দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার, এক নির্বাচনী পরীক্ষা
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হলে রোহিত শর্মার বয়স হবে ৪০, আর টুর্নামেন্ট চলাকালে ৩৯ বছরে পা দেবেন বিরাট কোহলি। বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসের মতে, ভারতের হয়ে তাঁদের খেলার সম্ভাবনা নির্ভর করা উচিত ফিটনেস, রান এবং জয় এনে দিতে তাঁদের অবদানের ওপর, জন্মদিনের ওপর নয়।
সূচিপত্র
- দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার, এক নির্বাচনী পরীক্ষা
- সাম্প্রতিক রান তাঁদের দাবিকে জোরালো করেছে
- যেভাবে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে পরিবর্তন
- অভিজ্ঞ সতীর্থদের পাশে নিয়ে নেতৃত্ব দিতে পারেন গিল
- পরিবর্তনশীল নির্বাচক কমিটিকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে
- ফিটনেস মানে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি সেরে ওঠাও
- একই সুযোগের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তরুণ খেলোয়াড়েরাও
- পরবর্তী মূল্যায়ন নিউজিল্যান্ড সফরে
- মূল বিষয়গুলো
নিউজিল্যান্ড সফরের আগে তাঁর এই মন্তব্য এসেছে। সফরটি শুরু হবে ২২ অক্টোবর, আর ৪ থেকে ১৫ নভেম্বর হবে পাঁচটি এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুই ব্যাটারই এখন শুধু ওয়ানডে খেলেন। তাই ২০২৭ সালের ৪ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টে নিজেদের জায়গার দাবি জোরালো করার আরেকটি সুযোগ হবে এই ম্যাচগুলো।
বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার সভাপতি মানহাস নির্বাচনের দায়িত্ব নির্বাচক ও কোচদের ওপর রেখে নিজের ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরেন।
বিসিসিআইয়ের দৃষ্টিতে, এ বিষয়ে মন্তব্য করার অবস্থানে আমরা নেই। কারণ, সবকিছুই নির্বাচক ও কোচদের ওপর নির্ভর করে।
এরপর তিনি জানান, এসব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোন মানদণ্ড অনুসরণ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
তবে আমার দৃষ্টিতে, নির্বাচনের মানদণ্ড হওয়া উচিত ফিটনেস ও পারফরম্যান্স, অবশ্যই বয়স নয়। কেউ যদি খেলার মতো ফিট থাকেন, ভালো খেলেন এবং দেশের হয়ে ম্যাচ জেতান, তাহলে সেটিই হওয়া উচিত আমাদের বিবেচনার একমাত্র মানদণ্ড।
ভারতের লক্ষ্য বিশ্বকাপ জিততে সক্ষম একটি দল গড়া, পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশের সুযোগ দেওয়া। ২০২৩ সালের ফাইনালে ওঠা দলের অভিজ্ঞতা রয়েছে রোহিত ও কোহলির। তবে প্রস্তুতি চলার সময় তাঁদের পারফরম্যান্সের ওপরই নির্ভর করবে দলে তাঁদের জায়গা।
বিশ্বকাপের দলে দুই খেলোয়াড়ের কাউকেই নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। মানহাসের অবস্থান তাঁদের দুজনকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখছে, তবে ফর্ম, ফিটনেস ও দলের ভারসাম্য মূল্যায়নের দায়িত্ব যাঁদের, দল নির্বাচনের সিদ্ধান্তও তাঁদের ওপরই থাকছে।
সাম্প্রতিক রান তাঁদের দাবিকে জোরালো করেছে
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাম্প্রতিক বড় রান নিয়ে আলোচনায় এসেছেন কোহলি ও রোহিত। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি ভারত ২-১ ব্যবধানে জিতেছে, আর দুই সাবেক অধিনায়কই করেছেন সেঞ্চুরি।
তিরুবনন্তপুরমে ৮৮ বলে অপরাজিত ১৩৯ রান করেন কোহলি। এতে তাঁর ওয়ানডে সেঞ্চুরির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫ এবং এই সংস্করণে ১৫ হাজার রানও পূর্ণ হয়। ইনিংসে ছিল নয়টি ছক্কা; বড় ক্যারিয়ার মাইলফলকের পাশাপাশি তিনি দ্রুত রানও তোলেন।
