কারখানা সচল রাখে যেসব উপাদান, সেগুলোর পরিকল্পনা
শিল্পভিত্তির সক্ষমতা আন্তর্জাতিকভাবে উন্নত পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্য ২০৩০ সাল নির্ধারণ করেছে চীন। এ লক্ষ্যে আটটি সরকারি সংস্থা ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর ২২টি কাজের একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ইলেকট্রনিক উপাদান ও শিল্প সফটওয়্যার থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরীক্ষার প্ল্যাটফর্ম এবং নতুন পণ্যকে কারখানায় প্রবেশে সহায়তা করা ক্রয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত—বিভিন্ন ক্ষেত্র এতে অন্তর্ভুক্ত।
সূচিপত্র
- কারখানা সচল রাখে যেসব উপাদান, সেগুলোর পরিকল্পনা
- ছোট উপাদানে কেন বড় ঝুঁকি
- ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের লক্ষ্য
- ভবিষ্যৎ শিল্পের ভিত্তি প্রস্তুত
- পণ্যের নকশা ও কারখানার সিদ্ধান্তে এআই
- নতুন পণ্যকে প্রথম কারখানায় পৌঁছে দেওয়া
- বিশেষায়িত সরবরাহকারী ও শিল্প ক্লাস্টার
- অর্থায়ন, দক্ষতা ও বিদেশি অংশগ্রহণ
- বাস্তবায়ন কীভাবে মূল্যায়ন হবে
- মূল বিষয়
১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদের জন্য প্রণীত শিল্পভিত্তির সক্ষমতা উন্নয়ন পরিকল্পনাটির নথি নম্বর 工信部联规〔2026〕208号 এবং এর তারিখ ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর। পরিকল্পনাটি প্রকাশ করায় নির্মাতা, বিনিয়োগকারী ও স্থানীয় সরকারগুলো জটিলতর সরঞ্জামের পেছনে থাকা মৌলিক প্রযুক্তি ও পণ্য শক্তিশালী করার জন্য একটি অভিন্ন সময়সূচি পেয়েছে।
শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন, শিক্ষা, অর্থ ও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ তদারকিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেট কাউন্সিলের সংস্থা, বাজার নিয়ন্ত্রণ প্রশাসন এবং প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রশাসন।
মূল ধারণাটি হলো গবেষণার সঙ্গে বাস্তব ব্যবহারকে যুক্ত করা। বিদ্যমান দুর্বলতা দূর করা, যেসব ক্ষেত্রে চীনের আগে থেকেই সুবিধা আছে সেগুলো শক্তিশালী করা এবং উদীয়মান শিল্প সম্প্রসারিত হওয়ার আগেই সেগুলোর প্রয়োজনীয় উপাদান প্রস্তুত করতে চায় দেশটি।
আগের পরিকল্পনা মেয়াদে অর্জিত অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে এ পরিকল্পনা। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১৪তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে ২০০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক পণ্যের প্রকৌশল উন্নয়ন ও শিল্প উৎপাদনে অগ্রগতি হয়েছে। নতুন কর্মসূচির লক্ষ্য এসব অগ্রগতিকে নির্ভরযোগ্যতা, গুণমান ও সরবরাহ নিরাপত্তার আরও ব্যাপক উন্নয়নে রূপ দেওয়া।
সরঞ্জাম নির্মাতার জন্য এর অর্থ হতে পারে আরও নির্ভরযোগ্য উপাদান বা সফটওয়্যার সরবরাহকারীর কাছে পৌঁছানো। ছোট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য এর অর্থ হতে পারে উন্নত পরীক্ষার সুবিধা এবং প্রথম শিল্পগ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর আরও স্পষ্ট পথ।
ছোট উপাদানে কেন বড় ঝুঁকি
