অক্টোবরের নির্দেশনায় হামলার খবর প্রচারে সরকারি যাচাই বাধ্যতামূলক
বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণ ও সন্ত্রাসী হামলার খবর প্রচারে বিধিনিষেধ নবায়ন করেছে পাকিস্তানের টেলিভিশন নিয়ন্ত্রক সংস্থা। স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোকে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাচাই করা তথ্যই প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবরের নির্দেশনায় ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়েছে এবং সম্প্রচারকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সূচিপত্র
- অক্টোবরের নির্দেশনায় হামলার খবর প্রচারে সরকারি যাচাই বাধ্যতামূলক
- সরাসরি সম্প্রচারের ছবির বাইরেও বিধিনিষেধ
- যাচাই ও সম্প্রচারে বিলম্ব কীভাবে কাজ করবে
- আইনি হুঁশিয়ারি ও এর আগের প্রেক্ষাপট
- সরকারি নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা সাংবাদিক সংগঠনগুলোর
- জরুরি শাসন ও অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি
- আদেশ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা
- করাচির বিরোধে দর্শকদের প্রয়োজনীয় তথ্যের দিকটি স্পষ্ট
- বড় শহরের বাইরের সংবাদকাজে আলাদা নিয়ম
- মূল বিষয়গুলো
পাকিস্তান ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি (পেমরা) সরাসরি সম্প্রচার ও পুনঃসম্প্রচার—দুই ক্ষেত্রেই এই নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশনায় ব্যাপক অর্থে বর্ণিত “দুর্ভাগ্যজনক” বা “অপ্রীতিকর” ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে তালিকাভুক্ত হামলার বাইরেও এই শব্দগুলোর আওতা কতটা, তা সম্পাদকদেরই নির্ধারণ করতে হবে।
খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি শাসন জারি এবং সহিংসতা তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশনা এসেছে। ফেডারেল মন্ত্রিসভার কাছে উপস্থাপিত নিরাপত্তা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রদেশটিতে সন্ত্রাসী ঘটনা ১৯৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে সেখানে নথিভুক্ত সন্ত্রাসী হামলার ৭৩ শতাংশে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সাংবাদিক সংগঠনগুলোর বক্তব্য, দায়িত্বশীল সংবাদ প্রচারে তথ্য যাচাই জরুরি; তবে সংকটের সময় তথ্যের একমাত্র ফটক সরকারি সংস্থাকে বানানোর বিরোধিতা করে তারা। কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত করার আগেই কোনো সংবাদকক্ষ প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে বা নিজস্ব অনুসন্ধানে তথ্য পেলে কী হবে, তা নিয়েই তাদের উদ্বেগ।
সাংবাদিকদের সুরক্ষা কমিটি (সিপিজে) ১৬ অক্টোবর বিধিনিষেধ নিয়ে তাদের বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষকে এগুলো প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ফেডারেশন (আইএফজে) ২১ অক্টোবর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন ও গণমাধ্যম সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানায়। দুই সংগঠনই সতর্ক করে বলেছে, সরকারি যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকি একসঙ্গে স্বাধীন সংবাদ প্রচার সীমিত করতে পারে, যখন দর্শকদের জরুরি তথ্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
সরাসরি সম্প্রচারের ছবির বাইরেও বিধিনিষেধ
