অর্থায়নের উদ্যোগ দ্বিগুণ আকার ধারণ করেছে
প্রায় ১০ হাজার কোটি ইউয়ান বা ১৫০০ কোটি ডলারের একটি তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়া শেষের দিকে ডিপসিক। এর বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে টেনসেন্ট এবং ব্যাটারি নির্মাতা কনটেম্পোরারি অ্যাম্পেরেক্স টেকনোলজি, যা ক্যাটল (CATL) নামে পরিচিত। সম্ভাব্য ২০২৭ সালের শুরুর দিকে সাংহাই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি নিতে থাকা হাংঝৌভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানিটি এই অর্থ দিয়ে মডেল, কম্পিউটিং অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে।
সূচিপত্র
- অর্থায়নের উদ্যোগ দ্বিগুণ আকার ধারণ করেছে
- কারা বিনিয়োগ করছে, আর ডিপসিকের মূল্য কত?
- যেভাবে এগিয়েছে তহবিল সংগ্রহ
- সাংহাইয়ে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি এগোচ্ছে
- দাম বাড়ায়ও আয় বৃদ্ধি
- কম্পিউটিং খাতে কোথায় ব্যয় হতে পারে
- চীনা চিপে মডেল চালানোর প্রস্তুতি
- নতুন মডেলের লক্ষ্য কম মেমোরি ব্যবহার
- সস্তা উত্তরের প্রতিযোগিতা থেকে সম্পূর্ণ কাজের প্রতিযোগিতা
- মূল তথ্য
২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য থেকে বোঝা যায়, লেনদেনটি কত দ্রুত বড় হয়েছে। শুরুতে ডিপসিক ৫ হাজার কোটি ইউয়ান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। পরে লক্ষ্য বাড়িয়ে ৮ হাজার কোটি ইউয়ান করা হয় এবং এরপর তা প্রায় ১০ হাজার কোটি ইউয়ানে পৌঁছায়। সর্বশেষ অঙ্কটি তাদের প্রাথমিক লক্ষ্যের দ্বিগুণ।
লেনদেন সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা বলেছেন, ডিপসিক অর্থ সংগ্রহ করেছে। তবে অন্যরা বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা এবং আর্থিক শর্ত ও বিনিয়োগকারীদের তালিকায় পরিবর্তন হতে পারে। এসব বক্তব্য প্রকাশের সময় পর্যন্ত ডিপসিক লেনদেনটি, এর চূড়ান্ত পরিমাণ বা শর্তাবলি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি।
জুনে সম্পন্ন প্রথম বহিরাগত তহবিল সংগ্রহের পর এই অর্থায়ন হচ্ছে। দ্বিতীয় দফার তহবিল সংগ্রহ শুরু হয় জুলাইয়ে। সর্বশেষ লেনদেনটি ঘোষিত পরিমাণে সম্পন্ন হলে, প্রায় ছয় মাসে দুই দফায় ডিপসিক মোটামুটি ১৫ হাজার কোটি ইউয়ান সংগ্রহ করবে।
তুলনামূলক কম খরচে প্রতিযোগিতামূলক এআই মডেল তৈরি করা সম্ভব, ২০২৫ সালে তা দেখিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর কাড়ে ডিপসিক। এতে প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং প্রযুক্তি শেয়ার বিক্রি বেড়ে যায়। এখনকার ব্যয় পরিকল্পনা এই চ্যালেঞ্জের পরবর্তী ধাপ তুলে ধরছে: দক্ষ সফটওয়্যারকে পর্যাপ্ত কম্পিউটিং সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করে আরও বেশি গ্রাহককে সেবা দেওয়া এবং আরও সক্ষম সিস্টেম তৈরি করা।
এখন মূল ব্যবসায়িক প্রশ্নটি স্পষ্ট: অনেক বড় অঙ্কের পুঁজিকে নির্ভরযোগ্য কম্পিউটিং অবকাঠামো, কার্যকর মডেল এবং সেগুলো চালু রাখার চলমান ব্যয় মেটানোর মতো আয়ে রূপান্তর করতে হবে ডিপসিককে।
কারা বিনিয়োগ করছে, আর ডিপসিকের মূল্য কত?
