১০ লাখ নথি, ৩০টি শুনানি এবং প্রকাশের অপেক্ষায় প্রতিবেদন
হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর ওয়াং ফুক কোর্টের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে স্বাধীন কমিটির প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। তদন্তে ৮০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং ১০ লাখের বেশি নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি শিগগিরই ব্যাপক সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের আগে আইনি পরামর্শ নেওয়ার কথা জানান।
সূচিপত্র
- ১০ লাখ নথি, ৩০টি শুনানি এবং প্রকাশের অপেক্ষায় প্রতিবেদন
- ফৌজদারি বিচার কেন প্রতিবেদন প্রকাশে প্রভাব ফেলছে
- তদন্ত যেভাবে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে
- সংস্কারকাজ নিয়ে কারা সমালোচনার মুখে?
- পরিদর্শকেরা জাল পরীক্ষা করে কী দেখেছিলেন?
- সনদ, নমুনা পরীক্ষা এবং ভাগ না করা নীতি
- বারবার পরিদর্শনেও অগ্নিনিরাপত্তার সমস্যা ধরা পড়েনি
- ধূমপানের অভিযোগ ও ১৭টি পরিদর্শন
- কী সংস্কারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে?
- মূল বিষয়গুলো
তাই পো আবাসিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ড এবং বড় ভবনের রক্ষণাবেক্ষণকাজের তদারকি খতিয়ে দেখেছে তদন্ত কমিটি। বাসিন্দা, সরকারি কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ ও অগ্নিনির্বাপণ পরিষেবার ঠিকাদারদের সাক্ষ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আইনজীবীদের লিখিত বক্তব্য ও যুক্তিও বিবেচনা করেছে তারা।
জানা গেছে, দুই খণ্ডে কয়েক শ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে ১০টির বেশি অধ্যায় রয়েছে এবং এর চীনা ও ইংরেজি সংস্করণ আছে। প্রকাশের আগে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তাতে প্রধান ঠিকাদার, কাজের পরামর্শক এবং চারটি সরকারি সংস্থার সমালোচনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সংস্থাগুলোর মধ্যে আবাসন ব্যুরোর স্বাধীন পরিদর্শন ইউনিটের সমালোচনা সবচেয়ে কঠোর।
প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার, তবে প্রকাশের দিন বা সংস্কার ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ জানায়নি। লি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের বিচারকে প্রভাবিত করতে পারে এমন তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
বাসিন্দা ও স্বজন হারানো পরিবারগুলোর কাছে প্রতিবেদন জমা পড়া বিপজ্জনক সংস্কারসামগ্রী, উপেক্ষিত সতর্কবার্তা এবং অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম নিয়ে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার নতুন ধাপ। এখন সরকারের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত হলো, তারা কী প্রকাশ করবে, কোন সুপারিশ গ্রহণ করবে এবং কীভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।
ফৌজদারি বিচার কেন প্রতিবেদন প্রকাশে প্রভাব ফেলছে
লি বলেন, ফৌজদারি বিচার-সংশ্লিষ্ট অংশগুলো কীভাবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে সরকার আইনি পরামর্শ নেবে। আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার যেন ন্যায্যভাবে হয়, তা নিশ্চিত করে তদন্তের ফল প্রকাশ করাই মূল বিষয়।
সিদ্ধান্তটি ব্যাখ্যা করে প্রধান নির্বাহী জন লি বলেন:
"ওয়াং ফুক কোর্টের অগ্নিকাণ্ডে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাই আদালতের কার্যক্রম যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য প্রতিবেদনের যেসব অংশ ফৌজদারি বিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, সেগুলো কীভাবে সামলানো যায় তা সরকারের শনাক্ত ও বিবেচনা করা দায়িত্ব," তিনি বলেন।
তদন্তের কাজ কোনো একটি ফৌজদারি মামলার চেয়ে বিস্তৃত: সংস্কারকাজ কীভাবে হয়েছে, সরকারি সংস্থাগুলো কীভাবে তা তদারক করেছে এবং আরেকটি বিপর্যয় ঠেকাতে কী পরিবর্তন দরকার। ফৌজদারি বিচারে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে।
তদন্ত যেভাবে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে
বিচারপতি ডেভিড লোক কমিটির সভাপতিত্ব করেন। সদস্য ছিলেন চ্যান কিন-পোর ও রেক্স অয়েউং। লি ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন এবং ১৯ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়।
২০২৬ সালের মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ছয় দফায় ৩০টি শুনানি করে কমিটি। ৮০ জন সাক্ষী তথ্যভিত্তিক ও বিশেষজ্ঞ মতামত দেন। ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লিখিত বক্তব্য, অন্যান্য প্রমাণ এবং আইনি যুক্তিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। কমিটির নথিতে দুই ট্রিলিয়ন বাইটের বেশি তথ্য ছিল, যা দুই টেরাবাইটেরও বেশি।
মূল তারিখগুলোতে দেখা যায়, প্রক্রিয়াটি মূল সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন জমার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল:
- জুলাই ২০২৪: ওয়াং ফুক কোর্টে মাচায় কাজ করা শ্রমিকদের ধূমপানের বিষয়ে শ্রম বিভাগ অভিযোগ পায়।
- ২৮ অক্টোবর ২০২৪: স্বাধীন পরিদর্শন ইউনিট মাচার জাল পরীক্ষা করে দেখে, ১০ সেকেন্ড পরও তা জ্বলছিল।
- ১২ ডিসেম্বর ২০২৫: লি স্বাধীন কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন।
- ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫: কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে।
- মার্চ থেকে জুলাই ২০২৬: ছয় দফা শুনানিতে অগ্নিকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব খতিয়ে দেখা হয়।
- সেপ্টেম্বর ২০২৬: সময় বাড়ানোর আবেদন করায় মূল প্রতিবেদন জমার লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে যায়।
- ২২ অক্টোবর ২০২৬: কমিটি লির কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
বিপর্যয়ের পর জবাবদিহির প্রাথমিক দাবির ধারাবাহিকতায় এই প্রতিবেদন এসেছে। ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তত ১২৮ জনের মৃত্যুর খবর নথিভুক্ত হয়েছিল এবং প্রায় ১৫০ জন বাসিন্দার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। জরুরি পরিস্থিতির সেই পর্যায়ের পরিসংখ্যান ছিল এগুলো; তখনও অনুসন্ধান ও পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছিল।
সংস্কারকাজ নিয়ে কারা সমালোচনার মুখে?
প্রতিবেদনে প্রধান ঠিকাদার 宏業 এবং কাজের পরামর্শক 鴻毅-কে বড় ধরনের দায়ী করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সমালোচনার মুখে থাকা চারটি সরকারি সংস্থা হলো আবাসন ব্যুরোর স্বাধীন পরিদর্শন ইউনিট, ভবন বিভাগ, অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ এবং শ্রম বিভাগ।
প্রকাশের আগে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে এসব সংস্থার মধ্যে স্বাধীন পরিদর্শন ইউনিটের ওপর সবচেয়ে বেশি দায় আরোপের ইঙ্গিত রয়েছে। শ্রম বিভাগের ওপর তুলনামূলক কম দায় দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের দায় নিয়ে প্রতিবেদনে আলোচনা নেই।
শুনানিতে বিপর্যয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, তা নিয়ে মতবিরোধ সামনে আসে। কমিটির প্রধান প্রতিনিধি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ভিক্টর ডস চারটি সংস্থার নিয়ন্ত্রক দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন। জুলাইয়ে সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ছোটখাটো সমন্বয় নয়, কাঠামোগত পরিবর্তন দরকার।
সরকারের পক্ষে থাকা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেনকিন স্যুয়েন যুক্তি দেন, ঠিকাদার ও পেশাজীবীদের মতো বেসরকারি পক্ষের বেআইনি কাজই সরাসরি অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক প্রাণহানির কারণ। তিনি স্বীকার করেন, তদারকির দুর্বলতার কারণে লঙ্ঘনগুলো শনাক্ত হয়নি। তবে সব দায় সরকারের ওপর চাপানোর মত প্রত্যাখ্যান করেন।
এই অবস্থানগুলো তদন্তের কেন্দ্রে থাকা পরস্পর-সম্পর্কিত দুটি বিষয় সামনে এনেছে: কাজ করা ব্যক্তিদের আচরণ এবং বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করার জন্য তৈরি সরকারি সুরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা।
পরিদর্শকেরা জাল পরীক্ষা করে কী দেখেছিলেন?