শিল্পভিত্তির মধ্যে রয়েছে মৌলিক যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক উপাদান, উপকরণ, সফটওয়্যার, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং উৎপাদনে সহায়তাকারী কারিগরি পরিষেবা। দক্ষ কর্মী, বাজার পরিস্থিতি ও সরকারি নীতিও এর অংশ, কারণ কোনো পণ্য বাণিজ্যিক ব্যবহারে পৌঁছাতে মানুষ, গ্রাহক ও বিনিয়োগ প্রয়োজন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের বর্ণনায়, অনেক মৌলিক পণ্য ছোট, বিচ্ছিন্ন এবং আড়ালে থাকে। কোনো কোনো পণ্যের বাজার সীমিত হতে পারে, আর একটি উপাদানের মূল্য পুরো যন্ত্রের মূল্যের সামান্য অংশও হতে পারে। সরবরাহকারীরা উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে ছড়িয়ে থাকেন, আর তাঁদের পণ্য প্রায়ই এমন সরঞ্জামের ভেতরে থাকে, যা গ্রাহকেরা কেবল একটি সম্পূর্ণ পণ্য হিসেবেই দেখেন।
তবু একটি উপাদানের ঘাটতিতে অনেক বড় যন্ত্রপাতির উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। বাস্তব প্রশ্ন হলো, নির্মাতারা প্রয়োজনের সময় সঠিক মানের উপযুক্ত যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে পারেন কি না।
চীনা প্রকৌশল একাডেমির শিক্ষাবিদ ঝৌ জি উৎপাদনের ব্যাপ্তি ও সক্ষমতার শক্তির মধ্যে অসামঞ্জস্যকে মূল দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ঝৌ বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো, চীনের শিল্পভিত্তি বড়, কিন্তু শক্তিশালী নয়।”
ঝৌ বাজারের নিম্ন প্রান্তে পণ্যের অতিরিক্ত সরবরাহ এবং আরও উন্নত পণ্যের ঘাটতির কথা উল্লেখ করেছেন। সমন্বিত সার্কিট ও শিল্প সফটওয়্যারকে তিনি এমন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যেখানে দুর্বলতা ও ঝুঁকি রয়ে গেছে। এ মূল্যায়ন ব্যাখ্যা করে কেন পরিকল্পনায় সরবরাহের প্রাপ্যতার পাশাপাশি কারিগরি সক্ষমতা ও গুণমানের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে চীনের লক্ষ্য
পরিকল্পনায় একটি সামগ্রিক লক্ষ্য এবং চারটি সহায়ক উদ্দেশ্য ধরে আকাঙ্ক্ষাগুলো সাজানো হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে শিল্পভিত্তির দুর্বলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে উদ্ভাবন জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং মানসম্পন্ন পণ্যের সরবরাহ উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে।
চারটি সহায়ক উদ্দেশ্য হলো পণ্যের গুণমান, গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও ব্র্যান্ড, বিশেষায়িত নির্মাতা এবং টেকসই বিনিয়োগের ব্যবস্থা। সরকার এমন মৌলিক পণ্য চায়, যা সম্পূর্ণ যন্ত্রের উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখবে; অন্য কোথাও তৈরি নকশায় শুধু খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য নয়।
উৎপাদনের নির্দিষ্ট পণ্যশ্রেণিতে নেতৃত্ব দেওয়া আরও বেশি প্রতিষ্ঠান এবং “লিটল জায়ান্ট” নামে পরিচিত আরও বেশি বিশেষায়িত ছোট প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলারও লক্ষ্য চীনের। নির্দিষ্ট বাজারে নিবিড় দক্ষতা ও উদ্ভাবনের জন্য স্বীকৃত এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। পরিকল্পনায় এ দুই গোষ্ঠীর জন্য সংখ্যাগত লক্ষ্য দেওয়া হয়নি; নতুন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার গুণগত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২২টি কাজকে সাতটি ক্ষেত্রে ভাগ করা হয়েছে: গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো, উদ্ভাবন জোরদার, কারিগরি অবকাঠামো উন্নত করা, গুণমান বাড়ানো, আরও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠান গড়া, মৌলিক পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো এবং শিল্প উন্নয়নের পরিবেশ উন্নত করা।