উইচ্যাট পরিচালনাকারী টেনসেন্ট এবং ক্যাটল আগের বিনিয়োগকারী। সর্বশেষ দফায় ১৫টিরও বেশি বিনিয়োগকারী যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে প্রযুক্তি কোম্পানি, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগ তহবিল একত্র হয়েছে।
নাম জানা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছে গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি নির্মাতা মিদেয়া, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেইতুয়ান, গাড়ি নির্মাতা জিলি এবং সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি গিগাডিভাইস। তহবিল সংগ্রহে যুক্ত অন্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে স্টোনি ক্রিক ক্যাপিটাল, চায়না ফরচুন-টেক ক্যাপিটাল, সিপিই, লেজেন্ড ক্যাপিটাল, বয়ু ক্যাপিটাল এবং আইডিজি ক্যাপিটাল। কেউ কেউ আগের আলোচনাতেও যুক্ত ছিল, তবে দফাটির চূড়ান্ত সদস্যপদ তখনো নির্ধারণ করা হচ্ছিল।
ধারণা করা হয়েছিল, বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডার ও নতুন বিনিয়োগকারীরা প্রায় সমান অঙ্কের অর্থ দেবে। প্রথম দফায় প্রায় ৫০০ কোটি ইউয়ান দেওয়ার পর ক্যাটল এবার প্রায় ১ হাজার কোটি ইউয়ান দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে। এ পরিমাণ হলে তাদের নতুন অবদান আগের বিনিয়োগের দ্বিগুণ এবং নতুন অর্থায়নের প্রায় এক-দশমাংশ হবে।
নতুন বিনিয়োগের আগে ডিপসিকের মূল্য প্রায় ৫০ হাজার কোটি ইউয়ান বলে জানা গেছে। কোম্পানির হাতে থাকা নগদ অর্থ নয়, বরং পুরো ব্যবসাটির জন্য বিনিয়োগকারীরা যে দাম নির্ধারণ করেন, সেটিই মূল্যায়ন। সরল হিসাবে, ১০ হাজার কোটি ইউয়ান যোগ হলে বিনিয়োগের পর মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৬০ হাজার কোটি ইউয়ান; নতুন পুঁজি হবে মোট অঙ্কের প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ। লেনদেনের শর্তের ওপর চূড়ান্ত মালিকানা বণ্টন নির্ভর করবে।
শিল্প ও প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীদের সমন্বয় ডিপসিককে বিস্তৃত আর্থিক ভিত্তি দিচ্ছে। তবে বিনিয়োগ চুক্তি সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যে এসব কোম্পানি কীভাবে মডেলগুলো ব্যবহার করতে পারে বা তারা বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা পাবে কি না, তার কোনো বিবরণ নেই।
যেভাবে এগিয়েছে তহবিল সংগ্রহ
নতুন মডেল এবং চীনা কম্পিউটিং হার্ডওয়্যার নিয়ে কাজের পাশাপাশি ডিপসিকের অর্থায়ন ও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি এগিয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ব্যাখ্যা করে, সর্বশেষ দফাটি কেন প্রাথমিক লক্ষ্যের তুলনায় অনেক বড় হয়েছে।
- এপ্রিল ২০২৬: ডিপসিক প্রথম বহিরাগত তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ শুরু করে বলে জানা গেছে।
- জুনের শেষ দিকে: প্রথম দফা সম্পন্ন হয়; সংগ্রহ হয় প্রায় ৭৪০ কোটি ডলার বা আনুমানিক ৫ হাজার কোটি ইউয়ান।
- জুলাই: দ্বিতীয় দফা শুরু করে ডিপসিক; প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ৫ হাজার কোটি ইউয়ান।
- সেপ্টেম্বর: ডিপসিক-ভি৪.১-ফ্ল্যাশ প্রকাশ করে এবং ইয়েন ওয়েন-তাওকে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয় কোম্পানিটি।
- ৩০ সেপ্টেম্বর: হুয়াওয়ে অ্যাসেন্ড হার্ডওয়্যারের জন্য ছয়টি সফটওয়্যার উপাদান প্রকাশ করে ডিপসিক।
- ৬ অক্টোবর: তহবিল সংগ্রহের অঙ্ক অন্তত ৮ হাজার কোটি ইউয়ানে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়; মোট অঙ্ক ১০ হাজার কোটি ইউয়ানের কাছাকাছি হতে পারে।