শুনানিতে আলোচিত সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট উদাহরণগুলোর একটি হলো মাচার জাল নিয়ে স্বাধীন পরিদর্শন ইউনিটের কার্যক্রম। ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর ওয়াং ফুক কোর্টে কর্মীরা জাল পরীক্ষা করেন। ১০ সেকেন্ড পরও জালটি জ্বলছিল এবং হাতে ফুঁ দিয়ে আগুন নেভাতে হয়।
জাল অগ্নিপ্রতিরোধী হওয়া জরুরি, কারণ ভবনের বাইরের দেয়ালের কাছে মাচা ঘিরে এটি লাগানো থাকে। জ্বলতে থাকা উপাদান বাসিন্দাদের জানালা ও বের হওয়ার পথের পাশে আগুনের জ্বালানি বাড়াতে পারে। পরীক্ষার ফল কেন কার্যকর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নেয়নি, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের আগে ইউনিটটি আবাসিক এলাকাটি ১০ বার পরিদর্শন করেছিল। এর মধ্যে আটটি পরিদর্শনের বিষয়ে আগে জানানো হয়েছিল, আর দুটিতে আগাম নোটিশ দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ ৮০ শতাংশ পরিদর্শনের আগেই জানানো হয়েছিল। এতে ঠিকাদার পরিদর্শনের আগে জাল বদলে ফেলার সুযোগ পেয়েছিল বলে প্রতিবেদনে এই চর্চার সমালোচনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুনানিতে জ্যেষ্ঠ ভবন রক্ষণাবেক্ষণ জরিপ কর্মকর্তা কো সিউ-পিং স্বীকার করেন, জানালা ঢেকে রাখা ফোম বোর্ড কিংবা পেছনের সিঁড়িতে করা এমন খোলার দিকে তিনি বিশেষ নজর দেননি, যেগুলো পালানোর সিঁড়ির কাঠামোকে প্রভাবিত করেছিল। বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং সেসব অভিযোগের জবাবও তদন্তের অংশ ছিল।
বাসিন্দাদের জন্য এগুলো ছিল তাঁদের ঘরের চারপাশের বাস্তব অবস্থা: জানালা কী দিয়ে ঢাকা, টাওয়ারগুলোর চারপাশে কী লাগানো এবং আগুন থেকে পালানোর পথগুলো সুরক্ষিত ছিল কি না। পরিদর্শকেরা তাঁদের পরিদর্শনের সময় যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তদন্তে সেগুলোর সঙ্গে এই বাস্তব অবস্থার যোগসূত্র খোঁজা হয়েছে।
সনদ, নমুনা পরীক্ষা এবং ভাগ না করা নীতি
ভবন বিভাগের তদারকিতে আরেকটি সমস্যা উঠে আসে: ঘটনাস্থলে পরীক্ষা না করে কাগজপত্রের ওপর নির্ভর করা। ভবন বিভাগের সহকারী পরিচালক চেউং ইয়ুক-চিং স্বীকার করেন, অগ্নিকাণ্ডের আগে রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে ব্যবহৃত জালের কোনো নমুনা সরেজমিনে পরীক্ষা করেনি বিভাগটি।
ঠিকাদারদের জমা দেওয়া সনদের ওপর নির্ভর করেছিল বিভাগটি, কিন্তু সেগুলো আসল কি না যাচাইয়ের ব্যবস্থা ছিল না। সনদ হলো এমন একটি নথি, যাতে বলা হয় কোনো পণ্য বা কাজ নির্দিষ্ট মান পূরণ করে। সনদটি আসল কি না এবং স্থাপিত উপাদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না, তার ওপরই এর কার্যকারিতা নির্ভর করে।
২০২৩ সালে ভবন বিভাগ চালু করা একটি নীতিও শুনানিতে খতিয়ে দেখা হয়। তদারকি পরিকল্পনার আওতাভুক্ত ছোটখাটো কাজের ২০ শতাংশ নমুনা সরেজমিনে পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা ছিল ওই নীতিতে। অগ্নিকাণ্ডের পরই স্বাধীন পরিদর্শন ইউনিট নীতিটির কথা জানতে পারে।
দুই সংস্থার মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতির সমালোচনা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানা গেছে। যোগ্য প্রকল্পের প্রতি পাঁচটির মধ্যে একটিতে পরিদর্শনের নিয়ম থাকলে, তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সে নিয়ম জানতে হবে এবং কাজে তা প্রয়োগ করতে হবে।