পেমরার নির্দেশনা সংবাদ, চলতি ঘটনা এবং আঞ্চলিক ভাষার অনুষ্ঠান প্রচারকারী স্যাটেলাইট টেলিভিশন লাইসেন্সধারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এতে বিস্ফোরণ, বোমা বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণ ও সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করে এসব ঘটনার সম্প্রচার, পুনঃসম্প্রচার বা সরাসরি সম্প্রচার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাচাই করা তথ্য প্রচারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দর্শকদের জন্য এর অর্থ, হালনাগাদ খবর প্রচার চলতে পারবে, কিন্তু তাদের পাওয়া তথ্যকে সরকারি যাচাইয়ের শর্ত পূরণ করতে হবে।
পুনঃসম্প্রচার বলতে প্রথমবার প্রচারের পর কোনো উপাদান আবার দেখানোকে বোঝায়। সরাসরি সম্প্রচারের পাশাপাশি এটিও অন্তর্ভুক্ত করায়, হামলার সময় সংবাদকক্ষে আসা ছবির বাইরেও নির্দেশনার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। সম্পাদকদের তাৎক্ষণিকভাবে আসা ফুটেজ এবং পরবর্তী বুলেটিনে আবার দেখানো হতে পারে এমন উপাদান—দুটিই বিবেচনা করতে হবে।
“দুর্ভাগ্যজনক” বা “অপ্রীতিকর” ঘটনার উল্লেখ অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, কারণ নির্দেশনায় এই শব্দগুলোর সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি। ফলে সম্প্রচারবিষয়ক নিয়মে সন্ত্রাসী হামলার মতো নির্দিষ্ট উদাহরণের পাশাপাশি এমন ভাষাও রয়েছে, যার বিস্তৃত সীমানা স্পষ্ট নয়।
যাচাই ও সম্প্রচারে বিলম্ব কীভাবে কাজ করবে
টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে কার্যকরভাবে সম্প্রচারে সময়ের ব্যবধান রাখতে এবং একটি স্বাধীন সম্পাদকীয় বোর্ড গঠন করতে বলা হয়েছে। সম্প্রচারে বিলম্ব বলতে ছবি বা শব্দ পাওয়ার পর তা প্রচারের আগে অল্প সময়ের বিরতি বোঝায়। এতে দর্শকদের দেখানোর আগে কোনো উপাদান আটকে দেওয়ার সুযোগ পান সংবাদকক্ষের কর্মীরা।
অক্টোবরের নির্দেশনায় কয়েকটি বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয় খোলা রাখা হয়েছে: বিলম্বের সময়কাল, সরকারি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ও জবাব দেওয়ার সময়, এবং সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্যপদ ও কার্যপ্রণালি। কর্তৃপক্ষ কত সময়ের মধ্যে হালনাগাদ তথ্য দেবে, তারও কোনো সময়সীমা নেই। ব্রেকিং নিউজের সময় এসব ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তখন কয়েক মিনিটের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
ফলে একটি সংবাদকক্ষকে একই সময়ে কয়েকটি কাজ সামলাতে হবে: উপাদানটি বিধিনিষেধের আওতায় পড়ে কি না তা মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় সরকারি যাচাই নেওয়া, সম্প্রচারে বিলম্ব নিশ্চিত করা এবং সম্পাদকীয় তদারকি করা। বিলম্বের ব্যবস্থা সম্প্রচারের সময় নিয়ন্ত্রণ করে; কী প্রচার করা যাবে, তা আলাদা সম্প্রচার ও যাচাইয়ের শর্তেই নির্ধারিত হবে।
আইনি হুঁশিয়ারি ও এর আগের প্রেক্ষাপট
সংশোধিত ২০০২ সালের পেমরা অধ্যাদেশের ২৯এ, ৩০ ও ৩৩ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পেমরা। নির্দেশনায় ধারাগুলোর নাম উল্লেখ করা হলেও সেগুলোর পৃথক শাস্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি, কিংবা নবায়ন করা নির্দেশনার আওতায় কোনো চ্যানেলকে নির্দিষ্ট শাস্তি দেওয়ার কথাও বলা হয়নি।
পেমরা ২০১৮ সালের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা নম্বর ২৮-এ সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং ২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সিএমএ নম্বর ১০২-এ ইসলামাবাদ হাইকোর্টের আদেশের কথাও উল্লেখ করেছে। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা হলো আদালত নিজ উদ্যোগে যে মামলা গ্রহণ করে। পেমরা আদালতের এসব উল্লেখকে সম্পাদকীয় সুরক্ষাবিধি এবং নির্ধারিত সম্প্রচার-বিলম্ব ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছে।