- ১৭ অক্টোবর: পুরো উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়ে ভি৪.১-ফ্ল্যাশ-১০১৭ প্রকাশ করে ডিপসিক।
- ২২ অক্টোবর: সর্বশেষ প্রতিবেদনগুলোতে অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি ইউয়ান বলা হয়; কয়েক দিনের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার কথা।
আরও বিনিয়োগকারী যোগ দিতে চাওয়ায় জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আলোচনা চলে বলে জানা গেছে। শেষ পর্যায়ে লেনদেনটি সম্প্রসারণের পুঁজি জোগানোর পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির প্রস্তুতির অংশ হয়ে ওঠে।
সাংহাইয়ে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি এগোচ্ছে
২০২৭ সালের শুরুর দিকে সাংহাইয়ে তালিকাভুক্তির লক্ষ্য রয়েছে ডিপসিকের। স্টার মার্কেটে সম্ভাব্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের প্রস্তুতিতে সহায়তার জন্য সিটিক সিকিউরিটিজকে বেছে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি বলে জানা গেছে। আইপিওর মাধ্যমে কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজারে শেয়ার বিক্রি করে; এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য মালিকানার সুযোগ তৈরি হয় এবং অর্থ সংগ্রহের আরেকটি পথ খোলে।
স্টার মার্কেট হলো সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের প্রযুক্তি কোম্পানিকেন্দ্রিক বোর্ড। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ডিপসিকের করপোরেট কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। অক্টোবরের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, তালিকাভুক্তির নির্দেশনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি তখনো স্বাক্ষরিত হয়নি; পরবর্তী প্রতিবেদনে সিটিক সিকিউরিটিজকে নির্বাচিত বা নিয়োগ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
ভেঞ্চার ক্যাপিটালে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা ইয়েন ওয়েন-তাও সেপ্টেম্বরে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, মাসের শেষ দিকে তিনি দায়িত্ব নেন। সাধারণত প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আর্থিক প্রতিবেদন, তহবিল সংগ্রহ এবং তালিকাভুক্তির আগে বিনিয়োগকারীদের কোম্পানির মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির দায়িত্বে থাকেন।
২০২৭ সালের শুরুর দিকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা লক্ষ্য, ঘোষিত লেনদেন শুরুর তারিখ নয়। প্রস্তাবিত শেয়ারের পরিমাণ, তালিকাভুক্তির চূড়ান্ত মূল্যায়ন বা বিস্তারিত সময়সূচি ডিপসিক প্রকাশ্যে জানায়নি। পরিকল্পনা এগোলে, আইপিও বিবেচনা করছে এমন কিছু বড় প্রতিদ্বন্দ্বী, যেমন ওপেনএআই ও মুনশট এআইয়ের আগেই তারা শেয়ারবাজারে আসতে পারে।
দাম বাড়ায়ও আয় বৃদ্ধি
প্রতিষ্ঠাতা লিয়াং ওয়েনফেং সেপ্টেম্বরে বিনিয়োগকারীদের বলেছেন, ডিপসিকের বার্ষিকীকৃত আয় প্রায় ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। মডেলের দাম বাড়ায়ও এই প্রবৃদ্ধির একটি অংশ হয়েছে।
বার্ষিকীকৃত আয় বলতে সাম্প্রতিক বিক্রির হারকে ধরে পুরো এক বছরের সম্ভাব্য আয় হিসাব করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যবসা মাসে প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বিক্রি করলে, সেই গতি বজায় থাকলে বার্ষিক আয় দাঁড়াবে প্রায় ১০০ কোটি ডলার। ডিপসিকের অঙ্কটি তাদের সাম্প্রতিক আয়ের গতি তুলে ধরে; পূর্ণ অর্থবছরের প্রকৃত আয় নির্ভর করবে ওই বছরের পুরো সময়ের বিক্রির ওপর।