বারবার পরিদর্শনেও অগ্নিনিরাপত্তার সমস্যা ধরা পড়েনি
শুনানিতে উপস্থাপিত প্রমাণ অনুযায়ী, ১০ মাসের বেশি সময় ধরে সংস্কারকাজ চলার মধ্যে অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ ওয়াং ফুক কোর্টে ২৬ বার গিয়েছিল। এসব পরিদর্শনে কর্মকর্তারা অগ্নিনির্বাপণ পাম্পের কক্ষে ঢোকেননি কিংবা অগ্নিসংকেত পরীক্ষা করেননি।
শুনানিতে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান বিদ্যুৎ সুইচ বন্ধ ছিল এবং সাত মাস ধরে পানির ট্যাংক খালি ছিল। পাম্প, পানির সরবরাহ ও অগ্নিসংকেতের কাজ আলাদা: পাম্প পানি সরায়, ট্যাংকে পানি জমা থাকে এবং অগ্নিসংকেত মানুষকে বেরিয়ে যেতে সতর্ক করে। প্রতিটি ব্যবস্থা সচল কি না যাচাই করতে শুধু আবাসিক এলাকায় গেলেই হয় না।
বিভাগটির দায়িত্ব পালনের পদ্ধতিরও সমালোচনা করেন ডস। নির্মাণসামগ্রী, কাজ চলার সময় আগুনের ঝুঁকি এবং কাঠামোয় থাকা সুরক্ষাব্যবস্থার বিষয়গুলো ভবন বিভাগের দায়িত্ব বলে বিবেচনা করা হয়েছিল। জানালায় ফোম দিয়ে ঢেকে রাখা এবং পেছনের সিঁড়িতে খোলা তৈরি করাও তদন্তে বিবেচিত উদ্বেগের মধ্যে ছিল।
প্রতিরোধের এসব ঘাটতি থেকে জরুরি সাড়াদানকে আলাদা করে দেখেছে প্রতিবেদনটি বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনের মূল্যায়নে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি এবং দমকলকর্মীদের পানিবোমা ফেলতে, আগুন নেভাতে ড্রোন ব্যবহার করতে বা চীনের মূল ভূখণ্ডের সহায়তা নিতে হতো—এমন প্রস্তাবও নাকচ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ধূমপানের অভিযোগ ও ১৭টি পরিদর্শন
সুরক্ষাজাল দিয়ে ঘেরা মাচায় শ্রমিকদের ধূমপানের বিষয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এক বাসিন্দার অভিযোগ পায় শ্রম বিভাগ। নিজে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না করে বিভাগটি অভিযোগটি অগ্নিনির্বাপণ বিভাগে পাঠায়।
বিভাগটি বাসিন্দাকে লিখিতভাবে আরও জানায়, তাদের প্রয়োগ করা নিরাপত্তা আইন মাচার জাল বা অন্যান্য উপাদানের অগ্নিপ্রতিরোধী মানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। শুনানিতে বিভাগটি স্বীকার করে, তাদের ১৭টি পরিদর্শনের কোনোটি থেকেই শ্রমিকদের ধূমপানের বিষয়টি ধরা পড়েনি।
অন্য বিভাগগুলোর তুলনায় শ্রম বিভাগের ওপর কম দায় দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানা গেছে। তবে কাজ চলার সময় বাসিন্দারা যখন তার পাশেই বসবাস করছিলেন, তখন এক সংস্থা থেকে অন্য সংস্থায় সতর্কবার্তা কীভাবে গিয়েছিল, সে সামগ্রিক বিবরণে শ্রম বিভাগের ভূমিকাও রয়েছে।
অভিযোগ, জাল পরীক্ষার ফল এবং পরিদর্শনের নথিতে সেসব নির্দিষ্ট সময়ের উল্লেখ রয়েছে, যখন কর্মকর্তারা তথ্য পেয়েছেন বা ঘটনাস্থলে গেছেন। ঠিকাদারদের কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সতর্কবার্তা সামলানো ও বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিয়েও তদন্ত কেন খতিয়ে দেখেছে, তা এসব তথ্য একসঙ্গে ব্যাখ্যা করে।
কী সংস্কারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে?