অক্টোবরের নির্দেশনা বিধিনিষেধ প্রথম চালু করেনি; এটি প্রয়োগের নির্দেশনা নবায়ন করেছে। সিপিজে বলেছে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেমরা অভিযোগ করেছিল, জঙ্গি হামলার সময় চ্যানেলগুলো যাচাইহীন ও অনুমাননির্ভর তথ্য প্রচার করেছে। আগের ওই অভিযোগ থেকে যাচাইয়ের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার গুরুত্ব দেওয়ার কারণ বোঝা যায়; তবে বর্তমান বিরোধটি এই প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে।
সরকারি নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা সাংবাদিক সংগঠনগুলোর
সিপিজের আফগানিস্তান ও পাকিস্তান প্রতিনিধি ওয়ালিউল্লাহ রহমানি বলেন, এই নির্দেশনা নিরাপত্তামূলক সতর্কতার সীমা পেরিয়ে সংবাদ প্রচার নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি তৈরি করছে। ১৬ অক্টোবরের বিবৃতিতে তিনি বলেন:
বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রচার করতে বাধা দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা সংস্থার অনুমোদিত তথ্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য করা বৈধ নিরাপত্তা সুরক্ষাবিধিকে সরকারি তথ্যনিয়ন্ত্রণ ও সেন্সরশিপের ব্যবস্থায় পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করে।
আইএফজের সহযোগী সংগঠন পাকিস্তান ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস (পিএফইউজে) বলেছে, সরাসরি সম্প্রচারের ক্ষেত্রে সম্প্রচারকেরা আগে থেকেই প্রচলিত কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করেন। পেমরা নবায়ন করা বিজ্ঞপ্তিটি নির্দিষ্ট কিছু সংবাদমাধ্যমকে লক্ষ্যবস্তু করতে ব্যবহার করতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি।
আইএফজে ২১ অক্টোবর নির্দেশনা নিয়ে তাদের বিবৃতিতে দায়িত্বশীল সংবাদ প্রচারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে আদেশটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। ফেডারেশনটি বলেছে:
আইনি ব্যবস্থার হুমকি দিয়ে সম্প্রচারকদের শুধু সরকারি সংস্থার ছাড়পত্র পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য করলে সংকটের মুহূর্তে স্বাধীন সংবাদ প্রচার স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সংবাদ প্রচারের নির্দেশিকা নিয়ে ইউনিয়ন ও গণমাধ্যম সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য পেমরাকে আহ্বান জানিয়েছে আইএফজে। মন্তব্য জানতে সিপিজের অনুরোধে সাড়া দেয়নি পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
জরুরি শাসন ও অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি
১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি ও গভর্নরের শাসন জারি করে ফেডারেল সরকার। গভর্নরের শাসনে প্রদেশের প্রশাসন সাধারণত নির্বাচিত প্রাদেশিক নেতৃত্বের পরিবর্তে গভর্নর ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে চলে যায়।
রাষ্ট্রপতির ঘোষণায় অবকাঠামো, সরকারি স্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বাড়তে থাকা হামলার কথা উল্লেখ করে জীবন ও সম্পদের জন্য হুমকির কথা বলা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়, প্রাদেশিক সরকার কার্যকরভাবে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়েছে। কেন্দ্র আরও অভিযোগ করেছে, সন্ত্রাসবাদ দমনে প্রাদেশিক প্রশাসন “ইচ্ছাকৃতভাবে বিচ্ছিন্ন” রয়েছে।