তিন ম্যাচে রোহিত করেন ৩২, ১০১ ও ৯২ রান, মোট ২২৫। গুয়াহাটিতে ৭৫ বলে সেঞ্চুরি করার পর নিউ চণ্ডীগড়ে ৮৫ বলে করেন ৯২। ইনিংসের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ওয়ানডেতে ১০ হাজার রানে পৌঁছানো চতুর্থ ওপেনারও হন তিনি।
রোহিতের ১০১ ও ৯২ রানের ইনিংস দুটিতে এসেছে তাঁর সিরিজের ২২৫ রানের ১৯৩, অর্থাৎ প্রায় ৮৬ শতাংশ। এই দুই ইনিংস নির্বাচকদের সামনে টানা দুটি উদাহরণ রেখেছে যে তিনি বড় অবদান রাখতে পারেন; এটি কেবল একটি চোখে পড়ার মতো পারফরম্যান্স নয়।
ক্রিকেট সম্পর্কে যাঁদের ধারণা কম, তাঁদের জন্য বলা যায়, ওয়ানডেতে প্রতি দল সর্বোচ্চ ৫০ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পায়। তাই নির্বাচকেরা একজন ব্যাটার কত রান করেন এবং কত দ্রুত করেন—দুটিই বিবেচনায় নেন। পাশাপাশি মাঠে ফিল্ডিংয়ের চাপ এবং ম্যাচের মাঝখানে সেরে ওঠার বিষয়টিও তাঁরা দেখেন।
যেভাবে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে পরিবর্তন
বিশ্বকাপের দলে জায়গা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের আগেই ভারতের নেতৃত্বে পরিবর্তন শুরু হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে রোহিতের স্থলাভিষিক্ত হন শুভমান গিল। এতে ২০২৭ সালের জন্য নতুন অধিনায়ককে প্রস্তুত করার সময় পাচ্ছে ভারত।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্য দুই সংস্করণ থেকে আগেই সরে দাঁড়িয়েছিলেন রোহিত ও কোহলি। এতে তাঁদের আন্তর্জাতিক ম্যাচের সূচি কমেছে এবং ভারতের হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে ওয়ানডে দলে নির্বাচনই হয়ে উঠেছে মূল প্রশ্ন।
- জুন ২০২৪: ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের পর টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক থেকে অবসর নেন রোহিত, কোহলি ও রবীন্দ্র জাদেজা।
- মার্চ ২০২৫: চ্যাম্পিয়নস ট্রফিজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন রোহিত ও কোহলি।
- ২০২৫: টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন রোহিত ও কোহলি।
- অক্টোবর ২০২৫: ১৯ অক্টোবর পার্থে শুরু হওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজের আগে ওয়ানডে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নেন গিল।
- অক্টোবর ও নভেম্বর ২০২৬: ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ড সফর ওয়ানডেতে তাঁদের আরেক দফা মূল্যায়নের সুযোগ দেবে।
খবরে বলা হয়েছিল, অস্ট্রেলিয়া সফরের আগের দলে রোহিত ও কোহলির জায়গা নির্ধারণে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তাঁদের পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়েছিল; পরবর্তী সময়ে দলে জায়গা পাওয়া নির্ভর করবে যোগ্যতার ওপর। মানহাসের সাম্প্রতিক মন্তব্যেও একই পদ্ধতির কথা আছে: পরবর্তী টুর্নামেন্ট যত এগিয়ে আসবে, খেলোয়াড়েরা কী অবদান রাখতে পারেন তা মূল্যায়ন করা।
অভিজ্ঞ সতীর্থদের পাশে নিয়ে নেতৃত্ব দিতে পারেন গিল
গিলকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্তে নেতৃত্বের বিষয়টি দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের নির্বাচনের প্রশ্ন থেকে আলাদা হয়েছে। রোহিত ও কোহলি খেলোয়াড় হিসেবে দলে জায়গার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পাশাপাশি ভারতের ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবেন গিল।