কর্মসূচিটির সময়সূচি কয়েকটি তারিখ দিয়ে নির্ধারিত হয়েছে:
- ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: পরিকল্পনা নথিতে উল্লেখিত তারিখ।
- ২০ অক্টোবর, ২০২৬: শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলী ওয়াং ওয়েইমিং বুদ্ধিমান উৎপাদনের নতুন প্রজন্মের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
- ২২ অক্টোবর, ২০২৬: আটটি সরকারি সংস্থা পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে প্রকাশ করে।
- ২০৩০: দুর্বলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং শিল্পভিত্তির সক্ষমতা আন্তর্জাতিকভাবে উন্নত পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্যবছর।
ভবিষ্যৎ শিল্পের ভিত্তি প্রস্তুত
কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, জৈব উৎপাদন, হাইড্রোজেন ও নিউক্লীয় ফিউশন শক্তি, মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগকারী ইন্টারফেস, দৈহিক বুদ্ধিমত্তা এবং ষষ্ঠ প্রজন্মের মোবাইল যোগাযোগ—সবই পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ গবেষণা কর্মসূচিতে রয়েছে। গভীর মহাকাশ, গভীর সমুদ্র, ভূগর্ভের গভীর স্তর এবং মেরু অঞ্চলে ব্যবহারের প্রযুক্তিও এতে অন্তর্ভুক্ত।
দৈহিক বুদ্ধিমত্তা বলতে এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বোঝায়, যা কোনো বাস্তব যন্ত্রের মাধ্যমে কাজ করে; যেমন, চারপাশের পরিবেশ শনাক্ত করে সে অনুযায়ী কাজ করা রোবট। এ ধরনের ব্যবস্থা সফটওয়্যারের পাশাপাশি বাস্তব উপাদান ও উৎপাদন পদ্ধতির ওপরও নির্ভরশীল।
বেইজিং পৌর সরকারের উপদেষ্টা দপ্তরের বিশেষ গবেষক এবং বেইজিংয়ের রাজনৈতিক পরামর্শক সংস্থার অর্থনৈতিক কমিটির উপপরিচালক লি ঝিচি এ পদ্ধতিকে চাহিদা তৈরি হওয়ার আগেই মৌলিক সক্ষমতা প্রস্তুত করার উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর উদ্বেগ, সম্পূর্ণ যন্ত্রের বিকাশ সেগুলোকে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান, উপকরণ ও সফটওয়্যারের চেয়ে দ্রুত হতে পারে।
তাই পরিকল্পনায় ভবিষ্যৎ গবেষণার কাজগুলোকে সম্ভাব্য ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। নতুন কোনো শিল্পে ঘাটতি দেখা দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে, শুরুতেই তার মৌলিক প্রয়োজনগুলো শনাক্ত করাই লক্ষ্য। সরবরাহকারীদের জন্য এর অর্থ হলো, আজকের অপ্রাপ্য পণ্যের বিকল্প তৈরির বাইরে গিয়ে আগামী দিনের সরঞ্জামের মৌলিক উপাদান বিকাশের গবেষণা কর্মসূচি।
পণ্যের নকশা ও কারখানার সিদ্ধান্তে এআই
পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুটি ভূমিকা রয়েছে: প্রতিষ্ঠানকে পণ্য উন্নয়ন ও উৎপাদনে সহায়তা করা এবং পণ্যের অংশ হয়ে ওঠা। সাধারণ ব্যবহারের মডেলের পাশাপাশি নির্দিষ্ট শিল্প খাতের উপযোগী মডেল তৈরির আহ্বান জানিয়েছে নথিটি।
শিল্পপ্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে সে বিষয়ে জ্ঞানকে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও কাজ সম্পাদনকারী এআই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শুরু থেকেই বুদ্ধিমত্তাকে নকশার অংশ করে এমন মৌলিক পণ্য তৈরি করাই লক্ষ্য, যেখানে সংবেদন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কাজ সম্পাদন একই কাঠামোয় যুক্ত থাকবে।