ফেডারেল মন্ত্রিসভার কাছে উপস্থাপিত নিরাপত্তা পরিসংখ্যান দেখায়, হামলার খবর কেন এত জরুরি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ১৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি মানে উল্লিখিত সময়কালে নথিভুক্ত ঘটনার সংখ্যা প্রাথমিক স্তরের প্রায় তিন গুণ হয়েছে। ২০২৬ সালে প্রদেশটিতে নথিভুক্ত সন্ত্রাসী হামলার প্রায় প্রতি চারটির মধ্যে তিনটিতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের হিসাবে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ১৮৬টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে, যা দেশজুড়ে হামলার ৪৮ শতাংশ। তাদের প্রতিবেদনে বেলুচিস্তানে সহিংসতাসংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা ৮২৯ বলা হয়েছে; আগের ২৬৫ থেকে তা ৫৬৪ বেড়ে তুলনামূলক সংখ্যার তিন গুণেরও বেশি হয়েছে।
মন্ত্রিসভার পরিসংখ্যানে সন্ত্রাসী ঘটনার সংখ্যা ও লক্ষ্যবস্তুর হিসাব দেওয়া হয়েছে, আর বেলুচিস্তানের পরিসংখ্যানে সহিংসতাসংশ্লিষ্ট মৃত্যুর হিসাব রয়েছে। সব মিলিয়ে এগুলো এমন এক নিরাপত্তা সংকটের চিত্র তুলে ধরে, যেখানে ঘটনার সংখ্যা এবং নিহত মানুষের সংখ্যা—দুটিই বাড়ছে।
আদেশ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা
কারাবন্দি প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে দীর্ঘ পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছিল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি শাসন জারির আগে দলটির সঙ্গে ফেডারেল সরকারের কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনা চলছিল।
জরুরি ও গভর্নরের শাসনের প্রতিবাদে বারায় পিটিআই কর্মীদের বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন এবং দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। পেমরা নির্দেশনা নবায়ন করার সময় রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও নিরাপত্তা অভিযান নিয়ে সংবাদ প্রচার একই সঙ্গে আলোচনায় আসে।
আইনি, রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম-সংক্রান্ত ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা তারিখ অনুযায়ী:
- ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২: সম্প্রচার সুরক্ষাবিধি নিয়ে পরে পেমরার উদ্ধৃত আদেশ দেয় ইসলামাবাদ হাইকোর্ট।
- ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩: হামলার খবর প্রচারে আগের নিষেধাজ্ঞা জারি করে পেমরা।
- ১১ অক্টোবর, ২০২৬: খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি ও গভর্নরের শাসন জারি করে ফেডারেল সরকার।
- ১৩ অক্টোবর, ২০২৬: সম্প্রচারবিষয়ক বিধিনিষেধ ও প্রয়োগের হুঁশিয়ারি নবায়ন করে পেমরা।
- ১৬ অক্টোবর, ২০২৬: বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায় সিপিজে।
- ২১ অক্টোবর, ২০২৬: প্রত্যাহার এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানায় আইএফজে।
করাচির বিরোধে দর্শকদের প্রয়োজনীয় তথ্যের দিকটি স্পষ্ট
করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আত্মঘাতী হামলার সন্দেহভাজন একটি ঘটনা নিয়ে এর আগে সংবাদ প্রচার ঘিরে বিরোধের বাস্তব গুরুত্ব দেখা যায়। ৬ অক্টোবরের ওই হামলায় দুই চীনা নাগরিকসহ তিনজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। পরে পেমরা কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলকে তাদের সংবাদ প্রচার সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে নোটিশ দেয়।