গুজরাট টাইটানসের অধিনায়ক হিসেবে গিলের অভিজ্ঞতাকে প্রস্তুতির জন্য কাজে লাগবে বলে উল্লেখ করেন মানহাস। তাঁর মতে, ম্যাচ কঠিন হয়ে উঠলে পাশে অভিজ্ঞ সতীর্থ থাকা একজন অধিনায়কের জন্য সহায়ক।
বিসিসিআই সভাপতি কোহলি, রোহিত ও হার্দিক পান্ডিয়াকে এমন খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করেন, যাঁরা গিলকে সহায়তা করতে পারেন। বোলিং বিভাগে দায়িত্ব নিতে পারেন জসপ্রিত বুমরাহ।
দলে বিরাট, হার্দিক (পান্ডিয়া) ও রোহিত থাকলে গিলের অবশ্যই সুবিধা হবে। আবার (জসপ্রিত) বুমরাহর মতো খেলোয়াড় আছেন, যিনি বোলিং অধিনায়কের দায়িত্ব নিতে পারেন; অন্য কেউ ফিল্ডিং ইউনিটের নেতৃত্ব দিতে পারেন। ব্যাপারটা আসলে কাজের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার।
বোলিংয়ের দায়িত্বে থাকা একজন বোলারদের সঙ্গে পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, আর অন্য কোনো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ফিল্ডিং সাজাতে সহায়তা করতে পারেন। অধিনায়ক থাকবেন গিলই; কঠিন পরিস্থিতি সামলানোর অভিজ্ঞতা আছে এমন সতীর্থদের সহায়তা পাবেন তিনি।
চাপের সময় এই অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে কাজে লাগে বলে মনে করেন মানহাস।
তাঁরা চাপের মধ্যে খেলেছেন এবং কঠিন পরিস্থিতিতে অনেকবার দারুণভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই এটি ভালো সমন্বয়।
পরিবর্তনশীল নির্বাচক কমিটিকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে
৪ অক্টোবর প্রধান নির্বাচক হিসেবে অজিত আগরকারের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর সাবেক ভারতীয় স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝা প্রথমে অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন; সোমবার তাঁকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নির্বাচক কমিটির এই পরিবর্তনও ভারতের প্রস্তুতিতে আরেকটি বিষয় যোগ করেছে।
আগরকারের বিদায় এবং ওঝার অন্তর্বর্তী নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিসিআই। ভারতের নিউজিল্যান্ড সফরের সাম্প্রতিক দল নির্বাচন বৈঠকে সভাপতিত্বও করেন ওঝা। ৭ অক্টোবরের এক স্মারক বার্তায় বোর্ড আগরকারের নিষ্ঠা, দৃঢ়তা ও অবদানের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানায়। বোর্ড উল্লেখ করে, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া তাঁর মেয়াদে ভারত তিনটি আইসিসি ট্রফি, দুটি এশিয়া কাপ শিরোপা এবং টানা দুটি এশিয়ান গেমসের সোনা জিতেছে।
"পুরুষদের নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিষ্ঠা, দৃঢ়তা ও অবদানের জন্য বিসিসিআই অজিত আগরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে," এক বিবৃতিতে বলেন বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকিয়া।
আগরকারের কাজের প্রশংসা করে মানহাস বলেন, সরে দাঁড়ানো তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত। তিনি ২০২৪ ও ২০২৬ সালে ভারতের বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ জয়ের কৃতিত্ব নির্বাচক কমিটির মেয়াদের সময়ের সঙ্গে যুক্ত করেন। নির্বাচক ও কোচদের সহযোগিতার কথাও বলেন তিনি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রধান কোচ হওয়া গৌতম গম্ভীর ২০২৭ সালের টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা নিয়ে আগরকারের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। সে সময়ের আগের প্রতিবেদনগুলোতে বিশ্বকাপের আগে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের কারও ফর্ম কমে গেলে ভারত কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবে, তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছিল।