দামের কারণে আয় বাড়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বেশি দাম, বেশি ব্যবহার বা দুটির সমন্বয়ে আয় বাড়তে পারে। গ্রাহকদের জন্য প্রাসঙ্গিক হিসাব হলো, ব্যয় করা অর্থের বিনিময়ে একটি মডেল কতটা কার্যকর কাজ করছে। কোনো সিস্টেম কম চেষ্টায় কাজ শেষ করলে বা কম কম্পিউটিং সময় ব্যবহার করলে বেশি দামেও তা সাশ্রয়ী হতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত ১৫০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন ঘোষিত ১০০ কোটি ডলারের বার্ষিক আয়ের গতির প্রায় ১৫ গুণ। এই তুলনা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করা সম্পদের ব্যাপ্তি দেখায়। আয় বিক্রির পরিমাণ নির্দেশ করে, আর বিনিয়োগ এমন পুঁজি জোগায়, যা সময়ের সঙ্গে গবেষণা, যন্ত্রপাতি এবং পরিচালন ব্যয়ে ব্যবহার করা যায়।
কম্পিউটিং খাতে কোথায় ব্যয় হতে পারে
ডেটা সেন্টার এবং যেসব মডেলের মূল উপাদান জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত, সেগুলোর পেছনে ব্যয় বাড়িয়েছে ডিপসিক। মডেল গবেষণা ও কম্পিউটিং সক্ষমতায় সহায়তার জন্য নতুন অর্থায়ন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন সিস্টেম তৈরি এবং গ্রাহকদের অনুরোধের উত্তর দিতে এ দুটিই অপরিহার্য।
প্রস্তাবিত বড় প্রকল্পগুলোর একটি হলো ইনার মঙ্গোলিয়ার একটি ডেটা সেন্টার, যেখানে অন্তত ১ লাখ ৬০ হাজার হুয়াওয়ে অ্যাসেন্ড ৯৫০ডিটি অ্যাক্সিলারেটর থাকবে। এআইয়ে ব্যবহৃত বিপুল গণনা সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি প্রসেসর হলো অ্যাক্সিলারেটর। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে হুয়াওয়ের এআই হার্ডওয়্যার ব্যবহারকারী বৃহত্তম পরিচিত স্থাপনাগুলোর একটি তৈরি হবে।
স্বল্প মেয়াদে চিপ কেনার ব্যয় আনুমানিক ১ হাজার ৭০০ কোটি ইউয়ান ধরা হয়েছে। ১০ হাজার কোটি ইউয়ানের তহবিলের তুলনায় তা হবে সংগৃহীত অর্থের প্রায় ১৭ শতাংশ; তবে এতে ভবন, বিদ্যুৎ, শীতলীকরণ, নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য সরঞ্জামের ব্যয় ধরা হয়নি। প্রস্তাবিত স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত যন্ত্রপাতি কেনার এই হিসাবটি একটি আনুমানিক ব্যয়।
হুয়াওয়ের উপচেয়ারম্যান ও পর্যায়ক্রমিক চেয়ারম্যান এরিক শু সেপ্টেম্বরে বলেন, অ্যাসেন্ড ৯৫০ডিটি সিস্টেমের পরীক্ষা তখনো চলছিল; বড় পরিসরে সরবরাহ ২০২৬ সালের শেষ দিকে বা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে প্রত্যাশিত। পরবর্তী প্রজন্মের ৯৬০ডিটি ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। এই সময়সূচি ডিপসিকের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতির প্রাপ্যতাকে বাস্তব সীমাবদ্ধতায় পরিণত করছে।
উত্তর তৈরির চলমান ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ডিপসিকের ইনফারেন্স চিপ প্রকল্প নিয়ে কাজের খবরের পরই অবকাঠামো সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ এসেছে। নিজস্ব প্রসেসর নকশা এবং হুয়াওয়ের হার্ডওয়্যার ব্যবহারের প্রস্তাব, দুটোই একই ব্যয়ের ভিন্ন দিক সামলায়: বাড়তে থাকা এআই সেবা চালানোর জন্য পর্যাপ্ত কম্পিউটিং সক্ষমতা সংগ্রহ ও পরিচালনা।
চীনা চিপে মডেল চালানোর প্রস্তুতি
অ্যাসেন্ড প্রসেসরের উপযোগী প্রোগ্রামিং টুল তৈরিতে হুয়াওয়ের সঙ্গেও কাজ করেছে ডিপসিক। ৩০ সেপ্টেম্বর ডিপজিইএমএম-অ্যাসেন্ড, ডিপইপি-অ্যাসেন্ড, ফ্ল্যাশএমএলএ এবং টাইলল্যাংয়ের অ্যাসেন্ড সংস্করণসহ ছয়টি উপাদান প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।