অ্যাসোসিয়েশন অব ইলেকট্রনিক মিডিয়া এডিটরস অ্যান্ড নিউজ ডিরেক্টরস (এইএমইএনডি) নোটিশগুলোকে বেআইনি এবং সম্প্রচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা বলে নিন্দা জানায়। সংগঠনটি বলেছে, চ্যানেলগুলো সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য প্রচারের পাশাপাশি সড়ক বন্ধ এবং যান চলাচলের পথ পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে বাসিন্দাদের হালনাগাদ তথ্য জানিয়েছিল।
এসব হালনাগাদ তথ্য দেখায়, হামলার খবর মানুষের দৈনন্দিন সিদ্ধান্তে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। দর্শকদের জানতে হতে পারে বিমানবন্দরে পৌঁছানো যাবে কি না, কোন সড়ক বন্ধ, কিংবা কখন আবার যাতায়াত শুরু করা যাবে। এইএমইএনডির বক্তব্য, চ্যানেলগুলো নিয়ম মেনে দায়িত্বশীলভাবে এমন তথ্য দিয়েছে।
আদালতের দ্বারস্থ হওয়া এবং অন্যান্য পদক্ষেপ বিবেচনায় বিশেষ নির্বাহী কমিটির বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছিল সংগঠনটি। পিএফইউজে সভাপতি আফজাল বাট ও মহাসচিব আরশাদ আনসারি নোটিশ প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং চাপ অব্যাহত থাকলে প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন। ব্যাখ্যা চেয়ে পাঠানো নোটিশ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রক্রিয়া শুরু করে, যেখানে পরবর্তী সিদ্ধান্তের আগে চ্যানেলকে অভিযোগের জবাব দিতে হয়।
বড় শহরের বাইরের সংবাদকাজে আলাদা নিয়ম
আগস্টে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনসংক্রান্ত যে নিয়ম চালু করে, টেলিভিশন নির্দেশনাটি তার পর এসেছে। সিপিজের তথ্য অনুযায়ী, এসব নির্দেশিকা পাকিস্তানে কর্মরত বিদেশি সাংবাদিক ও তাঁদের সহযোগীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির বাইরে সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে যাওয়ার আগে মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন এবং সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে ওই শহরগুলোর বাইরে কাজ করা সাংবাদিকদের স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সংবাদ প্রচারের নবায়ন করা বিধিনিষেধের পাশাপাশি প্রশাসনিক শর্তও মানতে হবে।
দুটি পদক্ষেপ সংবাদ সংগ্রহের ভিন্ন ভিন্ন পর্যায় নিয়ন্ত্রণ করে। সনদের শর্ত তিন শহরের বাইরে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত; আর পেমরার নির্দেশনা হামলা ও সংশ্লিষ্ট ঘটনা নিয়ে স্যাটেলাইট চ্যানেল কী প্রচার করতে পারবে, তা নিয়ে।
খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে সহিংসতার খবর করা সংবাদকক্ষগুলোর জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং তথ্য সম্প্রচারের অনুমতি—দুটিই বাস্তব উদ্বেগ। মূল বিরোধটি হলো, নিরাপত্তাবিধি দর্শক ও নিরাপত্তা অভিযানকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সংবাদ করার সুযোগ অক্ষুণ্ন রাখতে পারে কি না।
মূল বিষয়গুলো
- পেমরার ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবরের নির্দেশনায় ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারিতে প্রথম জারি করা বিধিনিষেধ নবায়ন করা হয়েছে।
- নির্দেশনায় হামলা ও ব্যাপক অর্থে বর্ণিত “অপ্রীতিকর” ঘটনার সম্প্রচার, পুনঃসম্প্রচার ও সরাসরি সম্প্রচার অন্তর্ভুক্ত।
- চ্যানেলগুলোকে সরকারি যাচাই, সম্প্রচারে বিলম্ব এবং স্বাধীন সম্পাদকীয় বোর্ড নিশ্চিত করতে হবে।
- সিপিজে, আইএফজে ও পিএফইউজের আশঙ্কা, এসব শর্ত স্বাধীন সংবাদ প্রচার সীমিত করতে পারে।
- খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি শাসন এবং নথিভুক্ত সন্ত্রাসী ঘটনার তীব্র বৃদ্ধির পর নির্দেশনাটি এসেছে।
- নিজের পরিচালনাকারী অধ্যাদেশের তিনটি ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পেমরা।