সেই সময়ে গিলকে অধিনায়ক করায় নেতৃত্বের বিষয়ে ভারত একটি নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পায়। এখন রোহিত ও কোহলির ব্যাটিং পজিশন মূল্যায়নের সময় দলকে কে নেতৃত্ব দেবেন, সেই সিদ্ধান্তও নির্বাচকদের নিতে হবে না।
একজন খেলোয়াড়কে প্রথমবার দলে নেওয়া আর কাউকে দলে ফিরিয়ে আনার মধ্যে পার্থক্যও তুলে ধরেন মানহাস।
প্রথমবার কোনো দলে নির্বাচিত হওয়ার সময় খেলোয়াড়কে নেওয়া হয় তাঁর সম্ভাবনার ভিত্তিতে। দলে ফিরতে হলে তা করতে হয় পারফরম্যান্স দিয়ে।
ফিটনেস মানে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি সেরে ওঠাও
সাম্প্রতিক চোট-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে রোহিতের ক্ষেত্রে ফিটনেস নির্বাচনী আলোচনার বাস্তব একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। দুই ব্যাটারের ক্ষেত্রেই শর্তটি শুধু ম্যাচ শুরু করতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়: তাঁদের ফিল্ডিং করতে হবে, উইকেটের মাঝে দৌড়াতে হবে এবং পরের ম্যাচের আগে সেরে উঠতে হবে।
সবার জন্য একই সূচি প্রয়োগ না করে খেলোয়াড়ভেদে কাজের চাপের পরিকল্পনা করা উচিত বলে জানান মানহাস।
প্রত্যেক ব্যক্তি আলাদা। একজন খেলোয়াড় কী অনুভব করছেন, তা আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে, তারপর পরিকল্পনা করতে হবে।
নির্বাচনী আলোচনায় ভি.ভি.এস. লক্ষ্মণের অংশগ্রহণ খেলোয়াড়দের মূল্যায়নের সঙ্গে দল নির্বাচনের সিদ্ধান্তের যোগসূত্র তৈরি করতে পারে। বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সেলেন্সের প্রধান এবং ভারত ‘এ’ দলের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তিনি সিনিয়র জাতীয় দলের বাইরেও খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও উন্নয়নের দিকে নজর রাখেন।
মানহাস বলেন, লক্ষ্মণের জ্ঞান নির্বাচকদের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে, বিশেষ করে যখন একই সময়ে একাধিক দলের খেলা থাকে এবং সিনিয়র কোচিং স্টাফ অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন।
বয়সের হিসাবটিও চ্যালেঞ্জটি সঠিকভাবে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল ৪০ বছরে পা দেবেন রোহিত। বিশ্বকাপ শুরু হলে কোহলির বয়স হবে ৩৮; নির্ধারিত টুর্নামেন্ট চলাকালে ৫ নভেম্বর ৩৯ বছরে পা দেবেন তিনি। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা প্রতিযোগিতায় দুজনকেই ফিটনেস ধরে রাখতে হবে।
একই সুযোগের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তরুণ খেলোয়াড়েরাও
রোহিত ও কোহলির বাইরেও বিস্তৃত ভারতের দল গড়ার পরিবর্তন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্স সত্ত্বেও ওয়ানডে নির্বাচনের বিবেচনায় পিছিয়ে পড়েছেন মোহাম্মদ শামি। অন্যদিকে হর্ষিত রানা ও গুরনুর ব্রারের মতো তরুণ পেসারদের মূল্যায়ন চলছে।
এই পছন্দগুলো নির্বাচকদের সামনে থাকা বৃহত্তর কাজটি তুলে ধরে: এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দল ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে ২০২৭ সালে কোন খেলোয়াড়েরা অবদান রাখতে পারবেন তা বোঝা। উদীয়মান খেলোয়াড়দের সুযোগ দিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য তাঁদের প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