লি বলেন, এতে কোনো উপাদান থেকে নির্মাতাদের প্রত্যাশায় পরিবর্তন আসবে। নির্ভুলতা, কার্যকাল ও নির্ভরযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ থাকবেই; পাশাপাশি পরিবর্তনশীল পরিচালন পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাও তার মূল্যের অংশ হয়ে উঠবে।
পরিকল্পনায় মডেল-অ্যাজ-আ-সার্ভিস এবং এজেন্ট-অ্যাজ-আ-সার্ভিসকেও বিকাশযোগ্য ব্যবসায়িক মডেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সহজভাবে বললে, সব সক্ষমতা নিজস্বভাবে তৈরি না করে কোনো গ্রাহক চলমান পরিষেবা হিসেবে একটি এআই মডেল বা নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনকারী ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারেন।
কারখানায় প্রস্তাবিত ব্যবহারগুলোর মধ্যে রয়েছে গবেষণা, নকশার সিমুলেশন, পরীক্ষামূলক যাচাই এবং উৎপাদন কার্যক্রম। সিমুলেশনের মাধ্যমে প্রকৌশলীরা ডিজিটাল উপায়ে নকশা পরীক্ষা করতে পারেন; পরীক্ষামূলক যাচাইয়ের মাধ্যমে বৃহত্তর পরিসরে উৎপাদনের আগে কোনো প্রক্রিয়া বা পণ্যের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়।
২০ অক্টোবর শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলী ওয়াং ওয়েইমিং চারটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন: বিভিন্ন সক্ষমতার বুদ্ধিমান কারখানা গড়ে তোলা, বুদ্ধিমান সরঞ্জামের উন্নয়ন, বুদ্ধিমান প্রযুক্তির গবেষণা ও বাস্তব ব্যবহার ত্বরান্বিত করা এবং বুদ্ধিমান উৎপাদনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও গভীর করা।
পরিকল্পনায় শিল্প তথ্যভিত্তি উদ্যোগ এবং তথ্য নিয়ে কাজ করা সহযোগী গোষ্ঠী গঠনের কথাও বলা হয়েছে। শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যসম্পদ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করে এসব ব্যবস্থা এআই কর্মসূচির পাশাপাশি থাকবে।
নতুন পণ্যকে প্রথম কারখানায় পৌঁছে দেওয়া
উদ্ভাবন ও উৎপাদনের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিকল্পনায় প্রকৌশল উন্নয়ন, নকশা যাচাই, প্রক্রিয়ার উন্নয়ন, কার্যকারিতা পরীক্ষা, নমুনা উৎপাদন এবং বৃহত্তর পরিসরে নির্ভরযোগ্যভাবে প্রক্রিয়া পরিচালনার কাজের সুবিধা দেয়—এমন কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এসব পরিষেবা একটি বাস্তব সমস্যার সমাধান করে: পরীক্ষাগারে আশাব্যঞ্জক ফল পেলেও তা এমন পণ্যে রূপ দিতে হয়, যা বারবার উৎপাদন করা যায় এবং গ্রাহক ব্যবহার করতে পারেন। নকশা এখনো চূড়ান্ত হয়নি—এমন পণ্যের প্রাথমিক পরীক্ষার বিষয়েও পরিকল্পনায় সহায়তার কথা বলা হয়েছে।
এ সংযোগের আরেকটি অংশ হলো ক্রয়নীতিমালা। যন্ত্রপাতির প্রথমবারের ব্যবহার, উপকরণের প্রথম ব্যাচ এবং সফটওয়্যারের প্রথম সংস্করণে সহায়তা উন্নত করার ব্যবস্থা এর অন্তর্ভুক্ত। উদ্ভাবন প্রসার ক্যাটালগ এবং সমন্বিত প্রয়োগ কর্মসূচির মাধ্যমে সরবরাহকারীদের সঙ্গে ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্ভাবনী পণ্য কিনে ব্যবহার করলে ব্যর্থতার ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ রাখে—এমন ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান জানিয়েছে পরিকল্পনাটি। এতে নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের দায়িত্ব নেওয়া গ্রাহকের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় এসেছে: সরবরাহকারীর পরিচালন অভিজ্ঞতা দরকার, অন্যদিকে ক্রেতার প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য কার্যকারিতা।
জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন আলাদাভাবে ১৩৬টি বড় প্রয়োগ-পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম একটি গুচ্ছ প্রকল্প চালু করেছে। বাস্তব চাহিদা, দায়িত্বপ্রাপ্ত অংশীজন ও নির্ধারিত লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে এসব প্রকল্পে সুযোগগুলো সাজানো হয়েছে। কমিশনের মুখপাত্র লি চাও বলেন, শিল্প পার্ক ও সম্পদ দেওয়ার পাশাপাশি সুযোগ, পরিচালন পরিবেশ ও নিয়ম তৈরির দিকে বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তন আসছে।
বিশেষায়িত সরবরাহকারী ও শিল্প ক্লাস্টার
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গবেষণা ও সরবরাহশৃঙ্খলের সম্পদ উন্মুক্ত করতে বলা হয়েছে। পরিকল্পনায় বড়, মাঝারি ও ছোট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার পাশাপাশি ডিজিটাল উন্নয়ন, কম-কার্বন প্রক্রিয়া এবং কম শক্তি ব্যবহারকারী সরঞ্জামের প্রসারও রয়েছে।
চীন ইলেকট্রনিক উপাদান সমিতির উপমহাসচিব লি ফেং গবেষণার অগ্রাধিকার হিসেবে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য উপাদান, উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ও গতিতে কাজ করার সক্ষমতা এবং ছোট আকারের সমন্বিত নকশার কথা বলেছেন। তিনি এআই, মহাকাশ ও উড্ডয়ন, নতুন শক্তি, দৈহিক বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন যোগাযোগ প্রযুক্তির সঙ্গে এসব চাহিদার সম্পর্ক তুলে ধরেছেন।
শিল্প ক্লাস্টার সরবরাহকারীদের সহযোগিতার জন্য বিদ্যমান একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। চীনে ২৬টি প্রাদেশিক পর্যায়ের প্রশাসনিক অঞ্চলে ৮০টি জাতীয় উন্নত উৎপাদন ক্লাস্টার রয়েছে। এগুলো উন্নত সরঞ্জাম, তথ্যপ্রযুক্তি, নতুন উপকরণ এবং বুদ্ধিমান সংযুক্ত নতুন শক্তিচালিত যানবাহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এসব ক্লাস্টারে ১,৭০০টির বেশি জাতীয় উদ্ভাবন সংস্থা এবং ৩,০০০টির বেশি জনসেবা প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। মোট সংখ্যা ৮০ দিয়ে ভাগ করলে প্রতি ক্লাস্টারে গড়ে ২১টির বেশি উদ্ভাবন সংস্থা ও ৩৭টির বেশি পরিষেবা প্ল্যাটফর্ম হয়; তবে বাস্তবে বণ্টন ভিন্ন।
উন্নত উৎপাদন ক্লাস্টার ও জাতীয় উচ্চপ্রযুক্তি অঞ্চলগুলোকে মৌলিক পণ্যের গবেষণা ও প্রাথমিক ব্যবহার নিয়ে সহযোগিতা করতে বলেছে পরিকল্পনাটি। ওয়াংয়ের পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিশালী পরিণত ক্লাস্টার এবং এখনো বিকাশমান ক্লাস্টারের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে; একই সঙ্গে অঞ্চল ও শিল্পজুড়ে সম্পদ ভাগাভাগির আহ্বান জানানো হয়েছে।
অর্থায়ন, দক্ষতা ও বিদেশি অংশগ্রহণ
টেকসই বিনিয়োগ পরিকল্পনার চারটি সহায়ক উদ্দেশ্যের একটি। প্রস্তাবিত উপকরণের মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে কর-প্রণোদনা, শিল্প ও অর্থায়নকে সংযুক্ত করার প্ল্যাটফর্ম এবং শিল্পভিত্তিতে আরও বেশি বেসরকারি পুঁজি টানার ব্যবস্থা।