লি বলেন, ভবনের রক্ষণাবেক্ষণকাজের তদারকি, ভবন ব্যবস্থাপনা এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রণ—এসব বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ থাকবে। সংস্কার প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে আগুন লাগলে মানুষকে রক্ষার জন্য থাকা সরঞ্জাম পর্যন্ত এসব ক্ষেত্র বিস্তৃত।
সংস্কারের পরিকল্পিত ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরে প্রধান নির্বাহী জন লি বলেন:
"ভবনের রক্ষণাবেক্ষণকাজের তদারকি, ভবন ব্যবস্থাপনা এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার ব্যাপক সংস্কার করবে," লি আরও বলেন।
লি বলেন, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের নীতিগত ভাষণেই অগ্রাধিকারভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আরও বিস্তৃত পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে শিগগিরই সংস্কার ও জবাবদিহির পরিকল্পনা ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
প্রকাশের আগে সামনে আসা সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে পেশাজীবীদের ওপর আরও কঠোর তদারকি এবং ফৌজদারি শাস্তি চালু করা। অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও স্থাপনার সনদ ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জমা দেওয়া এবং পুলিশের কাছ থেকে অগ্নিনির্বাপণ বিভাগে সহায়তার অনুরোধ পাঠাতে ফ্যাক্সের ব্যবহার বন্ধ করার প্রস্তাবও রয়েছে।
ইলেকট্রনিকভাবে নথি জমা দিলে নিরাপত্তার রেকর্ড বিভাগে পৌঁছানোর পদ্ধতি বদলাবে। ফ্যাক্সের বদলে অন্য ব্যবস্থা চালু হলে জরুরি অনুরোধ এক পরিষেবা থেকে অন্যটিতে পাঠানোর পদ্ধতি পাল্টাবে। পরিদর্শন, পেশাগত দায়িত্ব এবং নিয়ম ভাঙার শাস্তিসংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি, বাসিন্দারা যে ব্যবস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করেন, সেগুলোর বাস্তব কিছু ধাপ নিয়েই দুই প্রস্তাব।
ওয়াং ফুক কোর্টের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এখন পরবর্তী ধাপ হলো সরকারের জবাব: প্রতিবেদনের ফল প্রকাশ, সুপারিশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং কীভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে তার ব্যাখ্যা। প্রতিবেদন জমা পড়ায় তদন্তের প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে, আর এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন প্রশাসনের।
মূল বিষয়গুলো
- ওয়াং ফুক কোর্টের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে তদন্তের প্রতিবেদন জন লি ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর গ্রহণ করেন।
- কমিটি ৩০টি শুনানি করেছে, ৮০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়েছে এবং ১০ লাখের বেশি নথি সংগ্রহ করেছে।
- সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি বিচার চলমান থাকায় প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সরকার আইনি পরামর্শ নেবে।
- প্রকাশের আগে পাওয়া তথ্য থেকে প্রধান ঠিকাদার, কাজের পরামর্শক এবং চারটি সরকারি সংস্থার সমালোচনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
- শুনানিতে জ্বলতে থাকা মাচার জাল, সনদের ওপর নির্ভরতা এবং অগ্নিনিরাপত্তার সমস্যা ধরতে ব্যর্থ পরিদর্শনের প্রমাণ উঠে এসেছে।
- ভবনের রক্ষণাবেক্ষণকাজের তদারকি, ভবন ব্যবস্থাপনা ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নিয়ে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন লি। জবাবদিহির ব্যবস্থা শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।