চোট এবং একই সময়ে একাধিক টুর্নামেন্ট সামলাতে ভারতের গভীর খেলোয়াড়ভাণ্ডার সহায়ক হতে পারে বলে জানান মানহাস। তাঁর মতে, দলে জায়গার প্রতিযোগিতা খেলোয়াড়দের আরও ভালো পারফর্ম করতে উৎসাহিত করে।
রোহিত ও কোহলির জন্য শক্তিশালী খেলোয়াড়ভাণ্ডারের অর্থ, অন্য প্রার্থীদের দাবির পাশাপাশি তাঁদের অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় থাকবে। গিলের জন্য এর অর্থ, নির্বাচকেরা উপযুক্ত মনে করলে সিনিয়রদের সহায়তা রেখে দল বিকল্প খেলোয়াড়দেরও গড়ে তুলতে পারবে।
এই প্রস্তুতির আরেকটি অংশ ঘরোয়া ক্রিকেট। মানহাস বলেন, সিনিয়র খেলোয়াড়েরা খেলার জন্য উপলভ্য থাকলে তাঁদের মাঠে নামা উচিত; এতে তাঁরা নিজেদের ফর্ম ধরে রাখতে পারবেন এবং তরুণ সতীর্থরা তাঁদের সঙ্গে খেলে শেখার সুযোগ পাবে।
পরবর্তী মূল্যায়ন নিউজিল্যান্ড সফরে
ভারতের নিউজিল্যান্ড সফরে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক, পাঁচটি ওয়ানডে এবং দুটি টেস্ট হওয়ার কথা। সফর শুরু হবে ২২ অক্টোবর। ৪ থেকে ১৫ নভেম্বরের ওয়ানডে সিরিজটি রোহিত ও কোহলির জন্য প্রাসঙ্গিক, কারণ তাঁরা অন্য আন্তর্জাতিক সংস্করণগুলো থেকে অবসর নিয়েছেন।
একটি সিরিজে পাঁচটি ম্যাচ থাকায় ব্যাটিং ফর্ম, ফিল্ডিং এবং ম্যাচের মাঝে সেরে ওঠার ক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য নির্বাচকেরা একাধিক সুযোগ পাবেন। আগে ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়া অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া ওয়ানডে দলকে নেতৃত্ব দিতে গিলও আরও সময় পাবেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স রোহিত ও কোহলিকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে। এখন ভারতের বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসবে, ততই দরকার কার্যকর ইনিংস খেলা এবং খেলার জন্য প্রস্তুত থাকা।
মানহাসের মন্তব্যে এই পরিমাপযোগ্য চাহিদাগুলোই আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে আগামী মাসগুলোতে দল নির্বাচনের পাশাপাশি ভারত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দলে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে পারে।
মূল বিষয়গুলো
- বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসের মতে, রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির নির্বাচন বয়স নয়, ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
- চূড়ান্ত নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নেবেন নির্বাচক ও কোচেরা।
- ৪ অক্টোবর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অজিত আগরকারের বিদায় নিশ্চিত করেছে বিসিসিআই; প্রজ্ঞান ওঝা প্রথমে অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন, পরে সোমবার স্থায়ীভাবে নিয়োগ পান।
- ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের সাম্প্রতিক ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে কোহলি অপরাজিত ১৩৯ রান করেন এবং রোহিত করেন ২২৫ রান।
- শুভমান গিল ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন; অভিজ্ঞ সতীর্থদের সমর্থনের পক্ষে মত দিয়েছেন মানহাস।
- নিউজিল্যান্ডে ভারতের পাঁচটি ওয়ানডে হওয়ার কথা ৪ থেকে ১৫ নভেম্বর।
- ২০২৭ বিশ্বকাপ ৪ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
- টুর্নামেন্টের সময় রোহিতের বয়স হবে ৪০; কোহলি ৩৯ বছরে পা দেবেন।