এই প্রকল্পের জন্য সফটওয়্যারের সামঞ্জস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক এআই উন্নয়ন টুল এনভিডিয়ার সিইউডিএ সফটওয়্যার পরিবেশকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। অন্য কোনো চিপ পরিবারের হার্ডওয়্যারে কাজ সরিয়ে নিতে হলে নতুন হার্ডওয়্যারে গণনা, প্রসেসরের মধ্যে যোগাযোগ এবং মেমোরি ব্যবস্থাপনা নির্ভরযোগ্যভাবে চালানোর ব্যবস্থা করতে হয়।
বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও মডেলের অভ্যন্তরীণ সেটিং সমন্বয়ের মাধ্যমে মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ইনফারেন্স হলো প্রশিক্ষিত মডেল কোনো অনুরোধের উত্তর দেওয়ার সময় যে কাজ করে। সীমান্তবর্তী সক্ষমতার মডেল প্রশিক্ষণে চীনা হার্ডওয়্যার ব্যবহারের ডিপসিকের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা জানা গেছে, তা দেশীয় প্রসেসরকে বিশেষভাবে চাহিদাপূর্ণ কাজে ব্যবহার করবে; এ ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক চিপ চালাতে হয়।
রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন পাওয়া ডেটা সেন্টারের জন্য চীনের আগের দেশীয় চিপ ব্যবহারের শর্তও শিল্পকে স্থানীয় সরঞ্জামের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ডিপসিকের পরিকল্পিত স্থাপনাটি এই বৃহত্তর পরিবর্তনে বড় বাণিজ্যিক উদ্যোগ যোগ করবে। ফলে নতুন পুঁজি কার্যকরভাবে ব্যয় করার সক্ষমতার জন্য হার্ডওয়্যার সরবরাহ ও সহায়ক সফটওয়্যার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নতুন মডেলের লক্ষ্য কম মেমোরি ব্যবহার
সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত ভি৪.১-ফ্ল্যাশ মডেলটিকে অধিক সক্ষমতা, দ্রুততর ইনফারেন্স এবং বেশি থ্রুপুটের জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল ডিপসিক। নির্দিষ্ট সময়ে একটি সিস্টেম যতটা কাজ প্রক্রিয়া করতে পারে, সেটিই থ্রুপুট; এর ওপর নির্ভর করে কতগুলো গ্রাহক অনুরোধ সামলানো যাবে।
মডেলটিতে ৫৫২ বিলিয়ন প্যারামিটার রয়েছে বলে জানা গেছে। মডেলের উত্তর নির্ধারণে সহায়তাকারী অভ্যন্তরীণ সংখ্যাগত সেটিংকে প্যারামিটার বলা হয়। ইনপুট প্রক্রিয়াকরণের সময় প্রায় ৮ বিলিয়ন এবং আউটপুট তৈরির সময় ১৬ বিলিয়ন প্যারামিটার সক্রিয় হয়। প্রতিটি ধাপে মডেলের কেবল একটি অংশ ব্যবহার করায় অনুরোধ প্রক্রিয়ায় কম কম্পিউটিং শক্তি লাগতে পারে।
কী ভ্যালু ক্যাশ বা কেভি ক্যাশের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ কমানোর কথাও জানিয়েছে ডিপসিক। মডেল যে লেখা প্রক্রিয়া করছে, সেখানকার তথ্য মনে রাখতে সহায়তা করে এই অস্থায়ী সংরক্ষণব্যবস্থা। উচ্চ ব্যান্ডউইথের মেমোরির প্রয়োজন আগের প্রজন্মের এক-চতুর্থাংশে নেমেছে বলে জানানো হয়েছে; সলিড স্টেট স্টোরেজের প্রয়োজন কমেছে এক-অষ্টমাংশে।
নির্দিষ্ট ওই ক্যাশ সম্পদের ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান যথাক্রমে ৭৫ শতাংশ ও ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাসের সমতুল্য। আগের লেখা বারবার বিবেচনা করা, টুল ব্যবহার করা এবং ফল সংশোধনের মতো কাজে কম মেমোরি লাগলে একই সরঞ্জামে আরও বেশি কাজ করা সম্ভব হয়।
১৭ অক্টোবরের হালনাগাদ সংস্করণ ভি৪.১-ফ্ল্যাশ-১০১৭-তে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রকল্প সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়। ডিপসিক বলেছে, তারা স্ব-প্রতিক্রিয়াসহ রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং ব্যবহার করেছে। এই প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে সিস্টেম নিজের ফলাফলের মূল্যায়ন থেকে শেখে। নিষিদ্ধ নগরীর ত্রিমাত্রিক মডেল এবং ব্রাউজারে খেলা যায় এমন রেসিং গেমের উদাহরণও দেখানো হয়।
