষ দেশগুলোর তদারকি কমিশনে ঐতিহাসিক উপস্থিতিও এর অন্তর্ভুক্ত,
সৎ উদ্দেশ্যে মধ্যস্থতামূলক উদ্যোগের অর্থ হলো, কোনো স্থান দেওয়া বা সরকারগুলোর মধ্যে যোগাযোগে সহায়তার মতো উপায়ে সরকারগুলোকে কথা বলতে সহায়তা করা। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি এই ভূমিকা পালনে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে সুইজারল্যান্ড।
নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে ইউরোপের সীমিত প্রত্যাবর্তন
মহামারির পর তুলনামূলক অল্প কয়েকটি ইউরোপীয় কূটনৈতিক মিশন আবার চালু হওয়া রাজধানীতে ফিরছে সুইজারল্যান্ড। সুইস কার্যালয় পুনরায় খোলার প্রস্তুতি নিয়ে প্রকাশিত বিবরণে সক্রিয় দূতাবাস থাকা একমাত্র ইউরোপীয় দেশ হিসেবে সুইডেন ও পোল্যান্ডের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।
সীমান্ত বন্ধ থাকা অবস্থায় রাশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম ও লাওস তাদের কূটনৈতিক উপস্থিতি বজায় রেখেছিল। ভারত, নাইজেরিয়া, ব্রাজিল, নিকারাগুয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ অন্য দেশগুলো ২০২৩ সালে উত্তর কোরিয়া বিধিনিষেধ শিথিল করতে শুরু করার পর ফিরে যায়।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জার্মানি তাদের বন্ধ দূতাবাস পরিদর্শনে একটি প্রতিনিধিদল পাঠায়। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছিল, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সমর্থনের কারণে দূতাবাস আবার খোলার বিষয়ে অনীহা ছিল। দেশগুলোর ভিন্ন সিদ্ধান্ত দেখায়, পিয়ংইয়ংয়ে ফিরে যাওয়া নির্ভর করে পরিচালনার অনুমতির পাশাপাশি প্রতিটি সরকারের রাজনৈতিক মূল্যায়নের ওপরও।
ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখার অঙ্গীকারও যুক্ত করেছে সুইজারল্যান্ড। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিবরণে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য সীমিত এবং উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করে অর্থনৈতিক বিষয়ক রাষ্ট্রীয় সচিবালয়।
তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হলো, পিয়ংইয়ংয়ে সুইস রাজনৈতিক যোগাযোগের একজন আবাসিক প্রতিনিধি থাকছেন। মানবিক সহায়তা আবার শুরু করতে প্রকল্প পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে আরও একটি সমঝোতা দরকার হবে। এদিকে পারমাণবিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সুইজারল্যান্ডের ঘোষিত অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।
মূল বিষয়গুলো
- সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে, ছয় বছর অনুপস্থিত থাকার পর পিয়ংইয়ংয়ের কূটনৈতিক কার্যালয় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করেছে।
- আগের মানবিক সহযোগিতা কার্যালয়ের ভবনে নতুন কার্যালয়টি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে কাজ করবে।
- পরিকল্পনায় একজন সুইস কূটনীতিক ও দুজন স্থানীয় কর্মীর কথা রয়েছে; কূটনৈতিক ও কনস্যুলার দায়িত্ব বেইজিং দূতাবাসের কাছেই থাকবে।
- মানবিক কার্যক্রম নির্ভর করছে প্রকল্পস্থলে প্রবেশাধিকার, সরবরাহ আমদানি, বিশেষজ্ঞদের যাতায়াত এবং ব্যয়ের হিসাব যাচাইয়ের সুযোগের ওপর।
- ভবন সংস্কারে ২০০,০০০ থেকে ৫০০,০০০ সুইস ফ্রাঁ এবং বার্ষিক পরিচালনায় ৯০০,০০০ ফ্রাঁ ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে।
- সুইজারল্যান্ড বলেছে, নিষেধাজ্ঞা নীতি এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।