লি ঝিচির মতে, এসব প্রযুক্তি বিকাশে প্রায়ই দীর্ঘ সময় লাগে এবং আয়ের নিশ্চয়তা থাকে না। তাঁর মূল্যায়নে, একের পর এক স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পের বদলে অর্থায়নব্যবস্থা অব্যাহত কাজকে সহায়তা করতে পারে কি না, সেটিই মূল বিবেচ্য। তিনি আরও বলেন, উদ্ভাবনী পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার সুযোগ রাখার বিষয়টি কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, নিরীক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ তদারকিতেও প্রতিফলিত হওয়া দরকার।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রকৌশল শিক্ষার বিষয়গুলো সমন্বয় করতে হবে; একই সঙ্গে প্রকৌশলী, দক্ষ কারিগরি কর্মী এবং উন্নত কারুশিল্পে দক্ষ কর্মী গড়ে তোলায় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে। এভাবে গবেষণা কর্মসূচিকে পণ্য নকশা, উৎপাদন প্রক্রিয়ার উন্নয়ন এবং সরঞ্জাম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মীদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
কর্মসূচিতে বিদেশি অংশগ্রহণও রয়েছে। চীনের শিল্পভিত্তি খাতে উন্নত গবেষণা কেন্দ্র ও উৎপাদন ঘাঁটি স্থাপনে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি চীনের মৌলিক পণ্যকে বিদেশি বাজারে পৌঁছাতে সহায়তার উদ্যোগও রয়েছে।
বাস্তবায়ন কীভাবে মূল্যায়ন হবে
শিল্প মন্ত্রণালয় অংশগ্রহণকারী অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করে বার্ষিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরি করবে। তদারকি কাঠামোয় ধারাবাহিক নজরদারি, বাস্তবায়নকালে মূল্যায়ন এবং চূড়ান্ত পর্যালোচনা থাকবে; কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ও করা হবে।
প্রস্তাবিত শিল্পভিত্তি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জরিপের মাধ্যমে সক্ষমতার আরও বিস্তারিত চিত্র তৈরি করা হবে। উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম, পরীক্ষাসেবা ও শিল্পসংগঠনগুলোও বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনাটি তিনটি বাস্তব সমস্যাকে একসূত্রে যুক্ত করেছে: সক্ষম পণ্য তৈরি, তা ব্যবহার করতে আগ্রহী গ্রাহক খুঁজে পাওয়া এবং উন্নয়নের সময় বিনিয়োগ ধরে রাখা। এসব সংযোগ কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে, তার ওপর নির্মাতাদের ক্ষেত্রে পরিকল্পনার প্রভাব নির্ভর করবে। ভালো উপাদানের জন্য নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা দরকার; নতুন সরবরাহকারীদের ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে হবে; আর বারবার উন্নয়নের চক্রজুড়ে উভয়েরই স্থায়ী সহায়তা প্রয়োজন।
মূল বিষয়
- চীনের আটটি সরকারি সংস্থা ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর শিল্পভিত্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে; লক্ষ্যবছর ২০৩০।
- উদ্ভাবন, গুণমান, সরবরাহ সক্ষমতা এবং শিল্পে ব্যাপক ব্যবহারের মতো সাতটি ক্ষেত্রে কর্মসূচিতে ২২টি কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে।
- গবেষণার অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে এআই, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, জৈব উৎপাদন, ফিউশন শক্তি, দৈহিক বুদ্ধিমত্তা এবং ৬জি।
- পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম ও ক্রয়নীতির লক্ষ্য নতুন পণ্যকে উন্নয়ন পর্যায় থেকে কারখানার ব্যবহারে নিয়ে যাওয়া।
- অর্থায়ন, প্রকৌশল দক্ষতা, শিল্প ক্লাস্টার ও বিদেশি বিনিয়োগ বাস্তবায়ন কর্মসূচির অংশ।
- অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে বার্ষিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, ধারাবাহিক নজরদারি এবং ধাপভিত্তিক মূল্যায়ন রাখা হয়েছে।