সস্তা উত্তরের প্রতিযোগিতা থেকে সম্পূর্ণ কাজের প্রতিযোগিতা
ডিপসিকের অর্থায়ন মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সম্পদের ব্যবধান কমাবে, যদিও ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক প্রত্যেকে ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে। ফলে দুই কোম্পানির প্রত্যেকের মোট তহবিল সংগ্রহ ডিপসিকের সর্বশেষ প্রতিবেদিত দফার ছয় গুণেরও বেশি।
চীনের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতাও দ্রুত বাড়ছে। প্রোগ্রামিং, কম্পিউটার পরিচালনা ও এআই এজেন্টের কাজে ব্যবহারের লক্ষ্যে ১৯ অক্টোবর এম৩.১ ফ্ল্যাশ প্রকাশ করে মিনিম্যাক্স। এজেন্ট হলো এমন সিস্টেম, যা কোনো লক্ষ্য পূরণে একাধিক ধাপ এগোয়; যেমন টুল খোলা, কোড লেখা এবং ফলাফল যাচাই করা।
মিনিম্যাক্সের দাবি, তাদের নতুন মডেলের ইনফারেন্স আগের তুলনায় প্রায় তিন গুণ দ্রুত এবং ব্যবহারের খরচ ৭০ শতাংশ কম। পরবর্তী দুই সপ্তাহে মুনশট এআইয়ের কিমি এবং ঝিপুর জিএলএমের হালনাগাদ সংস্করণও আসার কথা ছিল। এসব পণ্যের মধ্যে বেছে নেওয়ার সময় ডেভেলপারদের বাস্তব তুলনা করতে হয়: কাজ সম্পন্ন করার খরচ, গতি এবং নির্ভরযোগ্যতা।
নতুন পুঁজি আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণে সহায়তা করবে বলে আশা করছে ডিপসিক, তবে কিছু বাজারে বিধিনিষেধ রয়েছে। নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নীতিমালা নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে কিছু মার্কিন সংস্থাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান সরকারি ডিভাইসে তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ালেও এসব বিধিনিষেধের কারণে ওই গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো সীমিত হয়।
পরবর্তী আর্থিক মাইলফলক হলো বিনিয়োগের দফাটি সম্পন্ন করা। এর পর ঘোষিত ২০২৭ সালের শুরুর দিকে তালিকাভুক্তির লক্ষ্য এবং হুয়াওয়ের কাছ থেকে প্রত্যাশিত হার্ডওয়্যার সরবরাহ একই সময়সীমায় অর্থায়ন, যন্ত্রপাতির সরবরাহ এবং শেয়ারবাজারে আসার প্রস্তুতিকে একত্র করছে। গ্রাহকেরা অর্থ দিতে আগ্রহী এমন মডেল প্রকাশ অব্যাহত রেখে এই তিনটি বিষয় সমন্বয় করাই ডিপসিকের চ্যালেঞ্জ।
মূল তথ্য
- ডিপসিকের সর্বশেষ তহবিল সংগ্রহ প্রায় ১০ হাজার কোটি ইউয়ান বা ১৫০০ কোটি ডলার বলে জানা গেছে, যা প্রাথমিক লক্ষ্যের দ্বিগুণ।
- বড় সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে টেনসেন্ট ও ক্যাটল; ১৫টিরও বেশি বিনিয়োগকারী অংশ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
- ২২ অক্টোবরের কয়েক দিনের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল; শর্ত ও বিনিয়োগকারীদের তালিকা তখনো পরিবর্তন হতে পারে।
- নতুন বিনিয়োগের আগে ডিপসিকের মূল্যায়ন প্রায় ৫০ হাজার কোটি ইউয়ান বলে জানা গেছে।
- সম্ভাব্য সাংহাই স্টার মার্কেট আইপিওর প্রস্তুতি নিচ্ছে ডিপসিক; লক্ষ্য ২০২৭ সালের শুরুর দিকে বলে জানা গেছে।
- সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় রয়েছে মডেল গবেষণা, চীনা কম্পিউটিং হার্ডওয়্যার এবং ইনার মঙ্গোলিয়ায় প্রস্তাবিত ডেটা সেন্টার।
- লিয়াং ওয়েনফেং সেপ্টেম্বরে বার্ষিকীকৃত আয় ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন; দাম বাড়ায়ও প্রবৃদ্ধির একটি অংশ হয়েছে।






